ভয় থেকে ভালোবাসা, শরীরে ৪৩ মুরগির ট্যাটু করে বিশ্বরেকর্ড অ্যাশলির
একসময় মুরগি তো দূরের কথা, প্রায় সব ধরনের পাখিকেই ভয় পেতেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার অ্যাশলি উডস। অথচ সেই ভয়ই একসময় এমন ভালোবাসায় পরিণত হবে যে নিজের শরীরে একে একে ৪৩টি মুরগির ট্যাটু করাবেন—তা তিনি নিজেও হয়তো কল্পনা করেননি। এখন মুরগিই তার জীবনের অন্যতম বড় অংশ, আর শরীরজুড়ে থাকা এসব ট্যাটু হয়ে উঠেছে তার স্মৃতি, রসবোধ ও প্রিয় প্রাণীগুলোর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।
অ্যারিজোনার প্রেসকট ভ্যালির বাসিন্দা অ্যাশলির জীবনে পরিবর্তন শুরু হয় যখন তিনি ফ্লাফি বা তুলতুলে পালকের জন্য পরিচিত স্যালমন ফাভেরোলস জাতের মুরগি পালন শুরু করেন। প্রথমদিকে মুরগি পালনের বিষয়টি ছিল একেবারেই সাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পাখিগুলোর অদ্ভুত স্বভাব, মজার শব্দ এবং ছোটাছুটির ধরন অ্যাশলিকে আকৃষ্ট করতে শুরু করে। যেসব প্রাণীকে একসময় ভয় পেতেন, ধীরে ধীরে সেগুলোর সঙ্গেই তার তৈরি হয় গভীর এক সম্পর্ক।
মুরগির প্রতি অ্যাশলি ও তার পরিবারের ভালোবাসা সময়ের সঙ্গে আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তারা ১০০টিরও বেশি মুরগির যত্ন নেন। ফলে মুরগিগুলো শুধু বাড়ির পোষা প্রাণী বা খামারের অংশ হয়ে থাকেনি, বরং পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। প্রতিটি মুরগির আলাদা স্বভাব ও আচরণ অ্যাশলির কাছে আলাদা কোনো গল্পের মতো মনে হতে থাকে।
অন্যদিকে অ্যাশলির আগে থেকেই ট্যাটুর প্রতি আগ্রহ ছিল। মুরগির প্রতি নতুন এই ভালোবাসা এবং ট্যাটুর শখ—দুই বিষয়কে একসঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার প্রথম মুরগির ট্যাটুটিও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। সেখানে দেখা যায়, অ্যারিজোনার মরুভূমির পটভূমিতে একটি মুরগিকে এলিয়েনরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। মজার ও কল্পনাপ্রবণ সেই নকশা থেকেই শুরু হয় তার মুরগির ট্যাটুর দীর্ঘ যাত্রা।
এরপর একে একে শরীরে জায়গা পেতে থাকে আরও নানা ধরনের মুরগির নকশা। কোনো ট্যাটুতে দেখা যায় জনপ্রিয় চরিত্র চিকেন লিটলকে, আবার কোনো নকশায় রয়েছে কার্টুন চরিত্র ফগহর্ন লেঘর্ন। এমনকি সানগ্লাস পরা মুরগির মতো হাস্যরসাত্মক নকশাও রয়েছে তার শরীরে। প্রতিটি ট্যাটুর নকশায় মুরগিকে ঘিরে অ্যাশলির নিজস্ব রসবোধ এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ছাপ রয়েছে।
মুরগির ট্যাটুর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত তা একটি বিশ্বরেকর্ডের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ২০২৬ সালের মার্চে অ্যাশলি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পান একজন নারীর শরীরে সবচেয়ে বেশি মুরগির ট্যাটু থাকার জন্য। তার শরীরে তখন মোট ৪৩টি মুরগির ট্যাটু ছিল। এই স্বীকৃতি তাকে মুরগিপ্রেমী হিসেবে যেমন আলাদা পরিচিতি দিয়েছে, তেমনি তার অস্বাভাবিক শখকেও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে।
তবে অ্যাশলির কাছে এসব ট্যাটু শুধু রেকর্ড গড়ার বিষয় নয়। প্রতিটি নকশার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোনো না কোনো স্মৃতি, মজার ঘটনা কিংবা তার জীবনে মুরগিগুলোর বিশেষ ভূমিকা। যে প্রাণীকে একসময় ভয় পেতেন, সেই মুরগিই এখন তার জীবনের এমন এক অংশ হয়ে উঠেছে, যাকে তিনি শরীরে স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে চেয়েছেন।
অ্যাশলির গল্প তাই শুধু অদ্ভুত একটি ট্যাটু রেকর্ডের গল্প নয়। এটি বরং কীভাবে ভয় ধীরে ধীরে পরিচয়, পরিচয় থেকে ভালোবাসা এবং সেই ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত জীবনের একটি বিশেষ অংশে পরিণত হতে পারে—তারই এক মজার উদাহরণ। একসময় পাখি দেখলেই আতঙ্কিত হওয়া সেই নারী এখন ৪৩টি মুরগির ট্যাটু নিয়ে নিজের এই অদ্ভুত ভালোবাসার গল্পই বহন করছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
লাইফস্টাইল
View moreনভেম্বর মাস অনেকের কাছেই ভ্রমণের আদর্শ সময়। ইউরোপের উঁচু পাহাড়ি এলাকায় শুরু হয় স্কি মৌসুম, আবার বিশ্বের অন্য প্রান্তে তখন থাকে আরামদায়ক উষ্ণ আবহাওয়া। কেউ যদি বরফে স্কি করতে চান, কেউ হয়তো সমুদ্রসৈকতে বসে সূর্য উপভোগ করতে চান, আবার কেউ চাইতে পারেন উৎসবের আমেজে ঘুরে বেড়াতে। নভেম্বরের ছুটির জন্য তাই একাধিক ধরনের গন্তব্য বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফ্রান্সের তিঁন ও ভাল ক্লারে নভেম্বরের শেষ দিকে স্কি মৌসুম শুরুর অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে। তিঁনের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম ভাল ক্লারে আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে স্কি মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। উঁচু অবস্থানের কারণে এখানে বরফ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং গ্রঁদ মত হিমবাহের কাছেও সহজে যাওয়া যায়। স্কি করার পাশাপাশি পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করতে চান এমন ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণীয়। ভাল ক্লারের চার তারকা ইয়ন্সিও আবাসনে এক সপ্তাহের জন্য দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে চারজন থাকার ভাড়া ২৮ নভেম্বর থেকে ২ হাজার ৪০৪ পাউন্ড থেকে শুরু হচ্ছে। এতে একটি গাড়ির জন্য লে শাটল ক্রসিংও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আবাসনটিতে রয়েছে উত্তপ্ত ইনডোর সুইমিংপুল, যা পাহাড়ে সময় কাটানোর পর আরাম করার সুযোগ দেবে। যারা বরফের বদলে উষ্ণ আবহাওয়া পছন্দ করেন, তাদের জন্য মরক্কোর মারাকেশ হতে পারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। নভেম্বরেও সেখানে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। মারাকেশের ক্লাব মেড লা পালমেরিতে থাকলে শান্ত ও সবুজ পরিবেশের পাশাপাশি শহরের প্রাণবন্ত জীবন এবং ঐতিহাসিক মদিনা ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। ২৮ নভেম্বরের যাত্রার জন্য সাত রাতের সর্বসমেত প্যাকেজের দাম শুরু হচ্ছে জনপ্রতি ১ হাজার ২২ পাউন্ড থেকে। তবে ফ্লাইট ও বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের খরচ আলাদা। ভারতের গোয়াও নভেম্বরের ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় একটি বিকল্প। সমুদ্রসৈকত, নরম বালু আর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে চাইলে বেনাউলিম বিচের কাছে অর্কিড পাসারোস নামের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত একটি বিলাসবহুল হোটেলে থাকা যেতে পারে। ১১ নভেম্বরের যাত্রায় ১০ রাতের প্যাকেজের দাম জনপ্রতি ১ হাজার ৪৮৭ পাউন্ড থেকে শুরু। এতে ফ্লাইট, যাতায়াত ও সকালের নাশতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সমুদ্রপথে ভ্রমণ করতে চাইলে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জও আকর্ষণীয় হতে পারে। ২৬ নভেম্বর তেনেরিফ থেকে শুরু হওয়া ১১ রাতের একটি ক্রুজে ফুয়ের্তেভেনতুরা, মাদেইরা, লা পালমা, এল হিয়েরো ও লা গোমেরা ঘুরে আবার তেনেরিফে ফেরা যাবে। ১৪৮ যাত্রী ধারণক্ষমতার চার মাস্তুলের উইন্ড স্পিরিট ইয়টে এই যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। জনপ্রতি ১ হাজার ৭৭৯ পাউন্ড থেকে শুরু হওয়া প্যাকেজে ফ্লাইট, এক রাতের হোটেল, ১০ রাতের পূর্ণ খাবার, যাতায়াত ও বন্দর ফি অন্তর্ভুক্ত। যারা একটু বেশি বিলাসী অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য সেশেলস কিংবা ভেনিস হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। সেশেলসের বালুকাবেলায় আরামদায়ক সময় কাটানোর পাশাপাশি ভেনিসে খাল, স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক পরিবেশ উপভোগ করা যায়। এমনকি ভেনিস থেকে বিখ্যাত ভেনিস সিম্পলন-ওরিয়েন্ট-এক্সপ্রেসে ভ্রমণের সুযোগও রয়েছে। নভেম্বরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাই এক ধরনের গন্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। পাহাড়ে বরফ, মরক্কোয় উষ্ণ আবহাওয়া, গোয়ার সমুদ্রসৈকত কিংবা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের ক্রুজ—ভ্রমণের ধরন অনুযায়ী বেছে নেওয়া যেতে পারে পছন্দের জায়গা। তবে যাত্রার আগে আবাসন, ফ্লাইট, আবহাওয়া এবং ভিসাসহ প্রয়োজনীয় শর্তগুলো যাচাই করে পরিকল্পনা করা জরুরি।
