- প্রচ্ছদ
- Topic
ইরাক
ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশটিতে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে ইরাক সরকার। গত শনিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ছুটি কার্যকর থাকবে এবং এ সময়টিকে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে উদ্যাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে মিডিয়া সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের শেষ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশটিতে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির অবসান ঘটে। তবে এই সেনা প্রত্যাহারের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যকার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্পূর্ণ ইতি টানা নয়। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জোটের সামরিক মিশন শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। মূলত আন্তর্জাতিক জোট কাঠামোর পরিবর্তে এখন সরাসরি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে দেশ দুটি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের দখলে চলে গেলে তাদের দমনে স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তার জন্য এই মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট গঠন করা হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এই জোটের ভূমিকা মূলত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও গোয়েন্দা সহায়তার মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে আসে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই মিশন অবসানের বিষয়ে একটি পর্যায়ক্রমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার প্রথম ধাপ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সম্পন্ন হয়েছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য কিছু সেনা এতদিন ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছিল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে এই সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সামরিক সম্পর্ক একটি নতুন কাঠামোতে প্রবেশ করল।
ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার উত্তর ইরাকের ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে শেষ মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটিতে আই এসবিরোধী ১২ বছরের সামরিক মিশনের সমাপ্তি হয়েছে। ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে দুই বছর আগে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতেই এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এর মাধ্যমে যুদ্ধকালীন জোটের একটি অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে এবং এখন দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, ১২ বছরের অভিযানে ইরাক ও পুরো অঞ্চলে আই এসকে একটি সংগঠিত সামরিক হুমকি হিসেবে পরাজিত করা হয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী আই এসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বাইরে থাকা স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে থাকা অ স্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দীর্ঘ। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা ইরাক থেকে চলে যায়। তবে ২০১৪ সালে আই এস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলে ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আবার দেশটিতে ফিরে আসে। পরবর্তী সময়ে আই এসের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড অনেকটাই পুনরুদ্ধার করা হলেও সংগঠনটির কিছু সদস্য ও নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন ধীরে ধীরে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়। গত বছর ইরাকের বেশির ভাগ এলাকা থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হলেও উত্তরাঞ্চলের কুর্দি এলাকায় কয়েক শ মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। বুধবার তাঁদেরও প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই প্রত্যাহার নিয়ে ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সরিয়ে নেওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের পেশমার্গা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ওই অঞ্চলে এক হাজারের বেশি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষে প ণা স্ত্র হামলা হয়েছিল। অন্যদিকে ইরানে মিত্র হিসেবে পরিচিত ইরাকি স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে বাগদাদ সরকারের প্রচেষ্টা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেই সময়সীমা পরে পিছিয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ইরাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও দেশটির সামনে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। আই এসের অবশিষ্ট হুমকি, স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব—সবকিছুই এখন বাগদাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।
ইরাকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টাগন জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের শেষ বিমানঘাঁটি থেকেও সেনারা সরে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন শেষ হলো। তবে ইরান যুদ্ধের মধ্যে এই প্রস্থান ইরাকের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা ও সরঞ্জাম পরিকল্পিতভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন ইরাকের নিরাপত্তায় দেশটির নিজস্ব বাহিনী নেতৃত্ব দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা চলবে দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কের ভিত্তিতে। প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটন ও বাগদাদ ২০২৪ সালেই সামরিক মিশন গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল। জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে হওয়া সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা দেশটি ছেড়ে যায়। কিন্তু আইএস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর ২০১৪ সালে ইরাকি সরকারের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আবার সেখানে যায়। এবার সেই দ্বিতীয় মিশনও শেষ হলো। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরানঘনিষ্ঠ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে দেশটির কুর্দি অঞ্চলের কর্মকর্তারা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরে যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইরাকে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার কাজও শেষ হয়নি; এ জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত পিছিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। আইএস নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সংগঠনটি আগের মতো এলাকা নিয়ন্ত্রণ না করলেও তাদের গোপন সক্রিয় সদস্য রয়ে গেছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরাকি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনীর দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির সহায়তা বন্ধ হলে নিরাপত্তার ফাঁক তৈরির সুযোগ নিতে পারে আইএস। এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি, আইএস আবার বড় এলাকা দখল করেছে বলে কোনো তথ্য নয়। এই প্রেক্ষাপটে নিউজউইকের বিশ্লেষণে ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ভবিষ্যৎ ভাবার কথা বলা হয়েছে। লেখাটির সতর্কবার্তা ইরানকে দেওয়া মার্কিন সরকারের কোনো নতুন হুমকি নয়। এর মূল প্রশ্ন হলো, সামরিক শক্তি দিয়ে লক্ষ্য অর্জনের দাবি করার পর দীর্ঘ সংঘাত থেকে বের হওয়ার রাজনৈতিক পথ কী হবে। ইরাকে মার্কিন সামরিক মিশন শেষ হলেও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে। ফলে সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাক কতটা স্থিতিশীল থাকবে এবং ইরান যুদ্ধের জন্য ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার পর ইরাকে নগদ মার্কিন ডলারের নিয়মিত চালান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে বাগদাদ। ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানিয়েছেন, নতুন একটি নগদ ডলারের চালান আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে পৌঁছাবে। তবে চালানটির পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। ইরাকি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই এই সমঝোতা হয়েছে। গত জুলাইয়ে ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ট্রেজারি সেক্রেটারিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আল-জাইদি। অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক জোরদার করা ছিল ওই সফরের অন্যতম প্রধান বিষয়। নতুন সমঝোতার লক্ষ্য ইরাকের বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানো এবং স্থানীয় বাজারে ডলারের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা। একই সঙ্গে ডলার কোথায় যাচ্ছে এবং কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাগদাদ। ইরাকি সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ঠেকানো, ডলার বিতরণে নজরদারি বাড়ানো এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে ধীরে ধীরে ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশটি। কেন বন্ধ হয়েছিল ডলারের চালান গত এপ্রিলে ইরাকে নগদ ডলার পাঠানোর নিয়মিত প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি নগদ চালানও আটকে দেওয়া হয়েছিল। ইরান-সমর্থিত স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং অবৈধ আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডলার ইরান ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কাছে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল ওয়াশিংটনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। তবে জুলাইয়ের শুরুতেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। রয়টার্স নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানিয়েছিল, কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে নগদ ডলারের বিমান চালান আবার শুরু করেছে। সে সময় হোয়াইট হাউস, পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে তথ্যটি যাচাই করতে পারেনি। এ কারণে এখনকার ঘোষণাকে একেবারে প্রথমবার ‘ডলার পাঠানো আবার শুরু’ বলা পুরোপুরি সঠিক হবে না। বরং সর্বশেষ সমঝোতা ইরাকে নিয়মিত ও অব্যাহত নগদ ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার নতুন ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরাকের জন্য মার্কিন ডলার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন ইরাক এখনো বড় পরিসরে নগদনির্ভর অর্থনীতি। দেশটির তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাবে রাখা হয়। সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ ডলার ইরাকে পাঠানো হয়। ডলারের সরবরাহ কমে গেলে ইরাকের অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিপরীতে দিনারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব পণ্যের দামেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের প্রবাহ বাড়ার প্রত্যাশার মধ্যে ইরাকি দিনারের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হওয়ার খবরও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় তাই একদিকে ইরাকের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে ডলার যেন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে না পৌঁছায়, সে জন্য আর্থিক নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক দিনের দিকে। ইরাকি সরকার বলছে, নতুন নগদ ডলারের চালান শিগগিরই পৌঁছাবে। তবে কত অর্থ আসছে এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবধানে চালান পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ইরাকের একটি মসজিদে নামাজ চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। মুসল্লিরা কাতারবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করছিলেন। হঠাৎ মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়ে দুই হরিণশাবক। অপ্রত্যাশিত দুই অতিথির উপস্থিতিতে তৈরি হয় বিরল এক দৃশ্য, যার ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের দুহোকে। গালফ নিউজের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নামাজ চলাকালে দুটি হরিণশাবক মসজিদের নামাজের স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অপরিচিত পরিবেশে প্রাণী দুটিকে কিছুটা বিভ্রান্ত মনে হচ্ছিল। তবে হরিণশাবক দুটি ঢুকে পড়লেও মুসল্লিদের মধ্যে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি। অধিকাংশ মুসল্লি কাতারে থেকেই নামাজ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে কয়েকজন মুসল্লি এগিয়ে এসে হরিণশাবক দুটিকে ধীরে ধীরে মসজিদের বাইরে যাওয়ার পথ দেখানোর চেষ্টা করেন। পরে মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ চালিয়ে যান। পুরো ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত মানুষের নজর কাড়ে। নামাজরত মুসল্লিদের মধ্যে দুই হরিণশাবকের এমন অপ্রত্যাশিত উপস্থিতিই ভিডিওটিকে আলোচনায় নিয়ে আসে। সূত্র: গালফ নিউজ
ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে গরুর মাংসের নামে শূকরের মাংস বিক্রির দায়ে এক কসাইকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশটির সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জানিয়েছে, ওই কসাইয়ের কাছ থেকে ৭৫ কেজি শূকরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি মাংসটি গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করছিলেন বলে আদালতে বিষয়টি উঠে এসেছে। সোমবার নাজাফের ফৌজদারি আদালত ওই ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, মানবদেহের জন্য অনুপযোগী মাংস বিক্রির দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালত ১৯৯৮ সালের একটি আইনের আওতায় এই রায় দিয়েছেন। ওই আইনে কুকুর, গাধা কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর এমন মাংস বিক্রি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। আদালতের রায়ে মূলত মাংসটি মানুষের খাদ্য হিসেবে অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টিকেই আইনি ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ইরাকে শূকরের মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করার জন্য সরাসরি কোনো আইন নেই। দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সেখানে খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। তবে মুসলিমদের জন্য শূকরের মাংস খাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতায় বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। নাজাফ ইরাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগরী। শহরটিতে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থাপনা ইমাম আলীর মাজার অবস্থিত। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সেখানে ধর্মীয় সফরে আসেন। ফলে শহরের খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশ চলতি মাসে ওই কসাইকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার কাছে বিপুল পরিমাণ শূকরের মাংস পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মাংসটি গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইরাকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারে মাংসের উৎস যাচাইয়ের বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রসিকতাও করেছেন এবং শূকরের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। নাজাফের বাসিন্দা আহমেদ আল-মানসুরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে রসিকতা করে বলেছেন, গত কয়েক বছরে তিনি গরু বা খাসির মাংসের চেয়ে বেশি শূকরের মাংস খেয়ে থাকতে পারেন। তিনি জানান, নিয়মিত যে কসাইয়ের কাছ থেকে মাংস কিনতেন, সেখান থেকেই তিনি প্রতারিত হয়েছেন। মানসুরির ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি ওই দোকান থেকে এক কেজি কিমা করা মাংস কিনেছিলেন। মাংসটির মান ভালো এবং বাজারদরের তুলনায় দাম কম হওয়ায় তিনি সেটিকে গরুর মাংস হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন। মাংস পছন্দ হওয়ায় তিনি পরে ওই কসাইয়ের দোকানে আরও নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। পরে কসাইকে শূকরের মাংস বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করার খবর পেয়ে তিনি ও অন্য ক্রেতারা বিস্মিত হন। মানসুরি বলেন, তারা এতদিন যে মাংস কিনেছেন, সেটি আসলে কী ছিল তা জানতে পেরে বিষয়টি তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। ঘটনাটি খাদ্য বিক্রির ক্ষেত্রে পণ্যের পরিচয় ও মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও সামনে এনেছে। বিশেষ করে গরু, খাসি বা অন্যান্য মাংসের নামে ভিন্ন প্রাণীর মাংস বিক্রি করা হলে তা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়, ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নও তৈরি করে। ইরাকি আদালতের এই রায় এমন এক সময়ে এলো, যখন নাজাফে ধর্মীয় পর্যটন ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। শহরের খাবারের বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষেরও নির্ভরতা রয়েছে। তাই খাদ্যপণ্যের উৎস ও মান নিয়ে আস্থা বজায় রাখা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য নিউ আরব ও এএফপি।
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকেও মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে জোটের সামরিক মিশন শেষ হওয়ার পর পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী এই সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুর্দিস্তানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মার্কিন জোটের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির চূড়ান্ত অবসান ঘটতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কুর্দিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেবার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে জোটের সব সেনা প্রত্যাহার করার কথা রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী এই বাহিনী প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং প্রতিদিনই সেনাদের ইরাকের বাইরে অন্যান্য অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমানও জানিয়েছেন, বিদেশি সেনারা তাদের এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোট মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই সময় আইএস দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংসতা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ইরাকে এবং ২০১৯ সালে সিরিয়ায় গোষ্ঠীটির আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটে। তবে আইএসের কিছু সদস্য এখনো মরুভূমি ও পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তাদের হামলার মাত্রা ব্যাপকভাবে কমে গেলেও, অবশিষ্ট জঙ্গিদের নির্মূলে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী এখনো নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরাকের অন্যান্য ঘাঁটি থেকে জোটের সেনারা প্রত্যাহার সম্পন্ন করে এবং এরপর থেকে তারা শুধু দেশটির উত্তরাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছিল। আইএসের পরাজয়ের পরও ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের উপস্থিতি নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘ বিতর্ক অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে জোটের সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়েও তেহরানের সমর্থনপুষ্ট এসব গোষ্ঠীর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ সামরিক অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে থাকা অবশিষ্ট মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনও শেষ হবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর ৩০ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ এবং বাহিনী প্রত্যাহারের ‘স্থির ও চূড়ান্ত’ তারিখ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার শেষ হবে বলে আশা করছে। তবে বর্তমানে ইরাকে ঠিক কতজন মার্কিন সেনা রয়েছেন এবং প্রত্যাহারের পর তাদের কোথায় মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া অবশ্য ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। দেশটির অধিকাংশ এলাকা থেকে গত বছরই মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে সীমিত সংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম রয়ে গেছে। ইরাকি কুর্দি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, এরবিল থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরানোর নতুন ধাপ প্রায় তিন সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরও জুলাইয়ে জানিয়েছিল, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে আইএসবিরোধী ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ মিশন শেষ করার কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আইএসকে ভূখণ্ডগতভাবে পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক এবং আন্তর্জাতিক জোট উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পর আইএস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব থাকবে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে। এর মধ্যে কুর্দিস্তান অঞ্চলের পেশমার্গা বাহিনীও রয়েছে। ইরাকের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর শুধু বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নয়। দেশটির সরকার একই দিনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আল জাইদির বক্তব্য, বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পর আলাদা সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র ধরে রাখার প্রয়োজন থাকবে না এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরাকি বাহিনী সক্ষম। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ কয়েকটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে এবং তাদের কয়েকটি ইতোমধ্যে অস্ত্র সমর্পণে অনীহা জানিয়েছে। ফলে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সব অস্ত্র রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ বাগদাদ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দুই পর্বে বিভক্ত। ২০০৩ সালের মার্চে সাদ্দাম হোসেন সরকারের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার দাবিকে অন্যতম কারণ দেখিয়ে ইরাকে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। পরে সেই ধরনের অস্ত্র পাওয়া যায়নি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাদ্দাম সরকারের পতন ঘটে, কিন্তু এরপর দেশটি দীর্ঘ যুদ্ধ, বিদ্রোহ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্যে পড়ে। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে সেনা কমানো শুরু হয় এবং ২০১১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ যুদ্ধরত সেনারা ইরাক ছাড়ে। তবে সেই প্রত্যাহার স্থায়ী হয়নি। ২০১৪ সালে আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিলে ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনারা আবার দেশটিতে ফিরে আসে। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আইএসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করা। আইএসের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড পুনর্দখলের পর ২০২১ সালে জোটের সরাসরি যুদ্ধ মিশন শেষ হয়। এরপরও প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ইরাকে থেকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং যৌথ আইএসবিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের সমঝোতার পর থেকে সেই উপস্থিতিও ধাপে ধাপে কমানো হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ হলে ২০০৩ সালের আগ্রাসনের ২৩ বছর পর ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটবে। তবে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। দুই দেশ ইতোমধ্যে সামরিক মিশননির্ভর সম্পর্ক থেকে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, জ্বালানি ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের দিকে এগোনোর কথা জানিয়েছে।
ইরাকের অন্তত সাতটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলায় ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩২ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনাওয়া, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। পিএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হতাহতদের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব। ঘটনাস্থলের মূল্যায়ন শেষে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলায় সংগঠনটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক যান এবং অস্ত্র সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও সৌদি বিমান বাহিনী জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলার জবাবে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নিজেদের বাহিনী ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পিএমএফ ইরাকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে স্বীকৃত একটি আধাসামরিক জোট, যেখানে বেশ কয়েকটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। সংগঠনটির কিছু অংশ ইরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এদিকে ইরাক সরকার এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে আলোচনা করতে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে ইরাকে এই হামলা নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। রোববার (স্থানীয় সময়) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে এই ঘটনা ঘটে। ভূপাতিত ইরানি একমুখী হামলাকারী ড্রোনের (ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন) অবিস্ফোরিত অংশ নিরাপদে ধ্বংস করার জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পরিচালনার সময় ওই সেনা নিহত হন। একই ঘটনায় আরেক মার্কিন সেনা সামান্য আহত হন এবং তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিহত সেনার পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত তার পরিচয় প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে সেন্টকম। এর আগে গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে কিছু অজ্ঞাত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ নিখোঁজ সেনার কি না, তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার কাজ চলছে। সব মিলিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন বাহিনী টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন সফররত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখার আর প্রয়োজন রয়েছে বলে তার প্রশাসন মনে করছে না। তিনি আরও বলেন, সামরিক উপস্থিতি কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদিও নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনারা ইরাক ত্যাগ করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতোই ইরাকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বে সাদ্দাম হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরাকে টানা ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইরাক সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী যৌথ সামরিক অভিযান সমাপ্ত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব ইরাকেও পড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার দায় এর আগে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক স্বীকার করেছিল। এসব ঘটনার কারণে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক উপস্থিতি কমানোর কৌশল অব্যাহত রাখলেও, ইরাকের সঙ্গে নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। সফরে তেল ও গ্যাস খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানিয়েছেন, তেল ও গ্যাস খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানিকে ইরাকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরাকের নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি রপ্তানি পথ তৈরি করা। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইরাকসহ উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর রাজস্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সফরে ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতাও আলোচ্যসূচিতে থাকবে বলে জানিয়েছে বাগদাদ। ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং বাগদাদের তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়নের পর আলি আল-জাইদিকে অভিনন্দন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেছিলেন।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরাকে অবস্থান করছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসউদ পেজেশকিয়ান। এর আগে খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ ও পবিত্র নগরী কারবালায় খামেনির জানাজার মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে লাখ লাখ শিয়া মুসলমানের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে ইরাকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই সফর কেবল শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইরানের রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান বাগদাদে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি খামেনির জানাজা ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য ইরাকি সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান। পেজেশকিয়ান বলেন, এই আয়োজন দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের প্রতিফলন এবং ইসলামী সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ইরানের রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, অতীতে ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে ইরান নিজস্ব প্রতিশ্রুতি ও সমঝোতা বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণ করা ইরাকি জনগণের জন্য একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তিনি প্রয়াত এই ইরানি নেতাকে ইসলামী বিশ্বের এক প্রভাবশালী ও রূপান্তরমূলক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন। উল্লেখ্য, খামেনির মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ইরান ও ইরাকজুড়ে যে শোকানুষ্ঠান ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং আঞ্চলিক রাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হয়ে তিনবার ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন মেক্সিকান বংশোদ্ভূত বেনিটো মিরান্ডা হার্নান্দেজ। সামরিক সেবার বিনিময়ে তাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, আজ তিনি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিরতরে বিতাড়িত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে মার্কিন ফেডারেল কোর্টহাউসের সামনে হার্নান্দেজের মুক্তির দাবিতে জড়ো হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী। 'ব্ল্যাক ডিপোর্টেড ভেটেরানস অব আমেরিকা'-এর প্রতিষ্ঠাতা জেমস স্মিথ সেখানে হার্নান্দেজের পদক পরা একটি ছবি দেখিয়ে তার মুক্তির জোর দাবি জানান। শিশু বয়সে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা হার্নান্দেজ সামরিক জীবন শেষে সাধারণ জীবনে ফিরতে চরম মানসিক সংগ্রামের মুখোমুখি হন। এর জেরে মাদক সংক্রান্ত এক মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন তিনি। গত ১৪ জুন তার সাজার মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু কারাগার থেকে বের হয়ে অপেক্ষারত মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার বদলে তাকে সরাসরি আটক করে আইস হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাকে সান দিয়েগোর ওটে মেসা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অপরাধের রেকর্ড থাকা অভিবাসীদের বিতাড়নের যে কড়া নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, হার্নান্দেজের আটক তারই একটি অংশ। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যুদ্ধফেরত এসব সেনারা চরম মানসিক অবসাদ ও ট্রমাতে ভুগে অনেক সময় অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, যার কারণে তারা এই কঠোর নীতির সবচেয়ে বড় শিকারে পরিণত হচ্ছেন। 'রিপ্যাট্রিয়েট আওয়ার প্যাট্রিয়টস'-এর প্রেসিডেন্ট ড্যানিৎজা জেমসের মতে, মার্কিন সরকার অভিবাসী সেনাদের কোনো মূল্যায়নই করে না, বরং তাদেরকে কেবল 'ব্যবহারযোগ্য বস্তু' বা ডিসপোজেবল হিসেবেই বিবেচনা করে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে অন্তত ৩৪ জন সাবেক মার্কিন সেনাকে বিতাড়নের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। নাগরিকত্বের আশায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও আইনি দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেকেই সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। ২০০৬ সালে যখন হার্নান্দেজকে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়, ততদিনে তার বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড যুক্ত হওয়ায় তার আবেদন বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে আইস ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি হার্নান্দেজ চরম হতাশায় দিন পার করছেন। আনাহেইম থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সান দিয়েগোতে ছেলেকে দেখতে আসা মা মারিয়া মিরান্ডা আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, তারা যেন একটি পাখির ডানা কেটে তাকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলেছে। তার ছেলের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা আজ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে।
ইরাকে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দেশটির সংসদ সদস্য হিন্দ আল-আব্বাসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণ উদ্ধারের দাবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে প্রায় ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদ অর্থ এবং ২৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে আরও দাবি করা হচ্ছে, তল্লাশির সময় স্বর্ণ দিয়ে তৈরি কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রীও পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর ইরাকজুড়ে নতুন করে দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ রয়েছে, এই ঘটনাকে তারই একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সম্পদ জব্দ করেছে বলেও জানা গেছে। তবে হিন্দ আল-আব্বাসির বাড়ি থেকে ৫৭ মিলিয়ন ডলার, ২৭ কেজি স্বর্ণ এবং স্বর্ণের তৈরি অন্তর্বাস উদ্ধারের নির্দিষ্ট দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরাকের সরকার বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে ভাইরাল হওয়া এসব তথ্যের কিছু অংশ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি ইরাকের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় দুর্নীতির মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
ইরাকে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দেশটির সংসদ সদস্য হিন্দ আল-আব্বাসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণ উদ্ধারের দাবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে প্রায় ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদ অর্থ এবং ২৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে আরও দাবি করা হচ্ছে, তল্লাশির সময় স্বর্ণ দিয়ে তৈরি কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রীও পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর ইরাকজুড়ে নতুন করে দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ রয়েছে, এই ঘটনাকে তারই একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সম্পদ জব্দ করেছে বলেও জানা গেছে। তবে হিন্দ আল-আব্বাসির বাড়ি থেকে ৫৭ মিলিয়ন ডলার, ২৭ কেজি স্বর্ণ এবং স্বর্ণের তৈরি অন্তর্বাস উদ্ধারের নির্দিষ্ট দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরাকের সরকার বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে ভাইরাল হওয়া এসব তথ্যের কিছু অংশ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি ইরাকের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় দুর্নীতির মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
দুর্নীতির অভিযোগে ইরাকে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রোববার ভোরে রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত মাসে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক উপ-তেলমন্ত্রী আদনান আল-জুমাইলির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কয়েকজন সংসদ সদস্যও রয়েছেন, যাদের সংসদীয় দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) আগে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানীর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এই এলাকাতেই ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাস অবস্থিত। বার্তা সংস্থা এপির হাতে আসা একটি নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনই সংসদ সদস্য। গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির রাজনৈতিক জোটের সদস্য। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গত নভেম্বরের সংসদ নির্বাচনে আল-সুদানির জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠন নিয়ে ইরান-সমর্থিত শিয়া দলগুলোর জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’-এর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেননি। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী ও রাজনীতিতে নবাগত আলী আল-জায়েদি সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার প্রার্থিতায় যুক্তরাষ্ট্রেরও সমর্থন ছিল। এই অভিযানের পর ইরাকের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটিতে দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রভাব বিস্তারের বিষয়গুলো প্রায়ই সামনে আসে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে ইরাকের আটটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, আগে ব্যবহৃত প্রচলিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক এড়িয়ে এবার ছোট আকারের, আরও গোপনীয় ও নিয়ন্ত্রিত সেল কাঠামো গড়ে তুলেছে আইআরজিসি। এসব সেল সরাসরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন দিচ্ছে। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছেন প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। এদের মাধ্যমে গত ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা ও সামাওয়ার মরুভূমি এলাকা থেকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা। বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এমন অঞ্চলগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে বলে জানায় ইরাকি সূত্রগুলো। তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে—প্রতিটি সেলে রয়েছে প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। স্থানীয় নিরাপত্তা ও মিলিশিয়া কমান্ডারদের বরাতে বলা হয়, এসব যোদ্ধার একটি অংশ এসেছে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামের ছাতার সংগঠন থেকে, তবে নতুন সেলগুলো ওই কাঠামোর বাইরে স্বাধীনভাবে ও সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশে কাজ করছে। রয়টার্সকে তথ্য দেওয়া আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডাররা। তাদের দাবি, নতুন এই কাঠামো ইরানের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বড় মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ছোট ও নিয়ন্ত্রিত ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে। ইরাক শিয়াপ্রধান দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানপন্থি একাধিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। এসব গোষ্ঠী ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নেটওয়ার্ক ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ ব্যানারে বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতোমধ্যে ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার পাল্টা জবাবে মার্কিন বাহিনীও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, এসব নতুন সেল আরও গোপনীয়, ছোট এবং মতাদর্শিকভাবে কঠোর। তাদের মতে, ইরানের সম্পদ সীমিত হয়ে আসা এবং প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ার কারণে এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি দেশটির সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র ও বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়। তবে এসব গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও কার্যক্রম এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন আইআরজিসি ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। রয়টার্স জানায়, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন দেশগুলোতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে এবং ইরাকের পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পাশ কাটিয়ে এসব সেল পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরাকের আটটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি ইরাকে তিন থেকে চারটি গোপন সেল গঠন করেছে। প্রতিটি সেলে প্রায় ১০ জন করে বাছাই করা ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব সেল ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দক্ষিণ ইরাকের বসরা ও সামাওয়ার কাছাকাছি মরুভূমি এলাকা থেকে কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব সেলের অনেক সদস্যকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ থেকে নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার যোদ্ধা নিয়ে গঠিত এই জোটটি ইরাকের কট্টরপন্থী শিয়া গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। তবে নতুন সেলগুলো ওই জোটের প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে কাজ করছে এবং সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশনা অনুসরণ করছে বলে দাবি করেছে রয়টার্সের সূত্রগুলো। আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন দুইজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডার। রয়টার্স বলছে, ইরাকে এই ধরনের গোপন সেল গঠনের বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে আসেনি। পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমে আসা এবং ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে। শিয়া-অধ্যুষিত ইরাকে বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের অধিকাংশের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গাজা, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাকজুড়ে বিস্তৃত ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এসব গোষ্ঠী। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের পর ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর ব্যানারে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার বিরুদ্ধে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ বা প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যায়নি। গত বছর থেকে ইরাকের কয়েকটি প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে অস্ত্র সমর্পণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে বেশি মনোযোগ দিতে প্রস্তুত। শাসক শিয়া জোটের দুই আইনপ্রণেতা এবং ইরাকি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জসিম আল-বাহাদলি জানিয়েছেন, শিয়া গোষ্ঠীগুলোর এই অবস্থানের কারণেই আইআরজিসি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নতুন দল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে। ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদ সরকারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এমন অবস্থানের পর চলতি মাসে ‘আসাইব আহল আল-হাক’ এবং ‘ইমাম আলী ব্রিগেডস’ নামে দুটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়। শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিষয়ে গবেষক জসিম আল-বাহাদলি বলেন, আইআরজিসির গড়ে তোলা নতুন দলগুলো আকারে ছোট হলেও মতাদর্শগতভাবে অধিক কঠোর এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নিজেদের সম্পদ ও প্রভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
দীর্ঘ পাঁচ মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুর্দি রাজনীতিবিদ নিজার আমেদি। শনিবার দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হলো। পার্লামেন্ট সূত্রে জানা গেছে, প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) মনোনীত প্রার্থী নিজার আমেদি দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটিতে মোট ২২৭টি ভোট পান। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুথান্না আমিন নাদের পেয়েছেন মাত্র ১৫ ভোট। ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর আমেদি ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে নিজার আমেদি বলেন, "দেশের সামনে যে বিশাল চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সে সম্পর্কে আমি পুরোপুরি সচেতন।" তিনি সকল সরকারি বিভাগের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার এবং "ইরাক ফার্স্ট" (ইরাক আগে) নীতিতে অটল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়া সাম্প্রতিক আঞ্চলিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরাকের ওপর হওয়া হামলারও তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ৫৮ বছর বয়সী নিজার আমেদি একজন অভিজ্ঞ আমলা এবং রাজনীতিবিদ। তিনি এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুজন সাবেক প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ইরাকের প্রচলিত ক্ষমতা ভাগাভাগির নিয়ম অনুযায়ী, দেশটির প্রধানমন্ত্রী হবেন শিয়া মুসলিম, স্পিকার হবেন সুন্নি এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন একজন কুর্দি নেতা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এখন সকলের দৃষ্টি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের দিকে। সংবিধান অনুযায়ী, আমেদি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের বৃহত্তম ব্লকের মনোনীত প্রার্থীকে মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর প্রায় ১৫০ দিন ধরে ইরাকে কোনো স্থায়ী সরকার ছিল না। নিজার আমেদির এই নির্বাচন ইরাকের ভঙ্গুর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত নূরী আল-মালিকির নাম নিয়ে ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে ইরাককে একটি স্থিতিশীল সরকার উপহার দিতে কতটুকু সফল হন।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন মার্কিন কূটনৈতিক ও লজিস্টিক সেন্টারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ ভোরে এই হামলা চালানো হয় বলে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের যে এলাকায় এই ড্রোন হামলা হয়েছে সেখানে ইরাকি সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সেন্টার ও কূটনৈতিক দফতর অবস্থিত। হামলার পরপরই পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই ধরণের ড্রোন হামলা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে বাগদাদ বিমানবন্দরের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় এই হামলা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।