- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহকারী পাইলটের হামলার সময় এগিয়ে আসা চার ইসরায়েলি যাত্রীকে বেসামরিক বীরত্বের সম্মাননার জন্য সুপারিশ করবেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। গুরুতর আহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সুপারিশের তালিকায় আছেন ইয়ানিভ হায়ুন, তসভিকা মানেস, আসাফ রেজুয়ান ও দন্তচিকিৎসক শোতা মুসায়েভ। হারজগের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম তিনজন ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর আহত ক্যাপ্টেনকে চিকিৎসা দেন মুসায়েভ। তসভিকার স্ত্রী তালি মানেস প্রথম অন্য যাত্রীদের ককপিটে বিপদের কথা সতর্ক করেছিলেন। হারজগ তাঁর ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিব যাচ্ছিল। ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মাঝ আকাশে সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকে। ফ্লাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের আকাশে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমেছিল। আহত অবস্থায় মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে সহকারী পাইলটকে আটকান। হায়ুন জানান, হামলাকারীকে সরানোর পর তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ সামলে সেটিকে সোজা করতে সাহায্য করেন। পরে বিমানে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের আরেক দল পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানের সব যাত্রী ও ক্রুর খোঁজ পাওয়া গেছে এবং তাঁরা নিরাপদে আছেন। যাত্রী ও ক্রুদের ফিরিয়ে আনতে তাবুকে দুটি বিকল্প বিমান পাঠায় সংস্থাটি। ভারতের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছার চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠছেন। ঘটনার পর তদন্ত চলাকালে ইসরায়েলগামী এবং ইসরায়েল থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা দিতে কাজ করার কথাও জানিয়েছে তারা। হামলার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সহকারী পাইলটের উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু দাবি করেছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ, পূর্বপরিকল্পনা বা সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্ত করছে। ফ্লাইদুবাইও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে উদ্দেশ্য নিয়ে অনুমান না করার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে ভারতের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দুটি ক্যাটাগরি আবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারতের ইবি-২ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি ‘অনুপলব্ধ’ ছিল। নতুন বুলেটিনে সেগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফ তারিখ যথাক্রমে ১ নভেম্বর ২০১৩ ও ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ ক্যাটাগরির তারিখও এগিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদনে মূলত এই অগ্রগতির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তবে অক্টোবরের পরিবর্তন সব আবেদনকারীর জন্য সুখবর নয়। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীরা সাধারণত বুলেটিনের ‘অন্যান্য দেশ’ কলামের অধীনে পড়েন। সেই কলামে ইবি-১ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি আগের মতোই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ইবি-২-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ অবস্থা থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৫ হয়েছে। ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবী ক্যাটাগরির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ হয়েছে। ইবি-৩ ‘অন্যান্য কর্মী’ ক্যাটাগরিতে তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২ থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২২ হয়েছে। এসব তারিখ দিয়ে গ্রিন কার্ড হাতে পাওয়ার সম্ভাব্য দিন বোঝানো হয় না। আবেদনকারীর প্রাইয়োরিটি ডেট বা অগ্রাধিকার তারিখ সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফের আগে থাকলে ভিসা নম্বর দেওয়া বা গ্রিন কার্ড আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কাটঅফ এগোলে অপেক্ষার সারিতে নতুন কিছু আবেদনকারী সামনে আসেন; পিছিয়ে গেলে কিছু আবেদনকারীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরও অপেক্ষায় পড়ে। এখানে আবেদন জমা দেওয়া এবং আবেদন অনুমোদন পাওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে কর্মভিত্তিক আই-৪৮৫ আবেদন জমার যোগ্যতা নির্ধারণে ইউএসসিআইএস ‘আবেদনের তারিখ’ সারণি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য ‘অন্যান্য দেশ’ কলামে ওই সারণিতে ইবি-২-এর তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬, ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের ১ আগস্ট ২০২৪ এবং ইবি-৩ অন্যান্য কর্মীদের ১ জুন ২০২২। অন্য সব শর্ত পূরণ হলে এই কাটঅফের আগের প্রাইয়োরিটি ডেটধারী কেউ আবেদন জমা দিতে পারেন; চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তবু আলাদা ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ’ দেখতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছরের ভিসা সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। এতে কয়েকটি ক্যাটাগরি এগোলেও ‘অন্যান্য দেশ’ শ্রেণির কিছু কর্মভিত্তিক তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভিসা ইস্যু বছরের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে।
ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে আলোচনায় থাকা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র দেন। সংসদ সচিবালয় সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করেছে। বিকেলে স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসনটি শূন্য হয়েছে এবং পদত্যাগ সেদিন থেকেই কার্যকর। শূন্য আসন পূরণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে আসনটি পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে; একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মিষ্টি আগে দাবি করেছিলেন, হামলা বা ভাঙচুরে তাঁর কোনো হাত নেই। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও ফৌজদারি তদন্ত পৃথক বিষয় বলেও তিনি জানান। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্পিকারের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মিষ্টি তখন পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেননি। তিনি তদন্ত হওয়ার কথা বলেন এবং দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই হবে বলে মন্তব্য করেন। পরে স্পিকারের বক্তব্য ও সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৬-এর শিক্ষার্থী ব্যবসা উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক ইফতেখার সাফিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী একাধিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ তিন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে নিজের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতায় আবেদন করার পর একাধিক ধাপের বাছাইপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন সাফিন। বাছাই শেষে তিনি এশিয়ার শীর্ষ তিন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। এর ভিত্তিতে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সম্পূর্ণ অর্থায়িত অংশগ্রহণের সুযোগ পান। চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের একমাত্র সরাসরি অংশগ্রহণকারী ও উপস্থাপক হিসেবে তিনি নিজের প্রকল্প বিচারকদের সামনে তুলে ধরেন। সাফিনের বিজয়ী প্রকল্পের নাম ‘স্কিলব্রিজ আয়-অংশীদারিত্ব কাঠামো’। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যকার ব্যবধান কমানো এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের পথে থাকা আর্থিক বাধা দূর করার একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা। প্রকল্পটি বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার শুরুতে কোনো অগ্রিম কোর্স ফি দিতে হবে না। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণে অর্থায়ন করতে পারবে। পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী চাকরি পাওয়ার পর তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তিতে প্রশিক্ষণের খরচ পরিশোধ করবে। অর্থাৎ প্রকল্পটির মূল ধারণা হলো আগে দক্ষতা অর্জন, এরপর কর্মসংস্থান এবং তারপর আয়ের সঙ্গে যুক্ত কিস্তিতে প্রশিক্ষণের খরচ পরিশোধ। সাফিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেট খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৬ মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, উদ্ভাবক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও সরকারি সংস্থার মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিনিয়োগের সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, গবেষক ও উদ্ভাবকেরা অংশ নেন। বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়াকে দেশের তরুণ উদ্ভাবনশীলতার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর মতো একটি বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেয়েছেন সাফিন। তার এই অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের ধারণা, গবেষণা ও উদ্ভাবন তুলে ধরার ক্ষেত্রেও উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ বিশ্বের শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১১৯টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এ সাফল্য অর্জন করেছে দলটি। ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ দলের আট সদস্যের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা হলেন মুর্শিদা জাহান মিতু, নূর আয়শা চৌধুরী, আরকানুল ইসলাম আকিক, সাদিয়া ইসলাম বাধন, সাইফা সাবা হোসাইন এবং কুর্চি রহমান লুবা। দলের অন্য দুই সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিটন ত্রিপুরা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানি তাকবিম এশা। প্রতিযোগিতার শুরুতে ১১৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে দলটি শীর্ষ ৩০-এ জায়গা করে নেয়। এরপর প্রস্তাবিত সমাধান বাস্তবায়ন ও উন্নয়নের জন্য দলটি ১ হাজার ইউরোর বীজ অনুদান পায়। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস ধরে মাঠপর্যায়ের কাজ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হয়। ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’-এর প্রকল্পটি মূলত পাট ও পাটজাত উপকরণ ব্যবহার করে টেকসই মাছ চাষব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রকল্পটির লক্ষ্য পুকুরের পাড়ের ভাঙন কমানো, পানির মান উন্নত করা এবং পাটের বর্জ্য ও উপজাতকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্রাকার ও পরিবেশবান্ধব জলজ খাদ্যব্যবস্থা তৈরি করা। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে পাটজাত উপকরণ, জৈব কয়লা এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান ব্যবহারের মাধ্যমে মাছ চাষকে আরও টেকসই করার বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জটি নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিনজেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ এবং নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ যৌথভাবে আয়োজন করে। ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় ১৭টি অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০টি দল নির্বাচিত হয়েছিল। ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিনজেনে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটির উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ দলটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে তার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা তাদের কাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমানও প্রকল্পের উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা, পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শীর্ষ ছয়ে পৌঁছানোকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষি ও জলজ খাদ্যব্যবস্থার সমস্যা থেকে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ গবেষকদের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’।
বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হাইতির সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গিলবার্ট বিজিও ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ব্যবসায়িক জীবনে তিনি দেশটির সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতে একক আধিপত্যের এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তবে কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল সম্পদ লুকিয়ে রাখা এবং নিজ দেশের মারাত্মক সহিংসতায় লিপ্ত সশস্ত্র বাহিনীকে অর্থায়নের আন্তর্জাতিক অভিযোগে তাঁর সুদীর্ঘ বাণিজ্যিক সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন ও বিতর্কিত হয়ে পড়ে। গিলবার্ট বিজিও ১৯৭২ সালে জিবি গ্রুপ নামের এক বিশাল বহুভাষিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে বিজিও নামে পুনর্নামকরণ করা হয়েছিল। দেশের প্রথম ইস্পাত কারখানা আসিরি দ্য হাইতি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে পুরো দেশের অর্থনীতিকে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। আধুনিক সময়ে এসে এটি মোট ১৩টি বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ৬টি প্রধান খাত জুড়ে পরিচালিত হতো। প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি কর্মীর এই বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক পুরো দেশের নির্মাণ সামগ্রী, আন্তর্জাতিক কনটেইনার বন্দর ব্যবস্থাপনা, পেট্রোলিয়াম পদার্থ এবং রান্নার তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করত। ২০২১ সালে প্রকাশ পাওয়া বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী প্যান্ডোরা পেপার্স নামের আন্তর্জাতিক গোপন নথিপত্রে এই ধনকুবেরের নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে আসে। সেখানে উদঘাটন করা হয় যে নিজ দেশের চরম political ও অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে বিজিও পরিবার করমুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দ্বীপে শত শত গোপন অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের বিপুল অর্থ গোপন করে আসছিলেন। দেশের এই শীর্ষ ধনী পরিবার অত্যন্ত চতুরতার সাথে শত শত কোটি ডলার পাচার করে আমেরিকার মিয়ামি ও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক এবং ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে স্থানান্তর করেন, যার ফলে হাইতির রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডার বিশাল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ গবেষকরা সরাসরি প্রমাণ করেছেন যে হাইতির এই চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক দারিদ্র্যের পেছনে বিজিওর মতো প্রভাবশালী ধনী শ্রেণীর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার নীতি প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। কর আদায়ে সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং বিজিওদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অক্ষমতার কারণে দেশের জনকল্যাণমূলক খাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পূর্ণ থমকে যায়। এরপর ২০২২ সালে হাইতির পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীকে মদদ দেওয়া ও সহিংসতায় অর্থায়নের অভিযোগে কানাডা সরকার বিজিওর ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবনের শেষ কয়েক দশকে গিলবার্ট বিজিও প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে আমেরিকার মিয়ামির অতি ধনী এলাকা এবং ডমিনিকান রিপাবলিকের বিলাসবহুল আবাসে বসবাস করতেন। বিতর্কিত ধনকুবের এবং আন্তর্জাতিক যৌন অপরাধী জেফ্রি এপেস্টাইনের বাজেয়াপ্ত করা বিলাসবহুল গাড়ি চড়া দামে কিনে নিয়েও তিনি বিভিন্ন সময়ে বৈশ্বিক গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে, ফ্লোরিডার নিজস্ব আবাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি এবং স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র: মিয়ামি হেরাল্ড
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ২৭৯ জন কমেছে। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩১; পরের বছর তা নেমেছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫২ জনে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য টেক্সাস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনটি কেডব্লিউটিএক্সও প্রকাশ করেছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদারের সময়েই এই পতন ঘটেছে। অস্টিন ও হিউস্টনের স্কুল কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার বা ফেরত পাঠানো নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া ও ভর্তি থাকার ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে রাজ্যের হিসাব থেকে শিক্ষার্থী কমার একটি নির্দিষ্ট কারণ প্রমাণ করা যায় না। হিসাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে ‘অভিবাসী’ শব্দটি আইনি মর্যাদা বোঝায় না। শিক্ষা বিভাগের সংজ্ঞায় ৩ থেকে ২১ বছর বয়সী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির স্কুলে তিন পূর্ণ শিক্ষাবর্ষের বেশি পড়েনি - এমন শিক্ষার্থী এই শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলগুলো শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা অভিবাসন মর্যাদা জানতে চায় না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে টেক্সাসে স্কুলে পড়ছে এমন বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুও এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে থাকতে পারে। বড় শহরগুলোর কয়েকটি স্কুল জেলায় পতন বেশি। টেক্সাস ট্রিবিউনের হিসাবে, হিউস্টন স্কুল জেলায় এক বছরে অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত শিক্ষার্থী কমেছে ২২ শতাংশ। কম ভর্তির কথা জানিয়ে নতুন আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত লাস আমেরিকাস স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে অঙ্গরাজ্যের সব জায়গায় একই চিত্র নয় - সান আন্তোনিওর নর্থসাইড স্কুল জেলায় এই শ্রেণির শিক্ষার্থী বেড়েছে ৯ শতাংশ। অভিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে কাজ করা সংগঠন ইমস্কুলসের কর্মকর্তা এসমেরালদা আলদে ট্রিবিউনকে বলেছেন, কিছু পরিবার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে; কারও মা-বাবা আটক হওয়ায় বড় সন্তানকে কাজেও নামতে হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য, আইসিই স্কুলকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় না। পরিবারের অভিজ্ঞতা ও সরকারের বক্তব্য দুটিই প্রতিবেদনে এসেছে; রাজ্যজুড়ে শিক্ষার্থী কমার প্রত্যেকটি ঘটনার ব্যাখ্যা কোনো পক্ষই দেয় না। শিক্ষার্থী কমার প্রভাব শ্রেণিকক্ষের বাইরেও যায়। টেক্সাসে স্কুলের সরকারি অর্থায়নের বড় অংশ শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে উপস্থিতি ও ভর্তি কমলে স্কুল জেলার বরাদ্দে চাপ পড়তে পারে। রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সব শিক্ষার্থী মিলিয়ে টেক্সাসের সরকারি স্কুলে আগের বছরের চেয়ে ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কম ছিল। এই মোট সংখ্যা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটি আলাদা হিসাব। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী বা তার মা-বাবার অভিবাসন মর্যাদা যা-ই হোক, সেই কারণে কোনো শিশুকে সরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি থেকে বাদ দেওয়া যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের ব্যক্তিগত বিদেশ সফরের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুদান চাওয়ার অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্টেফানি মুলালি নামের ওই বদলি শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার তহবিলে টাকা দিলে বিনিময়ে পরীক্ষায় তাদের অতিরিক্ত নম্বর (এক্সট্রা ক্রেডিট) দেওয়া হবে। স্কুলের নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে গত ২৯ মে ক্লিনটন কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে। প্রশাসনিক আইন বিচারক ডুয়েন গোল্ডেনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হাইস্কুলের ওই শিক্ষিকা ক্লাসের শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তারা তার ব্যক্তিগত 'গোফান্ডমি' অ্যাকাউন্টে অনুদান দিলে তাদের গ্রেডের সঙ্গে বাড়তি নম্বর যোগ করা হবে। শিক্ষিকার এমন প্রস্তাবে শিক্ষার্থীরা তার তহবিলে টাকা দিতে একপ্রকার মানসিক চাপের মুখে পড়েছিল। জানা যায়, জুলাই মাসে স্বামী নিককে নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে একটি 'মেডিকেল মিশন' বা চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে যাওয়ার জন্য ওই তহবিল খুলেছিলেন তিনি। সফরের খরচ মেটাতে ১ হাজার ৮০০ ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন মুলালি। তবে শেষ পর্যন্ত পাঁচ থেকে পঞ্চাশ ডলারের মধ্যে মাত্র ছয়টি অনুদান থেকে তিনি ১৪০ ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষিকা তার মুছে ফেলা তহবিল সংগ্রহের পেজে দাবি করেছিলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে ইকুয়েডর সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন, তবে এর জন্য বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। ফেসবুকেও তিনি লিখেছিলেন, চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত একটি সম্প্রদায়কে সাহায্য করার এই সুযোগটি ঈশ্বরের আশীর্বাদ। এই সফরে তিনি মূলত ভাষাগত বাধা দূর করতে দোভাষী হিসেবে কাজ করবেন এবং তার স্বামী আনুষঙ্গিক কাজে সহায়তা করবেন। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি এটিকে নিজের শিক্ষার খরচ মেটানোর একটি অনন্য সুযোগ হিসেবেও তুলে ধরেছিলেন। তবে মহৎ উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও, শিক্ষিকাসুলভ পেশাদারি আচরণ লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের অনুদান দিতে প্ররোচিত করায় শেষ পর্যন্ত তাকে লজ্জাজনকভাবে চাকরি হারাতে হলো।
