সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রে পানির বিল এক দশকে ৬২ শতাংশ বেড়েছে, বাড়ছে পরিবারের খরচের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের দৈনন্দিন খরচের তালিকায় পানির বিলও এখন বড় চাপ হয়ে উঠছে। নতুন এক গবেষণা বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমেরিকার বড় পানি সরবরাহ ব্যবস্থাগুলোতে সাধারণ পরিবারের পানির বিল গড়ে ৬২ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধি একই সময়ের মূল্যস্ফীতি ও মুদি পণ্যের দামের বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত হয়েছে।   গবেষণাটি করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ওয়াটার ওয়াচ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০টি বড় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ২০২৫ সালের বিলের সঙ্গে ২০১৫ সালের তথ্য তুলনা করেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বছরে ৬০ হাজার গ্যালন পানি ব্যবহারকারী একটি সাধারণ পরিবারের গড় পানির বিল ছিল প্রায় ৫৩১ ডলার।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশকে পানির বিল বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হারের প্রায় ১ দশমিক ৬ গুণ এবং মুদি পণ্যের দামের বৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি হারে।   একই সময়ে পানির বিলের বৃদ্ধি গড় পরিবারের আয় বৃদ্ধির চেয়েও ১৯ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে খাবার, বিদ্যুৎ, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি পানির বিল সামলাতেও বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বেসরকারি মালিকানাধীন পানি ব্যবস্থার গ্রাহকেরা সরকারি মালিকানাধীন ব্যবস্থার গ্রাহকদের তুলনায় বেশি অর্থ দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে করপোরেট মালিকানাধীন পানি ব্যবস্থায় সাধারণ পরিবারের বিল সরকারি ব্যবস্থার তুলনায় গড়ে ৬৭ শতাংশ বেশি ছিল, যা বছরে প্রায় ৩২৯ ডলার অতিরিক্ত খরচের সমান।   তবে সব শহর বা রাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি তুলনামূলক কম খরচের পানি ব্যবস্থায় সাধারণ পরিবারের বার্ষিক বিল ২৬০ ডলারের নিচে ছিল। এসব ব্যবস্থাই ছিল সরকারি মালিকানাধীন। জর্জিয়া ও ফ্লোরিডার বেশ কয়েকটি পানি ব্যবস্থা এই কম খরচের তালিকায় রয়েছে।   আটলান্টার জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শহরটির পানি অবকাঠামো অনেক পুরোনো এবং হাজার হাজার মাইল পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। গতকাল আটলান্টা সিটি কাউন্সিল পানি অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরঞ্জামের জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুমোদন করেছে।   শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটলান্টার পানি ব্যবস্থায় প্রায় ৪ হাজার মাইল পাইপ রয়েছে। পুরোনো অবকাঠামো সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে কর্মকর্তারা প্রায় ২০ বছরের একটি পরিকল্পনার কথা জানান, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।   অন্যদিকে আটলান্টা শহরের পানি বিলের বকেয়াও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিটি কাউন্সিলের আলোচনায় প্রায় ২৫ কোটি ডলার বকেয়া পানি বিলের বিষয়টি উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষ বকেয়া আদায়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা, বিলম্ব ফি এবং দীর্ঘদিন বিল না দিলে পানি সংযোগ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।   গবেষণায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, জরিপ করা পানি ব্যবস্থার ৯৩ শতাংশেই নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য পানির খরচকে অসহনীয় বা সামলানো কঠিন বলে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় গড় বার্ষিক পানির খরচ ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ হাজার ৩৮৩ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া ও পেনসিলভানিয়ার একাধিক পানি ব্যবস্থাও সবচেয়ে ব্যয়বহুল তালিকায় রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাড়িভাড়া, গাড়ির খরচ, বিদ্যুৎ, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের সঙ্গে পানির বিলও মাসিক বাজেটের একটি অংশ। বিশেষ করে বড় পরিবার বা সীমিত আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে ছোট ছোট বিল বৃদ্ধিও বছরে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ তৈরি করতে পারে।   পানি সরবরাহের পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার, পরিষেবা এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থার মালিকানা ও পরিচালনার ধরনসহ বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে বিলের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে পানির দাম নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য সহায়তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:২১
কানাডায় অস্ত্রধারী হামলাকারীর কবল থেকে দুই নারীকে রক্ষায় অনন্য সাহসিকতার স্বীকৃতি পেলেন চার পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত
দুই নারীকে অস্ত্রধারীর হাত থেকে বাঁচিয়ে কানাডায় পুরস্কৃত পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত পুলিশ

কানাডায় অস্ত্রধারী এক হামলাকারীর কবল থেকে দুই নারীকে রক্ষায় সাহসিকতার স্বীকৃতি পেয়েছেন পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা ওপিন্দর কুনারসহ চার কর্মকর্তা। একটি দোকানে দুই নারীকে আটকে রেখে তাঁদের একজনকে ছুরিকাঘাত করার পর হামলাকারীকে থামাতে দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তাঁরা। প্রায় দুই বছর আগের ওই ঘটনায় দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার স্বীকৃতি হিসেবে চার কর্মকর্তাকে চিফ কনস্টেবলের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।   ভ্যাঙ্কুভার পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সম্মাননা পাওয়া চার কর্মকর্তা হলেন ওপিন্দর কুনার, রাইলি নেলমেস, ব্রায়ান রগার এবং মাইকেল উ। ঘটনার পর অপরাধস্থলের বিস্তারিত তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর সকালে। ওই সময় জরুরি সেবা নম্বরে একটি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চার পুলিশ কর্মকর্তা। ফোনে জানানো হয়েছিল, এক ব্যক্তি ভ্যাঙ্কুভার শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি রেস্তোরাঁয় ঢুকে মদ ও ছুরি চুরি করেছেন।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি রাস্তার অপর পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়েন। সেখানে তিনি এক নারী কর্মীর ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। ওই নারীকে মাথা, পিঠ ও হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি দোকানের ভেতরেই হামলাকারীর সঙ্গে আটকা পড়েন।   একই দোকানে আরও একজন নারী কর্মী ছিলেন। ফলে দুই নারীই সশস্ত্র হামলাকারীর কাছাকাছি আটকা পড়ে যান। পরিস্থিতি দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠায় পুলিশ কর্মকর্তারা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেন।   প্রথমে হামলাকারীকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন কর্মকর্তারা। প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার না করে তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু পুলিশের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।   এরপর একজন কর্মকর্তা বিদ্যুৎচালিত নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু সেটিও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামাতে পারেনি। তিনি ছুরি হাতে দুই নারীর দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন।   একপর্যায়ে হামলাকারী দুই নারীর দিকে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করলে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন। এতে তাৎক্ষণিক হুমকি থামানো সম্ভব হয় এবং দুই নারীকে আরও হামলার হাত থেকে রক্ষা করা যায়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুলিশ কর্মকর্তারা আহত নারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে শুরু করেন। চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁরা আহতদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তি তাঁর আঘাতের কারণে মারা যান।   ভ্যাঙ্কুভার পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় প্রাণঘাতী হুমকি থামানো এবং দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় কর্মকর্তাদের সাহসী ও দ্রুত পদক্ষেপের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।   সম্মাননাপ্রাপ্ত ওপিন্দর কুনার পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত। তাঁর পাশাপাশি রাইলি নেলমেস, ব্রায়ান রগার এবং মাইকেল উ একই স্বীকৃতি পেয়েছেন। চার কর্মকর্তাই ওই দিনের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।   ঘটনার শুরুতে পুলিশ যে পরিস্থিতির খবর পেয়েছিল, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সেটি দ্রুত বদলে যায়। প্রথমে একটি রেস্তোরাঁ থেকে মদ ও ছুরি চুরির অভিযোগ পাওয়া গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পাশের দোকানে একজন নারী ছুরিকাঘাতের শিকার হন এবং আরেক নারীও হামলাকারীর সঙ্গে ভেতরে আটকা পড়েন।   কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎচালিত নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র ব্যবহার পর্যন্ত একাধিকভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হামলাকারী যখন ছুরি নিয়ে দুই নারীর দিকে এগিয়ে যান, তখন তাঁকে থামাতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।   দুই নারীকে নিরাপদ করার পর আহতদের চিকিৎসার দায়িত্বও নেন কর্মকর্তারা। জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই পুরো পরিস্থিতিতে নেওয়া পদক্ষেপই পরবর্তী তদন্ত ও মূল্যায়নে কর্মকর্তাদের সম্মাননার ভিত্তি হয়েছে।   ঘটনার প্রায় দুই বছর পর তদন্তের বিস্তারিত তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে ওপিন্দর কুনারসহ চার কর্মকর্তাকে চিফ কনস্টেবলের সম্মাননা দেওয়া হলো। প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, হামলাকারীকে থামানো এবং দুই নারীকে আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: দ্য ট্রিবিউন

