ভূত তাড়ানোর নামে নারীকে যৌ ন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন হিন্দু পুরোহিত
কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের ওশাওয়া শহরে এক নারীকে ভূত তাড়ানোর কথা বলে যৌন হেনস্থার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক হিন্দু পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করেছে ডারহাম রিজিওনাল পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ওই পুরোহিতের নাম রাজেন্দ্রনৌথ দুডনৌথ মহারাজ (৫০)। তিনি নিউইয়র্কের রিচমন্ড হিলের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মীয় চিকিৎসার আড়ালে এমন প্রতারণা ও হেনস্থার শিকার আরও কেউ হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবার একটি হিন্দু ধর্মীয় আচার পালনের জন্য ওই পুরোহিতকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভাড়া করে নিয়ে এসেছিলেন।
কিন্তু আচার পালনের একপর্যায়ে অভিযুক্ত পুরোহিত ওই নারীকে বিশ্বাস করান যে, তাঁর ওপর অশুভ আত্মা বা প্রেতাত্মা ভর করেছে। এই অশুভ প্রভাব থেকে মুক্ত হতে বিশেষ এক ধর্মীয় উপাচারের প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপর চিকিৎসার কথা বলে ওই নারীকে একটি গোপন স্থানে নিয়ে যান এবং ধর্মীয় আচারের নাম করে তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন।
গত ২৫ আগস্ট এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ওই পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে এবং জামিন শুনানির জন্য তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ডারহাম রিজিওনাল পুলিশ অভিযুক্তের একটি ছবি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে ভ্রমণকারী এই পুরোহিতের মাধ্যমে যদি অন্য কেউ এমন প্রতারণা বা হেনস্থার শিকার হয়ে থাকেন, তবে যেন দ্রুত তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ অন্তত নয়টি শহরে রাতভর একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলা এই নির্বিচার হামলায় প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা কিয়েভ। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই ব্যাপক হামলায় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে এক বৃদ্ধা এবং খারকিভ অঞ্চলে আরেকজনসহ অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক। আবাসিক ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটির বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘ব্যাপক আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের শিল্প স্থাপনা, তেল শোধনাগার, সামরিক লজিস্টিক হাব এবং বন্দর অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, শীতের আগে দেশটির জ্বালানি নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবসা খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে চারটি শক্তিশালী গ্লাইড বোমার আঘাতে একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি খেলনা ব্র্যান্ড ও কনফেকশনারি কোম্পানির ডিপো এবং একটি ইলেকট্রনিক্স রিটেলারের গুদাম। গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বন্দর ওদেসাতেও টানা সাত ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হামলা চলে, যার ফলে ব্যাহত হয় শস্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৬ তলা একটি আবাসিক ভবন। এদিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মারাত্মক সংকটে ভুগছে ইউক্রেন। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স প্যাকেজ সরবরাহের জোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী সাতটি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা প্রতিহত করার দাবি করেছে। এই হামলার রেশ ছড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ মলদোভাতেও; দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতের আঁধারে পাঁচটি ড্রোন তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। পাল্টা জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে ব্যাপক ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দোনেৎস্কের কাছে রাশিয়ার প্রধান ও বিকল্প কমান্ড পোস্টে সফল আঘাত হানার দাবি করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ১৪টি অঞ্চল এবং কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরের ওপর থেকে ২৬৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে এসব ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ওজন’-এর উফা শহরের লজিস্টিক কেন্দ্রে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
নেপালে ভয়াবহ ভূমিধসে ৬৫ মার্কিন নাগরিকসহ নিখোঁজ ১ হাজার ৪০০, নি হত ৩৬০
ভূত তাড়ানোর নামে নারীকে যৌ ন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন হিন্দু পুরোহিত
গালফ অব আমেরিকার পর এবার লেক অন্টারিও, নতুন নাম ‘লেক আমেরিকা’ দিলেন ট্রাম্প
