সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

বন্যার ধ্বংসস্তূপে ছোট বোনকে আগলে ভাই, নেপালের দৃশ্য মনে করাল ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৯:৪৮
নেপালে বন্যাকবলিত এলাকায় ছোট বোনকে পিঠে নিয়ে এক শিশুর এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে বন্যাকবলিত এলাকায় ছোট বোনকে পিঠে নিয়ে এক শিশুর এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ছোট এক শিশুকে তার বোনকে পিঠে নিয়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। মুখে আঘাতের চিহ্ন নিয়েও ছোট বোনকে আগলে রাখার ভাইয়ের দৃশ্যটি দর্শকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে জাপানি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর ভাইবোনের করুণ কাহিনি।

 

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বিপর্যস্ত পরিবেশের মধ্যে শিশুটি তার ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দুই শিশুর মুখেই আঁচড় ও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বন্যার মধ্যে তারা বাবা-মাকে খুঁজছিল।

 

ভিডিওটি ৩০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আবেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ছোট বোনকে রক্ষা করতে বড় ভাইয়ের নিরন্তর চেষ্টা। দুর্যোগের ভয়াবহতার মধ্যেও ভাইবোনের এই দৃশ্য অনেকের কাছে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে একে অপরকে আগলে রাখা ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর সেতা ও সেতসুকোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

 

১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে এক ভাই ও তার ছোট বোনের বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প। বাবা-মাকে হারানোর পর ভাই সেতা তার ছোট বোন সেতসুকোকে আগলে রাখার চেষ্টা করে। চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকগুলোর একটি হলো, ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ভাইয়ের বোনকে রক্ষা করার চেষ্টা।

 

নেপালের ভাইরাল ভিডিওর ঘটনাটি অবশ্য চলচ্চিত্রটির গল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। ভিডিওতে থাকা শিশুদের পরিচয়, তাদের বাবা-মায়ের বর্তমান অবস্থা কিংবা তারা সত্যিই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল কি না, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

 

তবে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যায় শিশুদের ঝুঁকির বিষয়টি বাস্তব। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে অন্তত ১৭ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক শিশু পরিবার বা অভিভাবকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশুদের শনাক্ত করে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের কাজও চলছে।

 

বন্যার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা ও শিশু দুটির পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও, ছোট বোনকে আগলে রাখা ভাইয়ের দৃশ্যটি নেপালের দুর্যোগে শিশুদের অসহায়ত্ব এবং পারস্পরিক নির্ভরতার এক গভীর প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই দৃশ্যটি অনেকের মনে ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর সেই করুণ ভাইবোনের গল্পের প্রতিধ্বনি তৈরি করেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদ, প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি পেরিয়ে ইমামতি করেন সিবগাতুল্লাহ
পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদ, প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি পেরিয়ে ইমামতি করেন সিবগাতুল্লাহ

তুরস্কের ঐতিহাসিক ভান দুর্গের চূড়ায় প্রতিদিন এক অন্যরকম দৃশ্যের অবতারণা করেন সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ নামের এক অদম্য ইমাম। খাড়া ও দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পৌঁছে যান উসমানীয় আমলের সুলাইমান খান মসজিদে। সেখানে আজান দেওয়া ও নামাজের ইমামতি করার পাশাপাশি তুরস্কসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের সেবা দেওয়াই এই সাহসী তুর্কি ইমামের প্রতিদিনের মূল কাজ।   গত পাঁচ মাস ধরে ঐতিহাসিক এই মসজিদটির ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন সিবগাতুল্লাহ। আতাতুর্ক সাংস্কৃতিক উদ্যান থেকে শুরু করে পাথুরে দুর্গের চূড়ায় পৌঁছাতে প্রতিদিন তাঁকে প্রায় পাঁচ হাজার সিঁড়ি ভাঙতে হয়। ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং স্থানীয় মুফতি কার্যালয়ের অধীনে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা এই ইমাম তাঁর বর্তমান দায়িত্ব নিয়ে দারুণ সন্তুষ্ট।   প্রতিদিন জোহরের আগেই পাহাড়ি পথ বেয়ে তিনি মসজিদে পৌঁছান এবং মাগরিব শেষে নিচে নেমে আসেন। তবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এশা ও ফজরের ওয়াক্তে সেখানে সাধারণ মুসল্লিদের যাতায়াত সম্ভব হয় না বলে ওই দুই সময় জামাত অনুষ্ঠিত হয় না।   ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সুলাইমান খান মসজিদটির সুনির্দিষ্ট নির্মাণকাল অজানা থাকলেও, ১৫৩৪ সালে উসমানীয় সুলতান সুলাইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট এটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার পর মাত্র তিন বছর আগে এটি সংস্কার করে মুসল্লিদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়।   বর্তমানে এই মসজিদটি পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ কেবল ইমামতিই করেন না, আগত দর্শনার্থীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে প্রাচীন ভান নগরী, উরার্তু সভ্যতার ঐতিহাসিক দুর্গ ও মসজিদটির সমৃদ্ধ ইতিহাসও তুলে ধরেন।   বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নানা দেশের পর্যটকদের সাথে নিয়মিত কথা বলার সুবাদে সিবগাতুল্লাহর ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন তিনি অনায়াসেই বিদেশি দর্শনার্থীদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং ইসলাম ও এর ঐতিহ্য সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।   অক্লান্ত এই যাত্রার পর দুর্গের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে তাঁর সব শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। দর্শনার্থীদের ভালোবাসা ও ‘আল্লাহ আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন’—এমন দোয়াই তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করেন এই নিষ্ঠাবান ইমাম।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:২৬
গাজায় যে মাত্রায় ধ্বং সযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা যে কাউকেই ব্যথিত করবে: ওবামা

