সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে  হ ত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী ২০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্ত
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে হ ত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী ২০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দেল রিও শহরে পাঁচ সন্তানের এক মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী তরুণী আমায়া কুকি ডিয়াজ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ২৫ জুন দিনেদুপুরে ক্যারোলিন "কারো" পেনা নামের ওই নারীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে কুকি, তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়। এই সপ্তাহেই বিশাল অঙ্কের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর মঙ্গলবার কুকি কারামুক্ত হন।   ভ্যাল ভার্দে কাউন্টি শেরিফ অফিস ও সংশোধনাগারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কুকির ২০ লাখ ডলারের জামিন বন্ডের জন্য ডিয়াজ পরিবার নগদ ২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। তবে তার বোন কিটি এখনও কারাগারেই বন্দি রয়েছেন। এল অ্যামিগো বন্ডিং নামের যে প্রতিষ্ঠানটি জামিনের ব্যবস্থা করেছে, তাদের একজন প্রতিনিধি জানান, জামিনের শর্ত ও বিস্তারিত তথ্য শুধু ওই পরিবারের মধ্যেই গোপন রাখা হয়েছে।   তবে ওই প্রতিনিধি সতর্ক করে বলেন, "ইতোমধ্যেই নানা সমস্যা শুরু হয়েছে। কেউ খুন হলে ঝামেলা হবেই। তাই ডিয়াজ পরিবারকে এখন অনেকটা আড়ালে থাকতে হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা জানি শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারই জয়লাভ করবে।"   মামলার অভিযোগপত্র থেকে এই হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ পাওয়া যায়। ফাজ পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ক্যারোলিন পেনা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তবে তদন্তকারীদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে আসার পরপরই কুকি ও কিটি সেখানে উপস্থিত হন।     ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কালো ক্রাইসলার গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডান হাতে একটি ছুরিজাতীয় বস্তু নিয়ে পেনার ওপর চড়াও হন এবং তার পিঠে আঘাত করেন। পুলিশের তথ্যমতে, এসময় কিটি এবং ফাজও পেনার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে পালিয়ে যায়। পরে পেনার ভাতিজা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।   হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়ার সময় ডিয়াজ বোনদের মুখে বিকৃত হাসি দেখা গিয়েছিল, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই নৃশংস অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। তবে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল বা পেনার সঙ্গে তাদের কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা এখনো পরিষ্কার করেনি পুলিশ।   আগামী ৪ নভেম্বর কুকির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে এক শুনানিতে কুকি ও কিটি উভয়ের জামিন ৫০ লাখ ডলার থেকে কমিয়ে ২০ লাখ ডলার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, এই মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করা ফাজ বর্তমানে ৫২ লাখ ডলারের জামিন বন্ডে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী ১১ ডিসেম্বর তার প্রাক-বিচার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৬:১৭
ভিসা থাকলেও পাসপোর্টের এই ৮ ভুলে আটকে যেতে পারেন বিমানবন্দরে
ভিসা থাকলেও পাসপোর্টের এই ৮ ভুলে আটকে যেতে পারেন বিমানবন্দরে

বহু প্রতীক্ষিত বিদেশ ভ্রমণের আগে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও কেবল পাসপোর্টের একটি ছোট ভুলের কারণে ভেস্তে যেতে পারে আপনার পুরো পরিকল্পনা। অনেকেই মনে করেন, মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট পুরোপুরি বৈধ। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে।   উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কখনো পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করেন এবং পরবর্তীতে সেটি খুঁজেও পান, তবুও সেই পাসপোর্ট দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। আইভিসা-এর কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স ডিরেক্টর ভিক্টর জিমেনেজ জানান, একবার সিস্টেমে হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করা হলে পাসপোর্টটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যায়। তাই আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বৈধ মনে হওয়া পাসপোর্টও বিমানবন্দরে বা ইমিগ্রেশনে বড় ধরনের বিপত্তির কারণ হতে পারে।   পাসপোর্টের মেয়াদের ক্ষেত্রে একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ ফেরার সম্ভাব্য তারিখের পর অন্তত তিন মাস থাকতে হয় এবং পাসপোর্টটি অবশ্যই গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যুকৃত হতে হয়। আবার অনেক দেশ পৌঁছানোর পর থেকে পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ দাবি করে।   শুধু মেয়াদই নয়, পাসপোর্টের ফাঁকা পাতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন বা ভারতের মতো দেশগুলো ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পের জন্য অন্তত দুটি ফাঁকা পাতা দাবি করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে আবার নিয়ম আরেকটু কড়া; সেখানে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে পরপর দুটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পাতা থাকা বাধ্যতামূলক। তাই ভ্রমণের আগে গন্তব্য দেশের এই ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।   শিশুদের পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও অনেক সময় অভিভাবকরা ভুল করে থাকেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশেই শিশুদের পাসপোর্টের মেয়াদ প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ১০ বছর হয় না, বরং তা ৫ বছর হয়ে থাকে। তাই শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের আগে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করার পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন বা আইনি সম্পর্কের প্রমাণপত্র সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, এমনকি পদবি এক হলেও। অন্যদিকে, নববিবাহিতদের ক্ষেত্রে প্রায়ই নাম বিভ্রাটের সমস্যা দেখা যায়।   অনেকেই বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করলেও পাসপোর্টে তা আপডেট করতে ভুলে যান এবং নতুন নামে ফ্লাইটের টিকিট বুক করেন। পাসপোর্ট ও টিকিটের নামের এই অমিলের কারণে বিমানবন্দরে বোর্ডিং থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।   পাসপোর্টের বাহ্যিক অবস্থাও আপনার ভ্রমণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পানি লেগে নষ্ট হওয়া, ল্যামিনেশন উঠে যাওয়া, পাতা আটকে থাকা বা ছিঁড়ে যাওয়াকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। পাসপোর্টের বায়োগ্রাফিক্যাল পাতায় (যেখানে ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য থাকে) কোনো ধরনের অননুমোদিত দাগ, স্টিকার বা শিশুদের আঁকিবুঁকি থাকলে সেটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।   তবে স্বাভাবিক ব্যবহারের কারণে মলাটে সামান্য দাগ পড়লে বা পাতা কিছুটা বাঁকা হলে সাধারণত সমস্যা হয় না। মূল বিষয় হলো, পাসপোর্টের তথ্যগুলো যাতে মেশিন রিডেবল বা স্ক্যান করার মতো অবস্থায় থাকে।   অনেক গন্তব্যস্থল ‘ভিসা-মুক্ত’ হলেও এর অর্থ এই নয় যে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে যাওয়া যাবে। যুক্তরাজ্য বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে ভিসা না লাগলেও যাত্রার আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, আপনি যদি নতুন পাসপোর্ট তৈরি করেন, তবে পুরোনো পাসপোর্টের ইটিএ বা কিছু ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুনটিতে স্থানান্তরিত হয় না।   কারণ, নতুন পাসপোর্টের নম্বর ভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে অনেক দেশ পুরোনো ও নতুন দুটি পাসপোর্টই সাথে রাখার পরামর্শ দেয়, আবার কিছু দেশ নতুন করে ইটিএ বা ভিসার আবেদন করতে বলে। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের নিয়মকানুন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ফ্লাইট বুকিংয়ের আগে এবং ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে গন্তব্য দেশের সরকারি ওয়েবসাইট ও এয়ারলাইন্সের নিয়মাবলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৫:৫৪
মূলধনের অভাবে থেমে যাবে না স্বপ্ন, তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড শিক্ষার্থী
মূলধনের অভাবে থেমে যাবে না স্বপ্ন, তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড শিক্ষার্থী

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থী, সোনিশ কোথাগুন্ডলা এবং হাদি আব্দুল, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য ‘বোস্টন স্কয়ার ভেঞ্চারস’ (Boston Square Ventures) নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো—শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, কম্পিউটিং রিসোর্স, মেন্টরশিপ এবং স্টার্টআপ নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা।   প্ল্যাটফর্মটির প্রথম কোহর্টের (Cohort 1) আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যার কার্যক্রম ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা ১ লাখ ডলার সমমূল্যের কম্পিউট ক্রেডিট, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, মেন্টরশিপ, সাপ্তাহিক চেক-ইন, পিচ প্রস্তুতির সুযোগ এবং একটি ডেমো ডে-তে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।   উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে সবচেয়ে বড় সমস্যা আইডিয়ার অভাব নয়, বরং সেটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অসম বণ্টন। হাদি আব্দুল জানান, অনেকেরই চমৎকার আইডিয়া ও দক্ষতা থাকলেও তারা সঠিক মানুষদের সাথে যুক্ত হতে পারেন না।   অন্যদিকে সোনিশ কোথাগুন্ডলার মতে, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করাটা বেশ কঠিন, কারণ এর জন্য শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও পরিচিতির প্রয়োজন হয়। লিংক ভেঞ্চারসের একজন বিনিয়োগকারী হার্ভার্ডের স্টার্টআপগুলোর সাথে যুক্ত হতে চাওয়ার পর সোনিশ ও হাদি এই প্ল্যাটফর্মটির প্রাথমিক ধারণা পান।   পরবর্তীতে হার্ভার্ড ইনোভেশন ল্যাবসে বসে তারা এই ধারণাকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন। বোস্টন শহরের বিখ্যাত বিভিন্ন স্কয়ারের (যেমন- হার্ভার্ড স্কয়ার, কেন্ডাল স্কয়ার ইত্যাদি) নামানুসারেই এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে।   তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতেও কাজ করতে চান এই দুই শিক্ষার্থী। 'দ্য আমেরিকান বাজার'-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে হাদি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবেই অনেক প্রতিভাবান উদ্যোক্তা তাদের আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন না; যার ফলে তাদের প্রাথমিক পণ্যগুলোকে অনেক সময় নিচু মানের বলে অবজ্ঞা করা হয়।   সোনিশ আরও জানান যে, বর্তমানে নতুন কোনো কোম্পানি খোলার জন্য শতভাগ নতুন আইডিয়ার চেয়ে সেই আইডিয়াটির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিস্তারের দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। উবার ও লিফটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি সাধারণ আইডিয়াও সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফল হতে পারে।   বোস্টন স্কয়ার ভেঞ্চারসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো অন্তত ১০ লাখ উদ্যোক্তাকে সহায়তা করা। যদিও বোস্টন থেকে এর যাত্রা শুরু হয়েছে, তবে যেকোনো দেশ, বয়স বা অভিজ্ঞতার উদ্যোক্তারাই এতে আবেদন করতে পারবেন। আগামী ২০ নভেম্বর তাদের প্রথম ডেমো ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এরপর প্রতি ছয় সপ্তাহ অন্তর এমন আয়োজন থাকবে।   উদ্যোক্তারা তহবিল সংগ্রহ না করা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্ম তাদের পাশে থাকবে। এই প্রসঙ্গে সোনিশ বলেন, "আমি মনে করি সবারই উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। এখনই এর সঠিক সময়।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কডইনে তাদের প্রথম পোস্টটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ইমপ্রেশন এসেছে, যা এই উদ্যোগের প্রতি তরুণদের ব্যাপক আগ্রহেরই প্রমাণ দেয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৫:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক ডিগ্রির তালিকায় ইউসিএলএর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক ডিগ্রির তালিকায় ইউসিএলএর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং

উচ্চশিক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'এইচইএ গ্রুপ'-এর (HEA Group) সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক স্নাতক ডিগ্রির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।   বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ)-এর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের বার্ষিক মধ্যম বা মিডিয়ান আয় ২ লাখ ২৮ হাজার ৭০৫ ডলার। আয়ের দিক থেকে এটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ-সর্বোচ্চ লাভজনক ডিগ্রি।   ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, যাতায়াত, খাবার ও বইপত্রসহ বছরে খরচ হয় প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ ডলার এবং বহিরাগতদের জন্য খরচ প্রায় ৮৭ হাজার ৭৭০ ডলার। সেই খরচের তুলনায় আয়ের এই পরিসংখ্যান শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চমৎকার বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।   প্রতিষ্ঠানটি মূলত ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়া স্নাতকদের বেতনের ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণটি করেছে। তবে আয়ের দিক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার কেবল ইউসিএলএ শীর্ষ তালিকায় নেই; স্নাতক পাসের মাত্র চার বছরের মধ্যেই বছরে ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করা আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই দৌড়ে রয়েছে।   ক্ল্যারমন্টের অপেক্ষাকৃত ছোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পোমোনা কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের স্নাতকরা বছরে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫১ ডলার আয় করে এক অনন্য সুবিধা ভোগ করছেন। যদিও মাত্র ৭ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার (অ্যাকসেপ্টেন্স রেট) থাকা এই কলেজে পড়াশোনা করতে বছরে প্রায় ৯০ হাজার ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ গুনতে হয়।   আয়ের এই তালিকার একেবারে শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন নর্থ ক্যারোলিনার ডারহামে অবস্থিত ডিউক ইউনিভার্সিটির গণিতের স্নাতকরা। তাদের বার্ষিক মধ্যম আয় ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৯ ডলার। বে এরিয়ার স্কুলগুলো শীর্ষ দশের তালিকায় জায়গা না পেলেও তারা খুব একটা পিছিয়ে নেই। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকদের মধ্যম আয় ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ ডলার এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-এর একই ডিগ্রির স্নাতকরা আয় করছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৩৭৯ ডলার।   প্রযুক্তির বাইরে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি (ইস্ট বে), সান ফ্রান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং স্যামুয়েল মেরিট ইউনিভার্সিটির মতো ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি নার্সিং প্রোগ্রাম থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও বছরে প্রায় দেড় লাখ ডলার আয় করছেন। এইচইএ গ্রুপের বিশ্লেষণ করা প্রায় ২৫ হাজার ব্যাচেলর প্রোগ্রামের মধ্যে এগুলো শীর্ষ ১০০-তে জায়গা করে নিয়েছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচ ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই এখন কলেজ শিক্ষাকে আর অর্থবহ মনে হচ্ছে না। ২০২৪ সালের এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ মনে করেন যে কলেজের শিক্ষা খরচের সমতুল্য মূল্যায়ন দেয়, অন্যদিকে ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৫:১৬
ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অনড় অবস্থান, মার্কিন চাপকে পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান
ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অনড় অবস্থান, মার্কিন চাপকে পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ না করার বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান মজুত অন্য কোনো দেশ বা পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি এই ঘোষণা দেন।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির একটি অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা বিধিমালা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) কাঠামোর আওতায় থেকেই সম্পূর্ণ আইনিভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।   মোহাম্মদ এসলামি আরও জানান, আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি বারবার সামনে আনা হচ্ছে এবং এটিকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের মূল ভিত্তি হওয়ায় এ নিয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।   এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই তাদের জাতীয় উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতিতে পরমাণু প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। তাই ইরানের সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও আইনি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন নেতিবাচক দাবি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা।   মূলত, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মোহাম্মদ এসলামির এই কঠোর বার্তা সামনে এলো। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে আসছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বৈধ অধিকার।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৫:১
নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীকে হ ত্যার পর সামনে এলো স্ত্রীর ভয়াবহ নি র্যাতনের অভিযোগ
নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীকে হ ত্যার পর সামনে এলো স্ত্রীর ভয়াবহ নি র্যাতনের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্প্রতি শ্বশুর-শাশুড়ির গুলিতে নিহত ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীর জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের তথ্য সামনে এসেছে। জোনাথন ম্যাকিনসি নামের ওই ব্যক্তি একসময় তার স্ত্রীর আইভিএফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গর্ভধারণ করেছিলেন।   কিন্তু স্ত্রীর ধারাবাহিক অমানবিক নির্যাতন এবং শারীরিক ধকলের কারণে জন্মের পরপরই তাদের নবজাতক ছেলের মৃত্যু হয় বলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের পর্যালোচনায় উঠে আসা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের একটি আইনি নথিতে জোনাথন তার বিচ্ছিন্ন স্ত্রী ক্যানডিস জ্যাংয়ের বিরুদ্ধে গর্ভাবস্থায় ভয়ংকর সব নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছিলেন।   নথিতে তিনি জানান, একজন গর্ভবতী ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ হিসেবে তার যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং স্ত্রী তাকে বা সন্তানকে আঘাত করতে পারে—এমন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতেন তিনি।   ৪০ বছর বয়সী জোনাথন ম্যাকিনসিকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বে এরিয়ার ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডের পার্কিং লটে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার শ্বশুর শউইয়ং ঝাং এবং শাশুড়ি শিলী চেন (উভয়ের বয়স ৭৭ বছর) পালাক্রমে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। হত্যার অভিযোগে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন।   এখনো তাদের সাজা ঘোষণা করা হয়নি, তবে দোষী সাব্যস্ত হলে প্যারোল বা মুক্তির সুযোগ ছাড়া তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।   আদালতের নথিতে জোনাথন জানান, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের এক দশকেরও বেশি সময় আগে ক্যানডিসের আইভিএফ চিকিৎসার মাধ্যমে সৃষ্ট একটি ভ্রূণ তার গর্ভে স্থাপন করা হয়েছিল। শুরুতে জোনাথন নিজের ডিম্বাণু ব্যবহারের প্রস্তাব দিলেও ক্যানডিস তার ‘ত্রুটিপূর্ণ জেনেটিক্স’-এর কারণ দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।   ২০১৪ সালের নভেম্বরে জোনাথন যখন ইউসি বার্কলেতে পূর্ণকালীন স্নাতক শিক্ষার্থী এবং খণ্ডকালীন টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন, তখন থেকেই নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। জোনাথন অভিযোগ করেন, তিনি গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই ক্যানডিস চরম ঈর্ষান্বিত হয়ে নিয়মিত ঝগড়া করতেন। তাকে বসার ঘরে ফুটনে ঘুমাতে বাধ্য করা হতো এবং একবার ক্যানডিস তার পেটে একটি কাপ ছুঁড়ে মেরেছিলেন।   ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২২ সপ্তাহের গর্ভবতী অবস্থায় জোনাথন ও ক্যানডিস বার্কলে থেকে সান জোসেতে স্থানান্তরিত হন। ওই সময় জোনাথন চরম অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তারপরও মুভার ভাড়া করা সত্ত্বেও ক্যানডিস তাকে দিয়ে ভারী বাক্স ওঠানামা করান, যার ফলে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়।   জোনাথন জানান, হাসপাতালে যাওয়ার পথেও ক্যানডিস তাকে ক্রমাগত গালিগালাজ করতে থাকেন এবং ব্যথার কথা জানালে তাকে ‘চুপ থাকতে’ বলেন। হাসপাতালে তাদের ছেলে রোমিও প্রেস্টন ম্যাকিনসির জন্ম হলেও এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সে মারা যায়। জোনাথনের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, জোর করে ভারী বাক্স ওঠানোর কারণেই তার অকাল প্রসব হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের সন্তানটি মারা যায়।   তবে কেবল গর্ভাবস্থায় নয়, এর আগেও স্ত্রীর ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন জোনাথন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের আগস্টে তাদের মধ্যে এক ঝগড়ার সময় ক্যানডিস একটি ফ্রাইং প্যান দিয়ে জোনাথনের মাথায় আঘাত করেন। মেঝেতে পড়ে থাকা একটি মরা তেলাপোকা না খাওয়া পর্যন্ত তাকে এভাবে পেটানোর হুমকি দেওয়া হয়।   পরবর্তীতে ক্যানডিস ওই মরা তেলাপোকাটিকে জীবাণুমুক্ত করে পুরোটা খেতে তাকে বাধ্য করেছিলেন বলে জোনাথন তার আইনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহে ১০০ ফুট পাহাড় থেকে পড়ে পাথরের খাঁজে আটকে বাঁচলেন ২০ বছরের তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহে ১০০ ফুট পাহাড় থেকে পড়ে পাথরের খাঁজে আটকে বাঁচলেন ২০ বছরের তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে ১০০ ফুট ওপর থেকে পড়ে যান ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। তবে বিস্ময়করভাবে পাহাড়ের গা ও একটি বিশাল পাথরের খাঁজের মাঝখানে আটকে গিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অবিশ্বাস্যভাবে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।   গত বৃহস্পতিবার ভোরে আয়রন কাউন্টির রেড হোলো ট্রেইলহেডে সূর্যোদয় দেখার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর এই ভয়ানক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় শেরিফ অফিস এবং সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।   উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, অন্ধকারের মধ্যেই পাহাড় থেকে ছিটকে পড়ার পর তরুণীটি পাথরের খাঁজে আটকা পড়েন। শেরিফ অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তার মাথায় বেশ গুরুতর আঘাত লাগে। উদ্ধারের সময় তার জ্ঞান থাকলেও দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি মানসিকভাবে বেশ বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন।   এছাড়া তার পা ও হাতে চিড় ধরেছে, পিঠ ও পাঁজরে আঘাত লেগেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র যন্ত্রণায় কাতর ওই তরুণীকে পাথরের সংকীর্ণ খাঁজ থেকে বের করতে উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেন।   উদ্ধার অভিযানের শুরুতে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে ওই তরুণীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার পর তাকে একটি রেসকিউ বাস্কেটে নিরাপদে আটকে রাখা হয়। এরপর খুব সাবধানে তাকে পাহাড় থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। দ্রুত চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি হেলিকপ্টারে করে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।   বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তার শারীরিক অবস্থার সবশেষ বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। এদিকে, আয়রন কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে রেড হোলো এলাকায় সূর্যোদয় দেখতে যাওয়া দর্শনার্থীদের চরম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্ধকার বা কম আলোতে খাড়া পাহাড়ের আশেপাশে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:১৪
বিমানের টিকিটের খরচ কমাতে ‘স্কিপল্যাগিং’, ধরা পড়লে পেতে পারেন নিষেধাজ্ঞা
বিমানের টিকিটের খরচ কমাতে ‘স্কিপল্যাগিং’, ধরা পড়লে পেতে পারেন নিষেধাজ্ঞা

বিমানের টিকিটের দাম বিশ্বজুড়েই ক্রমাগত বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের গড় মূল্য ১৭ শতাংশ বেড়ে ৬২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় ভ্রমণ খরচ কমাতে যাত্রীরা নানা ধরনের ফন্দি আঁটছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত কৌশলটি হলো 'স্কিপল্যাগিং' বা 'হিডেন সিটি' ফ্লাইং।   এই অভিনব পদ্ধতিতে যাত্রীরা তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যের টিকিট কাটলেও সেখানে যান না; বরং মাঝপথে লে-ওভার বা ট্রানজিট শহরেই নেমে যান। কারণ, অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট শহরে সরাসরি যাওয়ার টিকিটের চেয়ে ওই শহরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কোনো গন্তব্যের টিকিট কাটলে খরচ বেশ কম পড়ে।   স্কিপল্যাগড নামের একটি সার্চ ইঞ্জিনের সিইও আক্তারের জামান বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, নিউইয়র্ক থেকে অরল্যান্ডোর সরাসরি ফ্লাইটের ভাড়া হয়তো ৩৫০ ডলার, কিন্তু নিউইয়র্ক থেকে অরল্যান্ডো হয়ে ডালাস যাওয়ার টিকিটের দাম মাত্র ১৭০ ডলার। যাত্রীরা এক্ষেত্রে সস্তা টিকিটটি কিনে অরল্যান্ডোতেই নেমে যান।   স্কিপল্যাগড প্ল্যাটফর্মের পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে প্রায় ৩ লাখ মানুষ এই কৌশল ব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের বেশি সাশ্রয় করেছেন। গড়ে একেকজন যাত্রীর প্রায় ৪৭ শতাংশ বা ১৮০ ডলার পর্যন্ত বেঁচে যায়। বিশেষ করে ভ্রমণের ঠিক আগমুহূর্তে যখন টিকিটের দাম আকাশচুম্বী থাকে, তখন এই কৌশলটি বাজেট-সচেতন যাত্রীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।   তবে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের এই কৌশলের চরম বিরোধী। ডলার ফ্লাইট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেসি নিউগার্টেন জানান, স্কিপল্যাগিংয়ের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর রাজস্ব আয়ে ঘাটতি দেখা দেয় এবং আসন বরাদ্দ মডেলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।   আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মতে, মাঝপথে যাত্রী নেমে গেলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয় এবং ওই শূন্য আসনটি অন্য কোনো জরুরি যাত্রীর কাজে লাগতে পারত। ক্ষুব্ধ এয়ারলাইন্সগুলো ইতোমধ্যে স্কিপল্যাগড ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আমেরিকান এয়ারলাইন্স কপিরাইট লঙ্ঘন ও অবৈধ আয়ের মামলায় স্কিপল্যাগডের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ জিতেছে। এর আগে ইউনাইটেড ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সও একই কারণে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল।   স্কিপল্যাগিং সরাসরি কোনো বেআইনি কাজ না হলেও এটি প্রায় সব এয়ারলাইন্সের শর্তাবলির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গ্লোবাল ট্রাভেল মোমেন্টসের সিইও ডানকান গ্রিনফিল্ড-টার্ক সতর্ক করে বলেন, ধরা পড়লে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের ফ্রিকোয়েন্ট-ফ্লায়ার সুবিধা বাতিল করা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে তাদের ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞাও জারি করতে পারে।   তাই এই কৌশল ব্যবহার করতে হলে যাত্রীদের বেশ কিছু সতর্কতা মানতে হয়। প্রথমত, কোনোভাবেই রাউন্ড-ট্রিপ বা যাওয়া-আসার টিকিট কাটা যাবে না, শুধু একমুখী টিকিট কাটতে হবে। কারণ মাঝপথের কোনো ফ্লাইটে না উঠলে এয়ারলাইন্স পুরো ট্রিপ বাতিল করে দেয়। দ্বিতীয়ত, কোনো বড় চেক-ইন লাগেজ দেওয়া যাবে না; যাত্রীকে শুধু একটি ছোট ব্যাকপ্যাক নিতে হবে যা সিটের নিচে রাখা যায়। এছাড়া টিকিট কাটার সময় লয়ালটি পয়েন্ট বা ফ্রিকোয়েন্ট-ফ্লায়ার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা এবং একই রুটে বারবার এই কৌশল প্রয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৩:৫৬
মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি নিয়োগের অভিযোগ, মাইক্রোসফট-অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি নিয়োগের অভিযোগ, মাইক্রোসফট-অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দেন।   প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের বিদেশি কর্মীদের দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করছে। এই স্থগিতাদেশের ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত তাদের বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) জন্য আর কোনো আবেদন করতে পারবে না।   সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তারা একটি দুর্দান্ত আমেরিকান কোম্পানি, কিন্তু তাদের উচিত চমৎকার আমেরিকান কর্মীদেরই নিয়োগ দেওয়া। তিনি অভিযোগ করেন, আমেরিকান কর্মীদের চাকরিচ্যুত করে তার বদলে বিদেশ থেকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের এনে কাজ করানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।   এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মাইক্রোসফটের পাশাপাশি অ্যাডোবিকেও একইভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই কোম্পানিগুলোর কোনো নতুন বা চলমান 'স্থায়ী শ্রম শংসাপত্র' বা পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন আবেদন আর গ্রহণ বা প্রক্রিয়া করা হবে না।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মাইক্রোসফট প্রায় ৩,৭০০ কর্মীর জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন করেছে, যা তাদের এই ভিসা ব্যবহারকারী পঞ্চম বৃহত্তম নিয়োগকর্তায় পরিণত করেছে। তবে ৯,৩০০টির বেশি আবেদন নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে অ্যামাজন।   শ্রমমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবি প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ১ লাখ 'স্থায়ী শ্রম শংসাপত্র' পেয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দাবি করেন, হিসাব করলে দেখা যায় যে, মাইক্রোসফট প্রতি একজন আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার বিপরীতে দেড় গুণ বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দিয়েছে। এছাড়া এইচ-১বি প্রোগ্রামের আওতায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা একই পদে থাকা মার্কিন কর্মীদের তুলনায় গড়ে ২০ হাজার ডলার কম বেতন পান।   দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল অভিবাসন বিষয়ক বিভিন্ন অ্যাডভোকেসি গ্রুপ, তবে তাদের কারণগুলো ভিন্ন। এই ভিসার শর্ত অনুযায়ী কর্মীদের তাদের নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, যার ফলে কর্মপরিবেশ বা বেতন নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলেও তাদের পক্ষে সহজে চাকরি পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না।   ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের মতো সংস্থাগুলো অবশ্য জেডি ভ্যান্সের এই পদক্ষেপের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে। সংস্থাটির মতে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (STEM), উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সারা বিশ্ব থেকে মেধাবী কর্মীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি লাভবান হয়। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, এমন কঠোর নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে মেধাবীদের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তুলবে, যা শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক প্রতিযোগীদেরই শক্তিশালী করবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৩:৩৪
লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার চীনা গুপ্তচর, অভিযানের আগেই চীনে পালালেন সন্দেহভাজন সহযোগী
লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার চীনা গুপ্তচর, অভিযানের আগেই চীনে পালালেন সন্দেহভাজন সহযোগী

যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারির অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওয়ানিং ঝাং নামের এক কথিত চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তারের পর এবার তার সম্ভাব্য সহযোগীকে খুঁজছে এফবিআই। ফাটাই মিয়াও নামের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এক চীনা বংশোদ্ভূত নির্মাণ ব্যবসায়ী এই গুপ্তচরবৃত্তিতে সহায়তা করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।   তবে তিনি দুই সপ্তাহ আগেই একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) ফ্লাইটে চীনে পাড়ি জমিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এখনও মিয়াওয়ের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনেনি, তবে আদালতের নথিতে তাকে 'ব্যক্তি ১' বা 'ইন্ডিভিজুয়াল ওয়ান' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   গত রোববার দুপুরে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে মিয়াওয়ের ফাঁকা বাড়িতে প্রায় ১০ জন এফবিআই এজেন্ট দরজা ভেঙে তল্লাশি চালায়। মিয়াওয়ের ছেলে জিয়াকি মিয়াও সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার বাবা গত দুই সপ্তাহ ধরে চীনে অবস্থান করছেন, যেখানে তার মা পিঠের চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই ছিলেন। এফবিআইয়ের অভিযান সম্পর্কে জিয়াকি বলেন, শুরুতে ফোন পেয়ে তিনি বিষয়টিকে স্ক্যাম বা প্রতারণা ভেবেছিলেন।   কিন্তু পরে সিসিটিভি ক্যামেরায় সশস্ত্র সরকারি এজেন্টদের দেখতে পেয়ে রিমোট অ্যাপ দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই এজেন্টরা বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রতিবেশীদের বর্ণনার সাথেও এই ঝটিকা অভিযানের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিয়াটলে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারি চালাতে ঝাংকে সহায়তা করেছিলেন মিয়াও। তারা একত্রে একটি এসইউভি ভাড়া করে ওই নেতার ছেলে ও তার পরিবারের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্টের দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যায়, গাড়ি ভাড়ার কাগজে মিয়াওয়ের ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কেডিয়ার একটি বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা তিনি ওই মাসেই বিক্রি করে দেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঝাং এই নজরদারি চালাচ্ছিলেন এবং এর আগে চীনে গিয়ে এই মিশনের বিশদ পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি।   মিয়াওয়ের ছেলে জিয়াকি অবশ্য তার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার মতে, তার বাবা ইংরেজি বলতে পারেন না এবং এ ধরনের জটিল কাজ করার মতো চতুরও নন। তিনি বলেন, তার বাবা সব সময় অন্যদের অনুসরণ করতে পছন্দ করেন এবং হয়তো দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবেই অন্য কোনো শহর ঘোরার উদ্দেশ্যে না বুঝে ঝাংয়ের সাথে সিয়াটলে গিয়েছিলেন।   উল্লেখ্য, মিয়াও ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি কোম্পানির সিইও হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং একমাত্র তিনিই পরিবারের মধ্যে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন।   এদিকে, গত বুধবার আদালত ওয়ানিং ঝাংয়ের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, চীনের একটি অনিবন্ধিত ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার জমা করেছেন এবং তার ভাই চীনা সরকারের হয়ে কাজ করেন, তাই তাকে জামিন দিলে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সান ফ্রান্সিসকো সফরের সময় সরকার-ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের হয়ে কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৩:২০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ কোটি শিশুর নামে খুলল বিনিয়োগ হিসাব, অভিভাবকদের এখন যা করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭ কোটি শিশুর নামে নতুন বিনিয়োগ হিসাব তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছরের কম বয়সী এবং বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকা যোগ্য শিশুদের নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব খোলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।   এই হিসাবের নাম ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট। এটি সাধারণ সঞ্চয় হিসাবের মতো শুধু টাকা জমিয়ে রাখার ব্যবস্থা নয়। মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। শিশুর নামে থাকা অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাড়ার সুযোগ পাবে।   তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব তৈরি হওয়া মানেই শিশুর অ্যাকাউন্টে ১ হাজার ডলার জমা হয়ে গেছে—এমন নয়। অভিভাবককে প্রথমে সন্তানের হিসাবটি দাবি করতে হবে। এরপর যোগ্য শিশুর জন্য সরকারি প্রাথমিক অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশুদের জন্য একবারের ১ হাজার ডলারের সরকারি প্রাথমিক অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অন্য শিশুদের নামে হিসাব থাকলেও তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ১ হাজার ডলার পাবে না।   অভিভাবকরা চাইলে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য এই হিসাবে অতিরিক্ত অর্থও যোগ করতে পারবেন। পরিবার, বন্ধু, নিয়োগদাতা ও কিছু দাতা প্রতিষ্ঠান থেকেও অর্থ আসতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে টাকা বিনিয়োগ করা হলে শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ভিত্তি পেতে পারে।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে কর্মসূচি চালুর পর থেকে ইতোমধ্যে ৪৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ এসব হিসাবে জমা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক অর্থ, পরিবারের দেওয়া অর্থ এবং বিভিন্ন দাতার অর্থ রয়েছে।   এই কর্মসূচির বড় পরিবর্তন এসেছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব খোলার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। আগে অভিভাবকদের নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে হিসাব খুলতে হতো।কিন্তু সেই পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য শিশুদের নামে আগে থেকেই হিসাব তৈরি করে রাখা হচ্ছে।   এখন অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের সন্তানের নামে হিসাব তৈরি হয়েছে কি না এবং সেটি কীভাবে দাবি করতে হবে তা যাচাই করা। হিসাব দাবি করার পর অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবক সেটি পরিচালনা করতে পারবেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।   তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যাংকের সাধারণ সঞ্চয় হিসাবে টাকা রাখলে যে ধরনের নিশ্চয়তা থাকে, শেয়ারভিত্তিক বিনিয়োগে তা থাকে না।বাজারের ওঠানামার কারণে বিনিয়োগের মূল্য বাড়তে বা কমতে পারে। তাই অভিভাবকদের নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। সমর্থকদের মতে, ছোট বয়স থেকেই বিনিয়োগের অভ্যাস তৈরি হলে ভবিষ্যতে শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়তে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, যেসব পরিবার নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ দিতে পারবে, তাদের সন্তানদের হিসাব অন্যদের তুলনায় অনেক দ্রুত বড় হবে।অর্থাৎ সরকারি প্রাথমিক অর্থ সবার জন্য একই হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৩:২০
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ
মাইক্রোসফটের কর্মীদের গ্রিন কার্ড আবেদন বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন, অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মাইক্রোসফটকে বিদেশি কর্মীদের জন্য স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে।   এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রম বিভাগের স্থায়ী শ্রম অনুমোদন কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারে। কর্মসূচিটি স্থগিত হওয়ায় মাইক্রোসফটের জন্য বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে রাখার প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।   তবে এর অর্থ এই নয় যে মাইক্রোসফটের সব বিদেশি কর্মীর এইচ-১বি ভিসা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হয়ে গেছে। নতুন সিদ্ধান্তটি মূলত স্থায়ী বসবাসের পথ বা গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করেছে। ফলে বর্তমানে বৈধ এইচ-১বি অবস্থানে থাকা কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরি বা ভিসা হারাচ্ছেন—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাইক্রোসফট বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের কর্মী ছাঁটাই ও বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই অভিযোগ করেছেন। তবে মাইক্রোসফট মার্কিন কর্মীদের বদলে বিদেশি কর্মী বসিয়েছে—এমন অভিযোগের সব দাবির স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।   এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করতে ভিসা ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।   মাইক্রোসফট বহু বছর ধরে বিদেশি প্রযুক্তি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান। ২০২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত এক দশকে সংখ্যাটি ৫৩ হাজারের বেশি বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।   এর ফলে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে বিষয়টি বিশেষ আগ্রহের কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য দক্ষ কর্মীদের একটি বড় অংশ এইচ-১বি ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন।   একই দিনে প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশাসন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহারের বিষয়েও তদন্তের কথা জানিয়েছে।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং পরে চাকরির মাধ্যমে দেশটিতে থাকার পরিকল্পনা করা তরুণদের জন্য অভিবাসন নীতির পরিবর্তন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   তবে মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে নেওয়া বর্তমান পদক্ষেপের মেয়াদ কতদিন থাকবে এবং কোম্পানিটি কীভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ নিয়ে মাইক্রোসফট ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্ত শুধু মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার ওপর একই ধরনের চাপ তৈরি হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১২:৫৯
