নিউইয়র্কের রাস্তায় দেশি সবজি বিক্রি করা বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় বয়স্ক বাবা-মায়েদের হাতে ফলানো ব্যাকইয়ার্ডের দেশি সবজি বিক্রির বেশ কয়েকটি দৃশ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ছোট পরিসরে লাউ, শসা, করলা, বেগুন, টমেটো থেকে শুরু করে নানা ধরনের দেশি সবজি সাজিয়ে বিক্রি করছেন বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি।
এই ঘটনাগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে শ্রমের মর্যাদা এবং প্রবীণদের প্রতি পারিবারিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে এসেছে।
একাংশের মতে, সৎ পথে পরিশ্রম করে উপার্জন করা সবসময়ই সম্মানজনক। অনেকেই মনে করেন, নিজেদের বাগানের বাড়তি সবজি নষ্ট না করে বিক্রি করা এবং প্রবীণদের কর্মক্ষম থাকাটা ইতিবাচক একটি দিক।
তবে অন্যদিকে অনেকেই সমালোচনা করে বলছেন, আর্থিক প্রয়োজনে বা অন্য কোনো চাপে একাধিক বয়স্ক বাবা-মাকে দীর্ঘক্ষণ ফুটপাতে বসিয়ে রাখা মোটেও মর্যাদাকর নয়।
এ বিষয়ে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের এক কমিউনিটি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যম ‘আমেরিকা বাংলা’-কে জানান, বাগানের অতিরিক্ত সবজি নষ্ট না করে বিক্রি করাতে দোষের কিছু নেই এবং এতে কিছু খরচও উঠে আসে।
তবে বয়স্ক বাবা-মায়েদের এভাবে রাস্তায় বসিয়ে দিনের পর দিন বিক্রি করানোর বদলে স্থানীয় গ্রোসারি বা অন্য কোনো সম্মানজনক বৈধ উপায়ে তা সরবরাহ করা যেতে পারে, যাতে প্রবীণদের অযথা কষ্ট না হয়।
সব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু কয়েক ঝুড়ি সবজি বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি প্রবাস জীবনে পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা এবং প্রবীণদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধের একটি বড় সামাজিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোনো উপসংহারে পৌঁছানোর আগে বা কাউকে বিদ্রূপ করার বদলে প্রবীণদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মান বজায় রেখে কীভাবে এ ধরনের কাজের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, সেটি নিয়েই এখন ভাবছেন সচেতন প্রবাসীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নতুন 'পাবলিক চার্জ' নিয়মের কারণে বিশ্বজুড়ে হঠাৎ স্থগিত করা হলো গ্রিন কার্ড ও অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার। এর ফলে আগে থেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন এই নিয়মের আওতায়, কোনো আবেদনকারী যদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তা বা সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হবেন বলে মনে হয়, তবে কনস্যুলার অফিসাররা তাঁর আবেদন বাতিল করে দিতে পারবেন। মূলত দূতাবাস ও কনস্যুলার কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যই বিশ্বজুড়ে সাময়িকভাবে এই অভিবাসী ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এই নতুন স্থগিতাদেশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে ‘কনস্যুলার প্রসেসিং’-এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পেতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ওপর। ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য যারা অপেক্ষা করছিলেন, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকার বাতিল বা স্থগিত হওয়ার নোটিশ পেতে শুরু করেছেন। তবে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অবস্থান করে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন, তাদের ওপর এই স্থগিতাদেশের তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে। এই স্থগিতাদেশের সময়কাল নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেমফিসের সিসকাইন্ড সুসারের অংশীদার ও অভিবাসন আইনজীবী এলিসা তউব সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থবছর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে বরাদ্দকৃত সকল অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার বদলে সরকার হঠাৎ করেই গণহারে সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে এবং কবে নাগাদ এগুলোর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার বরাদ্দকৃত সব ভিসা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে, যা বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য চরম হতাশাজনক। এছাড়া তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট গোপনে নতুন নিয়ম তৈরি করছে, অথচ আবেদনকারীদের এ বিষয়ে প্রস্তুত হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইনি অভিবাসন ব্যবস্থাকে সংকুচিত বা ধীর করার এটি প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর আগে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে ভিসা সাক্ষাৎকার নতুন করে কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি। যার ফলে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা বহু মানুষের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো।
নিউইয়র্কের রাস্তায় দেশি সবজি বিক্রি করা বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নিউ অরলিন্সে সরকারি চাকরির সুযোগ, অফিস সহকারীসহ একাধিক পদে নিয়োগ
জর্জিয়ায় ২০০৩ সালের দুই নারী হত্যায় দণ্ডিত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড ১৬ সেপ্টেম্বর
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরের তীব্র স্রোতে আটকে পড়া শিশুদের বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন পাঁচ সন্তানের বাবা জশ কোলেট। ৪২ বছর বয়সী জশ ১৫ আগস্ট সান ক্লেমেন্তের রিভিয়েরা বিচে পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। শিশুদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি মাথা আগে দিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেন এবং সাগরের তলদেশে আঘাত পান। এতে তার দুটি মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় এবং মেরুদণ্ডের স্নায়ু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তার ঘাড়ের নিচের অংশে কোনো অনুভূতি নেই। জশ নিয়মিত সাঁতার কাটেন এবং সার্ফিং করেন। ঘটনার সময় তিনি দেখতে পান, সাগরের স্রোতে দুই শিশু আটকে পড়েছে। তাদের সাহায্য করতে তিনি দ্রুত পানিতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু ঢেউ ও স্রোতের কারণে তৈরি হওয়া বালুর উঁচু অংশে মাথা আঘাত পায়। গুরুতর আঘাতের পর তিনি পানিতে বিপদে পড়ে যান। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। জশের স্ত্রী রোজ জানান, উদ্ধারের পর জশ তার দিকে তাকিয়ে জানান যে তার ঘাড় ভেঙে গেছে এবং তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর আগে রোজ তাকে মুখে মুখে শ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সাগরে আটকে পড়া শিশুরা শেষ পর্যন্ত নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা জানান, জশের দুটি মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙেছে এবং তার মেরুদণ্ডের স্নায়ু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি কাঁধের নিচের অংশে কোনো অনুভূতি পাচ্ছেন না। তিনি নিজে কথা বলতে পারছেন না। তার স্ত্রী তার ঠোঁটের নড়াচড়া দেখে তিনি কী বলতে চাইছেন তা বোঝার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার পর তিনি কয়েক দিন ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জশ তার স্ত্রীকে জানিয়েছেন, তিনি মাথা আগে দিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এবং এটিকে নিজের ভুল হিসেবে মনে করছেন। তিনি জানান, আঘাতের পর তার মনে হচ্ছিল তিনি মারা যাচ্ছেন এবং শ্বাস নিতে পারছিলেন না। তবে পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে কারও সাহায্যে আবারও এগিয়ে যেতেন। তার স্ত্রীও তাকে পরিবারের নায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জশের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের খরচ মেটাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। তাকে এ ধরনের গুরুতর আঘাতের চিকিৎসার জন্য কলোরাডোর একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তহবিল সংগ্রহের অর্থ চিকিৎসা ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিকভাবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তহবিলে ১ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি জমা হয়েছিল। এরপর ২৫ আগস্টের প্রতিবেদনে এই অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৪ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে বলে জানানো হয়। সর্বশেষ তহবিল সংগ্রহের পৃষ্ঠায় অর্থের পরিমাণ আরও বেড়েছে। তাই আগের প্রতিবেদনের ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের লক্ষ্যের তথ্যের বদলে বর্তমানে তহবিলের হালনাগাদ পরিমাণ আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার পরিবার ও সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় পরিচিতজন ও সম্প্রদায়ের মানুষজন। তারা সন্তানদের দেখাশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করছেন। জশের পরিবার জানিয়েছে, এই কঠিন সময়ে মানুষের ভালোবাসা ও সহায়তা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১৫ আগস্টের ওই দুর্ঘটনার পর জশের জীবন একেবারেই বদলে গেছে। শিশুদের সাহায্য করতে গিয়ে পাওয়া গুরুতর আঘাতের কারণে তিনি এখন নিজের শরীরের নিচের অংশে কোনো অনুভূতি পাচ্ছেন না এবং কথা বলার ক্ষেত্রেও অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে। তার পরিবার এখন চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্কুলবাসে সন্তান তুলে দেওয়ার পর অভিভাবকদের আটকের অভিযোগ আইসিইর বিরুদ্ধে
ক্যানসারে আক্রান্ত কাজিনের পাশে দাঁড়াতে মাথা ন্যাড়া করল ছয় বছরের শিশু
ট্রাম্পকে ভুলে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কে মার্কিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়
নিউইয়র্কে পৃথক দুই প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩১ বছর বয়সী যিশুস আকোস্তাকে ধরতে ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে এফবিআই। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে কয়েক দিনের ব্যবধানে ওই দুই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের অভিযোগ, গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় গুলির ঘটনায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হন। এরপর ২৫ আগস্ট ব্রঙ্কসের একটি ডেলিতে ঢুকে গুলি চালানোর ঘটনায় আরও একজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর আকোস্তার বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও জোরালো হয় এবং তাকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। এফবিআই জানিয়েছে, আকোস্তাকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। এর আগে ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকাও তার গ্রেপ্তারে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আকোস্তা বর্তমানে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হতে পারেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন এবং এর আগে সহিংস অপরাধ ও অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলায় সাজা ভোগ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় নিউইয়র্কজুড়ে তার অবস্থান শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে। কোনো তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন এনওয়াইপিডির হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে নিউইয়র্ক সিটিতে গুলির ঘটনা, গুলিতে হতাহত ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে কমেছে। একই সময়ে পুলিশ জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩ হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
নিউইয়র্কে একাধিক ক্লার্ক পদে নিয়োগ, আবেদন ও যোগ্যতা জেনে নিন
সকাল ৯টায় ডিভোর্স, দুপুর ১২টায় জানতে পারলেন স্বামী ৪ কোটি ডলারের লটারি জিতেছেন