সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশেষ প্রতিবেদন

জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৮:৩৪
পারিবারিক ফটো : সংগৃহীত।
পারিবারিক ফটো : সংগৃহীত।

জাপানের পারিবারিক সংস্কৃতিতে এমন একটি প্রথা রয়েছে, যা অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী। পরিবারে উপযুক্ত পুরুষ উত্তরাধিকারী না থাকলে কোনো কোনো পরিবার একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে দত্তক নিয়ে পরিবারের পদবি, সম্পদ ও ব্যবসার উত্তরাধিকার কাঠামোর অংশ করে। মেয়ের স্বামীকে এভাবে দত্তক নেওয়ার ঐতিহ্যকে জাপানি সংস্কৃতিতে ‘মুকোয়োশি’ (Mukoyoshi) বলা হয়।

 

জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক নেওয়া আইনত সম্ভব। দেশটির দেওয়ানি আইনে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে দত্তক নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এবং নাবালক দত্তকের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক দত্তকের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের অনুমতির প্রয়োজনীয়তাও আলাদা। 

 

ছেলে না থাকলে জামাইই হতে পারেন উত্তরসূরি

 

ঐতিহাসিকভাবে জাপানের ‘ইয়ে’ বা পারিবারিক কাঠামোয় পরিবারের নাম ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কোনো পরিবারে ছেলে সন্তান না থাকলে মেয়ের স্বামীকে পরিবারে দত্তক নেওয়া হতো। এর মাধ্যমে তিনি শুধু জামাই থাকতেন না, আইনগতভাবে পরিবারের সন্তান ও সম্ভাব্য উত্তরসূরিতে পরিণত হতেন। 

 

বিশেষ করে পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জাপানের কিছু পারিবারিক কোম্পানি রক্তের সম্পর্কের উত্তরাধিকারীর পরিবর্তে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক সন্তানকে ব্যবসার পরবর্তী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছে। 

 

দত্তক নেওয়ার পর কী পরিবর্তন হয়?

 

জাপানের সাধারণ দত্তক ব্যবস্থায় দত্তক সন্তান আইনগতভাবে দত্তক পরিবারের সন্তানের মর্যাদা পান। ফলে পরিবারটির উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় তার অধিকার তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে পারিবারিক পদবিও পরিবর্তিত হতে পারে। জাপানের দেওয়ানি আইনের অনুবাদে দত্তক সম্পর্ক ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। 

 

তবে দত্তক নেওয়া মানেই পরিবারের সব সম্পত্তি সঙ্গে সঙ্গে নতুন সদস্যের নামে চলে যায়—এমন নয়। উত্তরাধিকার, উইল, কোম্পানির শেয়ার ও ব্যবসা পরিচালনার অধিকার আলাদা আইনি বিষয়।

 

জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক এত বেশি কেন?

 

এই ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, জাপানে দত্তকের একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে শিশু নয়, বরং প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে।যুক্তরাষ্ট্রের Library of Congress-এর একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের তথ্য অনুযায়ী দত্তক নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিলেন ২০ ও ৩০-এর কোঠার পুরুষ। গবেষকদের ধারণা ছিল, তাদের অনেককে পরিবার ও পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরি করার উদ্দেশ্যে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। 

 

আর ২০০২ সালের একটি Japan Times প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তখন জাপানের আইনগত দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশি ছিল প্রাপ্তবয়স্কদের দত্তক এবং এর বড় অংশের উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাধিকার ও পারিবারিক ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তবে এই ৯০ শতাংশের তথ্যটি পুরোনো। তাই এটিকে বর্তমান ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

 

বাংলাদেশিরাও কি সুযোগ পাবেন?

