সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:৩৬
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান

অস্ট্রেলিয়ার ব্লু মাউন্টেনস এলাকায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় নিজের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় তার আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী ওই মাকে এই ঘটনার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার শরীরেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা তিনি নিজেই করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

রোববার সকালে ভ্যালি হাইটস শহরের একটি ফাঁকা জায়গায় পার্ক করা গাড়ির কাছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান পথচারী সাইক্লিস্টরা। তারা দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুলি সুক্কার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ঝোপের মধ্যে এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং গাড়ির সিটে একটি ছোট শিশু ছিল। সেখানে আরেক নারীকে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখেন তিনি। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে সেখানে মোট তিনটি শিশু ছিল এবং উপস্থিত সবাই তাদের সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।

 

অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী পুরো দৃশ্যটিকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহত শিশুদের বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মা ও তার বেঁচে থাকা দুই শিশুকে ওয়েস্টমিড হাসপাতাল এবং চিলড্রেনস হসপিটাল অ্যাট ওয়েস্টমিডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠলে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে। গাড়ি থামিয়ে ওই নির্জন স্থানে কেন এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো তদন্তকারীদের জানা নেই।

 

তিনি আরও জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ওই এলাকায় এটিসহ মোট চারটি পৃথক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা তার পুলিশি ক্যারিয়ারের অন্যতম মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ওয়াগাতে এক যুবক তার প্রেমিকাকে, বন্ডাই বিচে এক নাতি তার দাদিকে এবং মোল রিভারে এক ছেলে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্তদের কারো বিরুদ্ধেই আগে থেকে পারিবারিক সহিংসতার কোনো পূর্ব-রেকর্ড ছিল না।

 

ভয়াবহ এই সপ্তাহান্তের পর অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক সহিংসতা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান

অস্ট্রেলিয়ার ব্লু মাউন্টেনস এলাকায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় নিজের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় তার আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী ওই মাকে এই ঘটনার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার শরীরেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা তিনি নিজেই করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   রোববার সকালে ভ্যালি হাইটস শহরের একটি ফাঁকা জায়গায় পার্ক করা গাড়ির কাছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান পথচারী সাইক্লিস্টরা। তারা দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।   ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুলি সুক্কার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ঝোপের মধ্যে এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং গাড়ির সিটে একটি ছোট শিশু ছিল। সেখানে আরেক নারীকে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখেন তিনি। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে সেখানে মোট তিনটি শিশু ছিল এবং উপস্থিত সবাই তাদের সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।   অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী পুরো দৃশ্যটিকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহত শিশুদের বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মা ও তার বেঁচে থাকা দুই শিশুকে ওয়েস্টমিড হাসপাতাল এবং চিলড্রেনস হসপিটাল অ্যাট ওয়েস্টমিডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠলে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে। গাড়ি থামিয়ে ওই নির্জন স্থানে কেন এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো তদন্তকারীদের জানা নেই।   তিনি আরও জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ওই এলাকায় এটিসহ মোট চারটি পৃথক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা তার পুলিশি ক্যারিয়ারের অন্যতম মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ওয়াগাতে এক যুবক তার প্রেমিকাকে, বন্ডাই বিচে এক নাতি তার দাদিকে এবং মোল রিভারে এক ছেলে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্তদের কারো বিরুদ্ধেই আগে থেকে পারিবারিক সহিংসতার কোনো পূর্ব-রেকর্ড ছিল না।   ভয়াবহ এই সপ্তাহান্তের পর অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক সহিংসতা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:৩৬
এবার মার্কিন হামলা হলে নতুন অস্ত্রের শক্তি দেখাবে ইরান, চমকে যেতে পারে বিশ্ব

এবার মার্কিন হামলা হলে নতুন অস্ত্রের শক্তি দেখাবে ইরান, চমকে যেতে পারে বিশ্ব

অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার গড়তে শুরুতে পিজা ডেলিভারির কাজ বেছে নেন এক ভারতীয় তরুণ। ছবি: সংগৃহীত

পিজা ডেলিভারি থেকে ৩ রেস্টুরেন্টের মালিক! ভারতীয় যুবকের ১১ বছরের যাত্রা

গুজরাট স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হয়েছেন দীপু কংওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ঘরের কাজ বাদ দিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলতেন শ্বশুর, গৃহবধূ আজ সিভিল জজ

তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উদ্ধার হওয়া ২ হাজার বছরের পুরোনো রোমান মোজাইক। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে মিলল বিরল রোমান মোজাইক, লেখা ২ হাজার বছর আগের পোষা প্রাণীর নাম

তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি বিরল রোমান মোজাইক আবিষ্কৃত হয়েছে। মোজাইকটিতে বিভিন্ন প্রাণী ও পৌরাণিক চরিত্রের পাশাপাশি একটি বিড়াল ও একটি কুকুরের নামও লেখা রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, প্রাণী দুটি ওই বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   মোজাইকটি প্রাচীন বন্দরনগরী আদ্রামিত্তেয়নের নিচে থাকা একটি রোমান ভিলার ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগ অথবা তৃতীয় শতাব্দীর সময়কার। ভিলাটির কেন্দ্রস্থলে থাকা মোজাইকটির আকার প্রায় ১৬ দশমিক ৪ ফুট বাই ১১ দশমিক ৮ ফুট।   মোজাইকটি মোট ১৫টি পৃথক দৃশ্য নিয়ে তৈরি। এতে পাখি, মাছ, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী এবং পৌরাণিক চরিত্রের ছবি রয়েছে। এর কেন্দ্রীয় অংশে সাপের মতো চুলওয়ালা পৌরাণিক চরিত্র গর্গন মেডুসার ছবিও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তবে মোজাইকের অসংখ্য প্রাণীর মধ্যে মাত্র দুটি প্রাণীর নাম লেখা হয়েছে। একটি বিড়ালের নাম ‘এমেরাল্ড’ এবং একটি কুকুরের নাম ‘ওশান’। বিড়ালটিকে নীল-সবুজ রঙের একটি কুশনের ওপর আরাম করে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার ওপরে গ্রিক ভাষায় ‘এমেরাল্ড’ নামটি লেখা রয়েছে।   মিমার সিনান ফাইন আর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের আদ্রামিত্তেয়ন গবেষণা দলের প্রধান হুসেইন ওজগেনের গবেষণা অনুযায়ী, নামটি ইঙ্গিত করে যে এমেরাল্ড শুধু মোজাইকের অলংকার হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং প্রাণীটি ওই বাড়ির মানুষের কাছে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার মতে, বিড়ালটিকে পথের কোনো বেওয়ারিশ প্রাণী হিসেবে দেখানোর চেয়ে পরিবারের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   গবেষণায় এমেরাল্ড নামটির সম্ভাব্য একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন রোমান যুগে রোমান মিসরের মরুভূমি অঞ্চলে পান্না উত্তোলন করা হতো। এ কারণে ভিলাটির মালিকের উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকা কোনো ব্যবসায়ী হতে পারেন বলে ওজগেন ধারণা করেছেন।   অন্যদিকে কুকুর ‘ওশান’-কে মোজাইকে আরও প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে দেখানো হয়েছে। ছবিতে কুকুরটিকে দৌড়ানো বা লাফানোর মাঝামাঝি অবস্থায় দেখা যায়। তার পাশে গ্রিক ভাষায় ‘ওশান’ নামটি লেখা রয়েছে।   ওজগেনের ধারণা, কুকুরটির নামও বিশেষ কোনো কারণে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। আদ্রামিত্তেয়ন শহরটি সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ‘ওশান’ নামটি শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।   তবে এমেরাল্ড ও ওশানকে আধুনিক অর্থে পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা হতো কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। গবেষকের মতে, প্রাণী দুটি ওই ভিলার আশপাশে নিয়মিত দেখা যেত এবং সেখানকার মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। সেই কারণেই তাদের মোজাইকে আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়ে থাকতে পারে।   হুসেইন ওজগেন ২০১২ সাল থেকে আদ্রামিত্তেয়নে খননকাজ পরিচালনা করছেন। তবে রোমান ভিলাটি সম্প্রতি শনাক্ত করা হয়। ২০২৫ সাল এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সেখানে খননকাজ চালিয়ে এই মোজাইকসহ গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে।   প্রাচীন শহরটিতে এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চলছে। ফলে মাটির নিচে আরও নিদর্শন ও প্রাচীন জীবনযাত্রার নানা তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:৩৬
গুজরাটের প্রত্যন্ত কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে বড় হীরা ব্যবসায়ী হয়েছেন সাভজি ধোলাকিয়া। ছবি: সংগৃহীত

