বিশ্ব

উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরাকে গোপন সেল গঠন করেছে আইআরজিসি: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১০:৩৫
ইরাকের বসরায় ইরানি কনস্যুলেটের বাইরে তেহরান সরকারের প্রতি সংহতি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিতে আগুন দিচ্ছেন ইরাকি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। ছবি: রয়টার্স
ইরাকের বসরায় ইরানি কনস্যুলেটের বাইরে তেহরান সরকারের প্রতি সংহতি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিতে আগুন দিচ্ছেন ইরাকি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। ছবি: রয়টার্স

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন দেশগুলোতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে এবং ইরাকের পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পাশ কাটিয়ে এসব সেল পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরাকের আটটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি ইরাকে তিন থেকে চারটি গোপন সেল গঠন করেছে। প্রতিটি সেলে প্রায় ১০ জন করে বাছাই করা ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব সেল ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দক্ষিণ ইরাকের বসরা ও সামাওয়ার কাছাকাছি মরুভূমি এলাকা থেকে কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

 

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব সেলের অনেক সদস্যকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ থেকে নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার যোদ্ধা নিয়ে গঠিত এই জোটটি ইরাকের কট্টরপন্থী শিয়া গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম।

 

তবে নতুন সেলগুলো ওই জোটের প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে কাজ করছে এবং সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশনা অনুসরণ করছে বলে দাবি করেছে রয়টার্সের সূত্রগুলো। আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন দুইজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডার।

 

রয়টার্স বলছে, ইরাকে এই ধরনের গোপন সেল গঠনের বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে আসেনি। পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমে আসা এবং ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে।

 

শিয়া-অধ্যুষিত ইরাকে বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের অধিকাংশের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গাজা, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাকজুড়ে বিস্তৃত ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এসব গোষ্ঠী।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের পর ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর ব্যানারে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার বিরুদ্ধে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ বা প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যায়নি।

 

গত বছর থেকে ইরাকের কয়েকটি প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে অস্ত্র সমর্পণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে বেশি মনোযোগ দিতে প্রস্তুত।

 

শাসক শিয়া জোটের দুই আইনপ্রণেতা এবং ইরাকি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জসিম আল-বাহাদলি জানিয়েছেন, শিয়া গোষ্ঠীগুলোর এই অবস্থানের কারণেই আইআরজিসি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নতুন দল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে।

 

ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদ সরকারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এমন অবস্থানের পর চলতি মাসে ‘আসাইব আহল আল-হাক’ এবং ‘ইমাম আলী ব্রিগেডস’ নামে দুটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়।

 

শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিষয়ে গবেষক জসিম আল-বাহাদলি বলেন, আইআরজিসির গড়ে তোলা নতুন দলগুলো আকারে ছোট হলেও মতাদর্শগতভাবে অধিক কঠোর এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নিজেদের সম্পদ ও প্রভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
চাপা পড়ে থাকা ১১২ ফিলিস্তিনির মরদেহ
ধ্বংসস্তূপের নিচে দুই বছর পর মিলল ১১২ মরদেহ, গাজায় গণদাফন

গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ১১২ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করে গণদাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের মরদেহ একসঙ্গে দাফন করা হয়।    স্থানীয় সূত্র জানায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ধীরে ধীরে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ভারী যন্ত্রপাতির সংকট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত ছিল।    উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা জানান, গাজাজুড়ে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাও জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও নিরাপদ প্রবেশাধিকার না থাকায় বহু পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের দাফন করতে পারেনি।    মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, দীর্ঘদিন পর মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত করা শুধু একটি মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং স্বজনদের জন্য মানসিকভাবে শোক কাটিয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৫:১৬
পাকিস্তানে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ,

পাকিস্তানে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক

ক্ষমা চাওয়ায় ইউক্রেনে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করল ইরান

ক্ষমা চাওয়ায় ইউক্রেনে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করল ইরান

ভাইরাল হলো ১ কোটি ১০ লাখ ভিউয়ের পোস্ট

ইলন মাস্কের ছবি এঁকে প্রশংসা নয়, ‘ব্লক’ পেলেন শিল্পী; ভাইরাল হলো ১ কোটি ১০ লাখ ভিউয়ের পোস্ট

ইরানের একটি বাড়িতে ৯০০ কেজির বোমা ফেলল মার্কিন বাহিনী
ইরানের একটি বাড়িতে ৯০০ কেজির বোমা ফেলল মার্কিন বাহিনী, একই পরিবারের তিনজন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক ইরান অভিযানে একটি বেসামরিক বাড়িতে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা আঘাত হেনেছে বলে প্রকাশিত ভিডিও ও উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হন। ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করে না।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি পরিবারের বাড়িতে ওই হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলের ভিডিও, স্যাটেলাইট ছবি এবং ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে ২ হাজার পাউন্ডের শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু এলাকায় কোনো সুস্পষ্ট সামরিক স্থাপনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   হামলার বিষয়ে সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। সংস্থাটির দাবি, সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।    অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, হামলাটি একটি সাধারণ পারিবারিক বাসভবনে চালানো হয়েছে এবং এতে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘিরে হামলার লক্ষ্য নির্বাচন ও গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ০:৫৯
ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে

ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে, মোট জনসংখ্যা ৪৬ মিলিয়ন

তাপপ্রবাহের মধ্যে কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরম থেকে বাঁচতে জনগণকে কুকুরের মাংস খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ার, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার

প্রতিকূলতার মধ্যেও অটুট থেকেছে তুরিয়া পিট ও মাইকেল হসকিনের ভালোবাসা। ছবি: সংগৃহীত

শরীরের ৬৫% পুড়ে গেলেও প্রেমিকাকে ছাড়েননি, বরং চাকরি ছেড়ে হলেন তার সার্বক্ষণিক সেবক

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে পেন্টাগনকে সতর্ক করেছেন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি হামলা থেকে ইসরায়েলকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে!

ইরানের সম্ভাব্য আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এই মুহূর্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে নেই বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনে পাঠানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষপর্যায়ের একটি গোপন চিঠির বরাতে এই উদ্বেগজনক খবরটি সামনে এনেছে আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’।   সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনে সম্প্রতি পাঠানো এক গোপন বার্তায় সরাসরি এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যে নজিরবিহীন নৌ অবরোধ বা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা হয়েছে, তার ফলেই মূলত এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল এলাকাজুড়ে মার্কিন সামরিক সম্পদ ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতার ওপর। পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে জেনারেল গ্রিনকিউইচ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিদ্যমান অস্ত্রসংকটের কারণে ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে হয়তো একপর্যায়ে ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখার চেয়ে নিজেদের বাহিনীর সুরক্ষাকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলকে আকাশপথে সুরক্ষা দিতে দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী রাডার ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সম্বলিত যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে আরব সাগরে ১১টি যুদ্ধজাহাজ এবং দুটি বিশাল বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। এভাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ছড়িয়ে দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অস্ত্রসংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।   পেন্টাগনের এই গোপন বার্তা ফাঁস হওয়ার আগেও অন্য এক মার্কিন কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের যে মজুত ছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসছে। বর্তমান চিত্র অনুধাবন করে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘমেয়াদি বা সর্বাত্মক কোনো সংঘাত তৈরি হয়, তবে সে পরিস্থিতিতে টানা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২২:৩৬
শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের রুট নজরদারির অভিযোগে সন্দেহভাজন একটি গুপ্তচরবৃত্তি চক্রের তদন্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি নজরদারির অভিযোগে জইশ-ই-মোহাম্মদের সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেপ্তার

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতি আলোচনার ইঙ্গিতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো ইরান

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

রাশিয়া এখনো শান্তি চায় না, যুদ্ধ দীর্ঘায়িতের পথেই পুতিন

0 Comments