অনলাইন দুনিয়া যেন দক্ষিণ এশীয়দের জন্য ক্রমেই আরও বৈরী হয়ে উঠছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ও শিখ পুরুষদের অবমাননা করতে ‘পাজিট’ নামের একটি বর্ণবাদী গালির ব্যাপক বিস্তার দেখা গিয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী ভারতীয় নারীদের নিশানা করে ‘ল্যাট্রিনাস’ নামের নতুন একটি ঘৃণ্য শব্দ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার) এবং থ্রেডসের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভিসা নীতি কঠোর করার পক্ষের কট্টরপন্থী ব্যবহারকারীরা এই অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে ভারতীয় নারীদের প্রতি বিষোদ্গার করছেন। ভাষাগত দিক থেকে ‘ল্যাট্রিনা’ শব্দটি লাতিন ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ শৌচাগার বা পাবলিক টয়লেট। সম্প্রতি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্য উৎসব ও পর্যটনকেন্দ্রে অংশ নেওয়া ভারতীয় নারীদের ছবির ক্যাপশনে এই আপত্তিকর শব্দটি ব্যাপকভাবে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই শব্দের সুনির্দিষ্ট উৎপত্তি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, ‘ইন্ডিয়ান গার্লস আর দ্য নিউ ল্যাটিনাস’ শীর্ষক একটি সাম্প্রতিক পোস্টকে বিকৃত করে বর্ণবাদীরা ‘ল্যাটিনাস’ শব্দটিকে ‘ল্যাট্রিনাস’-এ রূপান্তর করেছে। এমনকি গত ২৫ সেপ্টেম্বর এক্স-এর বৈশ্বিক ট্রেন্ডিংয়ের ৬৫ নম্বর স্থানেও উঠে এসেছিল এই বিদ্বেষমূলক শব্দটি। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের এই ধরনের ঘৃণ্য প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রবাসী ভারতীয়রা। সিয়াটলের বাসিন্দা অনু এ. নামের এক নারী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এত অবদান রাখার পরও এমন গালি শোনা চরম বিরক্তিকর ও ঘৃণ্য। এর আগে এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বৃদ্ধির ঘোষণার পর ‘পাজিট’ বা এর বিকৃত রূপ ‘পুপজিট’ শব্দগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। মূলত সম্মানসূচক পাঞ্জাবি শব্দ ‘পাজি’ (বড় ভাই) থেকে বিকৃত করে ভারতীয় পেশাজীবীদের লক্ষ্য করে ওই গালিটি তৈরি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদী আচরণের এটি একটি নতুন ও ভীতিকর রূপ। ‘স্টপ এএপিআই হেট’-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইনে দক্ষিণ এশীয়দের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী গালি ব্যবহারের হার ১০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই প্রায় ৮৮ হাজার বর্ণবাদী গালি রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনের এই ঘৃণ্য বিদ্বেষ শুধু কিবোর্ডের জগতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর জন্য একটি বৃহত্তর বৈরী ও হুমকিস্বরূপ পরিবেশ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা গেইল পাইককে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও তাঁর মৃত্যু হয়নি। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি একটি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। ৫০ বছর বয়সী পাইক ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত। অপরাধের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা থাকলেও আপিল আদালতের স্থগিতাদেশে তা আটকে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করলে রাতে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, পাইককে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। তাঁর আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে নেওয়া হয়। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আইনজীবীদের কাছে তখন বিস্তারিত তথ্য ছিল না। টেনেসির সংশোধন বিভাগ দাবি করেছে, অনুমোদিত নিয়মের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। তবে সেই নিয়মে প্রথম দফার পর দণ্ডিত ব্যক্তি জীবিত থাকলে দ্বিতীয় দফা ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও, দ্বিতীয় দফার পরও জীবিত থাকলে কী করতে হবে, তা নির্দিষ্ট করা নেই বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। গভর্নর বিল লি ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি বছর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে জটিলতার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। মে মাসে আরেক দণ্ডিত ব্যক্তির শরীরে ওষুধ দেওয়ার জন্য শিরায় সংযোগ স্থাপন করতে না পারায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করতে হয়েছিল। তবে পাইকের ক্ষেত্রে ওষুধ দেওয়ার পরও মৃত্যু না হওয়ার ঘটনাকে ব্যতিক্রমী বলেছেন মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবিন মাহের। ফেসবুক হুক: আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার পর রাতে শুরু হয়েছিল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া। দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও জীবিত ছিলেন ক্রিস্টা পাইক। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি চলতি বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে টেনেসি।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন হাইস্কুলে চারতলা ভবন থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাইল্যান্ড পার্ক এলাকায় অবস্থিত স্কুলটিতে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই পুরো স্কুল ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ (লকডাউন) করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে ওপর থেকে এক ছাত্রের পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) সংবাদমাধ্যম ‘পিপল’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এবিসি৭-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীটি যেখানে পড়েছিল সেখানে একটি শামিয়ানা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সবুজ সংকেত পাওয়ার আগে প্রায় তিন ঘণ্টা ক্যাম্পাস পুরোপুরি লকডাউন ছিল। নিহত শিক্ষার্থীর নাম, বয়স বা ঠিক কীভাবে সে নিচে পড়ে গেল—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এলএপিডি জানিয়েছে, ঘটনাটিকে আপাতত ‘মৃত্যুর ঘটনা’ হিসেবে রেকর্ড করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, অন্য এক ছাত্রের সঙ্গে হাতাহাতির পরই ওই কিশোর ওপর থেকে পড়ে যায়। ফক্স ১১-এর হাতে আসা একটি ভিডিওতেও দেখা গেছে, দুই ছাত্রের মধ্যে মারামারি হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে একজনকে করিডর দিয়ে তাড়া করা হলে সে রেলিং টপকে নিচে পড়ে যায়। যদিও এনবিসি৪-এর খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো অপরাধের প্রমাণ পায়নি। নিহত ওই কিশোর ক্লাসের সবচেয়ে শান্ত স্বভাবের ছিল এবং খুব একটা কথা বলত না বলে জানিয়েছে তার এক সহপাঠী। চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বুধবার বিকেলে স্কুলগেটের বাইরে নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি জায়গা তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে স্কুলটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য সেখানে শোক কাউন্সেলরদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও স্কুল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে এই ঘটনার নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, মে মাস থেকে রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় এক বিধায়ক গত কয়েক মাসে ৪৩ শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ওই ৪৩টির মধ্যে রোগজনিত মৃত্যুর পাশাপাশি অন্য কারণের মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ঘটনাটি মূলত বালাঘাটের বাইহার ও বিরসা এলাকার কয়েকটি দুর্গম বাইগা আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে বেশি দেখা গেছে। আক্রান্ত শিশুদের অনেকেরই জ্বর, শরীরে র্যাশ, শ্বাসকষ্ট, বমি, পানিশূন্যতা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ ছিল। পরীক্ষায় হাম বা মিজলস, ম্যালেরিয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে দুই রোগের একসঙ্গে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তবে সব মৃত্যুর জন্য একটি মাত্র রোগকে দায়ী করা যায়নি বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সংকট আরও জটিল হয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছাতে দেরি এবং কিছু পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসা বা স্থানীয় বিশ্বাস নির্ভর চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরতার কারণে। আগস্টে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, কিছু পরিবার অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় ধর্মীয় চিকিৎসক বা ‘ফেইথ হিলার’-এর কাছে নিয়ে যাচ্ছিল। কোথাও কোথাও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানও করা হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়েছে বলে চিকিৎসকদের অভিযোগ। বিবিসির সাম্প্রতিক মাঠ-রিপোর্টেও এমন কয়েকটি পরিবারের কথা উঠে এসেছে। একটি ঘটনায় তিন বছরের এক শিশু জ্বর ও শরীরে ক্ষত নিয়ে অসুস্থ হওয়ার পর স্থানীয় বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসার আশ্রয় নেয় পরিবারটি। পরে শিশুটির মৃত্যু হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাস থেকে বালাঘাটের প্রত্যন্ত কয়েকটি গ্রামে অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুদের মৃত্যু সরাসরি ধর্মীয় চিকিৎসার কারণে হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রমাণ নেই। চিকিৎসা দেরি, দুর্গম এলাকা, অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, হাম, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য সংক্রমণ মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি স্বাস্থ্য অভিযানে বিপুলসংখ্যক শিশুর অপুষ্টির চিত্রও পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭,৭১১ শিশুর গুরুতর অপুষ্টি শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৫১৮ জনকে পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করতে হয়েছে। একই সময়ে ১৩ হাজারের বেশি শিশুর ডায়রিয়া এবং ২৭৪ শিশুর গুরুতর নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারায়। এর সঙ্গে রক্তস্বল্পতা, পানিশূন্যতা এবং চিকিৎসা পেতে দেরি যুক্ত হলে সাধারণ সংক্রমণও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় কেন্দ্র ও মধ্যপ্রদেশ সরকার মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বাড়িয়েছে। ১২ আগস্ট জাতীয় পর্যায়ের একটি যৌথ আউটব্রেক রেসপন্স টিম বালাঘাটে পাঠানো হয়। আইসিএমআরসহ বিভিন্ন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। প্রায় ৫০টি গ্রামে নজরদারি, বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, ৩২ হাজারের বেশি মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ৪৩১ শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭৯ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে এবং ৫২ জন চিকিৎসাধীন বা পর্যবেক্ষণে ছিল। এছাড়া ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অতিরিক্ত মিজলস-রুবেলা টিকা দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও হস্তক্ষেপ করেছে। বালাঘাটে ৩০-এর বেশি শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় আদালত রাজ্য সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছে। মামলায় প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতি ও পর্যাপ্ত হাসপাতাল শয্যার অভাবের বিষয়ও উত্থাপিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩২ শিশুর মৃত্যুর সরকারি সংখ্যা থাকলেও প্রতিটি মৃত্যুর কারণ এখনো একইভাবে নির্ধারিত নয়। সরকারি পর্যালোচনায় হাম, ম্যালেরিয়া, দুই রোগের যৌথ সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা ও শকের মতো একাধিক কারণ পাওয়া গেছে। ফলে ঘটনাটিকে শুধু ‘ধর্মীয় চিকিৎসার কারণে মৃত্যু’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে রোগ, অপুষ্টি, চিকিৎসা পেতে বিলম্ব এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা সংকট—সবগুলো কারণ একসঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোর নিট সম্পদের পরিমাণ শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলেও অনেকের কাছেই তাদের নামগুলো বেশ অজানা। দশকের পর দশক ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমে তারা এই বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। বছরে শত বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় করা এই পরিবারগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতেই গভীর প্রভাব রাখছে। ওয়ালমার্টের মতো রিটেইল জায়ান্ট থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সব ক্যান্ডি উৎপাদনকারী মার্স পরিবারের মতো রাজবংশগুলো তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপুল ধনসম্পদ রেখে যাচ্ছে। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় সক্রিয় থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক কাঠামোকেই বদলে দিয়েছে। ৫২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ওয়ালটন পরিবার। তারা বিশ্বের বৃহত্তম রিটেইল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৬২ সালে স্যাম ওয়ালটনের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা ওয়ালমার্টের বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪ হাজার ৬০০টির বেশি শাখা রয়েছে। একইসঙ্গে তারা স্যামস ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে, যার শাখা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। পরিবারের সদস্যরা এখনও ওয়ালমার্টের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত আছেন এবং ২০২২ সালে তারা ৪.৬৫ বিলিয়ন ডলারে এনএফএলের ডেনভার ব্রঙ্কস নামে একটি স্পোর্টস টিম কিনেছেন। ১৫৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কোচ পরিবার। ১৯৪০ সালে রাসায়নিক প্রকৌশলী ফ্রেড সি কোচ একটি তেল শোধনাগার কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সাম্রাজ্যের ভিত্তি গড়েন, যা পরবর্তীতে কোচ ইন্ডাস্ট্রিজ (বর্তমানে শুধু কোচ) নামে পরিচিতি পায়। তাঁর ছেলে চার্লস কোচ বর্তমানে এর কো-সিইও এবং চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটি তেল, গ্যাস, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারিত করেছে এবং বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এর কার্যক্রম চলমান। ১২৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের অধিকারী মার্স পরিবার মূলত ক্যান্ডি ও পোষা প্রাণীর খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মার্স ইনকর্পোরেটেডের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১১ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন ক্ল্যারেন্স মার্সের হাত ধরে ওয়াশিংটনে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স, স্নিকার্স, এমঅ্যান্ডএমস ও স্কিটলস-এর মতো বিশ্বখ্যাত সব ক্যান্ডি ব্র্যান্ড তৈরি করেছে। সম্প্রতি তারা পোষা প্রাণীর যত্নের ক্ষেত্রেও বড়সড় বিনিয়োগ করেছে। ৬৯.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে জনসন পরিবার। ১৯৪৬ সালে এডওয়ার্ড সি জনসন দ্বিতীয়-এর প্রতিষ্ঠিত ফিডেলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ কোম্পানিটি আর্থিক পরিষেবা, মিউচুয়াল ফান্ড এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বিশাল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মিউচুয়াল ফান্ড প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত, যারা ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করছে এবং ৪ কোটিরও বেশি মানুষকে আর্থিক সেবা দিচ্ছে। ৬৭.৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক কারগিল-ম্যাকমিলান পরিবারের ব্যবসার শুরুটা হয়েছিল ১৮৬৫ সালে ছোট একটি শস্য মজুদের কোম্পানি হিসেবে। পরবর্তীতে উইলিয়াম ওয়ালেস কারগিল এবং তাঁর জামাতা জন এইচ ম্যাকমিলান সিনিয়রের হাত ধরে এটি বিশ্বজুড়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিতরণের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান কারগিল ইনকর্পোরেটেডে পরিণত হয়। ম্যাকডোনাল্ডসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে তারা কাজ করছে। বর্তমানে ৭০টি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ছুটিতে এসে ফ্লোরিডাকে ভালো লেগেছিল। তাই ফ্রান্সের প্যারিস ছেড়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন এক নারী। কিন্তু ১০ বছর পর তাঁর উপলব্ধি, কোনো জায়গায় বেড়াতে যাওয়া আর সেখানে প্রতিদিনের জীবন কাটানো এক অভিজ্ঞতা নয়। প্রচণ্ড গরম, জীবনযাত্রার ভিন্ন ছন্দ ও স্বদেশের প্রতি টান তাঁকে এখনো ভাবায়। ৩০ সেপ্টেম্বর বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত নিজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় এসব কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্যারিসের চার ঋতু ছেড়ে ফ্লোরিডার সারা বছরের রোদ প্রথমে আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। পরে বুঝেছেন, এপ্রিল থেকে নভেম্বরের গরমে দিনের বেলা বাইরে কাজ করা বা ঘুরে বেড়ানো তাঁর জন্য কঠিন। রাতের আর্দ্রতা ও মশাও অস্বস্তি বাড়ায়। শীতের আবহাওয়া তাঁর ভালো লাগে, তবে সে সময় পর্যটকদের ভিড়ে পছন্দের সৈকতে যাওয়া এবং রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি লিখেছেন। আবহাওয়ার পাশাপাশি বদলাতে হয়েছে দৈনন্দিন অভ্যাস। প্যারিসে কাজ শেষে রাতে ধীরেসুস্থে খাবার খেতে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। ফ্লোরিডায় এসে দেখেন, তাঁর পরিচিত অনেকেই দিন শুরু করেন আগে, রাতের খাবারও খান তুলনামূলক তাড়াতাড়ি। পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে টেবিলে বসে দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়ার অভ্যাসটি তাঁর বিশেষভাবে মনে পড়ে। সামাজিক আচরণেও পার্থক্য অনুভব করেন তিনি। ফ্লোরিডার অনানুষ্ঠানিক পোশাক ও কথাবার্তা শুরুতে ভালো লাগলেও এখন প্যারিসের পরিচিত রীতিনীতির অভাব বোধ করেন। তবে ফ্লোরিডার প্রাণচাঞ্চল্য ও নানা দেশের মানুষের উপস্থিতি তাঁর ভালো লাগে। তাই অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি নেতিবাচক বলছেন না। ভবিষ্যতে ফ্রান্সের জীবনযাত্রার সঙ্গে বেশি মিল আছে, এমন কোথাও যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
দীর্ঘ ১৪ বছর কোমায় থেকে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বাসিন্দা হিদার ব্রাউন। ২০১২ সালে কোমায় আচ্ছন্ন থাকা অবস্থাতেই তিনি তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়ে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হিদারের স্বামী শন ব্রাউন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন হিদার। ২০১২ সালের দিকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজমের কারণে হিদারের তীব্র খিঁচুনি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে একপর্যায়ে তিনি কোমায় চলে যান। সে সময় তাঁর স্বামী শন ব্রাউন সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে আফগানিস্তানে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর কোমায় থাকা অবস্থাতেই ৩৪ সপ্তাহের মাথায় জরুরি সি-সেকশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাঁদের পুত্রসন্তান জন। জন্মের সময় জনের ওজন ছিল মাত্র ৪ পাউন্ড ৬ আউন্স। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হিদারের চিকিৎসার খবর ও তাঁর জীবনের গল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘ব্রিংগিং হোম দ্য ব্রাউনস’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছিল। সেখান থেকেই শন নিয়মিত স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার আপডেট জানাতেন। ২০১৩ সালে হিদারকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সন্তান জন্মের দুই বছর পর তিনি একবার অস্পষ্ট স্বরে ছেলের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, যা চিকিৎসায় বড় উন্নতির লক্ষণ বলে মনে করা হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি আর কখনোই পুরোপুরি চেতনা ফিরে পাননি। গত বছরও ফেসবুকের একটি আপডেটে ছেলে জনকে মায়ের পাশে বসে বই পড়ে শোনাতে দেখা গিয়েছিল। হিদারের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শনের দেওয়া ফেসবুক পোস্টটিতে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ মন্তব্য করে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ২টায় টেক্সাসের লংভিউ এলাকার গ্রেগটন মিশনারি ব্যাপটিস্ট চার্চে এই লড়াকু মায়ের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরার ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ আলোচিত এক ঘটনা। এবার কোনো মানুষ নয়, মোটরসাইকেলে বহন করা গিটারকেই হেলমেটবিহীন যাত্রী ভেবে ট্রাফিক মামলা করেছে ক্যামেরা। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বেঙ্গালুরুর হেব্বাল এলাকার বাসিন্দা সৌভিক দত্ত তাঁর স্ত্রীর বৈদ্যুতিক স্কুটার নিয়ে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল এবং তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। তবে পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার। পরে স্কুটারের নিবন্ধিত মালিক তাঁর স্ত্রী একটি ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালান পান। অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, স্কুটারে থাকা পিলিয়ন যাত্রী হেলমেট পরেননি। কিন্তু চালানের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। পিঠে বাঁধা গিটারকেই ক্যামেরা সম্ভবত দ্বিতীয় আরোহী হিসেবে শনাক্ত করেছিল। সৌভিক দত্ত বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন। তিনি বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে চালানটি বাতিল করার অনুরোধ জানান। তাঁর পোস্টে চালানের নোটিশ নম্বর 86202541 উল্লেখ ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে ভুল শনাক্তকরণ সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট ই-মেইলে যোগাযোগ করতে বলে। পরবর্তী এক আপডেটে দত্ত জানান, চালানটি বাতিল করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের Intelligent Traffic Enforcement Management System (ITEMS)-এ স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ এবং ট্রাফিক-ভায়োলেশন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাটিতে ২৫০টি ANPR ক্যামেরা এবং ৮০টি ভায়োলেশন-এভিডেন্স ক্যামেরা রয়েছে, যা শহরের ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক জংশনে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি হেলমেট না পরা, অতিরিক্ত আরোহী, লাল বাতি অমান্য, স্টপলাইন অতিক্রম, অতিরিক্ত গতি, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক লঙ্ঘন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তবে গিটারকে যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করার ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম সব পরিস্থিতি শতভাগ নির্ভুলভাবে বুঝতে পারে না। একটি প্রতিবেদনে বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এ ধরনের ভুল শনাক্তকরণ মাঝে মাঝে হতে পারে এবং অভিযোগ করা হলে তা যাচাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থায় মানবিক যাচাই ও ভুল শনাক্তকরণ সংশোধনের ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বাংলাদেশ থেকে সুইডেনের শেনজেন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ঢাকায় অবস্থিত সুইডেন দূতাবাস ভিসা আবেদনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই বা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। এর পরিবর্তে বাংলাদেশ থেকে জমা পড়া সব শেনজেন ভিসা আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরাসরি সুইডেনে অবস্থিত সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির মাধ্যমে নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকায় অবস্থিত সুইডেন দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্থান পরিবর্তন হলেও আবেদনকারীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার মূল প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রদবদল হচ্ছে না। অর্থাৎ, আগের নিয়ম অনুযায়ীই আবেদনকারীদের ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতেই শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন জমা দিতে হবে। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে আবেদনকারীদের শুধু আবেদনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্রটি পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ঢাকার দূতাবাসের হাত থেকে সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির কাছে স্থানান্তরিত হচ্ছে। শেনজেন ভিসা আবেদনের এই নতুন ব্যবস্থাসহ যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়ে জানতে আবেদনকারীদের সুইডেন দূতাবাসের প্রকাশিত হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, আগামী ১৫ অক্টোবরের পর থেকে যাঁরা সুইডেনের শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাঁদের ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে আগের প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দিয়ে সুইডেনের মাইগ্রেশন এজেন্সির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর হিসেবে পরিচিত সান ফ্রান্সিসকো। যেখানে সাধারণ একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতেই মোটা অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়, সেখানে ১০ ডলারের নিচে সুস্বাদু ও ভরপেট খাবার পাওয়া এক প্রকার অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তবে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে শহরটির চায়নাটাউনে অবস্থিত ‘রাইস রোল এক্সপ্রেস’ নামের একটি সাধারণ খাবারের দোকান। মাত্র ৯ দশমিক ২১ ডলারে তাদের তৈরি বিশেষ ভাপা চালের নুডল রোল—যা ‘চেউং ফান’ নামে পরিচিত—খেতে শহরবাসীর আগ্রহের শেষ নেই। উদ্বোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিদিন দুপুরের খাবারের সময় দোকানটির বাইরে ভোজনরসিকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। দোকানটির প্রধান আকর্ষণ তাদের সিগনেচার পদ ‘রাইস রোল এক্সপ্রেস স্পেশাল’। এতে পাতলা ভাপে সেদ্ধ চালের নুডলসের ভেতর স্তরে স্তরে সাজিয়ে দেওয়া হয় গরুর মাংস, শুকরের মাংস, বারবিকিউ পর্ক এবং ডিম; যার মূল্য মাত্র ৯ দশমিক ২১ ডলার। এছাড়া তাজা চিংড়ি, শুকনো চিংড়ি ও পেঁয়াজকলি দিয়ে তৈরি আরেকটি জনপ্রিয় পদ ‘শ্রিম্প ফিস্ট’-এর দাম রাখা হয়েছে ১০ দশমিক ৭৮ ডলার। স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর বাজারদর বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্কেট পালস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে সান ফ্রান্সিসকোর রেস্তোরাঁগুলোতে একেকটি খাবারের গড় মূল্য ছিল ২৫ দশমিক ৫১ ডলার। সেই তুলনায় রাইস রোল এক্সপ্রেসের বিশেষ খাবারের দাম অর্ধেকেরও কম। ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে দারুণ স্বাদের খাবার পেতে প্রায় ২৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে একটু বসার জায়গার জন্য অপেক্ষা করতে ক্রেতারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তোলা এই খাবারের জনপ্রিয়তায় শামিল হয়েছেন স্বয়ং সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরিয়ে। সম্প্রতি ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি জানান, রাইস রোল এক্সপ্রেসের খ্যাতি শুনে তিনি নিজে গিয়ে বারবিকিউ পর্ক রাইস রোল খেয়েছেন এবং এর সঙ্গে দেওয়া বিশেষ মরিচ তেল ও মিষ্টি সয়া সসের স্বাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কোনো কৃত্রিম বিপণন নয়, বরং দোকানের মালিক টম ঝেনের নিখাদ পরিশ্রম ও ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালীই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে ২৯ বছর বয়সে পারিবারিক ঐতিহ্যে ফিরে এসে সান ফ্রান্সিসকোতে এই রেস্তোরাঁ খোলেন তিনি। প্রতিদিন রাতে ভিজিয়ে রাখা চাল সকালে পিষে ভাপ দিয়ে অত্যন্ত যত্নসহকারে এই নরম নুডলস তৈরি করা হয়। পরিবেশনের পর ক্রেতারা দোকানের নিজস্ব ‘ডিআইওয়াই’ সস কাউন্টার থেকে নিজেদের পছন্দমতো ঘরে তৈরি চিলি অয়েল, মিষ্টি সয়া সস, ভিনেগার কিংবা সিরাচা সস মিশিয়ে উপভোগ করেন। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ১১৩১ স্টকটন স্ট্রিটে অবস্থিত এই দোকানটিতে ভোজনরসিকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। উল্লেখ্য, এই দোকানে কোনো ধরনের ব্যাংক কার্ড নেওয়া হয় না; তবে নগদ অর্থের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
সাউথ ক্যারোলাইনায় দোকানকর্মীকে ইউ ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজানোর অভিযোগে দোকানমালিক বীরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল দোষ স্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী প্যাটেল ও তার দোকানের ভারতীয় কর্মী ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে ডাকাতির নাটক সাজান। পরে তদন্তে ঘটনাটি ভুয়া প্রমাণিত হলে ওই কর্মীকে ভারতে ডিপোর্ট করা হয়। প্যাটেল এখন ফেডারেল সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন। ইউ ভিসা নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস। যোগ্যতা পূরণ করে ইউ ভিসা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্তে অন্তত তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে একজন আবেদনকারী গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি করতেই দোকানকর্মীকে অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৯ মার্চ দোকানে ডাকাতির খবর জানিয়ে ৯১১ নম্বরে কল করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কর্মী ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্যাটেলও ঘটনাস্থলে এসে ডাকাতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর তদন্তকারীরা দেখতে পান, ঘটনাটি আসলে সাজানো ছিল। তদন্তে জানা যায়, প্যাটেল নিজেই ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। পরিচয় গোপন করতে তিনি মুখ ঢেকেছিলেন এবং লম্বা হাতার জ্যাকেট পরেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দোকানকর্মীকে সত্যিকারের অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানো যায় এবং তার ইউ ভিসার আবেদনকে সমর্থন করার মতো নথি তৈরি করা সম্ভব হয়। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ২৫ মার্চ ২০২৫, প্যাটেল ও কর্মী ওই ডাকাতির ঘটনার পুলিশ রিপোর্টের কপি চান। এরপর ৩ এপ্রিল এমন একটি ফেডারেল সার্টিফিকেশন ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তরে পাঠানো হয়, যাতে দোকানকর্মীকে ‘ফেলোনিয়াস অ্যাসল্ট’-এর শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর চাওয়া হয়। তদন্তকারীরা পরে নিশ্চিত হন, কর্মী ভারতের নাগরিক এবং ইউ ভিসা পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারতেন। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্যাটেল ইউ ভিসা অবৈধভাবে পাওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আদালত এখনো তার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, ক্ষতিপূরণ এবং কারাদণ্ড শেষে সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে থাকার শাস্তিও হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস ও ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। প্যাটেলের দোষ স্বীকারের পর এখন আদালতের সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়াই পরবর্তী ধাপ। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ইউএস প্রোবেশন অফিসের প্রস্তুত করা সাজা সংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনার পর বিচারক তার চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন।
পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান বা ড্রোন পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। কোনো ধরনের মানবিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্র এসব জলযান পানির নিচে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে এই অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২৯ আগস্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় জলযানের চলাচল’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বরেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ গবেষক দল এই যুগান্তকারী রেকর্ডটি গড়েছে। পরীক্ষামূলক এই প্রদর্শনীতে TH-৬১৮ মডেলের ১১৬টি আন্ডারওয়াটার অটোনমাস ভেহিকল পানিতে নামানোর পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ মিনিট স্থিতিশীলভাবে চলার পর ড্রোনগুলো ৫০০ মিটারেরও বেশি পূর্বনির্ধারিত পথ সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। পানিতে নামানোর পর পরই যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যায়। রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি ড্রোন নিজস্ব অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট বিন্যাস বজায় রাখে। এমনকি কোনো ড্রোন সাময়িকভাবে পথচ্যুত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে আসার দারুণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে। পানির নিচে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় যান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কারণ সেখানে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেভিগেশন কার্যকর হয় না। পানির উচ্চ চাপ, কম দৃশ্যমানতা এবং সীমিত পরিবেশগত তথ্যের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই দীর্ঘ সময় যানগুলো পরিচালনা করাকে আন্ডারওয়াটার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রেকর্ড গড়া এই জলযানগুলোর প্রতিটির ওজন মাত্র ৫ দশমিক ১৪ কেজি, যা একজন মানুষ সহজেই পানিতে নামাতে পারেন। এগুলো সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পরিসরে একটানা আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে সক্ষম। নেভিগেশনের জন্য এসব যানে অত্যাধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্রোতের ধাক্কায় পথচ্যুত হলেও পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান সংশোধন করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত ও সম্ভাবনাময়। সমুদ্রের তলদেশ জরিপ থেকে শুরু করে পানির নিচের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আগামীতে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় জলযানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতে পারে।