সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় নারী রাজনীতিকদের ওপর হা মলা, কয়েক দিনের ব্যবধানে আক্রান্ত দুই এমপি
অস্ট্রেলিয়ায় নারী রাজনীতিকদের ওপর হা মলা, কয়েক দিনের ব্যবধানে আক্রান্ত দুই এমপি

অস্ট্রেলিয়ায় নারী রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুজন নারী আইনপ্রণেতা ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি গাড়িচাপায় এক এমপির দুই পা হারানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক নারী মন্ত্রীর কার্যালয়ে 'নানচাকু' নিয়ে হামলার হুমকির ঘটনা ঘটেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার পার্থের শহরতলীতে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হান্না বিজলির নির্বাচনি কার্যালয়ে ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রবেশ করে। এ সময় সে মার্শাল আর্ট অস্ত্র 'নানচাকু' ঘুরিয়ে রীতিমতো ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। ঘটনার সময় মন্ত্রী কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও তার কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে এবং বেআইনি কর্মকাণ্ড ও জনমনে ভীতি সঞ্চারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার তাকে পার্থের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   এর মাত্র কয়েকদিন আগে, গত সোমবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ৬৫ বছর বয়সী স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা হেলেন হেইন্সকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাড়িচাপা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে তিনি মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জীবন বাঁচাতে সার্জনরা এরই মধ্যে তার দুটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। এই ঘটনায় ব্রেন্ডন নুজেন্ট নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুটি হামলার মধ্যে পারস্পরিক কোনো যোগসূত্র নেই।   নারী রাজনীতিকদের ওপর এমন ধারাবাহিক হামলা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বেশ বিরল, যেখানে আইনপ্রণেতারা সাধারণত জনগণের খুব কাছাকাছি অবস্থান করেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই ঘটনাগুলোকে 'হৃদয়বিদারক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।   তিনি রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী রাজনীতিকদের প্রতি বিষোদ্গার ও আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফেডারেল পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক নারী সদস্য হওয়ায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিশেষ ব্রিফিং ও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
অ্যাকাউন্টে যত খুশি টাকা তোলার সুযোগ, ৪৬ লাখ ডলার খরচ করে বিপাকে তরুণী
অ্যাকাউন্টে যত খুশি টাকা তোলার সুযোগ, ৪৬ লাখ ডলার খরচ করে বিপাকে তরুণী

২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া মালয়েশিয়ান ছাত্রী ক্রিস্টিন জিয়াক্সিন লির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংক ভুলবশত তার অ্যাকাউন্টে আনলিমিটেড ওভারড্রাফট বা সীমাহীন অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দিয়ে ফেলে। বিষয়টি নজরে আসার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এই সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করেন ওই তরুণী। নিজের অ্যাকাউন্টে থাকা অপ্রত্যাশিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে তিনি শুরু করেন বিলাসবহুল কেনাকাটা ও রাজকীয় জীবনযাপন।   মাত্র ১১ মাসের মধ্যে ক্রিস্টিন প্রায় ৪৬ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার খরচ করে ফেলেন। নামীদামি ব্র্যান্ডের ডিজাইনার হ্যান্ডব্যাগ, বহুমূল্য গহনা, বিলাসবহুল পোশাক, বুটজুতো এবং ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী কিনে এই বিপুল অর্থ উড়িয়েছেন তিনি। তার কেনাকাটার তালিকায় ছিল প্রায় দেড় লাখ ডলার মূল্যের একটি হার্মিস বার্কিন হ্যান্ডব্যাগ থেকে শুরু করে ডাইসন ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মতো দৈনন্দিন পণ্যও! অবাক করা বিষয় হলো, কেবল এক দিনেই তিনি ৩ লাখ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করেছিলেন বলে জানা যায়।   অবশেষে ব্যাংকের টনক নড়লে তারা নিজেদের এই মারাত্মক ভুল বুঝতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিস্টিনের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। হারানো অর্থ উদ্ধারের চেষ্টায় আইনি পদক্ষেপ নেয় ব্যাংকটি। ফলস্বরূপ, ২০১৬ সালের মে মাসে সিডনি বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে ঘটনাটি পরবর্তীতে এক অভাবনীয় মোড় নেয়।   দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রসিকিউটররা ক্রিস্টিনের বিরুদ্ধে আনা সব ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। কারণ হিসেবে উঠে আসে যে, ব্যাংক নিজেই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাকে এই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিল, তাই এটি সরাসরি কোনো প্রতারণা বা চুরির পর্যায়ে পড়ে না। ফৌজদারি মামলা থেকে তিনি পুরোপুরি অব্যাহতি পেলেও, খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে দেওয়ানি বা সিভিল আদালতের মাধ্যমে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
এমপি হেলেন হেইন্সের দ্বিতীয় পা-ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে
অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপির এক পায়ের পর কাটতে হলো দ্বিতীয়টিও

অস্ট্রেলিয়ায় গাড়ি দিয়ে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত স্বতন্ত্র এমপি হেলেন হেইন্সের দ্বিতীয় পা-ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর তাঁর স্বামী ফিল হেইন্স এ তথ্য জানিয়েছেন। ভিক্টোরিয়া রাজ্যের ওয়াঙ্গারাটায় নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ের বাইরে আহত হওয়ার পর তিনি মেলবোর্নের আলফ্রেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।  অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ ও বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার হামলার দিনই হেইন্সের বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর চিকিৎসকেরা তাঁর ডান পা বাঁচানোর চেষ্টা চালান। তবে আঘাতের তীব্রতার কারণে বুধবার সেটিও কেটে ফেলতে হয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী এই আইনপ্রণেতার অবস্থা সংকটাপন্ন।    হাসপাতালের বাইরে পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফিল হেইন্স। তিনি জানান, হেলেন বেঁচে আছেন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। পরিবারের কাছে এই মুহূর্তে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দীর্ঘ ও কঠিন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবারের ভালোবাসা ও সহায়তা নিয়ে হেলেন এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন।  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ওয়াঙ্গারাটায় হেইন্সের নির্বাচনী কার্যালয়ের বাইরে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেওয়ার পর পেছনে গিয়ে আবারও আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হেলিকপ্টারে মেলবোর্নের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন অভিযুক্ত চালককে আটকানোর পর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।    এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৩ বছর বয়সী ব্রেন্ডান নিউজেন্টকে বুধবার ওয়াঙ্গারাটা ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর জখম, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর জখম এবং ফেডারেল সরকারি দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তির ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি এদিন জামিনের আবেদন করেননি। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।    পুলিশের অভিযোগ, হেইন্সকে লক্ষ্য করেই গাড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। তবে এর উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ভিক্টোরিয়া পুলিশের প্রধান কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন, অভিযুক্তের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশও তদন্তে যুক্ত রয়েছে।   

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
তিন সহোদর মুসআব মোহাম্মদ আজাদ, সাদ মোহাম্মদ আজাদ ও মুআজ মোহাম্মদ আজাদ
সিডনিতে একসঙ্গে কোরআনের হাফেজ হলেন বাংলাদেশি তিন ভাই, জানানো হয় সম্মাননা

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন সহোদর মুসআব মোহাম্মদ আজাদ, সাদ মোহাম্মদ আজাদ ও মুআজ মোহাম্মদ আজাদ। শনিবার ১৭ অক্টোবর ব্যাংকসটাউনে আয়োজিত হিফজ সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁদের সম্মাননা জানানো হয়।   অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই তিন ভাই দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়ায় হিফজ শিক্ষা সম্পন্ন করেন। দ্য মুসলিম টাইমসে প্রকাশিত সৈয়দ আতিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের এই অর্জনে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।   মাগরিবের নামাজের পর ব্যাংকসটাউনের মোনা স্ট্রিটে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়া। এতে আলেম, শিক্ষক, অভিভাবক এবং কমিউনিটির বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ অংশ নেন।   তিন ভাইয়ের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ইব্রাহিম খান নামের আরও এক নবীন হাফেজকে সম্মাননা জানানো হয়। তিনি দার আল হুফফাজ একাডেমিতে কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন।    অনুষ্ঠানে বক্তারা কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একসঙ্গে কোরআনে হাফেজ হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন ভাই
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একসঙ্গে কোরআনে হাফেজ হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন ভাই

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একসঙ্গে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে এক অনন্য গৌরবের অধিকারী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন সহোদর। মুসআব মোহাম্মদ আজাদ, সাদ মোহাম্মদ আজাদ ও মুআজ মোহাম্মদ আজাদ নামের এই তিন ভাইয়ের অসামান্য অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।   সিডনির ব্যাংকসটাউনে অবস্থিত 'দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়া' নামের একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাঁরা এই কোরআন হিফজের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। প্রবাসের মাটিতে জন্ম নিয়ে এবং পশ্চিমা আবহে বেড়ে ওঠার পরও তাঁদের এই অর্জন পরিবার ও কমিউনিটির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।   গত ১৭ অক্টোবর, শনিবার ব্যাংকসটাউনে মাগরিবের নামাজের পর দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে এক বিশেষ হিফজ সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আড়ম্বরপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে কোরআনের হাফেজ হওয়া তিন ভাইয়ের পাশাপাশি ইব্রাহিম খান নামের আরেক নবীন হাফেজকেও বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।   স্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষক, অভিভাবক ও মুসলিম সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বক্তারা প্রবাসে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রসার ও মূল্যবোধ চর্চার ওপর জোর দেন।   পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠার পরও নিজেদের ধর্ম ও শেকড়ের প্রতি অবিচল থেকে তিন ভাইয়ের এই অসামান্য অর্জনকে প্রবাসীদের জন্য এক দারুণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পরিবারের সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিচর্যা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তাঁদের এই সাফল্য অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোকে কোরআন শিক্ষার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত সড়কে সিজদারত অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ ত্যু
অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত সড়কে সিজদারত অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ ত্যু

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে গভীর রাতে ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে নামাজ বা প্রার্থনারত অবস্থায় দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় সামিয়া মালিক নামের এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বছর মে মাসে অ্যাডিলেডের নর্থ ইস্ট রোডে ঘটা এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে প্রায় চার মিনিট ধরে তিনি রাস্তার মাঝখানে সম্পূর্ণ একা হাঁটু গেড়ে সিজদারত ছিলেন।   সে সময় অন্যান্য গাড়ির চালকরা দূর থেকে তাকে দেখে পাশ কাটিয়ে গেলেও ২০ বছর বয়সী চালক অ্যাশটন ফ্রেন্ড তার গাড়ি দিয়ে সামিয়াকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান।   সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের শুনানিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পর ওই ঘাতক চালক গাড়ি না থামিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত ও মিডিয়ার খবর দেখে তিনি ভীত হয়ে পড়েন এবং ঘটনার দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।   তবে সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় হলো, এমন মর্মান্তিক একটি প্রাণহানির পরও আদালত অভিযুক্ত চালককে মাত্র এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের স্থগিত কারাদণ্ড দিয়ে দায় সেরেছে।   ঘাতকের এমন লঘু শাস্তিতে মানবাধিকার কর্মী ও প্রবাসীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যাকে তারা কোনো প্রকৃত সাজা নয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।   আদালতে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে নিহত সামিয়ার বোন কুদসিয়া মালিক জানান, এই শূন্যতা ও বুকফাটা কষ্ট তাদের পরিবার কখনোই ভুলতে পারবে না। মর্মান্তিক এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ছাত্রসমাজ এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশে বসে কাজ করায় চাকরি হারালেন কর্মী
অস্ট্রেলিয়ার অফিসে সিঙ্গাপুর থেকে কাজ, বসের ট্র্যাকিংয়ে ধরা পড়তেই গেল চাকরি

অনুমতি ছাড়াই বিদেশে বসে অফিসের কাজ করায় চাকরি হারিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক মুদ্রা লেনদেনকারী চার্লস গ্রাহাম। ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় না ফিরে সেখান থেকেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁর ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত করে বিষয়টি জানতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা ছিল বলে সিদ্ধান্ত দিলেও অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহাম প্রায় ২০ মাস ধরে এইচআইএফএক্স অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ‘এক্সই’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। এর আগে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে কাজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর সেই আবেদন নাকচ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যান গ্রাহাম। ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার কথা থাকলেও তিনি সেখান থেকেই অফিসের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁর ব্যবস্থাপক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তা নেন। পরে গ্রাহামের অফিসের ল্যাপটপের অবস্থান অনুসরণ করে জানা যায়, তিনি সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। গ্রাহামের দাবি, তাঁর সঙ্গী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশে ফেরার ফ্লাইট পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। এরপর তিনি কাজে যোগ দিলেও জমে থাকা ইমেইল, ফোনকল এবং গ্রাহকদের অভিযোগ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ব্যবস্থাপককে জানানো হয়নি বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠান তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। তাদের বক্তব্য ছিল, দেশে ফেরার পরিকল্পনা পরিবর্তন এবং সঙ্গীর ভ্রমণে অক্ষমতার বিষয়ে গ্রাহাম যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনে শুনানি হলে গ্রাহামের বিদেশে বসে কাজ করার আগের একটি ঘটনাও সামনে আসে। এর আগে বালি থেকে কাজ করার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বাসায় মেরামতের কাজ চলায় তাঁকে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। তবে তাঁর ব্যবস্থাপকের বক্তব্য ছিল, গ্রাহাম যে বিদেশে অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। কমিশন চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় গ্রাহামকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল বলে মনে করেছে। অর্থাৎ, তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি পুরোপুরি ন্যায্য ছিল না। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে এটিও বিবেচনায় নেওয়া হয় যে, গ্রাহামের আচরণে অসদাচরণের বিষয় ছিল এবং তিনি এরই মধ্যে চার সপ্তাহের বেতন পেয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে কমিশন তাঁকে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। ফলে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা চিহ্নিত হলেও গ্রাহাম চাকরি বা বাড়তি আর্থিক সুবিধা—কোনোটিই পাননি। ঘটনাটি বিদেশে অবস্থান করে দূর থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ও কর্মস্থলের নীতিমালা মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, কোনো কর্মী ছুটিতে বিদেশে গেলে বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন সেখানে অবস্থান করলে, সেখান থেকে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুমতি ছাড়া কাজ চালিয়ে গেলে তা চাকরির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—চার্লস গ্রাহামের ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার নিয়মে নতুন পরিবর্তন
অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চান! শিক্ষার্থী ভিসা ও পরিবারের আবেদন নিয়ে জেনে নিন নতুন নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শর্তে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন, অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে নতুন ভিসার আবেদন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন বিধি শিক্ষার্থী ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) এবং শিক্ষার্থীর অভিভাবক ভিসা (সাবক্লাস ৫৯০)—দুই ধরনের ভিসার আবেদনকারীদের জন্য প্রাসঙ্গিক। নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সেখানে থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি এবং আবেদনকারীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নেওয়ার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ওপর। তাই অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা, ভ্রমণ কিংবা বসবাসের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন বিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, এখন থেকে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে করতে হবে। আগে থেকেই দেশটিতে শিক্ষার্থী ভিসায় অবস্থান করছেন—এমন ব্যক্তিরাও চাইলেই অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড়ের আওতায় পড়তে হবে। আবেদনকারীর বর্তমান ভিসার ধরন এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে তিনি দেশটির ভেতরে থেকে আবেদন করতে পারবেন কি না। যাঁরা নতুন শর্ত অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করতে বাধ্য, তাঁদের ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ও অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া চলার সময় অন্য কোনো বৈধ ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময় দেশের বাইরে থাকার শর্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে, নতুন নিয়ম না মেনে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে আবেদন করলে সেটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে আবেদনকারীর বর্তমান ভিসার অবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আগের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী ভিসার আবেদন করার সুযোগও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা ও ছাড়ের শর্ত যাচাই করা জরুরি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নতুন নিয়মে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাঁদের সঙ্গী বা নির্ভরশীল সন্তানকে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। একই বিধি পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আবার শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হওয়ার পর আলাদা আবেদনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগও সাধারণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সীমিত কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। পিএইচডি বা ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থী, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর কিংবা প্রতিরক্ষা বিভাগের অর্থায়নে পড়াশোনা করা ব্যক্তি, বিদেশি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট দেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা কিছু শর্তে পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া বর্তমান ভিসায় আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত পরিবারের সদস্যদের পরবর্তী আবেদনে রাখার সুযোগও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে থাকতে পারে। যেমন, মূল কোর্স শেষ করতে আরও সর্বোচ্চ ১২ মাস প্রয়োজন হলে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোর্স পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় নতুন আবেদন করতে হলে বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আবেদন জমা দেওয়ার সময় একই স্থানে থাকার শর্তও রয়েছে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পরিবারের কাউকে আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করলে তাঁর আবেদন অবৈধ হতে পারে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২ অক্টোবর ২০২৬-এর আগে জমা দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনগুলো আগের বিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল—এমন পুরোনো আবেদনও এর আওতায় পড়বে। অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার আগে ভিসার যোগ্যতা, পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এবং অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে না বাইরে থেকে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভর্তি, ভিসা, ভ্রমণ বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করলে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক
অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে প্রার্থনার ভঙ্গিতে থাকা অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় নি হ ত হন পাকিস্তানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সামিয়া মালিক। এ ঘটনায় গাড়িচালক অ্যাশটন জ্যাকব ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজাটি স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছর গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৬ মে। অ্যাডিলেডের হিলক্রেস্ট এলাকার নর্থ ইস্ট রোডে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান ২০ বছর বয়সী সামিয়া। আদালতে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে তিনি প্রায় চার মিনিট ধরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে ছিলেন। তার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি প্রার্থনা করছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি সড়কের ওপর অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের বাসিন্দা সামিয়া উন্নত ভবিষ্যতের আশায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। নিজের পাশাপাশি পরিবারের জীবনেও পরিবর্তন আনার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু অল্প বয়সেই তার আকস্মিক মৃ ত্যুতে পাকিস্তানে থাকা স্বজনেরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েন। স্বজন হারানোর মানসিক কষ্টের পাশাপাশি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং শেষকৃত্যের খরচ নিয়েও পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। আদালতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন অ্যাশটন ফ্রেন্ড। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর। তিনি নির্ধারিত গতিসীমার নিচে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মদ বা মাদক গ্রহণের প্রভাবে ছিলেন না। তবে সংঘর্ষের আগে গাড়ির পেছনের দৃশ্য দেখার আয়নায় তাকিয়ে ছিলেন তিনি। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সামিয়াকে দেখতে পেলে বা পরিস্থিতি বুঝতে পারলে দুর্ঘটনা এড়ানোর সুযোগ থাকতে পারত। ফ্রেন্ড আদালতে স্বীকার করেন, সামিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি গাড়ি থামাননি। তার দাবি, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, গাড়ির ধাক্কায় হয়তো একটি ক্যাঙ্গারু আঘাত পেয়েছে। পরদিন সংবাদমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন, সড়কে একজন মানুষকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তবে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে না থামার বিষয়টি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে অসতর্কভাবে গাড়ি চালিয়ে একজনের মৃ ত্যু ঘটানো এবং দুর্ঘটনায় মৃ ত্যুর পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি উভয় অভিযোগেই দোষ স্বীকার করেন। বিচারক অ্যান বার্নেট ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে আট মাসের আগে প্যারোলের সুযোগ না থাকার বিধান রাখা হয়। তবে সাজা কার্যকর না করে দুই বছরের জন্য ভালো আচরণের শর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ের জন্য তাকে ৫০০ ডলারের বন্ডে থাকতে হবে। একই সঙ্গে ১০ বছরের জন্য গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারক ফ্রেন্ডের বয়স, অনুশোচনা, ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের সম্ভাবনা এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও নির্ধারিত শর্ত মেনে চললে আপাতত কারাগারে যেতে হবে না। এর আগে আদালতে সামিয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ফ্রেন্ড। নিজের কাজ এবং দুর্ঘটনার পর গাড়ি না থামানোর দায়ও তিনি স্বীকার করেন। এই ঘটনা একদিকে সামিয়ার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে সড়কে চালকের মনোযোগ ও দুর্ঘটনার পর দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব সামনে এনেছে। আদালতের রায়ে চালকের কারাদণ্ড স্থগিত হলেও সামিয়ার পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সিডনিতে সাবেক শিক্ষিকা ডিয়ান্দ্রা কনটু গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
রাত্রিকালীন শিক্ষাসফরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রাত্রিযাপনসহ শিক্ষাসফরে ১৬ বছরের কম বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক এক শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ডিয়ান্দ্রা কনটু সিডনির পরিচিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিউইংটন কলেজে ভূগোল পড়াতেন। ৩২ বছর বয়সী এই নারীর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নির্যাতন, অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন স্পর্শ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে অনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করাসহ মোট নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউইংটন কলেজে শিক্ষকতা করার সময় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ শুরু করেছিলেন বলে কনটুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাগুলো প্রায় ছয় মাস ধরে ঘটেছিল। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি রাত্রিযাপনসহ একটি শিক্ষাসফরেও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।   অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষিকা প্রথমে ওই শিক্ষার্থীকে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দেখান। পরে ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময় এবং ক্যাম্পাসের আশপাশেও একাধিকবার অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।   বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এলাকার ফিটজরয় দ্বীপে আয়োজিত একটি শিক্ষাসফরের ঘটনা মামলায় গুরুত্ব পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দিনের বেলায় শিক্ষার্থীকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। পরে রাতে গুরুতর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।   পুলিশের তদন্তের পর সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের সাদারল্যান্ড এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে কনটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা নয়টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গুরুতর যৌন নির্যাতন, চারটি যৌন নিপীড়ন, তিনটি গুরুতর যৌন স্পর্শ এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ।   অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতরটি হলো নিজের কর্তৃত্বাধীন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর গুরুতর যৌন নির্যাতন। নিউ সাউথ ওয়েলসের আইনে এই অপরাধের শাস্তির বিধান ধর্ষণের অপরাধের সমতুল্য। তবে অভিযোগ গঠন করা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।   গ্রেপ্তারের পর কনটুকে সাদারল্যান্ড স্থানীয় আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষে বন্ডে মুক্তি দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন সাদারল্যান্ড পুলিশ স্টেশনে হাজিরা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।   বন্ডের শর্ত অনুযায়ী, কনটু শিশুদের পড়াতে পারবেন না। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী কিংবা মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এসব শর্ত মেনে চলতে হবে তাঁকে।   নিউইংটন কলেজে কর্মরত থাকার সময় কনটু তাঁর আগের পারিবারিক নাম হারালাম্বিদিস ব্যবহার করতেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দুই বছর ভূগোল পড়িয়েছেন। পাশাপাশি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত একটি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচির নেতৃত্বেও ছিলেন।   ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এরপর তিনি নিউইংটন কলেজ ছেড়ে দেন। তবে অভিযোগের সময়কার বিস্তারিত পরিস্থিতি কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   নিউইংটন কলেজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এমন কোনো শিক্ষকের আচরণ সমর্থন করে না, যা পেশাগত মানদণ্ড কিংবা প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে। তবে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এই পর্যায়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।   নিউইংটন কলেজ ছাড়ার পর কনটু অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকতা করেন। গ্রেপ্তারের আগে তিনি সিডনির দক্ষিণাঞ্চলের ওটলিতে অবস্থিত জর্জেস রিভার কলেজের সিনিয়র ক্যাম্পাসে কর্মরত ছিলেন। এটি একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন।   ২০২৪ সাল থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস শিক্ষা বিভাগের অধীনে স্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন কনটু। সেখানে সমাজ ও সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ভূগোল বিষয় পড়াতেন। তবে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নিউইংটন কলেজে কর্মরত থাকার সময়কার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।   গ্রেপ্তারের প্রস্তুতির সময় পুলিশ কনটুকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে সরিয়ে দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি তাঁর শিক্ষকতার স্বীকৃতিও বাতিল করেছে। অঙ্গরাজ্যটির শিক্ষকদের পেশাগত স্বীকৃতি ও মানদণ্ড তদারকির দায়িত্ব পালন করে এই স্বাধীন সংস্থা।   তবে শিক্ষকতার স্বীকৃতি বাতিল হলেও কনটু এখনো নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের কর্মী হিসেবে রয়েছেন। বর্তমানে তাঁকে বিকল্প দায়িত্বে রাখা হয়েছে। আদালতের বন্ডের শর্ত অনুযায়ী, শিশুদের পড়ানোর অনুমতি নেই তাঁর।   এদিকে চলতি বছর নিউইংটন কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধেও যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। খণ্ডকালীন সংগীত শিক্ষক বেঞ্জামিন ডেভিড কলিঞ্জের বিরুদ্ধে অনলাইনে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ ওঠে।   তবে ওই ঘটনার সময় নিউইংটন কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, অভিযোগটির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী জড়িত ছিল না। দুটি মামলা পৃথক এবং একটি ঘটনার সঙ্গে অন্যটির কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।   ডিয়ান্দ্রা কনটুর মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৬ নভেম্বর বারউড স্থানীয় আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।   তবে কনটুর বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ আনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় তাসনিম ঐশির মৃ ত্যু
উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার তিন মাসের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু

অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তাসনিম ঐশির মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটিতে (ইসিইউ) পড়াশোনা করছিলেন। মাত্র তিন মাস আগে দেশ ছেড়ে যাওয়া এই তরুণীর আকস্মিক মৃ ত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও সাবেক সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তাসনিম ঐশি। সেখানে নতুন পরিবেশে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন থেমে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। তবে পার্থের ঠিক কোন এলাকায় এবং কবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সময় তাসনিম পথচারী ছিলেন, নাকি কোনো যানবাহনে অবস্থান করছিলেন, তাও জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ আ হ ত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাসনিম ঐশির মৃ ত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিচিতজন ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের কথা জানা গেছে। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে এমন মৃ ত্যুর খবর তাঁদের জন্য বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাঁর মৃ ত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে তাসনিমের ম র দে হ দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, অথবা অস্ট্রেলিয়াতেই তাঁর শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হবে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া তাসনিম ঐশির আকস্মিক মৃ ত্যুর খবর আবারও প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ঈদের নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ করতে এসে ইসলাম গ্রহণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের বাসিন্দা ব্রায়ান। ছবি: সংগৃহীত
নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ করতে মসজিদে এসে ইসলাম গ্রহণ অস্ট্রেলীয় বৃদ্ধের

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ঈদুল ফিতরের সকালের নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ জানাতে মসজিদে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রায়ান নামে এক বৃদ্ধ। গোল্ড কোস্ট মসজিদের কাছের একটি নার্সিং হোমে বসবাসকারী ব্রায়ান লাউডস্পিকারের শব্দে বিরক্ত হয়ে মসজিদে গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত মুসলিমদের সঙ্গে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের কথোপকথন এবং তাঁদের আন্তরিক ব্যবহার ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাঁর শাহাদাহ পাঠের আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন সকালে গোল্ড কোস্ট মসজিদে নামাজের সময় লাউডস্পিকার ব্যবহার করা হচ্ছিল। কাছাকাছি নার্সিং হোমে থাকা ব্রায়ানের কাছে সেই শব্দ বেশি মনে হয়। এতে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে মসজিদের দিকে হেঁটে যান।   মসজিদে পৌঁছানোর পর স্থানীয় মুসলিম প্রচারক হাজ হুসেইন গস এবং হাসান নামে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। অভিযোগ নিয়ে আসা ব্রায়ানের সঙ্গে বিরূপ আচরণ কিংবা তর্কে না গিয়ে তাঁরা তাঁকে বসতে বলেন। এরপর শান্তভাবে তাঁর অভিযোগ শোনেন এবং আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।   ব্রায়ানকে খাবারও দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট কথা বলেন। তিনি কেন বিরক্ত হয়েছেন এবং কী কারণে মসজিদে এসেছেন, তা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়। ব্রায়ানের সঙ্গে হওয়া এই কথোপকথনই পরবর্তী সময়ে ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে নিয়ে যায়।   ঘটনাটির বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদে আসার সময় ব্রায়ান ক্ষুব্ধ ও হতাশ ছিলেন। কিন্তু অভিযোগ নিয়ে আসার পরও তাঁকে সম্মান দেখানো, শান্তভাবে তাঁর কথা শোনা এবং অতিথির মতো আপ্যায়ন করার বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।   মসজিদে উপস্থিত মুসলিমদের আচরণে তাঁর প্রাথমিক ক্ষোভ ধীরে ধীরে কমে আসে। যে বিষয়টি নিয়ে তিনি অভিযোগ করতে এসেছিলেন, সেই আলোচনা একপর্যায়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় রূপ নেয়। এরপর ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসে বলে ঘটনাটির প্রকাশিত বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।   কথোপকথনের একপর্যায়ে ব্রায়ান ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি তিনি স্বেচ্ছায় নেন। তাঁকে জোর করা কিংবা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের তথ্য ঘটনাটির বর্ণনায় নেই।   পরে ব্রায়ান শাহাদাহ পাঠ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় ইসলামে বিশ্বাসের সাক্ষ্য উচ্চারণ করতে দেখা গেছে বলে প্রকাশিত বর্ণনায় জানানো হয়েছে। এই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি মানুষের নজর কাড়ে।   ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক হচ্ছে ব্রায়ানের মসজিদে যাওয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য। তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে কিংবা ধর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে যাননি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ঈদের সকালের নামাজের শব্দ নিয়ে নিজের অসন্তোষ জানানো।   কিন্তু অভিযোগ জানাতে গিয়ে যে ধরনের অভ্যর্থনা পেয়েছেন, সেটিই তাঁর অভিজ্ঞতাকে বদলে দেয়। ক্ষুব্ধ একজন প্রতিবেশী হিসেবে মসজিদে প্রবেশ করলেও সেখানে তাঁর অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয় এবং তাঁকে সম্মান ও আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করা হয়।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের আলাপের মধ্যেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ব্রায়ানের ক্ষোভ কমে আসে এবং সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের আচরণে তিনি মুগ্ধ হন। পরে ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শাহাদাহ পাঠ করেন তিনি।   ব্রায়ানের ইসলাম গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর গল্পও আলোচনায় আসে। অভিযোগ করতে আসা একজন বৃদ্ধের সঙ্গে মসজিদে উপস্থিত ব্যক্তিদের আচরণ এবং সেই সাক্ষাতের পর তাঁর ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তই ঘটনাটির প্রধান আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।   তবে ওই ১০ থেকে ১৫ মিনিটের আলোচনায় ঠিক কী কী বিষয়ে কথা হয়েছিল, তার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত তথ্যে নেই। ইসলাম সম্পর্কে ব্রায়ান আগে কতটা জানতেন কিংবা তাঁর আগে থেকেই ধর্মটি সম্পর্কে কোনো আগ্রহ ছিল কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   একইভাবে নামাজের শব্দ নিয়ে ব্রায়ানের মূল অভিযোগের বিষয়ে পরে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল, লাউডস্পিকারের শব্দ নিয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছিল কি না কিংবা মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাঁর অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো সমাধান দিয়েছিল কি না, সে তথ্যও প্রকাশিত বর্ণনায় উল্লেখ নেই।   সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, ব্রায়ান ঈদুল ফিতরের সকালের নামাজের শব্দ নিয়ে অভিযোগ জানাতে গোল্ড কোস্ট মসজিদে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে বসিয়ে কথা বলা হয়, খাবার দেওয়া হয় এবং সম্মানের সঙ্গে তাঁর অভিযোগ শোনা হয়। সেই অভিজ্ঞতার পরই তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শাহাদাহ পাঠ করেন।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
নিয়াদোল নিয়ুনের অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত
অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে ‘ঘুরে দাঁড়াতে’ ১৫০,০০০ লাখ ডলার সহায়তা চান শরণার্থী

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর এবার ১ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন আইনজীবী ও শরণার্থী অধিকারকর্মী নিয়াদোল নিয়ুন। নিজের জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো এবং ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে তিনি অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন।   গোফান্ডমিতে প্রকাশিত আবেদনে নিয়ুন জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে দীর্ঘ সময় আয় বন্ধ থাকায় তার মর্টগেজের বকেয়া, গৃহস্থালি বিল এবং অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ জমে গেছে। এমনকি বর্তমানে গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের ব্যয় বহন করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সময়ে একটি পেশাগত বিষয় নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছেন তিনি, যার বিস্তারিত আপাতত প্রকাশ করতে চান না। এই প্রক্রিয়া তার ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি করেছে বলেও জানিয়েছেন নিয়ুন।   তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগ্রহ করা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে ৫০ হাজার ডলার মর্টগেজের বকেয়া, জমে থাকা গৃহস্থালি বিল, ইউটিলিটি এবং গাড়ির ইন্স্যুরেন্সসহ জরুরি ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হবে। বাকি ১ লাখ ডলার ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার খরচে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব খরচের পর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে চলমান পেশাগত পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার আইনি ব্যয়ে তা ব্যবহার করা হবে বলে তহবিল সংগ্রহের পাতায় জানানো হয়েছে।   নিয়ুনের এই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে মূলত তার সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে। চলতি বছরের শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করছেন। একই সঙ্গে ২০২২ সালে মানবাধিকার ও শরণার্থী নারীদের জন্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া মেডেল ফেরত দেওয়ার উদ্যোগও নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, পদক থেকে তার পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে এবং নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।   ১৯৮৭ সালে ইথিওপিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া নিয়ুনের পরিবার দ্বিতীয় সুদানি গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়েছিল। শৈশবের একটি বড় সময় তিনি কেনিয়ার কাকুমা শরণার্থী শিবিরে কাটান। ২০০৫ সালে ১৮ বছর বয়সে শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পুনর্বাসিত হন। পরে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন থেকে আইন বিষয়ে জুরিস ডক্টর সম্পন্ন করেন। ধীরে ধীরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় মানবাধিকার, শরণার্থী অধিকার, বহুসংস্কৃতিবাদ এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ইস্যুতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।   অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ুন প্রকাশ্যে দ্বিধা ও হতাশার কথা বলেছেন। সেপ্টেম্বরে এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি অস্ট্রেলিয়াকে ভালোবাসেন, কিন্তু দেশটিকে আর নিজের ঘর বলে অনুভব করছেন না। এসব বক্তব্যের পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি ও ওয়ার্কসেফ ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নিজের পূর্ববর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো নিয়ুনের নিজস্ব দাবি এবং সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান রয়েছে। তাই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়, তার প্রকাশ্য বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটিতে দায়িত্ব পালনকালে নিয়ুন ওয়ার্কসেফ ভিক্টোরিয়ার অর্থায়নে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব ঘটনার পর ২০২৫ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এসব অভিজ্ঞতার প্রভাব নিজের জীবন ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সিদ্ধান্তের ওপর পড়েছে বলে তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে এটিও বলেছেন যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পুরো অস্ট্রেলিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করে না এবং দেশটির মানুষ ও সুযোগের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা রয়েছে।   নিয়ুনের নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি এখনো সম্পন্ন হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে কেউ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে তাকে অন্য একটি দেশের নাগরিক হতে হয় অথবা আবেদন অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হয়। নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট নবায়ন, বিদেশ থেকে ভিসা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ফেরা এবং বিদেশে অস্ট্রেলিয়ার কনস্যুলার সহায়তার মতো সুবিধা আর পান না।   অন্যদিকে, তহবিল সংগ্রহের আবেদনে নিয়ুন বলেছেন, তার লক্ষ্য এখন কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পাওয়া এবং ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থেকে নিজের পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগ দেওয়া। যারা আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারবেন না, তাদেরও তহবিল সংগ্রহের তথ্য শেয়ার করে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তার পক্ষে কাউকে যোগাযোগ বা মুখোমুখি না করতে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা যেন সম্মানজনক ও তার প্রকাশ্যে দেওয়া তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেই অনুরোধও করেছেন নিয়ুন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
উচ্চ ভবনে কাজের সময় ব্যবহৃত নিরাপত্তার দড়ি কেটে ফেললেন বৃদ্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী কমানোর বড় পরিকল্পনা বিরোধী জোটের, পরিবর্তনের প্রস্তাব শিক্ষার্থী ভিসায়

ক্ষমতায় গেলে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির বিরোধী লিবারেল ও ন্যাশনাল দলের জোট। মঙ্গলবার ঘোষিত প্রস্তাবে প্রথম দুই বছর বছরে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ১ লাখে নামানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর একে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসন কমানোর সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা বলে দাবি করেছেন।   নিট অভিবাসন বলতে নির্দিষ্ট সময়ে দেশে আসা ও দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যার পার্থক্য বোঝায়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আগের ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ায় এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০। বিরোধী জোটের পরিকল্পনায় প্রথম দুই বছর তা বছরে ১ লাখ এবং চতুর্থ বছরে ১ লাখ ৬০ হাজারে রাখার কথা বলা হয়েছে।   জোটের প্রকাশিত নীতিপত্রে চার বছরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। সংখ্যাটি চার বছরে দেওয়া নতুন ভিসা কমানোর হিসাব নয়। নীতিপত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি বছরে ২ লাখ ৪০ হাজারে সীমিত করা এবং টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা কর্মসূচি বন্ধের প্রস্তাবও আছে। তবে পিএইচডি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে অধ্যয়নরত এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর জন্য পড়াশোনার পর থাকার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।   মানবিক ভিসার বার্ষিক সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে ১০ হাজার করার প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী জোট। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে তারা। নীতিপত্র অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় পারিবারিক পুনর্মিলনের ভিসায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব নেই।   টেইলরের দাবি, অভিবাসীর সংখ্যা কমলে আবাসন, স্কুল, সড়ক ও অন্যান্য সেবার ওপর চাপ কমবে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য তাঁর জোটকে আগে ক্ষমতায় আসতে হবে। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে বা কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য মঙ্গলবারের ঘোষণায় ভিসার নিয়ম এখনই বদলে যায়নি।   সূত্র: বিরোধী জোটের নীতিপত্র, এএফপি ও রয়টার্স।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন ও সীমান্ত নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় নৌপথে আসা ৩০ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী পেলেন স্থায়ী ভিসা

অস্ট্রেলিয়ায় নৌপথে এসে আশ্রয় চাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার দ্য অস্ট্রেলিয়ান-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম নিউজ২৪ জানিয়েছে, রুড-গিলার্ড সরকারের সময় নৌপথে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের একটি বড় অংশকে এখন রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস বা আরএস (RoS) ভিসা দেওয়া হয়েছে।   তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা পাওয়া সবাই সাবেক টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা বা সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসাধারী নন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মানবিক সংকটের প্রেক্ষিতেও কিছু ভিসা দেওয়া হয়েছে।   রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা একটি স্থায়ী ভিসা। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে আসা এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা (TPV) ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা (SHEV) ধারীরা এই ভিসার জন্য যোগ্য হতে পারেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলবানিজ সরকার এই দুই ধরনের অস্থায়ী ভিসাধারীদের স্থায়ী ভিসার পথ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।   এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়া এই গোষ্ঠীর অনেকেই বছরের পর বছর অস্থায়ী ভিসায় দেশটিতে বসবাস করছিলেন। ২০২৩ সালের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ১৯ হাজারের বেশি টেম্পোরারি প্রোটেকশন ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসাধারীকে স্থায়ী রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে।   নতুন প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সেই প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষকে এখন পর্যন্ত স্থায়ী ভিসা দেওয়া হয়েছে। দ্য অস্ট্রেলিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ হাজারের বেশি রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে এই গোষ্ঠীর স্থায়ী ভিসা পাওয়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থায় রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য, চরিত্র ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আবেদনকারীদের অস্ট্রেলিয়ান ভ্যালুজ স্টেটমেন্টে স্বাক্ষর করতে হয়। এই ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনা করতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করার সুযোগ থাকে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ভিসা মূলত এমন ব্যক্তিদের জন্য, যারা ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা বা সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা ধারণ করতেন বা আবেদন করেছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে আগের আবেদনই রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার আবেদনে রূপান্তর করা হয়েছে।   এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী জোটের অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র জনো ডানিয়াম দাবি করেছেন, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসা দেওয়ার এই সংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত সুরক্ষা নীতিকে দুর্বল করছে। তিনি পুরোনো টেম্পোরারি প্রোটেকশন ভিসা ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা ব্যবস্থা পুনর্বহালেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।   অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকার অপারেশন সার্বভৌম বর্ডার্সের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অনিয়মিতভাবে নৌপথে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার নীতি পরিবর্তন করা হয়নি।   সরকার আরও জানিয়েছে, রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ভিসার সব অনুমোদন সাবেক টেম্পোরারি প্রোটেকশন ও সেফ হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ভিসা গোষ্ঠীর জন্য দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক মানবিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায়ও কিছু ক্ষেত্রে এই ভিসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয় এবং তাদের নিজ নিজ দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতিও মূল্যায়নের আওতায় থাকে।   সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, যাদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নেই, যারা কোনো পুনর্বিবেচনা বা বিচারিক পর্যালোচনার অপেক্ষায় নেই এবং অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সব বৈধ সুযোগ শেষ করে ফেলেছেন, তাদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার প্রত্যাশা করা হয়। প্রয়োজনে তাদের নিজ দেশে ফেরার জন্য সহায়তাও দেওয়া হতে পারে।   রেজল্যুশন অব স্ট্যাটাস ব্যবস্থা চালুর পেছনে আলবানিজ সরকারের যুক্তি ছিল, বহু বছর ধরে অস্থায়ী ভিসায় থাকা সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য একটি স্থায়ী ও সুস্পষ্ট অভিবাসন পথ তৈরি করা। ২০২৩ সালের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা স্থায়ীভাবে কাজ, ব্যবসা ও পড়াশোনা করতে পারবেন এবং যোগ্য হলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের পথেও যেতে পারবেন।   অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্যেও দেখা যায়, দেশটির ‘লিগ্যাসি ক্যাসলোড’ নামে পরিচিত নৌপথে আসা পুরোনো আশ্রয়প্রার্থী গোষ্ঠীর বিষয়ে সরকার এখনও বিভিন্ন ধরনের ভিসা ও অবস্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ৩০ হাজারের বেশি স্থায়ী ভিসা দেওয়ার তথ্যটি অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দ্য অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজ২৪।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ডেটায় এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় জবাবদিহির মুখে স্যাম অল্টম্যান
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ডেটায় এআই এজেন্টের অনুপ্রবেশ, জবাব দিতে সিনেটে স্যাম অল্টম্যান

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি পোর্টালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় এবার জবাব দিতে হবে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে। দেশটির সিনেটের একটি তদন্ত কমিটি অল্টম্যানকে প্রকাশ্য শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানিয়েছে। একই শুনানিতে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইকেও উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।   আগামী বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় এ শুনানি হওয়ার কথা। এআই প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা, তথ্যের স্বচ্ছতা, অস্ট্রেলিয়ার জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন শিল্পে এর প্রভাব এবং পানি ও জ্বালানি ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে সিনেট কমিটি। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংস্থা সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার অধীনে থাকা মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান প্রতিবেদন পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানান, ১৮ জুন ওপেনএআইয়ের গবেষণা দল অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি ওষুধ ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতে একটি অভ্যন্তরীণ মডেল ব্যবহার করছিল।   তথ্য খোঁজার সময় এআই এজেন্টটি বারবার বাধার মুখে পড়ে। এরপর সেটি ওই বাধা এড়িয়ে বিকল্প উপায়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত মেডিকেয়ারের একটি সরকারি পোর্টালের কিছু অংশে অননুমোদিত প্রবেশ করে। সেখানে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—দুই ধরনের ফাইলেই প্রবেশ করা হয়। সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এজেন্টটি একটি অভ্যন্তরীণ সার্ভারে ফাইল লেখার কাজও করেছিল। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।   তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার বা চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঘটনাটি যে পোর্টালে ঘটেছে সেখানে মূলত স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ও ব্যয়সংক্রান্ত অ-সংবেদনশীল তথ্য ছিল। একই সঙ্গে ফরেনসিক তদন্ত চলছে এবং সরকারি নেটওয়ার্কের আরও কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ জানান, ঘটনার পর ওপেনএআই সরকারকে জানাতে দীর্ঘ সময় নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানায় ওপেনএআই। সেটিও পাঠানো হয়েছিল সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ একটি পাবলিক মেইলবক্সে। পরে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়।   ঘটনাটি প্রকাশের দিনই অ্যালবানিজ স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা জানান এবং ঘটনাটি জানাতে এত দেরি হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অ্যালবানিজের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্টম্যানও স্বীকার করেছেন যে এ ঘটনায় ওপেনএআইয়ের প্রক্রিয়া যথেষ্ট ভালো ছিল না।   এরপর অস্ট্রেলিয়া ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে। এতে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী, এআই দপ্তর, অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেট, অস্ট্রেলিয়ান এআই সেফটি ইনস্টিটিউট এবং সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা রয়েছেন। ভবিষ্যতে এআই-সম্পর্কিত সাইবার ঘটনা মোকাবিলায় বর্তমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না এবং প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার আরও কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে একই ধরনের এআই কার্যক্রমের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যুরো অব ক্রাইম স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড রিসার্চ এবং ভিক্টোরিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু সিস্টেমও সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ নিশ্চিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো দেওয়া হয়নি।   সিনেটের আসন্ন শুনানিতে তাই এআই এজেন্টের স্বায়ত্তশাসিত কর্মকাণ্ড, সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এবং কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। শুনানির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও জবাবদিহির কাঠামো নিয়েও আরও তথ্য নিতে চাইছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
শ্রমিকসংকটের জরুরীভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
শ্রমিকসংকটের জরুরীভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

