সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১০:৩
নিউইয়র্ক পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যদের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যদের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়, আসন্ন কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন সদস্যরা।

 

সভায় বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সামনে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।

 

সংগঠনের পক্ষ থেকে সভায় অংশ নেওয়া সব সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। তাদের অংশগ্রহণ, সহযোগিতা এবং সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতি অব্যাহত নিষ্ঠার জন্যও সদস্যদের প্রশংসা করা হয়েছে।

 

সভায় বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদেরও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সংগঠনটি বিভিন্ন কমান্ডে প্রতিনিধিদের নিয়োগ দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

বিভিন্ন কমান্ডে প্রতিনিধিদের নিয়োগের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা, প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

 

সাধারণ সদস্যদের এই সভার মাধ্যমে সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, আসন্ন কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কমান্ডে প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন কাঠামো হিসেবে সামনে এসেছে।

 

বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সদস্যদের অব্যাহত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাকে সংগঠনের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সভায় সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যদের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়, আসন্ন কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন সদস্যরা।   সভায় বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সামনে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।   সংগঠনের পক্ষ থেকে সভায় অংশ নেওয়া সব সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। তাদের অংশগ্রহণ, সহযোগিতা এবং সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতি অব্যাহত নিষ্ঠার জন্যও সদস্যদের প্রশংসা করা হয়েছে।   সভায় বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদেরও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সংগঠনটি বিভিন্ন কমান্ডে প্রতিনিধিদের নিয়োগ দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   বিভিন্ন কমান্ডে প্রতিনিধিদের নিয়োগের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা, প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।   সাধারণ সদস্যদের এই সভার মাধ্যমে সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, আসন্ন কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কমান্ডে প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন কাঠামো হিসেবে সামনে এসেছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সদস্যদের অব্যাহত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাকে সংগঠনের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সভায় সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১০:৩
পেনসিলভানিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পেনসিলভানিয়ায় নতুন আসা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি থেকে স্বাস্থ্যসেবা, ১০টি জরুরী ঠিকানা

সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অনুমোদনের হার কমে ৩৪ শতাংশে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত

জনসমর্থনে তলানিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাড়ছে নিজ দলের ভেতরেও অসন্তোষ

ভারতীয় যুবক যুবান ইবানেজ গারওয়ার

একই চিকিৎসা ভারতে ৪৮ হাজার, যুক্তরাষ্ট্রে ২২ লাখ! ক্ষোভে ছাড়তে চান যুক্তরাষ্ট্র

সরকারি ও কমিউনিটি সেবা
নিউ ইয়র্কে নতুনদের জানা জরুরি ১০ সরকারি ও কমিউনিটি রিসোর্স

