সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আন্তর্জাতিকসংবাদ

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প
যুদ্ধ থামাতে আলোচনার প্রস্তাব ইরানের, হরমুজ চুক্তি নাকচ করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সংঘাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র পথ। তাঁর এই বক্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর।   ইরান সম্প্রতি প্রস্তাব দিয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং সংঘাত বন্ধে আলোচনা আবার শুরু করা যাবে। প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়।   তবে শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান খুব কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বলেই দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলতে চুক্তি করতে চাইছে।   এর জবাবে আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে তেহরান অবগত হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো পায়নি। তাই আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।   আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার শর্তগুলো আগের মতোই রয়েছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো ছিল, সেগুলোকেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখছে তেহরান।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস দূর না হলে সফল আলোচনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জুনের সমঝোতা স্মারক ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত।   তবে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন—তেহরান চায় ওয়াশিংটন নিশ্চিত করুক যে ইরানের সরকার পরিবর্তনের কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করায় জুনের সমঝোতার ওপর আস্থা নষ্ট হয়েছে।   হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে যায়। সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।   সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে ওমান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব পক্ষকে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার ইরানের প্রস্তাবকে ‘অর্ধেক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্পের তা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও দাবি করেছেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির ওপর চাপ তৈরি করছে।   তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে। কারণ ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর এর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে আগ্রহ
শি-ট্রাম্প মুখোমুখি, বৈঠকের বাইরেও যে প্রশ্নে নজর বিশ্বের

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন শি জিনপিং। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান, ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই নেতার আলোচনার কথা রয়েছে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের সফর উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান, সামরিক প্রদর্শনী এবং বিশেষ উড়োজাহাজ মহড়া। ফলে দুই নেতার বৈঠক কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজনেরও কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে।   এই সফরের আগে দুই নেতার বয়স ও শারীরিক সুস্থতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৭৩ বছর বয়সী শি জিনপিংকে ঘিরে সম্প্রতি স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের একটি নৈশভোজে তিনি উপস্থিত না থাকায় এবং পরে কয়েক দিন প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে গুরুতর অসুস্থতার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও শি অসুস্থ হওয়ার দাবি নাকচ করে এসব পোস্টকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে।   অন্যদিকে ৮০ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াল্টার রিডে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর ট্রাম্প নিজেকে ‘পুরোপুরি সুস্থ’ বলে দাবি করেছেন। তার বয়স নিয়ে যে ধরনের আলোচনা হচ্ছে, একই ধরনের যাচাই-বাছাই সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছিল।   দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক যতটা কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই সামনে আসছে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রশ্ন। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা নেতারা যখন বয়সের শেষ প্রান্তে পৌঁছাচ্ছেন, তখন তারা ভবিষ্যতে কখন নেতৃত্ব থেকে সরে যাবেন এবং তাদের পরবর্তী নেতৃত্ব কেমন হবে—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।   আর এখানেই বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ বিশ্বের কিছু ক্ষমতাধর নেতা দীর্ঘ সময় ক্ষমতার শীর্ষে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন। ফলে তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নয়, নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার হস্তান্তর এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
রিয়াদে হামলার পর নতুন শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে সাবওয়ে ট্রেনের নিচে দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু
বন্ধুকে বাঁচাতে রেললাইনে নেমেছিলেন তরুণী, নিউইয়র্কে ট্রেনের নিচে দুজনের মৃ ত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্রেনের ধা ক্কায় ২৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণী ও তার বন্ধুর মৃ ত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার আগে রেললাইনে তাদের অবস্থানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নি হতরা হলেন নিউ জার্সির ডেটন এলাকার মালাইকা চিত্রে এবং সেয়ারভিল এলাকার নাভাম কৌল। দুজনই একসময় রাটগার্স ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৩টা ১৫ মিনিটের কিছু পর স্প্রিং স্ট্রিট স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় দক্ষিণমুখী ৪ নম্বর ট্রেনটি স্টেশনে ঢুকছিল। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির (এমটিএ) প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেনের চালক রেললাইনে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে বসে থাকতে দেখেন। ট্রেনটি তাদের কাছে পৌঁছানোর সময় ওই নারীকে পুরুষটিকে নিজের দিকে টানতে দেখা যায়। কীভাবে দুজন রেললাইনে চলে গেলেন এবং প্রথমে কে সেখানে নেমেছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাভাম কৌল হয়তো প্রথমে রেললাইনে পড়ে যান বা সেখানে চলে যান। এরপর তাকে সাহায্য করতে মালাইকা চিত্রে রেললাইনে নেমেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রেন আসার কিছুক্ষণ আগে মালাইকাকে নাভামকে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ট্রেনটি এগিয়ে আসার সময় দুজনকে রেললাইনে দেখা যায়। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে ওই ভিডিওও তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার সময় দুজনের কেউ মদ্যপ বা অন্য কোনোভাবে নে শা গ্র স্ত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আ ত্ম হ ত্যা র নোট পাওয়া যায়নি। তাদের রেললাইনে যাওয়ার পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে। ট্রেনের চালক দুজনকে দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করেছিলেন। তবে ততক্ষণে ট্রেনটি থামানো সম্ভব হয়নি। ট্রেনের ১০টি বগির মধ্যে চারটি স্টেশনে ঢোকার পর সেটি থামে। ট্রেনের ধা ক্কায় ঘটনাস্থলেই মালাইকা ও নাভামের মৃ ত্যু হয়। পরে ট্রেনের তৃতীয় ও চতুর্থ বগির নিচ থেকে তাদের ম র দে হ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে প্রায় ১০০ যাত্রী ছিলেন। পরে তাদের প্ল্যাটফর্মে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাটগার্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, নাভাম কৌল ২০২০ সালের শরৎকাল থেকে ২০২৪ সালের বসন্তকাল পর্যন্ত রাটগার্স বিজনেস স্কুলে পড়াশোনা করেন। অন্যদিকে মালাইকা চিত্রে ২০২৪ সালের মে মাসে রাটগার্স-নিউ ব্রান্সউইক থেকে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। দুজনের মৃ ত্যুতে শোক জানিয়েছে রাটগার্স ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ ও গণমাধ্যমবিষয়ক সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডরি ডেভলিন বলেন, সাবেক দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ ত্যুর খবর জানতে পেরে তারা গভীরভাবে শোকাহত।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
কোহাটে পুলিশ কমপ্লেক্সের মসজিদের কাছে বোমা হামলায় নিহত অন্তত ১৬
পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদে বো মা হা ম লা, নি হত অন্তত ১৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে পুলিশ কমপ্লেক্সের ভেতরের একটি মসজিদের কাছে আ ত্ম ঘা তী গাড়ি বো মা হা মলায় অন্তত ১৬ জন নি হত হয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় চালানো এই হা মলায় নি হতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আ হ ত হয়েছেন অন্তত ৫৭ জন। পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হা মলার পর ঘটনাস্থলে গু লি বি নি ময়ও হয়েছে।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বি স্ফো র ক বোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ কমপ্লেক্সের বাইরের দেয়ালে ধাক্কা দেওয়ার পর বি স্ফো র ণ ঘটে। ওই সময় কমপ্লেক্সের ভেতরের মসজিদে পুলিশ সদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায় করছিলেন। বি স্ফো র ণের পর কয়েকজন স শ স্ত্র হা ম লা কারী কমপ্লেক্সে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গু লি বি নি ময় শুরু হয়।   খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ জানিয়েছেন, এটি একটি আ ত্ম ঘা তী হা ম লা ছিল। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আরও এক আ ত্ম ঘা তী হা ম লা কারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে বি স্ফো র ণ ঘটায়। হা মলায় জড়িত সাতজন হা ম লা কারী নি হত হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে কোনো গোষ্ঠী তাৎক্ষণিকভাবে হা ম লার দায় স্বীকার করেনি।   বি স্ফো র ণে মসজিদ ও আশপাশের স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে ভবনের দেয়াল ও মসজিদের অংশবিশেষ ধসে পড়তে দেখা গেছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আ হ তদের বের করে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠায়। আ হ তদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   হা ম লার পর স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় হ তা হ তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে নি হ তের সংখ্যা কম ছিল, পরে কর্মকর্তারা তা ১৬ জনে উন্নীত করেন। ফলে পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল।   আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স শ স্ত্র হা ম লার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং তাদের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হা ম লা নিয়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তবে শুক্রবারের হা ম লার দায় কোনো গোষ্ঠী নিয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এই হা ম লার এক দিন আগেই একই প্রদেশের হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িবহরে রাস্তার পাশে বো মা হা মলায় ছয় সেনা নি হত হন। এরপর পাকিস্তানি বাহিনী হাঙ্গু ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ১০ জন সন্দেহভাজন জ ঙ্গিকে হ ত্যার করার কথা জানিয়েছিল। এসব ঘটনার পর অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   কোহাটের এই হা ম লা পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা স্থাপনার সঙ্গে থাকা মসজিদগুলো কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে। ২০২৩ সালে খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশোয়ারের একটি পুলিশ কমপ্লেক্সের মসজিদে আ ত্ম ঘা তী হা ম লায় শতাধিক মানুষ নি হত হয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পুলিশ সদস্য।   পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান সহিংসতার মধ্যে শুক্রবারের হা ম লাটি সর্বশেষ বড় প্রাণঘাতী ঘটনা। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান ও তল্লাশি চালাচ্ছে এবং হা ম লার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
পর কীয়ার অভিযোগে ১০০ বেত্রা ঘাতের শাস্তি
পর কীয়ার অভিযোগে প্রেমিক যুগলকে ১০০ বেত্রা ঘাত, ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে নারী

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহতে পর কীয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক নারী ও এক পুরুষকে প্রকাশ্যে ১০০টি করে বেত্রা ঘাত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাদের এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।   বেত্রা ঘাতের সময় ওই নারী ব্যথায় কাতর হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে কর্মকর্তারা তাকে ধরে দাঁড় করান।   পুরুষটির ক্ষেত্রেও ৬০টি বেত্রা ঘাত দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে কিছু সময়ের জন্য শাস্তি স্থগিত রাখা হয়। পরে তাকে বিশ্রামের সুযোগ দিয়ে বাকি ৪০টি বেত্রা ঘাত দেওয়া হয়। এভাবে তার মোট ১০০টি বেত্রা ঘাতের সাজা সম্পন্ন করা হয়।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুগলকে গত মাসে বান্দা আচেহ শরি য়া আদালত পর কীয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০০টি করে বেত্রা ঘাতের সাজা দেন।   আচেহ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ, যেখানে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের আওতায় শরি য়া আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর রয়েছে। বিয়ে ছাড়া যৌ ন সম্পর্কসহ বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীনে বেত্রা ঘাতের মতো শাস্তির বিধান রয়েছে।   প্রকাশ্যে শাস্তি কার্যকরের সময় ওই নারীকে তীব্র ব্যথায় কষ্ট পেতে দেখা যায়। ডেইলি মেইলে প্রকাশিত ছবিতে একপর্যায়ে তাকে হাত তুলে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। পরে তিনি হাঁটু গেড়ে পড়ে গেলে কর্মকর্তারা তাকে ধরে উঠিয়ে নেন। তার সঙ্গে থাকা পুরুষটিকেও বেত্রা ঘাতের সময় ব্যথায় কুঁকড়ে যেতে দেখা যায়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম AJNN-এর বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল জানায়, পুরুষটির ৬০টি বেত্রা ঘাত সম্পন্ন হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্বেগ তৈরি হয়। আচেহ জেলা অ্যাটর্নি অফিসের সাধারণ অপরাধ বিভাগের প্রধান দারমা মুস্তিকা বলেন, তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়ে থাকতে পারে অথবা তিনি বেত্রা ঘাত সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই তাকে কিছু সময় বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে শাস্তি আবার শুরু করে বাকি ৪০টি বেত্রা ঘাত সম্পন্ন করা হয়।   ওই দিন মোট ১০ জনকে প্রকাশ্যে বেত্রা ঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়। বাকি আটজনকে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য নন—এমন নারী ও পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশার অভিযোগে ১৬ থেকে ২১টি পর্যন্ত বেত্রা ঘাত করা হয়। আচেহর শরি য়া আইনে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নন এমন নারী ও পুরুষের নির্দিষ্ট ধরনের মেলামেশার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।   আচেহতে বেত্রা ঘাত সাধারণত জনসম্মুখে করা হয়। মসজিদের আশপাশ, পার্ক বা বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে এই শাস্তি কার্যকর হতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবারের ঘটনাতেও সেখানে মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে দেখা যায়।   আচেহতে জুয়া, মদ্যপান, বিয়ে ছাড়া যৌ ন সম্পর্ক এবং শরি য়া আইনে নিষিদ্ধ বিভিন্ন আচরণের জন্য বেত্রা ঘাতের বিধান রয়েছে। প্রদেশটি ২০০১ সালে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা পাওয়ার পর শরি য়া আইন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়। এরপর থেকে ধর্মীয় আইনভিত্তিক অপরাধের ক্ষেত্রে স্থানীয় আদালত ও কর্তৃপক্ষ এই বিধান প্রয়োগ করে আসছে।   তবে এই ধরনের প্রকাশ্য বেত্রা ঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের সমালোচনা রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংগঠন এই শাস্তিকে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর বলে সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি প্রকাশ্যে অপমানের বিষয়টিও মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   অন্যদিকে আচেহর স্থানীয় কর্মকর্তারা এই শাস্তিকে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখেন এবং অপরাধ ঠেকাতে এর প্রতিরোধমূলক ভূমিকার কথা বলে থাকেন। ফলে আচেহতে প্রকাশ্য বেত্রা ঘাত এখনো স্থানীয় আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি বিতর্কিত অংশ হিসেবে কার্যকর রয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি সেই ব্যবস্থারই সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
কারাগারে থেকেও রিমোট কাজ, ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতনের সুযোগ
কারাগারে থেকেও ঘণ্টায় ২৫ ডলার আয়, ব ন্দি দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে কা রা ব ন্দিদের জন্য রিমোট কাজের সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচিত ব ন্দি রা কারাগারে থেকেই সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা রিমোট কাজ করবেন এবং প্রতি ঘণ্টায় ২৫ ডলার করে বেতন পাবেন। ম্যাসাচুসেটস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন (ডিওসি) ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ছয় মাসের এই পাইলট কর্মসূচিতে শুরুতে দুজন ব ন্দি অংশ নেবেন। তাঁরা দুজনই বোস্টন কলেজের প্রিজন এডুকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে। কর্মসূচিটি ম্যাসাচুসেটস ডিওসি ও ‘অ্যালায়েন্স ফর হায়ার এডুকেশন ইন প্রিজন’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা এমসিআই-শার্লির নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে কাজ করবেন এবং কা রা কর্তৃপক্ষের কর্মীরা সেখানে তাঁদের সরাসরি তদারকি করবেন। নির্বাচিত দুজন বিভিন্ন গবেষণা ও শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ইনকারসারেটেড স্কলার্স কনফারেন্সের জন্য উপকরণ তৈরি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কারাগারে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ তৈরির কাজ রয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা, যোগাযোগ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও তথ্য-উপকরণ তৈরির মতো পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। ডিওসি কমিশনার শন জেনকিন্স বলেন, কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো ব ন্দি দের বর্তমান চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করা এবং মুক্তির পর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ম্যাসাচুসেটস ডিওসি জানিয়েছে, কা রা ব ন্দি দের শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের জন্য তারা আগে থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কম্পিউটার কোডিং, প্রিন্টিং, কম্পিউটার-এইডেড ডিজাইন, রান্নাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ধাতব কাজসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ রয়েছে। নতুন এই কর্মসূচি ডিওসির পাঁচ বছরের ‘অ্যালাইন ইনিশিয়েটিভ’-এরও অংশ। ওই পরিকল্পনায় কা রা ব ন্দি দের মুক্তির পর সমাজে ফিরে গিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং রিমোট ও সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র দুজনকে নিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও ছয় মাসের পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যক্রম ও ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে আলোচিত মামলা
ফেসিয়াল রিকগনিশনের ভুলে গ্রে প্তার নারী, মুক্তির পর ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক নারী ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণের কারণে ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় গ্রে প্তার ও কয়েক মাস আটক থাকার অভিযোগে একটি শহর ও এক পুলিশ গোয়েন্দার বিরুদ্ধে ১০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন।   অ্যাঞ্জেলা লিপস নামের ওই নারী মঙ্গলবার নর্থ ডাকোটার ফেডারেল আদালতে ফার্গো শহর ও ফার্গো পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা লুকাস হেকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার তাকে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির সম্ভাব্য মিল হিসেবে শনাক্ত করেছিল।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল ও মে মাসে এক নারী চুরি করা পরিচয় ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ফার্গো এলাকার কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্তের সময় ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ ও নর্থ ডাকোটার একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফেসিয়াল রিকগনিশন ফলাফল লিপসকে সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে দেখায়।   লিপসের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গোয়েন্দা হেক জানতেন যে তিনি টেনেসিতে থাকেন এবং কখনো নর্থ ডাকোটায় যাননি। এ ছাড়া নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে থাকা সন্দেহভাজনের শারীরিক বর্ণনার সঙ্গেও লিপসের মিল ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   মামলার আরও অভিযোগ, ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলটি মূলত নজরদারি ভিডিও থেকে নয়, বরং সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত একটি ভুয়া পরিচয়পত্রের ছবির ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছিল—এই বিষয়টি গোয়েন্দা হেক আদালতকে জানাননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ফলাফলকে শুধু তদন্তের সূত্র হিসেবে বিবেচনা করার কথা ছিল; নিশ্চিত পরিচয় হিসেবে নয়।   এরপর লিপসের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত আটটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কার্যকর একটি গ্রে প্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, লিপস তখন টেনেসিতে এক প্রতিবেশীর শিশুর দেখাশোনা করছিলেন। সেখানেই ইউএস মার্শালসের একটি পলাতক আসামি ধরার বিশেষ টাস্কফোর্স তাকে বন্দুকের মুখে গ্রে প্তার করে।   পরে তাকে টেনেসির একটি কারাগারে রাখা হয় এবং নর্থ ডাকোটায় নিয়ে গিয়ে ক্যাস কাউন্টি জেলে আটক করা হয়। তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ডলার। মামলায় লিপস দাবি করেছেন, থ্যাংকসগিভিং পর্যন্ত এবং নিজের ৫০তম জন্মদিনও তাকে কারাগারেই কাটাতে হয়েছে।   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ডেনচার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, লিপসের আইনজীবী ব্যাংকের নথি আদালতে উপস্থাপন করে দেখান যে, যেসব সময়ে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল, তখন লিপস টেনেসিতেই ছিলেন।   কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লিপসের কাছে মাত্র ৪ সেন্ট ছিল এবং তার কাছে শীতের পোশাকও ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তখন তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি ছিল। পরে স্থানীয় একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও এক প্রতিবেশীর সহায়তায় তিনি টেনেসিতে নিজের বাড়িতে ফেরেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সময় ফার্গো পুলিশ বিভাগের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে পর্যাপ্ত নীতি, প্রশিক্ষণ বা তদারকি ছিল না। বিপরীতে ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ বিভাগে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম ছিল এবং শুধু ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রে প্তার না করার নীতি ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।   ফার্গো পুলিশের প্রধান ডেভ জিবোলস্কি মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিভাগটিতে তদন্তসংক্রান্ত কিছু ভুল হয়েছিল। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে পুলিশ বিভাগ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন নীতি ও প্রশিক্ষণ চালু করেছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।   লিপসের মামলায় বেআইনি আটক ও গ্রে প্তার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন, পুলিশের নীতি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, মিথ্যা গ্রে প্তার ও আটক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা চালানোর অভিযোগসহ মোট পাঁচটি দাবি করা হয়েছে।   লিপস ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি গোয়েন্দা হেকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ, আইনজীবীর খরচ এবং জুরি বিচারের আবেদন করেছেন।   তবে এগুলো লিপসের করা দেওয়ানি মামলার অভিযোগ। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
অপহরণের পর উদ্ধার ব্রিটিশ নারী নুসরাত ওসমান
অপহরণের ৬ দিন পর ব্রিটিশ নারীকে উদ্ধার, অভিযানে ৪ সন্দেহভাজন নি হ ত

মালাবিতে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া এক ব্রিটিশ নারীকে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজন অপহরণকারীদের গু লি বি নি ময়ে চারজন নি হ ত হয়েছেন। এ সময় দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা গু লি বি দ্ধ হয়েছেন।   পুলিশ জানায়, ৪৭ বছর বয়সী নুসরাত ওসমানকে বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ব্লানটায়ারের উপকণ্ঠে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের গু লি বি নি ময় হয়। পুলিশ বলছে, তাদের কাছে একটি এ কে-৪৭ রাইফেল ও একটি পি স্তল ছিল।   মালাবি পুলিশ সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানায়, গু লি বি দ্ধ চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে আঘাতের কারণে তারা মা রা যান। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কীভাবে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করেছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।   অভিযানে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ নোয়েল কায়িরা গু লি বি দ্ধ হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা স্থিতিশীল।   উদ্ধারের পর নুসরাতকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়। পরে তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেখানে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন করা হচ্ছে।   নুসরাতের ছোট ভাই শোবি জিওয়া ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান-কে দেওয়া বক্তব্যে মালাবি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অভিযানে গু লি বি দ্ধ পুলিশ কর্মকর্তা নোয়েল কায়িরাকে পরিবারের ‘হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   নুসরাত যুক্তরাজ্যের লেস্টারের বাসিন্দা। কয়েক বছর ধরে তিনি মালাবিতে বসবাস করছেন এবং একটি অডিট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে।   গত ১১ সেপ্টেম্বর ব্লানটায়ারের মাউন্ট প্লিজ্যান্ট এলাকায় নুসরাতকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। তিনি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার গাড়ির পথ রোধ করে তাকে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।   ঘটনার পর তাকে খুঁজে বের করতে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। নুসরাতকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রে প্তার ও দো ষী সাব্যস্ত করার মতো তথ্যের জন্য ৩ কোটি মালাবিয়ান কোয়াচা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।   ঘটনাটি তদন্তকারীদের কাছেও রহস্য তৈরি করেছিল। কারণ নুসরাত নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো মুক্তিপণের দাবি বা অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারও নিরাপদে ফিরে আসার আশায় আবেগঘন আবেদন জানিয়েছিল।   যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস জানিয়েছিল, মালাবিতে এক ব্রিটিশ নাগরিক অপহরণের খবর তারা জানে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।   নুসরাতকে উদ্ধারের পর পুরো ঘটনার পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে মালাবি পুলিশ। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাত্রীকে ঘিরে গোলযোগের অভিযোগ
সম্পূর্ণ পোশাক খুলে আশপাশের যাত্রীদের সঙ্গে অশা লী ন আচরণ, নারী আ ট ক

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে এক নারী যাত্রীর পোশাক খুলে অশা লী ন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিমানটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই নারীকে আ ট ক করে। ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯-এ, যা বাল্টিমোর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রকাশিত এয়ারক্রাফট কমিউনিকেশনস অ্যাড্রেসিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম, সংক্ষেপে একার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় কেবিন ক্রুরা ককপিটে যাত্রীর আচরণ সম্পর্কে জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ নম্বর সারির ৯ডি আসনে থাকা ওই নারী সম্পূর্ণ পোশাক খুলে ফেলেন এবং আশপাশের যাত্রীদের সামনে অশা লী ন আচরণ করেন বলে ক্রুরা রিপোর্ট করেন। কেবিন ক্রুর বার্তার পর বিষয়টি আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনস সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। তবে ফ্লাইটটি মাঝপথে অন্য কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ না করে নির্ধারিত গন্তব্য মিয়ামির দিকেই এগিয়ে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট ১৭৭৯ বাল্টিমোর-ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ৯টা ৯ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং রাত প্রায় ১১টা ২৩ মিনিটে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিমানটি প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছায়। বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন। পরে ওই নারীকে বিমান থেকে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়। মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিস জানিয়েছে, উড়োজাহাজে একটি গোলযোগের ঘটনায় তাদের সদস্যরা সাড়া দেন এবং ঘটনাটি বিমানের ভেতরে সংঘটিত হয়েছে জানতে পেরে বিষয়টি এফবিআইকে জানানো হয়। ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, বয়স এবং কেন তিনি এমন আচরণ করেছিলেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে ঘটনাটিকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা হলেও, প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হলো—ফ্লাইটে ওই নারীকে ঘিরে একটি গুরুতর আচরণগত গোলযোগের অভিযোগ ওঠে, বিমানটি মিয়ামিতে অবতরণ করে এবং পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কেন এমন আচরণ করেছিলেন বা তার পরবর্তী আইনি অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দাবি করা যাচ্ছে না।   সোর্স: ইউএসএ টুডে, মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিসের বক্তব্য এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানি ব্লগার মারজিয়ে ‘সেভদা’ এব্রাহিমি শামসাবাদি
