সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
সান ফ্রান্সিসকোর চায়নাটাউনে মাত্র ৯ দশমিক ২১ ডলারে সুস্বাদু খাবার বিক্রি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে রাইস রোল এক্সপ্রেস। ছবি: সংগৃহীত
১০ ডলারের কমে দুপুরের খাবার, সান ফ্রান্সিসকোতে ভোজনরসিকদের দীর্ঘ লাইন

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর হিসেবে পরিচিত সান ফ্রান্সিসকো। যেখানে সাধারণ একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতেই মোটা অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়, সেখানে ১০ ডলারের নিচে সুস্বাদু ও ভরপেট খাবার পাওয়া এক প্রকার অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তবে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে শহরটির চায়নাটাউনে অবস্থিত ‘রাইস রোল এক্সপ্রেস’ নামের একটি সাধারণ খাবারের দোকান। মাত্র ৯ দশমিক ২১ ডলারে তাদের তৈরি বিশেষ ভাপা চালের নুডল রোল—যা ‘চেউং ফান’ নামে পরিচিত—খেতে শহরবাসীর আগ্রহের শেষ নেই। উদ্বোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিদিন দুপুরের খাবারের সময় দোকানটির বাইরে ভোজনরসিকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।   দোকানটির প্রধান আকর্ষণ তাদের সিগনেচার পদ ‘রাইস রোল এক্সপ্রেস স্পেশাল’। এতে পাতলা ভাপে সেদ্ধ চালের নুডলসের ভেতর স্তরে স্তরে সাজিয়ে দেওয়া হয় গরুর মাংস, শুকরের মাংস, বারবিকিউ পর্ক এবং ডিম; যার মূল্য মাত্র ৯ দশমিক ২১ ডলার। এছাড়া তাজা চিংড়ি, শুকনো চিংড়ি ও পেঁয়াজকলি দিয়ে তৈরি আরেকটি জনপ্রিয় পদ ‘শ্রিম্প ফিস্ট’-এর দাম রাখা হয়েছে ১০ দশমিক ৭৮ ডলার। স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর বাজারদর বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্কেট পালস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে সান ফ্রান্সিসকোর রেস্তোরাঁগুলোতে একেকটি খাবারের গড় মূল্য ছিল ২৫ দশমিক ৫১ ডলার। সেই তুলনায় রাইস রোল এক্সপ্রেসের বিশেষ খাবারের দাম অর্ধেকেরও কম। ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে দারুণ স্বাদের খাবার পেতে প্রায় ২৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে একটু বসার জায়গার জন্য অপেক্ষা করতে ক্রেতারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছেন না।   সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তোলা এই খাবারের জনপ্রিয়তায় শামিল হয়েছেন স্বয়ং সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরিয়ে। সম্প্রতি ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি জানান, রাইস রোল এক্সপ্রেসের খ্যাতি শুনে তিনি নিজে গিয়ে বারবিকিউ পর্ক রাইস রোল খেয়েছেন এবং এর সঙ্গে দেওয়া বিশেষ মরিচ তেল ও মিষ্টি সয়া সসের স্বাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কোনো কৃত্রিম বিপণন নয়, বরং দোকানের মালিক টম ঝেনের নিখাদ পরিশ্রম ও ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালীই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে ২৯ বছর বয়সে পারিবারিক ঐতিহ্যে ফিরে এসে সান ফ্রান্সিসকোতে এই রেস্তোরাঁ খোলেন তিনি।   প্রতিদিন রাতে ভিজিয়ে রাখা চাল সকালে পিষে ভাপ দিয়ে অত্যন্ত যত্নসহকারে এই নরম নুডলস তৈরি করা হয়। পরিবেশনের পর ক্রেতারা দোকানের নিজস্ব ‘ডিআইওয়াই’ সস কাউন্টার থেকে নিজেদের পছন্দমতো ঘরে তৈরি চিলি অয়েল, মিষ্টি সয়া সস, ভিনেগার কিংবা সিরাচা সস মিশিয়ে উপভোগ করেন। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ১১৩১ স্টকটন স্ট্রিটে অবস্থিত এই দোকানটিতে ভোজনরসিকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। উল্লেখ্য, এই দোকানে কোনো ধরনের ব্যাংক কার্ড নেওয়া হয় না; তবে নগদ অর্থের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৯:২২
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনকার্ড পেতে ভুয়া ডাকাতির নাটক, ভারতীয় কর্মী ফেরত, জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় দোকানমালিক
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনকার্ড পেতে ভুয়া ডাকাতির নাটক, ভারতীয় কর্মী ফেরত, জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় দোকানমালিক

