দ্রুত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পাচ্ছে ২৩ দেশের নাগরিক, বাংলাদেশীদের জন্য দুঃসংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) পরিচালিত ‘গ্লোবাল এন্ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত যাত্রীরা সাধারণ ইমিগ্রেশন লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর সৌদি আরবকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অংশীদার দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই।
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচি মূলত আগে থেকে নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনুমোদিত এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য। এই কর্মসূচির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারী বিমানবন্দরে পৌঁছে বিশেষ গ্লোবাল এন্ট্রি পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে পারেন। এতে দীর্ঘ ইমিগ্রেশন লাইনে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। তবে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না এবং প্রয়োজনীয় ভিসার বিকল্পও নয়।
সিবিপির ২৭ অক্টোবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রির ২৩টি আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশ হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক নেক্সাস কর্মসূচি রয়েছে, যার অনুমোদিত সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্তে গ্লোবাল এন্ট্রির সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখনো গ্লোবাল এন্ট্রির আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও মার্কিন ভিসা থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ গ্রিন কার্ডধারী, তাঁরা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য আবেদন করতে পারবেন। কারণ মার্কিন নাগরিক ও লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের নাগরিকত্বের শর্ত প্রযোজ্য নয়।
গ্লোবাল এন্ট্রির সদস্যপদ পেতে আবেদনকারীকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাস্টেড ট্রাভেলার প্রোগ্রামসের সরকারি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ১২০ ডলার, যা ফেরতযোগ্য নয়। এরপর আবেদনকারীর অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড, ইমিগ্রেশন ইতিহাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। প্রাথমিক অনুমোদনের পর সিবিপির কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি ইন্টারভিউ দিতে হয়। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পাঁচ বছরের জন্য সদস্যপদ কার্যকর থাকে।
অপ্রাপ্তবয়স্করাও অভিভাবকের সম্মতিতে আবেদন করতে পারে। অভিভাবক আগে থেকেই অনুমোদিত সদস্য হলে অথবা তাঁর আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে নির্ধারিত শর্তে ১৮ বছরের কম বয়সীদের আবেদন ফি মওকুফ হতে পারে। গ্লোবাল এন্ট্রির অনুমোদিত সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নির্দিষ্ট শর্তে টিএসএ প্রিচেক সুবিধাও পেতে পারেন। এতে বিমানবন্দরের সিকিউরিটি চেকিং প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে।
সিবিপি জানিয়েছে, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচিতে সদস্যপদ পাওয়ার পরও নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই চলতে থাকে। ইমিগ্রেশন বা কাস্টমস আইন লঙ্ঘন করলে সদস্যপদ বাতিল করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বাড়ি ক্রেতাদের সহায়তার জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঐতিহাসিক ঋণ তহবিল অনুমোদিত হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘প্রস্তাবনা ৩৭’ বা প্রপোজিশন ৩৭-এর পক্ষে ৬০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) মঙ্গলবার রাতে এই বিল পাসের বিষয়টি নিশ্চিত করে। নতুন এই আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা প্রচলিত ২০ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র ৩ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়েই নতুন বাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন। তবে বিশাল এই তহবিলের কার্যক্রম ঠিক কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে এখনও সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড বিক্রি করে ২৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ সংগ্রহ করবে। পরবর্তীতে সেই অর্থ রাজ্যের সেসব মধ্যবিত্তদের বাড়ি কেনার জন্য ফিক্সড-রেট মর্টগেজ হিসেবে দেওয়া হবে, যাদের মাসিক কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য থাকলেও ২০ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার মতো নগদ অর্থ নেই। এই ঋণ একটি বাড়ির মোট মূল্যের ১৭ শতাংশ পর্যন্ত কভার করবে। তবে এই সুবিধা পেতে বেশ কিছু কঠিন শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িটিকে অবশ্যই নতুন নির্মিত বা নতুনভাবে আবাসনে রূপান্তরিত হতে হবে, অর্থাৎ ঋণগ্রহীতাকে ওই বাড়ির প্রথম বাসিন্দা হতে হবে। শুধু তাই নয়, এই সহায়তার জন্য বাড়ির দামের একটি নির্দিষ্ট সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দাম সর্বোচ্চ ১ মিলিয়ন ডলার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস, অরেঞ্জ কাউন্টি ও বে এরিয়ায় তা সর্বোচ্চ ১.৫ মিলিয়ন ডলার হতে পারবে। এছাড়া আবেদনকারীর আয় নিজ এলাকার মধ্যম আয়ের (মিডিয়ান ইনকাম) দ্বিগুণের বেশি হওয়া যাবে না। ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধ করলে সেই অর্থ সুদসহ বন্ডহোল্ডারদের কাছে ফিরে যাবে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কীভাবে বাস্তবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। 'লিগ অব উইমেন ভোটারস অব ক্যালিফোর্নিয়া' এবং 'রিফর্ম ক্যালিফোর্নিয়া'-এর মতো বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, রাজ্যের সরাসরি মর্টগেজ ঋণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া মোটেও উচিত নয়। তাদের মতে, এই কর্মসূচি ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন ব্যয় অত্যধিক বৃদ্ধির মূল কারণগুলোর কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করবে না। উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা রাজ্যব্যাপী এমন ১৪টি ব্যালট প্রস্তাবনায় ভোট দিয়েছেন, যেগুলো নতুন আইন হিসেবে কার্যকর হতে সাধারণ ভোটারদের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।
মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সিনেটর হয়ে ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ বলে খোঁচা এল-সায়েদের
