সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার বিশিষ্ট লেখক অ্যান কার্সন। ছবি: সংগৃহীত
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কার্সন, সাফল্যের ঘোষণায় বিস্মিত লেখক

চলতি বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন। প্রচলিত সাহিত্যের গণ্ডি পেরিয়ে কবিতা, গদ্য, নাটক ও প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে সুইডিশ একাডেমি। ৭৬ বছর বয়সী এই লেখক তাঁর সৃজনশীল ও পরীক্ষামূলক সাহিত্যকর্মের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত।   সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে প্রাচীন সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংযোগ তৈরি করে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ দেওয়ার জন্য অ্যান কার্সনকে এবারের পুরস্কারে নির্বাচিত করা হয়েছে।   পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে নোবেল পদক ও সনদ তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।   ১৯৫০ সালের ২১ জুন কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান কার্সন। ছোটবেলা থেকেই ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য, দর্শন ও ভাষা তাঁর চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে ক্লাসিক্যাল সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।   কবি হিসেবে পরিচিত হলেও কার্সনের সাহিত্যকর্ম শুধু কবিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর লেখায় একই সঙ্গে পাওয়া যায় কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ এবং দার্শনিক চিন্তার সমন্বয়। কোনো একটি সাহিত্যধারার নিয়ম মেনে লেখার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন ধারাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে নতুন ধরনের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছেন।   অ্যান কার্সনের সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। কবিতার আঙ্গিকে লেখা এই উপন্যাসে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্র ও কাহিনিকে আধুনিক সময়ের প্রেম, পরিচয় ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়েছেন তিনি।   বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র গেরিয়ন। প্রাচীন গ্রিক পুরাণে ডানাওয়ালা লাল রঙের এক দানব হিসেবে পরিচিত এই চরিত্রকে কার্সন তুলে ধরেছেন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। তাঁর লেখায় গেরিয়নের মাধ্যমে মানবিক অনুভূতি, একাকিত্ব, ভালোবাসা এবং আত্মপরিচয়ের জটিলতা প্রকাশ পেয়েছে।   সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক তৈরির আরেকটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি স্বতন্ত্র রচনা রয়েছে। বিশেষভাবে তৈরি এই বইয়ের রচনাগুলো নির্দিষ্ট কোনো ক্রম অনুসরণ না করেও পড়া যায়। প্রচলিত বইয়ের কাঠামোর বাইরে গিয়ে পাঠককে নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক।   কার্সনের ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’ বইটিও তাঁর বৈচিত্র্যময় লেখার পরিচয় বহন করে। এতে সাহিত্য, শিল্প, ইতিহাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিভিন্ন উপাদান স্থান পেয়েছে। তাঁর অনেক লেখায় নাট্যরীতি ও মঞ্চ পরিবেশনার প্রভাবও দেখা যায়।   প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য আধুনিক পাঠকের কাছে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে অ্যান কার্সনের। গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ নিয়ে তাঁর অনুবাদগ্রন্থ ‘ইফ নট, উইন্টার’ বিশেষভাবে সমাদৃত। এ ছাড়া সফোক্লিস ও ইউরিপিডিসের মতো প্রাচীন গ্রিক নাট্যকারের রচনাও অনুবাদ করেছেন তিনি।   অনুবাদের ক্ষেত্রেও শুধু মূল ভাষার অর্থ তুলে ধরাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি কার্সন। প্রাচীন সাহিত্যকর্মের ভাষা, ভাবনা ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্য আধুনিক পাঠকের কাছে কীভাবে নতুন অর্থ তৈরি করতে পারে, সেটিও তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’ নামের দীর্ঘ কবিতায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সাহিত্যিক বিশ্লেষণ এবং কবিতার ভাষা একসঙ্গে ব্যবহার করেছেন তিনি।   লেখালেখির পাশাপাশি দৃশ্যশিল্প, নৃত্য, সংগীত, অপেরা ও থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন অ্যান কার্সন। বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে সাহিত্যের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন তিনি।   তাঁর সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ভাষার ব্যবহার। একটি শব্দের উৎপত্তি, তার অর্থের পরিবর্তন এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপটে শব্দটি কীভাবে নতুন অর্থ তৈরি করে, এসব বিষয় নিয়ে কার্সনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অনেক সময় শব্দের ইতিহাস থেকেই তাঁর নতুন লেখার ভাবনা তৈরি হয়েছে।   দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নোবেল পুরস্কারের আগে তিনি টি এস এলিয়ট পুরস্কার, গ্রিফিন কবিতা পুরস্কার এবং ম্যাকআর্থার ফেলোশিপসহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।   সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবনেও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন এই লেখক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত। শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে চলতে সত্তর বছর বয়সের পর বক্সিং অনুশীলনও শুরু করেন তিনি।   নোবেল পাওয়ার খবরটি তাঁকে বিস্মিত করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বর্তমানে আইসল্যান্ডে অবস্থান করা এই লেখক পুরস্কার ঘোষণার সময় সেখানেই ছিলেন।   অ্যান কার্সন সাহিত্যে নোবেলজয়ী দ্বিতীয় কানাডীয় সাহিত্যিক। এর আগে ২০১৩ সালে কানাডার ছোটগল্পকার অ্যালিস মুনরো এই সম্মাননা অর্জন করেন। এবারের পুরস্কারের মাধ্যমে কানাডার সাহিত্য আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ স্বীকৃতি পেল।   ১৯০১ সাল থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সুইডিশ একাডেমি প্রতিবছর বিশ্বসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কারের জন্য একজন লেখককে নির্বাচন করে।   অ্যান কার্সনের সাহিত্যকর্মের বিশেষত্ব হলো, তিনি প্রাচীন সাহিত্যকে শুধু অতীতের ঐতিহ্য হিসেবে দেখেননি। বরং সেই সাহিত্য থেকে চরিত্র, ভাষা ও ভাবনা গ্রহণ করে আধুনিক মানুষের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে প্রকাশ করেছেন।   কবিতা ও গদ্যের প্রচলিত বিভাজন ভেঙে লেখালেখির নতুন পথ তৈরি করাই তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার সেই দীর্ঘ সৃজনশীল যাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১১:৫১
বাজারে পণ্য ও দোকান।
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় নেচার’স ওন হাওয়াইয়ান ব্রেডের নির্দিষ্ট কিছু প্যাকেট বাজার থেকে ফেরত নেওয়া হচ্ছে। কারণ, প্যাকেটের উপাদান তালিকায় দুধ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। দুধে অ্যালার্জি বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা রয়েছে এমন মানুষের জন্য এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেরত নেওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ২০ আউন্সের এক প্যাকেট এবং ৪০ আউন্সের দুই প্যাকেটের নেচার’স ওন হাওয়াইয়ান ব্রেড। এগুলো আরকানসাস, লুইজিয়ানা, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা এবং টেক্সাসের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করা হয়েছিল।   কোম্পানিটি জানিয়েছে, উৎপাদনের নথি পর্যালোচনা করার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। কিছু প্যাকেটের গায়ে দুধকে উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে দুধে অ্যালার্জি থাকা কোনো ব্যক্তি প্যাকেটের তথ্য দেখে বিষয়টি বুঝতে নাও পারেন।   এখন পর্যন্ত এই পণ্য খেয়ে অসুস্থ হওয়ার কোনো ঘটনা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারপরও দুধে অ্যালার্জি রয়েছে এমন মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক কারও দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের বাড়িতে থাকা পাউরুটির প্যাকেটটি পরীক্ষা করে দেখা উচিত। পণ্যের নাম, ওজন, বারকোড এবং ব্যবহারযোগ্যতার তারিখ মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।   ২০ আউন্সের সংশ্লিষ্ট প্যাকেটের বারকোড হলো ০ ৭২২৫০ ৯১৬৬২ ২। সংশ্লিষ্ট প্যাকেটগুলোর ব্যবহারযোগ্যতার তারিখ ৮ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।৪০ আউন্সের দুই প্যাকেটের বারকোড হলো ০ ৭২২৫০ ০০৬৮৩ ৫।   যাদের দুধে অ্যালার্জি নেই, তাদের জন্যও খাবারের প্যাকেটের উপাদান তালিকা দেখে কেনাকাটা করার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন কোনো পণ্য কেনার সময় প্যাকেটের সতর্কতা ও উপাদান তালিকা পরীক্ষা করা উচিত।   যদি কারও বাড়িতে এই ফেরত নেওয়া পণ্য থাকে এবং পরিবারের কারও দুধে অ্যালার্জি থাকে, সেটি খাওয়া উচিত নয়। পণ্যটি ফেলে দেওয়া অথবা যে দোকান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নেওয়া যেতে পারে।   দুধে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় চুলকানি, চাকা ওঠা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।   এই ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে কেনাকাটার সময় শুধু দাম বা মেয়াদ নয়, খাবারের উপাদান এবং সাম্প্রতিক ফেরত নেওয়ার বিজ্ঞপ্তিও দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যালার্জি থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সতর্কতা আরও বেশি জরুরি।খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া কোম্পানির জ্ঞাতসারে পরিচালিত হচ্ছে। ভোক্তারা প্রয়োজনে কোম্পানির গ্রাহকসেবা নম্বর ১-৮৬৬-২৪৫-৮৯২১-এ যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১১:৩১
যুক্তরাজ্যে ফেরার পর লন্ডনে মালালার সঙ্গে ডিনারে অংশ নিলেন প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে মেগান মার্কেল, ছবি ভাইরাল

যুক্তরাজ্যে ফেরার পর লন্ডনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা গেল ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলকে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী পাকিস্তানি শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। লন্ডনের অভিজাত মেফেয়ার এলাকার পাঁচ তারকা হোটেল ক্ল্যারিজেসে তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে।   বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী মেগান মার্কেল এবং ২৯ বছর বয়সী মালালা ইউসুফজাইকে ক্ল্যারিজেস হোটেলের একটি রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে দেখা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন একটি টেবিলে মুখোমুখি বসে কথা বলছেন। তাঁদের পাশের টেবিলে বসা এক ব্যক্তি ভিডিওটি ধারণ করে অনলাইনে প্রকাশ করেন। পরে সেটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেগান মার্কেল সাদা রঙের পোশাক পরেছিলেন। অন্যদিকে মালালার পরনে ছিল হালকা বাদামি রঙের কোট। রাতের খাবারের সময় দুজনকে স্বাভাবিক ও আন্তরিকভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তবে তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু জানা যায়নি।   মেগান ও মালালার এই সাক্ষাৎ অবশ্য নতুন কোনো পরিচয়ের সূচনা নয়। এর আগেও নারী শিক্ষা ও মেয়েদের অধিকার নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা।   ২০২০ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনলাইন আলোচনায় মালালার সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন মেগান মার্কেল ও তাঁর স্বামী প্রিন্স হ্যারি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনুষ্ঠিত সেই আলোচনায় বিশ্বজুড়ে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার এবং তাদের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   ওই আলোচনায় মেগান ও হ্যারি নিজেদের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে মহামারির সময় ঘরে থাকার ফলে সন্তান আর্চির বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তাঁরা।   মালালা সে সময় জানিয়েছিলেন, মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে তাঁর ও মেগানের দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে। শিক্ষার সুযোগ বাড়লে শুধু মেয়েরা নয়, পুরো সমাজ উপকৃত হয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।   ছয় বছর পর লন্ডনে তাঁদের আবার একসঙ্গে দেখা গেল। তবে এবারের সাক্ষাৎ কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নতুন কোনো যৌথ উদ্যোগ বা প্রকল্প নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন, এমন তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে মেগান মার্কেলের লন্ডনে উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার কারণে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট প্রিন্স হ্যারি ও তাঁদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি এবং প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরেন মেগান।   কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছিলেন তাঁরা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যেও সময় কাটাচ্ছেন এই দম্পতি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে তাঁদের বাসভবনও রয়েছে।   ২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর মেগান ও হ্যারি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। এরপর রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এবং যুক্তরাজ্যে যাতায়াত নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর মেগানকে তুলনামূলক কম প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। তবে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সময় কাটানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে।   গত ২১ সেপ্টেম্বর অক্সফোর্ডশায়ারে মার্কিন টেলিভিশন উপস্থাপক এলেন ডিজেনারেস এবং তাঁর স্ত্রী পোর্টিয়া ডি রসির সঙ্গে দেখা করেন মেগান। তাঁরা বারফোর্ডের কাছে একটি রেস্টুরেন্টে সময় কাটান বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়।   এরপর ২ অক্টোবর প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে কটসওল্ডস এলাকার ফকল্যান্ড আর্মস নামে একটি পাবেও তাঁকে দেখা যায়।   তবে লন্ডনে ফেরার পর মালালার সঙ্গে ডিনারের ঘটনাটিকেই তাঁর প্রথম প্রকাশ্যে আসা লন্ডন সফর হিসেবে উল্লেখ করেছে পেজ সিক্স ও পিপল।   অন্যদিকে মালালা ইউসুফজাই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। পাকিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্দোলনের কারণে ২০১২ সালে তালেবানের হামলার শিকার হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তাঁকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়েছিল।   পরে তিনি যুক্তরাজ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। নারী শিক্ষা ও মানবাধিকারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান মালালা। তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হিসেবে পরিচিত।   বর্তমানে মালালা ফান্ডের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।   অন্যদিকে মেগান মার্কেলও বিভিন্ন সময়ে নারী অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। ফলে তাঁদের আগের পরিচয় এবং সামাজিক কাজের অভিন্ন ক্ষেত্রের কারণে এবারের সাক্ষাৎ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   তবে লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে তাঁদের সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   পেজ সিক্স, পিপল এবং ইউএস উইকলির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আপাতত এটি দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ বলেই মনে হচ্ছে। নতুন কোনো সহযোগিতা বা আনুষ্ঠানিক প্রকল্পের ঘোষণা আসেনি।   লন্ডনে মেগান মার্কেলের সাম্প্রতিক উপস্থিতি এবং মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে অতীতে তাঁদের যৌথ কাজের কারণে ভবিষ্যতে আবারও একসঙ্গে কোনো উদ্যোগে দেখা যাবে কি না, সে বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১১:৩০