ভয় থেকে ভালোবাসা, শরীরে ৪৩ মুরগির ট্যাটু করে বিশ্বরেকর্ড অ্যাশলির
২০২৬ শেষ হতে ৯৭ দিন, ৩০ দিনের এই অভ্যাসেই বদলাতে পারে আপনার জীবন
চাকরি ছেড়ে ঘুরে বেড়ান বিশ্ব, ভ্রমণ করেই এখন লাখ টাকা আয় ২৬ বছরের তরুণীর
কোনো পুরুষ বিবাহিত এবং তার স্ত্রী-সন্তান ও সংসার রয়েছে, বিষয়টি জানার পরও তার প্রতি কোনো তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। এমন সম্পর্ককে শুধু বয়সের ব্যবধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, সামাজিক অবস্থান, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একসঙ্গে কাজ করে এ ধরনের আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। তবে শুরুতেই মনে রাখা দরকার, সব তরুণী বয়স্ক বা বিবাহিত পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন না। আবার বয়সে বড়-ছোট হওয়ার বিষয়টিও কোনো সম্পর্কের প্রকৃতি বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণাতেও এমন কোনো একক কারণ পাওয়া যায়নি, যার মাধ্যমে এ ধরনের সম্পর্ককে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। বয়স্ক পুরুষের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস অনেক সময় তরুণীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। জীবনের কোনো অনিশ্চিত বা কঠিন সময়ে স্থির, অভিজ্ঞ ও আত্মবিশ্বাসী কাউকে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য মনে হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, সামাজিক পরিচিতি কিংবা জীবনের প্রতি পরিণত দৃষ্টিভঙ্গিও কারও কাছে আকর্ষণের কারণ হতে পারে। বয়সের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও কখনো যুক্ত হতে পারে। ২০২৫ সালে ‘সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তরুণী ও বয়স্ক পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা ও স্থিতিশীলতার ধারণার ভূমিকার কথা উঠে আসে। তবে গবেষণাটির নমুনা সীমিত এবং অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় এর ফলাফলকে সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। অনেক সময় বয়সের চেয়ে মানুষের আচরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন পুরুষ যদি নিয়মিত খোঁজ নেন, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন, প্রশংসা করেন কিংবা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান, তাহলে তার প্রতি ধীরে ধীরে আবেগ তৈরি হতে পারে। শুরুতে বন্ধুত্ব বা পরিচিতির সম্পর্ক থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগের ফলে সেটি অন্য ধরনের অনুভূতিতে পরিণত হতে পারে। বিবাহিত পুরুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তার সংসার ও পারিবারিক দায়িত্ব থাকার কারণে নতুন সম্পর্কটি অনেক সময় গোপনীয়তার মধ্যে গড়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ, গোপন সাক্ষাৎ কিংবা একে অপরের কাছে এমন কিছু বিষয় ভাগ করে নেওয়া, যা অন্যদের সঙ্গে করা হয় না, সম্পর্কের আবেগকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। তবে এটিকে কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সূত্র হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বয়সের ব্যবধানযুক্ত সম্পর্ক অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০২৪ সালে ইউরোপের ২৯টি দেশের প্রায় ৩৬ হাজার দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে তার সঙ্গীর বয়স কিছুটা কম হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। আবার ২০২৫ সালের আরেকটি বড় গবেষণায় প্রথম দেখার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই নিজেদের তুলনায় কিছুটা কম বয়সী সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণের প্রবণতা পাওয়া যায়। মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতেও দেখা যায়, সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়সের পছন্দ একেবারে একরকম নয়। অনেক নারী নিজেদের চেয়ে সামান্য বেশি বয়সী পুরুষকে পছন্দ করতে পারেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে নারীদের স্বাভাবিক বা সহজাত পছন্দ কেবল বয়স্ক পুরুষ। এ ধরনের সম্পর্কে মানসিক ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা, নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রশংসার মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সামাজিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের পরিচয় থেকেও কখনো আবেগ তৈরি হয়। শুরুতে পরামর্শ নেওয়া বা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্ক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেটি বদলে যেতে পারে। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিবাহিত পুরুষ নিজের বৈবাহিক অবস্থান গোপন করলে কিংবা অন্য ব্যক্তির আবেগকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফলে এ ধরনের সম্পর্কের জন্য শুধু তরুণীকে দায়ী করা একপাক্ষিক বিশ্লেষণ হবে। সম্পর্ক তৈরিতে সংশ্লিষ্ট উভয় ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও আচরণই বিবেচনা করা প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান নিজে কোনো সম্পর্ককে সফল বা ব্যর্থ করে না। তবে বয়সের পাশাপাশি অর্থ, সামাজিক অবস্থান ও জীবন-অভিজ্ঞতার বড় পার্থক্য থাকলে সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার পারিবারিক তথ্যভিত্তিক একটি গবেষণায় বয়সে বড় দম্পতিদের বৈবাহিক সন্তুষ্টি সময়ের সঙ্গে তুলনামূলক দ্রুত কমে যাওয়ার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের একটি গবেষণায় বয়স ও ক্ষমতার পার্থক্য তরুণ সঙ্গীর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় তাই শুধু বয়সের ব্যবধান নয়, সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ, সম্মতি, প্রত্যাশা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সম্পর্কের একজন যদি আগে থেকেই বিবাহিত হন, তাহলে তার পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্য সঙ্গীর প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সব মিলিয়ে, স্ত্রী-সন্তান ও সংসার থাকা কোনো বয়স্ক পুরুষের প্রতি একজন তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, জীবন-অভিজ্ঞতা, সামাজিক ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত প্রত্যাশার সমন্বয়ে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের সম্পর্ককে শুধু বয়স বা ব্যক্তিগত পছন্দ দিয়ে বিচার না করে এর পেছনের পরিস্থিতি ও সম্পর্কের পারস্পরিক আচরণকে বিবেচনা করাই বেশি বাস্তবসম্মত। সূত্র: ইত্তেফাক, সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি, দ্য গার্ডিয়ান
গাড়ির এসি ঠান্ডা করছে না? শপে যাওয়ার আগে ৫ মিনিটে যা পরীক্ষা করবেন
ওজন কমানোর ইনজেকশনে বদলাচ্ছে খাবারের অভ্যাস, ব্যবসা হারাচ্ছে রেস্তোরাঁ
বামহাতিদের জন্য নয় আইফোন ডুও, নকশা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন ও বিতর্ক
ঘুম কতক্ষণ হলো, কখন ঘুমালেন কিংবা প্রতিদিন ঘুমের সময় কতটা নিয়মিত—এসব জানতে এখন অনেকেই স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য ঘুমের ট্র্যাকার ব্যবহার করেন। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ডিভাইস ঘুমের পুরো চিত্র সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না। এমনকি ভালো ঘুম হয়েছে বলেও অনেক সময় ভুল ধারণা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো সময় ঘুমের ট্র্যাকার ব্যবহার করেছেন। এসব ডিভাইস সাধারণত ঘুমের সময়, ঘুমের ধারাবাহিকতা এবং ঘুমের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তথ্য দেয়। তবে গবেষকদের মতে, ঘুমের মান বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—ঘুম থেকে ওঠার পর একজন মানুষ নিজেকে কেমন অনুভব করছেন। এই বিষয়টি ট্র্যাকারগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারে না। ২ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মানুষ নিজের ঘুম সম্পর্কে যে অনুভূতি বা মূল্যায়ন করেন, তার মধ্যে অনেক সময় বড় পার্থক্য থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিধানযোগ্য ডিভাইসের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য একজন মানুষের ঘুমের মান সম্পর্কে তার অনুভূতির মাত্র ২ দশমিক ৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করতে পারে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার ঘুমকে কতটা ভালো বা খারাপ মনে করছেন, সেই পার্থক্যের ৮৪ থেকে ৯৮ শতাংশই ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত একটি পরীক্ষায় ফিটবিটের তথ্যকে পলিসমনোগ্রাফি বা পিএসজির সঙ্গে তুলনা করা হয়। পিএসজি ঘুম পরিমাপের একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এতে মস্তিষ্কের তরঙ্গ, হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং চোখ ও পায়ের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। সুস্থভাবে ঘুমানো মানুষের ক্ষেত্রে ফিটবিটের তথ্য পিএসজির সঙ্গে ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যভাবে মিলে যায়। কিন্তু অনিদ্রায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে এই হার নেমে আসে মাত্র ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশে। বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় থাকা মানুষের ক্ষেত্রেও ট্র্যাকারগুলোর তথ্য তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো, কেউ বিছানায় জেগে থাকলেও যদি বেশি নড়াচড়া না করেন, তাহলে ট্র্যাকার সেটিকে ঘুম হিসেবে ধরে নিতে পারে। ফলে ঘুমিয়ে পড়ার আগে বিছানায় জেগে কাটানো সময় কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সময় সঠিকভাবে ধরা নাও পড়তে পারে। গবেষণায় এমনও দেখা গেছে, একটি ডিভাইস মানুষের মোট ঘুমের সময় প্রায় ৩০ মিনিট বেশি দেখিয়েছে। একই সঙ্গে ঘুমের কার্যকারিতাও প্রায় ৮ শতাংশ বেশি দেখিয়েছে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের ভুল তথ্য মানুষকে নিজের ঘুম নিয়ে ভুল ধারণা দিতে পারে। বিশেষ করে অনিদ্রার মতো সমস্যায় ভুগছেন এমন কেউ যদি ট্র্যাকার দেখে মনে করেন যে তার ঘুম স্বাভাবিক, তাহলে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন নাও মনে করতে পারেন। এতে প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে গবেষকরা বলছেন, ঘুমের ট্র্যাকার পুরোপুরি অকার্যকর নয়। একজন মানুষ কতক্ষণ ঘুমাচ্ছেন এবং তার ঘুমের সময়সূচি কতটা নিয়মিত—এসব বিষয়ে ডিভাইসগুলো বেশ ভালো ধারণা দিতে পারে। তবে শুধু ট্র্যাকার দেখানো সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজেকে কেমন লাগছে, সেটিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা ঘুমের ট্র্যাকারের পাশাপাশি একটি ঘুমের ডায়েরি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে প্রতিদিন কতক্ষণ ঘুম হয়েছে, সকালে কতটা সতেজ লাগছে এবং রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার কথা মনে আছে কি না—এসব লিখে রাখা যেতে পারে। গবেষকদের মূল বক্তব্য হলো, ঘুমের মান শুধু সংখ্যায় বিচার করা যায় না। ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্যের পাশাপাশি নিজের অনুভূতি ও ঘুমের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তর, মিস ওয়ার্ল্ডের গাউনে ফুটে উঠল মায়েদের জীবনের গল্প
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম