- প্রচ্ছদ
- Topic
অস্টিন
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইবিরোধী বি ক্ষো ভে অংশ নেওয়ার পর সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের প্রার্থী মিসায়েল রামোসকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রে প্তা র করেছে রাজ্যের জননিরাপত্তা বিভাগ। তাঁর বিরুদ্ধে দা ঙ্গায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে এক হাজার ডলারের জা মি নে তিনি ছাড়া পান। রামোস অস্টিন সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ আসনের প্রার্থী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইউটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গু লিতে উইলবার গারসেস পেরেজ নামের এক ব্যক্তি আ হ ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। রামোসের প্রচার ব্যবস্থাপকের ভাষ্য, শনিবার সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। সেদিনই তাঁকে ট্রাভিস কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয় এবং বিকেলে জা মি নে মুক্তি দেওয়া হয়। রামোসের বিরুদ্ধে আনা অ ভি যোগটি টেক্সাসে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অ প রা ধের শ্রেণিতে পড়ে। বি ক্ষো ভে তাঁর ঠিক কোন আচরণের ভিত্তিতে অ ভি যোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অ ভি যোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। রামোসের প্রচার শিবির বলছে, তিনি আইসিই কর্মকর্তার গু লির ঘটনার প্র তি বা দ জানাতে অন্যদের সঙ্গে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন। গ্রে প্তা রের বিষয়ে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে কেইউটি জানিয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ ছাড়া অন্তত ১৫টি ঘটনায় অভিবাসন কর্মকর্তারা গুলি চালালেও কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। এবিসি নিউজের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব গুলির ঘটনা ঘটেছে। এবিসি নিউজ তাদের প্রতিবেদন, আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য এবং সরকারি বিভিন্ন বিবৃতি বিশ্লেষণ করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটে গত রোববার টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তা ২৮ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গারসেস পেরেজকে গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি ডোরড্যাশের হয়ে খাবার সরবরাহ করছিলেন বলে তার আইনজীবী এবং ডোরড্যাশ নিশ্চিত করেছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর গারসেস পেরেজকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়ে আবার ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ জানিয়েছেন, তার শরীরে এখনো একটি গুলি রয়েছে, যা মেরুদণ্ডের কাছাকাছি আটকে আছে। ২৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাস ট্রিবিউনও জানিয়েছে, গুলিটি অপসারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। গারসেস পেরেজের আইনজীবীর বক্তব্য, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দেশ থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। অর্থাৎ, ঘটনাটি ঘিরে তার অভিবাসন অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। অস্টিনের ঘটনার পর তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তা ঘটনার সময় শরীরে পরিধানযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করছিলেন না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। অস্টিন পুলিশও আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ২২ সেপ্টেম্বর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এক কর্মকর্তার বডি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করে। তবে ওই ভিডিওতে গুলি চালানোর আগের পুরো ঘটনাটি স্পষ্ট হয়নি। অস্টিন পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানিয়েছেন, তার বিভাগ এবং টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, অস্টিন পুলিশের কর্মকর্তারা আইসিইর মূল অভিযানে অংশ নেননি। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে অনুসরণ করা হবে বলেও তিনি জানান। অস্টিনের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কিছু কংগ্রেস সদস্য আইসিইর কর্মকাণ্ডে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। শতাধিক কংগ্রেস সদস্য গারসেস পেরেজকে চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আইসিইর অভিযান বন্ধ করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগটি বলেছে, কংগ্রেসের পাস করা আইন বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব এবং অস্টিনে আইসিইর অভিযান থামবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েন মুলিনও আইসিই কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে, অস্টিনের ঘটনার আগে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনাগুলো নিয়েও কংগ্রেসে শুনানি হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সিনেটের পার্মানেন্ট সাবকমিটি অন ইনভেস্টিগেশনস এবং প্রতিনিধি পরিষদের কমিটি অন ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম যৌথ শুনানির আয়োজন করে। সেখানে আইসিই-সংশ্লিষ্ট প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। শুনানিতে রেনে গুডের মা ডোনা গ্রেঞ্জারও বক্তব্য দেন। ৩৭ বছর বয়সী গুডকে জানুয়ারিতে মিনেসোটায় এক আইসিই কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করেন। গুড ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। শুনানিতে আরও বক্তব্য দেন টেক্সাসের হিউস্টনে জুলাইয়ে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদোর পরিবার। তার ছেলে লরেঞ্জো সালগাদো জুনিয়র আইনপ্রণেতাদের বলেন, বাবার মৃত্যুর আড়াই মাস পরও পরিবার তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন মানিব্যাগ ও ফোন, ফেরত পায়নি এবং ঘটনার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকেও পর্যাপ্ত উত্তর পায়নি। অস্টিনে গারসেস পেরেজকে গুলি করার ঘটনায় স্থানীয় মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরাও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনসের প্রেসিডেন্ট রোমান পালোমারেস হিউস্টনের প্রাণঘাতী ঘটনার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অস্টিনের ঘটনার স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান। এবিসি নিউজের হিসাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে আটটি ছিল প্রাণঘাতী এবং নিহতদের তিনজন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একই সময়ে আরও অন্তত ১৫টি ঘটনায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা গুলি চালালেও কেউ আহত হননি। এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কঠোর অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সূত্র: এবিসি নিউজ, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের এক কর্মকর্তার গুলিতে আহত এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে পিঠে গুলি থাকা অবস্থায় আটককেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ২৮ বছর বয়সী উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাটি রোববার টেক্সাসের অস্টিনে ঘটে। গার্সেস পেরেজ তখন ডোরড্যাশের হয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি তার গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পর সেটি পুলিশের গাড়ি হিসেবে থামানো হয় এবং আইসের এক কর্মকর্তা তার গাড়িতে গুলি চালান। গুলিতে তার শরীরের ওপরের অংশে আঘাত লাগে। গার্সেস পেরেজের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি এসইউভি তার গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি সেটিকে আক্রমণাত্মক চালকের আচরণ বলে মনে করেন এবং নিজের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে গাড়িটি আবার তার গাড়িকে ধাক্কা দেয় এবং পুলিশি বাতি জ্বালানো হয়। এক কর্মকর্তা তার কাছে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান এবং গাড়ি থেকে নামতে বলেন। গার্সেস পেরেজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি গাড়িটি রাস্তার পাশে নিরাপদ জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় আইস কর্মকর্তা গুলি চালান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাইরেন ও গাড়ির টায়ারের শব্দের পর একটি অচিহ্নিত এসইউভি থেকে একজন কর্মকর্তাকে নামতে এবং এরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও গুলির পরিস্থিতি তদন্তাধীন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সেস পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে অস্টিন থেকে প্রায় ১৩০ মাইল দূরের পিয়ারসালের সাউথ টেক্সাস আইস প্রসেসিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও তার শরীরে, মেরুদণ্ডের কাছাকাছি, গুলি আটকে ছিল বলে আইনজীবী জানিয়েছেন। গার্সেস পেরেজ সাংবাদিকদের ফোনে জানান, তিনি ভালো নেই এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। তার আইনজীবীর দাবি, আটককেন্দ্রে তিনি তীব্র ব্যথায় ছিলেন এবং একপর্যায়ে শরীরের বাম পাশ, হাত ও পায়ে অনুভূতি কমে যায়। পরে পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গের কথা জানানোর পর সোমবার