আমেরিকায় নতুন আসা প্রবাসীদের জন্য সরকারি ও কমিউনিটি সেবার সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সরকারি সহায়তা, ইমিগ্রেশন এবং কম খরচে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক সিটিতে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা। নতুন প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগতে পারে এমন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক রিসোর্স  তুলে ধরা হলো।   ১. ৩১১ সেবা নিউ ইয়র্ক সিটিতে সরকারি তথ্য ও জরুরি নয় এমন বিভিন্ন সেবার জন্য ৩১১ একটি গুরুত্বপূর্ণ নম্বর। সিটি সার্ভিস, সরকারি সহায়তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে তথ্য জানতে ৩১১-এ ফোন করা যায়। এই সেবায় ১৭৫টির বেশি ভাষা ও ডায়ালেক্টে ইন্টারপ্রেটার সুবিধা রয়েছে। স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও অন্যান্য সিটি সার্ভিস সম্পর্কেও ৩১১ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। ২. পাবলিক লাইব্রেরি কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি, নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি এবং ব্রুকলিন পাবলিক লাইব্রেরি নতুন প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্স। বিভিন্ন শাখায় ইংরেজি শেখার ক্লাস, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ, শিশুদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং চাকরি খোঁজার সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে কোন শাখায় কী ধরনের সেবা রয়েছে, তা আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো।   ৩. এনওয়াইসি এইচআরএ ও অ্যাক্সেস এনওয়াইসি খাবারের সহায়তা হিসেবে স্ন্যাপ, নগদ সহায়তা এবং মেডিকেইডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য নিউ ইয়র্ক সিটির মানবসম্পদ প্রশাসন বা এইচআরএর মাধ্যমে আবেদন করা যায়। অ্যাক্সেস এনওয়াইসি প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। একাধিক সুবিধার জন্য একই আবেদনের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। ৪. এনওয়াইসি হেলথ + হসপিটালস ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক হাসপাতাল ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোন হাসপাতালে কী ধরনের চিকিৎসা এবং ভাষা সহায়তা রয়েছে, তা যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া ভালো। গুরুতর বা জীবনঝুঁকির জরুরি অবস্থায় অবশ্যই ৯১১-এ কল করতে হবে।   ৫. আইডিএনওয়াইসি আইডিএনওয়াইসি হলো নিউ ইয়র্ক সিটির সরকারি ফ্রি ফটো আইডি। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে যোগ্য নিউইয়র্ক সিটি বাসিন্দারা এই আইডির জন্য আবেদন করতে পারেন। পরিচয় প্রমাণের পাশাপাশি কিছু ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নে অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান থেকেও আইডিএনওয়াইসি ব্যবহার করে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। ৬. এনওয়াইসি পাবলিক স্কুল ও ওয়েলকাম সেন্টার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে এনওয়াইসি পাবলিক স্কুলের সঠিক তথ্য জানা জরুরি। বাসার ঠিকানা ও জিপ কোড অনুযায়ী স্কুল এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষা বিভাগের অফিসিয়াল সেবা থেকে তথ্য নেওয়া যায়। স্কুলসংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথির অনুবাদের জন্যও শহরের পক্ষ থেকে ভাষা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলা ভাষাতেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুবাদ ও ইন্টারপ্রেটার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।   ৭. সিইউএনওয়াই অ্যাডাল্ট এডুকেশন ইংরেজি শেখা, জিইডি প্রস্তুতি এবং অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক বা সিইউএনওয়াইয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সুযোগ রয়েছে। কোন কোর্স ফ্রি এবং কারা অংশ নিতে পারবেন, তা সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাস বা প্রোগ্রামের অফিসিয়াল তথ্য থেকে যাচাই করা উচিত। ৮. ফুড প্যান্ট্রি খাবারের খরচ সামলাতে সমস্যায় থাকা পরিবারগুলো ফুড প্যান্ট্রির সহায়তা নিতে পারে। কাছাকাছি কোথায় খাবার বিতরণ করা হয়, সে তথ্য ৩১১সহ বিভিন্ন কমিউনিটি রিসোর্সের মাধ্যমে জানা যায়। হালাল খাবারের প্রয়োজন হলে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ফুড প্যান্ট্রিতে ফোন করে সে সুবিধা রয়েছে কি না নিশ্চিত করা ভালো। ৯. লিগ্যাল এইড ও সিটিজেনশিপ সহায়তা ইমিগ্রেশন ও সিটিজেনশিপ সংক্রান্ত সহায়তার জন্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, সিইউএনওয়াই সিটিজেনশিপ নাও এবং অন্যান্য স্বীকৃত লিগ্যাল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা আইনজীবীর যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।   ১০. ফেয়ার ফেয়ার্স এনওয়াইসি কম আয়ের যোগ্য নিউ ইয়র্ক সিটি বাসিন্দারা ফেয়ার ফেয়ার্স এনওয়াইসি কর্মসূচির মাধ্যমে সাবওয়ে ও নির্দিষ্ট বাস ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন। অ্যাক্সেস-এ-রাইডের ক্ষেত্রেও ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। যোগ্যতা আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে। আবেদন করার আগে সরকারি যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করা উচিত।   নতুন প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো সরকারি বা কমিউনিটি সেবা নেওয়ার আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা। আপনার জিপ কোড উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সেবার নাম দিয়ে অনলাইনে খোঁজার পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক সিটির সরকারি প্ল্যাটফর্ম ও ৩১১ সেবা ব্যবহার করলে সঠিক তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সরকারি সুবিধার যোগ্যতা ও নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ শর্ত দেখে নেওয়াই নিরাপদ।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৫:২৮
ট্রাম্পের গলফ কোর্স প্রকল্পে কাটা হলো ওয়াশিংটন ডিসির শতবর্ষী জাপানি চেরি গাছ

ট্রাম্পের গলফ কোর্স প্রকল্পে কাটা হলো ওয়াশিংটন ডিসির শতবর্ষী জাপানি চেরি গাছ

ঈদ উৎসব উদযাপনে বন্ধ থাকতে পারে স্কুল!

ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বিল, ঈদ উৎসব উদযাপনে বন্ধ থাকতে পারে স্কুল!

কোমার ঝুঁকিতে থাইরয়েড ক্যানসারজয়ী নারী

আইসিই হেফাজতে ওষুধ বন্ধ, কোমার ঝুঁকিতে থাইরয়েড ক্যানসারজয়ী নারী

সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য
শিকাগোতে নতুন নিয়ম, সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে সরকারি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিগুলোকে এখন তাদের নেতৃত্বে ডাইভারসিটির তথ্য এবং আইসিইসহ বিভিন্ন সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ২৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশে এসব নিয়ম চালু করেন।   নতুন নীতির আওতায় সিটি কন্ট্রাক্টর ও সাবকন্ট্রাক্টরদের নিজেদের কর্মী ও নেতৃত্বের ডাইভারসিটি সম্পর্কিত তথ্য জানাতে হবে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোকে তাদের করপোরেট নেতৃত্ব ও পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং ডাইভারসিটি বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।   একই সঙ্গে কোনো কোম্পানি গত পাঁচ বছরে আইসিই বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যবসা করেছে কি না, সেটিও প্রকাশ করতে হবে। সরকারি কন্ট্রাক্টের সঙ্গে সম্পর্কিত নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক বা বৈষম্যের অভিযোগের তথ্যও প্রকাশের আওতায় থাকবে।   মেয়র জনসন বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বৈষম্য শনাক্ত করা সহজ হবে। তার ভাষায়, শিকাগোর সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইলে কোম্পানির নেতৃত্ব শহরের যেসব মানুষের করের অর্থে ওই কন্ট্রাক্ট দেওয়া হচ্ছে, তাদের ডাইভারসিটিকে কতটা প্রতিফলিত করে তা জানা প্রয়োজন।   নতুন নির্বাহী আদেশে শুধু ডাইভারসিটির তথ্য নয়, কোম্পানির ব্যবসায়িক আচরণ নিয়েও কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, মজুরি চুরি বা নির্দিষ্ট ধরনের ‘পাবলিক ইন্টিগ্রিটি ভায়োলেশন’-এ জড়িত থাকলে সেটি সিটি কন্ট্রাক্টের জন্য অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।   এ জন্য ১২ সদস্যের একটি Ethical Procurement Standards Task Force গঠনের কথাও বলা হয়েছে। শহরের প্রধান procurement কর্মকর্তা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়মগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করবেন।   শিকাগোর এই পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জনসন প্রশাসন এমন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারি অর্থের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে চাইছে, যেগুলো ফেডারেল সরকারের অভিবাসন অভিযান বা ডিপোর্টেশন কার্যক্রমে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত।   তবে নতুন নিয়মের অর্থ এই নয় যে কোনো কোম্পানির আইসিইর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট থাকলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিকাগোর ব্যবসা থেকে বাদ পড়বে। বরং কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড প্রকাশের পর সিটি কর্তৃপক্ষ সেগুলো মূল্যায়ন করবে।   শিকাগো সিটি ক্লার্কের রেকর্ড অনুযায়ী, জনসনের এই নির্বাহী আদেশের নাম Executive Order 2026-6 এবং এটি ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষর করা হয়। আদেশটির লক্ষ্য হিসেবে করদাতা ও স্থানীয় কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষা এবং সিটি কন্ট্রাক্টে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে শিকাগোর সরকারি অর্থ কোন কোম্পানির কাছে যাচ্ছে এবং সেই কোম্পানিগুলো অন্য সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কী ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ২:১৬
আমেরিকায় প্রিয়জনের মৃত্যুতে খরচের চাপে পরিবারগুলো

মৃত্যুও এখন ব্যয়বহুল! আমেরিকায় প্রিয়জনের মৃত্যুতে খরচের চাপে পরিবারগুলো

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা

মাত্র সাড়ে সাত মাস বয়সেই নেটফ্লিক্সে অভিনয়

মাত্র সাড়ে সাত মাস বয়সেই নেটফ্লিক্সে অভিনয়! দিনে আয় ৩৬০ ডলার

0 Comments