১৩ বছরেই স্কুল ছাড়েন, কর্মীদের ১,২৬০ গাড়ি ও ৪০০ ফ্ল্যাট উপহার দিয়ে আলোচনায় ভারতীয় ব্যবসায়ী

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে এরদোগানের ১৬তম ভাষণ, গুরুত্ব পাচ্ছে গাজা ও ফিলিস্তিন

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে এরদোগানের ১৬তম ভাষণ, গুরুত্ব পাচ্ছে গাজা ও ফিলিস্তিন

ইরানে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফরাসি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা

ইরানে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফরাসি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে
নেপালে বন্যার এক মাস পরও নিখোঁজ ৬ হাজার, মৃ তের সংখ্যা ছাড়াল ১,৪৫০

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় শুরু হওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো খোঁজ মেলেনি প্রায় ৬ হাজার মানুষের। রোববার দেশটির কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃ তের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়ে গেছে। ভোতেকোশি নদীর তীব্র স্রোতে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, গাড়ি ও সেতু ভেসে যায়। এর ফলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন, যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতেও।   রোববার নেপাল পুলিশের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চলমান উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আরও ম র দে হ পাওয়ায় মোট মৃ তের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চিতওয়ান জেলায়, যেখানে ৩৬৭ জনের ম র দে হ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া রাসুয়ায় ২৩৬ জন, পূর্ব নাওয়ালপরাসিতে ২৩২ জন এবং পশ্চিম নাওয়ালপরাসিতে ২২২ জনের ম র দে হ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নুওয়াকোট, গোর্খা, ধাদিং ও তানাহু জেলা থেকেও বহু মানুষের ম র দে হ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।   ভয়াবহ এই দুর্যোগের এক মাস পরও নিখোঁজ থাকা প্রায় ৬ হাজার মানুষের সন্ধানে নদীর তীরবর্তী এলাকা, পলিমাটি জমে থাকা স্থান এবং ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে চিরুনি তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকর্মীরা। রাসুয়ার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে মাটি ও রডের জালের নিচ থেকে ১৭টি ম র দে হ উদ্ধারের জন্য গ্যাস কাটার ও গ্রাইন্ডারের মতো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে এই কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ম র দে হ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া। পানিতে ভেসে থাকা অধিকাংশ ম র দে হ পচে গলে বা খণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় চেনার উপায় থাকছে না। এখন পর্যন্ত ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ম র দে হ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে মাত্র ১১০টি ম র দে হ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে।   বন্যার ভয়াল থাবায় নেপালের বন্যাদুর্গত অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ঘরবাড়ি ও সম্বল হারিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলো এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙা সেতু এবং রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ শুরু করলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারঘাট, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৮:২৫
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও

এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও

ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে ঘিরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা

ইমরান খানের বোনকে গ্রে প্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের আগে পাকিস্তানে উত্তেজনা

যুদ্ধের ধাক্কায় ইরানে পেট্রল সংকট, স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি

পেট্রল সংকটে বিপর্যস্ত ইরান, দাম দ্বিগুণের পথে: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

0 Comments