রাতে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এসব অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। বিভাগটি জানিয়েছে, গার্সেস পেরেজ আটককেন্দ্রে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা এবং ব্যথানাশক ওষুধ পাচ্ছিলেন এবং তিনি একটি বিছানায় ঘুমিয়েছেন। শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেনি। তবে গুলি অপসারণ করা হবে কি না, সেটি চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছে বিভাগটি। ঘটনার পর গার্সেস পেরেজের আইনজীবীরা তার মুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাকে অপসারণ বন্ধের দাবিতে মামলা করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবারের আপডেট অনুযায়ী, একজন ফেডারেল বিচারক আপাতত তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ বন্ধ রাখার জন্য জরুরি আদেশও দিয়েছেন। গার্সেস পেরেজের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বৈধতা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, তিনি জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছিল। তবে তার আইনজীবী বলছেন, তিনি ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু থাকা সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে বৈধভাবে সীমান্তে প্রবেশের আবেদন করে একটি প্রবেশবন্দরে হাজির হন এবং সেখানেই তাকে পরীক্ষা করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের নির্দিষ্ট প্রবেশবন্দরে সাক্ষাতের সময় নিতে পারতেন। ট্রাম্প প্রশাসন পরে এই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবেশ করা অভিবাসীদের বৈধ অবস্থান বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে। এদিকে গার্সেস পেরেজকে গুলি করার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় তদন্তটি পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, গুলি চালানো আইস কর্মকর্তাকে তদন্ত চলাকালে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন ঘটনাটির স্বাধীন ও তৃতীয় পক্ষের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, আইস নিজেই এই ঘটনার তদন্ত করলে তা উপযুক্ত হবে না। তিনি অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম ঘিরে ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিবর্ষণ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামনে এলো। এর আগে টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযানের সময় গাড়ি থামিয়ে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি আলাদা এবং গার্সেস পেরেজের ঘটনায়ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলিবর্ষণ আইনসঙ্গত ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, সিবিএস নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ জানিয়েছেন, তার শরীরে এখনো একটি বুলেট আটকে আছে এবং তিনি তীব্র ব্যথায় ভুগছেন। ২০ সেপ্টেম্বর রোববারের ওই ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়। সোমবার ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টার থেকে আইনজীবীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ২৮ বছর বয়সী পেরেজ। পরে কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার জানান, তাকে চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার কথা বলার সময় পেরেজ স্প্যানিশ ভাষায় জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিটি মেরুদণ্ডের খুব কাছাকাছি আটকে থাকায় চিকিৎসকেরা সেটি অপসারণ করেননি। ঘটনার সময় পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে খাবার ডেলিভারি করছিলেন বলে তার আইনজীবী এবং ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। অস্টিনের উত্তরাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮৩ নম্বর হাইওয়ে ও অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকার কাছে রোববার দুপুরের আগে ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে ডেল সিটন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়। পেরেজের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি চিহ্নবিহীন এসইউভি তার গাড়ির পাশে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, সেটি আইসিই কর্মকর্তাদের গাড়ি। তিনি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন এবং নিরাপদ জায়গায় থামার সুযোগ চান বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একজন আইসিই কর্মকর্তা তাকে গুলি করেন। তবে গুলি চালানোর ঠিক আগে কী ঘটেছিল এবং আইসিই কর্মকর্তারা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা এখনো তদন্তাধীন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় ওই কর্মকর্তার গুলিবর্ষণের ঘটনা তদন্ত করছে। বিভাগের বক্তব্যে বলা হয়েছে, পেরেজ ভেনেজুয়েলার নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। তবে পেরেজের আইনজীবীরা সরকারি এই বর্ণনার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। পেরেজের আইনজীবীদের দাবি, তিনি ২০২৪ সালে সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ইমিগ্রেশন কোর্টের শুনানির নোটিশ পুরোনো ঠিকানায় যাওয়ায় তিনি ওই শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি। আইনজীবীরা আরও বলেছেন, পেরেজের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল। তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং অপসারণের আদেশের বিষয়ে সরকারি নথিতে কী রয়েছে, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর পেরেজকে প্রায় দুই ঘণ্টা দূরের পিয়ারসালের সাউথ টেক্সাস আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পর্যাপ্ত ব্যথানাশক ও চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। পেরেজের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিটেনশন সেন্টারে তিনি একটি ঠান্ডা কক্ষে মেঝেতে রাত কাটান। পরে একজন নার্স তাকে একটি ওষুধ দেন। ঘটনার পর কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও ও প্রমাণ সংরক্ষণ এবং আইসিইর অভিযানে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও আইসিইর কাছে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। এদিকে অস্টিন পুলিশও ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে গুলিবর্ষণের সময় অস্টিন পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ফলে পেরেজের গাড়ির সঙ্গে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গাড়ির সংঘর্ষ কীভাবে হয়েছিল, গুলি চালানোর আগে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে আইসিই কর্মকর্তা গুলি চালান, এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। সোমবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার জানান, পেরেজকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তার শরীরে থাকা বুলেট অপসারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার ফেডারেল তদন্তের পাশাপাশি পেরেজের চিকিৎসা এবং আইসিই হেফাজতে তার অবস্থার বিষয়টিও এখন আলোচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে শীতলতার মধ্যে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে অস্টিনে, যেখানে দাম কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর রয়েছে টাম্পা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেমফিস ৪ দশমিক ১ শতাংশ। উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদহার, বাড়ির বাড়তি সরবরাহ এবং করোনাভাইরাস মহামারির পর বাজারের পুনর্বিন্যাসের কারণে এসব এলাকায় দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। রিয়েলটর ডটকমের আগস্টের আবাসন বাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের দাম টানা ১০ম মাসের মতো বার্ষিক হিসাবে কমেছে। জাতীয়ভাবে এই দাম গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, দক্ষিণাঞ্চলে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে দাম অপরিবর্তিত ছিল। শীর্ষ ৫০টি মহানগরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে অস্টিন-রাউন্ড রক-সান মারকোস এলাকায়। সেখানে প্রতি বর্গফুটের মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। টাম্পা-সেন্ট পিটার্সবার্গ-ক্লিয়ারওয়াটারে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সেখানে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ ডলার। মেমফিসে প্রতি বর্গফুটের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ ডলার। এ তালিকায় এরপর রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো-অকল্যান্ড-ফ্রেমন্ট, যেখানে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ওই এলাকার মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার। সান অ্যান্টোনিও-নিউ ব্রাউনফেলসে দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ ডলার। ডেনভার-অরোরা-সেন্টেনিয়ালে প্রতি বর্গফুটের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৩ ডলারে। বাল্টিমোর-কলাম্বিয়া-টাওসনে প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। সান ডিয়েগো-চুলা ভিস্তা-কার্লসবাডে কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৮ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। অরল্যান্ডো-কিসিমি-স্যানফোর্ডে কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৪ লাখ ১৭ হাজার ডলার। পোর্টল্যান্ড-ভ্যাঙ্কুভার-হিলসবোরো এলাকায় প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মধ্যম তালিকাভুক্ত দাম ৫ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, অস্টিন, টাম্পা, সান অ্যান্টোনিও ও ডেনভারের মতো বাজারে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের আবাসন বাজারের দ্রুত উত্থানের পর এখন মহামারির সময়ের মূল্যবৃদ্ধির একটি অংশ কমে আসছে। এসব এলাকায় মহামারির আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়ির মজুতও বেশি রয়েছে। ফলে বিক্রেতাদের আগের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত দামে বাড়ি তালিকাভুক্ত করতে হচ্ছে। সান ফ্রান্সিসকোতে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সেখানে প্রতি বর্গফুটের তালিকাভুক্ত দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমলেও জুলাইয়ে সক্রিয় বাড়ির তালিকা আগের বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছিল। শহরটির মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দামও গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ক্রিমেলের মতে, সেখানে দামের পরিবর্তনের পেছনে বাজারে আসা বাড়ির ধরনও ভূমিকা রাখছে। ফ্রেমন্ট এলাকার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ভেরোনিকা পিটার বলেন, প্রযুক্তি খাতের পরিবর্তনও সান ফ্রান্সিসকো এলাকার আবাসন বাজারে প্রভাব ফেলছে। ওই এলাকার অনেক কর্মী প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে কিছু ক্রেতা চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এর সঙ্গে উচ্চ সুদের হার এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দরপতনও বাড়ি কেনার জন্য রাখা অর্থের ওপর চাপ তৈরি করেছে। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বাজারে বাড়ির দামের নিম্নমুখী সমন্বয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ি কেনার সামর্থ্যের সমস্যায় থাকা সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করছে। দেশজুড়ে সক্রিয় বাড়ির মজুতও বাড়ছে এবং ২০১৯ সালের শেষের পর দেখা যায়নি এমন মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। ফলে বিক্রেতাদের তুলনামূলক বেশি বেছে নেওয়া ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের দাম নির্ধারণের কৌশল নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তবে এসব বাজারে বাড়ির দাম কমার প্রবণতা সাময়িক নাকি আরও বড় আঞ্চলিক পরিবর্তনের সূচনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামনে বন্ধকি ঋণের সুদহারে সম্ভাব্য পরিবর্তন শরৎকালীন বাড়ি কেনাবেচার মৌসুমে বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রিয়েলটর ডটকম
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী অস্টিন শুধু সঙ্গীত বা সংস্কৃতির জন্যই নয়, বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্যও সুপরিচিত। শহরটির খাদ্যসংস্কৃতির ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে গুয়েরোস টাকো বার (Güero's Taco Bar), মিস্টার ন্যাচারাল (Mr. Natural) এবং কামিনো রিয়াল (Camino Real)। কয়েক দশক ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এই তিন রেস্তোরাঁ আজও অস্টিনের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। সম্প্রতি অস্টিন আমেরিকান-স্টেটসম্যান শহরটির ঐতিহাসিক টেক্স-মেক্স রেস্তোরাঁগুলো নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ১৯০৫ সালের ভবনে গড়ে ওঠা গুয়েরোস টাকো বার অস্টিনের জনপ্রিয় সাউথ কংগ্রেস (SoCo) এলাকায় অবস্থিত গুয়েরোস টাকো বার শুধু খাবারের জন্য নয়, ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও পরিচিত। ১৯০৫ সালে এটি প্রথমে পশুখাদ্য ও বীজের দোকান হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। পরে এটি মুদির দোকান ও ফিড স্টোর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ১৯৮৬ সালে রবার্ট আরউইন ও ক্যাথি লিপিনকট একটি ছোট টাকেরিয়া হিসেবে গুয়েরোস প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৩ সালে তারা ঐতিহাসিক ভবনটিতে রেস্তোরাঁটি স্থানান্তর করেন। বর্তমানে এখানকার টেক্স-মেক্স ও মেক্সিকান খাবার, পুরোনো ধাঁচের ক্যান্টিনা, উন্মুক্ত বাগান এবং ঐতিহাসিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। নিরামিষ মেক্সিকান খাবারের ব্যতিক্রমী ঠিকানা অস্টিনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী মেক্সিকান রেস্তোরাঁগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত মিস্টার ন্যাচারাল। ১৯৮৮ সালে মেক্সিকোর মনতেরে শহর থেকে আসা জেসুস ও লুইসা মেনদোজা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে প্রচলিত মেক্সিকান খাবারের নিরামিষ সংস্করণ পরিবেশন করা হয়। গরুর মাংস ছাড়া ফাহিতা, মাংসবিহীন বার্গার, শূকরের মাংস ছাড়া তামালে, মাছ ছাড়া সেভিচে এবং প্রাণিজ উপাদান ছাড়া চোরিজো এখানকার বিশেষ আকর্ষণ। রেস্তোরাঁটির সঙ্গে রয়েছে বেকারি, জুস বার, স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও ভেষজ পণ্যের দোকান। সব খাবার নিজস্ব রান্নাঘরেই প্রস্তুত করা হয়। ২০০৮ সালে ছোট ব্যবসায় বিশেষ অবদানের জন্য মার্কিন স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মেনদোজা পরিবারকে সম্মাননা দেয়। হলিউড অভিনেতা ইথান হক এবং নির্মাতা রিচার্ড লিংকলেটারেরও এটি প্রিয় রেস্তোরাঁগুলোর একটি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে জনপ্রিয় কামিনো রিয়াল ১৯৯২ সালে লুসিয়ানো হেনরিকেজ প্রতিষ্ঠা করেন কামিনো রিয়াল। উত্তর-পশ্চিম অস্টিনের এই পারিবারিক রেস্তোরাঁ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বল্প মূল্যে বৈচিত্র্যময় টেক্স-মেক্স খাবার পরিবেশন করে আসছে। রেস্তোরাঁটির মেনুতে রয়েছে ১৭ ধরনের সকালের নাশতা, বিভিন্ন ধরনের ব্রেকফাস্ট টাকো, চিংড়ির সাতটি বিশেষ পদ এবং জনপ্রিয় ফাহিতা। তুলনামূলক কম দামে বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্য এটি স্থানীয়দের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। প্রতিষ্ঠাতা লুসিয়ানো হেনরিকেজ পরে মধ্য টেক্সাসের আরও কয়েকটি এলাকায় শাখা চালু করলেও মূল অস্টিন শাখার জনপ্রিয়তার সমান সাড়া অন্য কোথাও পাননি। অস্টিনের খাদ্য ঐতিহ্যের অংশ খাদ্যবিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বদলে যাওয়া অস্টিনে নতুন নতুন রেস্তোরাঁ চালু হলেও গুয়েরোস, মিস্টার ন্যাচারাল এবং কামিনো রিয়ালের মতো পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো শহরের খাদ্য ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। শুধু খাবারের স্বাদ নয়, প্রতিটি রেস্তোরাঁই নিজেদের ইতিহাস, পারিবারিক উত্তরাধিকার এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ কারণেই কয়েক দশক পরও এগুলো অস্টিনের সবচেয়ে পরিচিত টেক্স-মেক্স গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন শহরে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা, সঞ্চালক ও চিত্রশিল্পী সাজু খাদেমের একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘আয়না মহল’। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফ্লুগারভিল আর্টস কাউন্সিলের আয়োজনে প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয় ফ্লুগারভিল পাবলিক লাইব্রেরিতে। গত ১৪ মার্চ শুরু হয়ে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলা মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীতে সাজু খাদেমের মোট ৩২টি চিত্রকর্ম স্থান পায়। রঙ, রূপ ও ভাবনার বৈচিত্র্যে শিল্পীর সৃজনশীলতার ভিন্ন মাত্রা ফুটে ওঠে প্রতিটি শিল্পকর্মে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থীরা প্রদর্শনী পরিদর্শন করে কাজগুলোর নান্দনিকতা ও ভাবনার প্রশংসা করেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন সময়ে গ্যালারি খোলা ছিল। প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে প্রদর্শনী প্রাঙ্গণ ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। দর্শকরা শিল্পকর্ম ঘুরে দেখার পাশাপাশি সেগুলোর ব্যাখ্যা ও অনুভূতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয় ২১ মার্চ বিকেলে। এতে আমন্ত্রিত অতিথি, শিল্পপ্রেমী এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সাজু খাদেমের শিল্পচর্চার প্রশংসা করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। সাজু খাদেম বলেন, “প্রত্যেক মানুষেরই একটি নিজস্ব জগৎ থাকে। আমারও তেমন একটি জগৎ ‘আয়না মহল’। বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে মূলধারার একটি প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারা আমার জন্য বিশেষ আনন্দের।” তিনি আরও জানান, চিত্রকলার মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি ফ্লুগারভিল আর্টস কাউন্সিলের প্রতি কৃতজ্ঞ। ফ্লুগারভিল আর্টস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মেলিসা কল জানান, আগামী জুন মাসে লাইভ পেইন্টিং শো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা সরাসরি শিল্প সৃষ্টির প্রক্রিয়া উপভোগ করতে পারবেন। প্রদর্শনী চলাকালে ১০টিরও বেশি চিত্রকর্ম বিক্রি হয়েছে, যা দর্শকদের আগ্রহ ও শিল্পীর কাজের প্রতি ইতিবাচক সাড়ার প্রতিফলন বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।