- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোর সাবেক ডেপুটি পুলিশ চিফ অ্যান ম্যানিক্স (৬৫) এবং তার ২৪ বছর বয়সী মেয়ে কেটি ম্যানিক্সকে গুলি করে হত্যা করেছেন অ্যানের স্বামী এবং সাবেক পুলিশ সার্জেন্ট কেভিন ম্যানিক্স (৬৮)। পরে তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন। গত রোববার রাতে মেরিন কাউন্টির একটি অভিজাত এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে শোক এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে নতুন কিছু তথ্য সামনে আনা হয়েছে। অ্যান ম্যানিক্সের ভাতিজা ব্রেন্ডান ম্যানিক্স ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে তার খালা ও কাজিনকে স্মরণ করেন। তিনি তার খালা অ্যান ম্যানিক্সকে স্যান ফ্রান্সিসকো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (SFPD) একজন 'পথপ্রদর্শক' হিসেবে উল্লেখ করেন, যিনি বিভাগের অন্যান্য নারীদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন। ব্রেন্ডান তার কাজিন কেটিকে একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী নার্স হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি সর্বদা প্রিয়জনদের উৎসাহ দিতেন। একইসঙ্গে তিনি তার খালু কেভিন ম্যানিক্সের এই 'অর্থহীন সহিংস কাজের' তীব্র সমালোচনা করেন, যা তাদের পুরো পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে। স্যান ফ্রান্সিসকো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (SFPD) এবং মেরিন কাউন্টি শেরিফ অফিস এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার বিকেল ৫টার পর জরুরি কলে খবর পেয়ে তারা স্ট্রবেরি সার্কেল এলাকার একটি বাড়িতে পৌঁছায় এবং তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে। তবে কমিউনিটির জন্য কোনো হুমকি নেই বলে জানানো হয়েছে। অ্যান ম্যানিক্স ২০১৮ সালে ফিল্ড অপারেশনস ব্যুরোর ডেপুটি চিফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালে স্পেশাল অপারেশনস ব্যুরোর দায়িত্ব পান। তিনি এসএফপিডি-র সোয়াট (SWAT) টিমে কাজ করা প্রথম নারী ছিলেন। অপরদিকে, কেভিন ম্যানিক্স ২৭ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, অ্যান এবং কেভিনের মধ্যে সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না এবং সম্প্রতি তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়াও চলছিল। তবে পরিস্থিতি এতটা ভয়ানক রূপ নিতে পারে, তা কেউ ধারণাও করতে পারেননি।
অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং নিষেধাজ্ঞার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক 'ব্যাংক অব আমেরিকা'কে ১২০ কোটি বা ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে মার্কিন ট্রেজারি বা অর্থ বিভাগ। ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জরিমানার ঘটনা। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, এত বড় একটি ব্যাংক যখন অর্থপাচার প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞার বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন এর নেতিবাচক প্রভাব বহুদূর পর্যন্ত গড়ায় এবং তা সমগ্র মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থাকে অবৈধ অর্থায়নের বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যত বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ট্রেজারি বিভাগের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ঝুঁকিগুলো—বিশেষ করে চীনা মানি লন্ডারিং নেটওয়ার্ক ও দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের অবৈধ অর্থায়নের তথ্য জানাতে এবং তা প্রশমনে ব্যর্থ হওয়ার কারণে ব্যাংকটিকে এই বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার এই অর্থের মধ্যে ৭৫ কোটি ডলার পাবে ইউএস অফিস অব দ্য কম্পট্রোলার অব দ্য কারেন্সি (ওসিসি), যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ইতিহাসে আরোপিত সর্বোচ্চ জরিমানার রেকর্ড। এছাড়া ইরান, রাশিয়া, মাদক চোরাচালান ও বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি লঙ্ঘনের দায়ে ট্রেজারি বিভাগের 'অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল'-এর সঙ্গে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের একটি মীমাংসাতেও পৌঁছেছে ব্যাংক অব আমেরিকা। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, সরকার যেন অর্থপাচার শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে পারে সেজন্য প্রণীত ১৯৭০ সালের 'ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্ট' ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘনের বিষয়টি ব্যাংক অব আমেরিকা স্বীকার করেছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ব্যাংক অব আমেরিকা জানিয়েছে, আর্থিক অপরাধের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এটি সঠিকভাবে পালনে দায়বদ্ধ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার পর আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় তারা ইতোমধ্যে প্রযুক্তির পেছনে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং হাজার হাজার নিবেদিত কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। উল্লেখ্য, ট্রেজারি বিভাগের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জরিমানা। এর আগে ভার্চুয়াল মুদ্রা শিল্পে মানি লন্ডারিং রোধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বিন্যান্সকে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার এবং পরের বছর কানাডাভিত্তিক টিডি ব্যাংককে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার কয়েক মাস পর প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতন, মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে বিন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও চ্যাংপেং ঝাওকে চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডজনেরও বেশি গহনা চুরির অভিযোগে রোমানিয়ার এক অবৈধ অভিবাসী দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিনব কায়দায় চুরির কারণে এই জুটিকে কুখ্যাত মার্কিন অপরাধী জুটি 'বনি অ্যান্ড ক্লাইড'-এর সাথে তুলনা করা হচ্ছে। গ্র্যান্ড লার্সেনি বা বড় ধরনের চুরির অভিযোগে নাসাউ কাউন্টি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে এই দম্পতি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)-এর হেফাজতে রয়েছে। শিগগিরই তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই জুটির গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রক্ষণশীল ও ট্রাম্প-সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের মতো নেতাদের 'স্যাংচুয়ারি' বা অভিবাসীদের প্রতি নমনীয় আশ্রয় নীতির কঠোর সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, হোকুলের মতো রাজনীতিকদের ওপর নির্ভর করলে এই অপরাধীরা এতদিনে আইনি ফাঁকফোকর গলে আবারও রাস্তায় ফিরে আসত এবং সাধারণ আমেরিকানদের সর্বস্বান্ত করত। একইসঙ্গে ওই পোস্টে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, দেশের আইন সমুন্নত রাখা এবং আমেরিকাকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও আইসিইর ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আদালতের নির্দেশে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন ইয়াদের কোর্তেস আন্দিনো নামে এক অভিবাসী। গত ২ অক্টোবরের এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ অক্টোবর মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোর্তেসের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকে বেআইনি ঘোষণা করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ফেডারেল বিচারক জেরি ব্ল্যাকওয়েল। ২ অক্টোবর মিনেসোটার বিশপ হেনরি হুইপল ফেডারেল বিল্ডিংয়ে তাঁর মুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তাঁকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ফেরত দেওয়া হয়। তবে আইনজীবীর জন্য অপেক্ষমাণ প্রধান ফটক দিয়ে বের না করে তাঁকে ভবনের পেছনের একটি দরজা দিয়ে বাইরে পাঠানো হয়। সেখানে সাধারণ পোশাকে অপেক্ষা করছিলেন আইসিইর কর্মকর্তারা। এরপর তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। কোর্তেসের আইনজীবীর বক্তব্য এবং সরকারের আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, মুক্তির মাত্র তিন মিনিট পর তাঁকে পুনরায় আটক করা হয়। তাঁর আইনজীবী জানতে চাইলে আইসিইর এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া গত মে মাস থেকেই চলছে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্থাটির একটি আইনি দল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তির নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মামলা পর্যালোচনা করে পুনরায় গ্রেপ্তারের উপযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করছে। মিনেসোটা পাবলিক রেডিওর অনুসন্ধানে একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর এক নাগরিককে আটককেন্দ্রের বাইরে কয়েক পা এগোনোর পর পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ১ অক্টোবর গুয়াতেমালার এক নাগরিক ভবনের দরজা পেরোনোর আগেই আবার আটক হন। আদালতের নথিতে সেপ্টেম্বরের আরও দুটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর এক ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে ফেডারেল বিচারক জেফরি ব্রায়ান বলেন, ভবন থেকে বের হওয়ার সময় আইসিইর কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেছিলেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পরোয়ানা যথাযথভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। বরং হাতকড়া পরানোর আগে ভাঁজ করা একটি কাগজ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর সামনে দেখানো হয়েছিল। বিচারক সতর্ক করেন, এ ধরনের পুনরায় গ্রেপ্তারকে বৈধ বলে মেনে নিলে আটকাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিকার চাওয়ার অধিকার অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। কোর্তেসের ঘটনায় বিচারক ব্ল্যাকওয়েলও সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান। আদালত তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির সময়, তারিখ ও স্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকার নির্ধারিত সময়ে সেই তথ্য জমা না দেওয়ায় ৫ অক্টোবর বিচারক কেন আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। তবে আদালত অবমাননার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। কোর্তেসের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদনও এ ঘটনার সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর স্ত্রী জেনিফারের সঙ্গে সংসার করছেন তিনি এবং ২০২৫ সালের জুনে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। মিনেসোটা পাবলিক রেডিও জানায়, পুনরায় গ্রেপ্তারের পরদিন, ৩ অক্টোবর তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদিত হয়। পরে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে আবার মুক্তি দেওয়া হয়। আইসিইর এই পদক্ষেপের বিষয়ে মিনেসোটা পাবলিক রেডিও হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং আইসিইর কাছে জানতে চেয়েছিল, কবে থেকে এ প্রক্রিয়া চলছে, কার নির্দেশে তা করা হচ্ছে এবং কতজন অভিবাসী এর আওতায় পড়েছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও আইসিই এসব প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। ফলে মিনেসোটার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর কাউকে নতুন করে গ্রেপ্তার করতে হলে তার আইনি ভিত্তি কী, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নতুন ও বৈধ ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও আগের আটকাদেশ বেআইনি ঘোষণার পরপরই একই ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। মিনেসোটার এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, বিচার বিভাগের নির্দেশ এবং সরকারি সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পরপরই আবার আটক করার এই প্রক্রিয়া কতটা আইনসম্মত, তা নির্ধারণে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বামপন্থী এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) পুরোপুরি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে আকস্মিক অভিযান এবং নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তির ওপর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিবর্ষণের ঘটনার জেরে এই বিলটি সামনে আনা হলো। ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজের উত্থাপিত 'রিইমাজিনিং সেফটি অ্যাক্ট' নামের এই বিলটিতে ডিএইচএস বিলুপ্তির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অভিবাসন আটক কেন্দ্র বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এক বিবৃতিতে রামিরেজ জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে ডিএইচএসকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৫ বছরের সন্তানের সামনে এক বাবাকে গুলি করা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওপর পরিচালিত অভিযান তারই উদাহরণ। তিনি ডিএইচএস ভেঙে দেওয়া, আইসিই বাতিল এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করার চর্চা বন্ধের এখনই উপযুক্ত সময় বলে দাবি করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিএইচএস গঠন করা হয়েছিল। তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কিছুদিন ধরেই আইসিই বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। এর মধ্যেই গত সোমবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) এজেন্টরা ইলহান ওমরের বাড়িতে অভিযান চালায়। সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত এই কংগ্রেসওম্যানের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রের দীর্ঘস্থায়ী একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে এই তল্লাশি চালানো হয়। ইলহান ওমরের দাবি, তিনি বিচার ব্যবস্থার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। 'রিইমাজিনিং সেফটি অ্যাক্ট' পাস হলে ডিএইচএস-এর বদলে 'ডিপার্টমেন্ট অফ কমিউনিটি সেফটি' নামে নতুন একটি বিভাগ চালু করা হবে, যা জননিরাপত্তা ও সহিংসতা রোধে কাজ করবে। ডিএইচএস-এর বর্তমান দায়িত্বগুলো বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে; যেমন—বিচার বিভাগ অভিবাসন প্রয়োগের দায়িত্ব নেবে এবং ট্রেজারি বিভাগ কাস্টমসের দায়িত্ব পালন করবে। তবে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অধিবেশন মুলতবি থাকায় এই বিলটি সহসাই আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
শিল্পী জেফ্রি রিড সম্প্রতি ম্যানহাটনের টম্পকিন্স স্কয়ার পার্কের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হিলারি ক্লিনটনের বিশালাকার দুটি প্রতিকৃতি স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। একটি সাদাকালো কুকুর ট্রাম্পের বিশাল প্রতিকৃতির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ থেমে যায় এবং পা তুলে সরাসরি মার্কিন এই রাজনীতিকের মুখের ওপর প্রস্রাব করতে শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা ফটোগ্রাফার জন ইজ এই হাস্যকর দৃশ্যটি নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দী করেন। ছবিটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই চারদিকে গুঞ্জন ওঠে যে, এটি হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো রাজনৈতিক স্টান্ট বা পূর্বনির্ধারিত ঘটনা। তবে ফটোগ্রাফার জন ইজ নিশ্চিত করেছেন যে, পুরো ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। সে সময় কুকুরের মালিক নিজের ফোনে ব্যস্ত ছিলেন এবং তার পোষা প্রাণীটি ঠিক কী করছে সে সম্পর্কে শুরুতে তার কোনো ধারণাই ছিল না। যখন তিনি বিষয়টি খেয়াল করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই কুকুরের গলার চেইন ধরে টান দিয়ে নিজের পথে হাঁটা চালিয়ে যান। এই ঘটনার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পিত আয়োজন, প্রশিক্ষিত প্রাণী বা রাজনৈতিক কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। এটি ছিল কেবলই একটি কুকুর, একটি স্ট্রিট আর্ট এবং একেবারে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে থাকা একজন ফটোগ্রাফারের দারুণ এক কাকতালীয় সমন্বয়ের ফল।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে গভীর রাতে ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে নামাজ বা প্রার্থনারত অবস্থায় দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় সামিয়া মালিক নামের এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বছর মে মাসে অ্যাডিলেডের নর্থ ইস্ট রোডে ঘটা এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে প্রায় চার মিনিট ধরে তিনি রাস্তার মাঝখানে সম্পূর্ণ একা হাঁটু গেড়ে সিজদারত ছিলেন। সে সময় অন্যান্য গাড়ির চালকরা দূর থেকে তাকে দেখে পাশ কাটিয়ে গেলেও ২০ বছর বয়সী চালক অ্যাশটন ফ্রেন্ড তার গাড়ি দিয়ে সামিয়াকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের শুনানিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পর ওই ঘাতক চালক গাড়ি না থামিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত ও মিডিয়ার খবর দেখে তিনি ভীত হয়ে পড়েন এবং ঘটনার দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় হলো, এমন মর্মান্তিক একটি প্রাণহানির পরও আদালত অভিযুক্ত চালককে মাত্র এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের স্থগিত কারাদণ্ড দিয়ে দায় সেরেছে। ঘাতকের এমন লঘু শাস্তিতে মানবাধিকার কর্মী ও প্রবাসীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যাকে তারা কোনো প্রকৃত সাজা নয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। আদালতে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে নিহত সামিয়ার বোন কুদসিয়া মালিক জানান, এই শূন্যতা ও বুকফাটা কষ্ট তাদের পরিবার কখনোই ভুলতে পারবে না। মর্মান্তিক এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ছাত্রসমাজ এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের সুযোগ করে দিতে নতুন একটি বৃত্তি চালু করা হয়েছে। ‘উইডেনফেল্ড-হফম্যান ট্রাস্ট’-এ প্রদান করা ২৫ লাখ মার্কিন ডলারের এই অনুদানের মাধ্যমে প্রতি বছর একজন আফগান নারী অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পাবেন। আফগান শিক্ষাবিদ এবং অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাবানা বাসিজ-রাসিখ এই অনুদান দিয়েছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আফগান নারীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার এবং নেতৃত্ব বিকাশে একটি দীর্ঘস্থায়ী সুযোগ তৈরি করবে। এই বৃত্তির আওতায় প্রথম বা দ্বিতীয় প্রজন্মের আফগান বংশোদ্ভূত নারীরা আবেদন করতে পারবেন, যদি তারা অক্সফোর্ডের স্নাতকোত্তর কোর্সের সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ বা উপবৃত্তি এবং অক্সফোর্ডে আসার আগের আনুষঙ্গিক ভ্রমণ ব্যয়ও এই বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে 'স্কুল অব লিডারশিপ, আফগানিস্তান' (SOLA) প্রতিষ্ঠা করা শাবানা বাসিজ-রাসিখ নারী শিক্ষার অন্যতম বড় প্রবক্তা। তিনি নিজেও উইডেনফেল্ড-হফম্যান ট্রাস্টের বৃত্তির মাধ্যমে ২০১৯-২০ সালে অক্সফোর্ড থেকে পাবলিক পলিসিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। নতুন এই অনুদান সম্পর্কে শাবানা বলেন, তারা কারও করুণা চান না, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ ও সাফল্য নিজে হাতে গড়ে তোলার জন্য শুধু প্রয়োজনীয় সুযোগটুকু চান। তাঁর মতে, অক্সফোর্ডে এক বছর একজন আফগান নারীর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হবে, আর এরপর বছরের পর বছর ধরে অন্য নারীরাও একইভাবে