যুক্তরাজ্যে একে অপরের সন্তানকে স্তন্যপান করান দুই ননদ-ভাবি, বললেন ‘দুধ তো দুধই’
যুক্তরাজ্যের দুই ননদ-ভাবি হোলি ও বেকি স্টিভেন্স শুধু একে অপরের সন্তানের দেখভালই করেন না, বরং তারা একে অপরের সন্তানদের নিয়মিত স্তন্যপানও করান। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘দিস মর্নিং’-এ উপস্থিত হয়ে মাতৃত্বের এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তারা। বিগত সাত বছর ধরে তারা একে অপরের সন্তানদের বুকের দুধ খাইয়ে আসছেন। হোলির ছেলে ফ্রেডির বয়স যখন মাত্র পাঁচ দিন, তখন সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবেই নিতান্ত প্রয়োজনে এই অভ্যাসের সূচনা হয়েছিল।
একদিন বেকি যখন ফ্রেডির দেখাশোনা করছিলেন, তখন শিশুটি হঠাৎ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে তাকে বুকের দুধ খাওয়ান তিনি। সে সময় বেকি তার নিজের ছেলে ফয়কেও স্তন্যপান করাতেন। পরবর্তীতে আরেক দিনের স্মৃতিচারণ করে হোলি জানান, একবার তিনি ব্রেস্ট পাম্প ছাড়াই বেকির বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং উপায় না পেয়ে বেকির ছেলে ফয়কে নিজের বুকের দুধ খাইয়েছিলেন।
তাদের মতে, এর ফলে বাইরে যাওয়ার সময় বাচ্চাদের বিশাল ব্যাগ বওয়ার ঝক্কিও অনেকটা কমে যায়। দীর্ঘ সাত বছর পর আজও তাদের এই অভ্যাস অব্যাহত রয়েছে; সম্প্রতি বেকির নবজাতক কন্যা পার্লকেও স্তন্যপান করিয়েছেন হোলি। তাদের দাবি, একে অপরের সন্তানদের স্তন্যপানের কারণে তাদের দুই পরিবারের পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
একে অপরের সন্তানকে স্তন্যপান করানোর বা ‘ওয়েট নার্স’-এর ধারণাটি অবশ্য মানব ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। অন্তত খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে এই প্রথার প্রচলন রয়েছে। ২০২৫ সালের ‘জামা’ (JAMA) জার্নালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ হাজার মায়ের মধ্যে ৩.৭ শতাংশ মা তাদের শিশুর জীবনের প্রথম ছয় মাসে অন্যের বুকের দুধ খাইয়েছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভ্যাস নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কেউ একে ইতিবাচক ও স্বাভাবিকভাবে নিলেও অনেকেই বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা বন্ধুদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি অনিরাপদ নয়, যদি উভয় মায়ের স্বাস্থ্য, নিয়মিত সেবনকৃত ওষুধ ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকে। তবে পেডিয়াট্রিক নার্স প্র্যাকটিশনার জোয়ানা ক্রেইলিং সতর্ক করে বলেছেন, এতে মা ও শিশু উভয়ের জন্যই কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে।
মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ, সম্পূরক উপাদান এমনকি এইচআইভি বা হারপিসের মতো ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। এছাড়া পর্যাপ্ত দুধ না পেলে নবজাতকের পানিশূন্যতাও দেখা দিতে পারে। এতসব ঝুঁকি ও সমালোচনার পরও হোলি ও বেকি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। সব নেতিবাচকতা উড়িয়ে দিয়ে হোলির সহজ উত্তর, “এটি খুবই সুবিধাজনক। দুধ তো দুধই।”
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreকানাডায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাসুমকে (৪৫) মানব পাচার ও তিনটি যৌন নিপীড়নের অপরাধে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে (৫৬) মানব পাচারের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুন প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এ সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সাস্কটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী বাংলাদেশে প্রায় ১৮ বছর সরকারি চাকরি করেছিলেন। তাঁর উচ্চশিক্ষা, স্থায়ী চাকরি এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল। কিন্তু কানাডায় উন্নত জীবন গড়ার আশায় তিনি দেশটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রেস্তোরাঁয় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশ্বাসে ২০২২ সালের আগস্টে কানাডায় পৌঁছান তিনি। সেখানে যাওয়ার পরই তাঁর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। যাঁদের ওপর ভরসা করে তিনি নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁরাই তাঁকে শোষণের পরিস্থিতিতে ঠেলে দেন বলে আদালতের বিচারে উঠে এসেছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় পৌঁছানোর পর প্রথমে সাসকাচুয়ানের গাল লেক এলাকায় সোহেল হায়দারের পরিচালিত একটি রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেন ওই নারী। পরে তাঁকে টিসডেল শহরে মোহাম্মদ মাসুমের পরিচালিত রেস্তোরাঁয় পাঠানো হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই তাঁর নামে যথাযথ ওয়ার্ক পারমিট ছিল না। অথচ তাঁকে জানানো হয়েছিল, অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁকে সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কাজের তুলনায় যথাযথ মজুরিও দেওয়া হতো না। একপর্যায়ে তাঁর কর্মসংস্থান, থাকার জায়গা এবং দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। মামলার বিচারকালে আরও উঠে আসে, মোহাম্মদ মাসুম ওই নারীর ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালান। আদালত তিনটি পৃথক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এসব অপরাধকে সাধারণ ভাষায় ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লেসলি ডানিং আদালতে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভুক্তভোগীর অসহায় পরিস্থিতি এবং তাঁদের ওপর তাঁর নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়েছিলেন। বিশেষ করে মাসুম নিজের যৌন স্বার্থে ওই নারীকে নির্যাতন করেন এবং কয়েকটি ঘটনায় শারীরিক সহিংসতাও ছিল। অন্যদিকে সোহেল হায়দারকে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন শোষণের শিকার হওয়ার পর ওই নারীর নামে সাসকাচুয়ানের এলরোজ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় কাজের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁর পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় কয়েকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁদের সহযোগিতায় তিনি অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। ২০২৩ সালের জুনে কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। প্রায় ১৮ মাস ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাত সপ্তাহের শুনানি শেষে চলতি বছরের আগস্টে দুজনকে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। এরপর ২২ অক্টোবর তাঁদের সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতে দেওয়া ভিকটিম ইমপ্যাক্ট স্টেটমেন্টে নিজের জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি জানান, কানাডায় যাওয়ার আগে তিনি ছিলেন স্বাবলম্বী এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারতেন। কিন্তু এই ঘটনার পর অন্য মানুষকে বিশ্বাস করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর স্বপ্ন, সম্মান, ভবিষ্যৎ, পরিবার এবং পেশাগত জীবন ধ্বংস করে দিয়েছেন। বাংলাদেশে ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব ও নেতিবাচক আলোচনার কারণে তাঁর পরিবারও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের চাকরি এবং প্রতিষ্ঠিত জীবন ছেড়ে কানাডায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো আক্ষেপ করেন তিনি। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লেসলি ডানিং মোহাম্মদ মাসুমের জন্য ১৫ বছর এবং সোহেল হায়দারের জন্য সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে মাসুমের আইনজীবী সাত থেকে নয় বছর এবং হায়দারের আইনজীবী আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন চার বছরের সাজা দেওয়ার আবেদন জানান। উভয় পক্ষের যুক্তি ও মামলার তথ্য বিবেচনা করে বিচারক মাসুমকে মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। সোহেল হায়দারকে দেওয়া হয় চার বছরের কারাদণ্ড। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ভুক্তভোগীর অসহায়ত্ব ও অভিযুক্তের ওপর নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে সংঘটিত অপরাধের বিষয়টি সাজা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ মোহাম্মদ মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডিয়ান ডলার এবং সোহেল হায়দারকে ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডিয়ান ডলার ১৬ সেন্ট পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুজনকে কারাগারে থাকা অবস্থায় এবং পরবর্তী জীবনেও ওই নারীর সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাসুমকে ২০ বছরের জন্য কানাডার জাতীয় যৌন অপরাধী নিবন্ধনে নাম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। কানাডার এই মামলাটি বিদেশে চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের আশায় যাওয়া অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়োগকর্তার ওপর ওয়ার্ক পারমিট, বাসস্থান এবং আয়ের জন্য নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য শোষণের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কানাডায় মানব পাচার শুধু অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতারণা, ভয়ভীতি কিংবা নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে কাউকে শ্রম দিতে বাধ্য করার ঘটনাও মানব পাচারের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশি এই নারীর মামলায় আদালতের রায় সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করেছে।
ইউরোপে নিজের নতুন দেশ প্রতিষ্ঠা করে ২১ বছরের তরুণ পেলেন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সম্মাননা
নতুন গাড়ি কিনে বাড়ির সামনে রাখলেন, সকালে দেখলেন আঁচড়ে ভরা! এক রাতেই আনন্দ পরিণত হতাশায়
৩ তলা থেকে পানের পিক ফেলতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের ‘দ্য স্টারি নাইট’ বা ‘তারাভরা রাত’ চিত্রকর্মটি নিয়ে নতুন গবেষণা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২২ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকেরা চিত্রকর্মটিতে দেখা আকাশের বিন্যাসের সঙ্গে ১৮৮৯ সালের বাস্তব আকাশের অবস্থার তুলনা করেছেন। গবেষণার লক্ষ্য ছিল, ছবিটির পরিচিত আকাশদৃশ্য কোনো নির্দিষ্ট রাতের আকাশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল কি না, তা আরও ভালোভাবে বোঝা। ভ্যান গঘ ১৮৮৯ সালে ফ্রান্সের সাঁ-রেমি অঞ্চলে অবস্থানকালে এই বিখ্যাত চিত্রকর্মটি আঁকেন। ছবিতে ঘূর্ণায়মান আকাশ, উজ্জ্বল তারা, চাঁদ এবং নিচে একটি শান্ত জনপদের দৃশ্য রয়েছে। এর রঙ, রেখা ও আবেগপূর্ণ উপস্থাপনা বহু বছর ধরে শিল্পপ্রেমী ও গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গবেষকেরা ঐতিহাসিক সময়, আকাশের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অবস্থান এবং ছবিতে থাকা দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক পরীক্ষা করেছেন। এ ধরনের গবেষণায় জ্যোতির্বিজ্ঞান ও শিল্প-ইতিহাসের তথ্য একত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে কোনো চিত্রকর্মের সঙ্গে বাস্তব আকাশের মিল পাওয়া গেলেই সেটি হুবহু বাস্তব দৃশ্যের অনুলিপি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। শিল্পীর কল্পনা, স্মৃতি এবং সৃজনশীল পরিবর্তনও ছবির অংশ হতে পারে। ‘তারাভরা রাত’ শুধু একটি রাতের আকাশের ছবি নয়; এটি শিল্পীর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও প্রকৃতিকে দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রকাশ। নতুন গবেষণা চিত্রকর্মটির সম্ভাব্য বাস্তব অনুপ্রেরণা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, তবে এর শৈল্পিক ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকবে।
মার্কিন অবরোধে আটকা ৪০ ইরানি নাবিককে উদ্ধার করে দেশে ফেরাল শ্রীলঙ্কা
শ্মশানে মোদির ছবি ঘিরে কালোজাদুতে আটক চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর, তদন্তে পুলিশ
জাপানে ইসলামকে কাছ থেকে জানার আমন্ত্রণ মুসলিমদের, টোকিও মসজিদে অমুসলিমদের মিলনমেলা
রাশিয়ায় পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের আবেদনের ছবিতে মুসলিম নারীরা হিজাব পরতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান রাখাসহ বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা হলেও রাশিয়ায় এই অনুমতি আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের বিধিমালায় বিদেশি নাগরিকত্বপ্রার্থীদের জন্যও ধর্মীয় কারণে মাথা ঢেকে ছবি জমা দেওয়ার সুযোগ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২১ মার্চ জারি করা ১২৫ নম্বর আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অপরিচিত মানুষের সামনে মাথা অনাবৃত রাখা সম্ভব না হলে তিনি ধর্মীয় পোশাক পরেই নাগরিকত্বের আবেদনের ছবি জমা দিতে পারবেন। ওই আদেশ ৫ মে থেকে কার্যকর হয়। ফলে মুসলিম নারীদের হিজাব খুলে ছবি তোলার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে শর্ত হলো, হিজাব বা মাথার কাপড় দিয়ে মুখের স্বাভাবিক আকৃতি আড়াল করা যাবে না। বিধিমালায় বলা হয়েছে, ছবিতে আবেদনকারীর মুখের সম্পূর্ণ গঠন স্পষ্টভাবে বোঝা যেতে হবে। বিশেষ করে কপাল, চোখ ও থুতনি এমনভাবে দৃশ্যমান রাখতে হবে, যাতে পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যা না হয়। হিজাব বা স্কার্ফ দিয়ে থুতনির পুরোটা কিংবা কোনো অংশ ঢেকে রাখা যাবে না। একইভাবে মুখের আকৃতি আড়াল করে এমন পোশাক পরেও ছবি জমা দেওয়া যাবে না। এসব শর্ত পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছবি গ্রহণ না করার সুযোগ রাখে। নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য ছবির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ বাই ৪ সেন্টিমিটার। আবেদনকারীকে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছবি তুলতে হবে। ছবির পটভূমি হতে হবে সাদা এবং সেখানে কোনো ছায়া বা অপ্রয়োজনীয় বস্তু থাকা চলবে না। চোখ স্পষ্টভাবে খোলা থাকতে হবে এবং চুল দিয়ে চোখ ঢেকে রাখা যাবে না। ছবিতে মুখের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ডিজিটাল সম্পাদনাও গ্রহণযোগ্য নয়। এই সুবিধা শুধু মুসলিম নারীদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। রাশিয়ার বিধিমালায় ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মাথা ঢেকে রাখেন এমন ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ধর্মীয় মাথার পোশাক পরে ছবি জমা দিতে পারবেন। তবে সাধারণ ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে টুপি কিংবা মাথার অন্য কোনো পোশাক পরার ক্ষেত্রে এই বিশেষ ছাড় প্রযোজ্য নয়। রাশিয়ায় ধর্মীয় পোশাক পরে সরকারি নথির ছবি তোলার অধিকার নিয়ে বিতর্কের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ২০০৩ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ধর্মীয় কারণে মাথা ঢেকে পাসপোর্টের ছবি তোলার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরবর্তী সময়ে পাসপোর্টসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিমালায় ধর্মীয় মাথার পোশাক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়। ২০২৪ সালে নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত আলাদা বিধিমালায় বিদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক প্রচারণায় এটিকে ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ নতুন অনুমতি হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। রুশ পার্লামেন্টের নিরাপত্তা ও দুর্নীতিবিরোধী কমিটির সদস্য বিসুলতান খামজায়েভ ২০২৪ সালে জানিয়েছিলেন, এই বিধানের উদ্দেশ্য ধর্মীয় ঐতিহ্য পালনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিচয় শনাক্তকরণ ও ভিডিও নজরদারি ব্যবস্থায় মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ধর্মীয় পোশাক ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও মুখ ঢেকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। রাশিয়ার সরকারি বিধিমালার এই ব্যবস্থা দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক এবং ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদন করতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব ব্যবহার করেন এমন নারীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ছবি জমা দিতে পারবেন। তবে হিজাব পরার অনুমতি মানেই নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত সহজ করা নয়। নাগরিকত্বের আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অন্যান্য আইনি যোগ্যতা আগের মতোই পৃথকভাবে যাচাই করা হবে।
১৪ বছর বয়সের করা এক অপরাধের জন্য সৌদিতে ২৯ বছরের যুবকের মৃত্যুদণ্ড
নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব