সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মূলধনের অভাবে থেমে যাবে না স্বপ্ন, তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড শিক্ষার্থী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৫:৩৫
মূলধনের অভাবে থেমে যাবে না স্বপ্ন, তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড শিক্ষার্থী
মূলধনের অভাবে থেমে যাবে না স্বপ্ন, তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড শিক্ষার্থী

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থী, সোনিশ কোথাগুন্ডলা এবং হাদি আব্দুল, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য ‘বোস্টন স্কয়ার ভেঞ্চারস’ (Boston Square Ventures) নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো—শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, কম্পিউটিং রিসোর্স, মেন্টরশিপ এবং স্টার্টআপ নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা।

 

প্ল্যাটফর্মটির প্রথম কোহর্টের (Cohort 1) আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যার কার্যক্রম ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা ১ লাখ ডলার সমমূল্যের কম্পিউট ক্রেডিট, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, মেন্টরশিপ, সাপ্তাহিক চেক-ইন, পিচ প্রস্তুতির সুযোগ এবং একটি ডেমো ডে-তে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

 

উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে সবচেয়ে বড় সমস্যা আইডিয়ার অভাব নয়, বরং সেটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অসম বণ্টন। হাদি আব্দুল জানান, অনেকেরই চমৎকার আইডিয়া ও দক্ষতা থাকলেও তারা সঠিক মানুষদের সাথে যুক্ত হতে পারেন না।

 

অন্যদিকে সোনিশ কোথাগুন্ডলার মতে, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করাটা বেশ কঠিন, কারণ এর জন্য শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও পরিচিতির প্রয়োজন হয়। লিংক ভেঞ্চারসের একজন বিনিয়োগকারী হার্ভার্ডের স্টার্টআপগুলোর সাথে যুক্ত হতে চাওয়ার পর সোনিশ ও হাদি এই প্ল্যাটফর্মটির প্রাথমিক ধারণা পান।

 

পরবর্তীতে হার্ভার্ড ইনোভেশন ল্যাবসে বসে তারা এই ধারণাকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন। বোস্টন শহরের বিখ্যাত বিভিন্ন স্কয়ারের (যেমন- হার্ভার্ড স্কয়ার, কেন্ডাল স্কয়ার ইত্যাদি) নামানুসারেই এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে।

 

তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতেও কাজ করতে চান এই দুই শিক্ষার্থী। 'দ্য আমেরিকান বাজার'-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে হাদি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবেই অনেক প্রতিভাবান উদ্যোক্তা তাদের আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন না; যার ফলে তাদের প্রাথমিক পণ্যগুলোকে অনেক সময় নিচু মানের বলে অবজ্ঞা করা হয়।

 

সোনিশ আরও জানান যে, বর্তমানে নতুন কোনো কোম্পানি খোলার জন্য শতভাগ নতুন আইডিয়ার চেয়ে সেই আইডিয়াটির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিস্তারের দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। উবার ও লিফটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি সাধারণ আইডিয়াও সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফল হতে পারে।

 

বোস্টন স্কয়ার ভেঞ্চারসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো অন্তত ১০ লাখ উদ্যোক্তাকে সহায়তা করা। যদিও বোস্টন থেকে এর যাত্রা শুরু হয়েছে, তবে যেকোনো দেশ, বয়স বা অভিজ্ঞতার উদ্যোক্তারাই এতে আবেদন করতে পারবেন। আগামী ২০ নভেম্বর তাদের প্রথম ডেমো ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এরপর প্রতি ছয় সপ্তাহ অন্তর এমন আয়োজন থাকবে।

 

