আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত, বেসামরিক প্রাণহানিরও অভিযোগ
আফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে দুই দেশ। ইসলামাবাদের দাবি, হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। কোনো পক্ষের হতাহতের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জন নিহত হওয়ার তথ্যটি প্রাথমিক হিসাব। আস্তানাগুলোতে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। অস্ত্র জব্দের তথ্য তারা দেয়নি।
অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে তিনটি বাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা নারী ও শিশু বলে তাঁর দাবি। তিনি পাকিস্তানের এই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তান বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করেনি।
দুই পক্ষের দেওয়া সংখ্যাকে এক করে মোট নিহতের হিসাব করা যাচ্ছে না। পাকিস্তান যে ২২ জনকে জঙ্গি বলছে এবং আফগানিস্তান যে নয়জনকে বেসামরিক মানুষ বলছে, তাঁদের পরিচয় বা এই দুটি হিসাবের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়নি।
হামলাটি এমন সময় হলো, যখন সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আবার বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন চলতি বছর সীমান্তবর্তী সহিংসতায় দেশটিতে ১ হাজার ১০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। এটি বৃহস্পতিবারের হামলার হতাহতের হিসাব নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreআফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে দুই দেশ। ইসলামাবাদের দাবি, হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। কোনো পক্ষের হতাহতের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জন নিহত হওয়ার তথ্যটি প্রাথমিক হিসাব। আস্তানাগুলোতে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। অস্ত্র জব্দের তথ্য তারা দেয়নি। অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে তিনটি বাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা নারী ও শিশু বলে তাঁর দাবি। তিনি পাকিস্তানের এই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তান বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করেনি। দুই পক্ষের দেওয়া সংখ্যাকে এক করে মোট নিহতের হিসাব করা যাচ্ছে না। পাকিস্তান যে ২২ জনকে জঙ্গি বলছে এবং আফগানিস্তান যে নয়জনকে বেসামরিক মানুষ বলছে, তাঁদের পরিচয় বা এই দুটি হিসাবের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়নি। হামলাটি এমন সময় হলো, যখন সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আবার বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন চলতি বছর সীমান্তবর্তী সহিংসতায় দেশটিতে ১ হাজার ১০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। এটি বৃহস্পতিবারের হামলার হতাহতের হিসাব নয়।
নিকট ভবিষ্যতেই তীব্র হতে পারে খাদ্য সংকট, দায়ী এল নিনো ও দুই যু দ্ধ
মাঝ আকাশে বিমানে হামলা, পাইলটের সাহসিকতায় রক্ষা পেলেন ১৮০ যাত্রী
যুক্তরাজ্যের মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তিন সন্তানকে রেখে চিরবিদায় নিলেন মা
হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনিকে নিয়ে তৈরি আলোচিত বিজ্ঞাপন প্রচারের পর খেলাধুলাভিত্তিক পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার বা প্রেডিকশন মার্কেট নভিগের মূল্যায়ন বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের শুরুতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে অর্থ সংগ্রহ করা প্রতিষ্ঠানটির মূল্য কয়েক মাসের ব্যবধানে চারগুণ হয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে শুধু সুইনির বিজ্ঞাপন নয়, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নতুন বিনিয়োগ এবং নিউইয়র্ক মেটসের সঙ্গে অংশীদারত্বও ভূমিকা রেখেছে। নভিগ মূলত খেলাধুলা নিয়ে পূর্বাভাসভিত্তিক লেনদেনের সুযোগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মডেল কালশি বা পলিমার্কেটের মতো অন্যান্য পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার থেকে কিছুটা আলাদা। নভিগ নিজেদের প্ল্যাটফর্মকে শুধু খেলাধুলাকেন্দ্রিক হিসেবে তুলে ধরে এবং যুদ্ধ, মৃত্যু বা রাজনীতির মতো বিষয় নিয়ে পূর্বাভাসের বাজার না রাখার কথা প্রচারে জোর দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি সিডনি সুইনিকে নিয়ে তাদের প্রথম জাতীয় বিজ্ঞাপন প্রচারণা শুরু করে। এই প্রচারণায় ‘ইউফোরিয়া’ অভিনেত্রী সুইনিকে খেলাধুলার বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা অত্যন্ত সাহসী বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনের মূল বার্তা ছিল, নভিগে শুধু খেলাধুলা নিয়ে মতামত ও পূর্বাভাসের ওপর লেনদেন করা যাবে। বিজ্ঞাপনটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একই সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। নভিগের সঙ্গে সুইনির সম্পর্ক শুধু বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত অংশীদার এবং শেয়ারধারী হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন। নভিগের নিজস্ব ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই প্রচারণার মাধ্যমে খেলাধুলাকেন্দ্রিক তাদের ব্যবসায়িক পরিচয়কে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরাই ছিল লক্ষ্য। তবে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সমালোচনাও কম হয়নি। কয়েকজন নারী ক্রীড়াবিদ অভিযোগ করেন, বিজ্ঞাপনটি খেলাধুলায় নারীদের ভূমিকার বদলে তাদের শরীরকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ব্রিটিশ স্প্রিন্টার অ্যামি হান্ট, অস্ট্রেলিয়ার সাঁতারু ও চারবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আরিয়র্ন টিটমাস এবং মার্কিন জিমন্যাস্ট গ্রেসি ক্রেমার সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ক্রীড়া দক্ষতা তুলে ধরে বিজ্ঞাপনটির ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে আনেন। সুইনির বিজ্ঞাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের মধ্যেই তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখের বেশি কমেছে বলে ভ্যারাইটির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। তবে এরপরও তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক মেগিন কেলি এবং দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস সুইনির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, পুরুষদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপনে দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণনির্ভর বিপণন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। সুইনিও বিজ্ঞাপনটি নিয়ে পিছিয়ে যাননি। বরং পরে সামাজিক মাধ্যমে ক্রীড়া সাময়িকীর বিভিন্ন প্রচ্ছদে নগ্ন বা অল্প পোশাকের ক্রীড়াবিদদের ছবি প্রকাশ করে নিজের প্রচারণার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। নভিগের প্রধান নির্বাহী জ্যাকব ফোরটিনস্কিও বিজ্ঞাপনটির পক্ষে ছিলেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নারী ক্রীড়াকে সমর্থন করে এবং বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য নারী ক্রীড়াকে উপস্থাপন করা ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনের দৃশ্য ও বার্তার বড় অংশই সুইনির সৃজনশীল ধারণা থেকে এসেছে এবং তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবে সেটি উপস্থাপন করেছেন। তবে নভিগের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে শুধু এই বিজ্ঞাপনকে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন বা সিএফটিসি নভিগকে নিয়ন্ত্রিত পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার হিসেবে পরিচালনার অনুমোদন দেয়। এই অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে নভিগ ৭৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করেছিল এবং তখন প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার। নতুন অর্থ সংগ্রহের ফলে মূল্যায়ন ২ বিলিয়ন ডলারে উঠলে সেটি আট মাসেরও কম সময়ে চারগুণ বৃদ্ধির সমান হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন অর্থের বড় অংশ এসেছে আগের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। প্রতিষ্ঠানটির আগের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্যানটেরা ক্যাপিটাল, মাল্টিকয়েন ক্যাপিটাল ও এনএফএক্সের মতো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নভিগের ব্যবসা বাড়ার আরেকটি কারণ নিউইয়র্ক মেটসের সঙ্গে তাদের অংশীদারত্ব। জুলাইয়ে মেজর লিগ বেসবলের দল নিউইয়র্ক মেটসের সঙ্গে নভিগের অংশীদারত্বের ঘোষণা আসে। এটি একটি মেজর লিগ বেসবল দলের সঙ্গে পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার প্রতিষ্ঠানের প্রথম ধরনের অংশীদারত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই খাতটিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়লেও পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক বিতর্কও রয়েছে। কালশি ও পলিমার্কেটের মতো প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের ঘটনা নিয়ে পূর্বাভাসের বাজার পরিচালনা করে। এসব প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে কিছু অঙ্গরাজ্যের জুয়া নিয়ন্ত্রণ আইন, কর এবং বাজারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নভিগ অবশ্য নিজেকে খেলাধুলায় সীমাবদ্ধ রেখেছে এবং ফেডারেল নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পরিচালনার অনুমোদন পাওয়ার পর ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। নভিগ ২০২১ সালে জ্যাকব ফোরটিনস্কি ও কেলেচি উকাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ফেব্রুয়ারির ৭৫ মিলিয়ন ডলারের অর্থ সংগ্রহের আগে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি আরও ১৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। ফলে এখন পর্যন্ত নভিগের মোট সংগৃহীত অর্থ ১০৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে ফ্রন্ট অফিস স্পোর্টস জানিয়েছে। নতুন মূল্যায়ন অনুযায়ী নভিগ দ্রুত বেড়ে উঠলেও এটি এখনো কালশি ও পলিমার্কেটের তুলনায় ছোট প্রতিষ্ঠান। তবে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে আলাদা ব্যবসায়িক মডেল, সিএফটিসির অনুমোদন, বড় ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং সিডনি সুইনির মতো তারকাকে যুক্ত করে প্রচারণা প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। সুইনির জন্যও এই অংশীদারত্ব আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি সাধারণ পারিশ্রমিকের পরিবর্তে নভিগের মালিকানার অংশ বা শেয়ার নিয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অংশীদারত্বের সঠিক পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ২ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে তাঁর অংশীদারত্বের প্রকৃত আর্থিক মূল্য কত, তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে নভিগের মূল্যায়ন ৫০০ মিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সিডনি সুইনির আলোচিত বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও, নতুন বিনিয়োগ, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বও একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নভিগ ও ফ্রন্ট অফিস স্পোর্টস।
অবৈধভাবে আমেরিকা যাওয়ার পথে ৩ ভারতীয় অপহরণ, এক কোটি রুপি মুক্তিপণ দাবি
সহকর্মীর গুলিতে ভারতে কমান্ডারসহ ৪ সিআইএসএফ সদস্য নিহত
১১ হাজার ৬৯৫ লেগো টুকরোয় পৃথিবীর মানচিত্র, দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড
ইরাকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টাগন জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের শেষ বিমানঘাঁটি থেকেও সেনারা সরে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন শেষ হলো। তবে ইরান যুদ্ধের মধ্যে এই প্রস্থান ইরাকের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা ও সরঞ্জাম পরিকল্পিতভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন ইরাকের নিরাপত্তায় দেশটির নিজস্ব বাহিনী নেতৃত্ব দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা চলবে দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কের ভিত্তিতে। প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটন ও বাগদাদ ২০২৪ সালেই সামরিক মিশন গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল। জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে হওয়া সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা দেশটি ছেড়ে যায়। কিন্তু আইএস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর ২০১৪ সালে ইরাকি সরকারের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আবার সেখানে যায়। এবার সেই দ্বিতীয় মিশনও শেষ হলো। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরানঘনিষ্ঠ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে দেশটির কুর্দি অঞ্চলের কর্মকর্তারা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরে যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইরাকে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার কাজও শেষ হয়নি; এ জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত পিছিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। আইএস নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সংগঠনটি আগের মতো এলাকা নিয়ন্ত্রণ না করলেও তাদের গোপন সক্রিয় সদস্য রয়ে গেছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরাকি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনীর দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির সহায়তা বন্ধ হলে নিরাপত্তার ফাঁক তৈরির সুযোগ নিতে পারে আইএস। এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি, আইএস আবার বড় এলাকা দখল করেছে বলে কোনো তথ্য নয়। এই প্রেক্ষাপটে নিউজউইকের বিশ্লেষণে ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ভবিষ্যৎ ভাবার কথা বলা হয়েছে। লেখাটির সতর্কবার্তা ইরানকে দেওয়া মার্কিন সরকারের কোনো নতুন হুমকি নয়। এর মূল প্রশ্ন হলো, সামরিক শক্তি দিয়ে লক্ষ্য অর্জনের দাবি করার পর দীর্ঘ সংঘাত থেকে বের হওয়ার রাজনৈতিক পথ কী হবে। ইরাকে মার্কিন সামরিক মিশন শেষ হলেও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে। ফলে সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাক কতটা স্থিতিশীল থাকবে এবং ইরান যুদ্ধের জন্য ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
দামি ফোন, স্বর্ণের গহনার জন্য দুই মাসের শিশুকে ৪ দফায় বিক্রি করেন বাবা-মা
মুসলমানদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ রেখে নিজেদের ধর্মীয় আচার পালন করলো ইসরাইলিরা