গালফ অব আমেরিকার পর এবার লেক অন্টারিও, নতুন নাম ‘লেক আমেরিকা’ দিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও শুল্ক বৈরিতার মধ্যেই এবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের পরিচিত ভৌগোলিক জলাশয় ‘লেক অন্টারিও’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি।
আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, নাম পরিবর্তনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি "অবিলম্বে কার্যকর" হতে যাচ্ছে।
কানাডার সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এই নাটকীয় সিদ্ধান্তটি এলো। এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বিষয়ক দপ্তরকে (ইন্টেরিয়র ডিপার্টমেন্ট) তাদের ভৌগোলিক নামের সরকারি তথ্যভাণ্ডারে ‘লেক অন্টারিও’র নাম হালনাগাদ করে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের (গালফ অব মেক্সিকো) নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার সময়ও ঠিক এমনই একতরফা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কিংবা কানাডার অংশে এই নাম পরিবর্তন কীভাবে গৃহীত হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিস্তর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমালোচকরা মনে করছেন, শুল্ক আরোপ নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এমনিতেই যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ট্রাম্পের এই প্রতীকী অথচ আগ্রাসী সিদ্ধান্ত সেই বৈরিতার আগুনে আরও নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাঙ্কারযুক্ত কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত প্রাসাদগুলোর মধ্যে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত ও অন্তত ৩০০ জন আহত হওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যেই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে বিদেশি মিত্রদের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। তবে যুবরাজকে স্থানান্তরের বিষয়টি সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য উদ্ধৃত করে সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজকে বাঙ্কারযুক্ত একাধিক সুরক্ষিত প্রাসাদের মধ্যে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তাঁর চলাফেরা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বিশেষভাবে নির্বাচিত একটি দলও তাঁর সঙ্গে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারের পর থেকে মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সেদিন তিনি একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে যুবরাজ বর্তমানে ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, কোন কোন প্রাসাদে তাঁকে নেওয়া হয়েছে কিংবা এই বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা কত দিন চলবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে দ্য ইনডিপেনডেন্ট। সৌদি আরবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। শনিবার (১০ অক্টোবর) সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০০ জন আহত হন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমানবন্দরটিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক হামলা হয়েছে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ দিনের মধ্যে চারবার বিমানবন্দরটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। সপ্তাহান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রিয়াদ বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রী পরিবহন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এদিকে হুতি বিদ্রোহীরা বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। গোষ্ঠীটির একজন মুখপাত্র সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আরও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার গুরুত্ব বিবেচনায় দেশটির প্রতিক্রিয়াও সমানভাবে কঠোর হবে। তবে সৌদি সরকার পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন হামলা প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা ধরে রাখা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব বিদেশি মিত্রদের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা চেয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদ। গত মাসেই এই সহায়তার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কর্মকর্তাদের একজন জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক হামলায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সৌদি আরবের মক্কা চুক্তির মিত্ররাও দেশটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে মিত্রদেশগুলোর সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে দেশটির গৃহযুদ্ধে সামরিকভাবে অংশ নেয় সৌদি আরব। ২০২২ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় বলে দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিদের অভিযোগ, ইরান থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ সানার বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করার সময় সৌদি বাহিনী সেখানে হামলা চালিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের অন্যতম সশস্ত্র মিত্র হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আরব উপদ্বীপের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাত আরও বাড়লে তা ইসরায়েলের স্বার্থেই কাজে আসবে। এদিকে রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, শুধু সামরিক সমাধানের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে তেহরান সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ এবং যুবরাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের খবর এমন সময় সামনে এসেছে, যখন ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। তবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে স্থানান্তরের তথ্য এখনো সংবাদমাধ্যমের সূত্রভিত্তিক। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তনের খবর এবং সরকারের নিশ্চিত সিদ্ধান্তকে পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়
ঋণ শোধে অক্ষম, এমন ২০ হাজারের বেশি বন্দীকে মুক্তিতে সহায়তা দুবাইয়ের ভারতীয় ব্যবসায়ীর
৪৯ বছর বয়সী মায়ের ২৫ বছরের স্বামীকে হ ত্যার অভিযোগ, নিউজিল্যান্ডফেরত ছেলে গ্রে প্তার
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে প্রার্থনার ভঙ্গিতে থাকা অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় নি হ ত হন পাকিস্তানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সামিয়া মালিক। এ ঘটনায় গাড়িচালক অ্যাশটন জ্যাকব ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজাটি স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছর গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৬ মে। অ্যাডিলেডের হিলক্রেস্ট এলাকার নর্থ ইস্ট রোডে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান ২০ বছর বয়সী সামিয়া। আদালতে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে তিনি প্রায় চার মিনিট ধরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে ছিলেন। তার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি প্রার্থনা করছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি সড়কের ওপর অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের বাসিন্দা সামিয়া উন্নত ভবিষ্যতের আশায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। নিজের পাশাপাশি পরিবারের জীবনেও পরিবর্তন আনার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু অল্প বয়সেই তার আকস্মিক মৃ ত্যুতে পাকিস্তানে থাকা স্বজনেরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েন। স্বজন হারানোর মানসিক কষ্টের পাশাপাশি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং শেষকৃত্যের খরচ নিয়েও পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। আদালতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন অ্যাশটন ফ্রেন্ড। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর। তিনি নির্ধারিত গতিসীমার নিচে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মদ বা মাদক গ্রহণের প্রভাবে ছিলেন না। তবে সংঘর্ষের আগে গাড়ির পেছনের দৃশ্য দেখার আয়নায় তাকিয়ে ছিলেন তিনি। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সামিয়াকে দেখতে পেলে বা পরিস্থিতি বুঝতে পারলে দুর্ঘটনা এড়ানোর সুযোগ থাকতে পারত। ফ্রেন্ড আদালতে স্বীকার করেন, সামিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি গাড়ি থামাননি। তার দাবি, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, গাড়ির ধাক্কায় হয়তো একটি ক্যাঙ্গারু আঘাত পেয়েছে। পরদিন সংবাদমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন, সড়কে একজন মানুষকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তবে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে না থামার বিষয়টি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে অসতর্কভাবে গাড়ি চালিয়ে একজনের মৃ ত্যু ঘটানো এবং দুর্ঘটনায় মৃ ত্যুর পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি উভয় অভিযোগেই দোষ স্বীকার করেন। বিচারক অ্যান বার্নেট ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে আট মাসের আগে প্যারোলের সুযোগ না থাকার বিধান রাখা হয়। তবে সাজা কার্যকর না করে দুই বছরের জন্য ভালো আচরণের শর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ের জন্য তাকে ৫০০ ডলারের বন্ডে থাকতে হবে। একই সঙ্গে ১০ বছরের জন্য গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারক ফ্রেন্ডের বয়স, অনুশোচনা, ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের সম্ভাবনা এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও নির্ধারিত শর্ত মেনে চললে আপাতত কারাগারে যেতে হবে না। এর আগে আদালতে সামিয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ফ্রেন্ড। নিজের কাজ এবং দুর্ঘটনার পর গাড়ি না থামানোর দায়ও তিনি স্বীকার করেন। এই ঘটনা একদিকে সামিয়ার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে সড়কে চালকের মনোযোগ ও দুর্ঘটনার পর দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব সামনে এনেছে। আদালতের রায়ে চালকের কারাদণ্ড স্থগিত হলেও সামিয়ার পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে।
স্কুলে শটগান নিয়ে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর গু লি, আহত প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন
২৮ বছর ধরে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ, ১১ বছর পর মায়ের কাছে ফিরতে ব্যাকুল ব্রিটিশ অভিযাত্রী
সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে বিশুদ্ধ করছে চীন, লক্ষ্য দৈনিক ৪৫ লাখ টন
সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সুদানের মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামলাটি হয়। পরদিন সংগঠনটি হতাহতের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করে মিশরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করে। তবে হামলাকারী পক্ষ ও নিহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, হামলার স্থানটি জাবাল আল উকাইদাতের স্বর্ণখনি এলাকা। সেখানে ছোট পরিসরে শ্রমিকেরা স্বর্ণ উত্তোলনের কাজ করেন। ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা বেসামরিক খনিশ্রমিক। সংগঠনটি জানিয়েছে, হতাহতের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ চলমান। ফলে ৭২ জন নিহত হওয়ার হিসাবটি চূড়ান্ত নয়। হামলার দায় নিয়ে সংগঠনটির অভিযোগও এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এএফপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। হামলায় ব্যবহৃত উড়োজাহাজের পরিচয়ও নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে স্কাই নিউজ। মিশরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করার বিষয়টি তাই মানবাধিকার সংগঠনটির অভিযোগ হিসেবেই উঠে এসেছে। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক প্রথমে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল। সংগঠনটি একই সঙ্গে সতর্ক করেছিল, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। পরে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স ৭২ জন নিহত হওয়ার দাবি জানায়। দুই সংগঠনের হিসাবের এই পার্থক্যের মধ্যে মোট প্রাণহানির নিশ্চিত সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। হামলা থেকে বেঁচে ফেরা খনিশ্রমিক আবদেল আজিজ ইউসুফ এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল প্রায় আটটার দিকে একটি যুদ্ধবিমান তাঁদের মাথার ওপর আসে। তাঁর বর্ণনায়, বিমানটি পাঁচ দফা হামলা চালায় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। আবার হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় তিনি ও অন্য শ্রমিকেরা পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যান। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শরাফ আলী জানিয়েছেন, হামলার সময় দুর্গম ওই এলাকায় হাজারো মানুষ কাজ করছিলেন। হামলার পর শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিকে ছুটে যান। কেউ আল আনসারি স্বর্ণবাজারে আশ্রয় নেন, আবার কেউ অন্য দিকে চলে যান। সবাই ছড়িয়ে পড়ায় কতজন নিহত হয়েছেন, তা সঠিকভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান। দুই প্রত্যক্ষদর্শীই পালিয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলেও তাঁদের আশঙ্কা। তবে আটকে থাকা বা নিখোঁজ মানুষের নিশ্চিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থল শহরাঞ্চল থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন। হামলার স্থানটি কোন দেশের সীমানার মধ্যে পড়েছে, তা নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের দাবি, হামলা হয়েছে সুদানের ভূখণ্ডে। অন্যদিকে প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল মিশরের দিকে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, মিশরীয় কর্তৃপক্ষ খনিশ্রমিকদের ওই এলাকা ছেড়ে যেতে বারবার সতর্ক করেছিল। এই তথ্য হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে না। অঞ্চলটির সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। সম্পদসমৃদ্ধ হালায়েব ত্রিভুজের ওপর সুদান ও মিশর উভয় দেশই নিজেদের অধিকার দাবি করে। নীল নদের পূর্ব দিকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বর্ণ উত্তোলন ও বাণিজ্য হয়। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের দূরবর্তী অবস্থানের কারণে হামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনেও জাবাল আল উকাইদাতের খনি এলাকায় বিমান হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর এসেছিল। তখনও মিশরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। মিশরের সেনাবাহিনী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে নিজেদের ভূখণ্ডে অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছিল। জুনের অভিযান সম্পর্কে মিশরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ২২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩৬ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। ওই এলাকায় অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলন ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে অভিযান চালানোর কথা বলা হয়। শনিবারের হামলা নিয়ে মিশরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় আগের অভিযানের সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্কও নিশ্চিত করা যায়নি। সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘ সংঘাতে জীবিকা হারানো বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ স্বর্ণ উত্তোলনের কাজে যুক্ত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্তের খনিতে নতুন এই হামলা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আহতদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের সতর্কতা অনুযায়ী, গুরুতর আঘাত এবং চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা হতাহতের পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।
"জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দিব", কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে রিয়াদে হামলায় নি হ ত শাহেদ
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় মার্কিন নাগরিক নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে