৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবল ব্যাংকক, দুর্যোগকবলিত ৫০ জেলা
টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, কোথাও কোথাও যানবাহন আংশিক ডুবে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংককের সব ৫০টি জেলাকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে জরুরি সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত ৪৮ ঘণ্টায় ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নগরীর খালগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে যায় এবং অনেক এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চাপ সামলাতে পারেনি। বিশেষ করে রাজধানীর মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বন্যার পানিতে ব্যাংককের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের কিছু অংশ পানিতে ডুবে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় বাসিন্দাদের হাঁটু থেকে কোমরসমান পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে।
পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে খাল ও জলপথের আশপাশের এলাকায়। এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্যাংককের সব ৫০টি জেলাকে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করার মূল উদ্দেশ্য হলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সমন্বয় করা। কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প চালু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে দ্রুত পানি সরানোর চেষ্টা করছে। ব্যাংককের মেয়র চ্যাডচার্ট সিট্টিপুন্ট জানিয়েছেন, বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হওয়ার কথা।
বন্যায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে অনেক মানুষকে। শহরজুড়ে ২০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ২০০ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিছু স্কুলকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় থাই সামরিক বাহিনীও মাঠে নেমেছে। তারা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করার পাশাপাশি ফিল্ড কিচেন বা অস্থায়ী রান্নাঘর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের খাবার সরবরাহ করা যায়। দুর্গম ও পানিবন্দি এলাকায় সহায়তা পৌঁছাতেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
বন্যার মধ্যে ব্যাংককের সুvar্নভূমি বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবে চালু ছিল। তবে সড়কে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বিমানযাত্রীদের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড় অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ব্যাংককের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু ব্যাংকক নয়, থাইল্যান্ডের আরও অনেক এলাকাও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত দেশের ২১টি প্রদেশে ৮৪ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব এলাকার মধ্যে মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি।
তবে ব্যাংককের গভর্নর জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত কমে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পানি পাম্প করে সরানোর কাজ জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreসিরিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৬০ হাজারের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বা স্তু চ্যুত মানুষকে বিভিন্ন বা স্তু চ্যুতি শিবির ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে সহায়তা করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর সিরিয়ার শিবিরগুলো থেকে রোববারও কয়েকশ পরিবারকে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে তাদের নিজ এলাকায় পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, জুলাই ও আগস্টে বা স্তু চ্যুতদের ঘরে ফেরার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই দুই মাসে মোট ৩৮ হাজার ৮৩৬ জন বা স্তু চ্যুতি কেন্দ্র ছেড়েছেন। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৬০০ জনকে বিশেষভাবে সহায়তা করা হয়েছে। একই সময়ে ১৩০টি বা স্তু চ্যুতি কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওসিএইচএ বলছে, এসব প্রত্যাবর্তন সিরিয়ার ‘নো ক্যাম্পস ভিশন’ বা শিবিরমুক্ত ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বা স্তু চ্যুত মানুষের ফিরে যাওয়া তাদের নিজ এলাকার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। রোববার উত্তর সিরিয়ার শিবিরগুলো থেকে ২৬৩টি পরিবারকে নিয়ে একটি বহর তাদের নিজ এলাকায় রওনা হয়। এসব পরিবার দক্ষিণ ইদলিব এবং হামা, আলেপ্পো ও দামেস্ক প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিরে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, ইদলিবের স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ ও শ্রম অধিদপ্তর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, মুজান অর্গানাইজেশন, সিরিয়ান আরব রেড ক্রিসেন্ট এবং জরুরি ও দু র্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় এই কার্যক্রম সমন্বয় করেছে। ইদলিবের সমাজকল্যাণ ও শ্রম বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকির জানান, বেশির ভাগ পরিবার দক্ষিণ ইদলিবের শহর ও গ্রামগুলোতে ফিরছে। প্রেসিডেন্টের ৫৯ নম্বর ডিক্রির আওতায় এই বহরটি আয়োজিত হয়েছে বলে তিনি জানান। আলেপ্পো ও ইদলিবের শিবিরগুলোর প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম সমন্বয়কারী মানাফ হাম্মাম বলেন, পরিবারগুলোর স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার আবেদনের ভিত্তিতেই এসব প্রত্যাবর্তন আয়োজন করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এবং তাদের মালপত্র পরিবহনের জন্য ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যারা ফিরতে চান, তাদের নিবন্ধন এখনো চলছে এবং আরও কয়েকটি বহর পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফিরে যাওয়া কয়েকটি পরিবারের সদস্য সানাকে জানিয়েছেন, বহু বছর বা স্তু চ্যুত থাকার পর নিজ এলাকায় ফিরতে পেরে তারা স্বস্তি বোধ করছেন। তবে তাদের অনেকেরই ফিরতে হচ্ছে ব্যাপকভাবে ক্ষ তি গ্র স্ত গ্রাম এবং সীমিত মৌলিক সেবার মধ্যে। ইদলিবের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ডিক্রিটি জারির পর থেকে ইদলিব ও আলেপ্পোর বিভিন্ন শিবির থেকে হাজারো পরিবারকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি প্রত্যাবর্তন বহরের আয়োজন করেছে। তবে ওসিএইচএ সতর্ক করেছে, বা স্তু চ্যুতদের প্রয়োজন এখন ধীরে ধীরে শিবির থেকে তাদের ফিরে যাওয়া এলাকাগুলোর দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব, ক্ষ তি গ্র স্ত অবকাঠামো, দুর্বল জনসেবা এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে আবারও বা স্তু চ্যুত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, মানুষকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের জন্য অবকাঠামো এবং জনসেবা পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ক্ষ তি গ্র স্ত এলাকায় বেকারি, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, হাসপাতাল, স্কুল, সড়ক, সেতু এবং আবাসন পুনর্বাসনের কাজ চলছে। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশে পুনরুদ্ধারের কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। পানি, বিদ্যুৎ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিও হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা এখনো বড় বাধা হয়ে আছে, যা ফিরে আসা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্থায়ী সমাধানের পথে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃ হ যু দ্ধে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ বা স্তু চ্যুত হয়। এর মধ্যে ৭৪ লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরেই বা স্তু চ্যুত হয়েছে বলে জাতিসংঘের তথ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বা দেশের ভেতরে বা স্তু চ্যুত হওয়া ১৮ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সিরীয় নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।
গাজায় ফিলিস্তিনি নি হ তের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়াল, আ হ ত ১ লাখ ৭৫ হাজার
৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবল ব্যাংকক, দুর্যোগকবলিত ৫০ জেলা
২ অক্টোবরের নির্বাচন কমিশনবিরোধী কর্মসূচিতে সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন
জাপানে বৃষ্টির মধ্যে কাজে যাওয়ার পথে সাইকেল থেকে পড়ে আহত হয়েছিলেন ভারতীয় নারী সোনম মিধা। কাঁধে আঘাতের পাশাপাশি বেঁকে যায় সাইকেলের হ্যান্ডেল, ভেঙে যায় আইফোনের স্ক্রিনও। কিন্তু সেই দুর্ঘটনার পর এক অপরিচিত জাপানি দোকানির কাছ থেকে পাওয়া মানবিক আচরণই শেষ পর্যন্ত তার কাছে দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে ওঠে। সোনম জানান, বৃষ্টির মধ্যে সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাওয়ার সময় সেটি পিছলে যায়। পড়ে গিয়ে কাঁধে আঘাত পান তিনি। কোনোভাবে অফিসে পৌঁছানোর পর সহকর্মী তাকে প্রাথমিক চিকিৎসায় সহায়তা করেন। দুপুরের বিরতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাইকেলটি নিয়ে কাছের একটি মেরামতের দোকানে যান সোনম। তার ধারণা ছিল, সাইকেল ঠিক করতে ভালো অঙ্কের অর্থ খরচ হবে। কারণ এর আগে শুধু সাইকেলের সিটের অবস্থান ঠিক করতেই তাকে ৫০০ ইয়েন দিতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু দোকানে পৌঁছানোর পর ঘটে অন্য ঘটনা।সাইকেল দেখার আগে দোকানি সোনমের আঘাতের দিকে নজর দেন। প্রথমেই জানতে চান, তিনি ঠিক আছেন কি না। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত হ্যান্ডেল ঠিক করে দেন। কাজ শেষে সোনম জাপানি ভাষায় জানতে চান, ‘ইকুরা দেশু কা?’ অর্থাৎ কত টাকা দিতে হবে? দোকানির উত্তর ছিল মাত্র দুটি শব্দ - ‘নো প্রাইস।’ অর্থাৎ কোনো টাকা লাগবে না। বিনা পয়সাতেই সাইকেলটি ঠিক করে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে আরও নিরাপদে সাইকেল চালাতে হবে, সে বিষয়েও সোনমকে পরামর্শ দেন ওই দোকানি। অপরিচিত একজন মানুষের এমন আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সোনম। তবে শুধু ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যেতে চাননি তিনি। কাছের একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁয় গিয়ে দোকানির জন্য খাবার প্যাকেট করেন। এরপর আবার বৃষ্টির মধ্যেই সাইকেল চালিয়ে ফিরে যান সেই দোকানে। সোনমকে আবার দোকানে ঢুকতে দেখে প্রথমে চিন্তিত হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। সোনমের ধারণা, দোকানি হয়তো ভেবেছিলেন তিনি আবার পড়ে গেছেন কিংবা সাইকেলে নতুন কোনো সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সোনম যখন জানান, তার জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন, তখন দোকানির প্রতিক্রিয়াও বদলে যায়। সোনমের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার পেয়ে আবেগাপ্লুত ও দৃশ্যত আনন্দিত হয়ে ওঠেন তিনি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দুই অপরিচিত মানুষের পারস্পরিক এই আচরণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। একজন বিনা পয়সায় সাইকেল ঠিক করে দিয়েছিলেন, অন্যজন সেই আন্তরিকতার জবাব দিয়েছেন নিজের দেশের খাবার দিয়ে। সোনম জানিয়েছেন, দিনটি তার মনে থাকবে সাইকেল দুর্ঘটনা, আহত কাঁধ কিংবা ভাঙা ফোনের জন্য নয় - বরং অপরিচিত একজন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া মানবিকতার জন্য। মজার বিষয় হলো, জাপানে সোনমের এমন অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়। গত আগস্টে তিনি একটি ব্যাগ হারিয়েছিলেন, যেখানে নগদ অর্থ, বাড়ির চাবি ও দামি মাইক্রোফোনসহ প্রায় এক লাখ রুপির জিনিস ছিল। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারেন, অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ব্যাগটি খুঁজে পেয়ে সবকিছু অক্ষত অবস্থায় পুলিশের কাছে জমা দিয়ে গেছেন। সূত্র: সোনম মিধার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস
পুলিশি অভিযানে শতাধিক প্রাণ হা নি র পর গ্যাং ঠেকাতে রিওবাসীর নতুন উদ্যোগ
সৌদিতে অভিযান চলছেই, এক সপ্তাহে ফেরত পাঠানো হলো ১২,৬২৮ জন
জার্মানিতে ৬ লাখের বেশি চাকরির সুযোগ, কারা পাবেন অপরচুনিটি কার্ড
ফিলিপাইনে এক নারী যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ই-ট্যাক্সিচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স আজীবনের জন্য বাতিল করেছে দেশটির ল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অফিস বা এলটিও। ফলে ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ঘটনাটি গত ১২ সেপ্টেম্বর ভোররাতের। অভিযোগকারী নারী জানান, ট্যাক্সিতে যাত্রার সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। নির্ধারিত গন্তব্যে নামিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে চালক তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যান এবং সেখানে যৌন নিপীড়ন করেন বলে তার অভিযোগ। এলটিওর ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের তদন্ত ও শুনানিতে চালক স্বীকার করেন, ১২ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ৩টার সময় তিনিই ওই ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন। শপথনামায় গাড়ির ভেতরে যৌন কার্যকলাপ হয়েছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে এই স্বীকারোক্তি নিজে থেকেই অভিযোগকারী নারীর যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ফৌজদারি সত্যতা নির্ধারণ করে না। তদন্ত শেষে এলটিও তাকে মোটরযান চালানোর জন্য অনুপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর তার লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে অভিযোগ সামনে আসার পর চালক ও ট্যাক্সিটির অপারেটরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল এলটিও। চালকের লাইসেন্স ৯০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করে তদন্ত চলাকালে সেটি জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। ট্যাক্সিটির অপারেটরের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এলটিও জানিয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজির শর্ত লঙ্ঘন এবং অসৌজন্যমূলক চালক নিয়োগের দায় পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট গাড়িটিও এখনো এলটিওর ‘অ্যালার্ম স্ট্যাটাসে’ রয়েছে। এলটিও প্রধান মার্কুস লাকানিলাও বলেছেন, যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। সড়কে কোনো ধরনের নির্যাতন বা অপব্যবহার সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। ঘটনাটি প্রথম সামনে আসার পর তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং যাত্রীর বুকিংয়ের তথ্য ব্যবহার করে চালকের পরিচয় নিশ্চিত করেছিলেন বলে ফিলিপাইন স্টার জানিয়েছে।
চকলেট দেয়ার কথা বলে অফিসের সব কর্মীকে চমকে দিয়ে আইফোন উপহার বসের
নামাজের কাতারে অপ্রত্যাশিত দুই অতিথি, শান্তভাবেই সামলালেন মুসল্লিরা