বাইডেনের ইভি নীতি বাতিল করলেন ট্রাম্প, কমবে নতুন গাড়ির দাম
যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পে জ্বালানি দক্ষতার নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নতুন জ্বালানি দক্ষতা মান অনুমোদন করেছেন। এর ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে চালু হওয়া কঠোর জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল হতে যাচ্ছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, নতুন মান কার্যকর হলে গাড়ি নির্মাণের খরচ কমবে এবং নতুন গাড়ির দামও কমতে পারে। তিনি এই পরিবর্তনকে বাইডেন আমলের বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার নীতির অবসান হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে পরিবেশগত প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ নতুন নিয়মটি ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম সোমবার প্রকাশ করা হবে। জাতীয় মহাসড়ক ট্রাফিক নিরাপত্তা প্রশাসনের (NHTSA) আগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন ব্যবস্থায় ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ি নির্মাতাদের বহরের গড় জ্বালানি দক্ষতা প্রতি গ্যালনে ৩৪ দশমিক ৫ মাইল করার কথা রয়েছে। বর্তমানে বাইডেন প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল প্রায় ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালন।
জ্বালানি দক্ষতার এই মান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট গড় জ্বালানি অর্থনীতি বা CAFE ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত হয়। এতে কোনো একটি গাড়ির মাইলেজ নয়, বরং একটি গাড়ি নির্মাতার বিক্রি করা গাড়িগুলোর সামগ্রিক গড় জ্বালানি দক্ষতা বিবেচনা করা হয়।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান নিয়মগুলোর সমালোচনা করে আসছেন। তার দাবি, কঠোর জ্বালানি দক্ষতার নিয়ম গাড়ি নির্মাতাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি করেছে এবং ক্রেতাদের এমন গাড়ির দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা হয়তো কিনতে চান না। নতুন নিয়মের ফলে নির্মাতারা তুলনামূলক কম জ্বালানি দক্ষতার গাড়ি তৈরিতে বেশি স্বাধীনতা পাবেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, নতুন মান যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে অপচয় কমাবে এবং এর ফলে গাড়ির দাম কমতে পারে। তিনি জেনারেল মোটরস, ফোর্ড ও স্টেলান্টিসসহ বড় গাড়ি নির্মাতাদের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেছেন।
NHTSA-এর আগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে একটি নতুন গাড়ির গড় প্রাথমিক মূল্য প্রায় ৯৩০ ডলার কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহৃত হতে পারে। এর ফলে জ্বালানি কেনার পেছনে অতিরিক্ত প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন প্রায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।
বাইডেন প্রশাসনের সময় জ্বালানি দক্ষতার মান ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ মডেল বছরের গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি দক্ষতা বছরে ৮ শতাংশ করে এবং ২০২৬ সালের জন্য ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বছরে ২ শতাংশ করে বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের চূড়ান্ত নিয়মে NHTSA জানিয়েছিল, ২০৩১ মডেল বছরের মধ্যে হালকা যানবাহনের বহরের গড় জ্বালানি দক্ষতা প্রায় ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালনে পৌঁছাবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব সেই ধারার বিপরীত। NHTSA-এর প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে ২০৩১ সালের লক্ষ্য প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ মাইল প্রতি গ্যালনে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান লক্ষ্যের তুলনায় এটি প্রায় ১৬ মাইল প্রতি গ্যালন কম।
পরিবেশগত দিকটি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, কম জ্বালানি দক্ষতার মান গাড়ি নির্মাতাদের তুলনামূলক বেশি জ্বালানি ব্যবহারকারী গাড়ি উৎপাদনের সুযোগ দেবে। এতে একদিকে গাড়ির প্রাথমিক দাম কমতে পারে, অন্যদিকে গাড়ি ব্যবহারের পুরো সময়ে জ্বালানি খরচ বাড়বে।
বাইডেন প্রশাসনে পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পিট বুটিগিগ রয়টার্সকে বলেছেন, জ্বালানি দক্ষতার মান কমানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং গাড়িচালকদের জ্বালানি পাম্পে বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। তার মন্তব্যটি বর্তমান নীতির সমালোচকদের অবস্থানকে তুলে ধরে।
ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই পরিবর্তনকে গাড়ির দাম কমানো এবং মার্কিন গাড়ি শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফির দপ্তরও এর আগে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।
নতুন নিয়মটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতাদের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি ও উচ্চ জ্বালানি দক্ষতার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের চাপ কমতে পারে। একই সঙ্গে পেট্রোলচালিত বড় ও তুলনামূলক কম জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি বাজারে রাখার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত নিয়মের বিস্তারিত শর্ত এবং গাড়ি নির্মাতাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের ওপর।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন জ্বালানি দক্ষতা মানকে বাইডেন আমলের তথাকথিত ‘ইভি ম্যান্ডেট’ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি বাধ্যতামূলক করার নীতির অবসান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল জ্বালানি দক্ষতা কর্মসূচি সরাসরি সব গাড়ি বৈদ্যুতিক করার বাধ্যবাধকতা নয়। বরং জ্বালানি দক্ষতার নির্ধারিত মান পূরণ করতে গাড়ি নির্মাতারা বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতার যানবাহনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।
ট্রাম্পের ঘোষণা এবং পরিবহন বিভাগের প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখন যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের পাশাপাশি জ্বালানি বাজার ও পরিবেশনীতি নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই ২০৩১ সাল পর্যন্ত গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ঠিক কী ধরনের মান কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট হবে।
সূত্র: রয়টার্স
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
লাইফস্টাইল
View moreযুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পে জ্বালানি দক্ষতার নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নতুন জ্বালানি দক্ষতা মান অনুমোদন করেছেন। এর ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে চালু হওয়া কঠোর জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, নতুন মান কার্যকর হলে গাড়ি নির্মাণের খরচ কমবে এবং নতুন গাড়ির দামও কমতে পারে। তিনি এই পরিবর্তনকে বাইডেন আমলের বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার নীতির অবসান হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে পরিবেশগত প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ নতুন নিয়মটি ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম সোমবার প্রকাশ করা হবে। জাতীয় মহাসড়ক ট্রাফিক নিরাপত্তা প্রশাসনের (NHTSA) আগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন ব্যবস্থায় ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ি নির্মাতাদের বহরের গড় জ্বালানি দক্ষতা প্রতি গ্যালনে ৩৪ দশমিক ৫ মাইল করার কথা রয়েছে। বর্তমানে বাইডেন প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল প্রায় ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালন। জ্বালানি দক্ষতার এই মান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট গড় জ্বালানি অর্থনীতি বা CAFE ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত হয়। এতে কোনো একটি গাড়ির মাইলেজ নয়, বরং একটি গাড়ি নির্মাতার বিক্রি করা গাড়িগুলোর সামগ্রিক গড় জ্বালানি দক্ষতা বিবেচনা করা হয়। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান নিয়মগুলোর সমালোচনা করে আসছেন। তার দাবি, কঠোর জ্বালানি দক্ষতার নিয়ম গাড়ি নির্মাতাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি করেছে এবং ক্রেতাদের এমন গাড়ির দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা হয়তো কিনতে চান না। নতুন নিয়মের ফলে নির্মাতারা তুলনামূলক কম জ্বালানি দক্ষতার গাড়ি তৈরিতে বেশি স্বাধীনতা পাবেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, নতুন মান যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে অপচয় কমাবে এবং এর ফলে গাড়ির দাম কমতে পারে। তিনি জেনারেল মোটরস, ফোর্ড ও স্টেলান্টিসসহ বড় গাড়ি নির্মাতাদের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেছেন। NHTSA-এর আগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে একটি নতুন গাড়ির গড় প্রাথমিক মূল্য প্রায় ৯৩০ ডলার কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহৃত হতে পারে। এর ফলে জ্বালানি কেনার পেছনে অতিরিক্ত প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন প্রায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। বাইডেন প্রশাসনের সময় জ্বালানি দক্ষতার মান ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ মডেল বছরের গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি দক্ষতা বছরে ৮ শতাংশ করে এবং ২০২৬ সালের জন্য ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বছরে ২ শতাংশ করে বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের চূড়ান্ত নিয়মে NHTSA জানিয়েছিল, ২০৩১ মডেল বছরের মধ্যে হালকা যানবাহনের বহরের গড় জ্বালানি দক্ষতা প্রায় ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালনে পৌঁছাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব সেই ধারার বিপরীত। NHTSA-এর প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে ২০৩১ সালের লক্ষ্য প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ মাইল প্রতি গ্যালনে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান লক্ষ্যের তুলনায় এটি প্রায় ১৬ মাইল প্রতি গ্যালন কম। পরিবেশগত দিকটি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, কম জ্বালানি দক্ষতার মান গাড়ি নির্মাতাদের তুলনামূলক বেশি জ্বালানি ব্যবহারকারী গাড়ি উৎপাদনের সুযোগ দেবে। এতে একদিকে গাড়ির প্রাথমিক দাম কমতে পারে, অন্যদিকে গাড়ি ব্যবহারের পুরো সময়ে জ্বালানি খরচ বাড়বে। বাইডেন প্রশাসনে পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পিট বুটিগিগ রয়টার্সকে বলেছেন, জ্বালানি দক্ষতার মান কমানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং গাড়িচালকদের জ্বালানি পাম্পে বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। তার মন্তব্যটি বর্তমান নীতির সমালোচকদের অবস্থানকে তুলে ধরে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই পরিবর্তনকে গাড়ির দাম কমানো এবং মার্কিন গাড়ি শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফির দপ্তরও এর আগে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। নতুন নিয়মটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতাদের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি ও উচ্চ জ্বালানি দক্ষতার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের চাপ কমতে পারে। একই সঙ্গে পেট্রোলচালিত বড় ও তুলনামূলক কম জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি বাজারে রাখার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত নিয়মের বিস্তারিত শর্ত এবং গাড়ি নির্মাতাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের ওপর। প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন জ্বালানি দক্ষতা মানকে বাইডেন আমলের তথাকথিত ‘ইভি ম্যান্ডেট’ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি বাধ্যতামূলক করার নীতির অবসান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল জ্বালানি দক্ষতা কর্মসূচি সরাসরি সব গাড়ি বৈদ্যুতিক করার বাধ্যবাধকতা নয়। বরং জ্বালানি দক্ষতার নির্ধারিত মান পূরণ করতে গাড়ি নির্মাতারা বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতার যানবাহনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণা এবং পরিবহন বিভাগের প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখন যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের পাশাপাশি জ্বালানি বাজার ও পরিবেশনীতি নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই ২০৩১ সাল পর্যন্ত গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ঠিক কী ধরনের মান কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট হবে। সূত্র: রয়টার্স
বরফ, সমুদ্র নাকি মরুভূমির উষ্ণতা? নভেম্বরে ঘুরতে যাওয়ার ৫ দারুণ গন্তব্য
ভয় থেকে ভালোবাসা, শরীরে ৪৩ মুরগির ট্যাটু করে বিশ্বরেকর্ড অ্যাশলির
২০২৬ শেষ হতে ৯৭ দিন, ৩০ দিনের এই অভ্যাসেই বদলাতে পারে আপনার জীবন
২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন রিহ্যানন উড। সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার শুরু করার আগে কিছুদিন বিশ্ব ঘুরে দেখার ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেই ইচ্ছা থেকেই বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের ছোটখাটো কাজ শুরু করেন তিনি। তবে ধীরে ধীরে ভ্রমণ আর সেটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজে লাগিয়েই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। এখন ভ্রমণই তাঁর পূর্ণকালীন কাজ। গ্রিস, পেরু ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গ্রুপ ট্যুর পরিচালনা করেন তিনি। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামে নিজের ভ্রমণের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে তৈরি করেছেন প্রায় ৬০ হাজার অনুসারীর একটি কমিউনিটি। এই সংখ্যার কারণে তাঁকে ‘মাইক্রো ইনফ্লুয়েন্সার’ বলা হয়—সাধারণত ১০ হাজার থেকে ১ লাখ অনুসারী থাকা অনলাইন নির্মাতাদের এই শ্রেণিতে রাখা হয়। রিহ্যাননের ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বছরে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনার অংশ হিসেবে ফ্রান্সের লিয়নে থাকার সময় বন্ধুদের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে শুরু করেন তিনি। আল্পসে স্কিইং করার অভিজ্ঞতা তাঁকে এতটাই আকৃষ্ট করে যে পড়াশোনা শেষ করেই কানাডার লেক লুইজে চলে যান। কানাডায় স্কিইংয়ের পাশাপাশি নৌকা ও ক্যানো ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠান, জিপলাইন কোম্পানি এবং স্কি রিসোর্টে কাজ করেন রিহ্যানন। এসব কাজে ন্যূনতম মজুরি পেলেও নতুন জায়গায় থাকার আনন্দ ছিল তাঁর কাছে বড় বিষয়। কিন্তু একসময় কম বেতনের চাকরিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তখনই ভ্রমণের ছবি ও ভিডিও থেকে অনলাইনে আয় করার চিন্তা মাথায় আসে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইনস্টাগ্রামে ভ্রমণ নিয়ে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে পোস্ট করা শুরু করেন রিহ্যানন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৌশল শেখার জন্য বিভিন্ন ওয়েবিনারে অংশ নেন এবং একজন ইনস্টাগ্রাম কোচও নিয়োগ করেন। প্ল্যাটফর্মটির অ্যালগরিদম কীভাবে কাজ করে এবং কী ধরনের কনটেন্ট দর্শকদের কাছে বেশি পৌঁছায়, সেসব বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। নিয়মিত পোস্ট শুরু করার মাত্র চার মাসের মধ্যেই প্রথম ব্র্যান্ড চুক্তি পান রিহ্যানন। অনলাইন গ্রুপ-ট্রিপ প্রতিষ্ঠান ম্যাপো টাপো তাঁকে সুইজারল্যান্ডে একটি ভ্রমণ দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেয়। ওই সফর থেকে তিনি ৩৩০ পাউন্ড বা প্রায় ৪৪৬ ডলার আয় করেন। এর আগে সরাসরি কোনো ট্যুর পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকলেও পাহাড়ে হাঁটা, পর্বতারোহণ ও রক ক্লাইম্বিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সফলভাবে সফর পরিচালনা করেন। প্রথম চুক্তির পর ধীরে ধীরে আরও বড় সুযোগ আসতে থাকে। স্কাইস্ক্যানার, সিরোকো, রোমলেসসহ বিভিন্ন ভ্রমণ ও ক্রীড়া-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ও গ্রুপ ভ্রমণের কারণে পেরু, স্কটল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরেছেন। একই সঙ্গে এখন নিজের একটি ট্রাভেল এজেন্সি চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। রিহ্যাননের আয়ের বড় দুটি উৎস হলো ব্র্যান্ড চুক্তি ও গ্রুপ ট্যুর। সফরভেদে তাঁর কমিশনের পরিমাণও বদলে যায়। কোনো কোনো ট্রিপে তিনি ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত কমিশন পেয়েছেন। সাধারণত তাঁর পরিচালিত সফরগুলো অন্তত এক সপ্তাহের হয়। ইনস্টাগ্রামে স্পনসরড রিলসের জন্যও এখন তিনি কয়েকশ ডলার থেকে শুরু করে ১ হাজার ডলারের বেশি পারিশ্রমিক নেন। গ্রুপ ট্যুর থেকে পাওয়া অর্থ সাধারণত সঞ্চয় করেন রিহ্যানন। আর ইনস্টাগ্রামের স্পনসরশিপ থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করেন নিজের পছন্দের খরচে। তিনি জানান, ট্যুরের কমিশন এমনভাবে নির্ধারণ করার চেষ্টা করেন, যাতে প্রতিটি সফর থেকে তাঁর জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় অর্থ উঠে আসে। বর্তমানে তাঁর আয় বছরে পাঁচ অঙ্কের ডলারের ঘরে। তবে ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সুযোগও বাড়ছে। ভ্রমণের কারণে অনেক সময় থাকা ও যাতায়াতের খরচ কমে যায় বা বিনামূল্যে হয়। বাজেট আবাসনে থাকা এবং খুব কম নতুন জিনিস কেনার কারণে খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি। প্রায় এক বছর ধরে ব্যাকপ্যাক নিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন রিহ্যানন। তবে নিজের ব্যবসা পরিচালনার কারণে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা অনেকটাই ঝাপসা হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ইমেইলের উত্তর দেওয়া, কনটেন্ট পোস্ট করা, ব্র্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা এবং পরবর্তী ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে হয় তাঁকে। এমনকি ভ্রমণে থাকলেও কাজ থেমে থাকে না। ফলে নিয়মিত ছুটি নেওয়ার সুযোগ খুব কম। শুরুর দিকে স্পনসরশিপ নিয়ে আলোচনা করাও তাঁর জন্য সহজ ছিল না। কোন পারিশ্রমিক দাবি করবেন বা ব্র্যান্ডগুলো সত্যিই তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চায় কি না—এসব নিয়ে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই দ্বিধা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। এখন নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ সুযোগ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী রিহ্যানন। ভিসা ও পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা বোঝা, একাই পুরো ব্যবসা সামলানো, নতুন দেশে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং অনুসারী ও এনগেজমেন্টের প্রত্যাশা সামলানো—সব মিলিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছেন তিনি। তবে এসব অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দক্ষ করে তুলছে। ভ্রমণকে শুধু শখ হিসেবে না রেখে সেটিকে ব্যবসায় পরিণত করার পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন ২৬ বছরের এই তরুণী।
স্ত্রী ও সংসার থাকার পরও বয়স্ক পুরুষের প্রেমে কেন পড়েন তরুণীরা
গাড়ির এসি ঠান্ডা করছে না? শপে যাওয়ার আগে ৫ মিনিটে যা পরীক্ষা করবেন
ওজন কমানোর ইনজেকশনে বদলাচ্ছে খাবারের অভ্যাস, ব্যবসা হারাচ্ছে রেস্তোরাঁ
অ্যাপলের নতুন ফোল্ডেবল আইফোন ডুও বাজারে আসার আগেই বামহাতি ব্যবহারকারীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। ১ হাজার ৯৯৯ ডলারের এই ফোনে এক পাশে গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রোল, সাইড বাটন ও টাচ আইডি রাখায় বাম হাতে এক হাতে ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি অস্বস্তিকর হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। অ্যাপল গত বুধবার প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল আইফোন ডুও উন্মোচন করে। ফোনটিতে রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ভেতরের ডিসপ্লে এবং ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে। ভাঁজ করা অবস্থায় এটি তুলনামূলকভাবে ছোট ও পকেটে বহনযোগ্য। অ্যাপল জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় কন্ট্রোলগুলো ফোনের পাশে রাখা হয়েছে, যাতে সহজে পৌঁছানো যায়। তবে বামহাতি ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন, সহজে পৌঁছানোটা আসলে কার জন্য? প্রচলিত আইফোনে স্ক্রিনের বিভিন্ন নেভিগেশন কন্ট্রোল তুলনামূলকভাবে দুই হাতেই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ডুওতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কন্ট্রোল এক পাশে স্থিরভাবে রাখা হয়েছে। এমনকি ফেস আইডির পরিবর্তে ব্যবহৃত টাচ আইডিও সাইড বাটনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে যারা বাঁ হাতেই এক হাতে ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য ডিভাইসটি ব্যবহারে বাড়তি সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরামে কয়েকজন ব্যবহারকারী বলেছেন, শুধু সফটওয়্যারে একটি ‘লেফট হ্যান্ডেড মোড’ যোগ করলেই সমস্যার পুরো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ টাচ আইডি, বাইরের ডিসপ্লে ও ক্যামেরাসহ ফোনের কিছু হার্ডওয়্যার বিন্যাসও এর সঙ্গে যুক্ত। কিছু ব্যবহারকারী এমনকি বামহাতিদের জন্য আলাদা করে আয়না-নকশার একটি সংস্করণ তৈরির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত অ্যাপল বামহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা কোনো মোড বা বিশেষ হার্ডওয়্যার সংস্করণের ঘোষণা দেয়নি। অ্যাপল অবশ্য ডুওতে বিভিন্ন Accessibility সুবিধার কথা তুলে ধরেছে। দৃষ্টিশক্তি, চলাফেরা, শ্রবণ, কথা বলা এবং কগনিটিভ চাহিদার ব্যবহারকারীদের জন্য AssistiveTouch, Switch Control, Voice Control ও Eye Tracking-এর মতো ফিচার রয়েছে। তবে বামহাতি ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে ডুওর ডিজাইন ও পাতলা গঠন প্রশংসা পেয়েছে। ভাঁজ খুললে ফোনটি খুব পাতলা এবং বন্ধ অবস্থায় আকারে অনেকটা পাসপোর্টের মতো বলে বর্ণনা করেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তি লেখক ব্রায়ান এক্স. চেন। তবে সাধারণ ক্রেতারা এখনো হাতে নিয়ে ব্যবহার করার সুযোগ পাননি। ফোল্ডেবল ফোনের বাজার এখনো তুলনামূলক ছোট। IDC-এর তথ্য উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মোট মোবাইল বিক্রির ২ শতাংশেরও কম ফোল্ডেবল ফোন। তবে এই বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ নতুন করে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ বামহাতি। অবশ্য কোন হাতে কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন, তা সবসময় তার স্বাভাবিক হাত ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে না। তাই ডুওর নকশা নিয়ে আপত্তি থাকলেও কেউ কেউ বলছেন, ব্যবহারকারীরা সময়ের সঙ্গে এতে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারেন। আইফোন ডুও আগামী ২৩ অক্টোবর বাজারে আসার কথা রয়েছে। প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর। ফোনটি হাতে পাওয়ার পরই বামহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য এর নকশা কতটা বাস্তব সমস্যা তৈরি করে, সেটি আরও পরিষ্কার হবে।
‘ভালো ঘুম’ দেখালেও আসলে তা নাও হতে পারে, ট্র্যাকার নিয়ে গবেষণায় সতর্কতা
সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তর, মিস ওয়ার্ল্ডের গাউনে ফুটে উঠল মায়েদের জীবনের গল্প