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:২৪
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের ছাত্র নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২ অক্টোবর ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পার্কিং গ্যারেজের কাছে নজরদারি ক্যামেরায় তাঁকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ডিলানের সঙ্গে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্রও নেই। তাঁকে খুঁজে পেতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ।   ডিলানকে সর্বশেষ ২ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের টেরাপিন ট্রেইল পার্কিং গ্যারেজের কাছে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস ওয়াশিংটন ডিসির ঠিক বাইরে মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে অবস্থিত। নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা ওই দৃশ্যের পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   চার দিন পর, ৬ অক্টোবর ডিলানের নতুন কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সন্ধানে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও কলেজ পার্ক এলাকায় ডিলানকে কেউ দেখে থাকলে কিংবা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।   পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার সময় ডিলানের কাছে তাঁর মোবাইল ফোন ছিল না। সঙ্গে ছিল না মানিব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্র। তবে কেন এসব ব্যক্তিগত জিনিস তাঁর সঙ্গে ছিল না কিংবা সেগুলো কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।   ছেলের সন্ধান চেয়ে পুলিশের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন ডিলানের মা। তিনি বলেন, পরিবার ডিলানকে অনেক ভালোবাসে এবং আশা করছে তিনি নিরাপদে আছেন। পরিবারের একমাত্র চাওয়া, ডিলান যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসেন।   কলেজ পার্ক এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিও বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। গত ২ অক্টোবর ভোর থেকে পরবর্তী সময়ের বাড়ির দরজার ক্যামেরা, গাড়ির ক্যামেরা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য পরীক্ষা করে দেখতে বলেছেন ডিলানের মা। এসব দৃশ্যে ডিলানকে দেখা গেলে সেই তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   পুলিশের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, ডিলানের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি এবং তাঁর চুল কালো। সর্বশেষ নজরদারি ক্যামেরায় যখন তাঁকে দেখা যায়, তখন তাঁর পরনে ছিল মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো রঙের সোয়েটশার্ট, ধূসর রঙের প্যান্ট এবং সাদা জুতা।   ডিলান পার্কিং গ্যারেজের কাছ থেকে এরপর কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ ছিলেন কি না কিংবা ক্যাম্পাসের বাইরে তাঁকে পরবর্তী সময়ে কোথাও দেখা গেছে কি না, সে সম্পর্কেও পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি।   নিখোঁজ হওয়ার কারণ নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ডিলান স্বেচ্ছায় কোথাও গিয়েছিলেন নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশ প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তদন্তকারীরা আপাতত তাঁর সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থানের পরবর্তী সময়ের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।   এই কারণে নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডিলানের মা স্থানীয় বাসিন্দাদের শুধু বাড়ির দরজার ক্যামেরাই নয়, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যও পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কোনো ছোট তথ্যও তাঁর গতিবিধি শনাক্ত করতে কাজে আসতে পারে বলে আশা করছে পরিবার।   বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ডিলানের নতুন ছবি প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর শারীরিক বর্ণনা এবং সর্বশেষ পরনের পোশাকের তথ্যও ছড়িয়ে দিচ্ছে। উদ্দেশ্য, গত কয়েক দিনে কেউ তাঁকে দেখে থাকলে যেন সহজে শনাক্ত করতে পারেন এবং পুলিশকে তথ্য দিতে পারেন।   ডিলানের সঙ্গে মোবাইল ফোন না থাকায় ফোনের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্র সঙ্গে না থাকার কারণে পরিবার ও পুলিশের জন্য তাঁর সম্ভাব্য গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।   এখন পর্যন্ত ২ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে টেরাপিন ট্রেইল পার্কিং গ্যারেজের কাছে নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যটিই ডিলানের সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থান হিসেবে সামনে এসেছে। চার দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, ডিলানের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তাঁকে কোথাও দেখা গেছে, তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে কোনো তথ্য রয়েছে কিংবা নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি কোথায় যেতে পারেন সে বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন, এমন যে কাউকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ডিলানের সন্ধানসংক্রান্ত তথ্য জানাতে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পুলিশের ৩০১-৪০৫-৩৫৫৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চার দিনেও তাঁর সন্ধান না মেলায় পরিবার এখন ছেলের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে, আর পুলিশ সম্ভাব্য তথ্য ও নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:০
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে শিক্ষিকার ছদ্মবেশে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৩ বছর বয়সী অ্যামি জোনস নামের ওই নারী মিলওয়াকির রুফাস কিং হাই স্কুলে বদলি শিক্ষিকার পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন এবং ক্লাসরুমে ঢুকে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সেদিন স্কুলে কিছু নিয়মিত শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় বদলি শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছিলেন, আর এই সুযোগটাই কাজে লাগান অ্যামি। তিনি পর পর তিনটি পিরিয়ডে ক্লাস নেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের লিঙ্গ ও বর্ণের ভিত্তিতে আলাদা করেন এবং আপত্তিকর আচরণ শুরু করেন।   শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বর্ণবাদী মন্তব্য ও অশালীন গালিগালাজ করেন। এমনকি এক শিক্ষার্থীকে বডি-শেম করে 'মোটা ছেলে' বলে ডাকেন এবং ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন যে তারা ভবিষ্যতে 'স্ট্রিপার' বা 'পতিতা' হতে চায় কি না। এছাড়া তিনি নিজের অপরাধমূলক অতীত নিয়ে গর্ববোধ করে শিক্ষার্থীদের বলেন যে জেলে যাওয়া কোনো ব্যাপার নয়।   শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। ঘটনার ছয় দিন পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে উল্টো নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং জানান যে, তিনি বাচ্চাদের অপছন্দ করেন এবং স্রেফ 'মজা করার জন্য' এই কাজ করেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ এবং শিশুদের সামনে ক্ষতিকর বিষয় উপস্থাপনের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার ২১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   এদিকে, আদালতে অ্যামির আইনজীবী মাইকেল চেরনিগলিয়া দাবি করেছেন, তার মক্কেল বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগছেন। ওষুধ সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় তিনি ওষুধ সেবন করতে পারেননি, যার ফলে তার এমন গুরুতর মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে, স্কুলটির অধ্যক্ষ ডোরিন বাডিলো এই ঘটনাকে 'উদ্বেগজনক' আখ্যা দিয়ে স্বীকার করেছেন যে, বদলি শিক্ষক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা স্কুলের নিরাপত্তা ও যাচাইকরণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপিটিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ দেওয়া অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচিতে প্রথমবার অংশগ্রহণের জন্য ৭০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার ৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর জন্য এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। নিয়মটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।    ইমিগ্রেশন আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এরিকসন ইমিগ্রেশন গ্রুপ জানিয়েছে, কোনো এফ-১ শিক্ষার্থীকে প্রথমবার যেকোনো ধরনের ওপিটির জন্য সুপারিশ করার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার দিতে হবে। পরবর্তী প্রতিটি ওপিটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত ফি ৩০ হাজার ডলার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের স্টেম ওপিটির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে।    ওপিটির মাধ্যমে যোগ্য এফ-১ শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কাজে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাস অংশ নিতে পারেন। নির্ধারিত স্টেম বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা শর্ত পূরণ করলে আরও ২৪ মাসের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে প্রথম ওপিটির পর একটি স্টেম এক্সটেনশন নিলে প্রস্তাবিত নতুন ফির মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ডলার।    ব্লুমবার্গ ল জানিয়েছে, অনেক বিদেশি স্নাতক ওপিটির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরে নিয়োগদাতার স্পনসরশিপে এইচ-১বি কর্মসূচিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর এই কর্মসূচির আওতায় কাজের অনুমোদন ছিল।    প্রস্তাবটি সামনে এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সরকারি নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার নথিতে দেখা যায়, ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং ফিস’ শীর্ষক প্রস্তাবটি ২০ আগস্ট পর্যালোচনার জন্য জমা পড়ে। ১১ সেপ্টেম্বর সেই পর্যালোচনা শেষ হয়। নথিতে উদ্যোগটির অবস্থান এখনো প্রস্তাবিত বিধি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।    এরিকসন ইমিগ্রেশন গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি ৮ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর ৩০ দিন জনমত গ্রহণ করা হবে। চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ ও কার্যকর হওয়ার আগে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন ফি আদায় শুরু হবে না। 

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৪১
সিসিটিভি ফুটেজ সহ দোকান।
মিয়ামিতে বাংলাদেশি মালিকের দোকানে পিকআপ ট্রাক ঢুকে নারী আহত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ফ্লোরিডার মিয়ামি-ডেড কাউন্টির নর্থওয়েস্ট এলাকায় একটি পিকআপ ট্রাক দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ায় এক নারী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নর্থওয়েস্ট ৭ম অ্যাভিনিউ ও ১১১তম স্ট্রিটের কাছে কুইক স্টপ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ করা নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পিকআপ ট্রাক হঠাৎ দোকানের সামনের অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। ওই সময় দোকানের ভেতরে অন্তত পাঁচজন মানুষ ছিলেন। ঘটনায় দোকানের তাক, পণ্য ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   আহত নারী তখন তার স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দোকানের ভেতরে ছিলেন। তার স্বামী জোসেফ জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন ট্রাকটি দোকানের ভেতরে ঢুকে গেছে। পরে তিনি তার স্ত্রীকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করতে বলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাক ঢোকার সময় একটি ভিডিও পোকার মেশিন পড়ে ওই নারী আহত হন। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার স্বামী পরে জানান, আঘাত জীবন-সংকটাপন্ন নয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।   দুর্ঘটনার পর দোকানের ভেতরের বেশ কিছু পণ্য ও তাক ভেঙে যায়। দোকানের মালিক এমডি হাসান জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার ডলার হতে পারে। তিনি বলেন, দোকানটি তার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস এবং দ্রুত পরিষ্কার করে আবার ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছেন।   ট্রাকটির চালক ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি গাড়িটি পেছনে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় সেটি সামনে এগিয়ে দোকানের দিকে চলে যায়। তিনি ধারণা করেছিলেন গাড়িটি রিভার্স গিয়ারে ছিল, কিন্তু পরে বোঝা যায় সেটি ড্রাইভ অবস্থায় ছিল।   মিয়ামি-ডেড শেরিফের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করেন। চালককে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা ট্রাফিক জরিমানা করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   দুর্ঘটনার পর দোকানটি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। মালিকের হিসাবে পুরো ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে এবং তিনি পরের সপ্তাহে দোকানটি পুরোপুরি চালু করার আশা করছেন।   মিয়ামি-ডেডে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় মালিকানাধীন ছোট ব্যবসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় এমন দুর্ঘটনা কমিউনিটি পর্যায়েও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে দোকান ও রেস্টুরেন্টের মতো ব্যবসা অনেক অভিবাসী পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হওয়ায় বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতি তাদের জন্য সরাসরি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে। চালকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তদন্তের পর তা পরিষ্কার হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৩২
বাংলাদেশী-আমেরিকান নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন ইজিকেটার প্ল্যাটফর্মকে কিনে নিচ্ছে রাইড শেয়ারিং জায়ান্ট উবার। ছবি: সংগৃহীত
২.৩ বিলিয়ন ডলারে উবার কিনছে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের স্টার্টআপ

বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ ইজিকেটারকে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিচ্ছে উবার টেকনোলজিস। বোস্টনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিং সেবা দিয়ে আসছে। পুরো অর্থ নগদে পরিশোধ করবে উবার। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবারের বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২৩ দশমিক ০৭ টাকা ধরে এই ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। ইজিকেটার অধিগ্রহণের মাধ্যমে করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিংয়ের বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে চাইছে উবার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইজিকেটারের ক্যাটারিং ও ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা কার্যক্রমকে নিজেদের খাবার সরবরাহ ও করপোরেট সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।   ইজিকেটারের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিহাদ রহমান। টেকক্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ করপোরেট কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২২ সালে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন তিনি। এর আগে জেপিমরগ্যান চেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেনারেল ইলেকট্রিকের বিভিন্ন শীর্ষ পদেও কাজ করেছেন তিনি।   ইজিকেটারে যোগ দেওয়ার পর ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন নিহাদ রহমান। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর একই বছরের মে মাসে তাঁকে স্থায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   ইজিকেটারের মূল ব্যবসা করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিংকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ তৈরি করে বড় খাবারের অর্ডার পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের নেটওয়ার্কে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে।   সাধারণ ভোক্তার ব্যক্তিগত খাবারের অর্ডারের তুলনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অফিস ও করপোরেট আয়োজনের অর্ডার সাধারণত বড় হয়ে থাকে। এই বাজারে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে ইজিকেটার। প্রতিষ্ঠানটির বিস্তৃত রেস্তোরাঁ নেটওয়ার্ক এবং বড় করপোরেট অর্ডারের ব্যবসাই উবারের অধিগ্রহণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ইজিকেটারকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার পর করপোরেট ক্যাটারিংয়ের বাজারে কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে উবার। ইজিকেটারের বিদ্যমান ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা কার্যক্রমকে উবারের খাবার সরবরাহ এবং ব্যবসায়িক সেবার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ খাবার সরবরাহের পাশাপাশি বড় প্রতিষ্ঠানের খাবারের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও নিজেদের অবস্থান বাড়াতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।   ইজিকেটারের জন্য নির্ধারিত ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পুরো অর্থ নগদে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে উবারের। তবে চুক্তির ঘোষণা এলেও অধিগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই লেনদেন সম্পন্ন হবে।   প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ইজিকেটারের ক্যাটারিং নেটওয়ার্ককে উবারের বিদ্যমান খাবার সরবরাহ ও করপোরেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার কাজ শুরু হবে।   এই অধিগ্রহণের কেন্দ্রীয় চরিত্রদের একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমান। প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে ইজিকেটারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বড় আর্থিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। জেপিমরগ্যান চেজ এবং জেনারেল ইলেকট্রিকের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইজিকেটারে আসার পর তিন বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পান তিনি।   ২০২৫ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরই স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব তাঁর হাতে দেওয়া হয়। সেই নেতৃত্বাধীন ইজিকেটার এখন ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের নগদ চুক্তিতে উবারের অধিগ্রহণের পথে।   অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে ইজিকেটারের ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁর নেটওয়ার্ক এবং করপোরেট ক্যাটারিং কার্যক্রম উবারের বৃহত্তর ব্যবসায়িক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে করপোরেট খাবারের বড় অর্ডারের বাজারে উবারের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   অন্যদিকে ইজিকেটারের জন্যও উবারের বিদ্যমান খাবার সরবরাহ ও ব্যবসায়িক সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হওয়ার পর সামনে আসবে।   নিহাদ রহমানের জন্যও এই চুক্তি তাঁর পেশাগত পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ২০২২ সালে যে প্রতিষ্ঠানে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন, তিন বছরের মধ্যে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হয়েছেন তিনি। এখন তাঁর নেতৃত্বে থাকা স্টার্টআপটিই ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে উবারের অংশ হতে যাচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৩২
অভিভাবকদের সাথে শিক্ষার্থীদের গ্রুপ ফটো।
নিউইয়র্কে শিশুদের ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ, বাংলাভাষী অভিভাবকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা

নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের ভবিষ্যৎ কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের খরচ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক সিটির NYC Kids RISE Save for College Program বুধবার, ৭ অক্টোবর বাংলাসহ একাধিক ভাষায় বিনামূল্যের তথ্যভিত্তিক কর্মশালার আয়োজন করেছে।   কর্মশালাটির মূল লক্ষ্য হলো নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে পড়া শিশুদের পরিবারকে কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের জন্য সঞ্চয় কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো। আজকের কর্মশালায় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা, উর্দু ও কোরিয়ান ভাষায় সরাসরি অনুবাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   NYC Kids RISE-এর তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসে। অংশগ্রহণকারী চার্টার স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। পরিবারের আয় বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই প্রাথমিক অন্তর্ভুক্তি নির্ধারিত হয় না।   এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য শিশুদের জন্য একটি NYC Scholarship Account তৈরি করা হয়। এই অ্যাকাউন্টে কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকে। পরিবারগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন পুরস্কার ও কমিউনিটি স্কলারশিপের মাধ্যমে সন্তানের অ্যাকাউন্টে আরও অর্থ যোগ করার সুযোগ পেতে পারে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য বাংলায় তথ্য পাওয়ার সুযোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে এবং বাংলা ভাষায় সরকারি বা কমিউনিটি সেবার তথ্য পাওয়া অনেক পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ করে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসীদের দীর্ঘদিনের কমিউনিটি উপস্থিতিও রয়েছে।   আজকের কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন, সন্তানের অ্যাকাউন্ট কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে জানতে পারবেন।   এই ধরনের কর্মসূচি বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হতে পারে। ছোটবেলা থেকে সঞ্চয়ের সুযোগ সম্পর্কে পরিবারকে সচেতন করা ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যয় পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে।   নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য তাই সন্তানের স্কুল ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সরকারি সুবিধাগুলোর পাশাপাশি এই ধরনের সঞ্চয় ও বৃত্তি কর্মসূচির তথ্য নিয়মিত যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   আজকের কর্মশালাটি ৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচিটি নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস ও নিউইয়র্ক সিটির অংশীদারিত্বে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:১২
বৈধ কাজের অনুমতিসম্পন্ন প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা খাতে দ্রুত কর্মজীবন শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বিনা খরচে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ, সনদের পর চাকরিরও সুযোগ, জেনে নিন বিস্তারিত

নিউইয়র্কে হোম হেলথ এইড হিসেবে কাজ শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিনা টিউশন ফিতে প্রশিক্ষণ, নিউইয়র্ক স্টেট স্বীকৃত সনদ এবং চাকরিতে প্রবেশের সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির নতুন অভিবাসীসহ যাদের বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি রয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে দ্রুত কর্মজীবন শুরু করতে চান, তাদের জন্য এসব কর্মসূচি একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ হতে পারে।   তবে সব প্রতিষ্ঠানের শর্ত এক নয়। কোথাও নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক, কোথাও হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন, আবার কিছু কর্মসূচিতে এসএনএপি সুবিধাভোগী হওয়ার শর্ত রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান যোগ্যতা, ক্লাসের তারিখ এবং আসন খালি আছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা জরুরি।   নর্দার্ন ম্যানহাটন ইমপ্রুভমেন্ট করপোরেশন বা এনএমআইসি বর্তমানে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণের একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ দিচ্ছে। তাদের চার সপ্তাহের প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করলে নিউইয়র্ক স্টেট হোম হেলথ এইড সনদ এবং স্টেট কেয়ার রেজিস্ট্রিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চাকরি খোঁজা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সহায়তা দেয়। সনদ পাওয়ার পর এক বছর পর্যন্ত চাকরির সুযোগ খোঁজা এবং চাকরিতে টিকে থাকার সহায়তাও দেওয়া হতে পারে।   অক্টোবর ২০২৬ অনুযায়ী এনএমআইসির পরবর্তী স্প্যানিশ ভাষার হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ অক্টোবরেই হওয়ার কথা এবং ইংরেজি ভাষার পরবর্তী সেশন নির্ধারিত রয়েছে ২০২৭ সালের শীতকালে। ক্লাস সম্পূর্ণ সরাসরি উপস্থিত হয়ে করতে হয়। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ চলে। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর বাসিন্দা হতে হবে, হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি থাকতে হবে এবং বর্তমানে এসএনএপি সুবিধা পেতে হবে। পাশাপাশি বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি, পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকাদানের নথিও লাগতে পারে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে কেয়ারিং প্রফেশনালস হোম কেয়ারের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস, নাসাউ কাউন্টি ও ওয়েস্টচেস্টারের বিভিন্ন স্টেট অনুমোদিত অংশীদার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে হোম হেলথ এইড কোর্সের খরচ বহন করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, যারা প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করবেন, তাদের কোর্সের টিউশন দিতে হয় না। কোর্স শেষ করে নিউইয়র্ক স্টেট সনদ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে চাকরির সুযোগও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অবস্থানভেদে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১ ডলার পর্যন্ত বেতনের কথা উল্লেখ করছে।   নর্থওয়েল হেলথও বছরজুড়ে একাধিক স্থানে বিনা খরচে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তাদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়েছে, কোর্সে ৭৫ ঘণ্টার শ্রেণিকক্ষ প্রশিক্ষণের সঙ্গে ১৬ ঘণ্টার তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ রয়েছে। নিবন্ধিত নার্সদের তত্ত্বাবধানে রোগীর যত্ন, নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, পুষ্টি, রোগীর অধিকার এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের মতো বিষয় শেখানো হয়। নর্থওয়েলের হোম কেয়ার দলে কাজ শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য এই প্রশিক্ষণ চাকরির পথও তৈরি করতে পারে।   সেলফহেল্প কমিউনিটি সার্ভিসেসেরও নিউইয়র্কে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। ম্যানহাটনের ৫২০ এইটথ অ্যাভিনিউ ঠিকানায় তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং কুইন্সসহ অন্যান্য এলাকায়ও হোম কেয়ার সেবা রয়েছে। তবে বিনা খরচে প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট ব্যাচ বা বর্তমান ভর্তি পরিস্থিতি সময়ভেদে বদলাতে পারে। তাই আগ্রহীদের সরাসরি তাদের প্রশিক্ষণ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান সেশন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত।   নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের প্রশিক্ষণ নির্দেশিকাতেও হোম হেলথ এইডকে স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রশিক্ষণযোগ্য পেশা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই বিভাগ এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মসূচি সাধারণ নতুন আবেদনকারীদের জন্য একই ধরনের হোম হেলথ এইড কোর্স নয়। কিছু উদ্যোগ বিশেষভাবে বর্তমানে পার্সোনাল কেয়ার এইড হিসেবে কর্মরতদের হোম হেলথ এইড হিসেবে উন্নীত করার জন্য তৈরি। ফলে শুধু বিনা খরচের অনলাইন কোর্স ভেবে আবেদন না করে নির্দিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা আগে যাচাই করা দরকার।   নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কমপক্ষে ৭৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ থাকতে হয়। এর মধ্যে ৫৯ ঘণ্টা শ্রেণিকক্ষ প্রশিক্ষণ এবং ১৬ ঘণ্টা তত্ত্বাবধানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। প্রশিক্ষণ অবশ্যই নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ বা স্টেট এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।   বেতনের ক্ষেত্রেও হোম হেলথ এইড পেশা নিউইয়র্কে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল একটি প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির সুযোগ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড ও ওয়েস্টচেস্টারে হোম কেয়ার এইডদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ১৯ দশমিক ৬৫ ডলার। নির্দিষ্ট চাকরি, অবস্থান, অভিজ্ঞতা, অতিরিক্ত সময়ের কাজ এবং অন্যান্য সুবিধার ওপর ভিত্তি করে মোট আয় আরও বেশি হতে পারে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির যারা দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ শুরু করতে চান, বিশেষ করে নতুন অভিবাসী নারী ও পুরুষদের জন্য হোম হেলথ এইড একটি সম্ভাবনাময় কর্মজীবনের পথ হতে পারে। তবে কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগে সেটি বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট অনুমোদিত কি না, কোর্স সত্যিই বিনা খরচে কি না, সনদের ধরন কী এবং চাকরির সুযোগ নিশ্চিত নাকি শুধু চাকরি খুঁজে পেতে সহায়তা দেওয়া হবে, এসব বিষয় যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:৫৮
অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে
ফিনিক্সের অ্যাপার্টমেন্টে গভীর রাতে গুলির ঘটনা, গুরুতর আহত এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে বুধবার ভোরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার আঘাত গুরুতর হলেও তিনি বেঁচে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   ঘটনাটি মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাউথ ফিনিক্সের প্যারাডাইস পাল্মস অ্যাপার্টমেন্টে ঘটে। এলাকাটি ৭ম অ্যাভিনিউ ও সাউদার্ন অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি। ঘটনাস্থলের পাশেই ফিনিক্স পুলিশের সাউথ মাউন্টেন প্রিসিন্ট থাকায় কর্মকর্তারা গুলির শব্দ শুনে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান।   পুলিশ পৌঁছানোর পর একজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে দেখতে পায়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হলেও তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।   হামলার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। গুলি কেন চালানো হয়েছে এবং আহত ব্যক্তি হামলাকারীকে চিনতেন কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত হয়নি।   ঘটনার পর পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধানে অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাদের রাইফেল হাতে অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে।   তদন্ত চলাকালে আশপাশের এলাকা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে তদন্তকারীরা নিরাপদে আলামত সংগ্রহ করতে পারেন।   এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও পুলিশ জানায়নি।ফিনিক্স পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শী বা আশপাশের কোনো বাসিন্দার কাছে তথ্য থাকলে তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনার কারণ ও সন্দেহভাজন সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:৪৮
হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলাকে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ বলে বর্ণনা করেছেন জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
৭ অক্টোবরের ইসরাইলিদের স্মরণ বার্ষিকীতে গাজা নিয়ে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনায় মামদানি

হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামলার তৃতীয় বার্ষিকীতে নিহত ইসরায়েলিদের স্মরণ করার পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। বুধবার, ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি ওই হামলাকে “ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডকে “চলমান গণহত্যা” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।   নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের অফিস থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ৭ অক্টোবরের দিনটি বহু নিউইয়র্কারের জন্য গভীর বেদনার। তিনি উল্লেখ করেন, হামাসের ওই হামলায় ১,১০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মামদানি বলেন, অনেক নিউইয়র্কার এখনো সেই ভয়াবহ ঘটনার ক্ষত বহন করছেন।   তবে বিবৃতির পরের অংশে গাজার পরিস্থিতির ওপর জোর দেন মামদানি। তিনি অভিযোগ করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলি সরকারের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংস হয়েছে। মেয়রের বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ হাজারের বেশি শিশু। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনেও গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।   মামদানি তাঁর বিবৃতিতে অ্যাম্বুলেন্স, আবাসিক ভবন ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং সীমান্ত দিয়ে খাদ্য সহায়তা প্রবেশে বাধার অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনার কারণে নিউইয়র্কের বহু বাসিন্দা গভীর শোক ও ক্ষোভের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তার মাধ্যমে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে ওয়াশিংটনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।   মেয়র বলেন, তিন বছর পর এমন একটি বিশ্বকে মেনে নেওয়া উচিত নয়, যেখানে দখলদারিত্ব, বৈষম্য এবং যুদ্ধাপরাধের দায়মুক্তি চলতে থাকে। তাঁর ভাষায়, নিহতদের সম্মান জানাতে এমন একটি বিশ্বের জন্য কাজ করতে হবে, যেখানে প্রত্যেকে স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে।   মামদানির বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “গণহত্যা” শব্দের ব্যবহার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত বিতর্কিত এবং আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেও জটিল। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ওই পরোয়ানা কোনো চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নয়।   ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাস নেতৃত্বাধীন হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। হামলার পর গাজায় বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। তিন বছর পরও সেই হামলার প্রভাব ইসরায়েলি সমাজ ও রাজনীতিতে গভীরভাবে রয়ে গেছে। বুধবার ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠান ও সমাবেশ হয়েছে। একই সময়ে গাজায়ও যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি এবং ধ্বংসের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে শোক প্রকাশ করছেন ফিলিস্তিনিরা।   নিউইয়র্কে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে মামদানির অবস্থান আগেও বিতর্ক তৈরি করেছে। গত কয়েক মাসে তিনি একদিকে ইহুদি নিউইয়র্কারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অ্যান্টিসেমিটিজম মোকাবিলায় সিটি পর্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছেন, অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্য সমালোচনাও অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর প্রশাসনের অ্যান্টিসেমিটিজমবিরোধী পরিকল্পনাকে কিছু ইহুদি সংগঠন স্বাগত জানালেও অন্যরা অভিযোগ করেছে, এতে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের সঙ্গে অ্যান্টিসেমিটিজমের সম্পর্ক যথেষ্টভাবে বিবেচনা করা হয়নি।   ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীতে তাঁর সর্বশেষ বক্তব্য সেই রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। নিউইয়র্ক পোস্ট মামদানির বিবৃতিকে তীব্র সমালোচনার দৃষ্টিতে তুলে ধরেছে এবং অভিযোগ করেছে, তিনি হামলার বার্ষিকীকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তবে মেয়রের নিজস্ব আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলাকে সরাসরি ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ বলা হয়েছে এবং নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলিদের প্রতিও শোক জানানো হয়েছে। ফলে তাঁর বক্তব্যের মূল অবস্থান ছিল একই সঙ্গে ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:৪৮
অনথিভুক্ত অভিবাসী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দেওয়ার নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার মুখে পড়েছে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ মাইগ্রেন্টসদের টিউশন ১৫ হাজার ডলার, মার্কিন শিক্ষার্থীদের ৪২ হাজার! ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা

অনথিভুক্ত অভিবাসী শিক্ষার্থীদের কম ইন-স্টেট টিউশন দেওয়ার নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ডেলাওয়্যারে বসবাসকারী অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৭৪০ ডলার টিউশন দিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও অন্য অঙ্গরাজ্যের মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে প্রায় ৪২ হাজার ৪৭০ ডলার। এই ব্যবধান ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে সরকার।    ১ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেসিডেন্সি নীতি এমন শিক্ষার্থীদের ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা দেয়, যারা ডেলাওয়্যারে বসবাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে নেই। অন্যদিকে ডেলাওয়্যারের বাইরের কোনো মার্কিন নাগরিক একই কম টিউশন রেট পান না। সরকারের অভিযোগ, এই নীতি ফেডারেল আইনের দুটি পৃথক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।    জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের মামলায় বলা হয়েছে, ৮ ইউএসসি ১৬২৩(এ) অনুযায়ী কোনো অঙ্গরাজ্য শুধুমাত্র বসবাসের ভিত্তিতে এমন কোনো পোস্টসেকেন্ডারি শিক্ষা সুবিধা অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দিতে পারে না, যদি সেই একই সুবিধা অন্য অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত না থাকে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের নীতিটি ৮ ইউএসসি ১৬২১(ডি)-এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।    সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারে ডেলাওয়্যার রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীর বার্ষিক টিউশন প্রায় ১৫ হাজার ৭৪০ ডলার। বিপরীতে নন-রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীর টিউশন প্রায় ৪২ হাজার ৪৭০ ডলার। অর্থাৎ বছরে পার্থক্য প্রায় ২৬ হাজার ৭৩০ ডলার। নন-রেসিডেন্টদের টিউশন রেসিডেন্টদের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৭ গুণ বেশি।    জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের দাবি, যোগ্য অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা রেসিডেন্ট হিসেবে কম টিউশন সুবিধা পেতে পারে, কিন্তু ডেলাওয়্যারের বাইরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীরা একই সুবিধা পায় না। সরকার এই ব্যবস্থাকে ফেডারেল আইনের পরিপন্থী বলে আদালতের কাছে নীতিটির প্রয়োগ বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে।    মামলায় আদালতের কাছে এমন একটি আদেশ চাওয়া হয়েছে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান ইন-স্টেট টিউশন নীতি কার্যকর করতে না পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন নতুন কোনো টিউশন নীতিও চালু না করতে বলা হয়েছে, যা অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের এমন সুবিধা দেবে যা একইভাবে সব মার্কিন নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত নয়।    ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অভিযোগটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এখনই এর বেশি মন্তব্য করা হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।    এই মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর জাতীয় উদ্যোগের অংশ। জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৬টি মামলা করেছে তারা। টেক্সাস, কেনটাকি, ওকলাহোমা, নেব্রাস্কা, ইলিনয় ও কানসাসে একই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে আদালত ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষে আদেশ দিয়েছে বলে বিভাগটি জানিয়েছে।    ডেলাওয়্যার মামলায় জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অ্যাসোসিয়েট অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি উডওয়ার্ড বলেন, কংগ্রেস অনেক আগেই পরিষ্কার করেছে যে এমন কম টিউশন সুবিধা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দেওয়া যাবে না, যা সব মার্কিন নাগরিকের জন্য সমভাবে উন্মুক্ত নয়। অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেটও বলেছেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এমন সুবিধা দিতে পারে না যা অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীকে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু মার্কিন নাগরিকদের দেওয়া হচ্ছে না।    তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং আদালত এখনো ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেনি। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বক্তব্যগুলো মামলার অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত আইনি জবাব দেয়নি। মামলার পরবর্তী ধাপে আদালত নির্ধারণ করবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন নীতি ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না এবং নীতিটি পরিবর্তন বা স্থগিত করতে হবে কি না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:৩০
ম্যাডিসন কাইলি মনরো
ফোর্ট ওয়ার্থে তরুণী নিখোঁজ, পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধারের পর নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ

টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে ৩০ বছর বয়সী এক নারী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুলিশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ম্যাডিসন কাইলি মনরোকে সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দেখা গিয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তার গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।   ফোর্ট ওয়ার্থ পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ নারীর নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন এবং তাকে খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছে। তার গাড়ি কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে পাওয়া গেছে, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ম্যাডিসন মনরোর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।   নিখোঁজ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পুলিশ তার সম্ভাব্য চলাচল, যোগাযোগ এবং গাড়ি পরিত্যক্ত হওয়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ করতে পারে।   ফোর্ট ওয়ার্থ ও আশপাশের ডিএফডব্লিউ এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি পুলিশের অনুরোধ, কেউ ম্যাডিসনকে দেখে থাকলে বা তার নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানান। বর্তমানে তার অবস্থান নিশ্চিত নয় এবং তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:২৫
৬ অক্টোবর ২০২৬-এর অপরাধ পরিসংখ্যান ব্রিফিং।
নিউইয়র্কে অপরাধ কমলেও হেট ক্রাইম বেড়েছে, উদ্বেগে পুলিশ ও নগরবাসী আজ

নিউইয়র্ক সিটিতে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সামগ্রিক অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে একই সময়ে হেট ক্রাইম বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি ভিন্ন দিক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   নিউইয়র্কের পুলিশ সদর দপ্তরে মেয়র জোহরান মামদানি এবং পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের অপরাধ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নগরীতে প্রধান অপরাধ প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে নিউইয়র্কে হত্যাকাণ্ড, গুলির ঘটনা এবং গুলিবিদ্ধ মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ সময়ে ২০৩টি হত্যাকাণ্ড এবং ৪৮৯টি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৫৯৪ জন। তিনটি সংখ্যাই রেকর্ড রাখা শুরুর পর প্রথম নয় মাসের জন্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।   শুধু তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবেও অপরাধ কমেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে প্রধান অপরাধ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। হত্যাকাণ্ড কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। গাড়ি চুরি, ডাকাতি, চুরি এবং অন্যান্য কয়েকটি অপরাধেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।   তবে এই ইতিবাচক পরিসংখ্যানের মধ্যেই বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে হেট ক্রাইম। পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম নয় মাসে নিশ্চিত হেট ক্রাইম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ইহুদিবিদ্বেষী অপরাধের সংখ্যা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। মোট নিশ্চিত হেট ক্রাইমের ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ ইহুদি নিউইয়র্কবাসীকে লক্ষ্য করে হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৬৩টি নিশ্চিত হেট ক্রাইমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৫টি ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা। একই সময়ে মুসলিমবিদ্বেষী এবং যৌন অভিমুখভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধও বেড়েছে।   নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেছেন, সামগ্রিক অপরাধ কমলেও হেট ক্রাইমকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বিশেষ করে ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে নগরীর বিভিন্ন ইহুদি প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   নিউইয়র্কের সাবওয়েতেও পরিস্থিতি মিশ্র। বছরের প্রথম নয় মাসে গণপরিবহনে বড় অপরাধ সামান্য বেড়েছে। প্রধান অপরাধের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে গুরুতর হামলার ঘটনা ১১ শতাংশ বেড়েছে। পুলিশ বলছে, গণপরিবহনে সংঘটিত গুরুতর হামলার প্রায় ৪৮ শতাংশের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার নথিভুক্ত ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।   তবে সাবওয়ের সব অপরাধ বাড়েনি। ডাকাতি এবং বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঐতিহাসিকভাবে নিচু পর্যায়ে রয়েছে। একইভাবে সরকারি আবাসন এলাকাগুলোতেও বড় অপরাধ প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বলছে, অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক পুলিশি ব্যবস্থা, অবৈধ অস্ত্র জব্দ, সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   অর্থাৎ, নিউইয়র্কের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির চিত্র একদিকে আশাব্যঞ্জক, অন্যদিকে সতর্কবার্তাও দিচ্ছে। সামগ্রিক অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড ঐতিহাসিকভাবে কমলেও ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও অন্যান্য পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক অপরাধের বৃদ্ধি পুলিশ ও নগর প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:১০
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে বছরব্যাপী বিশেষ এই ক্যাম্পেইন। ছবি: সংগৃহীত
ডিসেম্বর থেকে ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে প্রচার চালানোর পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।   বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।   স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না কর্মসূচি। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি পরামর্শও দেবেন। এর মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও সহজলভ্য করার চেষ্টা করা হবে।   বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা, মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। নতুন এই বছরব্যাপী কর্মসূচিতে সেই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।   একই প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা অবকাঠামো নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি ঢাকায় এবং ১১টি ঢাকার বাইরে বসানো হবে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, ঢাকার বাইরে রেডিওথেরাপি সুবিধা বাড়ানো গেলে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে আসার চাপ কমবে। একই সঙ্গে রোগীরা নিজ নিজ এলাকায় তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।   দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও ব্রিফিংয়ে কথা বলেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।   ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু-পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   সরকারের ঘোষিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি কার্যকর হলে আগামী এক বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ আরও সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মসূচিটির বাস্তবায়ন, সরবরাহব্যবস্থা এবং কত সংখ্যক পরিবার এর আওতায় আসবে, তা পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হবে।  সূত্র : ইত্তেফাক

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৯:৫৮
দুর্ঘটনা'র স্থান।
নিউ জার্সিতে পুলিশের ধাওয়া শেষে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, শিশুসহ তিনজন হাসপাতালে ভর্তি

নিউ জার্সির একটি আবাসিক এলাকায় পুলিশের ধাওয়া শেষ হয়েছে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায়। দুর্ঘটনায় একটি শিশুসহ তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাটি আজ, ৭ অক্টোবর নিউ জার্সিতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।   স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ধাওয়া চলার সময় একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।   আহতদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। আরও দুজন প্রাপ্তবয়স্কও আহত হয়েছেন। তাদের আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার পর এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং ধাওয়ার কারণ ও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।   পুলিশের ধাওয়া কী কারণে শুরু হয়েছিল, অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে এবং দুর্ঘটনার আগে গাড়িটির গতিবিধি কী ছিল, সেসব বিষয় তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   নিউ জার্সিতে পুলিশের ধাওয়ার সময় দুর্ঘটনা নিয়ে নতুন করে জননিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় দ্রুতগতির ধাওয়া হলে পথচারী, শিশু এবং অন্যান্য গাড়িচালকদের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করছে। আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৯:৫২
চার দশক আগে অ্যারিজোনায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরের পরিচয় অবশেষে ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
১৯৮২ সালে পাওয়া দেহাবশেষের পরিচয় মিলল, ৪৩ বছর পর জানা গেল কিশোরের নাম

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অজ্ঞাত থাকা এক কিশোরের দেহাবশেষের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। ১৯৮২ সালে হোয়াইট ট্যাঙ্ক মাউন্টেন রিজিওনাল পার্কের একটি দুর্গম এলাকায় পাওয়া দেহাবশেষটি ছিল মিচেল জন পলির। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট জানিয়েছে, অনুসন্ধানমূলক জেনেটিক জিনিয়োলজি ও পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।   মিচেল জন পলি যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইসে ১৯৬৪ সালে জন্মেছিলেন। পরে তাঁর পরিবার অ্যারিজোনার বাকআই এলাকায় চলে যায়। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে প্রায় ১৪ বছর বয়সে তিনি নিখোঁজ হন। বহু বছর ধরে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই অজ্ঞাত দেহাবশেষের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।   ১৯৮২ সালের ২২ এপ্রিল ফিনিক্সের পশ্চিমে হোয়াইট ট্যাঙ্ক মাউন্টেন রিজিওনাল পার্কের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি খুলিসহ মেরুদণ্ডের কিছু হাড় পাওয়া যায়। ডিএনএ ডো প্রজেক্টের পুরোনো কেস রেকর্ড অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যরা একটি হারিয়ে যাওয়া গান পডের সন্ধানে ওই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় দেহাবশেষটি দেখতে পান।   ঘটনাস্থল থেকে কোনো পোশাক বা ব্যক্তিগত জিনিস পাওয়া যায়নি। সে সময় চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় অনুমান করেছিল, দেহাবশেষটি ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী এক কিশোরের এবং আবিষ্কারের এক থেকে তিন বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরিচয় না মেলায় মামলাটি কয়েক দশক ধরে ‘জন মারিকোপা কাউন্টি ডো’ নামে নথিভুক্ত ছিল।   মারিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিস চলতি বছরের মে মাসে মামলাটি ডিএনএ ডো প্রজেক্টের কাছে পাঠায়। এই অনুসন্ধানে অর্থায়ন করে ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন। এরপর গবেষকেরা ডিএনএ মিলের সূত্র ধরে কিশোরটির পারিবারিক বংশপরিচয় খুঁজতে শুরু করেন।   তদন্তে প্রথমে তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে জার্মানির যোগসূত্র পাওয়া যায়। পরে কেনটাকি ও মিসৌরির বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে ডিএনএ সংযোগ মিলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত গবেষকদের নজর যায় সেন্ট লুইসের কয়েকটি পরিবারের দিকে।   ডিএনএ ডো প্রজেক্টের টিম লিডার মেগান পাসিকার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তাঁরা ১৯৬৪ সালে সেন্ট লুইসে জন্ম নেওয়া এমন এক ছেলের সন্ধান পান, যার পরবর্তী জীবনের কোনো নির্ভরযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে তার পরিবার অ্যারিজোনার বাকআই এলাকায় চলে যায়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটি ছিল ভৌগোলিক অবস্থান। মিচেলের পরিবার যে এলাকায় বসবাস করত, সেখান থেকে দেহাবশেষ পাওয়ার স্থানটির দূরত্ব ছিল মাত্র প্রায় পাঁচ মাইল। এরপর গবেষকেরা তাঁর পারিবারিক পূর্বপুরুষ এবং ‘জন মারিকোপা কাউন্টি ডো’র ডিএনএ ম্যাচের মধ্যে একাধিক সংযোগ খুঁজে পান।   এসব তথ্যের ভিত্তিতে মিচেল জন পলিকে সম্ভাব্য পরিচয় হিসেবে মারিকোপা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিসের কাছে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করে, ১৯৮২ সালে পাওয়া দেহাবশেষটি মিচেলেরই।   ডিএনএ ডো প্রজেক্ট এমন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা অজ্ঞাত মানবদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে সরাসরি কোনো ব্যক্তির ডিএনএ রেকর্ড না থাকলেও দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের ডিএনএ ম্যাচ, পারিবারিক বংশতালিকা, জন্ম ও বসবাসের রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়।   অ্যারিজোনায় দীর্ঘদিন ধরে বহু অজ্ঞাত মৃতদেহের মামলা রয়েছে। ডিএনএ ডো প্রজেক্ট এর আগেও রাজ্যটির একাধিক ‘জন ডো’ ও ‘জেন ডো’র পরিচয় শনাক্ত করতে সহায়তা করেছে।   মিচেলের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় ৪৩ বছরের একটি রহস্যের অবসান হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তিনি ঠিক কখন নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এখন অন্তত কয়েক দশক ধরে অজ্ঞাত থাকা কিশোরটির একটি নাম ফিরে এসেছে, মিচেল জন পলি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৯:৪৬
শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন।
ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে ইন্টারেস্ট কমানোর সুযোগ, অটোপেতে নাম লেখানোর সময় বাড়ল

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধ করছেন এমন ঋণগ্রহীতারা সুদের হার সাময়িকভাবে ১ শতাংশ কমানোর জন্য আরও সময় পাচ্ছেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন অটোপে ব্যবস্থায় নাম লেখানোর সময়সীমা বাড়িয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অটোপেতে যুক্ত হলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই বাড়তি সুদছাড় পেতে পারেন।    এই সুবিধা মূলত তাঁদের জন্য, যারা এখনো প্রতি মাসে ম্যানুয়ালি পেমেন্ট করেন। অটোপেতে নাম লেখালে মাসিক কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে এবং সুদের হারে ১ শতাংশ পয়েন্ট ছাড় পাওয়া যাবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে অটোপে ডিসকাউন্ট আগের ০.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।    সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, যোগ্য ঋণগ্রহীতারা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ইস্টার্ন টাইমের মধ্যে অটোপেতে নাম লেখাতে পারবেন। এর আগে কিছু সার্ভিসারের নোটিশে ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।    এই ছাড় সব ধরনের ঋণে প্রযোজ্য নয়। ফেডারেল লোন সার্ভিসারদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পরে বিতরণ করা নির্দিষ্ট ডাইরেক্ট লোন এই সাময়িক ১ শতাংশ অটোপে ডিসকাউন্টের আওতায় পড়তে পারে। নিজের লোন যোগ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট লোন সার্ভিসারের অ্যাকাউন্টে গিয়ে যাচাই করতে হবে।    উদাহরণ হিসেবে, কারও ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের সুদের হার ৬.৫ শতাংশ হলে যোগ্যতা সাপেক্ষে অটোপেতে যুক্ত হওয়ার পর কার্যকর হার সাময়িকভাবে ৫.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এতে মূল ঋণের চুক্তিভিত্তিক স্থায়ী সুদের হার পরিবর্তন হয় না। বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পেমেন্টে একটি সুদছাড় কার্যকর থাকে।   এই সুবিধা এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন নতুন ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের সুদের হার তুলনামূলকভাবে উঁচু। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রথমবার বিতরণ করা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড লোনের স্থায়ী সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ।   গ্র্যাজুয়েট বা প্রফেশনাল শিক্ষার্থীদের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড লোনের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস লোনের হার ৯.০৭ শতাংশ। ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে সুদ প্রতিদিন জমা হয়। অর্থাৎ ঋণের বকেয়া মূল অর্থ এবং প্রযোজ্য সুদের হার অনুযায়ী প্রতিদিন নতুন সুদ যোগ হতে থাকে। এ কারণে ১ শতাংশ পয়েন্টের ছাড় দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় আনতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের ঋণের পরিমাণ বেশি।    তবে অটোপেতে নাম লেখানোর আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ আছে কি না তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট ব্যর্থ হলে ব্যাংক ফি বা পেমেন্ট-সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের নিজেদের লোন সার্ভিসারের ওয়েবসাইটে গিয়ে অটোপের শর্ত, যোগ্যতা ও কার্যকর তারিখ দেখে নেওয়া উচিত।   ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে একাধিক ঋণ থাকলে কনসোলিডেশন আরেকটি বিকল্প হতে পারে, তবে সেটি কেবল সুদ কমানোর উপায় নয়। ডাইরেক্ট কনসোলিডেশন লোনে একাধিক ঋণকে একটিতে একত্র করা যায়, কিন্তু নতুন সুদের হার সাধারণত আগের ঋণগুলোর ওজনযুক্ত গড়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং তা কাছাকাছি এক-অষ্টমাংশ শতাংশে রাউন্ড করা হয়। ফলে কনসোলিডেশন করলেই সুদের হার কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই।    বর্তমান অটোপে সুবিধার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়সীমা। যারা এখনো ম্যানুয়ালি ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের কিস্তি দিচ্ছেন এবং যোগ্য লোন আছে, তাদের জন্য ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত অটোপেতে নাম লেখানোর সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্ত হলে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১ শতাংশ পয়েন্ট সুদছাড় কার্যকর থাকতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৯:২৭
ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে আইফোন চুরির ঘটনায় এক ভুক্তভোগী নারী আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
এক মাস আগে নারীর আইফোন চুরি, পরে পাসওয়ার্ড চেয়ে নিজেই মেসেজ দিল চোর

ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে আইফোন চুরির একটি ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। কৌশিকী ধ্যানী নামে এক নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর আইফোন চুরি হওয়ার পর ফোনটি যার কাছে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তি উল্টো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিভাইসটির পাসওয়ার্ড চেয়েছে। এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপে পাসওয়ার্ড চাওয়ার স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।    ঘটনাটি গত ১২ সেপ্টেম্বর দেরাদুনের ক্লেমেন্ট টাউন এলাকায় ঘটে বলে কৌশিকীর দাবি। তাঁর আইফোনের পাশাপাশি তাঁর এক বন্ধুর ভাই সক্ষম নেগি এবং আরও কয়েকজনের মোবাইল ফোন চুরি হয়। একই সময় ওই ভবন থেকে ল্যাপটপ, ম্যাকবুক ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসও চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।    কৌশিকীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আইফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর ডিভাইসটিতে একটি যোগাযোগের নম্বর দৃশ্যমান ছিল। সেই নম্বর ব্যবহার করেই ফোনটির দখলে থাকা ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তিনি এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপে আইফোনের পাসওয়ার্ড চেয়ে বার্তা পান বলে অভিযোগ করেন।    বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে আনেন কৌশিকী। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা একটি রিলে তিনি চুরির ঘটনা এবং পরবর্তী বার্তাগুলোর কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, ফোনের অবস্থান ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।   কৌশিকী আরও দাবি করেছেন, ঘটনাটি শুধু তাঁর ফ্ল্যাটে সীমাবদ্ধ ছিল না। একই ভবন থেকে পাঁচ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিনে আশপাশের পেইং গেস্ট আবাসন ও হোস্টেলেও চুরির ঘটনা ঘটে। চুরিগুলো ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।    এলাকায় পরবর্তী কয়েক দিনেও আরও চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। কৌশিকীর দাবি, প্রথম দফার ঘটনার পর একই এলাকায় আরও ১৬টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ক্লেমেন্ট টাউনের লেন নম্বর ৯এ-তেও লাখ লাখ রুপির জিনিসপত্র চুরির আরেকটি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে।    পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কৌশিকী। তাঁর অভিযোগ, চুরির পর থানায় গেলে তাঁদের প্রথমে বলা হয়, দায়িত্বশীল কেউ উপস্থিত নেই এবং পরে আসতে হবে। তিনি আরও দাবি করেছেন, কয়েকটি অভিযোগ গ্রহণ করতেও গড়িমসি করা হয়েছে।   তবে দেরাদুন পুলিশ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যে বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। সিটি পুলিশ সুপার শেখর সুয়াল জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি আমলে নিয়েছে এবং সার্কেল অফিসার বিষয়টি তদন্ত করছেন। তবে ১২ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একই এলাকায় সংঘটিত অন্য চুরিগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি পুলিশ।    ঘটনার সবচেয়ে অস্বাভাবিক দিক হয়ে উঠেছে চুরি হওয়া ফোনের পাসওয়ার্ড চেয়ে মালিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভিযোগ। সাধারণত আইফোনে পাসকোড ও অ্যাক্টিভেশন লক থাকলে ডিভাইসটি পুনরায় ব্যবহার বা বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তদন্তকারীদের জন্য ওই বার্তাগুলো ফোনটির দখলে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।   তবে কৌশিকীর অভিযোগ অনুযায়ী যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাঁর ফোন চুরি করেছে, তাদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাসওয়ার্ড চেয়ে পাঠানো বার্তার প্রেরকই সরাসরি চোর কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। পুলিশ এখন চুরির ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা যায় কি না এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা যাচাই করছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৯:২১
যাত্রী বাস ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
ডেট্রয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিডিওটি বাসে ফ্রিতে যাতায়াত, দেখাতে হবে আইডি কার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এখন শহরের ডিডিওটি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারছে। ‘রাইড টু রাইজ’ কর্মসূচির আওতায় এই সুবিধা চালু করেছে সিটি অব ডেট্রয়েট। বিনামূল্যে রাইডের জন্য কোনো আলাদা বাস পাস, আবেদন বা ফি প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থীকে শুধু বাসে ওঠার সময় স্কুল থেকে দেওয়া বৈধ স্টুডেন্ট আইডি দেখাতে হবে।    ডেট্রয়েট সিটির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি, চার্টার ও বেসরকারি স্কুলে পড়া কে-১২ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির সুবিধা পাবে। স্টুডেন্ট আইডিতে শিক্ষার্থীর নাম, ছবি এবং স্কুলের নাম থাকতে হবে। সাধারণ স্টেট আইডি স্কুল কর্তৃক ইস্যু করা স্টুডেন্ট আইডির বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।    এই সুবিধা শুধু স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা ডিডিওটির নিয়মিত রুট ব্যবহার করে স্কুলের পাশাপাশি আফটার-স্কুল প্রোগ্রাম, কাজ, খেলাধুলার অনুশীলন কিংবা অন্য প্রয়োজনেও বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবে। বাস চলাচলের সময়সীমার মধ্যে সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তেও সুবিধাটি পাওয়া যাবে। শহরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি বছরের ৩৬৫ দিন কার্যকর রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।    ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ডের প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে কর্মসূচিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। পরে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার বাড়ায় এটি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগস্টে সিটি অব ডেট্রয়েট জানায়, ‘রাইড টু রাইজ’ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষজুড়ে চলবে এবং কর্মসূচিটির জন্য মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাজেট থেকে ১০ লাখ ডলার বরাদ্দ পাওয়া গেছে।    সিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দুই মাসে কর্মসূচিটি চালু হওয়ার পর ডিডিওটি বাসে শিক্ষার্থীদের যাত্রীসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছিল। মেয়র শেফিল্ড বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতির পথে পরিবহন যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।    শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ ‘রাইড টু রাইজ অ্যাম্বাসেডর’ কর্মসূচিও যুক্ত করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ জন অ্যাম্বাসেডর বাস, ট্রানজিট সেন্টার এবং বিভিন্ন হাইস্কুলের বাসস্টপে ব্যস্ত সময়ে উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের পাশাপাশি ডিডিওটি এবং ডেট্রয়েট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ট্রানজিট ইউনিটসহ অন্যান্য সিটি কর্মীরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবেন।    ডেট্রয়েট সিটির ভাষ্য, পরিবহন খরচ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল, চাকরি বা বিভিন্ন শিক্ষামূলক সুযোগে অংশ নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই বাধা কমাতেই বিনামূল্যে গণপরিবহনের এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।   রাইড টু রাইজ ব্যবহারের প্রক্রিয়াও সহজ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে যেকোনো নিয়মিত ডিডিওটি সিটি বাসে উঠতে হবে, চালককে বৈধ স্কুল আইডি দেখাতে হবে, তারপর কোনো ভাড়া না দিয়েই যাত্রা করা যাবে। আলাদা অ্যাপ, বিশেষ ট্রানজিট পাস বা কোনো আবেদনপত্রের প্রয়োজন নেই।   ডেট্রয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুবিধা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেও চালু থাকায় পরিবারগুলোর দৈনন্দিন পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি স্কুল ও অন্যান্য কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সহজ হবে বলে আশা করছে শহর কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৯:১২