যুক্তরাষ্ট্রের রেলওয়ে।
নিউ জার্সিতে ট্রেন বাতিল বেড়েছে, ভোগান্তিতে কর্মজীবী যাত্রীদের বাড়ছে উদ্বেগ

নিউ জার্সির কর্মজীবী ও নিয়মিত ট্রেনযাত্রীদের জন্য আবারও উদ্বেগের খবর এসেছে। ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিউ জার্সি ট্রানজিট মোট ১ হাজার ৭১৫টি ট্রেন বাতিল করেছে। গত বছরের একই সময়ে বাতিল হয়েছিল ১ হাজার ৬৪৬টি ট্রেন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাতিলের সংখ্যা আরও বেড়েছে।   নিউ জার্সি মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের গ্রীষ্মে অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং শক্তিশালী ঝড় ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জুলাই মাসে প্রচণ্ড গরম ও ঝড়ের কারণে বাতিল ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে যায়।   শুধু আবহাওয়াই নয়, পুরোনো ট্রেন ও যন্ত্রপাতিও সমস্যার বড় কারণ। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ৪৫৯টি ট্রেন চলেনি। যদিও এই সংখ্যা গত বছরের ৬৩৪টির তুলনায় কম, তবু পুরোনো রেল বহর নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ রয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সি ট্রানজিটের কিছু ট্রেন কয়েক দশক ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু ট্রেন প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলাচল করছে। পুরোনো ট্রেনের যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন হওয়ায় মেরামতের কাজও অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে।   চরম গরমের সময় রেললাইনের বিভিন্ন অবকাঠামো ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার শক্তিশালী ঝড়ে গাছ পড়ে রেললাইন ও বিদ্যুৎ সরবরাহের তার ক্ষতিগ্রস্ত হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।   এবারের গ্রীষ্মে আবহাওয়াজনিত কারণে ৬৫৭টি ট্রেন বাতিল হয়েছে। গত বছর একই ধরনের কারণে বাতিল হয়েছিল ২৮৮টি ট্রেন। চলতি বছরের এই সংখ্যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বেশি।   আমট্রাকের সমস্যাও কিছু ক্ষেত্রে নিউ জার্সি ট্রানজিটের ওপর প্রভাব ফেলেছে। নিউ জার্সি ট্রানজিটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট আমট্রাকের মালিকানাধীন রেলপথ ও অবকাঠামো ব্যবহার করে। অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুৎ সরবরাহের তারে সমস্যা হলে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।   কর্মী সংকটও আরেকটি বিষয়। বিশেষ করে ট্রেন চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে দীর্ঘ সময় লাগে। নতুন একজন চালককে পুরোপুরি প্রশিক্ষিত করতে প্রায় ২০ মাস সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবসর নেওয়া কর্মীদের জায়গায় নতুন কর্মী দ্রুত তৈরি করা তাই সহজ নয়।   নিউ জার্সি ট্রানজিট অবশ্য পুরোনো ট্রেনের সমস্যা সমাধানে নতুন ট্রেন কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সংস্থাটি মোট ৩৭৪টি নতুন বহুতল ট্রেনের বগি কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রথম নতুন ট্রেন চলতি বছর চালু করার প্রত্যাশা রয়েছে।   নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় পরিবারের জন্য এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। যারা প্রতিদিন ট্রেনে নিউইয়র্ক, জার্সি সিটি বা আশপাশের কর্মস্থলে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য ট্রেন বাতিল বা বিলম্ব মানে কর্মস্থলে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় এবং বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ।   বর্তমানে নিউ জার্সি ট্রানজিটের বিভিন্ন রেলপথ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে বলে সংস্থার বর্তমান পরিষেবা তথ্য জানাচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট দিনে নির্মাণকাজ বা অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে কিছু রুটে পরিবর্তন থাকতে পারে।   তাই নিয়মিত ট্রেনযাত্রীদের যাত্রার আগে পরিষেবার সর্বশেষ অবস্থা দেখে বের হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছানো জরুরি হলে বিকল্প ট্রেন বা বাসের ব্যবস্থা আগে থেকে জানা থাকলে ভোগান্তি কমানো সম্ভব।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১১:১৪
সংক্রমণের তীব্র গতি।
নিউইয়র্কে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, ফেডারেল সহায়তা চাইলেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল

নিউইয়র্কে হামের সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যজুড়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল সরকারের সহায়তা চেয়েছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা না নেওয়া বা পর্যাপ্ত টিকা না পাওয়া মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।   নিউইয়র্ক রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১০৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জুলাইয়ের পর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ জন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার ১৮টি জেলার বাসিন্দা।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে মানুষের জন্য টিকা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।   গভর্নর হোকুলের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ফেডারেল সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি নিউইয়র্কের গভর্নরকে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক এরিকা শোয়ার্টজের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টিকা হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলেও টিকা না নেওয়া মানুষের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।   নিউইয়র্কে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য তাই শিশুদের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলে যাওয়া শিশু, শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা ব্যক্তি এবং টিকা না নেওয়া মানুষের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা দরকার।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   নিউইয়র্কের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ করে অভিবাসী ও প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে কারও টিকা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত না থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় টিকা ও স্বাস্থ্যপরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   এদিকে নিউইয়র্কের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যেও হামের সংক্রমণ নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নজর রাখছেন। ফেডারেল ও রাজ্য স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।   সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গুজবের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসক ও সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করা। বিশেষ করে শিশুদের টিকা সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ রাখা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া নিরাপদ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১১:১
তেলের পাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বাড়ায় গ্যাসের খরচ বাড়ার আশঙ্কা, চাপে নিউইয়র্কবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। এর ফলে সামনে গ্যাসোলিন ও ঘর গরম করার জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।   বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৪ ডলারের ওপরে উঠে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।   নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মানুষের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিদিন গাড়িতে অফিস, স্কুল, ব্যবসা বা অন্যান্য কাজে যাতায়াত করা পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে জ্বালানির খরচ সরাসরি প্রভাব ফেলে।   সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের খুচরা দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। এর সঙ্গে টোল, পার্কিং ও অন্যান্য যাতায়াত ব্যয় যোগ হওয়ায় নিয়মিত গাড়ি ব্যবহারকারীদের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।   এর প্রভাব শুধু গাড়ির মালিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। পরে সেই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব পণ্য পরিবহন, খাবার ও অন্যান্য দৈনন্দিন পণ্যের দামেও পড়তে পারে।   নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলে জীবনযাত্রার খরচ এমনিতেই বেশি। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি অঞ্চলের ভোক্তা মূল্য আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে জ্বালানির দাম বেড়েছিল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। তাই যারা প্রতিদিন দীর্ঘ দূরত্বে গাড়ি চালিয়ে কাজে যান, তাদের জন্য সামনে জ্বালানি খরচের দিকে বিশেষ নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১০:৪৪
জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মোঃ জাহিদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণা টিমে গবেষণা, বাংলাদেশের ডা. জাহিদুল ইসলামের পথচলা

বাংলাদেশে রসায়ন নিয়ে উচ্চশিক্ষার শুরু। এরপর থাইল্যান্ড হয়ে জাপানে গবেষণার দীর্ঘ পথচলা। ন্যানোপ্রযুক্তি, শক্তি রূপান্তর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সেন্সিং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গবেষণা করে জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. মোঃ জাহিদুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি জাপানের ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওতে বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এর আগে দেশটির নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক হিরোশি আমানোর গবেষণাগোষ্ঠীর একটি উপদলেও কাজ করেছেন তিনি।   জাপানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা পরিচালিত গবেষক তথ্যভান্ডার জে গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওর ল্যাবরেটরি ফর বায়োম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যুক্ত রয়েছেন ড. জাহিদুল। সেখানে উন্নত উপাদান, ন্যানোপ্রযুক্তি ও জৈব উপাদানভিত্তিক গবেষণার সঙ্গে তাঁর কাজের সংযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশে রসায়নে উচ্চশিক্ষার মধ্য দিয়ে তাঁর একাডেমিক জীবনের সূচনা হয়। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান থাইল্যান্ডে। দেশটির রাজামঙ্গলা ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থান্যাবুরি থেকে ২০১৪ সালে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী গন্তব্য ছিল জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে ২০১৮ সালে রাসায়নিক ব্যবস্থা প্রকৌশলে ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।   ডক্টরাল গবেষণায় তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দ্রবণ প্লাজমা প্রযুক্তির সাহায্যে ন্যানোকার্বন ও কার্বনভিত্তিক উন্নত উপাদান তৈরি। এসব উপাদান কীভাবে শক্তি রূপান্তর ও তড়িৎ অনুঘটন প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও গবেষণা করেন তিনি। বিশেষ করে জ্বালানি কোষ ও লিথিয়াম এয়ার ব্যাটারির মতো উন্নত শক্তি প্রযুক্তিতে এসব উপাদানের সম্ভাব্য ব্যবহার ছিল তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।   ডক্টরেট সম্পন্ন করার পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিস্টেমস ফর সাসটেইনেবিলিটিতে গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন জাহিদুল ইসলাম। প্রাপ্ত জীবনবৃত্তান্তের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক হিরোশি আমানোর গবেষণাগোষ্ঠীর একটি উপদলে পোস্টডক্টরাল গবেষণার সুযোগ পান তিনি।   অধ্যাপক হিরোশি আমানো ২০১৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। নীল আলো নির্গমনকারী কার্যকর এলইডি উদ্ভাবনে অবদানের জন্য ইসামু আকাসাকি ও শুজি নাকামুরার সঙ্গে যৌথভাবে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের উদ্ভাবন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী আধুনিক এলইডি বাতি তৈরির পথ সুগম করে। জাপানের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জাহিদুল ইসলামের গবেষণাজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে।   নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণাপর্বে তিনি উন্নত উপাদানবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক উপাদান নিয়ে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের এপ্রিলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইলেকট্রনিক্স বিভাগে গবেষক হিসেবে যুক্ত হন। সেখানে ন্যানো উপাদান ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কার্যকারিতা নিয়ে তাঁর গবেষণার পরিসর আরও বিস্তৃত হয়।   এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন উপাদানের গঠন ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কার্যক্ষমতার সম্পর্ক বোঝা। ফলে রসায়নভিত্তিক উপাদান গবেষণার পাশাপাশি বাস্তব প্রযুক্তিতে সেসব উপাদানের ব্যবহার নিয়েও কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়।   ২০২১ সালের জুনে জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির স্কুল অব ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্সে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত গবেষণা করেন। এই সময় তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল গ্রাফিনভিত্তিক ফিল্ড ইফেক্ট ট্রানজিস্টর, গ্যাস শনাক্তকরণ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক সেন্সর।   গ্রাফিন অত্যন্ত পাতলা কার্বনভিত্তিক একটি উপাদান, যার বিশেষ বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সেন্সর তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে কাজ চলছে। জাহিদুল ইসলামের গবেষণাতেও গ্রাফিনভিত্তিক ডিভাইস ব্যবহার করে গ্যাস শনাক্তকরণ প্রযুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   দীর্ঘ পোস্টডক্টরাল গবেষণার পর ২০২৩ সালের জুনে আবার নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন তিনি। এবার যোগ দেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। সেখানে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।   এই পর্যায়ে উন্নত কার্যকরী ন্যানো উপাদান তৈরি, সেগুলোর গঠন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং তড়িৎ রাসায়নিক কার্যকারিতা পরীক্ষার মতো বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যান তিনি। শক্তি উৎপাদন, রূপান্তর ও সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযুক্তিতে নতুন উপাদানের সম্ভাব্য ব্যবহারও তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।   এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব বায়োম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত হন। একই বছরের অক্টোবরে টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি ও টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একীভূত হওয়ার মাধ্যমে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিও প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একই পদে তাঁর একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওতে তাঁর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জৈব উপাদান, পলিমার এবং নরম পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়। এর ফলে রসায়ন, উপাদানবিজ্ঞান, শক্তি প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিক্সে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত গবেষণাক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   জাহিদুল ইসলামের গবেষণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একটি উপাদান তৈরি থেকে শুরু করে তার গঠন, রাসায়নিক ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য নির্ণয় এবং বাস্তব প্রযুক্তিতে ব্যবহারের সম্ভাবনা পরীক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কাজ করা।   গবেষণার প্রয়োজনে তিনি ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ, স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ, অ্যাটমিক ফোর্স মাইক্রোস্কোপ, রামান স্পেকট্রোস্কপি এবং এক্স রে ডিফ্র্যাকশনের মতো উন্নত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এসব প্রযুক্তির সাহায্যে ন্যানো উপাদানের গঠন ও বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব।   তড়িৎ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষামূলক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রোকেমিক্যাল ইম্পিড্যান্স স্পেকট্রোস্কপি ও সাইক্লিক ভোল্টামেট্রি। ব্যাটারি, জ্বালানি কোষ এবং তড়িৎ অনুঘটনভিত্তিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত উপাদানের কার্যকারিতা মূল্যায়নে এসব পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।   গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। জাপানের জে গ্লোবাল গবেষক তথ্যভান্ডারে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪১টি গবেষণা প্রকাশনার তথ্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলোর মধ্যে ন্যানো উপাদানভিত্তিক তড়িৎ রাসায়নিক সেন্সর, সামুদ্রিক জৈব উপাদান থেকে তৈরি কার্বনের মাধ্যমে শক্তি সংরক্ষণ এবং বিশেষ ধরনের পলিমার ন্যানোফাইবারের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা নিয়ে গবেষণা রয়েছে।   বিশেষ করে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তাঁর সহগবেষকেরা বিশেষ ধরনের জৈব পলিমার ন্যানোফাইবার দিয়ে তৈরি জেল ও পাতলা স্তরের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা নিয়ে কাজ করেছেন। এই গবেষণার সঙ্গে টিস্যু পুনর্গঠনের মতো জৈব চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্ভাব্য সম্পর্কও রয়েছে।   বাংলাদেশে রসায়নে উচ্চশিক্ষা থেকে থাইল্যান্ডে স্নাতকোত্তর, এরপর জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট, একাধিক পোস্টডক্টরাল গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা। ড. মোঃ জাহিদুল ইসলামের একাডেমিক পথচলায় রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা।   নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণাগোষ্ঠীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে শক্তি প্রযুক্তি, ন্যানো উপাদান, গ্রাফিনভিত্তিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও জৈব উপাদান নিয়ে গবেষণা, সব মিলিয়ে তাঁর কর্মজীবন বিস্তৃত হয়েছে বিজ্ঞানের একাধিক শাখায়। বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন থেকে যাত্রা শুরু করে জাপানের আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত হওয়ার এই পথচলা বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষকদের অবদানের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।   সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১০:৫৪
নিউইয়র্কে ঘরে বসে অ্যামাজনে ব্যবসা পরিচালনার নতুন সম্ভাবনা খুঁজছেন প্রবাসী বাংলাদেশি মায়েরা। ছবি: সংগৃহীত
ঘরে বসে অ্যামাজনে ব্যবসা, আমেরিকায় মাসে ৫০০০ ডলার পর্যন্ত আয়ের নতুন সুযোগ

নিউইয়র্কে সন্তান সামলানোর পাশাপাশি ঘরে বসে আয় করতে চান অনেক বাংলাদেশি মা। তাঁদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি মাধ্যম হতে পারে অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন। নিজের পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে অন্যের পণ্য প্রচারের মাধ্যমে কমিশন আয়, ঘরে বসেই এসব ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে মাত্র ৩০ দিনে ৫ হাজার ডলার আয়ের নানা গল্প। কিন্তু বাস্তবে অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করা কতটা সহজ, কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের আয়ের সম্ভাবনাই বা কতটুকু?   অ্যামাজনের মাধ্যমে ব্যবসার অন্যতম পরিচিত পদ্ধতি হলো ফুলফিলমেন্ট বাই অ্যামাজন বা এফবিএ। এই ব্যবস্থায় উদ্যোক্তা নিজে পণ্য সংগ্রহ করে অ্যামাজনের ওয়্যারহাউসে পাঠান। ক্রেতারা অর্ডার করলে পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকিং, ডেলিভারি এবং সংশ্লিষ্ট অনেক গ্রাহকসেবার দায়িত্ব সামলায় অ্যামাজন।   ফলে যাঁরা চাকরি বা সংসারের ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন পণ্য প্যাকিং ও শিপিং করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি সুবিধাজনক হতে পারে। তবে ওয়্যারহাউসে পণ্য পাঠিয়ে দিলেই ব্যবসা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পণ্য নির্বাচন, দাম নির্ধারণ, প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞাপন এবং গ্রাহকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে বিক্রি।   অন্য একটি পদ্ধতি হলো ফুলফিলমেন্ট বাই মার্চেন্ট বা এফবিএম। এখানে উদ্যোক্তা নিজেই পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকিং ও ডেলিভারির ব্যবস্থা করেন। ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে এই পদ্ধতি বিবেচনা করা যায়। তবে অর্ডার বাড়লে প্যাকিং, শিপিং ও রিটার্ন সামলানোর চাপও বাড়তে পারে।   নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে রিটেইল আরবিট্রাজ এবং অনলাইন আরবিট্রাজও পরিচিত। এসব পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম দামে বৈধভাবে সংগ্রহ করা পণ্য অ্যামাজনে পুনরায় বিক্রির চেষ্টা করা হয়। তবে সব ব্র্যান্ড বা পণ্য অবাধে বিক্রির অনুমতি নেই। কিছু পণ্যের জন্য অ্যামাজনের অনুমোদন, গ্রহণযোগ্য সাপ্লায়ারের ইনভয়েস এবং নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলতে হয়।   তৃতীয় আরেকটি সুযোগ হলো অ্যামাজন ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম। এটি সরাসরি পণ্য কেনাবেচার ব্যবসা থেকে আলাদা। এখানে যোগ্য কনটেন্ট ক্রিয়েটররা পণ্য সম্পর্কে ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কমিশন আয় করতে পারেন। তবে প্রোগ্রামে অনুমোদন পাওয়া, কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার ওপর আয় নির্ভর করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু উদ্যোক্তার বছরে এক লাখ ডলার বা তার বেশি আয়ের গল্প প্রচার করা হয়। আবার সন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে অবসর সময়ে কাজ করে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা গড়ে তোলার দাবিও বিভিন্ন উদ্যোক্তা বিষয়ক কনটেন্টে দেখা যায়। কিন্তু এসব ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্পকে নতুন উদ্যোক্তাদের সাধারণ আয়ের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।   বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মায়েরা অ্যামাজনে ব্যবসা করে নিয়মিত কত আয় করছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কমিউনিটিভিত্তিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের মধ্যে কতজন ইতিমধ্যে এই ব্যবসায় সফল হয়েছেন বা মাসে কত আয় করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   অনলাইন ব্যবসা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান জাঙ্গল স্কাউটের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে অ্যামাজন বিক্রেতাদের আয় ও বিনিয়োগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে অংশ নেওয়া বিক্রেতাদের ২৫ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা এক হাজার ডলারের কম অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আর ৬৪ শতাংশ বিক্রেতার প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল পাঁচ হাজার ডলারের কম।   অর্থাৎ অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করতে প্রত্যেকের তিন হাজার থেকে দশ হাজার ডলার বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। তবে নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য তৈরি, বড় পরিসরে ইনভেন্টরি কেনা এবং বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।   একই জরিপে ৫৮ শতাংশ বিক্রেতা জানিয়েছেন, ব্যবসা শুরুর প্রথম বছরের মধ্যে তাঁরা লাভের মুখ দেখেছেন। অন্যদিকে ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যবসা তখনো লাভজনক হয়নি। জরিপের এই ফলাফল নতুন উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ আয়ের নিশ্চয়তা দেয় না।   জাঙ্গল স্কাউটের ২০২৫ সালের গবেষণাতেও অ্যামাজন ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ব্যবসার প্রতিনিধিরা পণ্য সংগ্রহ, শিপিং এবং বিজ্ঞাপনের খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে শুধু বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো নয়, ব্যবসার প্রকৃত লাভ হিসাব করাও গুরুত্বপূর্ণ।   তাহলে ৩০ দিনে পাঁচ হাজার ডলার আয়ের প্রচারণা কতটা বাস্তবসম্মত? বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যামাজনে এত পরিমাণ বিক্রি করা সম্ভব হলেও নতুন একজন বিক্রেতার প্রথম মাসেই এই অঙ্কের লাভ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখানে বিক্রি ও লাভের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।   উদাহরণ হিসেবে, কোনো উদ্যোক্তা এক মাসে পাঁচ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করলে সেই পুরো অর্থ তাঁর আয় বা লাভ নয়। পণ্য কেনার দাম, অ্যামাজনের ফি, শিপিং, বিজ্ঞাপন, রিটার্ন এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, সেটিই ব্যবসার প্রকৃত লাভ।   অ্যামাজনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রেতাদের জন্য দুটি প্রধান সেলিং প্ল্যান রয়েছে। ইন্ডিভিজুয়াল প্ল্যানে প্রতি পণ্য বিক্রিতে ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হয়। অন্যদিকে প্রফেশনাল প্ল্যানে মাসিক চার্জ ৩৯ ডলার ৯৯ সেন্ট। এর বাইরে পণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী রেফারেল ফি এবং এফবিএ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত খরচ প্রযোজ্য হতে পারে।   কোন পণ্য বিক্রি করবেন, সেটিও ব্যবসা শুরুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। হিজাব, বেবি প্রোডাক্ট, কিচেন গ্যাজেট কিংবা ফোন অ্যাকসেসরিজের মতো পণ্য নিয়ে উদ্যোক্তারা বাজার যাচাই করতে পারেন। তবে এসব ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা, পণ্যের মান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পর্কে আগে জানা জরুরি।   বিশেষ করে শিশুদের ব্যবহার্য পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন প্রযোজ্য হতে পারে। আবার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অ্যামাজনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে। তাই শুধু কম দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেই বড় অর্ডার দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।   নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবসা নিবন্ধন ও ট্যাক্স সংক্রান্ত নিয়ম। অ্যামাজনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেলার অ্যাকাউন্ট খুলতে এলএলসি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত পরিচয়েও অ্যামাজনে সেলার হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।   তবে এলএলসি ছাড়া অ্যামাজন অ্যাকাউন্ট খোলা এবং নিউইয়র্কে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, অনুমতি ও ট্যাক্স সংক্রান্ত দায়িত্ব আলাদা হতে পারে।   নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের নিয়ম অনুযায়ী, বাসা থেকে করযোগ্য পণ্য বিক্রি করলেও সাধারণভাবে সেলস ট্যাক্সের জন্য নিবন্ধন প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি শুধু অ্যামাজনের মতো মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বিক্রি করলেও নিউইয়র্কভিত্তিক বিক্রেতাদের জন্য সার্টিফিকেট অব অথরিটি প্রয়োজন হতে পারে।   অ্যামাজন নির্দিষ্ট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে সেলস ট্যাক্স সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করলেও বিক্রেতার নিজস্ব নিবন্ধন ও ট্যাক্স রিটার্ন সংক্রান্ত দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না।   অ্যামাজন সেলার অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রযোজ্য ট্যাক্স তথ্য দিতে হয়। ব্যবসার কাঠামো অনুযায়ী ইআইএন প্রয়োজন হতে পারে, তবে প্রত্যেক ব্যক্তিগত বিক্রেতার জন্য আলাদা ইআইএন বাধ্যতামূলক নয়।   যাঁরা নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করতে চান, তাঁদের জন্য ট্রেডমার্ক এবং অ্যামাজন ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সাধারণভাবে পণ্য বিক্রির জন্য ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক নয়। ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রিতে যোগ দেওয়ার জন্য অ্যামাজনের নির্ধারিত ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।   ব্যবসা শুরু করার আগে পণ্যের বাজারদর, প্রতিযোগী বিক্রেতা, সম্ভাব্য লাভ এবং অ্যামাজনের বিভিন্ন ফি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন নতুন উদ্যোক্তারা। এ ক্ষেত্রে জাঙ্গল স্কাউটের মতো প্রোডাক্ট রিসার্চ টুল ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি অ্যামাজনের নিজস্ব রেভিনিউ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সম্ভাব্য খরচ ও আয়ের একটি হিসাবও করা সম্ভব।   তবে এসব টুলের পূর্বাভাস নিশ্চিত বিক্রির নিশ্চয়তা দেয় না। নতুন পণ্যের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে ইনভেন্টরি অবিক্রীত থেকে যেতে পারে। আবার বিজ্ঞাপনের খরচ বেড়ে গেলে ভালো বিক্রির পরও লাভ কমে যেতে পারে।   অনলাইন ব্যবসা নিয়ে ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভিডিও এবং দ্রুত আয়ের প্রচারণা দেখা যায়। কোনো কোনো কনটেন্টে তিন মাসে দশ হাজার ডলার বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব ভিডিও ব্যবসার প্রাথমিক ধারণা দিতে পারলেও এগুলোকে নিশ্চিত আয়ের পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।   বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বেশি দামে কোর্স কেনা বা ঋণ নিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য সংগ্রহের আগে ব্যবসার প্রকৃত খরচ ও ঝুঁকি যাচাই করা প্রয়োজন।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মায়েদের জন্য ঘরে বসে অ্যামাজনভিত্তিক ব্যবসা একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প আয়ের পথ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সংসার ও সন্তান সামলানোর পাশাপাশি নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য ছোট পরিসরে শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।   তবে ব্যবসার জন্য পর্যাপ্ত সময়, প্রাথমিক বিনিয়োগ, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং নিয়মিত হিসাব রাখার সক্ষমতা প্রয়োজন। সন্তান ঘুমিয়ে থাকার কয়েক ঘণ্টা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হলেও ব্যবসার দায়িত্ব কেবল ওই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   সব মিলিয়ে অ্যামাজনে ৩০ দিনে পাঁচ হাজার ডলার আয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু এটিকে সাধারণ বা নিশ্চিত উপার্জন হিসেবে প্রচার করারও ভিত্তি নেই। বরং বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ, সঠিক পণ্য নির্বাচন, অ্যামাজনের নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং আয়ব্যয়ের হিসাব রাখাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যাঁরা এ ধরনের ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য অ্যামাজন সেলার সেন্ট্রালের নির্দেশনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একজন সিপিএ বা ব্যবসা বিষয়ক পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া কার্যকর হতে পারে। কারণ অনলাইন ব্যবসায় সফল হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রথম মাস থেকেই নিয়মিত আয় বা মুনাফা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১০:৩২
কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি আছে, কিন্তু নিয়োগ ধীর; দীর্ঘদিন বেকারদের চাপ বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে কর্মীদের ছাঁটাই তুলনামূলক কম, অন্যদিকে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি ধীর হয়ে গেছে। ফলে চাকরি থাকা মানুষের জন্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠছে।   শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার। আগের সপ্তাহের সংশোধিত সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার। টানা চার সপ্তাহ ধরে নতুন আবেদন ২ লাখের নিচে রয়েছে।   এটি চাকরির বাজারে ছাঁটাই কম থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে একই সময়ে নতুন নিয়োগের গতি দুর্বল। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে, যা আগস্টের ১ লাখ ৩৩ হাজারের তুলনায় অনেক কম।   আরেকটি বিষয় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে যারা চাকরি খুঁজছেন, তাদের সংখ্যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থাৎ চাকরি হারানোর পর দ্রুত নতুন কাজে যোগ দেওয়া সবার জন্য সহজ হচ্ছে না।   অন্যদিকে দক্ষ কর্মীর ঘাটতিও তৈরি হচ্ছে। নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং, যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও কারিগরি পেশায় কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। বয়স বাড়ার কারণে অভিজ্ঞ কর্মীদের একটি অংশ অবসরে যাচ্ছে, আর অভিবাসন নীতির পরিবর্তনও কিছু খাতে কর্মী সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।   নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক জরিপেও দেখা গেছে, চাকরি হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমেছে এবং চাকরি হারালে নতুন চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশা সামান্য বেড়েছে। তবে একই সময়ে পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এখন শুধু সাধারণ অফিসের চাকরির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, যন্ত্রপাতি মেরামত, পরিবহন ও কারিগরি দক্ষতার চাকরিগুলোর দিকেও নজর দেওয়া যেতে পারে। তবে কোনো চাকরির জন্য আবেদন করার আগে নিয়োগদাতা ও বেতনের তথ্য যাচাই করা জরুরি।                                         

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১০:২২
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় স্কলারশিপের সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের মাস্টার্স ও পিএইচডিতে ফান্ডিং, বছরে ৩৩ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাইপেন্ড, টিউশন ফি কমানোর সুবিধা এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে আনুমানিক ৩৩ হাজার ৭১৭ ডলার এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭ হাজার ৫১৭ ডলার সমমূল্যের আর্থিক সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে। তবে এটি সরাসরি শিক্ষার্থীর হাতে দেওয়া সম্পূর্ণ অর্থ নয়। মোট হিসাবের মধ্যে স্টাইপেন্ডের পাশাপাশি টিউশন, নির্ধারিত ফি এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের ল্যারামি শহরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও গবেষণামূলক কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।   এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতার কাজে সহায়তা, গবেষণা পরিচালনা, ল্যাবের দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন এবং অন্যান্য একাডেমিক কাজে যুক্ত থাকতে পারেন।   বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সাধারণত সপ্তাহে গড়ে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত স্টাইপেন্ড এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পান।   পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত হিসাবে বছরে আনুমানিক ২১ হাজার ৭৬২ ডলার স্টাইপেন্ড নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে টিউশন, নির্ধারিত ফি এবং স্টুডেন্ট হেলথ ইন্স্যুরেন্স বাবদ আরও প্রায় ১১ হাজার ৯৫৫ ডলার সমমূল্যের সুবিধা যোগ হয়। সব মিলিয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীর বার্ষিক আর্থিক প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৭১৭ ডলার।   অন্যদিকে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে আনুমানিক ১৫ হাজার ৬৪২ ডলার স্টাইপেন্ড নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে টিউশন, নির্ধারিত ফি এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্স বাবদ প্রায় ১১ হাজার ৯৫৫ ডলার সমমূল্যের সুবিধা যুক্ত হয়ে মোট প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৫১৭ ডলার।   বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট করেছে, এসব অঙ্ক একটি অ্যাকাডেমিক বছরের জন্য প্রকাশিত আনুমানিক ন্যূনতম হিসাব। কোনো বিভাগে পর্যাপ্ত ফান্ডিং থাকলে শিক্ষার্থীরা এর চেয়েও বেশি স্টাইপেন্ড পেতে পারেন।   তবে সব শিক্ষার্থী একই পরিমাণ সুবিধা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ধরন, কাজের সময়, বিভাগীয় বাজেট এবং ফান্ডিংয়ের উৎস অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।   বিশেষ করে টিউশন ওয়েভারের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে বোঝা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের অর্থায়নে পরিচালিত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ গ্র্যাজুয়েট ক্রেডিট আওয়ার পর্যন্ত নির্ধারিত টিউশন ও বাধ্যতামূলক ফি কমানোর সুবিধা দেওয়া হয়।   অন্য উৎসের অর্থায়নে পরিচালিত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে এই সীমা ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া কিছু ব্যক্তিগত বা আনুষঙ্গিক স্টুডেন্ট ফি শিক্ষার্থীদের নিজেদের বহন করতে হতে পারে। ফলে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের খরচ সম্পূর্ণ মওকুফ হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।   স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ বহন করে। তবে আংশিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সুবিধার পরিমাণও আনুপাতিকভাবে কমতে পারে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি, একাডেমিক যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে।   বিশেষ করে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ইংলিশ ওরাল প্রফিসিয়েন্সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী যোগ্যতা অনুযায়ী অব্যাহতির বিধান রয়েছে।   এছাড়া যাঁরা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ পাবেন, তাঁদের দায়িত্ব শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যান্ড লার্নিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হতে পারে। প্রশিক্ষণসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করলে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বাতিলের ঝুঁকিও রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, সমাজবিজ্ঞান, স্বাস্থ্যবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে ৯০টির বেশি গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। তবে সব বিভাগে একই সময়ে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের শূন্যপদ থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ থাকার তথ্য রয়েছে।   গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ ধরনের পদে সাধারণত কোনো অধ্যাপকের গবেষণা প্রকল্পে কাজ করতে হয়। গবেষণার বিষয়, শিক্ষার্থীর দক্ষতা এবং প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।   ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বিবেচিত হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।   অন্যদিকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে বিভাগীয় শিক্ষকতা ও একাডেমিক কাজে সহযোগিতার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে কোনো বিভাগে ভর্তি হওয়া মানেই অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ নিশ্চিত হওয়া নয়।   আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজের পছন্দের মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগের অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, একাডেমিক ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত যাচাই করতে হবে।   সাধারণত গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের আবেদনে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সিভি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গবেষণার অভিজ্ঞতা বা অন্যান্য ডকুমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব বিভাগের আবেদনপদ্ধতি এক নয়।   জিআরই, আইইএলটিএস কিংবা টোফেলের শর্তও প্রোগ্রামভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই একটি বিভাগের যোগ্যতার শর্ত অন্য বিভাগের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে, এমন ধারণা নিয়ে আবেদন করা উচিত নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ইন্টারেস্ট ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।   তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ফান্ডিংয়ের কাঠামো কোনো নতুন নির্দিষ্টসংখ্যক শূন্যপদ বা সবার জন্য উন্মুক্ত একক স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ কর্মসূচির আর্থিক সুবিধার বিবরণ।   অর্থাৎ ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ঠিক কতটি নতুন অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া যাচ্ছে কিংবা কোন বিভাগের আবেদনের শেষ সময় কবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত সাধারণ ফান্ডিংয়ের তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।   আগ্রহীদের নিজ নিজ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমানে কোনো পদ খালি আছে কি না, আবেদন করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে।   এ বিষয়ে সরাসরি তথ্য জানতে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনে ইমেইল করা যায়। ইমেইল ঠিকানা GradEd@uwyo.edu। এছাড়া অফিসের ফোন নম্বর ৩০৭-৭৬৬-৬৪৭৮।   উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। কারণ এতে একদিকে পড়াশোনার ব্যয় কমানোর সুযোগ থাকে, অন্যদিকে গবেষণা বা শিক্ষকতার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়।   তবে আবেদন করার আগে নিজের একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণার আগ্রহ, সম্ভাব্য অধ্যাপকের কাজ এবং বিভাগীয় ফান্ডিংয়ের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।   বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে গবেষণার বিষয় ও অধ্যাপকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর আগ্রহের মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মাস্টার্স পর্যায়েও বিভাগীয় চাহিদা এবং উপলব্ধ ফান্ডিংয়ের ওপর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত হিসাবে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে প্রায় ৩৩ হাজার ৭১৭ ডলার এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭ হাজার ৫১৭ ডলার সমমূল্যের সুবিধা থাকলেও এর পুরোটাই নগদ অর্থ নয়। শিক্ষার্থীর হাতে পাওয়া স্টাইপেন্ড এবং টিউশন ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   ফলে আবেদনকারীদের উচিত নির্দিষ্ট বিভাগের অফার লেটারে স্টাইপেন্ডের পরিমাণ, কাজের সময়, টিউশন কভারেজ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, ফান্ডিংয়ের মেয়াদ এবং নিজের বহন করতে হবে এমন খরচগুলো ভালোভাবে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া।   ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইয়োমিংয়ের স্কুল অব গ্র্যাজুয়েট এডুকেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফান্ডিং কাঠামো কার্যকর রয়েছে। তবে প্রকৃত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া সংশ্লিষ্ট বিভাগে পদের প্রাপ্যতা, ফান্ডিং এবং নিয়োগের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১০:১
বাড়িতে ঢুকে পড়ল যাত্রীবিহীন বাস
নিউ জার্সিতে বাড়িতে ঢুকে পড়ল যাত্রীবিহীন বাস, আহত চালক হাসপাতালে ভর্তি

নিউ জার্সির এনগেলউডে বৃহস্পতিবার ভোরে একটি এনজে ট্রানজিট বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাড়িতে ধাক্কা দিয়েছে। দুর্ঘটনায় বাসটির চালক আহত হয়েছেন এবং তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল প্রায় ৫টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। ১৬৬ নম্বর রুটের বাসটি ওরাডেল গ্যারেজ থেকে বের হয়ে দিনের যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন বাসটি রাস্তায় থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাড়িটির দিকে চলে যায়।   দুর্ঘটনার সময় বাসে কোনো যাত্রী ছিলেন না। ফলে যাত্রীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাসটি বাড়ির সামনের অংশে গিয়ে আঘাত করে এবং ঘটনাস্থলে জরুরি বিভাগের কর্মীরা ছুটে যান।   চালকের আঘাত কতটা গুরুতর, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। বাড়িটির ভেতরে কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   এনগেলউড পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। কেন বাসটি রাস্তা ছেড়ে বাড়ির দিকে চলে গেল, সেটি তদন্তের পর পরিষ্কার হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:৫৮
চাকরি প্রার্থী'রা।
যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতা আবেদন কমেছে, তবে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমছে দ্রুত

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন বেকার ভাতা চাওয়ার আবেদন কমেছে। তবে একই সময়ে নতুন চাকরি তৈরির গতি দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশটির কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে নতুন বেকার ভাতা আবেদনের সংখ্যা কমে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা এর আগে প্রায় ২ লাখ আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে।   নতুন আবেদন কমে যাওয়াকে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ছাঁটাই না থাকার একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চাকরির বাজারের পুরো চিত্র ইতিবাচক নয়। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।   সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বর্তমান কর্মীদের ধরে রাখলেও নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।   এই পরিস্থিতি শ্রমবাজারে একটি ভিন্ন ধরনের প্রবণতা তৈরি করেছে। একদিকে বড় ধরনের ছাঁটাই তুলনামূলকভাবে কম, অন্যদিকে নতুন নিয়োগও আগের মতো দ্রুত হচ্ছে না। এর ফলে যারা নতুন চাকরি খুঁজছেন, তাদের চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।   ধারাবাহিকভাবে বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যাতেও কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ১৬ হাজারে পৌঁছেছে।   চাকরি খোঁজার সময়ও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে বেকার থাকা ব্যক্তিদের নতুন চাকরি খুঁজে পেতে গড়ে ১১ সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছে। অর্থনীতির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকেত, কারণ শ্রমবাজারে চাকরির সুযোগ থাকলেও নিয়োগের গতি কমে গেলে বেকার মানুষের কর্মসংস্থানে ফিরতে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।   অবসর গ্রহণের প্রবণতা, অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন খাতে নিয়োগের ধীরগতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে প্রভাবিত করছে।তবে নতুন বেকার ভাতা আবেদন কমে যাওয়ায় এখনো ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কম ছাঁটাই এবং কম নিয়োগের শ্রমবাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন, কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে চাইছেন অথবা প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগের গতি কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান, বেকারত্বের হার, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন নিয়োগের তথ্য শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থার আরও পরিষ্কার ধারণা দেবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:২৮
গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ
গর্ভপাতের ১ মাস পর নারীকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, ৮ বছর পর পেলেন ১৬ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাতের পর হত্যার অভিযোগে দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করা এক নারী অবশেষে ১৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ২০১৮ সালে গর্ভের সন্তান হারানোর পর পেশেন্স রুশো নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করেন। দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে নেভাদার হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের সমঝোতা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী পেশেন্স রুশো ২০১৮ সালে নেভাদার উইনেমুকা শহরে বসবাস করতেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। ওই বছরের এপ্রিল মাসে গর্ভের সন্তান হারানোর প্রায় এক মাস পর স্থানীয় শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।   এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি করা হয়েছিল নেভাদার ১৯১১ সালের একটি পুরোনো আইনের ভিত্তিতে। ওই আইনে গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে ওষুধ বা অন্য কোনো উপায় ব্যবহার করে গর্ভপাত ঘটানোর ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনার বিধান রয়েছে।   ঘটনার শুরু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন দুই সন্তানের মা রুশো জানতে পারেন, তিনি আবারও অন্তঃসত্ত্বা। তবে গর্ভধারণের কত সপ্তাহ পার হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর নিশ্চিত ধারণা ছিল না।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশো ওই গর্ভধারণ অব্যাহত রাখতে চাননি। এ কারণে তিনি রেনো শহরের একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করানোর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে তাঁর গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হতে পারেননি।   পরে ইন্টারনেটে গর্ভপাতের উপায় খুঁজতে শুরু করেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশো ভারী জিনিস তোলা এবং অতিরিক্ত দারুচিনি খাওয়ার মতো কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী সময়ে আদালতে জানান, দারুচিনি খাওয়ার কারণে গর্ভপাত ঘটে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।   ওই বছরের এপ্রিল মাসে রুশোর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। তিনি একটি মৃত পুত্রসন্তান প্রসব করেন। শিশুটির নাম রেখেছিলেন অ্যাবেল। পরে সন্তানের মরদেহ নিজ বাড়ির পেছনের উঠানে সমাহিত করেন।   ঘটনার প্রায় এক মাস পর এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৬ মে কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। তিন দিন পর রুশোকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তদন্তের সময় শিশুটির দেহাবশেষে মেথামফেটামিন ও মারিজুয়ানার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, রুশো ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবহার করেছিলেন।   তবে মামলার শুনানিতে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সেগুলোর কারণে গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল, এমন প্রমাণ নেই। শিশুটির মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণও নিশ্চিত করা যায়নি।   রুশো স্বীকার করেছিলেন, তিনি নিয়মিত মারিজুয়ানা এবং মাঝেমধ্যে মেথামফেটামিন ব্যবহার করতেন। তবে গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে এসব মাদক গ্রহণ করেছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।   ২০১৯ সালে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত ডিফেন্স আইনজীবীর পরামর্শে রুশো অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।   লাস ভেগাসের ফ্লোরেন্স ম্যাকক্লুর উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারে বন্দি অবস্থায় তাঁকে অন্য কয়েদিদের কাছ থেকে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অনেকেই তাঁকে নিজের সন্তান হত্যাকারী হিসেবে দেখতেন।   পরবর্তী সময়ে প্রজনন অধিকারবিষয়ক আইনজীবী লরা ফিটজসিমন্স তাঁর মামলার বিষয়ে জানতে পারেন। তিনি রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেন।   নতুন আইনজীবীর যুক্তি ছিল, রুশোর মাদক ব্যবহারের কারণে গর্ভপাত ঘটেছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। একই সঙ্গে রুশো নিজেই জানতেন না তাঁর গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ পার হয়েছিল কি না।   আইনজীবীরা আরও বলেন, আগের ডিফেন্স আইনজীবী তাঁকে যথাযথ আইনি সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই যুক্তির ভিত্তিতে ২০২১ সালে তাঁর দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়।   একই বছরের ৮ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান রুশো। তত দিনে দুই বছরের বেশি সময় তাঁকে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছে।   দণ্ডাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে বিচারক চার্লস ম্যাকগি মামলাটিকে বিচারব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, দারিদ্র্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন রুশো।   মুক্তির পরও রুশোর দুর্ভোগ শেষ হয়নি। কারাভোগের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে।   দ্য নেভাদা ইনডিপেনডেন্টকে তিনি জানিয়েছেন, কারাগারে থাকার সময় তাঁর দুই সন্তানও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন।   এদিকে চলতি বছরের মার্চে রুশোর আইনজীবীরা হামবোল্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং তিনি গুরুতর মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।   দীর্ঘ আলোচনার পর আগস্ট মাসে ১৬ লাখ ডলারে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। সম্প্রতি সেই অর্থ পেয়েছেন রুশো।   এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেভাদা রাজ্য সরকারও তাঁকে এক লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটি হামবোল্ট কাউন্টির সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা থেকে আলাদা।   তবে এত অর্থ পাওয়ার পরও হারিয়ে যাওয়া সময় এবং পরিবারের ওপর পড়া ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রুশো।   ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে বাড়ির খরচ মেটানো, নতুন ব্যবসা শুরু করা এবং মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   এই মামলায় আরও একটি বিতর্কিত অভিযোগ সামনে এসেছে। রুশোর আইনজীবীদের দাবি, তদন্তে যুক্ত একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা গর্ভে মারা যাওয়া শিশুটির দেহাবশেষ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। পরে তিনি অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাওয়ার সময়ও তা সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।   সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ সমঝোতার অংশ হিসেবে ওই দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ আদালতে আলাদাভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।   রুশোর মামলা যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতসংক্রান্ত আইন এবং গর্ভের সন্তান হারানোর ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ আনার সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   নেভাদার যে আইনের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটি ১৯১১ সালে প্রণীত। প্রজনন অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীদের মতে, আইনটির প্রয়োগ গর্ভপাত ও স্বাভাবিক গর্ভপাতের মধ্যকার পার্থক্য নির্ধারণে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।   তবে রুশোর দণ্ডাদেশ বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত নেভাদার সংশ্লিষ্ট আইনটি অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। তাঁর মামলায় পর্যাপ্ত আইনি প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি দণ্ডাদেশ বাতিলের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল।   দীর্ঘ আট বছর পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মাধ্যমে রুশোর আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে কারাভোগের কারণে তাঁর পরিবার যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা এখনো তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:২৫
মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
বিশ্ব পর্যটন মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অর্জন, এশিয়ার দায়িত্বে ডাল্টন জহির

বাংলাদেশের পর্যটন ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সহযোগী সদস্য আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি ডাল্টন জহির নামে পরিচিত, তাকে নিয়োগ দিয়েছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ৭ ও ৮ অক্টোবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।   নতুন দায়িত্বে ডাল্টন জহির এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ভিডিও নির্মাতা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করবেন। পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্র ও ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার বিষয়টি তার দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় এশিয়ার নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি কাজ করবেন।   এই দায়িত্বের মাধ্যমে এশিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারণার সঙ্গে বাংলাদেশের একজন পেশাজীবীর সরাসরি সম্পৃক্ততা তৈরি হলো। ডাল্টন জহির আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের কার্যক্রম সম্পর্কে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রচার করবেন এবং পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরতে সহযোগিতা করবেন।   আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির পরিচালক আলেকজান্ডার ভি. কামেল জানিয়েছেন, ডাল্টন জহিরের নিয়োগ এশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করবে। পর্যটন প্রচারণায় মানসম্মত ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ডাল্টন জহিরের রয়েছে পর্যটন, আতিথেয়তা, গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশীয় পর্যটন খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে একজন পর্যটন পেশাজীবী, লেখক ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত করা হয়েছে।   তার পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেডের হোটেল ব্যবসায় বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় হোটেল ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানে তিনি নির্বাহী পর্যায়ে কাজ করেছেন। বহুজাতিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।   পর্যটনভিত্তিক গণমাধ্যম ও ভ্রমণ প্রচারণার ক্ষেত্রেও ডাল্টন জহির দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ভ্রমণ ও পর্যটনকেন্দ্রিক একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগও বিস্তৃত। পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশিত হয়েছে।বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনকে তুলে ধরার পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের পর্যটন পেশাজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। ডাল্টন জহির লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন বিষয়ে তার পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যটন, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাকে নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে।   আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটন ও করপোরেট চলচ্চিত্র উৎসবকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে। পর্যটন গন্তব্য, পর্যটন পণ্য ও পর্যটনসেবার প্রচারে মানসম্মত ভিডিও নির্মাণকে উৎসাহ দেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।   এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং ভিডিও নির্মাতারা তাদের নির্মিত প্রচারচিত্র জমা দিতে পারেন। বিভিন্ন উৎসবে অর্জিত পুরস্কার ও পয়েন্টের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তালিকা তৈরি হয় এবং বছরের সেরা পর্যটন চলচ্চিত্রগুলোকে বিশ্ব পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।   বর্তমান সময়ে পর্যটন প্রচারণায় ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। একটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, মানুষের জীবনযাপন এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অল্প সময়ের একটি ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ফলে পর্যটন শিল্পে চলচ্চিত্র ও ভিডিও এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, একটি দেশের পর্যটন পরিচিতি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।   এই বাস্তবতায় এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ডাল্টন জহিরের দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য অঞ্চল, নদী, গ্রামীণ জীবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, লোকসংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের খাবার ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানের দৃশ্যভিত্তিক গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   একই সঙ্গে বাংলাদেশের নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্মাতাদের সঙ্গে নিজেদের কাজের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনভিত্তিক ভিডিও ও চলচ্চিত্রের পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   এশিয়ার পর্যটন খাত বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের পর্যটন গন্তব্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও এবং ডিজিটাল গল্প বলার কৌশল ব্যবহার করছে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও আধুনিকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।   ডাল্টন জহিরের নতুন দায়িত্ব সেই আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তার মাধ্যমে এশিয়ার পর্যটন প্রতিষ্ঠান, নির্মাতা ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্মগুলোর যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।   বাংলাদেশের একজন পর্যটন পেশাজীবীর এশিয়া অঞ্চলের এমন একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পাওয়া দেশের পর্যটন খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর মাধ্যমে শুধু ডাল্টন জহিরের ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক পরিচিতিই বাড়েনি, বাংলাদেশের পর্যটন ও গন্তব্য প্রচারণার জন্যও আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন একটি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:৮
নিউইয়র্কে বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড পাবেন যেখানে, জেনে নিন যোগাযোগ ও আবেদনের নিয়ম
নিউইয়র্কে বিনামূল্যে লিগ্যাল এইড পাবেন যেখানে, জেনে নিন যোগাযোগ ও আবেদনের নিয়ম

নিউইয়র্কে বসবাসকারী কম আয়ের বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাসা ভাড়া নিয়ে বিরোধ, উচ্ছেদের নোটিশ, ইমিগ্রেশন সমস্যা, বেতন না পাওয়া, ফ্যামিলি কোর্ট কিংবা গার্হস্থ্য সহিংসতার মতো বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি অর্থায়নপ্রাপ্ত ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইনি পরামর্শ এবং যোগ্য ব্যক্তিদের আদালতে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করে। অনেক সেবা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে পাওয়া যায়। তবে সব ধরনের মামলায় প্রত্যেকের জন্য বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।   নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব সিভিল জাস্টিস, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ এবং লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি এসব সেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ফোন বা অনলাইনে যোগাযোগ করে নিজের আইনি সমস্যার ধরন জানাতে হয়। এরপর আয়ের পরিমাণ, বসবাসের এলাকা, মামলার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুযায়ী সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়।   নিউইয়র্ক সিটির হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধীনে পরিচালিত অফিস অব সিভিল জাস্টিস বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সেবা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে হাউজিং কোর্ট, ইমিগ্রেশন এবং চাকরিসংক্রান্ত কিছু মামলায় এই সহায়তা পাওয়া যায়। সিটির তথ্য অনুযায়ী, এসব সেবা পেতে আগে থেকে এইচআরএর কোনো বেনিফিট গ্রহণকারী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যোগ্য ব্যক্তিরা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষেও সেবা পেতে পারেন।   যাঁরা বাসা থেকে উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েছেন কিংবা বাড়িওয়ালার সঙ্গে গুরুতর বিরোধে জড়িয়েছেন, তাঁরা ৩১১ নম্বরে কল করে টেন্যান্ট হেল্পলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া হাউজিং কোর্ট অ্যানসার্সের ৭১৮-৫৫৭-১৩৭৯ নম্বরে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়।   নিউইয়র্ক সিটির ইউনিভার্সাল অ্যাকসেস টু লিগ্যাল সার্ভিসেস আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ভাড়াটিয়ারা হাউজিং কোর্টের যোগ্য উচ্ছেদ মামলায় বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রাখেন। এই সুবিধা পেতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাধা নয়। তবে মামলাটি নির্ধারিত ধরনের হতে হবে এবং আয়ের শর্ত পূরণ করতে হবে।   দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি নিউইয়র্কের অন্যতম বড় অলাভজনক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান। প্রায় দেড় শ বছর ধরে সংস্থাটি কম আয়ের বাসিন্দাদের বিভিন্ন আইনি সমস্যায় সহায়তা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে হাউজিং, ইমিগ্রেশন, ক্রিমিনাল ডিফেন্স, শিশু ও পরিবারসংক্রান্ত মামলা এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিরোধ।   প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ যোগাযোগ নম্বর ২১২-৫৭৭-৩৩০০। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যা অনুযায়ী সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে।   বিশেষ করে ডিপোর্টেশন, ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা, সিটিজেনশিপ এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন সমস্যায় লিগ্যাল এইড সোসাইটির অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর মামলা গ্রহণ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত এবং আইনজীবীর প্রাপ্যতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ, সংক্ষেপে এনওয়াইএলএজি, কম আয়ের ব্যক্তিদের বিভিন্ন সিভিল আইনি সমস্যায় বিনামূল্যে সহায়তা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি হাউজিং, কনজিউমার ডেট, ইমিগ্রেশন, পাবলিক বেনিফিটস, পারিবারিক সমস্যা এবং আর্থিক পরামর্শের মতো বিষয়ে কাজ করে।   এনওয়াইএলএজির সাধারণ যোগাযোগ নম্বর ২১২-৬১৩-৫০০০। প্রতিষ্ঠানটির অফিস ম্যানহাটনের ১০০ পার্ল স্ট্রিটের ১৯ তলায়। তবে সরাসরি অফিসে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফোনে যোগাযোগ অথবা অনলাইন ইনটেক ফর্ম পূরণের মাধ্যমে সহায়তার আবেদন শুরু করতে হয়।   নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে সেবা প্রদানকারী আরেকটি প্রতিষ্ঠান লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি। কম আয়ের বাসিন্দারা এখান থেকে বিভিন্ন সিভিল আইনি বিষয়ে বিনামূল্যে সহায়তা চাইতে পারেন।   প্রতিষ্ঠানটির হটলাইন নম্বর ৯১৭-৬৬১-৪৫০০। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফোন করা যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন ভাষায় ইনটেক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।   লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির ব্রুকলিন অফিসের নম্বর ৭১৮-২৩৭-৫৫০০, ব্রঙ্কসের ৭১৮-৯২৮-৩৭০০, ম্যানহাটনের ৬৪৬-৪৪২-৩১০০, কুইন্সের ৩৪৭-৫৯২-২২০০ এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ৭১৮-২৩৩-৬৪৮০।   তবে শুধু ফোন করলেই আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় না। প্রথমে একজন ইনটেক স্পেশালিস্ট আবেদনকারীর সমস্যা, পারিবারিক আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করতে পারবে কি না, তা জানানো হয়।   ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্সের বিশেষ হটলাইনেও যোগাযোগ করা যায়। নম্বর ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ইমিগ্রেশন লিগ্যাল বললেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়।   এই হটলাইন থেকে নিজের এলাকার কাছাকাছি সিটি ফান্ডেড ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারের তথ্য পাওয়া যায়। তবে হটলাইন কর্তৃপক্ষ সরাসরি আইনজীবীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পর পরবর্তী সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়।   অনেকের প্রশ্ন, ফ্রি লিগ্যাল এইড পেতে কত আয় থাকতে হবে?   এ ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট আয়ের সীমা নেই। তবে কিছু সিটি ফান্ডেড ইমিগ্রেশন কর্মসূচিতে পরিবারের আয় ফেডারেল পভার্টি লেভেলের ২০০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হয়।   ২০২৬ সালের ফেডারেল হিসাব অনুযায়ী, এই সীমা একজনের পরিবারের জন্য বছরে ৩১ হাজার ৯২০ ডলার, অর্থাৎ মাসে ২ হাজার ৬৬০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের জন্য বছরে ৬৬ হাজার ডলার বা মাসে ৫ হাজার ৫০০ ডলার।   তবে হাউজিং, ফ্যামিলি কোর্ট কিংবা অন্য আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে ভিন্ন আয়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। কোনো কোনো কর্মসূচিতে পারিবারিক পরিস্থিতি ও মামলার ধরন বিবেচনায় অতিরিক্ত শর্তও রয়েছে। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   ফ্যামিলি কোর্টে সন্তানের কাস্টডি, চাইল্ড সাপোর্ট অথবা অর্ডার অব প্রোটেকশন সংক্রান্ত সমস্যায় নিউইয়র্ক স্টেট কোর্ট সিস্টেমের ভলান্টিয়ার লইয়ার প্রোগ্রাম এবং আদালতের হেল্প সেন্টারগুলো থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও সীমিত আইনি পরামর্শ পাওয়া যেতে পারে।   তবে বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া এবং পুরো মামলায় একজন আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব পাওয়া এক বিষয় নয়। কিছু কর্মসূচিতে আইনজীবীরা আদালতের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া, ফর্ম পূরণে সহায়তা কিংবা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু পুরো মামলার দায়িত্ব নেন না।   আবেদন করার আগে নিজের পরিচয়পত্র, বর্তমান ঠিকানা, আয়ের প্রমাণ এবং আইনি সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। উচ্ছেদের নোটিশ, কোর্টের কাগজ, চাকরির পে-স্টাব, লিজ অথবা ইমিগ্রেশন নোটিশ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দিতে হতে পারে।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ভাষাগত সহায়তা। অনেক প্রতিষ্ঠানে দোভাষীর মাধ্যমে নিজের সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ রয়েছে। ইংরেজিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে ফোন করার শুরুতেই বাংলা ভাষায় সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো যেতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে সব সময় সরাসরি বাংলাভাষী কর্মী পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   আইনি সহায়তা নিতে গিয়ে প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব সিভিল জাস্টিস জানিয়েছে, সিটির পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সেবা প্রদানকারী কোনো আইনজীবী সেই সেবার জন্য অর্থ দাবি করবেন না।   কেউ অফিস অব সিভিল জাস্টিস কিংবা রাইট টু কাউন্সেল কর্মসূচির পরিচয় দিয়ে টাকা চাইলে বিষয়টি যাচাই করতে হবে। এ ধরনের সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে সিটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও অভিযোগ জানানো যায়।   নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিনামূল্যে আইনি সহায়তার চাহিদা অনেক বেশি। ফলে সব যোগ্য আবেদনকারীকে সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবী দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক সময় আবেদন গ্রহণের পর পরবর্তী যোগাযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।   তাই কোনো কোর্ট হিয়ারিংয়ের তারিখ থাকলে, বাসা ছাড়ার নোটিশ পেলে কিংবা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জরুরি সমস্যা দেখা দিলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত। আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চললেও আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার দায়িত্ব আবেদনকারীর থাকে।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এসব সেবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই আইনজীবীর উচ্চ ফি বহনের সামর্থ্য না থাকায় আইনি সহায়তা নিতে দেরি করেন। অথচ যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে পরামর্শ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে সহায়তা এবং কিছু মামলায় আদালতে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   আইনি সমস্যার ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করাই প্রথম পদক্ষেপ। হাউজিং সমস্যায় ৩১১ বা টেন্যান্ট হেল্পলাইন, ইমিগ্রেশন সমস্যায় ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ এবং অন্যান্য সিভিল আইনি বিষয়ে লিগ্যাল এইড সোসাইটি, এনওয়াইএলএজি অথবা লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।   এই প্রতিবেদনটি নিউইয়র্ক সিটি সরকার, নিউইয়র্ক স্টেট কোর্টস, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, এনওয়াইএলএজি এবং লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এটি সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। সেবার যোগ্যতা, কর্মসূচির পরিধি এবং যোগাযোগের সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৮:৪৫
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার অপরিচিত মানুষদের সাহায্য করতে গিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক মুসলিম তরুণ। নিহতের নাম হেজাম হুসেইন। তিনি মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরের বাসিন্দা ছিলেন। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) গভীর রাতে সাউথফিল্ড এলাকায় লজ ফ্রিওয়েতে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সাহায্য করার সময় আরেকটি গাড়ির ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার ডিয়ারবর্নে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তরুণের এমন মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস ডেট্রয়েট জানিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে সাউথফিল্ডের নাইন মাইল রোডের কাছে এম-১০ লজ ফ্রিওয়ের দক্ষিণমুখী অংশে দুটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর একটি গাড়ি বিকল হয়ে হাইওয়ের বাঁ পাশের দুটি লেন আটকে দেয়।   ঠিক সেই সময় ওই হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলেন হেজাম হুসেইন। দুর্ঘটনাটি দেখে তিনি নিজের গাড়ি রাস্তার ডান পাশের শোল্ডারে থামান। এরপর গাড়ি থেকে নেমে হাইওয়ে পার হয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মানুষদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান।   পুলিশ জানিয়েছে, হুসেইন প্রথম দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি কেবল বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে গাড়ি থামিয়েছিলেন।   কিন্তু সাহায্য করার সময়ই ঘটে আরেকটি দুর্ঘটনা। হাইওয়ে দিয়ে আসা একটি গাড়ির চালক সামনে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ সামলাতে গিয়ে তাঁর গাড়িটি হুসেইনকে ধাক্কা দেয়।   গুরুতর আহত অবস্থায় হুসেইনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন মিশিগান স্টেট পুলিশ, সাউথফিল্ড পুলিশ এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টের জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাস্থলেই তাঁকে সিপিআরসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, যে চালকের গাড়ির ধাক্কায় হুসেইনের মৃত্যু হয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বরং সেখানে অবস্থান করে তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেছেন।   প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার সঙ্গে অ্যালকোহল কিংবা মাদকের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।   এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) ডিয়ারবর্নে হেজাম হুসেইনের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা তাঁকে শেষবিদায় জানাতে উপস্থিত হন।   তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা। তাঁদের কাছে হুসেইন ছিলেন শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা একজন তরুণ।   সিবিএস ডেট্রয়েটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুসেইনের চাচাতো ভাই আবদুল গালেব জানান, অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করার জন্য গাড়ি থামানোর ঘটনা হুসেইনের স্বভাবের সঙ্গেই মিলে যায়। তিনি সব সময় অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে চাইতেন।   হুসেইনের বন্ধু মোহাম্মদ হাসান ও হাচ আলসায়েদিও তাঁকে একজন দয়ালু ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, হুসেইনের ব্যবহার ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে পরিচিতজনদের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল।   হুসেইনের সাবেক একজন শিক্ষকও তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, হুসেইন ছিলেন শান্ত, বিনয়ী, ভদ্র ও শ্রদ্ধাশীল একজন শিক্ষার্থী। অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতাও তাঁর মধ্যে ছিল।   দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কেনেডি মনক্রিফ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিআইভি লোকাল ফোরকে জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর বান্ধবী একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে প্রথম দুর্ঘটনাটি দেখতে পান। এরপর তাঁরা রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন।   কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটি গাড়ি এসে থামে। সেই গাড়ির চালক ছিলেন হেজাম হুসেইন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে আরেকটি গাড়ি ধাক্কা দেয়।   প্রত্যক্ষদর্শী মনক্রিফ হুসেইনকে একজন নিঃস্বার্থ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অপরিচিত মানুষের বিপদে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে হুসেইন মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।   হুসেইনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া করেছেন।   অনেকে আল্লাহর কাছে হুসেইনকে জান্নাত দান এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেওয়ার প্রার্থনা জানিয়েছেন।   এদিকে দুর্ঘটনার পর হাইওয়েতে অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশের লেফটেন্যান্ট টাই হাওয়ার্ড স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় সাহায্য করতে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। কিন্তু দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা দেখলে নিরাপদ অবস্থান থেকে জরুরি সেবায় ফোন করা উচিত। কারণ পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদে রাস্তা নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম রয়েছে।   মিশিগানের মুভ ওভার আইন অনুযায়ী, জরুরি সেবার গাড়ি নির্ধারিত সতর্কতামূলক আলো জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান করলে অন্য চালকদের পরিস্থিতি অনুযায়ী লেন পরিবর্তন অথবা গতি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।   হেজাম হুসেইনের মৃত্যু তাঁর পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে এসেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর জীবন শেষ হলেও শেষ মুহূর্তে অপরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাটি স্থানীয় কমিউনিটির মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৮:২৩
নিউ ইয়র্কে নতুন সরকারি বেসরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৫১ হাজার ডলার থেকে, সময় সীমিত
নিউ ইয়র্কে নতুন সরকারি বেসরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৫১ হাজার ডলার থেকে, সময় সীমিত

নিউইয়র্কে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্টেট সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে শুরু করে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ানসহ একাধিক পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এসব চাকরির মধ্যে কয়েকটিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পরিবর্তে নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের আবেদনের শেষ সময় ১৩ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে।   নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির পোর্টাল স্টেটজবসএনওয়াইতে ৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুকলিনে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ম্যানহাটনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ। দুটি পদই এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির আওতাভুক্ত। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষায় আবেদন গ্রহণ চলছে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত।   ব্রুকলিনে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ   নিউইয়র্ক স্টেটের ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্রুকলিনের কিংস কাউন্টিতে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ পদে নিয়োগ দিচ্ছে। এই পদের ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৯০ এবং স্যালারি গ্রেড ৬।   সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বার্ষিক বেতন ৩৭ হাজার ৮৬২ থেকে ৪৬ হাজার ৮৪৩ ডলার। এটি একটি ফুলটাইম স্থায়ী পদ। সপ্তাহে সাড়ে ৩৭ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং নিয়মিত কর্মদিবস সোমবার থেকে শুক্রবার।   পদটিতে নির্বাচিত কর্মীকে অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন ডকুমেন্ট যাচাই, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সহায়তার কাজ করতে হবে।   বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর। আবেদনের শেষ সময় ২২ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন করার সময় ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৯০ ব্যবহার করে সরকারি পোর্টালে পদের বিস্তারিত যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি দেখে নিতে হবে।   ম্যানহাটনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সুযোগ   নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ অথবা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনি পদে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।   এই পদের ভ্যাকেন্সি নম্বর ২২৬৫৮৫। কর্মস্থল নিউইয়র্ক কাউন্টি, অর্থাৎ ম্যানহাটন। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ অক্টোবর এবং আবেদনের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর।   এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির আওতায় থাকা এই পদে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে ট্রেইনি পর্যায় থেকেও নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে ট্রেইনি হিসেবে আবেদন করতে পারা মানেই কোনো অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই চাকরি পাওয়া যাবে, এমন নয়। আবেদনকারীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে হবে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান   নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্টে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনও চলমান রয়েছে।   এই পদে কর্মরত ব্যক্তিরা ৯১১ ইমার্জেন্সি কল গ্রহণ, জরুরি সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন।   পরীক্ষার নম্বর ৭৩০৭। প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৫১ হাজার ৭৯০ ডলার। আবেদনের শেষ সময় ১৩ অক্টোবর ২০২৬ এবং লিখিত পরীক্ষার কার্যক্রম ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   এই পরীক্ষার আবেদন ফি ৬৮ ডলার। তবে বেকার ব্যক্তি, নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত আবেদনকারী এবং যোগ্য অন্য কিছু শ্রেণির প্রার্থীদের ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে।   এই পদে রাতের শিফট, সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে কাজের সময়সূচি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সরকারি চাকরিতে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ   নিউইয়র্ক স্টেটের এনওয়াই হেল্পস কর্মসূচির অন্যতম সুবিধা হলো, অন্তর্ভুক্ত পদগুলোতে সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পাওয়া যায়।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল সার্ভিস জানিয়েছে, এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা পূরণকারী ব্যক্তিদের স্থায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।   তবে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ইন্টারভিউ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ থাকলেও চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।   অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের বার্ষিক বেতন ৪২ হাজার ২০৯ থেকে ৬১ হাজার ৭৬ ডলার।   প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনি ১ পদে আবেদন করতে অন্তত ছয় মাসের প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। ট্রেইনি ২ পদের জন্য এক বছর এবং পূর্ণাঙ্গ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ১ পদের জন্য দুই বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে।   নির্দিষ্ট বিষয়ে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি বা স্বীকৃত সার্টিফিকেশন থাকলে অভিজ্ঞতার শর্তে বিকল্প যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।   এই পদের কাজের মধ্যে রয়েছে আইনি নথি ব্যবস্থাপনা, অফিসের প্রশাসনিক সহায়তা, ডেটা এন্ট্রি, রিপোর্ট প্রস্তুত এবং অ্যাটর্নিদের প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কাজে সহযোগিতা করা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা স্পনসর করবে না।   বেসরকারি খাতেও চাকরির বিজ্ঞপ্তি   সরকারি চাকরির পাশাপাশি নিউইয়র্কের বেসরকারি খাতেও বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।   চাকরির প্ল্যাটফর্ম জব টুডের একটি সংকলনে ম্যানহাটনে ১৬১টি ক্যারিয়ার জব এবং নিউইয়র্ক স্টেটে ১৮৯টি চাকরির বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলো ৮ অক্টোবর নতুন প্রকাশিত স্বতন্ত্র শূন্যপদের সংখ্যা হিসেবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এছাড়া রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের এক্সিকিউটিভ শেফ পদে বছরে ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ডলার বেতনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বোনাসের সুযোগের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার বর্তমান বিজ্ঞপ্তি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই পদটি এখনো আবেদন গ্রহণ করছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা প্রয়োজন।   একইভাবে এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসে স্টাফ নার্স নিয়োগের তথ্যও রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পদের নির্দিষ্ট আবেদনসীমা, বেতন ও যোগ্যতার শর্ত নিশ্চিত না হওয়ায় আগ্রহীদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টালে বিজ্ঞপ্তি যাচাই করতে হবে।   আবেদন করবেন যেভাবে   নিউইয়র্ক স্টেট সরকারের চাকরিতে আবেদন করতে স্টেটজবসএনওয়াইয়ের সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে গিয়ে পদের নাম অথবা ভ্যাকেন্সি নম্বর দিয়ে খুঁজতে হবে।   সেখানে কাজের বিবরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদনপদ্ধতি এবং শেষ তারিখ উল্লেখ থাকে।   নিউইয়র্ক সিটির চাকরির জন্য সিটির নিজস্ব ক্যারিয়ার পোর্টাল এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে।   বিশেষ করে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষায় আগ্রহীদের ১৩ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এই পদে নিয়োগের জন্য শুধু আবেদন করাই যথেষ্ট নয়। নির্ধারিত পরীক্ষা ও পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হতে হবে।   এদিকে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সময়সীমার পাশাপাশি আবেদনকারীদের কাজের অনুমতি, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির যাঁরা নতুন চাকরি খুঁজছেন কিংবা বেসরকারি চাকরি থেকে সরকারি খাতে যেতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এনওয়াই হেল্পসের পদগুলো বিশেষভাবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।   তবে সব পদ এন্ট্রি লেভেল নয় এবং সব চাকরির জন্য একই ধরনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় না। ফলে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে পদ নির্বাচন করাই গুরুত্বপূর্ণ।   প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের আবেদন শেষ হবে ২২ অক্টোবর, ম্যানহাটনের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের ১৮ অক্টোবর এবং পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পরীক্ষার আবেদন শেষ হবে ১৩ অক্টোবর।   আবেদনের সময়সীমা কাছাকাছি হওয়ায় আগ্রহীদের নির্ধারিত তারিখের আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৮:১৫
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-১৫ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং বিপুলসংখ্যক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   গত সোমবার (৫ অক্টোবর) হালনাগাদ করা এই প্রতিবেদনের তথ্য বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো বিমান ও ড্রোনের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।   সিআরএস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড, প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বহরে। ইরানের সঙ্গে সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত এই ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি।   গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারানোর তথ্য সামনে আসে। নতুন কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সেই সংখ্যাই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   শুধু রিপার ড্রোন নয়, ইরানের সামরিক অভিযানে আরও তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন হারানোর তথ্যও রয়েছে। এর মধ্যে এমকিউ-৪সি ট্রাইটন দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মানবচালিত যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কথা জানিয়েছে সিআরএস।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবারও ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে।   গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের মিত্রবাহিনীর ভুলবশত গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এ ধরনের ঘটনাকে সামরিক পরিভাষায় ফ্রেন্ডলি ফায়ার বলা হয়।   এরপর ৫ এপ্রিল ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয় বলে জানিয়েছিল ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।   অন্যদিকে গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেগুলো মেরামত করে আবারও সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।   মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমানও ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। গত ১৯ মার্চ ইরানের আকাশে ভূমি থেকে চালানো হামলায় একটি এফ-৩৫এ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।   এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার কারণে এই যুদ্ধবিমান মার্কিন সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।   এছাড়া দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল শত্রুপক্ষের হামলায় একটি এ-১০ বিধ্বস্ত হয় বলে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন। অন্যটি সেপ্টেম্বরে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বিমানগুলোরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।   কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সাতটি কেসি-১৩৫ বিমানের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য রয়েছে। গত ১২ মার্চ ইরাকে দুটি কেসি-১৩৫ বিমান একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। অন্য বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।   এর দুই দিন পর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চের শেষ দিকে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় বিমানটি ক্ষতির মুখে পড়ে। পরবর্তী প্রতিবেদনে বিমানটিতে সরাসরি আঘাত লাগার তথ্যও উঠে আসে।   সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   সিআরএসের হিসাবে, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, একটি এমএইচ-৬০ সি হক এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   এছাড়া বিশেষ সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু বিমানও ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। এপ্রিল মাসে ইরানে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের উদ্ধারের অভিযানের সময় বিমান দুটি ধ্বংস করা হয়েছিল।   তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৮১টি বিমান ও ড্রোনের সবই ইরানের সরাসরি হামলায় ধ্বংস হয়নি। এর মধ্যে কিছু বিমান শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু বিধ্বস্ত হয়েছে দুর্ঘটনায়, আবার কিছু মিত্রবাহিনীর ভুলবশত হামলার শিকার হয়েছে। কয়েকটি বিমান উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় মার্কিন বাহিনী নিজেরাই ধ্বংস করেছে।   