ফসল কাটার মৌসুমে শ্রমিকসংকটের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া জরুরি কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় কিছু বিদেশি কর্মীর ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি খাতের সংগঠনগুলো জরুরি প্রয়োজনের তথ্য তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট আবেদন অগ্রাধিকার পেতে পারে। এটি সবার জন্য নতুন ‘কৃষি ভিসা’ চালুর ঘোষণা নয়।    অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার যেসব আবেদনকারীর কৃষিকাজে নির্দিষ্ট দক্ষতা রয়েছে, কোনো নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজের চুক্তি হয়েছে এবং তিন মাসের মধ্যে তাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের আবেদন চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কৃষক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করবে বিভাগটি। অগ্রাধিকার পাওয়ার অর্থ ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়।    গমসহ শীতকালীন ফসল কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় কৃষক সংগঠনগুলো ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা, প্রয়োজনের সময় অভিজ্ঞ কর্মীরা পৌঁছাতে না পারলে ফসল সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জরুরি আবেদনগুলো দ্রুত দেখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।    বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য ভিসার ধরনটি আলাদা করে বোঝা জরুরি। কৃষিকাজের জন্য আবেদনে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই ব্যবস্থা কোনো উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নয়; শুধু কৃষিকাজে আগ্রহী হলেই এর আওতায় আবেদন করা যায় না। আবেদনকারীর নির্দিষ্ট ভিসার যোগ্যতা ও নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তির মতো শর্ত প্রযোজ্য। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের কৃষিকাজসংক্রান্ত নির্দেশনাতেও কাজের সুযোগগুলো ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা করে দেখানো হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে বিদেশি কৃষিশ্রমিকের ভিসা প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসায় শ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া

ফসল কাটার মৌসুম সামনে রেখে কৃষি খাতে জরুরি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের কিছু ভিসা আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে এটি আলাদা কোনো নতুন কৃষি ভিসা চালুর ঘোষণা নয়। ইতোমধ্যে Working Holiday Maker (WHM) ভিসার জন্য আবেদন করা এবং নির্দিষ্ট কৃষি প্রতিষ্ঠানে কাজের চুক্তি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের দ্রুত অস্ট্রেলিয়ায় আসা প্রয়োজন, তাদের আবেদন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতের সংগঠন গ্রেইন প্রডিউসারস অস্ট্রেলিয়া (জিপিএ) বিষয়টি জানায়। সংগঠনটি বলেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গম, বার্লি ও ক্যানোলার ফসল কাটার মৌসুম শুরু হবে। এই সময়ে দেশের অনেক খামার অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে।   অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশন (এনএফএফ) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে আলোচনার পর জরুরি ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্যভিত্তিক কৃষি সংগঠন ও পণ্যভিত্তিক কৃষি সংগঠনগুলো জরুরি আবেদনগুলো চিহ্নিত করে স্বরাষ্ট্র বিভাগে পাঠাতে সহায়তা করবে।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় এমন আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেখানে আবেদনকারী ইতোমধ্যে Working Holiday Maker ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো খামারে কৃষিকাজের জন্য নিয়োগ বা চুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং তার সময়মতো অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানো ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, কৃষি খাতে বিশেষ দক্ষতা থাকা এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় প্রয়োজন এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করতে তারা ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশনের সঙ্গে কাজ করবে।   তবে অগ্রাধিকার পাওয়ার অর্থ ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। প্রতিটি আবেদন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। একইভাবে, নতুন প্রক্রিয়ার আওতায় আবেদন পাঠালেই দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ বা ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা থাকছে না।   কৃষি খাতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ধীরগতির কারণে। অস্ট্রেলিয়ায় Working Holiday Maker ভিসায় আসা বিদেশিরা বিশেষ করে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ এলাকায় ফল সংগ্রহ, ফসল কাটা এবং অন্যান্য মৌসুমি কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশি কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে এবং ফসল কাটার ব্যস্ত মৌসুমে তাদের ওপর অনেক খামারের নির্ভরতা বেড়ে যায়।   সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া Working Holiday Maker কর্মসূচির নিয়ম ও ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। অভিবাসন কমানোর বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের গতি কমে যাওয়ায় কৃষি খাতের সংগঠনগুলো শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। কিছু দেশের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিতও রাখা হয়েছিল।   এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়, কারণ ফল ও শস্য সংগ্রহের মতো কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়া গেলে ফসল সময়মতো বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে কৃষি সংগঠনগুলো সরকারের কাছে জরুরি আবেদনগুলো আলাদা করে দ্রুত বিবেচনার অনুরোধ জানায়।   গ্রেইন প্রডিউসারস অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ম্যাথিউ ম্যাডেন সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা একটি সমাধানের পথ তৈরি করেছে এবং এখন কৃষকদের কাছে ফসল কাটার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিকদের অস্ট্রেলিয়ায় আনার একটি কার্যকর উপায় তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, প্রতিদিন কতটি আবেদন প্রক্রিয়া করা সম্ভব হবে এবং দ্রুত অনুমোদনের নিশ্চয়তা কতটা থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   এনএফএফের প্রধান নির্বাহী মাইকেল গুয়েরিনও বলেছেন, জরুরি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে তিনি এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন না। কৃষি খাতে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভবিষ্যতে অভিবাসন ব্যবস্থার আরও বিস্তৃত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।   অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে Working Holiday Maker ভিসাধারীদের অবদান সরকার স্বীকার করে। বিশেষ করে আঞ্চলিক এলাকায় কৃষি খাতে নির্দিষ্ট দক্ষতা নিয়ে কাজ করা কিছু বিদেশি কর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন কর্মীদের প্রয়োজনের সময় অস্ট্রেলিয়ায় আনার সুযোগ তৈরি করাই লক্ষ্য।   অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, Working Holiday Maker ভিসার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা কৃষি খাতে কাজ করতে পারেন। নির্দিষ্ট কৃষিকাজের সময়সীমা পূরণ করলে কিছু ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা তৃতীয় মেয়াদের ভিসার জন্যও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   তবে বর্তমান বিশেষ ব্যবস্থাটি মূলত ইতোমধ্যে আবেদন করা এবং জরুরি কৃষি শ্রমের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় কৃষিকাজের জন্য নতুন করে ভিসা আবেদন করলেই এই বিশেষ অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   ফসল কাটার মৌসুম যত এগিয়ে আসছে, অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতে এই অগ্রাধিকার ব্যবস্থা কতটা শ্রমিক সংকট কমাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন কৃষক ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’
অস্ট্রেলিয়ার পর্দায় বাংলাদেশের ‘মাস্টার’, এবার হাইকমিশনের পোস্টেও প্রশংসা