উদ্যোক্তারা তহবিল সংগ্রহ না করা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্ম তাদের পাশে থাকবে। এই প্রসঙ্গে সোনিশ বলেন, "আমি মনে করি সবারই উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। এখনই এর সঠিক সময়।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কডইনে তাদের প্রথম পোস্টটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ইমপ্রেশন এসেছে, যা এই উদ্যোগের প্রতি তরুণদের ব্যাপক আগ্রহেরই প্রমাণ দেয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে  হ ত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী ২০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্ত
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে হ ত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী ২০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দেল রিও শহরে পাঁচ সন্তানের এক মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী তরুণী আমায়া কুকি ডিয়াজ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ২৫ জুন দিনেদুপুরে ক্যারোলিন "কারো" পেনা নামের ওই নারীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে কুকি, তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়। এই সপ্তাহেই বিশাল অঙ্কের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর মঙ্গলবার কুকি কারামুক্ত হন।   ভ্যাল ভার্দে কাউন্টি শেরিফ অফিস ও সংশোধনাগারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কুকির ২০ লাখ ডলারের জামিন বন্ডের জন্য ডিয়াজ পরিবার নগদ ২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। তবে তার বোন কিটি এখনও কারাগারেই বন্দি রয়েছেন। এল অ্যামিগো বন্ডিং নামের যে প্রতিষ্ঠানটি জামিনের ব্যবস্থা করেছে, তাদের একজন প্রতিনিধি জানান, জামিনের শর্ত ও বিস্তারিত তথ্য শুধু ওই পরিবারের মধ্যেই গোপন রাখা হয়েছে।   তবে ওই প্রতিনিধি সতর্ক করে বলেন, "ইতোমধ্যেই নানা সমস্যা শুরু হয়েছে। কেউ খুন হলে ঝামেলা হবেই। তাই ডিয়াজ পরিবারকে এখন অনেকটা আড়ালে থাকতে হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা জানি শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারই জয়লাভ করবে।"   মামলার অভিযোগপত্র থেকে এই হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ পাওয়া যায়। ফাজ পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ক্যারোলিন পেনা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তবে তদন্তকারীদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে আসার পরপরই কুকি ও কিটি সেখানে উপস্থিত হন।     ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কালো ক্রাইসলার গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডান হাতে একটি ছুরিজাতীয় বস্তু নিয়ে পেনার ওপর চড়াও হন এবং তার পিঠে আঘাত করেন। পুলিশের তথ্যমতে, এসময় কিটি এবং ফাজও পেনার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে পালিয়ে যায়। পরে পেনার ভাতিজা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।   হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়ার সময় ডিয়াজ বোনদের মুখে বিকৃত হাসি দেখা গিয়েছিল, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই নৃশংস অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। তবে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল বা পেনার সঙ্গে তাদের কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা এখনো পরিষ্কার করেনি পুলিশ।   আগামী ৪ নভেম্বর কুকির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে এক শুনানিতে কুকি ও কিটি উভয়ের জামিন ৫০ লাখ ডলার থেকে কমিয়ে ২০ লাখ ডলার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, এই মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করা ফাজ বর্তমানে ৫২ লাখ ডলারের জামিন বন্ডে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী ১১ ডিসেম্বর তার প্রাক-বিচার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৬:১৭
ভিসা থাকলেও পাসপোর্টের এই ৮ ভুলে আটকে যেতে পারেন বিমানবন্দরে

ভিসা থাকলেও পাসপোর্টের এই ৮ ভুলে আটকে যেতে পারেন বিমানবন্দরে

মূলধনের অভাবে থেমে যাবে না স্বপ্ন, তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড শিক্ষার্থী

মূলধনের অভাবে থেমে যাবে না স্বপ্ন, তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক ডিগ্রির তালিকায় ইউসিএলএর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক ডিগ্রির তালিকায় ইউসিএলএর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং

নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীকে হ ত্যার পর সামনে এলো স্ত্রীর ভয়াবহ নি র্যাতনের অভিযোগ
নিউইয়র্ক টাইমসের ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীকে হ ত্যার পর সামনে এলো স্ত্রীর ভয়াবহ নি র্যাতনের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্প্রতি শ্বশুর-শাশুড়ির গুলিতে নিহত ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক ট্রান্সজেন্ডার নির্বাহীর জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের তথ্য সামনে এসেছে। জোনাথন ম্যাকিনসি নামের ওই ব্যক্তি একসময় তার স্ত্রীর আইভিএফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গর্ভধারণ করেছিলেন।   কিন্তু স্ত্রীর ধারাবাহিক অমানবিক নির্যাতন এবং শারীরিক ধকলের কারণে জন্মের পরপরই তাদের নবজাতক ছেলের মৃত্যু হয় বলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের পর্যালোচনায় উঠে আসা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের একটি আইনি নথিতে জোনাথন তার বিচ্ছিন্ন স্ত্রী ক্যানডিস জ্যাংয়ের বিরুদ্ধে গর্ভাবস্থায় ভয়ংকর সব নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছিলেন।   নথিতে তিনি জানান, একজন গর্ভবতী ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ হিসেবে তার যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং স্ত্রী তাকে বা সন্তানকে আঘাত করতে পারে—এমন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতেন তিনি।   ৪০ বছর বয়সী জোনাথন ম্যাকিনসিকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বে এরিয়ার ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডের পার্কিং লটে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার শ্বশুর শউইয়ং ঝাং এবং শাশুড়ি শিলী চেন (উভয়ের বয়স ৭৭ বছর) পালাক্রমে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। হত্যার অভিযোগে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন।   এখনো তাদের সাজা ঘোষণা করা হয়নি, তবে দোষী সাব্যস্ত হলে প্যারোল বা মুক্তির সুযোগ ছাড়া তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।   আদালতের নথিতে জোনাথন জানান, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের এক দশকেরও বেশি সময় আগে ক্যানডিসের আইভিএফ চিকিৎসার মাধ্যমে সৃষ্ট একটি ভ্রূণ তার গর্ভে স্থাপন করা হয়েছিল। শুরুতে জোনাথন নিজের ডিম্বাণু ব্যবহারের প্রস্তাব দিলেও ক্যানডিস তার ‘ত্রুটিপূর্ণ জেনেটিক্স’-এর কারণ দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।   ২০১৪ সালের নভেম্বরে জোনাথন যখন ইউসি বার্কলেতে পূর্ণকালীন স্নাতক শিক্ষার্থী এবং খণ্ডকালীন টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন, তখন থেকেই নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। জোনাথন অভিযোগ করেন, তিনি গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই ক্যানডিস চরম ঈর্ষান্বিত হয়ে নিয়মিত ঝগড়া করতেন। তাকে বসার ঘরে ফুটনে ঘুমাতে বাধ্য করা হতো এবং একবার ক্যানডিস তার পেটে একটি কাপ ছুঁড়ে মেরেছিলেন।   ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২২ সপ্তাহের গর্ভবতী অবস্থায় জোনাথন ও ক্যানডিস বার্কলে থেকে সান জোসেতে স্থানান্তরিত হন। ওই সময় জোনাথন চরম অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তারপরও মুভার ভাড়া করা সত্ত্বেও ক্যানডিস তাকে দিয়ে ভারী বাক্স ওঠানামা করান, যার ফলে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়।   জোনাথন জানান, হাসপাতালে যাওয়ার পথেও ক্যানডিস তাকে ক্রমাগত গালিগালাজ করতে থাকেন এবং ব্যথার কথা জানালে তাকে ‘চুপ থাকতে’ বলেন। হাসপাতালে তাদের ছেলে রোমিও প্রেস্টন ম্যাকিনসির জন্ম হলেও এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সে মারা যায়। জোনাথনের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, জোর করে ভারী বাক্স ওঠানোর কারণেই তার অকাল প্রসব হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের সন্তানটি মারা যায়।   তবে কেবল গর্ভাবস্থায় নয়, এর আগেও স্ত্রীর ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন জোনাথন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের আগস্টে তাদের মধ্যে এক ঝগড়ার সময় ক্যানডিস একটি ফ্রাইং প্যান দিয়ে জোনাথনের মাথায় আঘাত করেন। মেঝেতে পড়ে থাকা একটি মরা তেলাপোকা না খাওয়া পর্যন্ত তাকে এভাবে পেটানোর হুমকি দেওয়া হয়।   পরবর্তীতে ক্যানডিস ওই মরা তেলাপোকাটিকে জীবাণুমুক্ত করে পুরোটা খেতে তাকে বাধ্য করেছিলেন বলে জোনাথন তার আইনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহে ১০০ ফুট পাহাড় থেকে পড়ে পাথরের খাঁজে আটকে বাঁচলেন ২০ বছরের তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহে ১০০ ফুট পাহাড় থেকে পড়ে পাথরের খাঁজে আটকে বাঁচলেন ২০ বছরের তরুণী

মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি নিয়োগের অভিযোগ, মাইক্রোসফট-অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি নিয়োগের অভিযোগ, মাইক্রোসফট-অ্যাডোবির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার চীনা গুপ্তচর, অভিযানের আগেই চীনে পালালেন সন্দেহভাজন সহযোগী

লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার চীনা গুপ্তচর, অভিযানের আগেই চীনে পালালেন সন্দেহভাজন সহযোগী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ কোটি শিশুর নামে খুলল বিনিয়োগ হিসাব, অভিভাবকদের এখন যা করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭ কোটি শিশুর নামে নতুন বিনিয়োগ হিসাব তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছরের কম বয়সী এবং বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকা যোগ্য শিশুদের নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব খোলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।   এই হিসাবের নাম ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট। এটি সাধারণ সঞ্চয় হিসাবের মতো শুধু টাকা জমিয়ে রাখার ব্যবস্থা নয়। মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। শিশুর নামে থাকা অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাড়ার সুযোগ পাবে।   তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব তৈরি হওয়া মানেই শিশুর অ্যাকাউন্টে ১ হাজার ডলার জমা হয়ে গেছে—এমন নয়। অভিভাবককে প্রথমে সন্তানের হিসাবটি দাবি করতে হবে। এরপর যোগ্য শিশুর জন্য সরকারি প্রাথমিক অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশুদের জন্য একবারের ১ হাজার ডলারের সরকারি প্রাথমিক অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অন্য শিশুদের নামে হিসাব থাকলেও তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ১ হাজার ডলার পাবে না।   অভিভাবকরা চাইলে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য এই হিসাবে অতিরিক্ত অর্থও যোগ করতে পারবেন। পরিবার, বন্ধু, নিয়োগদাতা ও কিছু দাতা প্রতিষ্ঠান থেকেও অর্থ আসতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে টাকা বিনিয়োগ করা হলে শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ভিত্তি পেতে পারে।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে কর্মসূচি চালুর পর থেকে ইতোমধ্যে ৪৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ এসব হিসাবে জমা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক অর্থ, পরিবারের দেওয়া অর্থ এবং বিভিন্ন দাতার অর্থ রয়েছে।   এই কর্মসূচির বড় পরিবর্তন এসেছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব খোলার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। আগে অভিভাবকদের নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে হিসাব খুলতে হতো।কিন্তু সেই পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য শিশুদের নামে আগে থেকেই হিসাব তৈরি করে রাখা হচ্ছে।   এখন অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের সন্তানের নামে হিসাব তৈরি হয়েছে কি না এবং সেটি কীভাবে দাবি করতে হবে তা যাচাই করা। হিসাব দাবি করার পর অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবক সেটি পরিচালনা করতে পারবেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।   তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যাংকের সাধারণ সঞ্চয় হিসাবে টাকা রাখলে যে ধরনের নিশ্চয়তা থাকে, শেয়ারভিত্তিক বিনিয়োগে তা থাকে না।বাজারের ওঠানামার কারণে বিনিয়োগের মূল্য বাড়তে বা কমতে পারে। তাই অভিভাবকদের নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। সমর্থকদের মতে, ছোট বয়স থেকেই বিনিয়োগের অভ্যাস তৈরি হলে ভবিষ্যতে শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়তে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, যেসব পরিবার নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ দিতে পারবে, তাদের সন্তানদের হিসাব অন্যদের তুলনায় অনেক দ্রুত বড় হবে।অর্থাৎ সরকারি প্রাথমিক অর্থ সবার জন্য একই হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৩:২০
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ

মাইক্রোসফটের কর্মীদের গ্রিন কার্ড আবেদন বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন, অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ

নিউ জার্সির বাড়ি

নিউ জার্সিতে কর সহায়তার টাকা পাঠানো শুরু, যোগ্য বাসিন্দাদের ব্যাংক হিসাব দেখার পরামর্শ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে ৬৬০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে হাবস্পট। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৬৬০ কর্মী ছাঁটাই করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাবস্পট, চাপে চাকরির বাজার

0 Comments