একইভাবে ৮১টি বিমানই স্থায়ীভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে, এমন তথ্যও প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিমান ইতোমধ্যে মেরামত করে সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের নাম দেয় অপারেশন এপিক ফিউরি।   মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্য দিয়ে সংঘাত বিস্তৃত হয়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির পর সামরিক তৎপরতা কিছুটা কমলেও পরবর্তী সময়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে।   এই দীর্ঘ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রতিস্থাপন ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে, ১ আগস্ট পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির পরিমাণ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে।   তবে এই হিসাব শুধু বিমান ও ড্রোনের ক্ষতির জন্য নয়। এতে যুদ্ধের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ৮১টি বিমানের ক্ষতির আর্থিক মূল্য এককভাবে ৩৩০ কোটি ডলার বলে ধরে নেওয়া যাবে না।   কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সতর্ক করেছে, যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু সামরিক তথ্য গোপনীয় হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণও কঠিন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন কংগ্রেসকে সামরিক বাজেট, নতুন বিমান কেনা, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামত এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে হতে পারে।   বিশেষ করে ই-৩ সেন্ট্রির মতো পুরোনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঞ্চলের সামরিক প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।   একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নতুন বিমান ও ড্রোন সরবরাহ করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। উৎপাদন সক্ষমতা, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক চাহিদার কারণে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।   মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুধু কতগুলো বিমান ধ্বংস হয়েছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সামরিক গুরুত্ব, প্রতিস্থাপন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের সক্ষমতার ওপর এর প্রভাবও বিবেচনা করতে হয়।   সর্বশেষ কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ড্রোন বহর উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির কতটা স্থায়ী এবং ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কত ব্যয় হবে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৭:৫৪
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিমসহ কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সংখ্যালঘু মুসলিম ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে ভারতের চলমান ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।   বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য নতুন করে যাচাই এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।   নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার এবং একাধিকবার নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করাই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।   অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতিতে গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারা কিংবা তথ্যের অসংগতির কারণে অনেক বৈধ ভোটারের নামও বাদ পড়ছে।   বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু মুসলিম, অভিবাসী শ্রমিক এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহে সমস্যায় পড়া মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা।   ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রায় ১৩ কোটি নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।   তবে বাদ পড়া ১৩ কোটি মানুষের সবাই মুসলিম নন। তাঁদের মধ্যে ঠিক কতজন মুসলিম এবং কতজন বৈধ ভোটার, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভোটার তালিকা থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক মুসলিমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   এদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। দলটির দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।   কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করছে।   বুধবার নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধীকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।   বিক্ষোভে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীরাও অংশ নিচ্ছেন।   বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা তৃতীয় দিনের মতো ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নয়াদিল্লির পাশাপাশি তেলেঙ্গানা, বিহার ও বেঙ্গালুরুতেও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।   আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুলভাবে বাদ পড়া বৈধ নাগরিকদের নাম পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।   এদিকে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও ঝাড়খণ্ডসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ভোটারদের নাম একসঙ্গে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।   গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবাল অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও ওড়িশাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।   অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হিন্দুও রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।   ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।   ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য বারবার জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা নয়।   এর আগে সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানিয়েছিল, ভোটার তালিকায় কারও ধর্মীয় পরিচয়ের তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে ধর্মের ভিত্তিতে কতজনের নাম বাদ পড়েছে, তার সরকারি হিসাবও নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই।   কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যু, স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন, একাধিক নিবন্ধন এবং নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার মতো কারণে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।   তবে সমালোচকেরা বলছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করলেই চলবে না। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে তাঁকে যথাযথ নোটিশ দেওয়া, আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা এবং সহজে নাম পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।   এই বিতর্ক ইতোমধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক আবেদন উঠেছে।   আদালতে আবেদনকারীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের যথাযথভাবে অবহিত না করেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রেও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমস্যায় পড়ছেন।   অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বাদ পড়া ব্যক্তিদের জন্য আপত্তি ও সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে।   বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ভারতের মতো বিশাল গণতান্ত্রিক দেশে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করেছে।   একদিকে নির্বাচন কমিশন নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।   বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব পড়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে লাখ লাখ মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   এ অবস্থায় ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, বাদ পড়া নাগরিকদের ভোটাধিকার পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে ভারতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তও দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৭:৩১
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য আইসিইর
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য আইসিইর, নতুন নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসী গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়াতে আইসিই এজেন্টদের নতুন মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন আগের তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৈনিক তিন হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) দাবি করেছে, অভিবাসী গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তাদের কোনো নির্দিষ্ট কোটা নেই।   বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার আইসিই নেতৃত্ব দেশজুড়ে কর্মরত এজেন্টদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের পুরোনো লক্ষ্য আবারও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আইসিই প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সংখ্যা আরও এক হাজার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে মোট ১৯ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে এজেন্টদের।   সিএনএনকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে সাধারণত অভিযান কম হয় এবং মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক কমসংখ্যক এজেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে দৈনিক তিন হাজারের লক্ষ্য থাকলেও সাপ্তাহিক হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার।   সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ডিপোর্টেশনের উদ্দেশ্যে যত বেশি সম্ভব অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করতে এজেন্টদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।   তবে এই নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সিএনএনের প্রতিবেদনে এটিকে আইসিই নেতৃত্বের মৌখিক নির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য এবারই প্রথম সামনে আসেনি। এর আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আইসিইকে একই লক্ষ্য অর্জনের নির্দেশ দিয়েছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।   তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিন গ্রেপ্তার করার লক্ষ্য পূরণে সংস্থাটি আগেও সমস্যার মুখে পড়েছে। এবার নতুন করে সেই লক্ষ্য সামনে আসায় আইসিইর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সিএনএনের প্রতিবেদনে ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত জুনের শেষ দিকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ জনের কিছু বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছিল আইসিই। ওই সময়ের হিসাবে এটি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা।   নতুন সাপ্তাহিক লক্ষ্য সেই সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তবে লক্ষ্য নির্ধারণ করা আর বাস্তবে সমসংখ্যক অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা এক বিষয় নয়। ফলে প্রতিদিন তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাস্তবে কতটা অর্জন করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   এদিকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা নিয়ে সিএনএনের প্রশ্নের জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র সরাসরি দাবি করেছেন, আইসিইর কোনো গ্রেপ্তার কোটা নেই।   ওই মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও ডিপোর্ট করার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।   তাঁর দাবি, প্রশাসন আইনসম্মত সব উপায় ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন আইন কার্যকর করছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে।   ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে সিএনএনের সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদন এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক নির্দিষ্ট সংখ্যার লক্ষ্য থাকার কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ডিএইচএস এ ধরনের কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।   নতুন নির্দেশনার খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ইমিগ্রেশন নীতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির কিছু নেতার মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁদের গ্রেপ্তার ও ডিপোর্টেশনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   কৃষি ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর খাতের প্রতিনিধিরাও এর আগে জানিয়েছেন, ব্যাপক ইমিগ্রেশন অভিযানের কারণে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কর্মক্ষেত্রেও প্রভাব পড়েছে।   এদিকে অভিযান বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইসিই তাদের বিভিন্ন অফিসে আটক ব্যক্তিদের রাখার জায়গা সম্প্রসারণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছে।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথিতে অভিযান ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব জায়গায় আটক ব্যক্তিদের রাখা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পরিচালনার ব্যবস্থা থাকতে পারে।   তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে জানানো হয়েছে।   অন্যদিকে আইসিই সম্প্রতি গাড়ি থামিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনায় নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এজেন্টদের গাড়ি থামানোর অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মে আইসিই এজেন্টদের দ্রুতগতিতে গাড়ি ধাওয়া করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামানোর অভিযানকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় সংস্থাটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির জন্য নতুন গ্রেপ্তারের লক্ষ্যের খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা যাবে কি না, তা তাঁর নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। দৈনিক গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাড়ানোর খবরের অর্থ এই নয় যে সব অভিবাসী একই ধরনের আইনি ঝুঁকিতে রয়েছেন।   ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা চলমান থাকা, ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকা, অ্যাসাইলামের আবেদন বিচারাধীন থাকা কিংবা বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।   এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনুমোদিত ইমিগ্রেশন লইয়ারের পরামর্শ নেওয়া এবং কোর্টের নোটিশ ও শুনানির তারিখ সম্পর্কে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   সিএনএনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া বিষয় হলো, আইসিই নেতৃত্ব প্রতিদিনের গ্রেপ্তার বাড়ানোর জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু সরকার নির্দিষ্ট গ্রেপ্তার কোটা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।   এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর অভিযান বাস্তবে কতটা বাড়বে এবং দৈনিক তিন হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য অর্জিত হবে কি না, তা পরবর্তী সরকারি পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম থেকে পরিষ্কার হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৭:২০