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা যখন জোরালো হচ্ছে, তখন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি চিঠি হস্তান্তর করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠকের সময় চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়। জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ২৩তম বিশেষ অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের সফর হয়েছে। এসব সফর দুই দেশের বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে আরও উচ্চ পর্যায়ের সফরের সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর একটি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর বাড়তে থাকা আগ্রহের কথাও উল্লেখ করে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি সৌদি আরবের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনা চলছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের পর্যায়ে নেই। তবে চুক্তির সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। স্বাধীন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি তিন দেশের মধ্যে হয়েছে এবং বাংলাদেশ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসার আগে যোগদানের সুবিধা বা অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি। খলিলুর রহমান আরও বলেন, ভবিষ্যতে চুক্তিটি সম্প্রসারিত হলে এটি মুসলিম বিশ্বের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। তাঁর ভাষায়, এটি মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এ নিয়ে অন্যদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও বলেছেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজন ও জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা নিয়ে অন্য কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। ফলে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নির্ভর করছে চুক্তির বর্তমান সদস্য দেশগুলো ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায় কি না এবং সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর।
ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আজীবন নিষেধাজ্ঞার দাবি
‘আমরা ইসরায়েলি, সবাই ঘৃণা করে কেন বুঝি না’, পর্যটকদের স্ট্রিট ইন্টারভিউ ভাইরাল
২১ বছর পুরোহিতের দায়িত্ব পালনের পর কোরআন গবেষণা করে ইসলাম গ্রহণ করেন ফিলিপাইনের বিশপ
যুক্তরাজ্যের ৪১ বছর বয়সী ডেভিড বাউন মস্তিষ্কের নিম্নমাত্রার টিউমারের চিকিৎসায় আট বছরের বেশি সময় ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে মামলা করেছেন। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, তাকে টেমোজোলোমাইড নামের কেমোথেরাপির ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে দেওয়া হয়। অথচ চিকিৎসা নির্দেশনায় এ ধরনের টিউমারের ক্ষেত্রে সাধারণত ছয় থেকে ১২ মাসের বেশি কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা নয়। ২০১৬ সালে খিঁচুনির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে বাউনের মস্তিষ্কে নিম্নমাত্রার টিউমার শনাক্ত হয়। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পর সময়মতো এমআরআই স্ক্যান না করায় তার অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের চার দিন পর করা স্ক্যানে বাউনের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও ফুলে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাউন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যান। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মস্তিষ্কে জমে থাকা রক্তের জমাট অপসারণ করা হয় এবং আরও কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর বাউনের চিকিৎসায় টেমোজোলোমাইড কেমোথেরাপি শুরু হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে এই চিকিৎসা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি আট বছরেরও বেশি সময় ধরে কেমোথেরাপি নেন। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও তার আইনজীবীদের তথ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে এই চিকিৎসা চলার বিষয়টি উঠে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ফলে বাউনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় স্থায়ী প্রভাব পড়েছে বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে গেছে এবং দৃষ্টিশক্তিরও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের জন্য তাকে পুরোপুরি বাবা-মায়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন, বাউন বিষণ্নতায়ও ভুগছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর তার জীবনে যে শারীরিক ও মানসিক প্রভাব পড়েছে, সেটিই মামলার অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বাউনের করা এই মামলা চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। একই হাসপাতাল ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে আরও কয়েকজন রোগীর অভিযোগও রয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। মামলায় বাউনের অভিযোগের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের পর তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সময়মতো এমআরআই স্ক্যান না করা, পরবর্তী সময়ে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় কেমোথেরাপি চলার বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে বাউনের করা মামলাসহ এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়নি। ফলে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে। ঘটনাটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় রোগীর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা নির্দেশনা অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে বাউনের দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় কেমোথেরাপি নেওয়ার ঘটনাটি তার করা মামলার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।
দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিচারের মুখোমুখি ৯/১১ হা মলার মাস্টারমাইন্ড খালিদ শেখ মোহাম্মদ
নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ ও সিনেটে চীনা হ্যাকারদের হা মলা, পাল্টা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের