এক গর্ভে তিন সন্তান, কিন্তু বাবা দুইজন! দুই যমজের পিতা এক, তৃতীয় সন্তানের পিতা অন্য
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের পর একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন নাইলা ক্রাফট। বিরল এই ট্রিপলেটের মধ্যে দুজন অভিন্ন যমজ এবং অন্যজন আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া ভাই। চিকিৎসকদের মতে, কোনো প্রজনন চিকিৎসা ছাড়াই এমন গর্ভধারণ এবং তিন শিশুর একই লিঙ্গের হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
চলতি বছরের শুরুতে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নিজের গর্ভাবস্থার খবর জানতে পারেন নাইলা। আল্ট্রাসাউন্ডে প্রথমে দুটি শিশুকে দেখে তিনি ভেবেছিলেন, যমজ সন্তান আসছে। কিন্তু চিকিৎসক জানান, গর্ভে রয়েছে তিনটি শিশু। এমন খবর শুনে স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হয়ে পড়েন তিনি।
নাইলা বলেন, প্রথমে দুটি শিশুকে দেখে তার মনে হয়েছিল যমজ সন্তান হবে। পরে চিকিৎসক যখন জানান, সেখানে তৃতীয় শিশুটিও রয়েছে, তখন তিনি অবাক হয়ে যান। মুহূর্তেই সাধারণ একটি গর্ভাবস্থার খবর বদলে যায় তিন সন্তানের অপেক্ষায়।
নাইলার পরিবারে অবশ্য একসঙ্গে একাধিক সন্তান জন্মের ইতিহাস রয়েছে। তার মা যমজ এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও ট্রিপলেট রয়েছে। কয়েক প্রজন্ম পর এবার সেই ইতিহাস যেন ফিরে এল নাইলার নিজের পরিবারে। তবে পরিবারের এমন ইতিহাস থাকলেও নিজের গর্ভে তিন সন্তান বেড়ে উঠছে এই খবর তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।
তিন সন্তানের খবর শুনে নাইলার স্বামী মার্কো বার্নালও বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। কারণ তখন তাদের পরিবারে ছিল দুই সন্তান নায়া ও ম্যাসিও। একসঙ্গে আরও তিন সন্তান আসার অর্থ হলো, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের পরিবার দুই সন্তান থেকে পাঁচ সন্তানের হয়ে যাবে। মার্কোর কাছে বিষয়টি ছিল আনন্দের পাশাপাশি বড় ধরনের এক পরিবর্তনের খবর।
নতুন তিন ভাইকে ঘিরে বড় বোন নায়ার উৎসাহের কমতি নেই। সে মায়ের সঙ্গে শিশুদের যত্ন নিতে চায় এবং নতুন ভাইদের নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তবে বড় ভাই ম্যাসিওর প্রতিক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ভাইদের ব্যাপারে সে এখনো তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
চিকিৎসক কুইন ভো-হ্যানসার জানান, নাইলার গর্ভধারণের অন্যতম বিশেষ দিক হলো এটি কোনো প্রজনন চিকিৎসা বা সহায়ক প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়নি। সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই গর্ভধারণের পর তিন শিশুর জন্ম হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন স্বাভাবিক ট্রিপলেট গর্ভধারণ নিজেই তুলনামূলকভাবে বিরল। তার ওপর এই তিন শিশুর ক্ষেত্রে আরও কিছু ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
তিনি জানান, তিন শিশুর মধ্যে দুজন অভিন্ন যমজ। অর্থাৎ তারা একই নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে তৈরি হয়েছে। অন্য শিশুটি আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া তাদের ভাই। একই গর্ভে অভিন্ন যমজের পাশাপাশি আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া আরেক শিশুর এমন সমন্বয়কে চিকিৎসকেরা বিশেষভাবে বিরল বলে মনে করছেন।
তিন শিশুই ছেলে হওয়ায় ঘটনাটি আরও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে। ভো-হ্যানসার বলেন, তার তিন দশকের চিকিৎসা জীবনে এমন সব বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে থাকা ট্রিপলেট তিনি আগে দেখেননি। স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ, অভিন্ন যমজের উপস্থিতি এবং তিন শিশুর একই লিঙ্গ সব মিলিয়ে এই জন্ম চিকিৎসকদের কাছেও বিশেষ একটি ঘটনা।
চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ প্রসবের মধ্যে আনুমানিক ২ হাজার ৪০০টি ট্রিপলেট জন্ম নেয়। তবে নাইলার মতো বিশেষ ধরনের ট্রিপলেটের ঘটনা আরও বিরল। একই গর্ভে অভিন্ন যমজ ও আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া আরেক শিশুর এমন সমন্বয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে খুব কমই দেখা যায়।
তিন শিশুর জন্মের সময় হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল বিশেষ প্রস্তুতি। সাধারণত একটি প্রসবের সময় যেখানে প্রায় পাঁচজন চিকিৎসাকর্মী থাকেন, সেখানে নাইলার প্রসবের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৫ জন। তিন শিশুর জন্য ছিলেন তিনজন এনআইসিইউ নার্স প্রতিটি শিশুর জন্য একজন করে। শিশুদের জন্য ছিলেন দুইজন চিকিৎসক, পাশাপাশি মায়ের জন্যও ছিলেন আলাদা চিকিৎসক ও অতিরিক্ত নার্স।
নাইলা জানান, পুরো গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের কাছ থেকে তিনি অসাধারণ যত্ন পেয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এমন জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকদের নিবিড় নজরদারি তাকে মানসিকভাবেও ভরসা দিয়েছে। সন্তানদের নিরাপদে পৃথিবীতে আনার পুরো প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসপাতালের নিওনেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. রোহিত পাসি বলেন, গর্ভাবস্থায় কৃষ্ণাঙ্গ মায়েদের বিভিন্ন জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের চিকিৎসায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নাইলার চিকিৎসায়ও তার শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সামগ্রিকভাবে যত্ন নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. পাসি জানান, নাইলা জীবনের শুরুর দিকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। একসময় তিনি আদৌ মা হতে পারবেন কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত ছিলেন না। সেই অনিশ্চয়তা পেরিয়ে একসঙ্গে তিন সন্তানের মা হওয়া তার জন্য তাই বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। চিকিৎসকদের কাছে তার গল্প শুধু একটি বিরল গর্ভধারণের ঘটনা নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্পও।
তিন নবজাতকের জন্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি মজার কাকতালীয় ঘটনা। তিন শিশুর জন্মদিন তাদের বাবা মার্কো বার্নালের জন্মদিনেই। ফলে বাবার নিজের জন্মদিন এখন থেকে একই দিনে আরও তিনটি জন্মদিন উদ্যাপনের সুযোগ তৈরি করেছে। পরিবারের জন্য এই কাকতালীয় ঘটনাটি বিরল জন্মের গল্পে যোগ করেছে আরও একটি আনন্দের মাত্রা।
মার্কো বলেন, সন্তানদের জন্মদিন কীভাবে ভুলে যাবেন, যখন তিন সন্তানের জন্মদিনই তার নিজের জন্মদিন। দুই সন্তান থেকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের বাবা হওয়া যেমন বড় পরিবর্তন, তেমনি নিজের জন্মদিন তিন সন্তানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াও তার জন্য বিশেষ অনুভূতি। নতুন এই বাস্তবতায় পরিবারে ব্যস্ততা বাড়লেও তিন নবজাতকের আগমনে আনন্দই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।
দুই সন্তান থেকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের পরিবার নাইলা ও মার্কোর জীবনে এখন নিঃসন্দেহে ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে সেই ব্যস্ততার মাঝেও তিন নবজাতককে ঘিরে পরিবারজুড়ে চলছে আনন্দ। স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের পর এমন বিরল ট্রিপলেটের জন্ম চিকিৎসকদেরও অবাক করেছে। আর পরিবারের কাছে এই তিন শিশুর আগমন হয়ে থাকল জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreটেক্সাসের আলভারাডোতে প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক এক অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন কংগ্রেসম্যান মার্ক ভিসির কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা। একই সময়ে ওই ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। আইসিইর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তি বার্নার্ডো মাসেও সাবন। সংস্থাটির দাবি, ১৯৮২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকায় তাকে ২৫ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে চুরির অভিযোগ এবং একটি বাসায় দুই দফা চুরির ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ওই মামলায় তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হামলা, গ্রেপ্তারে বাধা, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, চুরি ও বাসায় চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। আইসিই আরও জানিয়েছে, ১৯৯৮ সালে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক সাবনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে আইসিই। অন্যদিকে, কংগ্রেসম্যান মার্ক ভিসির কার্যালয় গত কয়েক মাসে প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে আটক ব্যক্তিদের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছে। মার্চে ভিসি নিজেও ওই ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগস্টেও তার কার্যালয় ওই কেন্দ্রে আটক এক ইরানি ধর্মযাজকের মুক্তির দাবি জানিয়েছিল। তবে বার্নার্ডো মাসেও সাবনকে নিয়ে আইসিইর পোস্টে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার আইনজীবী বা কংগ্রেসম্যান ভিসির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইসিইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ীই বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।
ট্রাফিক মামলা দিয়েও পেলেন প্রশংসা, আচরণে মুগ্ধ হয়ে পুলিশ বিভাগে চিঠি লিখে নারীর কৃতজ্ঞতা
ফের হামলা চালালে ইরানকে ‘পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
এক গর্ভে তিন সন্তান, কিন্তু বাবা দুইজন! দুই যমজের পিতা এক, তৃতীয় সন্তানের পিতা অন্য
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ অফিসার পদে চাকরির পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। যারা নিউইয়র্ক পুলিশের চাকরিতে আগ্রহী, তারা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের সিভিল সার্ভিস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন করার পর লিখিত পরীক্ষার সময়সীমা ৫ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। পরীক্ষাটি হবে মাল্টিপুল চয়েস পদ্ধতিতে (চার বা তার অধিক প্রশ্ন থাকবে তার থেকে উত্তর বেছে নিতে হবে)। পরীক্ষায় পাস করতে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। আবেদন করবেন যেভাবে : পুলিশ অফিসার পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে নিউইয়র্ক সিটির অনলাইন পরীক্ষার আবেদন ব্যবস্থায় একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যাদের আগে অ্যাকাউন্ট নেই, তাদের প্রথমে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একটি সচল ইমেইল দিতে হবে এবং ইমেইলে পাঠানো নির্দেশনা অনুসরণ করে অ্যাকাউন্টটি নিশ্চিত করতে হবে। এরপর পরীক্ষার তালিকা থেকে পুলিশ অফিসার পরীক্ষার আবেদন নম্বর ৭৩১৩ নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। যেহেতু এই পরীক্ষার আবেদন ফি শূন্য ডলার, তাই ফি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদন গ্রহণের একটি কনফার্মেশন ইমেইলে পাঠানো হবে। আবেদনকারীরা নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্টের বিজ্ঞপ্তি অংশেও আবেদনের অবস্থা দেখতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হলে নিউইয়র্ক সিটির কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা ও আবেদন কেন্দ্রগুলো থেকেও আবেদন করা যায়। এসব কেন্দ্রে সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকে। কারা আবেদন করতে পারবেন : পুলিশ অফিসার পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার তারিখের মধ্যে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৭ বছর হতে হবে। তবে চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার সময় বয়স কমপক্ষে ২০ বছর ৬ মাস হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে চার বছরের উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ বা সমমানের যোগ্যতার পাশাপাশি ২৪ সেমিস্টার কলেজ ক্রেডিটসহ কমপক্ষে ২.০ গড় নম্বর অথবা দুই বছর সম্মানজনকভাবে পূর্ণকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনীতে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। চাকরিতে নিয়োগের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব, বৈধ নিউইয়র্ক স্টেট ড্রাইভার লাইসেন্স এবং নির্ধারিত এলাকার মধ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক সক্ষমতা যাচাই, মাদক পরীক্ষা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। বয়স নিয়ে একটি বিষয় আবেদনকারীদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রচারমূলক বিজ্ঞপ্তিতে ৪২ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। তবে বর্তমান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ নিয়োগের বয়সসীমা আলাদাভাবে উল্লেখ আছে এবং সামরিক চাকরির ক্ষেত্রে বয়সে ছাড়ের বিধান রয়েছে। তাই বয়সের বিষয়ে আবেদন করার আগে সরকারি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। আবেদন করার শেষ সময় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে দেরি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারি রোবট দেখে অবাক ভারতীয় দম্পতি
অ্যাপলের সিইও পদ ছাড়লেও ট্রাম্পের ‘বিশেষ দূত’ হয়ে থাকছেন টিম কুক
মাদকের আসক্তি ও গৃহহীনতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪.০ জিপিএ নিয়ে গ্র্যাজুয়েট ড্যানি
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসার পর অনেকেরই ক্রেডিট স্কোর থাকে না। ফলে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে গেলে কিছু বাড়ির মালিক বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত যাচাই করতে পারে। তবে ক্রেডিট স্কোর না থাকলেই যে বাসা ভাড়া পাওয়া যাবে না, এমন কোনো নিয়ম নেই। বিকল্প আর্থিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ভাড়া পরিশোধের সক্ষমতা প্রমাণ করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, কারও ক্রেডিট ইতিহাস না থাকা আর খারাপ ক্রেডিট ইতিহাস থাকা এক বিষয় নয়। ক্রেডিট স্কোর না থাকলে আবেদনকারীর আয়, চাকরি বা অন্যান্য আর্থিক তথ্য বিবেচনা করার সুযোগ থাকতে পারে। নতুন অভিবাসী বা যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য আসা বাংলাদেশিদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজার সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে। প্রথমত, চাকরির নিয়োগপত্র, বেতন পাওয়ার রসিদ এবং ব্যাংক হিসাবের বিবরণী প্রস্তুত রাখুন। নতুন চাকরিতে যোগ দিলে নিয়মিত বেতনের প্রমাণ এবং ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ থাকার তথ্য বাড়ির মালিককে আপনার ভাড়া পরিশোধের সক্ষমতা বোঝাতে পারে। তবে কোন কাগজ গ্রহণ করা হবে, তা বাড়ির মালিক বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর নির্ভর করে। দ্বিতীয়ত, জামানত নিয়ে বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সীমিত ক্রেডিট ইতিহাস থাকলে অতিরিক্ত জামানত বা অন্য কোনো শর্ত দেওয়া হতে পারে। তবে কত টাকা জামানত নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে রাজ্য ও স্থানীয় আইনে ভিন্ন নিয়ম থাকতে পারে। তাই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার আগে স্থানীয় নিয়ম এবং ভাড়ার চুক্তি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। তৃতীয়ত, সহ-স্বাক্ষরকারী বা জামিনদারের সুযোগ আছে কি না জেনে নিন। ভালো ক্রেডিট স্কোর এবং স্থিতিশীল আয় থাকা কোনো ব্যক্তি আপনার ভাড়ার চুক্তির দায়িত্বে যুক্ত হলে কিছু বাড়ির মালিক আবেদনটি বিবেচনা করতে পারেন। তবে এটিও পুরোপুরি বাড়ির মালিক বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর নির্ভরশীল। চতুর্থত, এমন অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজুন যেখানে ক্রেডিট ইতিহাসের পাশাপাশি অন্যান্য আর্থিক তথ্যও বিবেচনা করা হয়। কিছু বাড়ির মালিক বিকল্পভাবে আয়, চাকরি, আগের ভাড়ার ইতিহাস বা অন্যান্য তথ্য দেখতে পারেন। তবে শুধু ‘ক্রেডিট যাচাই করা হয় না’ এমন বিজ্ঞাপন দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। চুক্তির শর্ত, বাড়ির মালিকের পরিচয় এবং কোনো অগ্রিম অর্থ চাওয়া হচ্ছে কি না, সবকিছু যাচাই করে তারপর আবেদন করা নিরাপদ। পঞ্চমত, আগের বাড়ির মালিক বা নিয়োগকর্তার সুপারিশপত্র কাজে লাগতে পারে। আপনি আগে কোথাও ভাড়া থাকলে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধের প্রমাণ বা আগের বাড়ির মালিকের সুপারিশ আপনার আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। নতুনদের ক্ষেত্রে চাকরি বা পেশাগত পরিচিত ব্যক্তির সুপারিশও কিছু বাড়ির মালিক বিবেচনা করতে পারেন। ষষ্ঠত, আবাসন সহায়তার জন্য ২১১ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ইউনাইটেড ওয়েতে পরিচালিত ২১১ সেবা স্থানীয় পর্যায়ে আবাসন, ভাড়া সহায়তা এবং অন্যান্য সামাজিক সেবার তথ্যের সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ, হাডের অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতার কাছ থেকেও ভাড়া ও আবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া যায়। সপ্তমত, সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন। ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইটিআইএন, আয়ের প্রমাণ, বেতন পাওয়ার রসিদ, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, চাকরির নিয়োগপত্র এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশপত্র একসঙ্গে রাখলে অ্যাপার্টমেন্টের আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত করা সহজ হয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার সময় অনেক বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়ার তথ্য যাচাইয়ের প্রতিবেদন ব্যবহার করেন। এতে ক্রেডিট ইতিহাসের পাশাপাশি আগের ভাড়ার রেকর্ড, চাকরির তথ্য, উচ্ছেদের ইতিহাস এবং অন্যান্য তথ্য থাকতে পারে। তাই শুধু ক্রেডিট স্কোর নয়, সামগ্রিক ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার আর্থিক ও আবাসনসংক্রান্ত রেকর্ডও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভাড়াটিয়া যাচাই প্রতিবেদনের তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হলে বা অতিরিক্ত জামানত কিংবা অন্য কোনো শর্ত আরোপ করা হলে ফেডারেল আইনে আবেদনকারীর কিছু অধিকার রয়েছে। ভোক্তা আর্থিক সুরক্ষা ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এমন ক্ষেত্রে বাড়ির মালিককে সংশ্লিষ্ট যাচাই প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানাতে হয়। আবেদনকারীও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই প্রতিবেদনের কপি চেয়ে ভুল তথ্য থাকলে তা সংশোধনের জন্য আপত্তি জানাতে পারেন। নতুনদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রেডিট স্কোর না থাকাকে শেষ বাধা হিসেবে না দেখে বিকল্পভাবে নিজের আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করা। চাকরি, নিয়মিত আয়, ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ, আগের ভাড়া পরিশোধের রেকর্ড এবং নির্ভরযোগ্য সুপারিশপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখলে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
১ লাখ ডলারের বেশি বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে যে ১৩ চাকরির চাহিদা, জেনে নিন
রুশ ধনকুবেরের সঙ্গে এফবিআই কর্মকর্তার গোপন যোগাযোগ ফাঁস করা নারী মৃত উদ্ধার