বাংলাদেশের গল্প ও চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক যাত্রা তুলে ধরে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’ নিয়ে পোস্ট করেছে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন। শুক্রবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিটির সিডনি ও মেলবোর্নের দুই গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের কথা তুলে ধরে হাইকমিশন লিখেছে—“Bangladeshi voices. Australian screens”, অর্থাৎ ‘বাংলাদেশের কণ্ঠ, অস্ট্রেলিয়ার পর্দায়’।   পোস্টে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন জানায়, সুমিতের ‘মাস্টার’ সম্প্রতি সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দর্শকদের কাছে জানতে চেয়েছে—চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মানুষ বাংলাদেশের কোন বিষয়টি জানুক, সেটি তারা দেখতে চান?   অস্ট্রেলিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল তথ্যেও ‘মাস্টার’-এর প্রদর্শনী নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২৬ মিনিটের বাংলা ভাষার ছবিটি ৭৩তম সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার করে। উৎসব কর্তৃপক্ষ ছবিটিকে বাংলাদেশের ছোট একটি শহরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সংঘাত নিয়ে নির্মিত রাজনৈতিক ড্রামা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়।   সিডনির পর আগস্টে ছবিটি জায়গা করে নেয় মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। সেখানে এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগে ছবিটি প্রদর্শিত হয় এবং এটি ছিল ছবিটির ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ার। মেলবোর্ন উৎসবের বর্ণনায় ‘মাস্টার’-কে একজন আদর্শবাদী গ্রামীণ শিক্ষক রাজনীতিতে প্রবেশের পর ক্ষমতা, প্রভাব ও দুর্নীতির চাপে কীভাবে বদলে যান—সেই গল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহির। তিনি একজন শিক্ষক, যিনি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হন। কিন্তু রাজনীতিতে প্রবেশের পর ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক প্রভাবশালী, স্থানীয় সন্ত্রাসী, পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন চাপের মুখোমুখি হতে থাকেন। জাহির চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবুসহ অন্যরা।   অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর আগেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বড় স্বীকৃতি পেয়েছে ‘মাস্টার’। চলতি বছরের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জেতে ছবিটি। রটারডাম উৎসবের অফিসিয়াল তথ্যেও ২০২৬ সালের বিজয়ী হিসেবে ‘মাস্টার’-এর নাম রয়েছে।   সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটির নির্বাচনের সময় সুমিত বলেছিলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতির গভীরে থাকা একটি ছোট গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারা তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকা হোক কিংবা বড় আন্তর্জাতিক শহর—ক্ষমতার প্রভাব, নৈতিকতা ধরে রাখার সংগ্রাম এবং এর মানবিক মূল্য সর্বজনীন বিষয়।   অস্ট্রেলিয়ার এসবিএস বাংলাও সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সময় সুমিত ও ‘মাস্টার’ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় রাজনীতির মধ্য দিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা, ক্ষমতা, প্রভাব ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো ছবিটিতে উঠে আসার কথা বলা হয়।   এবার অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে ছবিটির আন্তর্জাতিক যাত্রা তুলে ধরায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে হাইকমিশনের ‘বাংলাদেশের কণ্ঠ, অস্ট্রেলিয়ার পর্দায়’ বার্তাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিচিতি বাড়ানোর দিকটিও সামনে এনেছে।   সূত্র: অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন, বাংলাদেশ; সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডাম; এসবিএস অস্ট্রেলিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা হ্যাক করেছে এআই এজেন্ট

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। গত জুনে ঘটানো এই ঘটনায় এআই এজেন্টটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কিছু ফাইল অ্যাক্সেস করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার তথ্য বা রোগীর ব্যক্তিগত নথি অ্যাক্সেস করা হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যালবানিজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ১৮ জুন ঘটেছিল এবং Services Australia পরিচালিত Medicare Statistics Reporting Service নামের একটি সরকারি পোর্টালে এআই এজেন্টটি অননুমোদিত প্রবেশ করে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা এতে প্রভাবিত হয়েছে কি না, তা জানতে অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের সহায়তায় ফরেনসিক তদন্ত চলছে।   অস্ট্রেলীয় সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি মূলত মেডিকেয়ার কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার মতো তথ্যের পরিবর্তে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচির গড় হিসাব, প্রবণতা ও পরিসংখ্যান রাখা হয়। এর মধ্যে বাল্ক বিলিং, টিকাদান, ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিটস স্কিম এবং অঙ্গদাতা-সংক্রান্ত কিছু সামগ্রিক তথ্যও ছিল।   অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, এআই এজেন্টটি শুধু প্রকাশ্য তথ্যই দেখেনি, এমন কিছু ফাইলেও প্রবেশ করেছিল যেগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত ছিল না। তবে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য এতে প্রকাশ বা চুরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার বিষয়ে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি জানান, ঘটনাটি জুনে ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটি আগস্টে বিষয়টি শনাক্ত করে। সে সময় কোম্পানিটি তাদের এআই মডেলগুলোর কার্যক্রম নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালাচ্ছিল। সেই পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবার সঙ্গে মডেলগুলোর অস্বাভাবিক কার্যক্রমের বিষয়টি তাদের নজরে আসে।   ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মডেলগুলো অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও পরিসংখ্যান খুঁজতে গিয়ে সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবাগুলোতে এমন কিছু কাজ করেছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশিত আচরণের মধ্যে ছিল না। কোম্পানিটি পরে ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলীয় সরকারকে বিষয়টি জানায়।   অস্ট্রেলীয় সরকারের কাছে ঘটনাটি জানানোর সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অ্যালবানিজ বলেছেন, জুনে ঘটনা ঘটার পর সেপ্টেম্বর ১০ তারিখে সরকারকে জানানো পর্যন্ত প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। তিনি এই দেরিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।   সরকারি তথ্যমতে, এআই এজেন্টটি মূলত অস্ট্রেলিয়ায় ওষুধের সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজছিল। একটি সাধারণ গবেষণামূলক কাজের অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানের সময় এজেন্টটি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যানের পোর্টালে যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য সরাসরি না পাওয়ার পর এটি এমন কিছু ফাইলে প্রবেশ করে, যেগুলো সাধারণভাবে উন্মুক্ত থাকার কথা ছিল না।   ঘটনাটিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মূলত এআই এজেন্টগুলোর স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সক্ষমতার কারণে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য সংরক্ষণকারী কোনো ব্যবস্থা নয়। তবু একটি এআই এজেন্ট কীভাবে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সক্ষম হলো, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ব্যবস্থার আরও কয়েকটি ওয়েবসাইট এ ধরনের কার্যক্রমের আওতায় এসেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি অস্ট্রেলীয় সরকার বা ওপেনএআই।   এ ঘটনার সময়ের কাছাকাছি ওপেনএআইয়ের কিছু এআই এজেন্টের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারের বিষয়ও সামনে এসেছে। এবিসি নিউজের পৃথক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু এআই এজেন্ট সরকারি স্বাস্থ্যতথ্য পাওয়ার উপায় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিল এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধা এড়িয়ে তথ্য খোঁজার চেষ্টা করেছিল। তবে ওই কার্যক্রম এবং মেডিকেয়ার পোর্টালে অননুমোদিত প্রবেশ একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ প্রচলিত সাইবার হামলার ক্ষেত্রে সাধারণত মানুষ বা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামকে আক্রমণ পরিচালনা করতে দেখা যায়। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে তার নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এই ঘটনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।   অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এখন ঘটনার পূর্ণ পরিধি, কোন কোন ফাইল অ্যাক্সেস করা হয়েছিল এবং সরকারি অন্য কোনো ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত রোগী বা মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য অ্যাক্সেসের প্রমাণ নেই। তবে ফরেনসিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে না।   সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এবিসি নিউজ, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান

অস্ট্রেলিয়ার ব্লু মাউন্টেনস এলাকায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় নিজের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় তার আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী ওই মাকে এই ঘটনার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার শরীরেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা তিনি নিজেই করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   রোববার সকালে ভ্যালি হাইটস শহরের একটি ফাঁকা জায়গায় পার্ক করা গাড়ির কাছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান পথচারী সাইক্লিস্টরা। তারা দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।   ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুলি সুক্কার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ঝোপের মধ্যে এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং গাড়ির সিটে একটি ছোট শিশু ছিল। সেখানে আরেক নারীকে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখেন তিনি। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে সেখানে মোট তিনটি শিশু ছিল এবং উপস্থিত সবাই তাদের সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।   অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী পুরো দৃশ্যটিকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহত শিশুদের বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মা ও তার বেঁচে থাকা দুই শিশুকে ওয়েস্টমিড হাসপাতাল এবং চিলড্রেনস হসপিটাল অ্যাট ওয়েস্টমিডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠলে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে। গাড়ি থামিয়ে ওই নির্জন স্থানে কেন এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো তদন্তকারীদের জানা নেই।   তিনি আরও জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ওই এলাকায় এটিসহ মোট চারটি পৃথক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা তার পুলিশি ক্যারিয়ারের অন্যতম মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ওয়াগাতে এক যুবক তার প্রেমিকাকে, বন্ডাই বিচে এক নাতি তার দাদিকে এবং মোল রিভারে এক ছেলে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্তদের কারো বিরুদ্ধেই আগে থেকে পারিবারিক সহিংসতার কোনো পূর্ব-রেকর্ড ছিল না।   ভয়াবহ এই সপ্তাহান্তের পর অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক সহিংসতা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০