যুক্তরাষ্ট্রে পাহাড়ে হাইকিং এর সময় দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু, তদন্তে ভয়াবহ তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুসহ দুই সন্তানকে হ ত্যা করে বাবার আ ত্মহ ত্যা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) পরিচালিত ‘গ্লোবাল এন্ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত যাত্রীরা সাধারণ ইমিগ্রেশন লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর সৌদি আরবকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অংশীদার দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচি মূলত আগে থেকে নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনুমোদিত এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য। এই কর্মসূচির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারী বিমানবন্দরে পৌঁছে বিশেষ গ্লোবাল এন্ট্রি পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে পারেন। এতে দীর্ঘ ইমিগ্রেশন লাইনে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। তবে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না এবং প্রয়োজনীয় ভিসার বিকল্পও নয়। সিবিপির ২৭ অক্টোবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রির ২৩টি আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশ হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক নেক্সাস কর্মসূচি রয়েছে, যার অনুমোদিত সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্তে গ্লোবাল এন্ট্রির সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখনো গ্লোবাল এন্ট্রির আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও মার্কিন ভিসা থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ গ্রিন কার্ডধারী, তাঁরা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য আবেদন করতে পারবেন। কারণ মার্কিন নাগরিক ও লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের নাগরিকত্বের শর্ত প্রযোজ্য নয়। গ্লোবাল এন্ট্রির সদস্যপদ পেতে আবেদনকারীকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাস্টেড ট্রাভেলার প্রোগ্রামসের সরকারি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ১২০ ডলার, যা ফেরতযোগ্য নয়। এরপর আবেদনকারীর অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড, ইমিগ্রেশন ইতিহাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। প্রাথমিক অনুমোদনের পর সিবিপির কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি ইন্টারভিউ দিতে হয়। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পাঁচ বছরের জন্য সদস্যপদ কার্যকর থাকে। অপ্রাপ্তবয়স্করাও অভিভাবকের সম্মতিতে আবেদন করতে পারে। অভিভাবক আগে থেকেই অনুমোদিত সদস্য হলে অথবা তাঁর আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে নির্ধারিত শর্তে ১৮ বছরের কম বয়সীদের আবেদন ফি মওকুফ হতে পারে। গ্লোবাল এন্ট্রির অনুমোদিত সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নির্দিষ্ট শর্তে টিএসএ প্রিচেক সুবিধাও পেতে পারেন। এতে বিমানবন্দরের সিকিউরিটি চেকিং প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে। সিবিপি জানিয়েছে, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচিতে সদস্যপদ পাওয়ার পরও নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই চলতে থাকে। ইমিগ্রেশন বা কাস্টমস আইন লঙ্ঘন করলে সদস্যপদ বাতিল করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।
নির্বাচনে জয় আসেনি, তবুও দমে না যাওয়ার প্রত্যয় বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী শাজিয়া হকের
আটক আফগানদের দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা আদালতে স্থগিত
অবশেষে বুকে পাথর বেধে ডেমোক্র্যাটদের শুভেচ্ছা জানালেন ট্রাম্প, বললেন ‘ভালো কাজ করেছে’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে ৪৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থসহায়তা দিয়েও বড় পরাজয় ঠেকাতে পারলেন না বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার নিজের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রসিকতা করে বলেন, এবার বোধ হয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী তাঁর মহাকাশের লেজার কাজ করেনি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও বড় সাফল্য পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। নির্বাচনের এই ফল সামনে আসার পর বুধবার ভোরে এক্সে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন মাস্ক। তাঁর মন্তব্যটি ছিল নিজের রাজনৈতিক প্রভাব এবং নির্বাচনে বিপুল অর্থব্যয় নিয়ে রসিকতা, বাস্তবে কোনো লেজার ব্যবহার করে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের স্বীকারোক্তি নয়। নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে রিপাবলিকান প্রার্থী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পক্ষে মাস্কের অর্থসহায়তা প্রায় ৪৪ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল ১৪ অক্টোবরের মধ্যেই। পরবর্তী অনুদান যোগ হলে এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীন রাজনৈতিক ব্যয়ের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর এক নির্বাচনী চক্রে সবচেয়ে বেশি অর্থ দেওয়া ব্যক্তিগত দাতা হিসেবে উঠে এসেছেন তিনি। মাস্কের দেওয়া অর্থের বড় অংশ গেছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা পিএসি এবং রিপাবলিকানদের সমর্থনকারী সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে। বিশেষ করে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে জেতাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। সেপ্টেম্বরে মাস্কের দেওয়া প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিপাবলিকানদের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে এএফপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে পরাজিত হন প্যাক্সটন। টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনেও মাস্কের সমর্থিত রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট পরাজিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোহোসার কাছে। নির্বাচনী প্রচারণায় হিনোহোসা বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ ও পানির ওপর সেগুলোর প্রভাব নিয়ে সরব ছিলেন। নির্বাচনে তাঁর জয়ের পর মাস্ক আরেকটি পোস্টে রসিকতা করে লেখেন, মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ধারণাটি এখন বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে। এদিকে বিজয়ের পর টেক্সাসের রাজধানী অস্টিনে দেওয়া ভাষণে জেমস তালারিকো নির্বাচনে বিপুল অর্থের প্রভাব নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের শক্তি ছিল। তারপরও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন নিয়ে জয় অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ইলন মাস্ক ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ট্রাম্পের অন্যতম বড় আর্থিক সমর্থক ছিলেন। পরে ট্রাম্প প্রশাসনে সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রশাসন ছাড়ার পর দুজনের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবার রিপাবলিকানদের সহায়তায় বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তবে এত বড় বিনিয়োগের পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় মাস্কের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে টেসলা, স্পেসএক্স এবং তাঁর অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সরকারি চুক্তি ও নিয়ন্ত্রক তদারকির ক্ষেত্রেও নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সূত্র: এএফপি
ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের জন্য বড় সুখবর, প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব পাস
মায়ের ১২ লাখ পাউন্ডের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন, বোনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের অভিনেতার