সাউথ ক্যারোলাইনায় দোকানকর্মীকে ইউ ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজানোর অভিযোগে দোকানমালিক বীরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল দোষ স্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী প্যাটেল ও তার দোকানের ভারতীয় কর্মী ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে ডাকাতির নাটক সাজান। পরে তদন্তে ঘটনাটি ভুয়া প্রমাণিত হলে ওই কর্মীকে ভারতে ডিপোর্ট করা হয়। প্যাটেল এখন ফেডারেল সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।   ইউ ভিসা নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস। যোগ্যতা পূরণ করে ইউ ভিসা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্তে অন্তত তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে একজন আবেদনকারী গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি করতেই দোকানকর্মীকে অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।   ২০২৫ সালের ৯ মার্চ দোকানে ডাকাতির খবর জানিয়ে ৯১১ নম্বরে কল করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কর্মী ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্যাটেলও ঘটনাস্থলে এসে ডাকাতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর তদন্তকারীরা দেখতে পান, ঘটনাটি আসলে সাজানো ছিল।   তদন্তে জানা যায়, প্যাটেল নিজেই ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। পরিচয় গোপন করতে তিনি মুখ ঢেকেছিলেন এবং লম্বা হাতার জ্যাকেট পরেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দোকানকর্মীকে সত্যিকারের অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানো যায় এবং তার ইউ ভিসার আবেদনকে সমর্থন করার মতো নথি তৈরি করা সম্ভব হয়।   ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ২৫ মার্চ ২০২৫, প্যাটেল ও কর্মী ওই ডাকাতির ঘটনার পুলিশ রিপোর্টের কপি চান। এরপর ৩ এপ্রিল এমন একটি ফেডারেল সার্টিফিকেশন ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তরে পাঠানো হয়, যাতে দোকানকর্মীকে ‘ফেলোনিয়াস অ্যাসল্ট’-এর শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর চাওয়া হয়। তদন্তকারীরা পরে নিশ্চিত হন, কর্মী ভারতের নাগরিক এবং ইউ ভিসা পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারতেন।   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্যাটেল ইউ ভিসা অবৈধভাবে পাওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আদালত এখনো তার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, ক্ষতিপূরণ এবং কারাদণ্ড শেষে সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে থাকার শাস্তিও হতে পারে।   মামলাটি তদন্ত করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস ও ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। প্যাটেলের দোষ স্বীকারের পর এখন আদালতের সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়াই পরবর্তী ধাপ। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ইউএস প্রোবেশন অফিসের প্রস্তুত করা সাজা সংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনার পর বিচারক তার চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৯:৮
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান বা ড্রোন পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। কোনো ধরনের মানবিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্র এসব জলযান পানির নিচে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে এই অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২৯ আগস্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় জলযানের চলাচল’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বরেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।   নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ গবেষক দল এই যুগান্তকারী রেকর্ডটি গড়েছে। পরীক্ষামূলক এই প্রদর্শনীতে TH-৬১৮ মডেলের ১১৬টি আন্ডারওয়াটার অটোনমাস ভেহিকল পানিতে নামানোর পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ মিনিট স্থিতিশীলভাবে চলার পর ড্রোনগুলো ৫০০ মিটারেরও বেশি পূর্বনির্ধারিত পথ সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। পানিতে নামানোর পর পরই যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যায়। রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি ড্রোন নিজস্ব অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট বিন্যাস বজায় রাখে। এমনকি কোনো ড্রোন সাময়িকভাবে পথচ্যুত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে আসার দারুণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে।   পানির নিচে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় যান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কারণ সেখানে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেভিগেশন কার্যকর হয় না। পানির উচ্চ চাপ, কম দৃশ্যমানতা এবং সীমিত পরিবেশগত তথ্যের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই দীর্ঘ সময় যানগুলো পরিচালনা করাকে আন্ডারওয়াটার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রেকর্ড গড়া এই জলযানগুলোর প্রতিটির ওজন মাত্র ৫ দশমিক ১৪ কেজি, যা একজন মানুষ সহজেই পানিতে নামাতে পারেন। এগুলো সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পরিসরে একটানা আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে সক্ষম।   নেভিগেশনের জন্য এসব যানে অত্যাধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্রোতের ধাক্কায় পথচ্যুত হলেও পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান সংশোধন করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত ও সম্ভাবনাময়। সমুদ্রের তলদেশ জরিপ থেকে শুরু করে পানির নিচের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আগামীতে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় জলযানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৫৪
পিংক ফোর্স
দিল্লিতে নারীর নিরাপত্তায় আসছে ‘পিংক ফোর্স’, স্কুল-মেট্রোতে থাকবে নারী পুলিশ

নয়াদিল্লি: নারীদের নিরাপত্তা জোরদারে দিল্লি পুলিশে বিশেষায়িত ‘পিংক ফোর্স’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এই বিশেষ টহল ইউনিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু।   প্রস্তাবিত এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হবে স্কুল, কলেজ, মেট্রো স্টেশনসহ নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো। বিশেষ করে যেসব সময় ও স্থানে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তাঝুঁকি বেশি থাকে, সেসব এলাকায় নিয়মিত টহল ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।   দিল্লির এই উদ্যোগের মডেল হিসেবে নেওয়া হচ্ছে গোয়া পুলিশের ‘পিংক ফোর্স’। গোয়ায় ২০২১ সালে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং দ্রুত পুলিশি সহায়তার জন্য বিশেষায়িত এই ইউনিট চালু করা হয়েছিল।   দিল্লিতে নতুন ইউনিটটি আসলে একেবারে নতুন ধরনের নারী পুলিশিং নয়। এর আগে থেকেই দিল্লি পুলিশ নারী সদস্যদের স্কুটার ও বিট প্যাট্রোলে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বাজার ও মেট্রো স্টেশনের আশপাশে মোতায়েন করে আসছে। নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য এসব কার্যক্রমকে একটি আলাদা ও সমন্বিত ‘পিংক ফোর্স’-এর আওতায় আনা।   এই উদ্যোগের পেছনে দিল্লিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১০ দিনের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর যৌন নির্যাতনের চারটি ঘটনা সামনে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর জননিরাপত্তা ও পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর নতুন করে জোর দেওয়া হয়।   পিংক ফোর্সের পাশাপাশি দিল্লি পুলিশকে ‘অপারেশন শিষ্টাচার’-এর আওতায় প্রকাশ্য স্থানে নারীদের উত্ত্যক্ত ও হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বাজার ও পরিবহনকেন্দ্রিক এলাকায় পায়ে হাঁটা ও মোটরসাইকেল টহলও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া পুলিশি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘জন শুনানি’ কার্যক্রমের অভিযোগগুলো ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলোতে শিশু সুরক্ষা, POCSO আইন, সাইবার অপরাধ, মাদক ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   দিল্লিতে নারী নিরাপত্তায় এরই মধ্যে ১১৬টি ‘পিংক বুথ’, সর্ব-মহিলা PCR ভ্যান এবং অন্যান্য নারী-কেন্দ্রিক পুলিশি উদ্যোগ চালু রয়েছে। জুন ২০২৬-এ উত্তর দিল্লির সবজি মান্ডি এলাকায় রাজধানীর প্রথম সর্ব-মহিলা থানাও চালু করা হয়।   তবে ‘পিংক ফোর্স’ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—এটি এখনো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। বাহিনীতে কতজন সদস্য থাকবেন, কোন কোন জেলায় কতজন মোতায়েন হবেন এবং ঠিক কবে থেকে নিয়মিত টহল শুরু হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৫৩
রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ
রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ

মাঝ আকাশে সহকারী পাইলটের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত। কিন্তু এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও নিজের অসীম সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার জোরে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছা। দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটা এই রোমহর্ষক ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বন্দিত হচ্ছেন এই সাহসী পাইলট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—সবাই তাঁকে ‘বাস্তবের নায়ক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা দেয় ফ্লাইদুবাইয়ের ওই যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি। বিমানটি ওমানের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই ককপিটের ভেতর ক্যাপ্টেন স্মিথের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরই এক সহকারী পাইলট। ধারণা করা হচ্ছে, মাঝ আকাশে যাত্রীবোঝাই বিমানটিকে বিধ্বস্ত করার ভয়ংকর উদ্দেশ্য নিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার পরও দমে যাননি স্মিথ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দেওয়া তথ্যমতে, স্মিথ রক্তাক্ত অবস্থাতেই হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে ওই হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন।   হামলাকারীকে প্রতিহত করার পর চরম সংকটাপন্ন অবস্থাতেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন ক্যাপ্টেন স্মিথ। তিনি দ্রুত বিমানের গতিপথ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং তাবুক শহরের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির সফল জরুরি অবতরণ করান। তাঁর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী সিদ্ধান্তে মাঝ আকাশে একটি নিশ্চিত বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পান ফ্লাইটের সব যাত্রী ও ক্রু। পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের যাত্রীদের সৌদি আরব থেকে নিরাপদে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।   পেশাগত জীবনে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যাপ্টেন স্মিথ ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে সবসময়ই ‘নিরাপত্তার প্রতি গভীর মনোযোগ’ দেওয়ার কথা নিজের পেশাগত বিবরণীতে উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যা তিনি বাস্তবে প্রমাণ করে দেখালেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   এদিকে, মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার ইস্ট এলাকায় বসবাসরত স্মিথের পরিবারও এই দুঃসংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরেই সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচানো এই পাইলটের বীরত্ব এখন গোটা বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৩৯
মানিব্যাগে ৩০০ ডলার পেয়েও ফেরত দিল কিশোর, উপহার পেল স্বপ্নের সাইকেল
মানিব্যাগে ৩০০ ডলার পেয়েও ফেরত দিল কিশোর, উপহার পেল স্বপ্নের সাইকেল

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় প্রায় ৩০০ ডলারসহ একটি মানিব্যাগ খুঁজে পেয়ে মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছিল ১৪ বছরের কোডি চালমার্স। ছেলের সততার কথা মা ফেসবুকে লিখলে পরিবারের অপরিচিত এক ব্যক্তি কোডিকে উপহার দেন তার পছন্দের বৈদ্যুতিক অফরোড সাইকেলটি। এটি ২০২৫ সালের এপ্রিলের ঘটনা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি প্রথম খবরটি প্রকাশ করে ১ মে; পরে ইনসাইড এডিশনসহ অন্য সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটি তুলে ধরে।    চ্যান্ডলারের কুইন ক্রিক রোড ও অ্যারিজোনা অ্যাভিনিউয়ের কাছে সাইকেল চালানোর সময় রাস্তায় মানিব্যাগটি দেখতে পায় কোডি। ভেতরে থাকা এক নারীর পরিচয়পত্রের ছবি মাকে পাঠায় সে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে খুঁজে তাঁরা ওই নারীর ফোন নম্বর বের করেন। কোডির ভাষ্য অনুযায়ী, মানিব্যাগটি হারানোর প্রায় আধা ঘণ্টা পরই মালিক তা ফেরত পান।    মানিব্যাগে নগদ টাকার পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স, ক্রেডিট কার্ড ও স্বাস্থ্যবিমার কার্ড ছিল বলে মালিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান। কোডি বলেছে, জিনিসটি হারিয়ে মালিক নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তায় পড়বেন - এই ভেবেই সে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েক বছর আগে তার বাবার মানিব্যাগ চুরি যাওয়ার পর পরিবারের উদ্বেগও তার মনে ছিল।    কোডির মা ক্যারি স্ট্রেকার জানান, ছেলে কয়েক মাস ধরে একটি বৈদ্যুতিক অফরোড সাইকেল কেনার জন্য টাকা জমাচ্ছিল। সাইকেলটির দাম ছিল প্রায় চার হাজার ডলার। মানিব্যাগ ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি তিনি স্থানীয় ফেসবুক গ্রুপে লেখেন। সেই পোস্ট দেখে তাঁদের অপরিচিত এক ব্যক্তি সাইকেলটি কিনে কোডিকে উপহার দেন। পরবর্তী প্রতিবেদনে উপহারদাতার নাম অ্যাডাম বেইলি বলে উল্লেখ করা হয়েছে; প্রথম স্থানীয় প্রতিবেদনে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি।    কোডি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এমন কিছু পাবে, তা তার কল্পনায়ও ছিল না। তার মা ছেলের ঘটনাটি প্রকাশ করেছিলেন অন্যদের জানাতে যে কিশোরদের ভালো কাজও নজরে আনার মতো।   

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৮
ট্রাম্পের ভিসা বাতিল
ট্রাম্পের কড়াকড়িতে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল, বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা যাচাই