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা, নতুন বার্তা উত্তর কোরিয়াকে
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা, নতুন বার্তা উত্তর কোরিয়াকে

দক্ষিণ কোরিয়া বৃহস্পতিবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারে।   এর মাধ্যমে সিউল এমন এক সামরিক সক্ষমতার দিকে এগিয়ে গেল, যা কোরীয় উপদ্বীপের যুদ্ধ-সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া জাপানের কাছাকাছি সাগরে নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর দক্ষিণ কোরিয়া এই পদক্ষেপ নিলেও, পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।   দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। এক বিবৃতিতে তিনি একে দেশের প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে পরীক্ষাটি ঠিক কোথায় পরিচালিত হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি।   সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ত্রটি পরিকল্পিত উচ্চতায় এর বুস্টার রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিচে নেমে আসে এবং লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার আগে উল্লম্ব ও অনুভূমিক উভয়ভাবেই সফলভাবে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। এটি পুরোপুরি প্রস্তুত হলে 'কোরীয় উপদ্বীপের অপারেশন থিয়েটারে' যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম হবে।   প্রেসিডেন্ট লি "নিজেদের শক্তির মাধ্যমেই নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার" ওপর জোর দেন এবং একই দিনে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী হিউনমু-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও পরিদর্শন করেন।   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত আন্তঃকোরীয় সীমান্তের কাছে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড এই ঘটনার জন্য সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে।   তবে পিয়ংইয়ং সেই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো সিউলের ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি নিয়ে উপহাস করেছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি সিউলের প্রতি ক্রমশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন।   কিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ২০১৯ সালে ভেঙে গিয়েছিল। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তাদের "বৈরী" নীতি ত্যাগ করতে হবে এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে সরে আসতে হবে।   এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রেসিডেন্ট লি-এর জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ তিনি শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পৃক্ততার পক্ষে এবং সীমান্তে সেনা আহতের ঘটনায় জনগণের ক্ষোভ সত্ত্বেও উত্তরের প্রতি তার বক্তব্যকে যথেষ্ট নমনীয় রেখেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোরও আহ্বান জানিয়েছেন।   বিশেষ করে, কিম জং উনের সাথে 'খুব ভালো সম্পর্কের' কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে একটি বড় সামরিক মহড়া একতরফাভাবে কমিয়ে আনার পর সিউলের এই স্বনির্ভরতার তাগিদ আরও বেড়েছে।   এর আগে, গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি হাইপারসনিক ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ মিসাইল উৎক্ষেপণ করে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নিয়ে মিত্রদেশগুলোর মধ্যেই মতভেদ দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি তারা এটিকে ৭০০ কিলোমিটার উড়তে দেখেছে, অন্যদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর দূরত্ব ৬৮০ কিলোমিটার বলে মূল্যায়ন করেছে।   উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এই দুই মিত্র দেশের ভিন্ন ভিন্ন হিসাব নিয়ে উপহাস করে দাবি করেন, তারা এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সঠিকভাবে ট্র্যাক করতেই অক্ষম এবং তাই এটি মাঝপথে ধ্বংস করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৩:৩
পণ্য ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ
শিশুর ঘুমের পানিতে ভয়ংকর অ্যালকোহল, যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত একটি ঘুমের পণ্য নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেবিজ ম্যাজিক টি ব্র্যান্ডের বেবি স্লিপ গ্রাইপ ওয়াটার নামের পণ্যটির একটি নির্দিষ্ট ব্যাচ বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পরীক্ষায় পণ্যটিতে লেবেলে উল্লেখ না থাকা তিন ধরনের অ্যালকোহল পাওয়া গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন গত ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রত্যাহারের তথ্য প্রকাশ করেছে।পণ্যটি সাধারণত শিশুদের অস্বস্তি বা ঘুমের সমস্যা কমানোর উদ্দেশ্যে বাজারজাত করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষায় এতে প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ ইথানল, শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ মিথানল এবং শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ আইসোপ্রোপানল পাওয়া গেছে। এসব উপাদান পণ্যের লেবেলে উল্লেখ ছিল না।   বিশেষ করে মিথানল ও আইসোপ্রোপানল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এগুলো শিশুদের খাওয়ানোর জন্য স্বাভাবিক কোনো উপাদান নয়। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বলেছে, পণ্যটি কতটা খাওয়া হয়েছে এবং ব্যবহারকারীর বয়স ও ওজনের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ভর করতে পারে।   প্রত্যাহার করা পণ্যটির ব্যাচ নম্বর ২৫১২২বিডব্লিউ। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ডিসেম্বর ২০২৮। পণ্যটি চার তরল আউন্সের একটি বাদামি রঙের বোতলে ছিল এবং বোতলটি নীল রঙের বাক্সের মধ্যে রাখা হয়। সঙ্গে একটি মুখে খাওয়ানোর সিরিঞ্জও ছিল।   এই ব্যাচের পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যটি সিক্রেটস অব টি নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন বিক্রেতার কাছে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে অ্যামাজনও ছিল। ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার দোকানের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ ছিল না।   এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহারের কারণে অসুস্থ হওয়ার কোনো খবর কোম্পানি পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে বাবা-মা ও অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে।   খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব পরিবার এই পণ্য কিনেছে তাদের প্রথমে বোতলের ব্যাচ নম্বর পরীক্ষা করতে হবে। যদি নম্বর ২৫১২২বিডব্লিউ হয়, তাহলে শিশুকে এটি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। পণ্যটি ফেলে দেওয়া অথবা যেখান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনলাইনে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঘুম, গ্যাস বা অস্বস্তি কমানোর পণ্য সহজেই কেনা যায়। অনেক বাবা-মা পণ্যের নাম ও বিজ্ঞাপন দেখে সেটিকে নিরাপদ মনে করতে পারেন। কিন্তু কোনো শিশুকে দেওয়ার আগে উপাদান, বয়সের উপযোগিতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   শিশুর অস্বাভাবিক ঘুম, খাওয়ার সমস্যা, কান্না বা পেটের অস্বস্তির কারণ বোঝার জন্য প্রয়োজন হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শুধু কোনো অনলাইন পণ্য ব্যবহার করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা না করাই নিরাপদ।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের ঘরে থাকা পণ্যটি পরীক্ষা করা। বিশেষ করে যারা অ্যামাজন বা অন্য অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের পণ্য কেনেন, তাদের পুরোনো অর্ডারের তালিকা দেখেও যাচাই করা উচিত।   খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রত্যাহার কোম্পানির স্বেচ্ছায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং সংস্থার জ্ঞাতসারে পরিচালিত হচ্ছে। পণ্য ব্যবহারের পর কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১২:৪৪
যুক্তরাজ্যে বাড়ি সংস্কারের ভুল সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারী। ছবি: সংগৃহীত
টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ঠিকাদার, বিপদে শ্রবণ প্রতিবন্ধী আলী দম্পতির পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন স্বেচ্ছাসেবীরা

যুক্তরাজ্যে বাড়ি সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে ৭২ হাজার পাউন্ড দিয়েও শেষ পর্যন্ত বিপাকে পড়েছিলেন শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক দম্পতি। নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হন তাঁরা। একপর্যায়ে বাড়িটির কাঠামো এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে দীর্ঘ দুর্ভোগের পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ডিআইওয়াই এসওএস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় নতুনভাবে সাজানো হয়েছে পরিবারটির বাড়ি।   ঘটনাটি ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন শহরের বিটার্ন এলাকার। ভুক্তভোগী দম্পতির নাম আহমেদ আলী ও রিফাত আলী। তাঁরা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী এবং ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তিন সন্তানকে নিয়ে নিজেদের বাড়িটি আরও আরামদায়ক ও পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই স্বপ্নই একসময় বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।   বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ির নিচতলায় নতুন অংশ নির্মাণের জন্য নিজেদের সঞ্চয় থেকে ৭২ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেন আহমেদ ও রিফাত। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তী সময়ে অসমাপ্ত কাজের বিভিন্ন অংশ এতটাই ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া যায় যে সেগুলো ব্যবহার অনিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।   বাড়ির নিচতলার অধিকাংশ জায়গা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তিন সন্তানকে নিয়ে ওপরতলায় সীমিত পরিসরে বসবাস করতে বাধ্য হন দম্পতি। রান্নাঘর ও বাগানও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছিলেন না তাঁরা। ফলে নিজেদের বাড়িতে থেকেও প্রতিদিন নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল পাঁচ সদস্যের পরিবারটিকে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এন্টারটেইনমেন্ট ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িটির বিভিন্ন স্থানে অসমাপ্ত নির্মাণকাজ, খোলা বৈদ্যুতিক তার এবং কাঠামোগত ত্রুটি ছিল। দম্পতির অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে ঠিকাদারের কর্মীরা মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ করে চলে যেতেন এবং দীর্ঘ সময় আর ফিরে আসতেন না।   রিফাতের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণসামগ্রী কেনার কথা বলে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত অর্থও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে সামগ্রী কেনার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো বাড়িতে পৌঁছায়নি। পরে স্থপতির কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এর আগেও আদালতে মামলা হয়েছিল। তবে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   নিজেদের সঞ্চয়ের বড় অংশ হারিয়ে দম্পতি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে ছোট তিন সন্তানকে নিয়ে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাসের অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। আহমেদ জানান, পুরো পরিস্থিতি তাঁদের জন্য এতটাই মানসিক চাপের ছিল যে একপর্যায়ে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।   পরিবারটির দুরবস্থার খবর পৌঁছায় বিবিসির জনপ্রিয় বাড়ি সংস্কারবিষয়ক অনুষ্ঠান ডিআইওয়াই এসওএসের কাছে। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক নিক নোলস এবং তাঁর টিম পরিবারটির বাড়ি পরিদর্শন করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা নির্মাণকাজের গুরুতর ত্রুটিগুলো দেখতে পান।   পরিদর্শনের সময় নিক নোলস বাড়িটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দেয়ালের নিচে বড় ফাঁক দেখতে পান। এতে ভবনটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি পরিবারটিকে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।   নিক নোলস জানান, ডিআইওয়াই এসওএস অনুষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতায় কোনো পরিবারকে নিরাপত্তার কারণে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলার ঘটনা তাঁর জন্যও ছিল ব্যতিক্রমী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রথমেই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোকে নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   এরপর শুরু হয় বাড়িটি নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ। স্থানীয় নির্মাণকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে আসেন। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজের প্রথম দিনেই দেড় শতাধিক দক্ষ কর্মী উপস্থিত হন। কয়েক মাসের কাজ অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ শুরু করেন।   এ উদ্যোগে অংশ নেন বেসিংস্টোক কলেজ অব টেকনোলজির নির্মাণবিষয়ক শিক্ষার্থীরাও। তাঁরা অভিজ্ঞ নির্মাণকর্মীদের সঙ্গে কাঠের কাজ, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং পানির পাইপ স্থাপনের কাজে সহযোগিতা করেন। কলেজটির তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়িটিকে নিরাপদ ও আধুনিক বাসস্থানে রূপান্তর করা হয়।   বাড়িটি সংস্কারের সময় পরিবারটির বিশেষ প্রয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। আহমেদ ও রিফাত দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী হলেও তাঁদের সন্তানরা শুনতে পারে। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ঘরের ভেতরের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়।   বিশেষ করে ঘরের বিভিন্ন অংশে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে নজর রাখা যায়। পাশাপাশি বাড়িতে বিশেষ সতর্কসংকেত ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়। কোনো সমস্যা হলে শব্দের পরিবর্তে বিভিন্ন রঙের আলো জ্বলে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করবে। এতে শ্রবণপ্রতিবন্ধী বাবা-মায়ের জন্য ঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।   বাড়ি সংস্কারের প্রস্তুতিতে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাসা এনভায়রনমেন্টাল সার্ভিসেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে অ্যাসবেস্টস সংক্রান্ত জরিপ পরিচালনা করে। পুরোনো ভবনের সংস্কারকাজে ক্ষতিকর উপাদানের সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।   বাড়ির সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর নতুন পরিবেশ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আহমেদ ও রিফাত। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।   ডিআইওয়াই এসওএস অনুষ্ঠানের ডিজাইনার গ্যাবি ব্ল্যাকম্যান বলেন, সমাজে বিভেদ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও এই প্রকল্পে তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখেছেন। বিপদে পড়া একটি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বহু মানুষ একসঙ্গে কাজ করেছেন।   পরিবারটির বাড়ি সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। তবে সেই উদ্যোগের পুরো ঘটনা নিয়ে নির্মিত ডিআইওয়াই এসওএসের বিশেষ পর্বটি বিবিসি ওয়ানে প্রচারিত হয় ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর।   ৭২ হাজার পাউন্ড ব্যয় করেও যে পরিবারটি নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারছিল না, স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত উদ্যোগে সেই পরিবার এখন নতুনভাবে সাজানো বাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি বাড়ি নির্মাণে ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের মান যাচাই এবং নির্মাণকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে এনেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১২:৩৮
দক্ষ কারিগর
ডিগ্রি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বড় আয়ের সুযোগ, দক্ষ কারিগর খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে নিয়োগদাতারা

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কারিগরি কর্মীর ঘাটতি দ্রুত বড় আকার ধারণ করছে। নির্মাণকাজ, বৈদ্যুতিক কাজ, পাইপের কাজ, কাঠমিস্ত্রির কাজ, যন্ত্রপাতি মেরামত এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কারিগরি পেশায় কর্মীর চাহিদা বাড়লেও সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এই সংকটকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির জন্য নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের কারণে দক্ষ কর্মীর চাহিদা আরও বেড়েছে। এসব প্রকল্পে শুধু কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ নয়, বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রিশিয়ান, পাইপমিস্ত্রি, যন্ত্রপ্রযুক্তিবিদ, কাঠমিস্ত্রি, ধাতুকর্মী এবং অন্যান্য কারিগরি কর্মীর প্রয়োজন হচ্ছে।   নিউ জার্সিও এমন রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যেখানে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কর্মীর সরবরাহ কম। যুক্তরাষ্ট্রের মোট নয়টি রাজ্যকে উচ্চ চাহিদা ও কম সরবরাহের বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নিউ জার্সি ছাড়াও রয়েছে অ্যারিজোনা, কলোরাডো, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাস।   নতুন তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ১৭ লাখ দক্ষ কারিগরি কর্মীর পদ পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান যেমন থাকবে, তেমনি অবসর নেওয়া কর্মীদের জায়গাও পূরণ করতে হবে। কিন্তু বর্তমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাগুলো প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় অনেক কম কর্মী তৈরি করছে।   এ কারণে যারা চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার বাইরে দ্রুত পেশাগত দক্ষতা অর্জন করে আয় করতে চান, তাদের জন্য কারিগরি পেশা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইলেকট্রিশিয়ান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কারিগর, পাইপমিস্ত্রি, যন্ত্রপ্রযুক্তিবিদ এবং নির্মাণকর্মীদের চাহিদা বাড়ছে।তবে শুধু কর্মীর সংখ্যা কম হওয়াই সমস্যা নয়। নিয়োগদাতাদের একটি বড় অংশ বলছে, আবেদনকারী পাওয়া গেলেও অনেকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা বাস্তব কাজের দক্ষতা নেই। নির্মাণ খাতের একটি সাম্প্রতিক জরিপেও কর্মী ঘাটতিকে প্রকল্প বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   আরেকটি বড় বিষয় হলো কর্মীদের বয়স। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষ কারিগরি কর্মীদের একটি বড় অংশ অবসরের বয়সের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে নতুন কর্মী তৈরি না হলে সংকট আরও বাড়তে পারে।   এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তরুণদের কারিগরি পেশায় আনার জন্য প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে প্রশিক্ষণ এবং চাকরির সরাসরি সংযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।   নির্মাণ খাতে সাম্প্রতিক চাকরির পরিসংখ্যানও বিষয়টি পরিষ্কার করছে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ খাতে মোট ১১ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। এর মধ্যে অ-বসতবাড়ি নির্মাণের বিশেষায়িত কারিগরি কাজে ১২ হাজার ৩০০টি পদ বেড়েছে। তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের প্রসারকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে এখন একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে সাধারণ চাকরিতে নিয়োগের গতি ধীর হচ্ছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট দক্ষতা থাকা কর্মীদের জন্য চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে হাতে-কলমে শেখা যায় এমন পেশায় আগামী বছরগুলোতে সুযোগ আরও বাড়তে পারে।   নিউ জার্সি ও নিউইয়র্ক এলাকায় বসবাসকারী প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি নতুন পেশায় যেতে চান, তাহলে স্থানীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সুযোগগুলো খুঁজে দেখা যেতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১২:২৮
নিউ জার্সির বাড়ি
নিউ জার্সিতে কর সহায়তার টাকা পাঠানো শুরু, যোগ্য বাসিন্দাদের ব্যাংক হিসাব দেখার পরামর্শ

নিউ জার্সির বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খবর এসেছে। রাজ্যের ANCHOR সম্পত্তি কর সহায়তা কর্মসূচির টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। আজ ৮ অক্টোবর কিছু যোগ্য বাসিন্দা তাদের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা পড়ার কথা জানিয়েছেন। রাজ্যের কর বিভাগও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ANCHOR অর্থপ্রদান অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে পাঠানো হচ্ছে।   ANCHOR কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নিউ জার্সিতে নিজের প্রধান বাড়িতে বসবাসকারী যোগ্য বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সম্পত্তি করের চাপ কিছুটা কমানো। এবারের সুবিধা নির্ধারণ করা হচ্ছে ২০২৫ সালের বসবাসের তথ্য, আয় ও বয়সের ভিত্তিতে।   রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, এক মিলিয়নের বেশি নিউ জার্সিবাসীর আবেদন অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। যেসব যোগ্য বাসিন্দা আগে ANCHOR সুবিধা পেয়েছেন এবং রাজ্যের পাঠানো নিশ্চিতকরণ চিঠিতে তথ্য সঠিক ছিল, তাদের অনেকের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।   তবে সবার নিয়ম এক নয়। ৬৫ বছরের কম বয়সী অনেক বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা হয়েছে। অন্যদিকে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বাড়ির মালিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিবন্ধী সুবিধা নেওয়া নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের আলাদা করে PAS-1 আবেদন জমা দিতে হয়।   যোগ্য বাড়ির মালিকদের জন্য আয়ের সীমাও রয়েছে। ২০২৫ সালের মোট আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা তার কম হলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি কিন্তু ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের যোগ্য বাড়ির মালিকদের জন্য সুবিধা কম হতে পারে।   যোগ্য ভাড়াটিয়াদের জন্যও ANCHOR সহায়তা রয়েছে। ২০২৫ সালের আয়, নিউ জার্সিতে বসবাস এবং প্রধান বাসস্থানের শর্ত পূরণ করলে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ভাড়াটিয়ারা অতিরিক্ত সুবিধাও পেতে পারেন।   যারা ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থপ্রদানের অবস্থা পরীক্ষা করা। নিউ জার্সির কর বিভাগের সরকারি অবস্থান যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করে আবেদন ও অর্থপ্রদানের তথ্য দেখা যায়।   যাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য আগেরবারের পর পরিবর্তন হয়েছে, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তথ্য পরিবর্তন না করলে আগের তথ্য ব্যবহার করে অর্থ পাঠানো হতে পারে।   এখনও যারা মনে করছেন তারা যোগ্য কিন্তু ANCHOR সুবিধার চিঠি পাননি, তাদের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ANCHOR আবেদনের শেষ সময় ২ নভেম্বর ২০২৬।   তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই ভালো। রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, আবেদন প্রক্রিয়াকরণে অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হলে অর্থ পেতে আরও সময় লাগতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার পর অর্থ পেতে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের জন্যও এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা বাড়ির মালিক অথবা ভাড়াটিয়া হিসেবে নিউ জার্সিতে থাকেন, তাদের ANCHOR সুবিধার যোগ্যতা এবং আবেদন পরিস্থিতি যাচাই করা উচিত।   যারা ইতোমধ্যে অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও পাননি, তারা সরাসরি সরকারি আবেদন-অবস্থা যাচাই ব্যবস্থায় তথ্য দেখতে পারেন। প্রয়োজনে নিউ জার্সি কর বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী সহায়তার নম্বর ১-৮৮৮-২৩৮-১২৩৩।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ANCHOR সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু নিউ জার্সিতে বসবাস করলেই সবাই এই অর্থ পাবেন না। বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রধান বাসস্থানের শর্ত, আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করা হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৩:৩০
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে ৬৬০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে হাবস্পট। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৬৬০ কর্মী ছাঁটাই করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট, চাপে চাকরির বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট একসঙ্গে প্রায় ৬৬০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ৭ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকেন্দ্রিক নতুন ব্যবসায়িক কৌশলের সঙ্গে সাংগঠনিক কাঠামো সামঞ্জস্য করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেন হাবস্পটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিনি রঙ্গন। তবে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ঠিক কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন, তা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।   বস্টন ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাবস্পট দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মার্কেটিং, সেলস, কাস্টমার সার্ভিস এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার তৈরি করে আসছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। শুধু সফটওয়্যার সরবরাহের পরিবর্তে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের সরাসরি ব্যবসায়িক ফলাফল অর্জনে সহায়তা করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।   কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিতে ইয়ামিনি রঙ্গন জানান, গত এক বছরে হাবস্পটের ব্যবসায়িক কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়ছে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য, মূল্য নির্ধারণ এবং গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার পদ্ধতিতে। নতুন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোও পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।   তবে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন হাবস্পটের প্রধান নির্বাহী। তাঁর দাবি, এআই প্রযুক্তি মানুষের কাজ প্রতিস্থাপন করছে কিংবা এআই ব্যবহারের ফলে কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে, এমন কারণে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   তিনি জানান, এটি শুধু পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগও নয়। বরং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মী ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য।   নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাবস্পটের বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক টিম পুনর্গঠন করা হবে। আগে পৃথক সফটওয়্যার ও সেবার ভিত্তিতে টিম পরিচালিত হলেও এখন গ্রাহকদের চাহিদা ও প্রত্যাশিত ফলাফলকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব ভাগ করা হবে। ফলে একটি টিম গ্রাহকসেবার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত থাকবে।   একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কাঠামোও সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের ম্যানেজমেন্ট কমিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত করা হবে। কর্মীদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে একাধিক বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের জটিলতা কমে আসে।   হাবস্পট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন কাঠামো নির্ধারণের পর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার, রাজস্ব অর্জনের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মীর সংখ্যা এবং নেতৃত্বসহ ছয়টি বিষয় বিবেচনা করে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এদিকে চাকরি হারাতে যাওয়া কর্মীদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও ক্যারিয়ার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   হাবস্পটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়া কর্মীরা সাধারণভাবে মূল বেতনের ২০ সপ্তাহের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর চাকরির জন্য অতিরিক্ত এক সপ্তাহের বেতন যোগ হবে। তবে মোট ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ৩০ সপ্তাহের মূল বেতনের সমপরিমাণ হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের জন্য পাঁচ মাসের কোবরা হেলথ ইন্স্যুরেন্স সুবিধার সমপরিমাণ অর্থ এককালীন দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরি হারানো কর্মীরা নতুন চাকরি খুঁজতে ছয় মাসের ক্যারিয়ার সহায়তা পাবেন।   কোম্পানি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা তাদের ব্যবহৃত হাবস্পটের ল্যাপটপ এবং বাসা থেকে কাজের জন্য দেওয়া মনিটর, কিবোর্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জামও রাখতে পারবেন। তবে ল্যাপটপে থাকা প্রতিষ্ঠানের তথ্য দূর থেকে মুছে ফেলা হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ এবং চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।   এদিকে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর হাবস্পটের পরিচালনা পর্ষদ এই পুনর্গঠন পরিকল্পনা অনুমোদন করে। কর্মী ছাঁটাই ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক ৬ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের শেষ নাগাদ পুনর্গঠনের অধিকাংশ কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ২০০৬ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির দুই সাবেক শিক্ষার্থী ব্রায়ান হ্যালিগান ও ধর্মেশ শাহ হাবস্পট প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। বিপণন, বিক্রয়, কাস্টমার সার্ভিস এবং ব্যবসায়িক তথ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সফটওয়্যারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত।   প্রযুক্তি খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেলেও পরিবর্তন আসছে। হাবস্পটের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এসেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, এই ছাঁটাইকে সরাসরি এআইয়ের মাধ্যমে মানুষের চাকরি প্রতিস্থাপনের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   হাবস্পটের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৬৬০ জনকে চাকরি ছাড়তে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কতজন কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাঁদের মধ্যে কেমব্রিজের সদর দপ্তরে কর্মরত কতজন রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১২:৮