 

বিদেশি নাগরিককে জাপানি পরিবার দত্তক নিতে পারে কি না, সেটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং প্রযোজ্য জাপানি ও বিদেশি আইনের ওপর। জাপানের আইনে বিদেশি নাগরিকের দত্তক সম্পর্কিত বিষয় রয়েছে, তবে ‘বাংলাদেশি জামাই আবেদন করলেই জাপানি পরিবার তাকে দত্তক নেবে’—এমন কোনো সাধারণ সরকারি স্কিম নেই।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দত্তক নেওয়া এবং জাপানে বসবাসের অনুমতি এক জিনিস নয়। জাপানের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ‘Spouse or Child of Japanese National’ ধরনের রেসিডেন্স স্ট্যাটাস মূলত জাপানি নাগরিকের স্বামী/স্ত্রী, জৈবিক সন্তান বা বিশেষ দত্তক সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 

 

অন্যদিকে জাপানি নাগরিকত্বও শুধু দত্তক হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। জাপানের জাতীয়তা আইনে নাগরিকত্বের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে এবং সাধারণভাবে বিদেশির naturalization বা নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ naturalization-এর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে অন্তত পাঁচ বছর জাপানে বৈধভাবে বসবাসসহ বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। 

 

ব্যবসা টিকিয়ে রাখার অভিনব মডেল

 

জাপানের এই প্রথার মূল আকর্ষণ এখানেই। একটি পরিবারে ছেলে সন্তান নেই, কিন্তু কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা ব্যবসা ও পারিবারিক নাম ধরে রাখতে হবে—এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের স্বামীকে পরিবারের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।ফলে তিনি একই সঙ্গে জামাই এবং আইনগতভাবে পরিবারের সন্তান হয়ে উঠতে পারেন। যোগ্যতা ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক উত্তরসূরিও করা সম্ভব।

 

বিশ্বজুড়ে জাপানের পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে আলোচনায় এই ‘মুকোয়োশি’ ব্যবস্থা বিশেষভাবে পরিচিত। তবে এটিকে শুধু ধনী পরিবারের রীতি হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এটি জাপানের বৃহত্তর পারিবারিক ও উত্তরাধিকার সংস্কৃতির একটি ঐতিহাসিক অংশ।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি এমন ব্যবস্থার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চাইলে তাকে জাপানের পরিবার আইন, পারিবারিক রেজিস্ট্রি, উত্তরাধিকার আইন এবং ইমিগ্রেশন নিয়ম—সবগুলো আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। দত্তক হওয়া নিজে থেকে স্থায়ী বসবাস বা জাপানি নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দেয় না। 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশেষ প্রতিবেদন

View more
পারিবারিক ফটো : সংগৃহীত।
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও

জাপানের পারিবারিক সংস্কৃতিতে এমন একটি প্রথা রয়েছে, যা অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী। পরিবারে উপযুক্ত পুরুষ উত্তরাধিকারী না থাকলে কোনো কোনো পরিবার একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে দত্তক নিয়ে পরিবারের পদবি, সম্পদ ও ব্যবসার উত্তরাধিকার কাঠামোর অংশ করে। মেয়ের স্বামীকে এভাবে দত্তক নেওয়ার ঐতিহ্যকে জাপানি সংস্কৃতিতে ‘মুকোয়োশি’ (Mukoyoshi) বলা হয়।   জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক নেওয়া আইনত সম্ভব। দেশটির দেওয়ানি আইনে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে দত্তক নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এবং নাবালক দত্তকের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক দত্তকের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের অনুমতির প্রয়োজনীয়তাও আলাদা।    ছেলে না থাকলে জামাইই হতে পারেন উত্তরসূরি   ঐতিহাসিকভাবে জাপানের ‘ইয়ে’ বা পারিবারিক কাঠামোয় পরিবারের নাম ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কোনো পরিবারে ছেলে সন্তান না থাকলে মেয়ের স্বামীকে পরিবারে দত্তক নেওয়া হতো। এর মাধ্যমে তিনি শুধু জামাই থাকতেন না, আইনগতভাবে পরিবারের সন্তান ও সম্ভাব্য উত্তরসূরিতে পরিণত হতেন।    বিশেষ করে পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জাপানের কিছু পারিবারিক কোম্পানি রক্তের সম্পর্কের উত্তরাধিকারীর পরিবর্তে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক সন্তানকে ব্যবসার পরবর্তী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছে।    দত্তক নেওয়ার পর কী পরিবর্তন হয়?   জাপানের সাধারণ দত্তক ব্যবস্থায় দত্তক সন্তান আইনগতভাবে দত্তক পরিবারের সন্তানের মর্যাদা পান। ফলে পরিবারটির উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় তার অধিকার তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে পারিবারিক পদবিও পরিবর্তিত হতে পারে। জাপানের দেওয়ানি আইনের অনুবাদে দত্তক সম্পর্ক ও পদবি পরিবর্তনের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।    তবে দত্তক নেওয়া মানেই পরিবারের সব সম্পত্তি সঙ্গে সঙ্গে নতুন সদস্যের নামে চলে যায়—এমন নয়। উত্তরাধিকার, উইল, কোম্পানির শেয়ার ও ব্যবসা পরিচালনার অধিকার আলাদা আইনি বিষয়।   জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক এত বেশি কেন?   এই ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, জাপানে দত্তকের একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে শিশু নয়, বরং প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে।যুক্তরাষ্ট্রের Library of Congress-এর একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের তথ্য অনুযায়ী দত্তক নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিলেন ২০ ও ৩০-এর কোঠার পুরুষ। গবেষকদের ধারণা ছিল, তাদের অনেককে পরিবার ও পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরি করার উদ্দেশ্যে দত্তক নেওয়া হয়েছিল।    আর ২০০২ সালের একটি Japan Times প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তখন জাপানের আইনগত দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশি ছিল প্রাপ্তবয়স্কদের দত্তক এবং এর বড় অংশের উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাধিকার ও পারিবারিক ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তবে এই ৯০ শতাংশের তথ্যটি পুরোনো। তাই এটিকে বর্তমান ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।   বাংলাদেশিরাও কি সুযোগ পাবেন?   বিদেশি নাগরিককে জাপানি পরিবার দত্তক নিতে পারে কি না, সেটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং প্রযোজ্য জাপানি ও বিদেশি আইনের ওপর। জাপানের আইনে বিদেশি নাগরিকের দত্তক সম্পর্কিত বিষয় রয়েছে, তবে ‘বাংলাদেশি জামাই আবেদন করলেই জাপানি পরিবার তাকে দত্তক নেবে’—এমন কোনো সাধারণ সরকারি স্কিম নেই।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দত্তক নেওয়া এবং জাপানে বসবাসের অনুমতি এক জিনিস নয়। জাপানের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ‘Spouse or Child of Japanese National’ ধরনের রেসিডেন্স স্ট্যাটাস মূলত জাপানি নাগরিকের স্বামী/স্ত্রী, জৈবিক সন্তান বা বিশেষ দত্তক সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।    অন্যদিকে জাপানি নাগরিকত্বও শুধু দত্তক হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। জাপানের জাতীয়তা আইনে নাগরিকত্বের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে এবং সাধারণভাবে বিদেশির naturalization বা নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ naturalization-এর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে অন্তত পাঁচ বছর জাপানে বৈধভাবে বসবাসসহ বিভিন্ন শর্ত রয়েছে।    ব্যবসা টিকিয়ে রাখার অভিনব মডেল   জাপানের এই প্রথার মূল আকর্ষণ এখানেই। একটি পরিবারে ছেলে সন্তান নেই, কিন্তু কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা ব্যবসা ও পারিবারিক নাম ধরে রাখতে হবে—এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের স্বামীকে পরিবারের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।ফলে তিনি একই সঙ্গে জামাই এবং আইনগতভাবে পরিবারের সন্তান হয়ে উঠতে পারেন। যোগ্যতা ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক উত্তরসূরিও করা সম্ভব।   বিশ্বজুড়ে জাপানের পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে আলোচনায় এই ‘মুকোয়োশি’ ব্যবস্থা বিশেষভাবে পরিচিত। তবে এটিকে শুধু ধনী পরিবারের রীতি হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এটি জাপানের বৃহত্তর পারিবারিক ও উত্তরাধিকার সংস্কৃতির একটি ঐতিহাসিক অংশ।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি এমন ব্যবস্থার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চাইলে তাকে জাপানের পরিবার আইন, পারিবারিক রেজিস্ট্রি, উত্তরাধিকার আইন এবং ইমিগ্রেশন নিয়ম—সবগুলো আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। দত্তক হওয়া নিজে থেকে স্থায়ী বসবাস বা জাপানি নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দেয় না। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৮:৩৪
তানজিন তিশা

বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা

বিমানে অবস্থারত ব্যক্তি ছবি:সংগৃহীত।

“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প

স্বাক্ষরিত স্মারক ছবি:সংগৃহীত

বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার

ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা ও ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ছবি:সংগৃহীত
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই

ফ্লোরিডায় আগামী ১৮ আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এবারের নির্বাচনে গভর্নর, সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনের প্রার্থী বাছাই হবে।   গভর্নর পদে বর্তমান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস মেয়াদসীমার কারণে আবার প্রার্থী হতে পারছেন না। ফলে রিপাবলিকান শিবিরে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার লড়াই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রতিনিধি বায়রন ডোনাল্ডস এবং ডিস্যান্টিস-সমর্থিত লেফটেন্যান্ট গভর্নর জে কলিন্সসহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   ডেমোক্র্যাট শিবিরেও গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডেভিড জলি এখন ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন এবং তহবিল সংগ্রহে তিনি এগিয়ে রয়েছেন।   সিনেট নির্বাচনেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। নিয়োগপ্রাপ্ত রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডির বিরুদ্ধে নভেম্বরে লড়ার জন্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাছাই হবে।   এবারের নির্বাচনের আরেকটি বড় বিষয় হলো নতুন কংগ্রেসনাল মানচিত্র। নতুনভাবে নির্ধারিত আসনগুলো রিপাবলিকান প্রার্থীদের সুবিধা দিতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-অধ্যুষিত আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে।   ফ্লোরিডার এই প্রাইমারি তাই শুধু দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচন নয়; নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য কোন দিকে যাবে, তারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৩:৩৯
ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ স্যার কিয়ার স্টারমার। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা

পুলিশের প্রকাশিত ফটো: সংগৃহীত

প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট

জ্যারেড কুশনার এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি:সংগৃহীত

হামাসের সঙ্গে বৈঠকের পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে বসছেন ট্রাম্পের জামাতা, ফিলিস্তিনে শান্তি ফেরাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে ২৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে ধাক্কা, গত মাসে কমেছে ২৩ হাজার চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে জুলাইয়ে অপ্রত্যাশিত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে, যেখানে অর্থনীতিবিদেরা বরং নতুন চাকরি বাড়ার প্রত্যাশা করেছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ চাকরি কমলেও বেকারত্বের হার বেড়ে যায়নি।   কর্মসংস্থানের দুর্বলতার পেছনে কয়েকটি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার শিক্ষা, খুচরা ব্যবসা ও অবসর-আতিথেয়তা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরি বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পতন কিছুটা সামাল দেওয়া হয়েছে।   এদিকে মে ও জুনের কর্মসংস্থানের হিসাবও আগের তুলনায় নিচের দিকে সংশোধন করা হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়েছে।   এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে আসার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের এই দুর্বলতা ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৭:৬
আটলান্টায় গুলির ঘটনায় একজন আহত, ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত

আটলান্টায় গুলির ঘটনায় একজন আহত, ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামে বড় পতন, ৬৩ বছরে এমন স্বস্তি দেখেননি মার্কিন ভোক্তারা

ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত সড়ক, চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা। ছবি:সংগৃহীত

ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা ও ঝড়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জন

0 Comments