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির ভিসা যাচাই ও বাতিলের অভিযান ব্যাপকভাবে জোরদার হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অপরাধে জড়ানো, প্রতারণা, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকির বিষয়গুলো রয়েছে।   এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ভিসা বাতিলের সঙ্গে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিষয়টি জড়িত বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই ব্যবস্থায় বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন।   ভিসা বাতিলের গতি ২০২৬ সালে আরও বেড়েছে। আগস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ওই সময় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাসে গড়ে প্রায় ৮ হাজার ভিসা বাতিল হলেও ২০২৬ সালে মাসিক সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি পর্যায়ে উঠেছিল।   তুলনায়, জো বাইডেনের শেষ পূর্ণ বছর ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪০ হাজার ভিসা বাতিল করেছিল বলে আগের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ভিসা বাতিলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বৈধ ভিসা থাকা বিদেশিদের ওপরও ধারাবাহিক যাচাই চলছে। এর লক্ষ্য হলো কেউ ভিসার শর্ত পূরণ করছেন কি না, জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছেন কি না এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বা প্রবেশের যোগ্যতা বজায় রেখেছেন কি না তা পর্যালোচনা করা।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ব্যবস্থার পাশাপাশি অভিবাসন নীতিতেও একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরে আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে সেই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।   তবে ভিসা বাতিল এবং ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখা এক বিষয় নয়। কোনো ভিসা বাতিল হলে সেটি আগে ইস্যু করা ভিসার বৈধতা প্রত্যাহার; আর কোনো দেশের নাগরিকদের নতুন ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা আলাদা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।   আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন আরও জানিয়েছিল, আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ লাখ মানুষের B1/B2 ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক গণভিসা বাতিলের উদ্যোগ হতে পারে বলে তখন Associated Press জানিয়েছিল।   ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে নিরাপত্তা যাচাই, অপরাধ, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ও ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব পদক্ষেপের কিছু অংশ নিয়ে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমালোচনা ও আইনি বিতর্কও চলছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৪
বাবার কাস্টডি জেতার কয়েক ঘন্টা পরই চার বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা করলেন মা
বাবার কাস্টডি জেতার কয়েক ঘন্টা পরই চার বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা করলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে চার বছরের মেয়ে ভিভিয়ান সাভেলাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, আদালত শিশুটিকে বাবার জিম্মায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর একই দিন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মা আত্মহত্যার চেষ্টা করে আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।    হিউস্টন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে শহরের পশ্চিমাঞ্চলে টেরা রিজার্ভ প্লেসের একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ যায়। সেখানে ভিভিয়ানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। গুরুতর আহত মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি বেঁচে যাবেন।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি জানিয়েছে, ওই দিন শিশুটির হেফাজত নিয়ে আদালতে শুনানি হয়েছিল। পরিবারের আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারক ভিভিয়ানকে তার বাবা অ্যারন সাভেলার প্রধান তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন। সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবার কাছে যাওয়ার কথা ছিল।    ঘটনার সময় শিশুটির সৎবাবা ও দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন বাড়িতে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা গুলির শব্দ শুনেছেন, তবে ঘটনাটি সরাসরি দেখেননি। তদন্তকারীরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, আইনজীবীর মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে পরিবার জানায়, ভিভিয়ানের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। বাবা ও কাছের মানুষদের স্নেহে বেড়ে উঠছিল শিশুটি। শোকের এই সময়ে পরিবার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৭:৫৯
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

ভারতের কেরালার ত্রিশূরে একটি লজ থেকে তরুণীকে অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুকেও মারধর করা হয়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির স্ত্রী হামলাকারীদের ভাড়া করেছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ উঠে এসেছে।    গত সেপ্টেম্বরে ওই তরুণী তাঁর বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ত্রিশূরের একটি লজে ওঠেন। লজটি কেরালা রাজ্য পরিবহন সংস্থার বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত।   এনডিটিভি জানিয়েছে, পাঁচজনের একটি দল পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁদের কক্ষে ঢোকে। এরপর দুজনকে বেঁধে গাড়িতে করে তামিলনাড়ুর দিকে নিয়ে যায়। পথে পুরুষ সঙ্গীকে মারধর করা হয়। তাঁর হাত-পায়ে হাড় ভাঙার আঘাত লাগে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    অভিযোগ অনুযায়ী, তিরুপুরের একটি হাসপাতালের বাইরে ওই ব্যক্তিকে ফেলে রেখে হামলাকারীদের দুজন তরুণীকে অন্য গাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।   তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তামিলনাড়ু পুলিশ মামলা করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব ত্রিশূর সিটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    তদন্তকারীদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুষ সঙ্গীর স্ত্রী তাঁর স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে হামলাকারীদের কাছে তথ্য পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৭:৫৪
শ্রমজীবী মায়ের মেয়ে নোয়াখালির নাবিলাহ, এখন জর্জিয়ার সিনেটে গড়লেন ইতিহাস
শ্রমজীবী মায়ের মেয়ে নোয়াখালির নাবিলাহ, এখন জর্জিয়ার সিনেটে গড়লেন ইতিহাস

কংগ্রেসের নির্বাচনে প্রথম চেষ্টা সফল হয়নি। তবে দুই বছর পর জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ ইসলাম পার্কস। ২০২২ সালে ডিস্ট্রিক্ট ৭ থেকে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট ছিলেন জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী। তাঁর বেড়ে ওঠা বাংলাদেশ থেকে আসা এক শ্রমজীবী অভিবাসী পরিবারে।    নাবিলাহ নরক্রস ও লরেন্সভিলে বড় হয়েছেন। বাবা-মাকে দীর্ঘ সময় কাজ করে সংসার চালাতে দেখেছেন তিনি। জর্জিয়া সিনেটের সরকারি জীবনীতে বলা হয়েছে, একাধিক চাকরি করেও তাঁর পরিবারকে অনেক সময় দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সংগ্রাম করতে হয়েছে।    পরিবারের সেই অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে প্রভাব ফেলেছে। জর্জিয়া উইন লিস্টের প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, নাবিলাহ হাইস্কুলে পড়ার সময় তাঁর মা ওয়্যারহাউজে কাজ করতে গিয়ে আহত হন। পরিবারের চিকিৎসাসংক্রান্ত সংকট কাছ থেকে দেখার পর হেলথ কেয়ার সহজলভ্য করা ও মেডিকেইড সম্প্রসারণের পক্ষে কাজ শুরু করেন তিনি।    গুইনেট কাউন্টির পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা শেষে নাবিলাহ জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় ডিগ্রি অর্জন করেন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে কাজ করেন।    ২০২০ সালে জর্জিয়ার সপ্তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি তিনি। এরপর ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যের সপ্তম সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের আসন ও স্টেট সিনেটের আসন দুটি আলাদা নির্বাচনী পদ।    তবে নাবিলাহ বর্তমানে স্টেট সিনেটর নন। লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে নির্বাচনী প্রচারে পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ সিনেট থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ফক্স ফাইভ আটলান্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর প্রতিনিধিত্ব করা এলাকার মধ্যে ডুলুথ ও পিচট্রি কর্নার্স ছিল।    পরে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির রানঅফে অংশ নেন নাবিলাহ। ১৬ জুনের সেই নির্বাচনে তাঁকে হারিয়ে দলের মনোনয়ন পান জশ ম্যাকলরিন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো ২০২২ সালের ঐতিহাসিক সিনেট জয়, যার পর তিনি অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আরও বড় পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।  সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৭:৪৫
রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করার ছবি:সংগৃহীত।
শিক্ষায় অবদান রাখা গুণীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের

শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা গুণী ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষার মান উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা বাড়ানো এবং আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।   সাক্ষাৎকালে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি জানান, বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে গুরুত্ব দিচ্ছে।   বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, লাইফ সায়েন্স, অ্যাগ্রো টেকনোলজি ও নার্সিংসহ বিভিন্ন উদীয়মান ও কর্মসংস্থানমুখী বিষয়ে পাঠদান ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন উপাচার্য।   এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করতে হবে। শুধু প্রচলিত শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।   রাষ্ট্রপতি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণার পরিধি বাড়ানো এবং জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।   এ সময় বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো করা বাংলাদেশিদের জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে যারা বিদেশে শিক্ষা, গবেষণা, পেশা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছেন, তাদের অবদানকে দেশে যথাযথভাবে মূল্যায়নের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।   রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে যারা বিশেষ অবদান রাখছেন, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করা উচিত। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকেও শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা সম্ভব হবে—এমন বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।   বৈঠকে পুরোনো চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও কর্মক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শুধু প্রথাগত জ্ঞান নয়, বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।   বিশেষ করে এআই, জীবনবিজ্ঞান, কৃষি প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকেও এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়।   সাক্ষাৎকালে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।   বঙ্গভবনের এই সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারও বৈঠকে অংশ নেন।   বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশিদের সাফল্যের স্বীকৃতি এবং শিক্ষাকে কর্মমুখী করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে তা হলো, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৭:৩৪
‘আমার কেউ নেই', ইমিগ্রেশন কোর্টে নিজের পক্ষে লড়তে হচ্ছে গিয়ে এক শিশুর আর্তনাদ
‘আমার কেউ নেই', ইমিগ্রেশন কোর্টে নিজের পক্ষে লড়তে হচ্ছে গিয়ে এক শিশুর আর্তনাদ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আইনজীবী ছাড়াই অভিবাসন আদালতে হাজির হওয়া ১৩ বছরের হন্ডুরান শিশু অ্যাঞ্জেলের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর হারলিনজেনের আদালতে শুনানির সময় দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের মুখে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। সিএনএনের প্রতিবেদনে ঘটনাটি উঠে এসেছে।    অ্যাঞ্জেল বিচারককে জানায়, তার মা ও পরিবারের প্রায় সবাই যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং হন্ডুরাসে ফিরে যাওয়া বিপজ্জনক। বিচারক তাকে অ্যাসাইলামের যোগ্য নয় বলে জানিয়ে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার আবেদন করবে কি না, জানতে চান। কী করবে বুঝতে না পেরে শিশুটি কাঁদতে শুরু করে। পরে বিচারক বহিষ্কারের আদেশ দিয়ে আপিলের সময় দেন।    সিএনএন জানিয়েছে, দেশজুড়ে দুই বছর বয়সী শিশুরাও অভিবাসন আদালতে হাজির হচ্ছে, অনেকেই আইনজীবী ছাড়া। হারলিনজেনের ওই শুনানিতে তিন বছরের মাতেও মাইক্রোফোন নিয়ে খেলছিল। তবে তার আইনজীবী দূর থেকে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন।    অভিবাসন আদালত পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউ বা ইওআইআরের তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলায় আইনজীবী বা অনুমোদিত প্রতিনিধির সহায়তা নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে সেই প্রতিনিধিত্বের খরচ সরকারকে বহন করতে হয় না। ফলে আদালতে হাজির হলেই বিনা খরচে সরকারি আইনজীবী পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।    সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে অ্যাকেশিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের সঙ্গে আইনি সেবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। ওই ব্যবস্থায় প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান ২০ হাজারের বেশি অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুকে সহায়তা দিত।   আগস্টে বিকল্প আইনি সেবার জন্য ইউএস কমিটি ফর রেফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টসকে সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বক্তব্য, শিশুদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে ইওআইআর শিশুদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অস্বাভাবিকভাবে তাড়াহুড়া করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৭:১৪
মার্কিন নাগরিকত্বের ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ
মার্কিন নাগরিকত্বের ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ, নিউইয়র্কেও চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের জন্য করা ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি এন-৪০০ আবেদন গত ৩০ জুন পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এপ্রিল থেকে জুন - এই তিন মাসে ইউএসসিআইএস নতুন আবেদন পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি, আর অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দিয়েছে ৭০ হাজার ৫৩৯টির। সংস্থাটির ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ হিসাব উঠে এসেছে।   অপেক্ষমাণ ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন শুধু ওই তিন মাসে জমা পড়েনি। এটি জুনের শেষ দিনে আগের আবেদনসহ মোট অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা। প্রান্তিকটিতে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি অনুমোদিত এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।   অফিসভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন অপেক্ষমাণ ছিল টেক্সাসের হিউস্টনে - ৩১ হাজার ৫৭টি। এরপর ডালাসে ২৮ হাজার ৬৬২টি, শিকাগোতে ২৩ হাজার ৬২৩টি, স্যান হোসেতে ২০ হাজার ৮৯৯টি এবং স্যান অ্যান্টোনিওতে ১৮ হাজার ৯৯৯টি। এসব সংখ্যায় সাধারণ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নাগরিকত্বের আবেদনও একসঙ্গে ধরা হয়েছে।    নিউইয়র্ক অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন অপেক্ষমাণ। শুধু সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন ধরলে নিউইয়র্ক অফিসে ১৭ হাজার ২৮টি, ব্রুকলিনে ১৫ হাজার ৬২৭টি, কুইন্সে ১১ হাজার ৯০৮টি এবং লং আইল্যান্ডে ৯ হাজার ৮০৩টি আবেদন জুনের শেষে অনিষ্পন্ন ছিল। নিউ জার্সির নিউয়ার্ক অফিসে এই সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৭০।   সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দেশজুড়ে মধ্যম সময় ছিল ৯ দশমিক ৫ মাস। এটি জাতীয় হিসাব, কোনো নির্দিষ্ট অফিস বা আবেদনকারীর জন্য প্রতিশ্রুত সময়সীমা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত যোগ্য বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও একই এন-৪০০ আবেদনপ্রক্রিয়া প্রযোজ্য; প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশিদের আবেদন আলাদা করে দেখানো হয়নি। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৬:৫৩
জামায়াত আর আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা
জামায়াত আর আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা

জুলাই আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি। একই পোস্টে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন।    প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, উমামার অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোকে বাদ দিয়ে শিবির ও ছাত্রশক্তির একটি গোষ্ঠীর সদস্যদের সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি।    আন্দোলনের আগে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেকেই পরে নেতা হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন উমামা। এ প্রসঙ্গে সালাউদ্দীন আম্মারের নাম উল্লেখ করেন তিনি।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরির ধরন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উমামা। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৃত্রিমভাবে তরুণদের কাছে ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।    পোস্টে দেশের রাজনীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই।’ জামায়াত নিজেদের অতীতের ‘গণহত্যার কালিমা’ ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।    এসব বক্তব্য উমামা ফাতেমার ব্যক্তিগত মন্তব্য ও অভিযোগ। ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৬:৪৬
ফ্লোরিডার ব্রাইট ফিউচারস স্কলারশিপে বাড়ছে পরীক্ষার নম্বরের শর্ত
ফ্লোরিডার ব্রাইট ফিউচারস স্কলারশিপে বাড়ছে পরীক্ষার নম্বরের শর্ত

ফ্লোরিডায় ২০২৮ সালে হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীদের ব্রাইট ফিউচারস স্কলারশিপ পেতে আগের ব্যাচের চেয়ে বেশি নম্বর লাগবে। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের আগস্টে হালনাগাদ করা নির্দেশিকায় দুটি প্রধান স্কলারশিপেরই এসএটি পরীক্ষার ন্যূনতম নম্বর বাড়ানো হয়েছে। পরিবর্তনটি ২০২৮ সালের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য; ২০২৭ সালে হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীদের নম্বরের শর্ত আগের মতোই রয়েছে।    ফ্লোরিডা অ্যাকাডেমিক স্কলারস ক্যাটাগরিতে ২০২৮ সালের গ্র্যাজুয়েটদের এসএটিতে অন্তত ১৩৫০ পেতে হবে। ২০২৭ সালের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রয়োজন ১৩৩০। একই ক্যাটাগরিতে সিএলটি পরীক্ষার ন্যূনতম নম্বর ৯৫ থেকে ৯৬ হলেও এসিটির শর্ত ২৯-ই থাকছে।    ফ্লোরিডা মেডালিয়ন স্কলারস ক্যাটাগরিতে এসএটির শর্ত ১১৯০ থেকে ১২০০, এসিটির শর্ত ২৪ থেকে ২৫ এবং সিএলটির শর্ত ৮২ থেকে ৮৩ হচ্ছে। অর্থাৎ ২০২৮ সালের শিক্ষার্থীদের জন্য সব পরীক্ষার নম্বরের শর্ত একই হারে বাড়েনি।   তবে পরীক্ষার নম্বর পেলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত হয় না। অ্যাকাডেমিক স্কলারসের জন্য নির্ধারিত কোর্সে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫০ এবং মেডালিয়ন স্কলারসের জন্য ৩ দশমিক ০০ ওয়েটেড জিপিএ প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্ধারিত কোর্স, স্বেচ্ছাসেবা বা বেতনভুক্ত কাজের ঘণ্টা এবং আবেদনসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হয়। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কলারশিপ পেতে শিক্ষার্থীকে ফ্লোরিডার বাসিন্দা এবং মার্কিন নাগরিক অথবা যোগ্য অনাগরিকও হতে হবে।    শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো হাইস্কুল শেষ করার বছর অনুযায়ী শর্ত মিলিয়ে দেখা। ফ্লোরিডার সরকারি তথ্যপত্র অনুযায়ী, পরীক্ষার নম্বর অর্জন করতে হবে গ্র্যাজুয়েশনের বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে; বছরের মাঝামাঝি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য আলাদা সময়সীমা রয়েছে। একই বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে ফ্লোরিডা ফিন্যান্সিয়াল এইড আবেদনও জমা দিতে হয়। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৬:৪১
নিউইয়র্কে চাকরির সংখ্যা পতনে জানুয়ারির ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি স্থগিতের পথে
নিউইয়র্কে চাকরির সংখ্যা পতনে জানুয়ারির ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি স্থগিতের পথে

নিউইয়র্কে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ন্যূনতম মজুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ার কথা থাকলেও চাকরির সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই বৃদ্ধি আটকে যাচ্ছে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড ও ওয়েস্টচেস্টারে ঘণ্টাপ্রতি সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ১৭ ডলার এবং অঙ্গরাজ্যের বাকি এলাকায় ১৬ ডলারই থাকার কথা। অঙ্গরাজ্যের শ্রম বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আসার কথা বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস ইউনিয়ন।    অঙ্গরাজ্যের আইনে ২০২৭ সাল থেকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিবছর ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা আছে। তবে একই আইনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে বৃদ্ধি স্থগিত রাখার বিধানও রয়েছে। জানুয়ারি ও এপ্রিলের তুলনায় জুলাইয়ে নিউইয়র্কের মৌসুমি সমন্বয় করা মোট কৃষিবহির্ভূত চাকরির সংখ্যা কম থাকলে এই বিধান কার্যকর হয়।    এ বছর জানুয়ারিতে অঙ্গরাজ্যে এমন চাকরি ছিল এক কোটির বেশি। এপ্রিল মাসে তা কমে প্রায় ৯৯ লাখ ৭০ হাজার এবং জুলাইয়ে প্রায় ৯৯ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়ায়। জুলাইয়ের সংখ্যা জানুয়ারি ও এপ্রিল - দুই মাসের চেয়েই কম হওয়ায় মজুরি বৃদ্ধির পথে আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। এই হিসাবকে শুধু বেসরকারি খাতের চাকরির সংখ্যা বলা ঠিক হবে না।    গভর্নর ক্যাথি হকুল আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাবে সামান্য চাকরি কমলেই মজুরি বৃদ্ধি বন্ধ হওয়ার বদলে চাকরি কমার হার বিবেচনা করা হবে। টাইমস ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নিয়মে নির্দিষ্ট কয়েকটি সময়ের চাকরির হিসাব মিলিয়ে অন্তত শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পতন হয়েছে কি না, তা দেখা হবে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব; আইনসভায় অনুমোদন পায়নি।    হকুলের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। চাকরির সংখ্যা কমার পেছনে পর্যটন ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতের সমস্যার কথাও বলছে তাঁর প্রশাসন। এগুলো প্রশাসনের ব্যাখ্যা; মজুরি বৃদ্ধি স্থগিতের আইনি কারণ হলো নির্ধারিত মাসগুলোর চাকরির সংখ্যায় পতন।    নিউইয়র্কের আইনসভা জানুয়ারিতে পরবর্তী অধিবেশনে ফিরবে। তাই আইন পরিবর্তন না হলে জানুয়ারিতে প্রচলিত মজুরির হারই বহাল থাকার কথা। তবে এই সিদ্ধান্তকে পুরো ২০২৭ সালেই কোনো মজুরি পরিবর্তন হবে না - এমন ঘোষণা হিসেবে ধরা যাবে না; পরবর্তী সময়ে আইন সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।   

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৬:৩২
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত, বেসামরিক প্রাণহানিরও অভিযোগ

আফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে দুই দেশ। ইসলামাবাদের দাবি, হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। কোনো পক্ষের হতাহতের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জন নিহত হওয়ার তথ্যটি প্রাথমিক হিসাব। আস্তানাগুলোতে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। অস্ত্র জব্দের তথ্য তারা দেয়নি।    অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে তিনটি বাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা নারী ও শিশু বলে তাঁর দাবি। তিনি পাকিস্তানের এই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তান বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করেনি।    দুই পক্ষের দেওয়া সংখ্যাকে এক করে মোট নিহতের হিসাব করা যাচ্ছে না। পাকিস্তান যে ২২ জনকে জঙ্গি বলছে এবং আফগানিস্তান যে নয়জনকে বেসামরিক মানুষ বলছে, তাঁদের পরিচয় বা এই দুটি হিসাবের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়নি।    হামলাটি এমন সময় হলো, যখন সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আবার বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন চলতি বছর সীমান্তবর্তী সহিংসতায় দেশটিতে ১ হাজার ১০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। এটি বৃহস্পতিবারের হামলার হতাহতের হিসাব নয়। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৬:৬
কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনের পর নিয়োগ পেলেন ময়মনসিংহের ২০ শিক্ষক প্রার্থী
কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনের পর নিয়োগ পেলেন ময়মনসিংহের ২০ শিক্ষক প্রার্থী

কয়েক দিন ধরে নিয়োগের অনিশ্চয়তায় থাকা ময়মনসিংহের ২০ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রার্থী অবশেষে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটির কারণে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে ছিল। নিয়োগের দাবিতে বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় জড়িয়ে অবস্থান নেওয়ার পর তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, যেসব প্রার্থীর কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি ছিল, সেগুলো পুনরায় যাচাই করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ২০ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের নিয়োগপত্র ডাকযোগে নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।   জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহ জেলা থেকে ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি ১৮ জন। ফলে বাকি ২৪১ জনকে নিয়ে নিয়োগের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।   প্রথম পর্যায়ে ২১৯ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পুলিশ ভেরিফিকেশন ও বিভিন্ন সনদসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২২ জনের নিয়োগ আটকে যায়। এতে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন এসব প্রার্থী।   নিয়োগের দাবিতে বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। একপর্যায়ে কাফনের কাপড় পরে তারা সেখানে অবস্থান নেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হলে ওই রাতেই সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পুনরায় যাচাই করা হয়। এরপর ২০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।   তবে আটকে থাকা ২২ জনের মধ্যে এখনো দুজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়।   নিয়োগের খবর পাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। নবনিযুক্ত শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছিল। নিয়োগ পাওয়ার খবরে সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।   আরেক নবনিযুক্ত শিক্ষক হাসি আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর তারা নিয়োগ পেয়েছেন। এতে তারা খুবই আনন্দিত।   ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নথিপত্রে ছোটখাটো ত্রুটি থাকা প্রার্থীদের তথ্য পুনরায় যাচাই করে ২০ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারা দ্রুত নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন। আর বাকি দুজনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৫:৩৯
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি
ট্রাংক কেটে প্রশ্ন চুরি, কর্মকর্তার কক্ষে ফটোকপি, অন্তর্বাসে পাচারের ভয়াবহ তথ্য