এই সুযোগ পেতে থাকবেন। তালেবান শাসনে আফগান নারীদের শিক্ষার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার এই কঠিন সময়ে এমন একটি উদ্যোগ পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিতে থাকা মেধাবী ছাত্রীদের জন্য এক অনন্য আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অন্তত ৭৬ জন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে শিক্ষাবিদদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য জানিয়েছে পশ্চিম এশিয়া স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১৯৬টি শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬ জনকে সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৫৯টি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৩৫টি ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে শিক্ষাবিদদের। পার্সটুডে ও ইরনার বরাতে জানা যায়, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সমালোচনা, ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার বিবৃতিতে স্বাক্ষর কিংবা ফিলিস্তিনের সমর্থনে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণেই মূলত তাদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, শাস্তিমূলক পদক্ষেপের শিকার হওয়া এসব ঘটনার ৫৪ শতাংশই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সংঘটিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এসব কর্মসূচি মূলত শ্রেণিকক্ষের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পশ্চিম এশিয়া স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশন এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছে যে, এ ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসনের ধারণাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে পশ্চিমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন কঠোর অবস্থান শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে প্রতিবেদনটিতে এও বলা হয়েছে যে, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং ঘটনাভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ইসরায়েলের নাগরিকত্বভিত্তিক নতুন বিধিনিষেধ মেনে নিজেদের তেল আবিবগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের নাগরিক ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখছে ফরাসি এয়ারলাইন এয়ার ফ্রান্স। ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম 'মিডিয়াপার্ট'-এর হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ১০ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো ক্রু ইসরায়েলি আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবেন না। এয়ার ফ্রান্স তাদের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় স্পষ্ট করেছে যে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকত্বের পাশাপাশি কারও যদি ফরাসি নাগরিকত্বও থাকে, তবুও তাদের ওপর এই বিধিনিষেধ একইভাবে প্রযোজ্য হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা যেসব দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করে, সেখানকার কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশের নিয়মকানুন যাত্রী ও কর্মীদের ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে বাধ্য থাকে। আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম টিএসএ-এর প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের নাম রয়েছে। তবে শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশই নয়, নিষেধাজ্ঞার এই তালিকায় কিউবা, উত্তর কোরিয়া, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্দেশনার মূল ভিত্তি হলো জাতীয়তা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওই দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা। আনাদোলু এজেন্সি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী 'ফ্লাইদুবাই'-এর একটি ফ্লাইটে সংঘটিত ঘটনার পরই মূলত ইসরায়েল এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। ওই ফ্লাইটে এক ওমানি সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল, যার জেরে সেটি পরে সৌদি আরবে অবতরণে বাধ্য হয়। তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে ক্রুদের দায়িত্ব থেকে এভাবে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্তে ব্যাপক বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। প্যারিসের বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গ্যান্ডিন জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশের সব নাগরিককে ঢালাওভাবে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করাটা সরাসরি ফরাসি কর্মসংস্থান আইনের পরিপন্থী হতে পারে।
'বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের' অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এফএম রেডিও কেন্দ্র থেকে বিবিসির সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। দেশটির তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবাইব ঘুফরান স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেশজুড়ে বিবিসি রেডিওর কার্যক্রম স্থগিতের এই সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছেন। এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার পর এক বিবৃতিতে বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের লাখো মানুষ নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের জন্য তাদের ওপর নির্ভর করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানে তারা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে এফএম সম্প্রচার বন্ধ থাকলেও পশতু, দারি ও ইংরেজি ভাষায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমটি। বর্তমানে শর্টওয়েভ, মিডিয়াম ওয়েভ, অনলাইন এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আফগান শ্রোতাদের জন্য তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। বিবিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রতি সপ্তাহে তাদের সংবাদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান শুনে থাকেন। এসব আয়োজনের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত আফগান মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানও রয়েছে। ১৯৮১ সালে দেশটিতে কার্যক্রম শুরু করা বিবিসিই ছিল আফগানিস্তানে সম্প্রচার চালানো একমাত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার পর এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান পুনরায় ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানের গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রচারে যেকোনো ধরনের সংগীত নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি পর্দায় নারীদের উপস্থিতিও চরমভাবে সীমিত করা হয়েছে; বর্তমানে নারী ও পুরুষ সংবাদকর্মীদের একসঙ্গে কোনো সংবাদ বা অনুষ্ঠানে দেখা যায় না। বিদ্যুৎ সংকট, ইন্টারনেটের চড়া মূল্য এবং স্বল্প সাক্ষরতার হারের কারণে দেশটিতে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে রেডিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের খাঁচায় ঢুকে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন উইলিয়াম চ্যাপম্যান নামের এক তরুণ। গত শনিবার ঘটা এই ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ওই তরুণ তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ৪২০ পাউন্ড ওজনের 'আলতাই' নামের একটি সাইবেরিয়ান বাঘের দিকে তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় খাঁচার বাইরে থাকা দর্শনার্থীদের আতঙ্কে চিৎকার করতে শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা অন্যান্য ভিডিওতে দেখা যায়, বাঘটি যখন তাকে আক্রমণ করছে, তখনও চ্যাপম্যান অদ্ভুত আচরণ করছিলেন। আক্রমণের এক পর্যায়ে তিনি বাঘটির দিকে আঙুল তুলে বকা দেওয়ার ভঙ্গিতে 'দুষ্টুমি কোরো না' বলে নির্দেশ দেন! দর্শনার্থীদের মতে, ওই মুহূর্তে চ্যাপম্যানকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি বাস্তব জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। পুলিশ তাকে ২০-এর কোঠায় থাকা একজন 'মানসিকভাবে সংবেদনশীল' বা ভালনারেবল তরুণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর আগেও তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অদ্ভুত সব ছবি দেখা গেছে, যার একটিতে তিনি হাতে বাইবেল এবং মুখে তিরসহ একটি ক্রসবো ধরে ছিলেন। ভয়ংকর এই ঘটনার আগে পার্কে তাকে বেশ আনন্দিত অবস্থায় নাচতে দেখা যায়। এমনকি তিনি ডেল টেইলর নামের এক অপরিচিত দর্শনার্থীকে বাঘটিকে পেছনে রেখে তার কয়েকটি ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধও করেছিলেন। ডনকাস্টার শহরের বাসিন্দা এই তরুণ একাই ওই পার্কে ঘুরতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে বাঘের খাঁচায় ঢুকে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বাঘের আক্রমণ থেকে চ্যাপম্যানকে বাঁচাতে পার্কের কর্মীরা শটগান দিয়ে দুটি সতর্কতামূলক গুলি ছোড়েন। এতে বাঘটি পিছু হটে নিজের ডেরায় ফিরে গেলেও চ্যাপম্যানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি; ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রোববার পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, 'আলতাই' নামের বাঘটি সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে এবং এই ঘটনার জেরে সেটিকে ইউথেনাইজ (ঘুম পাড়িয়ে হত্যা) করা হবে না।
ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফল কলার দাম অচিরেই আকাশছোঁয়া হতে পারে। গুয়াতেমালার গাছ থেকে ছিঁড়ে আমেরিকানদের স্মুদি গ্লাস পর্যন্ত কলার এই দীর্ঘ যাত্রায় বর্তমানে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। ডেল মন্টে নর্থ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ড্যানি ডুমাস সার্বিক পরিস্থিতিকে রীতিমতো একটি 'সংকট' বলে আখ্যায়িত করেছেন। কলার বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী হিসেবে পরিচিত। একটি পুষ্টিকর কলার দাম যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মাত্র ১৫ সেন্টের মতো হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে সেই সস্তা দাম চরম হুমকির মুখে। বিখ্যাত মার্কিন সংবাদপত্র 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস' সম্প্রতি মধ্য আমেরিকা থেকে পেনসিলভানিয়ায় আসা কয়েক মিলিয়ন কলার একটি চালান ট্র্যাক করে এই ফলটির যাত্রাপথে নানা বিপত্তির কথা তুলে ধরেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে রেফ্রিজারেটেড ট্যাংকারের দ্রুত সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে তৈরি কলার সারের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং ট্রাক চালকের তীব্র সংকট। মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে 'এল নিনো' (El Niño) আবহাওয়া পরিস্থিতি, যা শিপিং ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। উত্তর আমেরিকার বানানা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টম স্টেনজেল জানান, এই একাধিক কারণ মিলে একটি বড় সংকটের জন্ম দিয়েছে এবং কলার উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। বর্তমানে পূর্বচুক্তি অনুযায়ী দাম নির্ধারিত থাকলেও কৃষকরা ইতোমধ্যেই বাড়তি খরচের বোঝা বহন করছেন। এক উৎপাদকের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর তার খরচ ৫ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় এত বেশি বেড়েছে যে, অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কলা চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফলের দিকে ঝুঁকছেন। আগামী ডিসেম্বরে কলার চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, এরপর কতজন মুদি দোকানি দাম বাড়াতে দেবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২৫ সালে কলার দাম প্রতি পাউন্ড ৬৭ সেন্ট ছুঁয়েছিল, যা ছিল গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর, হন্ডুরাস এবং কোস্টারিকা থেকে আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের কারণেই মূলত এই দাম বেড়েছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়। তবুও গত আগস্টে কলার দাম আগের বছরের তুলনায় ২.২ শতাংশ বেশি ছিল। জ্বালানির দাম ও শুল্কের ওঠানামা ছাড়াও এই শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি বড় শঙ্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে 'পানামা ডিজিজ' নামক এক ক্ষতিকর ছত্রাক। অতীতে এই রোগটি 'গ্রস মিশেল' (Gros Michel) জাতের কলাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল। বর্তমানে এই রোগটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কলার জাত 'ক্যাভেন্ডিশ'-এর (Cavendish) জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে আট হাজারের বেশি সেনা মোতায়েনের পর রিও গ্র্যান্ডে নদীসংলগ্ন কিছু এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের তৎপরতা কমেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতি, সামরিক উপস্থিতি এবং অভিযানটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। টেক্সাসের রোমা এলাকায় সেনাসদস্য, সীমান্তরক্ষী এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। অভিযানে নজরদারি প্রযুক্তি, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক ও মানব পাচার ঠেকানো এই অভিযানের অন্যতম ঘোষিত উদ্দেশ্য। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো এবং মেক্সিকোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার ফলে অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেক্সিকো সীমান্তসংলগ্ন তামাউলিপাস এলাকায় ৫০০ সেনা পাঠিয়েছে। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা এবং এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের একাংশ মনে করছেন, অবৈধ পারাপার কমার পেছনে আগের প্রশাসনের আশ্রয়প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতিও ভূমিকা রেখেছে। ফলে সেনা মোতায়েনের কারণে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সীমান্ত নিরাপত্তা রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকান প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে তাদের নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, সমালোচকেরা সামরিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা, মানবিক প্রভাব এবং অভিযানের প্রকৃত ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও অভিবাসননীতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের এই খবরকে সরাসরি বৈধ ভিসাধারী বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। নির্দিষ্ট অভিবাসন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে ঘিরে। হোয়াইট হাউস প্রথমে তাঁকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানোর কথা জানায়। পরবর্তী প্রতিবেদনে তাঁর পদত্যাগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসন গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে। তবে প্রাথমিক ঘোষণায় তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অনুচিত আচরণ, ব্যক্তিগত আর্থিক দায় পরিশোধে একজন রাজনৈতিক দাতার সহায়তা চাওয়া এবং সরকারি প্রভাব ব্যবহারের সম্ভাব্য অভিযোগের কথা এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা ও আইনি দায় নির্ধারণের বিষয়টি আলাদা; অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গিলফয়েলের আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থসংক্রান্ত যোগাযোগের বিষয়টি আগে সম্পন্ন করা বক্তৃতা ও জনসমক্ষে উপস্থিতির কাজের পারিশ্রমিকের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। ব্যক্তিগত ভ্রমণ নিয়ে ওঠা অভিযোগও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবার পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে এবং অকৃতকার্য হওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষা এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর বগুড়ার শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি আয়োজিত ৪৯তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি অকৃতকার্য ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এগিয়ে গেলে চলবে না, পিছিয়ে পড়াদের জন্যও ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এসএসসিতে সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলে ফল প্রকাশের পর দ্রুত পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। এই পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পুনঃপরীক্ষাতেও সফল না হলে তাদের কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে পুনঃপরীক্ষার সময়সীমা ও সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে, আবেদন কীভাবে করতে হবে কিংবা পরীক্ষার ফি ও সময়সূচি কী হবে, সে বিষয়ে একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একই অনুষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে এসব কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে সরকার। সাধারণ শিক্ষায় বারবার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট না করে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা সরদার কেরামত আলী। উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাসহ শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। সূত্র: একাত্তর টিভি
আজারবাইজানে হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ক্লাস বর্জন ও স্কুলের বাইরে প্রতিবাদ করেছে শিক্ষার্থীরা। অক্টোবরের শুরুতে বাকু ও মাসাল্লি জেলার অন্তত দুটি স্কুলে এ প্রতিবাদ হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, হিজাব পরা সহপাঠীদের ক্লাসে ফেরার সুযোগ দিতে হবে। ডেইলি অবজারভারের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মেইদান টিভির বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকুর ৬৯ নম্বর স্কুল এবং মাসাল্লি জেলার মোল্লাওবা গ্রামের বি শিরিয়েভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। হিজাবের কারণে সহপাঠীদের পড়াশোনার সুযোগ সীমিত করার বিরোধিতা করে তারা। বিতর্কের সূত্রপাত সরকারি স্কুলের পোশাকবিধিতে পরিবর্তনের পর। দ্য টার্কিশ পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের পোশাকসংক্রান্ত বিধি সংশোধন করে আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা। এতে স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কিংবা শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়। তবে বিধিতে সরাসরি হিজাবের নাম উল্লেখ নেই। ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের পোশাক নিয়েও আলাদা বিধি গ্রহণ করা হয়। এরপর বাকু ও সুমগাইতের কয়েকটি স্কুলের শিক্ষিকারা অভিযোগ করেন, তাঁদের হিজাব খুলে কর্মস্থলে আসতে অথবা পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। দ্য টার্কিশ পোস্ট জানায়, তাদের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এসব অভিযোগ নিয়ে শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাকুর রিচার্ড সর্গে ৯০ নম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক হিজাব পরা শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। মেইদান টিভির প্রকাশিত ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের তাঁকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে ডেইলি অবজারভার। নতুন বিধিতে হিজাবের সুস্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও কয়েকটি স্কুলে এর প্রয়োগ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, পোশাকের কারণে স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হিজাব পরা মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ক্ষুণ্ন করছে।
আমেরিকায় বসেই বাংলাদেশের জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা অনলাইনে পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি ভূমিসেবা ব্যবস্থায় নিবন্ধন করে সংশ্লিষ্ট জমির হোল্ডিং যুক্ত থাকলে করের দাবি দেখা, পেমেন্ট করা এবং দাখিলা সংগ্রহ করা যায়। তবে প্রথমবার নিবন্ধন, জমির তথ্য যাচাই ও হোল্ডিং তৈরির কাজ বাকি থাকলে পুরো প্রক্রিয়া পাঁচ মিনিটে শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টাল অনুযায়ী, হোল্ডিং নিবন্ধনের জন্য সচল মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পরিচয়পত্রে থাকা জন্মতারিখ এবং দাখিলা বা নামজারি খতিয়ানের তথ্য প্রয়োজন। পুরোনো দাখিলা ও জমির খতিয়ান হাতের কাছে রাখলে তথ্য দেওয়ার কাজ সহজ হয়। প্রথমে সরকারি ভূমিসেবা পোর্টালের নাগরিক নিবন্ধন ও লগইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এরপর ভূমি উন্নয়ন কর সেবায় গিয়ে খতিয়ানের তথ্য জমা দিতে হবে। সরকারি ব্যবহারকারী নির্দেশিকায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির জন্য মালিকানার ধরন হিসেবে উত্তরাধিকার নির্বাচন করে ওয়ারিশের তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থাও উল্লেখ রয়েছে। তাই বাবার নামে খতিয়ান থাকলে তাঁর পরিচয়পত্র দিয়ে নিজের পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার পরিবর্তে প্রযোজ্য মালিকানা ও প্রতিনিধিত্বের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এমন প্রবাসী ভূমিমালিকদের জন্যও সরকারি নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। অভিভাবক বা প্রতিনিধির মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে অনলাইনে কর আদায়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। অ্যাকাউন্টে হোল্ডিং যুক্ত হলে তার বিস্তারিত অংশ থেকে অনলাইন পেমেন্টে যেতে হবে। সেখানে প্রদর্শিত পেমেন্ট গেটওয়ে নির্বাচন করে কর পরিশোধ করা যায়। তবে আমেরিকার মোবাইল নম্বরে নিবন্ধনের ওটিপি পাওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে ইস্যু করা যেকোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করার নিশ্চয়তা পাওয়া সরকারি নির্দেশিকায় নেই। পেমেন্টের সময় প্রদর্শিত ও কার্যকর পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। কর পরিশোধ সম্পন্ন হলে অ্যাকাউন্টের দাখিলা অংশে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের রশিদ পাওয়া যায়। সেটি সংরক্ষণ করা জরুরি। সরকারি পোর্টাল বলছে, জমির নামজারি ও কেনাবেচাসহ বিভিন্ন কাজে দাখিলা প্রয়োজন হতে পারে। টাকা কাটা গেলেও দাখিলা না এলে সরকারি নির্দেশিকায় পেমেন্ট সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। খাজনা সময়মতো না দিলেই জমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাস হয়ে যায়, এমন বক্তব্য সঠিক নয়। ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, কোনো বছরের কর সেই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ না হলে তা বকেয়া হিসেবে গণ্য হয়। টানা তিন বছর বকেয়া থাকলে প্রথম থেকে তৃতীয় বছর পর্যন্ত বার্ষিক ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে জরিমানাসহ তা আদায়যোগ্য। তৃতীয় বছর শেষে বকেয়া আদায়ে সার্টিফিকেট মামলা করা যেতে পারে। একই আইনে বকেয়া ও চলতি কর পরিশোধের সঙ্গে অথবা পরে সর্বোচ্চ তিন বছরের কর অগ্রিম দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নিয়মিত কর পরিশোধের পাশাপাশি প্রবাসী মালিকেরা অগ্রিম পরিশোধের সুবিধাও বিবেচনা করতে পারেন। নিবন্ধন বা হোল্ডিংয়ের তথ্য নিয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশে ভূমিসেবা সহায়তার জন্য ১৬১২২ নম্বর চালু রয়েছে। অনলাইনে কর দেওয়ার সুবিধা থাকলেও মালিকানা, খতিয়ান কিংবা হোল্ডিংয়ের ভুল সংশোধনে আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবর দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্কের রচেস্টার, ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহর, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, জর্জিয়ার আটলান্টা এবং নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে অক্টোবরের বিভিন্ন দিনে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, নৃত্য ও প্রবাসী পরিবারের মিলনমেলাকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকেরা। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে দুর্গা উৎসব যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত জনসমাগমস্থল নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবর দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাঙালিরা নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই স্থানে দুর্গা উৎসবের আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রচেস্টারেও ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার রচেস্টার। সংগঠনটির প্রকাশিত কর্মসূচিতে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়ার আয়োজন রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাঙালি সংগঠনগুলোর উদ্যোগে প্রতিবছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন দিনের দুর্গোৎসব যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলেও দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার সূচি অনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পুষ্পাঞ্জলি, আরতি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ব্যবস্থা রয়েছে। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি ফেয়ারগ্রাউন্ডসে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর বে এরিয়া প্রবাসী দুর্গাপূজার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের কর্মসূচি রয়েছে। এসব আয়োজনে প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চর্চার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফ্লোরিডায় ৪৫তম দুর্গোৎসব ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে বেঙ্গলি সোসাইটি অব ফ্লোরিডা ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর তাদের ৪৫তম দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে। সংগঠনটির প্রকাশিত কর্মসূচিতে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত ও প্রবাসী পরিবারের মিলনমেলার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৯৮২ সাল থেকে সংগঠনটি দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছে। ফ্লোরিডার টালাহাসিতেও মুকতাঙ্গন বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ২৪ ও ২৫ অক্টোবর দুর্গাপূজার কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। ফলে অঙ্গরাজ্যটির বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য উৎসবে অংশ নেওয়ার একাধিক সুযোগ থাকছে। জর্জিয়া ও নিউ ইংল্যান্ডেও পূজার আয়োজন জর্জিয়ার আটলান্টা অঞ্চলে বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার আটলান্টার দুর্গাপূজা ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর লরেন্সভিলের মাউন্টেন ভিউ হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে আটলান্টা অঞ্চলের নন্দন বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনও দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে। এসব অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলেও দুর্গাপূজাকে ঘিরে রয়েছে নানা কর্মসূচি। বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব রোড আইল্যান্ড অ্যান্ড সাউদার্ন ম্যাসাচুসেটসের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর রোড আইল্যান্ড হিন্দু মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করার সুযোগ করে দেয়। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাঙালির মিলনমেলা দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার মহিষাসুরবধ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাঙালিরাও প্রতিবছর বিভিন্ন মন্দির ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই উৎসব পালন করেন। প্রবাসে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পূজাকে কেন্দ্র করে বাংলা গান, নাচ, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং পারিবারিক ও সামাজিক মিলনমেলার আয়োজন হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য পরিচিত করে তুলতে এসব অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত স্থানে দুর্গা উৎসবের আয়োজন যেমন বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামনে বাঙালি ঐতিহ্য তুলে ধরছে, তেমনি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় পূজামণ্ডপগুলো প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করছে। অক্টোবরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্গাপূজার এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাস, বাংলা সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চা অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন নারী ও জাতিগত সংখ্যালঘু রোগীদের ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি। ইরানি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন গবেষক ও তাঁর হেলদি মেশিন লার্নিং দল চিকিৎসার এআই মডেলকে আরও নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য করার উপায় খুঁজছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, সব রোগীর ওপর গড় হিসাবে ভালো ফল দেওয়া মডেলও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে। ঘাসেমি এমআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট ফর মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচিতিতে তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার লক্ষ্য, রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ন্যায্যতা উন্নত করা। এমআইটি নিউজের ২৫ নভেম্বর ২০২৪ প্রকাশিত পরিচিতিমূলক প্রতিবেদনে জানানো হয়, টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে একটি ইরানি মার্কিন পরিবারে বেড়ে ওঠেন ঘাসেমি। ছোটবেলা থেকেই ধাঁধা, ভিডিও গেম ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নে তাঁর আগ্রহ ছিল। পরে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যে নিজের কাজের ক্ষেত্র খুঁজে পান তিনি। পিএইচডি গবেষণার সময় রোগীর চিকিৎসার ফলাফল অনুমান করতে এআই মডেল তৈরি করছিলেন ঘাসেমি। তখন তাঁর গবেষণা কমিটির সদস্য লিও সেলি জানতে চান, মডেলগুলো বিভিন্ন লিঙ্গ, ইন্স্যুরেন্স ও জাতিগত পরিচয়ের রোগীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করছে কি না। আলাদাভাবে পরীক্ষা করে ঘাসেমি ফলাফলে ব্যবধান পান। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে চিকিৎসার এআইয়ে পক্ষপাত নিয়ে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে। সমস্যার একটি উৎস হলো মডেলকে শেখাতে ব্যবহৃত তথ্য। এমআইটির ২০২২ সালের প্রতিবেদনে ঘাসেমি ব্যাখ্যা করেন, চিকিৎসার তথ্য মানুষের সিদ্ধান্ত ও আচরণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। সেখানে বিদ্যমান পক্ষপাত এআইয়ের মধ্যেও প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু বিপুল পরিমাণ তথ্য দিয়ে মডেল তৈরি করলেই সব রোগীর জন্য সমান মানের ফল নিশ্চিত হয় না। ঘাসেমি যুক্ত ছিলেন এমন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআই মডেল বুকের এক্স-রেসহ বিভিন্ন মেডিকেল ছবি থেকে রোগীর স্বঘোষিত জাতিগত পরিচয় উচ্চ নির্ভুলতায় অনুমান করতে পারে। চিকিৎসকের কাছে ছবিতে সেই পরিচয়ের স্পষ্ট নির্দেশক না থাকলেও মডেল তা শনাক্ত করেছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এমন তথ্য মডেল অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যবহার করলে রোগ নির্ণয়ের সিদ্ধান্তে পক্ষপাত ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এমআইটির গবেষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, এক হাসপাতালে ভালো কাজ করা মডেল অন্য হাসপাতালের রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল নাও দিতে পারে। রোগীর ধরন ও তথ্যের পরিবর্তন বিবেচনায় না নিলে নির্ভুলতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ফলাফলের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। তাই ব্যবহারস্থলের রোগীদের ওপর আলাদাভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন তুলে ধরছেন ঘাসেমি ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের অনুসন্ধানে জনগোষ্ঠীভেদে পার্থক্য বিবেচনা করে মডেল প্রশিক্ষণ দিলে কিছু ব্যবধান কমানোর সুযোগ পাওয়া গেছে। তবে এই ফল সব হাসপাতাল বা সব রোগীর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। ঘাসেমির কাজ মূলত সেই সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা ও সমাধানের পথ খোঁজা। চিকিৎসায় এআই ব্যবহার করলেই বৈষম্য দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা এই গবেষণা দেয় না।