ক্যানসার তহবিল চুরি করে বিয়ে-হানিমুন, ব্রিটিশ বাংলাদেশির কারাদণ্ড
যুক্তরাজ্যে স্তন ক্যানসার গবেষণায় অর্থায়নকারী দাতব্য প্রতিষ্ঠান ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড আত্মসাতের দায়ে ২৯ বছর বয়সী তামিম চৌধুরীকে দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের আদালত। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, বিলাসবহুল কেনাকাটা, বিয়ে ও হানিমুনের খরচে ব্যয় করেছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিসে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর তামিমকে এই সাজা দেওয়া হয়। সিটি অব লন্ডন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনিতে বসবাস করতেন এবং ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অর্থ বিভাগে কাজ করতেন।
আদালতে বলা হয়, ২০২৩ সালে রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কাছ থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের ৯১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৭২ পাউন্ড ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। ওই অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তামিম ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে রয়্যাল মার্সডেনকে পরিবর্তিত ব্যাংক তথ্য পাঠান। ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অফিসিয়াল প্যাডে দেওয়া ওই ব্যাংক হিসাবটি ছিল তার নিজের।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট পুরো অর্থ তার ব্যক্তিগত স্যানটান্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এরপর দ্রুত ওই অর্থ খরচ করতে শুরু করেন তিনি।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তামিম প্রায় ৪৯ হাজার পাউন্ড খরচ করেন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, কাতারের বিমানের টিকিট, বিলাসবহুল কেনাকাটা, স্বজনদের অর্থ পাঠানো এবং বিয়ে ও হানিমুনের খরচ ছিল। একটি বিলাসবহুল আংটির পেছনেও প্রায় ১৪ হাজার পাউন্ড খরচ করেন তিনি।
পুলিশের তদন্তে তার মোবাইল ফোনের বার্তাতেও আর্থিক সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। চুরির আগে তিনি নিজেকে চরম আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানায় পুলিশ।
অর্থের অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর স্যানটান্ডার তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে। ওই সময় অ্যাকাউন্টে থাকা ৪২ হাজার ৮৬৬ দশমিক ২৫ পাউন্ড জব্দ করা হয়।
ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি অব লন্ডন পুলিশের প্রতারণা তদন্তকারী দল তদন্ত শুরু করে। পরে ২০২৫ সালের জুনে তামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিটি অব লন্ডন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা বলেন, ক্যানসার গবেষণায় অর্থায়নকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগকে তামিম ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহার করেছেন। দাতাদের অর্থের ওপর মানুষের আস্থার সঙ্গে তার এই কর্মকাণ্ড বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রেস্ট ক্যানসার নাও জানিয়েছে, পুলিশ তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের পুরোটা উদ্ধার হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত কোনো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েনি।
ব্রেস্ট ক্যানসার নাও স্তন ক্যানসার গবেষণা, আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা এবং এ রোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থের একটি অংশ রয়্যাল মার্সডেনের মতো গবেষণা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের মধ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাবে, পণ্য ও নগদ অর্থ মিলিয়ে সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ সাত লাখ ইউরো ছাড়াতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে এসব দোকানে হামলা ও লুটপাট হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোবাইল ফোন বিক্রির পাশাপাশি মানি ট্রান্সফারের সেবা দেওয়া হতো। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএসআর ইনফরমেটিক, থ্রি জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি ডি ইনফরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিক। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকান বন্ধ রেখেও তাঁরা পণ্য ও নগদ অর্থ রক্ষা করতে পারেননি। কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। জরুরি সহায়তার জন্য বারবার ফোন করেও পুলিশের তাৎক্ষণিক সাড়া পাননি বলে দাবি করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর দোকানে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্য ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে লুটপাট চালানো হয় বলে তাঁর অভিযোগ। এই ক্ষতির পর ব্যবসা আবার শুরু করার সামর্থ্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন জানান, তাঁর ফোন স্টোর ও বদি টেলিকম নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। দুটি দোকান মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর মধ্যে একটি দোকান মাত্র তিন মাস আগে চালু করেছিলেন। আজিম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দোকানের রিয়া মানি ট্রান্সফার কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ ছিল। দুটি প্রতিষ্ঠানেই লুটপাট হয়েছে এবং সহায়তা চেয়ে পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার প্রেসিডেন্ট ওবায়দুল্লাহ কয়েস অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনের মতো মূল্যবান পণ্য এবং মানি ট্রান্সফারের নগদ অর্থ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে ক্ষতির অঙ্ক বড় হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তাঁদের উদ্বেগ, বন্ধ দোকানও নিরাপদ রাখা না গেলে বিনিয়োগ ও জীবিকা দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে। সূত্র: কালের কণ্ঠ
খাবারের অভাবে চরম দুর্দশায় ওলেশকির বাসিন্দারা, শহরটিকে ‘মৃ ত্যুফাঁদ’ বললেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হুথিদের হা মলার উত্তেজনার মধ্যে রিয়াদে জরুরি সতর্কবার্তা, নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ বাসিন্দাদের
প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গ্রে প্তার ৪০০ জনের বেশি
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন ইউরোপের একদল কূটনীতিক। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত তাইবেহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বেলজিয়ামের কনসাল জেনারেল, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিক এবং ক্যাথলিক প্রতিনিধিরা। এ সময় ফ্রান্সের এক মেয়রও হামলার শিকার হন এবং বেলজিয়ামের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বেলজিয়ামের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন প্রেভো। জলপাই সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও বিদেশি প্রতিনিধিদের ওপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটল। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে হামলায় অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ঠেকাতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এসব ঘটনায় গুলতি থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেভো এ হামলার জন্য ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নীতিকে দায়ী করেছেন। তাঁর ভাষায়, সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের দায়মুক্তির অবসান হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য বেলজিয়াম কাজ চালিয়ে যাবে। ফিলিস্তিনিদের জমি থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং বসতি সম্প্রসারণেরও নিন্দা জানান তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা অ্যামিত ওরফালি নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও প্রকাশ করেন। একটি ভিডিওতে ফ্রান্সের মেয়রকে ধুলোমাখা মাটিতে বসে একটি গাড়ির পাশে হেলান দিয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর পরনে ছিল ফ্রান্সের জাতীয় পতাকার রঙের ফিতা। অন্য ভিডিওতে মুখোশ পরা কয়েকজন তরুণকে গাড়ির চালকের পাশের জানালায় বারবার আঘাত করতে এবং পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে দেখা যায়। দূরে লাঠি হাতে আরও কয়েকজনকে এগিয়ে আসতেও দেখা যায়। ওরফালির দাবি, মুখোশধারীরা তাঁদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল। ঘটনার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একে গুরুতর সহিংসতার ঘটনা বলে নিন্দা জানায়। তবে তাদের বক্তব্য, কূটনীতিকদের এই সফরের বিষয়ে আগে থেকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি এবং হামলার সময় ঘটনাস্থলে কোনো সেনা সদস্য ছিলেন না। ইসরায়েলি পুলিশও তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে। তদন্তে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ইসরায়েলি দাঙ্গাকারীদের সহিংসতাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তাঁর মন্ত্রণালয় যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান। তবে পরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর ঘটনাটি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানায়। দপ্তরের বক্তব্যে ইসরায়েলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সমন্বিত প্রচারণা চালানোর আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়। এই হামলার আগের দিন, শুক্রবার, পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি কৃষক ও তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে সাংবাদিকতা করছেন। শনিবার হাসপাতালের শয্যা থেকে দেওয়া বক্তব্যে লেভিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে তিনি আগে কখনো এমন অবস্থায় দেখেননি। তাঁর ওপর হামলার ঘটনাকে নেতানিয়াহু কথিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করায় তিনি বিস্মিত ও অপমানিত বোধ করেছেন বলেও জানান। নেতানিয়াহু অতীতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য অল্পসংখ্যক বিশৃঙ্খলাকারীকে দায়ী করেছেন। তবে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় গাড়িতে আগুন দেওয়া, জলপাইগাছের ক্ষতি করা এবং মানুষকে আহত করার ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চলতি মৌসুমকে কেউ কেউ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক জলপাই সংগ্রহের মৌসুম বলেও বর্ণনা করছেন। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি আচরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে। নির্বাচনে তাঁর দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ধরে রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অল্প কয়েকজন অপরাধীর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল রাষ্ট্রের অবশিষ্ট গ্রহণযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিরোধের বিষয়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে বিবেচনা করে। সেখানে অনেক বসতি এখন উন্নত আবাসিক এলাকার রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদন ছাড়াই শত শত নতুন বসতি-চৌকি গড়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সুরক্ষা পেলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয় না। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ভূখণ্ড দাবি করে আসছে। পশ্চিম তীর এখনো ইসরায়েলি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। সম্প্রতি চীনও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে পশ্চিম তীরে জোর করে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ ও প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন বলে চীনা পক্ষের একজন মুখপাত্র জানান। জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে কৃষক, সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বেলজিয়ামসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃ ত্যু, আহত আরও ২৫ জন
ফ্রান্সে দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সং ঘর্ষ, আটক আড়াই শতাধিক
পোষা টিকটিকিকে খাওয়ানোর অজুহাতে ৬৪ বার ঘাঁটি ত্যাগ, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা কর্মকর্তার শাস্তি বহাল
ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বাজারে এলন মাস্ককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উড়ন্ত গাড়ির দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আলেফ অ্যারোনটিক্স। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রোমাঞ্চকর ভিডিওতে দেখা যায়, টেসলা রোডস্টারের ঠিক ওপর দিয়ে সফলভাবে উড়ে যাচ্ছে আলেফের একটি গাড়ি। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর টেসলাকে উড়ন্ত গাড়ির বাজারে স্বাগত জানিয়ে আলেফের প্রধান নির্বাহী জিম দুখভনি কিছুটা রসিকতা করেই বলেন, গত এগারো বছর ধরে এই প্রতিযোগিতায় তারা একাই রাজত্ব করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল সাময়িকী ‘ইলেকট্রেক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি আলেফ তাদের এক হাজারতম সফল টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে, আর ঐতিহাসিক সেই উড্ডয়নের মুহূর্তেই নিচে রাখা ছিল একটি টেসলা রোডস্টার। উড়ন্ত গাড়ির বাজারে টেসলার মতো আন্তর্জাতিক জায়ান্টের আগমনকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন জিম দুখভনি। তাঁর মতে, নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী এলে উড়ন্ত গাড়ির জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি বাজার তৈরি হবে, এভিয়েশন খাত নিয়ে থাকা প্রচলিত মিথগুলো ভেঙে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজর এই উদীয়মান প্রযুক্তির দিকে আরও বেশি আকৃষ্ট হবে। বাহ্যিক পার্থক্য থাকলেও টেসলা রোডস্টার এবং আলেফের গাড়ির মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক মিল রয়েছে। দুটি বাহনই পুরোপুরি বিদ্যুৎচালিত এবং অল-হুইল ড্রাইভ ব্যবস্থাসম্পন্ন। মজার বিষয় হলো, উভয় প্রতিষ্ঠানেরই শুরুর দিকের অন্যতম ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বা বিনিয়োগকারী হলেন একই ব্যক্তি—টিম ড্রেপার। তবে প্রকৌশল ও গঠনশৈলীর দিক থেকে দুটি বাহন সম্পূর্ণ আলাদা। আলেফ তাদের গাড়িতে ব্যবহার করছে ডিস্ট্রিবিউটেড ইলেকট্রিক প্রপালশন বা ডিইপি প্রযুক্তি, অন্যদিকে টেসলা রোডস্টারে যুক্ত করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের থ্রাস্টার। আলেফের পুরো বডিটি এরোডাইনামিক ডানার মতো কাজ করে এবং ভেতরে রয়েছে একটি স্বয়ংক্রিয় ঘূর্ণায়মান ক্যাবিন। আকাশে ওঠার সময় চাপযুক্ত গ্যাসের বদলে এটি পারিপার্শ্বিক বাতাস ব্যবহার করে। এছাড়া চরম জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য পুরো গাড়িটির সঙ্গে যুক্ত থাকছে একটি বিশেষ ব্যালিস্টিক প্যারাসুট। সাধারণ এভিটিওএল (eVTOL) বা এয়ার ট্যাক্সির সঙ্গে আলেফের মূল তফাৎ হলো, এটি কোনো জটিল রানওয়ে ছাড়াই শহরের সাধারণ রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে চলাচলের পাশাপাশি পার্কিং স্পেসেও পার্ক করা যাবে। প্রাথমিক ধারণা প্রকাশের দীর্ঘ বছর পর ২০২২ সালে আলেফ তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘মডেল এ’ প্রোটোটাইপ উন্মোচন করে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যমতে, এক চার্জে গাড়িটি রাস্তায় ২২০ মাইল এবং শূন্যে ১১০ মাইল পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম। এরই মধ্যে ২০২৩ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ) থেকে বিশেষ উড্ডয়নযোগ্যতার অনুমোদন পেয়ে ইতিহাস গড়েছে আলেফ, যা মার্কিন সরকারের স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বের প্রথম উড়ন্ত গাড়ি। অন্যদিকে, টেসলা রোডস্টারকে আকাশে ওড়াতে হলে এখনো এফএএ-এর দীর্ঘ আইনি ও কারিগরি অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা সম্পন্ন হতে আরও কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগামী এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে
মেক্সিকোতে পিকআপ ট্রাকের যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে তিন সার্ফারকে হ ত্যা, আসামির ১৫৮ বছরের জেল