যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো কাউন্টিতে এক ১৮ বছর বয়সী তরুণীর বেপরোয়া গাড়ি চালনায় ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। ট্রাফিক সংকেত বা 'স্টপ সাইন' অমান্য করে দ্রুতগতিতে অন্য একটি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় দুই প্রবীণ নারী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট' এবং 'এবিসি ৩০' (ABC 30)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর ফ্রেসনো কাউন্টির অবারি রোড এবং ওল্ড মিলারটন রোডের সংযোগস্থলে মিলারটন লেকের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। লেকটি ফ্রেসনো শহর থেকে প্রায় ২৫ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ফ্রেসনো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, ক্লোভিস এলাকার ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী তার টয়োটা গাড়িটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন। তার গাড়িতে তার নানি এবং দুই ছোট ভাইবোন অবস্থান করছিল। অবারি রোডের সংযোগস্থলে থাকা ট্রাফিক স্টপ সাইন অমান্য করে গাড়িটি সরাসরি গিয়ে ৮৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের চালিত নিসান গাড়িকে সজোরে আঘাত করে। নিসান গাড়িতে চালকসহ মোট চারজন যাত্রী ছিলেন। সব মিলিয়ে দুটি গাড়িতে মোট ৮ জন আরোহী ছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে দুটি গাড়িই সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি খাদে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণীর টয়োটা গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। অন্যদিকে নিসান গাড়িটির ডানদিকের সামনের ও পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাঁ পাশের দরগুদো একেবারে উপড়ে গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিসান গাড়ির যাত্রী অবারির বাসিন্দা ৮৮ বছর বয়সী ইভন চেনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে, টয়োটা চালক তরুণীর ৯৪ বছর বয়সী নানি নেলি মোরেনো গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। দুর্ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী তরুণী চালক নিজেও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিসান গাড়ির ৮৮ বছর বয়সী চালক এবং অন্য দুই যাত্রীকে মাঝারি থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত অপর দুই শিশুকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছে, তরুণী চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে স্টপ সাইন পার হওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে প্রাথমিক তদন্তে অ্যালকোহল বা মাদকের কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাটি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণী চালকের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাটি পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার ওপর আবার নতুন করে কড়া সতর্কবার্তা এনে দিয়েছে।
সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও দুই সন্তানসহ তিন বাংলাদেশি মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতের স্বামী ও বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা স্থানীয় একটি হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র মতে, নিহতরা হলেন—তানিয়া তাহমিনা রিনা, তাঁর দ্বাদশ শ্রেণি পড়ুয়া ছোট মেয়ে সাদাফ শাফিকুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে জারগিস ইসলাম। তাদের নিজস্ব বাসভবন ঢাকার শেরে বাংলা নগর থানার নর্থ শ্যামলীর ২ নম্বর রোডে অবস্থিত। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পুরো পরিবারটি রিয়াদ থেকে একটি গাড়িতে করে পবিত্র মক্কা নগরীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। পথিমধ্যে তাদের বহনকারী গাড়িটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ঘটনাস্থলেই মা তানিয়া, মেয়ে সাদাফ এবং ছেলে জারগিস মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তানিয়ার স্বামী শাফিকুল ইসলাম এবং তাদের বড় ছেলে। তাদের অবস্থা বর্তমানে বেশ সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এদিকে, একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে ঢাকার নর্থ শ্যামলী এলাকাসহ স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে এবং আহত বাবা ও ছেলের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে বেপরোয়া গতিতে টেসলা গাড়ি চালিয়ে এক মা ও তার ছোট শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় সিলিকন ভ্যালির এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সফটওয়্যার নির্বাহীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার মাত্র ১৫ সেকেন্ড আগে অভিযুক্তের গাড়ির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪২ মাইল (প্রায় ২২৯ কিলোমিটার), যা ওই সড়কের নির্ধারিত গতিসীমার দ্বিগুণেরও বেশি। সান্তা ক্লারা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ৩১ বছর বয়সী জাকারি চারনিকিকে গত ১৩ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী ইভানা বালিস্ট্রেরি এবং তার প্রায় দুই বছর বয়সী কন্যা লিলিয়ানা নিহত হন। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সান হোসের হাইওয়ে ৮৭-এ যানজটের কারণে ইভানা বালিস্ট্রেরির লেক্সাস এসইউভি গাড়িটি থেমে ছিল। ঠিক সেই সময় উত্তরমুখী লেনে দ্রুতগতিতে আসা চারনিকির টেসলা গাড়িটি পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর লেক্সাস এবং আরও একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইভানা ও তার কন্যা। প্রসিকিউটরদের দাবি, গাড়ির প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘর্ষের ১৫ সেকেন্ড আগে টেসলার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪২ মাইল, সংঘর্ষের পাঁচ সেকেন্ড আগে ছিল ১২৬ মাইল এবং ধাক্কার মুহূর্তেও গাড়িটি প্রায় ১০২ মাইল গতিতে চলছিল। ওই সড়কে অনুমোদিত সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬৫ মাইল। দুর্ঘটনায় নিহত লিলিয়ানা শিশুদের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা আসনে বসানো ছিল। অন্যদিকে, গাড়ির চালক ও ইভানার বাগদত্তা জ্যাক মার্টিনস প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি আগুনে জ্বলতে থাকা গাড়ি থেকে স্ত্রী ও কন্যাকে উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা করছেন এবং আশপাশের মানুষকে সাহায্যের জন্য ডাকছেন। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতিকেই দায়ী করছেন তদন্তকারীরা। কেন চারনিকি এত বেশি গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে এই ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হন। মামলার প্রসিকিউটরদের একজন মারিসা ম্যাককাউন বলেন, এ ধরনের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর স্বাভাবিক পরিণতিই হলো প্রাণহানি। অন্যদিকে সান্তা ক্লারা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেফ রোজেন বলেন, "যেমন জনতার ভিড়ে গুলি চালানোকে হত্যা বলা হয়, তেমনি ঘণ্টায় ১৪০ মাইল গতিতে গাড়ি চালানোও একই ধরনের প্রাণঘাতী আচরণ।" জাকারি চারনিকি প্রযুক্তি খাতে পরিচিত একজন সফটওয়্যার উদ্যোক্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পেশাগত প্রোফাইলে তিনি অ্যাপল, গুগল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান মিস্ট্রাল এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ডিজেদের জন্য সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজও করছিলেন। ইভানা বালিস্ট্রেরির পরিবার তাকে সবার প্রতি সহানুভূতিশীল, প্রাণবন্ত ও ভালোবাসায় ভরপুর একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছে। দুর্ঘটনার পর পরিবারের জন্য চিকিৎসা, আইনি ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়, যেখানে এক লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।
অন্যের বিপদে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তার দায়িত্ব, আর সেই মানবিক দায়িত্ব পালন করতেই নিজের জীবন হারাতে হলো তাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে মধ্যরাতে রাস্তার পাশে বিকল হয়ে পড়া একটি গাড়ির চালককে সাহায্য করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী অফ-ডিউটিতে থাকা ফায়ারফাইটার ও প্যারামেডিক ক্যামেরন ডুভ্যাল। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক নারী। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পেপার পাইক পুলিশ জানায়, শনিবার ১৮ জুলাই রাত প্রায় ৩টার দিকে ফেয়ারমাউন্ট বুলেভার্ডে একটি গাড়ির টায়ার পাংচার হয়ে যায়। চালক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় অফ-ডিউটিতে থাকা ক্যামেরন ডুভ্যাল ও তার সঙ্গে থাকা এক নারী সেখানে পৌঁছে টায়ার পরিবর্তনে সাহায্য করতে শুরু করেন। তারা গাড়ির পেছনে কাজ করার সময় আরেকটি গাড়ি এসে তাদের এবং বিকল গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ক্যামেরন ডুভ্যালের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। ঘটনার পর অভিযুক্ত চালক জোসেফ সিমন্সকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অ্যাগ্রাভেটেড ভেহিকুলার হোমিসাইড, অ্যাগ্রাভেটেড ভেহিকুলার অ্যাসল্ট, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তার জামিন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছেন। মামলাটি এখন কুইয়াহোগা কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরির বিবেচনায় রয়েছে। ২০২২ সালে নর্থ র্যান্ডাল ফায়ার ডিপার্টমেন্টে যোগ দেন ক্যামেরন ডুভ্যাল। বিভাগটির কর্মকর্তারা বলেন, তিনি অল্প সময়েই সহকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। জনসেবার প্রতি তার নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে সবার কাছে অনুকরণীয় করে তুলেছিল। সহকর্মীদের ভাষায়, ক্যামেরন শুধু একজন দমকলকর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের নিরাপত্তার আগে অন্যের জীবন ও বিপদকে গুরুত্ব দিতেন। পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন আদরের সন্তান, ভাই, বন্ধু ও চাচা। কর্মজীবনের বাইরে ভ্রমণ, মাছ ধরা, গলফ, স্নোবোর্ডিং, মোটরসাইকেল চালানো এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন তিনি। কিন্তু মানুষের বিপদে ছুটে যাওয়াই ছিল তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। নর্থ র্যান্ডাল ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগামী ২৫ জুলাই পূর্ণ দমকল বিভাগের আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় ক্যামেরন ডুভ্যালকে শেষ বিদায় জানানো হবে। তার মৃত্যুতে ওহাইওর ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ঝেনি ওয়ালেস (২০) নামের এক উদীয়মান কলেজ বাস্কেটবল খেলোয়াড়। গত বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ক্যালিফোর্নিয়ার আই-১৫ (I-15) ফ্রিওয়েতে তার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৮০ ফুট নিচে গভীর খাদে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কাজন পাস এলাকার এই সড়কটি ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম বিপজ্জনক একটি রুট হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত, যেখানে প্রায়শই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ভিক্টর ভ্যালি কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থী ঝেনি ওয়ালেস পেশাদার বাস্কেটবল লিগ ডব্লিউএনবিএ (WNBA)-তে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল বুধবার দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে ডেভোরের কেনউড অ্যাভিনিউয়ের উত্তরে এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানেই ভিক্টরভিলের বাসিন্দা ঝেনি হ্যারিসকে (তিনি ঝেনি ওয়ালেস নামেও পরিচিত ছিলেন) মৃত ঘোষণা করা হয়। মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত মা তামারা ওয়ালেস স্থানীয় কেটিএলএ৫ (KTLA5) সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "সে কেবল আমার মেয়েই নয়, আমার সেরা বন্ধু ও প্রথম সন্তান ছিল। সে সবসময় আমাকে হাসিখুশি রাখত এবং নানা কাজে উৎসাহ দিত। ছোট ভাই-বোনের কাছে সে ছিল সেরা একজন বোন।" মর্মান্তিক এই ঘটনার দিন তামারা মেয়েকে ফোন করলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা কল রিসিভ করে তাকে এই দুঃসংবাদটি দেন। এদিকে, ঝেনির কলেজ বাস্কেটবল দল ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন শোকবার্তায় জানিয়েছে, ঝেনি কেবল একজন সতীর্থ ছিলেন না, তিনি ছিলেন তাদের 'র্যাম' (Ram) পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ও প্রিয়মুখ, যার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে ঝেনির সেরা বন্ধু এবং ওই বন্ধুর মা-ও উপস্থিত ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এদিকে, ঝেনির শেষকৃত্য ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, যা এরই মধ্যে ১৫ হাজার ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৪ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই অ্যাপল ভ্যালির সিভিক সেন্টার পার্কে তার স্মরণে একটি বিশেষ শোকসভার আয়োজন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ভার্জিনিয়ার এক যুবকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় অভিযুক্তের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনসিদ্ধ সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল। মিশিগানের ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত চার্লস ডিন পেস (২৭) ভার্জিনিয়ার গ্লেন অ্যালেন এলাকার বাসিন্দা। গত ৩ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ওকল্যান্ড কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। পরে ৭ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে চারটি দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানোর চারটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়। আদালত তাকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বর্তমানে কারাগারেই রয়েছেন। প্রসিকিউটর কারেন ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১ জুলাই মিশিগানের স্প্রিংফিল্ড টাউনশিপে ইন্টারস্টেট-৭৫ মহাসড়কের ইস্ট হলি রোডের কাছে দক্ষিণমুখী লেনে একটি ফোর্ড এফ-২৫০ পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন পেস। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও তদন্তে দেখা গেছে, তিনি ঘণ্টায় ৯০ মাইলেরও বেশি গতিতে এক লেন থেকে আরেক লেনে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মিশিগান স্টেট পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনি সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল। এ দুর্ঘটনায় নিহত হন একই পরিবারের চার সদস্য। তারা হলেন জাকেরিয়া শ্যারন ডডসন (২৩), টিরি পাওয়েল (২৪) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান নালানি পাওয়েল (৩) ও কার্টার পাওয়েল (২)। প্রসিকিউটর ম্যাকডোনাল্ড বলেন, "জাকেরিয়া, টিরি, নালানি ও কার্টারের মৃত্যু কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা ছিল না। অভিযুক্তের অভিযোগ অনুযায়ী মদ্যপ অবস্থায় দ্রুত ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্তই তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।" ঘটনার পর নিহত পরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যয় বহনে সহায়তার জন্য গোফান্ডমি প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে বলা হয়েছে, "আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। আমরা টিরি, জাকেরিয়া, নালানি এবং কার্টারের অকল্পনীয় মৃত্যুতে শোকাহত।" সেখানে টিরিকে একজন স্নেহশীল বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো। অন্যদিকে জাকেরিয়াকে একজন যত্নশীল ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি সন্তানদের ভালোবাসা ও মমতায় বড় করে তুলছিলেন। প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ওই তহবিলে প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়েছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ডলার। মিশিগানের আইন অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে কারও মৃত্যু ঘটালে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে। সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন, ফক্স ৫, ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান বার্নার্ডিনো কাউন্টিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী এবং তার গর্ভের যমজ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। একই দুর্ঘটনায় ওই নারীর দুই কিশোর সন্তান গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিএলএ এবং দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুন ৩৩ বছর বয়সী লোরেনা লোপেজ তার ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে একটি পার্টিতে যাচ্ছিলেন। পথে একটি মোড়ে তাদের গাড়িকে অপর একটি গাড়ি জোরে ধাক্কা দেয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, ২৫ বছর বয়সী অপর গাড়িচালক স্টপ সাইন অমান্য করে দ্রুতগতিতে মোড় অতিক্রম করার সময় লোপেজের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটান। ধাক্কার তীব্রতায় পরিবারের নিসান আলটিমা গাড়িটি উল্টে যায় এবং এর ছাদ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই লোরেনা লোপেজ এবং তার গর্ভের যমজ সন্তান, একটি ছেলে ও একটি মেয়ের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, লোপেজ পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং মাত্র দুই সপ্তাহ পর তার 'বেবি শাওয়ার' অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। দুর্ঘটনায় আহত লোপেজের দুই সন্তানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তাদের দুজনেরই গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত, মস্তিষ্কে ফোলা এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে। তারা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষে জড়িত টয়োটা ক্যামরি গাড়িটির চালক দুর্ঘটনার পর গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। পরে গাড়িটিতে আগুন ধরে গেলে উদ্ধারকর্মীরা তাকে বের করে হাসপাতালে পাঠান। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে গাড়ির বিভিন্ন অংশ। পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেন। ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ডেনিস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সংঘর্ষের শব্দ ছিল এতটাই বিকট যে তা তার কাছে "সুপারসনিক বিস্ফোরণের" মতো মনে হয়েছে। লোপেজের মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। পরিবারের সদস্যরা তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং আহত দুই সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় বহনে সহায়তার জন্য একটি গোফান্ডমি তহবিলও চালু করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় চালকের গতি, স্টপ সাইন অমান্যের অভিযোগ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে দায়িত্ব পালনকালে এক নারী ডাককর্মীকে অপহরণের পর গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কন্যাসন্তান কয়েক মাসের ব্যবধানে তাদের মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছে। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন তাদের বাবা। নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের (ইউএসপিএস) কর্মী ও দুই সন্তানের মা ব্র্যান্ডি রেনল্ডস শুক্রবার হেইস এলাকায় ডাক বিতরণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় ৫৬ বছর বয়সী উইলিয়াম ক্রেইগ ডারহাম তাকে অপহরণ করে গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। উইলকস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৪টা ১৬ মিনিটে এক প্রত্যক্ষদর্শী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফোন করে জানান, ধূসর রঙের একটি নিসান অলটিমা গাড়ির পাশে এক সশস্ত্র ব্যক্তি রেনল্ডসকে হুমকি দিচ্ছেন। এরপর একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রেনল্ডসকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। শার্লট অবজারভারের প্রকাশিত আদালতের পরোয়ানার তথ্য অনুযায়ী, ডারহামের বিরুদ্ধে রেনল্ডসকে তার সম্মতি ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, হত্যার আগে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। ডারহামের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা এবং প্রথম-ডিগ্রি অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে উইলকস কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার আদালতে হাজির করা হলে রেনল্ডসের এক স্বজন বিচারককে জানান, অতীতেও ডারহাম রেনল্ডসকে হুমকি দিয়েছিলেন এবং তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি রেনল্ডসের দুই কন্যার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ডারহামের জামিন না দেওয়ার আবেদন জানান। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। রেনল্ডসের পরিবারের জন্য এটি ছিল দ্বিতীয় বড় ট্র্যাজেডি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর, বড়দিনের মাত্র দুই দিন আগে, তার স্বামী ব্রেন্ট রেনল্ডস উইলকস কাউন্টিতে একক গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন। তদন্তকারীরা জানান, ৩৫ বছর বয়সী ব্রেন্ট রেনল্ডস সেদিন একটি পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন। তিনি সিটবেল্ট পরেননি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই মেয়ের ছবি প্রকাশ করে ব্র্যান্ডি রেনল্ডস লিখেছিলেন, তার সন্তানরাই তার বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। রেনল্ডসের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার ডাক বিতরণ এলাকার বাসিন্দা জুলি স্মিথ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রেনল্ডস ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, বন্ধুসুলভ ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে তিনি ডাক পৌঁছে দিতেন এবং এলাকার মানুষ তার ডাকবাহী গাড়ির অপেক্ষায় থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস, উইলকস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন যৌথভাবে তদন্ত করছে।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়েতে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার রাতের এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় দিকের যান চলাচল ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে পশ্চিমমুখী একটি বাস গ্রিনপয়েন্ট অ্যাভিনিউর এক্সিট-১৬-এর কাছে প্রথমে দুটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পূর্বমুখী লেনে চলে যায় এবং সেখানে আরও দুটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) ৭৯ জন অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি সেবা কর্মী মোতায়েন করা হয়। সংস্থাটি ঘটনাটিকে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউএবিসির তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজন হলেন বাসচালক এবং বাসের এক যাত্রী। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। এফডিএনওয়াই জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও সাতজন সামান্য আহত হয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাসে থাকা প্রায় ২৪ জন যাত্রীকে বেলভিউ হাসপাতাল, নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান কুইন্স এবং এলমহার্স্ট হাসপাতাল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় মহাসড়ক বন্ধ থাকায় অনেক চালক পূর্বমুখী লেনেই গাড়ি ঘুরিয়ে বিকল্প পথে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস থেকে প্রায় এক ঘণ্টা উত্তরের ছোট্ট শহর টম বিনের বাসিন্দা মাকিন্না ইডেন টুমলিনসন। জন্মের পর চিকিৎসকরা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ২ শতাংশ বলে জানালেও, সেই অবিশ্বাস্য প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন। কিন্তু জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করার দিনেই মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ১৮ বছর বয়সেই নিভে গেল এই ‘প্রম কুইন’-এর প্রাণ। টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগ (ডিপিএস) সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, গত ৩ জুন ১১ নম্বর স্টেট হাইওয়েতে নিজের গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাণিজ্যিক ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। সে সময় মাকিন্না তার নতুন গ্রীষ্মকালীন চাকরিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। মাকিন্নার মা স্টেফানি টুমলিনসন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএক্সআইআই নিউজকে জানান, শেভ্রোলেট ক্রুজ গাড়ি নিয়ে মেয়ের কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার ঠিক আগেই তাদের শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর মাকিন্নার বাবা টমি টুমলিনসন মেয়ের লোকেশন ট্র্যাক করে দেখতে পান যে সেটি একটি দুর্ঘটনাস্থলে স্থির হয়ে আছে। আতঙ্কিত বাবা তৎক্ষণাৎ সেখানে ছুটে যান। ডিপিএস জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটির চালক, টেক্সাসের অ্যালেনের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী হেক্টর ইভান মেজিয়া গার্সিয়াকে সামান্য আঘাতজনিত কারণে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাকিন্নার এই অকাল মৃত্যু পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছে আরও বেশি কষ্টদায়ক, কারণ পৃথিবীতে তার আগমনটাই ছিল এক অলৌকিক ঘটনা। মৃত অবস্থায় জন্ম নেওয়ার প্রবল শঙ্কার পরও সে বেঁচে ফিরেছিল। পরিবার জানায়, মাত্র ১৮ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে মাকিন্না প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করেছে। সে একাধারে একজন চিয়ারলিডার, স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সভাপতি এবং স্কুলের 'প্রম কুইন' হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। বন্ধুসুলভ আচরণের জন্য সে সবার কাছেই প্রিয় ছিল। তার স্কুলের নির্ধারিত পার্কিং স্পেসটিকে এখন ফুল, খেলনা ও মোমবাতি দিয়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভে পরিণত করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে। মেয়ের এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবারটি এক অকল্পনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। শোকাহত মা স্টেফানি বলেন, এই ঘটনা তার কাছে এখনও একটি দুঃস্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। তিনি এখনও আশা করেন তার মেয়ে হাসিমুখে দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকবে। কোনো মা-বাবারই যেন নিজের সন্তানকে কবর দিতে না হয়, বেদনাহত কণ্ঠে সেই আক্ষেপই প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কের কুইন্সে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণী জান্নাত নিশাত তার ছোট বোনের জন্মদিনের জন্য কেক কিনতে গিয়েছিলেন এমন তথ্য জানিয়েছেন তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা। জান্নাত নিশাতের অকাল মৃত্যুর খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিউ ইয়র্কসহ গোটা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের বন্ধু আমিন মেহেদি বলেন, তার ছোট বোন তাকে কেক কিনে আনতে বলেছিল। সে দোকানে গিয়েছিল এবং বাড়ি ফিরছিল। পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছিল, কিন্তু সে ফিরছিল না। পরে তার ফোনের শেষ লোকেশন দেখে এক বোন তাকে খুঁজে পায়। জানা যায়, নিশাত জ্যামাইকার একটি পার্কিং গ্যারেজে খণ্ডকালীন ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি কেক কিনতে থামেন। এরপরই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রবিবার রাত প্রায় ১১টা ৫৫ মিনিটে উডসাইড এলাকায় ৬২তম স্ট্রিট পার হওয়ার সময় একটি বেসরকারি স্যানিটেশন ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটি রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ থেকে মোড় নিচ্ছিল। দুর্ঘটনাস্থলটি তার বাড়ি থেকে প্রায় আধা মাইল দূরে ছিল। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিশাত ম্যানহাটনের সিটি কলেজ অফ নিউ ইয়র্ক -এর একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এই মৃত্যু পরিবারে গভীর শোক নেমে এনেছে, বিশেষ করে তার ছোট বোনের জন্য, যার জন্মদিন এখন চিরদিনের জন্য এই দুঃখজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে। আমিন মেহেদি বলেন, আমরা সবাই ভীষণ শোকাহত। এত অল্প বয়সে কেউ এভাবে জীবন হারাবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি। সে ছিল পরিশ্রমী একটি মেয়ে, পড়াশোনা করছিল, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিল। নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সিদ্দিক বলেন, পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। সে খুবই ভালো ও মেধাবী ছাত্রী ছিল। বাবা-মায়ের প্রতি খুব যত্নশীল ছিল। ছোট বয়সেই পরিবারকে সহায়তা করতে কাজ শুরু করেছিল। মঙ্গলবার তার বাড়ির কাছে বাইতুল জান্নাহ মসজিদ মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। ৩৮ বছর বয়সী ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়নি। নিশাত তার বাবা-মা এবং চার বোনকে রেখে গেছেন।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীম উদ্দীন জানান, রেলক্রসিংয়ের দুই গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে আসামি করে এই মামলা করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় 'দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু'র অভিযোগে মামলাটি করেন দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী শেফালী আক্তার। তিনি এই দুর্ঘটনায় নিহত মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেল রানার খালা। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত সোহেল রানা ঈদের ছুটিতে চুয়াডাঙ্গা থেকে কুমিল্লার লাকসামে খালার বাড়িতে বেড়াতে আসার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তার স্ত্রী ও মেয়ে বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত শনিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী 'ঢাকা মেইল' ট্রেনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী 'মামুন স্পেশাল' পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। ট্রেনটি বাসটিকে দুমড়ে-মুচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার ছেঁচড়ে নিয়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চাঁদপুর, ঝিনাইদহ, যশোর, নোয়াখালী, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও লক্ষ্মীপুর জেলার মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য এবং শিশুও রয়েছে। জেলা ও রেলওয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।