২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার বিশিষ্ট লেখক অ্যান কার্সন। ছবি: সংগৃহীত
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কার্সন, সাফল্যের ঘোষণায় বিস্মিত লেখক

চলতি বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন। প্রচলিত সাহিত্যের গণ্ডি পেরিয়ে কবিতা, গদ্য, নাটক ও প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে সুইডিশ একাডেমি। ৭৬ বছর বয়সী এই লেখক তাঁর সৃজনশীল ও পরীক্ষামূলক সাহিত্যকর্মের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত।   সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে প্রাচীন সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংযোগ তৈরি করে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ দেওয়ার জন্য অ্যান কার্সনকে এবারের পুরস্কারে নির্বাচিত করা হয়েছে।   পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে নোবেল পদক ও সনদ তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।   ১৯৫০ সালের ২১ জুন কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান কার্সন। ছোটবেলা থেকেই ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য, দর্শন ও ভাষা তাঁর চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে ক্লাসিক্যাল সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।   কবি হিসেবে পরিচিত হলেও কার্সনের সাহিত্যকর্ম শুধু কবিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর লেখায় একই সঙ্গে পাওয়া যায় কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং দার্শনিক চিন্তার সমন্বয়। কোনো একটি সাহিত্যধারার নিয়ম মেনে লেখার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন ধারাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে নতুন ধরনের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছেন।   অ্যান কার্সনের সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। কবিতার আঙ্গিকে লেখা এই উপন্যাসে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্র ও কাহিনিকে আধুনিক সময়ের প্রেম, পরিচয় ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়েছেন তিনি।   বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র গেরিয়ন। প্রাচীন গ্রিক পুরাণে ডানাওয়ালা লাল রঙের এক দানব হিসেবে পরিচিত এই চরিত্রকে কার্সন তুলে ধরেছেন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। তাঁর লেখায় গেরিয়নের মাধ্যমে মানবিক অনুভূতি, একাকিত্ব, ভালোবাসা এবং আত্মপরিচয়ের জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে।   সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক তৈরির আরেকটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি স্বতন্ত্র রচনা রয়েছে। বিশেষভাবে তৈরি এই বইয়ের রচনাগুলো নির্দিষ্ট কোনো ক্রম অনুসরণ না করেও পড়া যায়। প্রচলিত বইয়ের কাঠামোর বাইরে গিয়ে পাঠককে নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক।   কার্সনের ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’ বইটিও তাঁর বৈচিত্র্যময় লেখার পরিচয় বহন করে। এতে সাহিত্য, শিল্প, ইতিহাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিভিন্ন উপাদান স্থান পেয়েছে। তাঁর অনেক লেখায় নাট্যরীতি ও মঞ্চ পরিবেশনার প্রভাবও দেখা যায়।   প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য আধুনিক পাঠকের কাছে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে অ্যান কার্সনের। গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ নিয়ে তাঁর অনুবাদগ্রন্থ ‘ইফ নট, উইন্টার’ বিশেষভাবে সমাদৃত। এ ছাড়া সফোক্লিস ও ইউরিপিডিসের মতো প্রাচীন গ্রিক নাট্যকারের রচনাও অনুবাদ করেছেন তিনি।   অনুবাদের ক্ষেত্রেও শুধু মূল ভাষার অর্থ তুলে ধরাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি কার্সন। প্রাচীন সাহিত্যকর্মের ভাষা, ভাবনা ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য আধুনিক পাঠকের কাছে কীভাবে নতুন অর্থ তৈরি করতে পারে, সেটিও তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’ নামের দীর্ঘ কবিতায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সাহিত্যিক বিশ্লেষণ এবং কবিতার ভাষা একসঙ্গে ব্যবহার করেছেন তিনি।   লেখালেখির পাশাপাশি দৃশ্যশিল্প, নৃত্য, সংগীত, অপেরা ও থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন অ্যান কার্সন। বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে সাহিত্যের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন তিনি।   তাঁর সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ভাষার ব্যবহার। একটি শব্দের উৎপত্তি, তার অর্থের পরিবর্তন এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শব্দটি কীভাবে নতুন অর্থ তৈরি করে, এসব বিষয় নিয়ে কার্সনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অনেক সময় শব্দের ইতিহাস থেকেই তাঁর নতুন লেখার ভাবনা তৈরি হয়েছে।   দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নোবেল পুরস্কারের আগে তিনি টি এস এলিয়ট পুরস্কার, গ্রিফিন কবিতা পুরস্কার এবং ম্যাকআর্থার ফেলোশিপসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।   সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবনেও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন এই লেখক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত। শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে চলতে সত্তর বছর বয়সের পর বক্সিং অনুশীলনও শুরু করেন তিনি।   নোবেল পাওয়ার খবরটি তাঁকে বিস্মিত করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বর্তমানে আইসল্যান্ডে অবস্থান করা এই লেখক পুরস্কার ঘোষণার সময় সেখানেই ছিলেন।   অ্যান কার্সন সাহিত্যে নোবেলজয়ী দ্বিতীয় কানাডীয় সাহিত্যিক। এর আগে ২০১৩ সালে কানাডার ছোটগল্পকার অ্যালিস মুনরো এই সম্মাননা অর্জন করেন। এবারের পুরস্কারের মাধ্যমে কানাডার সাহিত্য আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ স্বীকৃতি পেল।   ১৯০১ সাল থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সুইডিশ একাডেমি প্রতিবছর বিশ্বসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কারের জন্য একজন লেখককে নির্বাচন করে।   অ্যান কার্সনের সাহিত্যকর্মের বিশেষত্ব হলো, তিনি প্রাচীন সাহিত্যকে শুধু অতীতের ঐতিহ্য হিসেবে দেখেননি। বরং সেই সাহিত্য থেকে চরিত্র, ভাষা ও ভাবনা গ্রহণ করে আধুনিক মানুষের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে প্রকাশ করেছেন।   কবিতা ও গদ্যের প্রচলিত বিভাজন ভেঙে লেখালেখির নতুন পথ তৈরি করাই তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার সেই দীর্ঘ সৃজনশীল যাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১১:৫১
বাজারে পণ্য ও দোকান।
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় নেচার’স ওন হাওয়াইয়ান ব্রেডের নির্দিষ্ট কিছু প্যাকেট বাজার থেকে ফেরত নেওয়া হচ্ছে। কারণ, প্যাকেটের উপাদান তালিকায় দুধ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। দুধে অ্যালার্জি বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা রয়েছে এমন মানুষের জন্য এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেরত নেওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ২০ আউন্সের এক প্যাকেট এবং ৪০ আউন্সের দুই প্যাকেটের নেচার’স ওন হাওয়াইয়ান ব্রেড। এগুলো আরকানসাস, লুইজিয়ানা, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা এবং টেক্সাসের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করা হয়েছিল।   কোম্পানিটি জানিয়েছে, উৎপাদনের নথি পর্যালোচনা করার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। কিছু প্যাকেটের গায়ে দুধকে উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে দুধে অ্যালার্জি থাকা কোনো ব্যক্তি প্যাকেটের তথ্য দেখে বিষয়টি বুঝতে নাও পারেন।   এখন পর্যন্ত এই পণ্য খেয়ে অসুস্থ হওয়ার কোনো ঘটনা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারপরও দুধে অ্যালার্জি রয়েছে এমন মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক কারও দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের বাড়িতে থাকা পাউরুটির প্যাকেটটি পরীক্ষা করে দেখা উচিত। পণ্যের নাম, ওজন, বারকোড এবং ব্যবহারযোগ্যতার তারিখ মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।   ২০ আউন্সের সংশ্লিষ্ট প্যাকেটের বারকোড হলো ০ ৭২২৫০ ৯১৬৬২ ২। সংশ্লিষ্ট প্যাকেটগুলোর ব্যবহারযোগ্যতার তারিখ ৮ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।৪০ আউন্সের দুই প্যাকেটের বারকোড হলো ০ ৭২২৫০ ০০৬৮৩ ৫।   যাদের দুধে অ্যালার্জি নেই, তাদের জন্যও খাবারের প্যাকেটের উপাদান তালিকা দেখে কেনাকাটা করার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন কোনো পণ্য কেনার সময় প্যাকেটের সতর্কতা ও উপাদান তালিকা পরীক্ষা করা উচিত।   যদি কারও বাড়িতে এই ফেরত নেওয়া পণ্য থাকে এবং পরিবারের কারও দুধে অ্যালার্জি থাকে, সেটি খাওয়া উচিত নয়। পণ্যটি ফেলে দেওয়া অথবা যে দোকান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নেওয়া যেতে পারে।   দুধে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় চুলকানি, চাকা ওঠা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।   এই ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে কেনাকাটার সময় শুধু দাম বা মেয়াদ নয়, খাবারের উপাদান এবং সাম্প্রতিক ফেরত নেওয়ার বিজ্ঞপ্তিও দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যালার্জি থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সতর্কতা আরও বেশি জরুরি।খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া কোম্পানির জ্ঞাতসারে পরিচালিত হচ্ছে। ভোক্তারা প্রয়োজনে কোম্পানির গ্রাহকসেবা নম্বর ১-৮৬৬-২৪৫-৮৯২১-এ যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১১:৩১