বিদায়ের বার্তা দিয়েছিলেন আগেই, ইরানি ব্লগারের মৃ ত্যু দ ণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য

ইরানে ৩২ বছর বয়সী ব্লগার মারজিয়ে ‘সেভদা’ এব্রাহিমি শামসাবাদিকে মৃ ত্যু দ ণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠন ও ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে অপমান, জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী প্রচার, শত্রু রাষ্ট্রের হয়ে গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড এবং সামরিক স্থাপনার ছবি তুলে বিদেশি ফারসি গণমাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মারজিয়েকে বন্দর আব্বাস রেভল্যুশনারি কোর্টের একটি শাখা ‘করাপশন অন আর্থ’ বা ‘পৃথিবীতে দুর্নীতি’—ইরানের আইনে মৃ ত্যু দ ণ্ডযোগ্য একটি অভিযোগ—এ দোষী সাব্যস্ত করে মৃ ত্যু দ ণ্ড দিয়েছে বলে হেংগাও ও এইচআরএএনএ জানিয়েছে। আদালত তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং সরকারি ও জনসেবামূলক কাজে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশও দিয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার আইনজীবীকে ২৩ আগস্ট মৃ ত্যু দ ণ্ডের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মামলার অন্যতম অভিযোগ হলো, মারজিয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের ছবি তুলেছিলেন এবং সেটি ইরানের বাইরে থাকা একটি ফারসি ভাষার গণমাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ এটিকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই মামলায় তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ নেতাকে অপমান এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে মিডিয়া ও প্রোপাগান্ডা কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার গ্রে প্তারের আগে দেওয়া একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট। ২৩ ফেব্রুয়ারির ওই পোস্টে প্রায় ১০ হাজার অনুসারীর উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, একদিন যদি তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, তাহলে যেন মনে রাখা হয়—তিনি নিজের বিশ্বাসের পথ বেছে নিয়েছিলেন। পোস্টটিতে একটি সাদা কবুতর ও লাল গোলাপের ছবিও ছিল। পরে তার মৃ ত্যু দ ণ্ডের খবর প্রকাশ হলে পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মারজিয়েকে ২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে বা এপ্রিল মাসে আ ট ক করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। হেংগাও ও এইচআরএএনএ বলছে, যুদ্ধসংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে তাকে এপ্রিল মাসে আ ট ক করা হয়; অন্যদিকে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তিনি মার্চ থেকেই বন্দি ছিলেন। তাকে বন্দর আব্বাস কারাগারে রাখা হয় এবং প্রায় ২০ দিন একাকী বন্দিত্বে থাকার অভিযোগও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, মারজিয়ের শারীরিক অবস্থাও উদ্বেগজনক। হেংগাও ও এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তিনি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা এমএস, সোরিয়াসিস, নার্কোলেপসি এবং গুরুতর পেটের সমস্যায় ভুগছেন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কারাগারে চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তার ঘটনাটি ইরানে রাজনৈতিক ও বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মামলায় মৃ ত্যু দ ণ্ড ব্যবহারের ব্যাপক বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৯ জনের মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে। সংগঠনটি বলছে, আরও অনেকে মৃ ত্যু দ ণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মারজিয়ে দেশটিতে মৃ ত্যু দ ণ্ডের মুখে থাকা অন্তত আট নারীর একজন। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি জানুয়ারির বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে মারজিয়ের মামলাটি মূলত যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধির হারানো ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৩ লাখ রুপি
বিমান ছাড়তে ৩০ মিনিট, হারাল ৩ লাখ রুপি—৩৫ মিনিটে ব্যাগ উদ্ধার করে সুনাম কুড়াল দিল্লি পুলিশ

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে আসা দক্ষিণ আফ্রিকার এক প্রতিনিধির প্রায় ৩ লাখ রুপি থাকা ব্যাগ হারিয়ে যাওয়ার মাত্র ৩৫ মিনিটের মধ্যে সেটি উদ্ধার করেছে দিল্লি পুলিশ। বিমান ছাড়ার মাত্র ৩০ মিনিট আগে প্রতিনিধির হাতে পুরো টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি দুমিসা মরিস সোবেকওয়ে গুরগাঁওয়ের একটি শপিং মলে যাওয়ার পর একটি ক্যাবে করে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার হোটেলে ফেরেন। হোটেলে পৌঁছানোর পর তিনি বুঝতে পারেন, ভারতীয় ও মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ রুপি থাকা ছোট ব্যাগটি তার সঙ্গে নেই। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে পুলিশ নিখোঁজ ব্যাগের খবর পায়। এরপর নিউ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ শচীন শর্মার নেতৃত্বে পুলিশ দল ক্যাবটির সন্ধানে নামে। প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুলিশ হোটেলে গিয়ে প্রতিনিধির যাত্রাপথ ও ক্যাবের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে ক্যাব ও চালককে শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়ির একটি আসনের নিচ থেকে টাকাসহ ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চালক প্রথমে তাদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে সহযোগিতা করেন। ব্যাগ ও টাকার মালিকানা যাচাই শেষে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে পুরো অর্থ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে নির্ধারিত ফ্লাইট ছাড়ার তখনও প্রায় ৩০ মিনিট বাকি ছিল। ফলে শেষ মুহূর্তে নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ফিরে পান তিনি। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ওই প্রতিনিধি ভারতে এসেছিলেন। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন সম্মেলনকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। দ্রুত ক্যাব শনাক্ত করে টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে দিল্লি পুলিশের তাৎক্ষণিক সমন্বিত পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনাটিতে অর্থ হারানোর পর সেটি চুরি হয়েছে—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে করা হয়নি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাগটি ক্যাবের আসনের নিচে পাওয়া যায় এবং যাচাইয়ের পর পুরো অর্থ প্রতিনিধিকে ফেরত দেওয়া হয়। ফলে ৩৫ মিনিটে উদ্ধার এবং ফ্লাইটের মাত্র ৩০ মিনিট আগে টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টিই ঘটনাটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, আমেরিকান পণ্য ও ভ্রমণ বর্জনের পথে
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছেন আমেরিকা: বন্ধ হচ্ছে কেনাকাটা ও ভ্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী বক্তব্য ও নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে দেশটির কিছু নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন, কেউ আবার আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। লেক অন্টারিওর পশ্চিম প্রান্তের একটি শহরের বাসিন্দা ফ্রান্সিন পিশে তাঁদেরই একজন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন এবং অ্যামাজনের সাবস্ক্রিপশনও বাতিল করেছেন। পাশাপাশি আমেরিকান তৈরি শ্যাম্পুর পরিবর্তে অন্য পণ্য ব্যবহার শুরু করেছেন। বাজারে কেনাকাটার সময়ও পিশে এখন পণ্যের উৎপাদনস্থল পরীক্ষা করে দেখেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কোনো পণ্য যেন ভুল করে তাঁর কেনাকাটার তালিকায় না আসে, সেদিকেও তিনি সতর্ক থাকছেন। তবে বছরের পর বছর ধরে পছন্দের একটি পণ্য তিনি এতদিন বাদ দিতে পারেননি। সেটি ছিল বব’স রেড মিলের গ্লুটেনমুক্ত প্যানকেক মিক্স। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সেটিও বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন পিশে। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে পাঠানো এক ই-মেইলে তিনি জানান, ওই পণ্য আর তাঁর বাড়িতে ঢুকবে না। ভবিষ্যতে আবার পণ্যটি কিনতে চান বলেও জানান তিনি। তবে তার আগে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কানাডার সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন পিশে। দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসের একটি নির্বাহী আদেশে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পিশের মতো কানাডার আরও অনেক নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। কানাডার বিভিন্ন এলাকায় কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমাচ্ছেন, আবার কেউ আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি এবং কানাডার প্রতি তাঁর আগ্রাসী বক্তব্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে ট্রাম্প, মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় পুরোনো বিতর্ক
আয়ারল্যান্ড এক হবে, দাবি ট্রাম্পের! পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মোড়

আয়ারল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ এক হয়ে গেলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার আয়ারল্যান্ড সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা করে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে নিজের সমর্থনের কথা জানান তিনি। উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ, আর আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন দেশ। এই দুই অংশকে এক করার বিষয়টি বহু বছর ধরে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, তিনি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চান না। এরপরই নিজের মত জানিয়ে বলেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চান। ট্রাম্প বলেন, “আমি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চাই।” তার মতে, দুই অংশ এক হয়ে গেলে সেটি সবার জন্যই একটি বড় অর্জন হবে। আয়ারল্যান্ডকে এক করার প্রশ্নে দেশটির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। যারা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে রাখতে চান, তারা মূলত ইউনিয়নিস্ট হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩০ বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডে ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলেছে। এই সময়টি ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত। ১৯৯৭ সালের মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটে। এই চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে গণভোট হলে দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এক হওয়ার পক্ষে ভোট দিলেই উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের পথ খুলে যেতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। বিষয়টি আপাতত আলোচনার বাইরে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গুড ফ্রাইডে চুক্তির নিয়ম পুরোপুরি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ট্রাম্প অবশ্য মনে করেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, “এটা শেষ পর্যন্ত ঘটবেই।” এরপর পাশে থাকা আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এটি এগিয়ে নিতে আপনারা সঠিক মানুষকে পেয়েছেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ হওয়ায় এ বিষয়ে ব্রিটেনেরও অবশ্যই কিছু বলার থাকবে। তবে তার প্রশ্ন, আয়ারল্যান্ড এক হলে সেটি খারাপই বা হবে কেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নতুন করে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তারা বার্নহ্যামের আগস্টের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, এই মুহূর্তে উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ বিষয়ে গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় নেই। শনিবার সকালে আয়ারল্যান্ডে পৌঁছান ট্রাম্প। ডাবলিনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন তিনি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভেরও আয়োজন করা হয়। ডাবলিনের পাশাপাশি ডুনবেগ ও শ্যানন বিমানবন্দরেও প্রতিবাদের পরিকল্পনা ছিল। ডুনবেগে ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন একটি গলফ কোর্স রয়েছে। তবে বিক্ষোভ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে জানতেন না। তিনি বলেন, “আমি কোনো বিক্ষোভ দেখিনি।” আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রোববার ট্রাম্প ডুনবেগে তার গলফ কোর্সে যাবেন এবং সেখানে আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। দিনের শেষ দিকে মার্কিন দূতাবাসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন, আয়ারল্যান্ড এক করার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নটি তাকে বেশ কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। তিনি বলেন, এমন প্রশ্নের উত্তর যেভাবেই দেওয়া হোক, সেটি নিয়ে খবর হবেই। তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া তার কাছে “খুবই চমৎকার” একটি বিষয়। এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাসিরও সৃষ্টি হয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোর পাহাড়ে গোপন ক্রিপ্টো খামার, মিলেছে ৩০০ জিপিইউ
নির্জন পাহাড়ে শত শত কম্পিউটার! মেক্সিকোয় ধরা পড়ল গোপন ক্রিপ্টো খামার

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলের ঘন সবুজ পাহাড়ের নির্জন এলাকায় লোকচক্ষুর আড়ালে চলছিল একটি গোপন ক্রিপ্টোকারেন্সি খামার। দুর্গম এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তার পাশে থাকা জরাজীর্ণ ভবনটিতে দিনরাত চলছিল শত শত শক্তিশালী কম্পিউটার। পুলিশের ধারণা, ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের আড়ালে অবৈধ অর্থপাচারের কাজও হয়ে থাকতে পারে। পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যের সিয়েরা নোর্তে এলাকায় থাকা ওই স্থাপনার সন্ধান মেলে সেখান থেকে আসা অস্বাভাবিক যান্ত্রিক শব্দ এবং বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে। আশপাশের ছোট ছোট গ্রামগুলোর তুলনায় সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেখানে প্রায় ৩০০টি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ, ৮০টি মাঝারি ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক টার্মিনাল এবং আটটি স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা পায়। এসব যন্ত্র ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের তুলনায় এটি ছোট একটি কার্যক্রম হলেও গত বছরের শুরু থেকে ওই এলাকায় এমন চতুর্থ ক্রিপ্টো খামারের সন্ধান পাওয়া গেল। মেক্সিকোভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডেভিড সসেডো বলেন, মাদক কার্টেলগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তার মতে, এ ধরনের ক্রিপ্টো মাইনিং খামার চালাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। ফলে এর পেছনে মেক্সিকোর শক্তিশালী কোনো অপরাধী গোষ্ঠী থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে মেক্সিকোর ফেডারেল অ্যাটর্নি কার্যালয় চলমান তদন্তের কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ে সবচেয়ে বড় খরচ হলো বিদ্যুৎ। বিপুল সংখ্যক শক্তিশালী কম্পিউটার সার্বক্ষণিক চালু রাখার পাশাপাশি সেগুলো ঠান্ডা রাখতেও প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। এ কারণেই কম খরচে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় এমন জায়গা বা অপরাধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় এ ধরনের গোপন কার্যক্রম গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টো ওয়ালেটগুলোতে প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়েছে। এক বছর আগে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ বিলিয়ন ডলার। চেইনঅ্যানালাইসিসের লাতিন আমেরিকা বিশেষজ্ঞ কাইও মোত্তা বলেন, মেক্সিকোর মতো দেশে সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীগুলো অর্থপাচারের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার ও মাইনিং কার্যক্রমে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, যেখানে বিদ্যুৎ সস্তা অথবা অপরাধীদের প্রভাব রয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ চুরি করে বড় আকারের ক্রিপ্টো মাইনিং অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, একটি বিটকয়েন মাইন করতে বিদ্যুতের খরচ প্রায় ৪৫ হাজার ডলার। বিটকয়েনের বর্তমান দাম প্রায় ৭৮ হাজার ডলার হওয়ায় মাইনিং থেকে বড় ধরনের লাভের সুযোগ রয়েছে। আর বিদ্যুৎ চুরি করা হলে এই খরচ আরও কমে যায়। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত করছে, পুয়েবলার ওই ক্রিপ্টো খামারে কাছের একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়া হয়েছিল কি না। ঘন বন, দুর্গম পাহাড় এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জনবসতির কারণে সিয়েরা নোর্তে অঞ্চলটি এমন গোপন কার্যক্রমের জন্য সুবিধাজনক। স্থানীয় দুই বাসিন্দা জানান, খামারটির কম্পিউটারের শব্দ প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যেত। অথচ স্থাপনাটি সবচেয়ে কাছের গ্রাম থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল। গত বছর কাছের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে আরও তিনটি একই ধরনের ক্রিপ্টো খামার শনাক্ত করা হয়েছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে মিলে এ ধরনের আরও গোপন স্থাপনা রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখছে। মেক্সিকোর পাশাপাশি ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও অবৈধ ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই খাতকে ব্যবহার করে অপরাধও আরও বাড়তে পারে। তবে একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ক্রিপ্টো লেনদেন শনাক্ত ও অনুসরণ করার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ব্রিকসের, শিগগিরই আসছে দিল্লি ঘোষণা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসে বড় সমঝোতা, দিল্লি থেকে আসছে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবশেষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশের বিষয়ে কয়েক দিনের টানা আলোচনার পর সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই এই যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করা হবে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে মতবিরোধ ছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ নিয়ে যৌথ ঘোষণাপত্রের ভাষা কী হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। চলতি বছরের মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশের শীর্ষ আলোচকরা যৌথ ঘোষণাপত্রে সম্মতি আনতে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যান। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৪ সালে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশকে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে ভারত। এবারও যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করতে ভারতীয় কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিও ছিল। এ নিয়ে গত ছয় মাস ধরে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই মতপার্থক্য কাটিয়ে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ যৌথ ঘোষণার বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়াদিল্লি সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প
হরমুজকে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ ডাকবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে এখন থেকে এই জলপথকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   গতকাল বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতেই ডালাসে গিয়েছিলেন তিনি। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম কমবে। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় পেতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হরমুজের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে জয়ী হলে তাঁরও কিছু ‘প্রাপ্তি’ থাকা উচিত। আর সেই প্রাপ্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বলেন, “ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, আজ আমি এখানে ঘোষণা করছি—এখন থেকে আমরা এই জলপথকে ট্রাম্প প্রণালি নামে ডাকব।” তাঁর দাবি, এ নাম ইরানের নেতাদের মধ্যে শিহরণ তৈরি করবে। ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, দেশটি ‘ভেঙে পড়ছে’। গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘গুন্ডামি’ করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই সময় শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই মানচিত্রেও প্রণালিটির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করলে দেশটির বন্দরে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপরও বাধা তৈরি হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ‘অনানুষ্ঠানিক বিরতির’ পর গত ৩০ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর আগে ২৮ আগস্ট সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকার গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয় ও ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখার উদ্যোগও নেন ট্রাম্প।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
চাঁদের পাশাপাশি জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আমেরিকার মালিকানার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প
এবার চাঁদের মালিকানাও দাবি ট্রাম্পের, ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক

‘চাঁদ আমাদের’—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে চাঁদের ছবি ও মার্কিন পতাকার সঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ লেখা ছিল। ট্রাম্পের এই পোস্ট সামনে আসার পরই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। চাঁদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আমেরিকার মালিকানার ইঙ্গিত দেওয়া পোস্ট করেছেন তিনি। তবে চাঁদ কোনো দেশের মালিকানাধীন নয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। ফলে ট্রাম্পের ‘চাঁদ আমাদের’ মন্তব্যটি বাস্তব মালিকানার দাবি নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট—তা নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন স্থান ও ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই লেক ওন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এবার সেই বিতর্কের সঙ্গে যেন নতুন করে যুক্ত হলো চাঁদ। একই সময়ে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাবও দেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অনেকেই নাকি এমন নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এমনকি ‘নিউ মেক্সিকো’ নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বেরও আগের। ট্রাম্পের ধারাবাহিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর গভর্নরের মতে, এ ধরনের প্রস্তাবের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়ও রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য তিনি এ বিষয়ে কতটা সিরিয়াস ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সব মিলিয়ে ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্টটি এখন শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য, তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চাঁদ নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে ঘিরে বড় আয়োজন, সংবর্ধনার প্রস্তুতি

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফর উপলক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই ভাষণকে বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদার বলে মনে করা হচ্ছে। এর একটি বিশেষ কারণও রয়েছে—তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সভাপতিত্ব করছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের এক কূটনীতিক আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের দুজনের সাক্ষাৎ হতে পারে। এদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে। তবে সেসব কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন নিয়ে বিএনপির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁর সফরকে স্মরণীয় করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। এদিকে নিউইয়র্কের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু। ২৫ সেপ্টেম্বরের এই আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
নিরাপত্তার জন্য বাড়তি দাম দিতেও প্রস্তুত মার্কিনরা, বাড়ছে গেটেড কমিউনিটির চাহিদা
নিরাপত্তার জন্য গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির বেশি দাম দিতেও রাজি অর্ধেক আমেরিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এখন অনেকের কাছে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ বা গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির জন্য বাজারদরের চেয়েও বেশি দাম দিতে রাজি। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়িটির জন্য অন্তত ৬ শতাংশ বেশি দাম দিতেও প্রস্তুত। ১ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে আগস্ট ২০২৬-এ পরিচালিত জরিপটি করেছে গেট ও প্রবেশ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাই-স্টেট গেট। ফলে জরিপটির ফলাফলকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গবেষণা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জরিপে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মানুষের নিরাপত্তাবোধের সঙ্গে তাঁদের এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির সরাসরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তাঁদের এলাকায় অপরাধের পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়নি। তারপরও ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বাড়িতে তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত বোধ করেন না। মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা নিজেদের এলাকায় খুব নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করেন। বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের অবস্থানকে বর্ণনা করেছেন - নিরাপদ, তবে সতর্ক থাকতে হয়। এই নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও দেখা যাচ্ছে। জরিপে ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নিরাপত্তা ক্যামেরা বা ভিডিও ডোরবেল রয়েছে। ক্যামেরার মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ দিনে একাধিকবার ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। সতর্কতা বা দৈনিক পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে ৮০ শতাংশের বেশি ক্যামেরা ব্যবহারকারী নিয়মিত ফুটেজ পরীক্ষা করেন। তবে শারীরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ এখনো কোনো ঘটনার অপেক্ষায় থাকেন। ৫৬ শতাংশ বলেছেন, নিজেদের বাড়িতে চুরি, প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি বা এলাকায় ধারাবাহিক অপরাধের মতো ঘটনা না ঘটলে তাঁরা বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাববেন না। অন্যদিকে, বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে মাত্র ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, গত দুই বছরে তাদের বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টা হয়েছে। তবে ২৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের দরজার সামনে থেকে প্যাকেজ চুরি হয়েছে।  গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির দাম যে ইতোমধ্যে বেশি, তারও ইঙ্গিত রয়েছে আগের গবেষণায়। আমেরিকান রিয়েল এস্টেট সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী, গেটেড কমিউনিটির বাড়িগুলো তুলনামূলকভাবে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার বেশি দামে বিক্রি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে শুধু অপরাধের ভয় নয়, বরং নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বাস্তবে অপরাধ না বাড়লেও মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গেট, ক্যামেরা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশি অর্থ খরচ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্তের মাদারীপুরের বাড়িতে তালা, পরিবার আত্মগোপনে
ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, জানা গেল হামলাকারীর পরিচয়, আত্মগোপনে স্বজনেরা

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর মাদারীপুরের ধুরাইল ইউনিয়নে অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে তার মা, ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলার ঘটনায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য বাড়িটিতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে খালাসীকান্দি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরগুলোর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। বাড়িতে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তবে তারা ঠিক কোথায় গেছেন, তা তিনি জানেন না। মনিরুল হাওলাদার ধুরাইল ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান মনিরুল। অভিনেত্রী বাঁধন অভিযোগ করেছেন, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে গেলে একদল ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করেন। তার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং ফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে মনিরুল হাওলাদারের নামও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই বা ইতালির পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।  মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য মনিরুল প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন এবং এখনো সেই ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা মনিরুলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একমত নন। ওবায়দুল বলেন, “ওর বিচার হোক, আমরা ওর সঙ্গে নেই। ওর মা-বোন-ভাই সবাই পালিয়েছে।” স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সকালে কয়েকজন ব্যক্তি মনিরুলের বাড়ির সামনে এসেছিলেন। তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাড়িতে হামলা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। চেয়ারম্যানকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য জানানো হয়েছে। সূত্র: চ্যানেল ২৪

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০