গাজায় যে মাত্রায় ধ্বং সযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা যে কাউকেই ব্যথিত করবে: ওবামা

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আহত বাংলাদেশিরা সৌদি চিকিৎসক ও নার্সদের সেবায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সৌদি চিকিৎসকদের নিবিড় সেবায় ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন হুথি হামলায় আহত বাংলাদেশিরা

আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন।

ক্যামেরা হাতে সংবাদ সংগ্রহ, এরপরই হামলা! পশ্চিম তীরে আহত মার্কিন আলোকচিত্রী

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট
মক্কায় অনৈতিক কাজে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, আগে না জানায় তথ্য চেয়ে চিঠি বাংলাদেশের

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছে কনস্যুলেটের একটি সূত্র। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠানো হয়।  ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। শুক্রবার বিকেলে কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, বুধবার, ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে যেসব কর্মকাণ্ডকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ‘অনৈতিক ও অশালীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, সেসব ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়। প্রকাশিত বিবৃতিতে কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।  গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ও তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। সৌদি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, অপরাধের গুরুত্ব, মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় এ রায় দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে তা কার্যকর করা হয়।    প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে মামলাটির বিচার চলছিল। বিচারপ্রক্রিয়ায় দুজন বাংলাদেশি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁদের ভূমিকা ও অভিযুক্তদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে আটক কোনো ব্যক্তি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিলম্ব না করে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয়। আটক ব্যক্তিকে এ অধিকার সম্পর্কেও অবহিত করার বিধান রয়েছে। কনস্যুলার কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ, সাক্ষাৎ এবং আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে পারেন।    নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তাঁদের এ অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁরা কী ধরনের আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া বিস্তারিত তথ্য এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১১:৫২
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

অভিজিতের পর নেহা বোরাকেও আটক করল দিল্লি পুলিশ, তিরঙ্গা মিছিল ঘিরে উত্তেজনা

পার্কে হাঁটতে যাওয়া তিন ভারতীয় শিক্ষার্থীকে ঘিরে ভিডিও ধারণ

ইংল্যান্ডের পার্কে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ, টহল বাড়াল পুলিশ

হিন্দু মন্দিরে হা মলার পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রে প্তা র

‘ভারতীয়দের মা রতে তর সইছে না’, মন্দিরে হা মলার দুই বছরের পরিকল্পনার অভিযোগে আটক শিকাগোর তরুণ

এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ঘিরে উত্তেজনা
এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় পাঁচজন নি হ ত, সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা ঝুঁকিতে

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হুতিদের হামলায় অন্তত পাঁচজন নি হ ত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হামলার সময় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। হুতিদের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সৌদি আরবের সামরিক অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি বেড়েছে। জোটের দাবি, চলতি মাসে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে প্রায় ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭ জন নি হ ত এবং ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জোটের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন। সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনজন নি হ ত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জোট। তবে এসব হামলার প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আরও দাবি করেছে, সামরিক অভিযানে হুতিদের ১২৭টি অস্ত্রের গুদাম ও হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। অন্যদিকে, হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত শহরের কাছে ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি নাজরান ও জিজান এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব এলাকা ইয়েমেনের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়লে এর প্রভাব শুধু দেশটির নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য হামলার হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সৌদি আরব ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, ইরান হুতিদের সামরিক সহায়তা দেয়। তবে তেহরান হুতিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে। পরের বছর, ২০১৫ সালে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো মানুষ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত কিছুটা কমলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আবারও লড়াই ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থানও এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশটির কাছেই বাব আল-মান্দেব প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার অভিযোগ—দুটি ঘটনাই আঞ্চলিক উত্তেজনার বিস্তারের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৫:৫২
আজারবাইজানে স্কুলের পোশাকবিধি বিতর্কের মাঝে হিজাবের পক্ষে শিশু কারবালাই খাদিজার বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

‘হিজাব আমার শিক্ষার বাধা নয়, আমি শহীদ কন্যা, কখনো হিজাব ছাড়ব না’: আজারবাইজানে পোশাকবিধি বিতর্ক

ইউএইর ভিসামুক্ত তালিকায় ইউরোপের ৪৬ দেশ

আগাম ভিসা ছাড়াই ইউএই যেতে পারবেন ৪৬ দেশের নাগরিক, তালিকায় নেই বাংলাদেশ

প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি টিকটকে প্রকাশের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য পান তরুণী মিলাগ্রোস। ছবি: সংগৃহীত

টিকটকে প্রেমিকের ছবি পোস্ট করলেন তরুণী, ২০ জনের বেশি নারীর সাথে সম্পর্কের অভিযোগ

0 Comments