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তদন্তে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের কর্মী এবং দালালদের সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্য উঠে এসেছে।   সিআইডির তদন্ত নথি অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র চুরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পাশ কাটাতে ব্যবহার করা হয়েছে নানা কৌশল। কোথাও ট্রাংকের তালা কেটে প্রশ্নপত্র বের করা হয়েছে, আবার কোথাও কর্মকর্তার কক্ষের ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে প্রশ্নের কপি করা হয়েছে। বিজি প্রেস থেকেও প্রশ্নপত্র বাইরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।   তদন্তে সবচেয়ে আলোচিত তথ্যগুলোর একটি এসেছে পিএসসির অফিস সহায়ক মো. সাজেদুল ইসলামকে ঘিরে। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার আগে তিনি পিএসসির এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করেন।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চাবি সংগ্রহ করে ওই কক্ষে ঢোকেন সাজেদুল। এরপর হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে একটি ট্রাংকের তালা কেটে ফাইনাল মডারেশনের চার সেট হাতে লেখা প্রশ্নপত্র বের করেন।প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি ওই কর্মকর্তার কক্ষেই থাকা অফিসিয়াল ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে চার সেট প্রশ্নের কপি করেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মূল প্রশ্নপত্রগুলো আবার ট্রাংকে রেখে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।   তদন্ত নথি অনুযায়ী, ওই চার সেট প্রশ্নপত্রে মোট ৮০০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ছিল। পরে প্রশ্নগুলো এক জায়গায় না লিখে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার কম্পিউটারের দোকানে অল্প অল্প করে কম্পোজ করানো হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, এসব প্রশ্নের বিনিময়ে সাজেদুল ইসলাম ৭৫ লাখ টাকা পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   প্রশ্নপত্র ফাঁসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে তদন্তে উঠে এসেছে সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের নাম। সেখানে কর্মরত কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র বাইরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।   তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, বিজি প্রেসের কর্মী মোহাম্মদ আকরাম হোসেন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মজনু মিয়া প্রশ্নপত্রের ছবি তোলা কিংবা কাগজ বাইরে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র শরীরে লুকিয়ে বাইরে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   তদন্তে আরও উঠে এসেছে পিএসসির সাবেক কর্মী মো. খলিলুর রহমানের নাম। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চাকরি হারিয়েছিলেন। পরে পুনর্বহাল হওয়ার পর আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।   সিআইডির তদন্তে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর নামও গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি বিক্রির একটি বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে এসেছে।   এ ঘটনায় সিআইডি মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিজি প্রেসের কর্মী এবং মধ্যস্থতাকারীদের সমন্বয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   তদন্তে আরও বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের হিসাব, প্রার্থীদের তথ্য এবং যোগাযোগের নথি উদ্ধারের কথাও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এসব তথ্য সিআইডির তদন্ত ও অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অভিযোগ। আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত।   এই তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। একটি প্রশ্নপত্র কীভাবে নিরাপত্তাবেষ্টিত কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাজারে পৌঁছাল, কারা কোথায় সহায়তা করেছে এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে এই নেটওয়ার্ক কীভাবে চলেছে—এসব বিষয়ই তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৪:৩৭
এবার মশার বিরুদ্ধে কামান দাগাচ্ছেন ট্রাম্প! লক্ষ্য ৯০ শতাংশ নিধন
এবার মশার বিরুদ্ধে কামান দাগাচ্ছেন ট্রাম্প! লক্ষ্য ৯০ শতাংশ নিধন

এবার মশার বিরুদ্ধেই যেন ‘যু দ্ধ’ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ওয়াশিংটন ডিসিতে রোগবাহী ও আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা কমাতে বড় ধরনের অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। লক্ষ্য—নির্দিষ্ট কিছু মশার সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা।   মঙ্গলবার সই করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই উদ্যোগের আওতায় দুই বছরের মধ্যে এলাকায় টিকের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।   আদেশে বলা হয়েছে, ফেডারেল নিয়ন্ত্রণাধীন ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন এলাকায় মশা ও টিকের প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এ কাজে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ও রাসায়নিকবিহীন পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি কাঠামো তৈরির কথাও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা ও টিকবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।   আদেশে মশার পাশাপাশি টিকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। টিকের মাধ্যমে লাইম ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলফা-গাল সিনড্রোম নিয়েও গবেষণা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।   এদিকে ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া ডে ঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্পের এই উদ্যোগ সামনে এলো। ২০২৬ সালে রাজ্যটির ছয়টি কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ১৯০টি ডে ঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। এর মধ্যে হিলসবরো কাউন্টিতেই ১৭০টি ঘটনা রয়েছে।   স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ফ্লোরিডায় এ ধরনের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। ভারী বৃষ্টিপাতসহ আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিস্থিতি মশার সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।   ডে ঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে ছড়ায়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে রোগটি বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় এর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।   ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে মশা ও টিকবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারি গবেষণা কর্মসূচি, নতুন প্রযুক্তি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। নতুন চিকিৎসা ও প্রতিরোধ পদ্ধতি উদ্ভাবনে গবেষকদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি চালুর কথাও রয়েছে।   এ ছাড়া আলফা-গ্যালাকটোজ নামের উপাদান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকা পণ্যের লেবেলিংয়ের বিষয়টিও পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলফা-গাল সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লাল মাংস খাওয়ার পর গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।   হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসিতে রোগবাহী মশা ও টিকের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও কার্যকর পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ৪:০