তামিলনাড়ুতে সরকারি হাসপাতালে জন্মালেই নবজাতক পাবে সোনার আংটি
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালু হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে সোমবার কর্মসূচিটি চালু করা হয়। রাজ্য সরকারের তথ্য বিভাগের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন। এর আওতায় সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নবজাতকদের এক গ্রাম ওজনের একটি করে সোনার আংটি দেওয়া হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতৃত্বকে সম্মান জানানো, নারীর স্বাস্থ্যকে উৎসাহিত করা এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুন ২০২৬ বা তার পর তামিলনাড়ুর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি সংগ্রহ করেছে। ফলে কর্মসূচিটি শুধু ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া শিশুর জন্য নয়, নির্ধারিত তারিখের পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
এই কর্মসূচির পেছনে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবহারে পরিবারগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষ করে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে পরিবারগুলোকে সরকারি হাসপাতাল বেছে নিতে উৎসাহিত করার একটি প্রণোদনা হিসেবে আংটি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে প্রসবের সঙ্গে এই উপহারকে যুক্ত করে নবজাতকের পরিবারকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কর্মসূচিটি তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও যুক্ত। দলটি চলতি বছর তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া কর্মসূচিগুলোর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে জন্ম নেওয়া শিশুদের সোনার আংটি দেওয়ার বিষয়টিও ছিল। পরে সেটিই সরকারি কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তামিলনাড়ু সরকারের এই উদ্যোগ এমন সময়ে চালু হলো, যখন রাজ্যটিতে জন্মসংখ্যা নিয়ে আলোচনাও রয়েছে। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় রাজ্যে প্রায় ৪৫ হাজার কম জন্ম নথিভুক্ত হয়েছিল বলে আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার।
সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য এক গ্রাম সোনার আংটি দেওয়ার এই উদ্যোগকে রাজ্য সরকার জনস্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করছে। একই সঙ্গে নারীর স্বাস্থ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবকে উৎসাহিত করার বিষয়টিও কর্মসূচির ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ১ লাখ ২৮ হাজার আংটি সংগ্রহের তথ্য থেকে বোঝা যায়, কর্মসূচিটি বড় পরিসরে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রসবের হার বা জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা ভবিষ্যতে কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও পরিসংখ্যানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যাবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই পাঁচ তরুণ ব্রিটেনের নাগরিক এবং তারা লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। এর আগে রবিবার ভোরে বিস্ফোরকভর্তি তিনটি ভ্যানসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। লন্ডন থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত গ্লুচেস্টারের হোয়েলফোর্ড গ্রামের এক স্থানীয় কৃষকের বুদ্ধিমত্তায় এই সম্ভাব্য হামলার ছক ভেস্তে যায়। রবিবার ভোরে একটি পার্টি থেকে ফেরার পথে পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই নারী কৃষক দেখতে পান, মাস্ক ও বালাক্লাভা পরা কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি তিনটি সাদা ভ্যান ফেলে মাঠের ভেতর দিয়ে ঘাঁটির দিকে ছুটে যাচ্ছে। ভ্যানের গায়ে লেখা ‘ফুয়েল টু ইউ’ কোম্পানির নাম এবং একটি অসম্পূর্ণ ফোন নম্বর দেখে তার সন্দেহ আরও তীব্র হয়। তিনি দ্রুত গ্রামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সতর্কবার্তা পাঠান এবং পুলিশকে খবর দেন। দশ মিনিটের মধ্যেই সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই ঘটনাকে ইরান-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য সন্ত্রাসী তৎপরতা হিসেবে তদন্ত করছে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেরোরিজম পুলিশ। তবে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দূতাবাসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পর যুক্তরাজ্যে নতুন করে 'ইরানভীতি' ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এমন বানোয়াট খবর প্রচার করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেরোরিজম বিভাগের প্রধান লরেন্স টেলর এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত জটিল ও বড় পরিসরের একটি তদন্ত। ঘটনার নেপথ্যের উদ্দেশ্য ও সন্দেহভাজনদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ও জাতীয় পুলিশ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংস্থা একযোগে কাজ করছে। তবে সন্দেহভাজনরা আগে থেকেই নজরদারিতে ছিল বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার যে মন্তব্য করেছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং কৃষকের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও, ঘাঁটিতে ফোন করে সাড়া না পাওয়ার বিষয়ে কৃষকের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এর জবাবে ওই কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতো বড় একটি ঘটনার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগ তুলে বলেন, মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর উচিত ছিল আরও সতর্ক থাকা। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বিমান হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এই আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে। গত জুলাই মাসে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই ঘাঁটিকে তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করেছিল, যার জেরে সম্প্রতি সেখানে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্যানসারে মা ও মেয়ের মৃত্যু, একসঙ্গে হলো শেষ বিদায়
তামিলনাড়ুতে সরকারি হাসপাতালে জন্মালেই নবজাতক পাবে সোনার আংটি
জার্মানিতে সাড়ে ৬ লাখের বেশি চাকরি, বিদেশি কর্মীদের জন্যও বাড়ছে সুযোগ
কানাডার ব্র্যাম্পটনে সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে প্রায় ২০ হাজার কানাডীয় ডলার মূল্যের স্বর্ণালংকার হারিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৭৮ বছর বয়সী এক নারী। তাঁর ছেলে রাঘবেন্দ্র কুমারের অভিযোগ, এক অচেনা নারী পায়ে হাত দিয়ে ও আলিঙ্গন করে আস্থা অর্জনের পর তাঁর মায়ের গলার আসল হার খুলে নকল হার পরিয়ে দেন। হাতের স্বর্ণের বালাও নিয়ে যাওয়া হয়। পিল আঞ্চলিক পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ঘটনাটি ঘটে ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার কিছু আগে, ব্র্যাম্পটনের চিঙ্গুয়াকুসি রোড ও বোভেয়ার্ড ড্রাইভ ওয়েস্টের কাছের একটি আবাসিক এলাকায়। কুমার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিপি২৪কে বলেন, তাঁর মা ভালো ইংরেজি বলতে পারেন না। কাছে আসা নারীকে তিনি প্রথমে প্রতিবেশী বা পরিচিত কেউ ভেবেছিলেন। কুমারের হিসাবে, চুরি হওয়া অলংকারের ওজন প্রায় ১১০ গ্রাম। তাঁর প্রয়াত বাবা পেশায় স্বর্ণকার ছিলেন। ১৯৭১ সালে বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেওয়ার জন্য তিনি নিজ হাতে অলংকারগুলো তৈরি করেছিলেন। তাই অর্থমূল্যের বাইরেও পরিবারের কাছে সেগুলোর বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ঘটনাটি বুঝতে পেরে তাঁর মা কাঁপছিলেন এবং বাড়ি ফেরার পর প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলতে পারেননি বলে জানান কুমার। হৃদ্রোগের সমস্যা থাকায় সে সময় মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়েই বেশি চিন্তিত ছিলেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর মা নিয়মিত সন্ধ্যার হাঁটাও বন্ধ করে দিয়েছেন। পিল পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে একটি সাদা শেভ্রোলেট ইকুইনক্স গাড়িকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কুমারের দেওয়া ভিডিওতে দেখা নারীও তদন্তে আগ্রহের ব্যক্তি। টরন্টোর আরেকটি অলংকার চুরির ঘটনার সঙ্গে মিল থাকলেও দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
বার্লিনে সমকামী হামলার সূত্রে সিরিয়ায় আইএস এ যোগ দেওয়া শারমিনা বেগম আটক
ফোন স্ক্রল করার সময় হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় তরুণীর, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন ২১ বছরের তরুণী
থানার সামনেই পাথরের আঘাতে মুসলিম যুবক খুন, দাড়ি-টুপি দেখে টার্গেট
সিরিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৬০ হাজারের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বা স্তু চ্যুত মানুষকে বিভিন্ন বা স্তু চ্যুতি শিবির ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে সহায়তা করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর সিরিয়ার শিবিরগুলো থেকে রোববারও কয়েকশ পরিবারকে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে তাদের নিজ এলাকায় পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, জুলাই ও আগস্টে বা স্তু চ্যুতদের ঘরে ফেরার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই দুই মাসে মোট ৩৮ হাজার ৮৩৬ জন বা স্তু চ্যুতি কেন্দ্র ছেড়েছেন। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৬০০ জনকে বিশেষভাবে সহায়তা করা হয়েছে। একই সময়ে ১৩০টি বা স্তু চ্যুতি কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওসিএইচএ বলছে, এসব প্রত্যাবর্তন সিরিয়ার ‘নো ক্যাম্পস ভিশন’ বা শিবিরমুক্ত ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বা স্তু চ্যুত মানুষের ফিরে যাওয়া তাদের নিজ এলাকার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। রোববার উত্তর সিরিয়ার শিবিরগুলো থেকে ২৬৩টি পরিবারকে নিয়ে একটি বহর তাদের নিজ এলাকায় রওনা হয়। এসব পরিবার দক্ষিণ ইদলিব এবং হামা, আলেপ্পো ও দামেস্ক প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিরে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, ইদলিবের স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ ও শ্রম অধিদপ্তর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, মুজান অর্গানাইজেশন, সিরিয়ান আরব রেড ক্রিসেন্ট এবং জরুরি ও দু র্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় এই কার্যক্রম সমন্বয় করেছে। ইদলিবের সমাজকল্যাণ ও শ্রম বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকির জানান, বেশির ভাগ পরিবার দক্ষিণ ইদলিবের শহর ও গ্রামগুলোতে ফিরছে। প্রেসিডেন্টের ৫৯ নম্বর ডিক্রির আওতায় এই বহরটি আয়োজিত হয়েছে বলে তিনি জানান। আলেপ্পো ও ইদলিবের শিবিরগুলোর প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম সমন্বয়কারী মানাফ হাম্মাম বলেন, পরিবারগুলোর স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার আবেদনের ভিত্তিতেই এসব প্রত্যাবর্তন আয়োজন করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এবং তাদের মালপত্র পরিবহনের জন্য ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যারা ফিরতে চান, তাদের নিবন্ধন এখনো চলছে এবং আরও কয়েকটি বহর পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফিরে যাওয়া কয়েকটি পরিবারের সদস্য সানাকে জানিয়েছেন, বহু বছর বা স্তু চ্যুত থাকার পর নিজ এলাকায় ফিরতে পেরে তারা স্বস্তি বোধ করছেন। তবে তাদের অনেকেরই ফিরতে হচ্ছে ব্যাপকভাবে ক্ষ তি গ্র স্ত গ্রাম এবং সীমিত মৌলিক সেবার মধ্যে। ইদলিবের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ডিক্রিটি জারির পর থেকে ইদলিব ও আলেপ্পোর বিভিন্ন শিবির থেকে হাজারো পরিবারকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি প্রত্যাবর্তন বহরের আয়োজন করেছে। তবে ওসিএইচএ সতর্ক করেছে, বা স্তু চ্যুতদের প্রয়োজন এখন ধীরে ধীরে শিবির থেকে তাদের ফিরে যাওয়া এলাকাগুলোর দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব, ক্ষ তি গ্র স্ত অবকাঠামো, দুর্বল জনসেবা এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে আবারও বা স্তু চ্যুত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, মানুষকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের জন্য অবকাঠামো এবং জনসেবা পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ক্ষ তি গ্র স্ত এলাকায় বেকারি, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, হাসপাতাল, স্কুল, সড়ক, সেতু এবং আবাসন পুনর্বাসনের কাজ চলছে। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশে পুনরুদ্ধারের কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। পানি, বিদ্যুৎ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিও হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা এখনো বড় বাধা হয়ে আছে, যা ফিরে আসা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্থায়ী সমাধানের পথে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃ হ যু দ্ধে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ বা স্তু চ্যুত হয়। এর মধ্যে ৭৪ লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরেই বা স্তু চ্যুত হয়েছে বলে জাতিসংঘের তথ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বা দেশের ভেতরে বা স্তু চ্যুত হওয়া ১৮ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সিরীয় নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।
গাজায় ফিলিস্তিনি নি হ তের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়াল, আ হ ত ১ লাখ ৭৫ হাজার
৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবল ব্যাংকক, দুর্যোগকবলিত ৫০ জেলা