সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইলনমাস্ক

রোবট ‘অপটিমাস’
মানুষের মতো রোবট ‘অপটিমাস’ উৎপাদন শুরু করল টেসলা, বাজারে আসবে ২০২৭ সালে

মানুষের মতো দেখতে ও চলাফেরা করতে সক্ষম হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপটিমাস’-এর প্রাথমিক বাণিজ্যিক মানের উৎপাদন শুরু করেছে মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রিমন্ট কারখানায় এসব রোবট তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, এটিই টেসলার প্রথম উৎপাদনমানের অপটিমাস রোবট তৈরির উদ্যোগ। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে বাইরের গ্রাহকদের কাছে রোবট সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে বর্তমানে উৎপাদন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং রোবটগুলোর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর)  ইলন মাস্ক অপটিমাসের উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। মাস্ক বলেন, ফ্রিমন্ট কারখানায় বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য তৈরি লাইনে প্রাথমিকভাবে রোবট বানানো শুরু হয়েছে। উৎপাদিত রোবটগুলোকে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সেগুলো এখনই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।   টেসলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্রিমন্ট কারখানার একটি অংশকে রোবট উৎপাদনের জন্য পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। আগে সেখানে মডেল এস ও মডেল এক্স বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কার্যক্রম চলত। এখন সেই জায়গায় অপটিমাসের উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উৎপাদনব্যবস্থার বড় অংশ স্থাপন করা হলেও এখনো বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, রোবটের নকশা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। ফলে শুরুতে উৎপাদনের গতি ধীর থাকবে।   ইলন মাস্কের লক্ষ্য আগামী এক বছর বা তার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ হাজার অপটিমাস রোবট তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ১০ লাখ রোবট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে ফ্রিমন্ট কারখানায়। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা, বর্তমানে উৎপাদিত রোবটের সংখ্যা নয়। টেসলা এখন পর্যন্ত মোট কতটি উৎপাদনমানের অপটিমাস তৈরি করেছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করেনি। মাস্ক নিজেও স্বীকার করেছেন, এত জটিল প্রযুক্তির রোবট ব্যাপক হারে তৈরি করতে সময় লাগবে।   অপটিমাস মূলত দুই পায়ে হাঁটতে সক্ষম একটি মানুষের আকৃতির রোবট। টেসলার লক্ষ্য এমন রোবট তৈরি করা, যা মানুষের জন্য পুনরাবৃত্তিমূলক, শারীরিকভাবে কঠিন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে পারবে। ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ঘরোয়া কাজেও ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তবে বর্তমানে অপটিমাস কত ধরনের কাজ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে করতে পারে, তার বিস্তারিত স্বাধীন পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি।   উৎপাদন শুরু হলেও অপটিমাসের সামনে কয়েকটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে মানুষের হাতের মতো সূক্ষ্মভাবে কোনো বস্তু ধরা, স্থানান্তর করা এবং বিভিন্ন ধরনের কাজে হাত ব্যবহার করার সক্ষমতা উন্নত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করার কাজ চলছে। মাস্ক জানিয়েছেন, একটি রোবট কয়েক সপ্তাহ বা এক মাস ব্যবহারের পর অচল হয়ে গেলে তা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হবে না। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোও জরুরি।   এসব সমস্যা সমাধানে টেসলা ‘অপটিমাস একাডেমি’ নামে একটি প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলছে। সেখানে রোবটগুলোকে বিভিন্ন বাস্তব কাজ অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাস্ক জানিয়েছেন, গাড়ির স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তির তুলনায় হিউম্যানয়েড রোবট প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত বাস্তব কাজের তথ্য সংগ্রহ করা। ফলে বিপুলসংখ্যক রোবট তৈরি করার পাশাপাশি সেগুলোকে দক্ষ করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।   প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে অপটিমাসে টেসলার পরবর্তী প্রজন্মের এআই৫ চিপ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইলন মাস্কের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের এপ্রিলের দিকে এই চিপ রোবটে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তাঁর দাবি, নতুন চিপ রোবটের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। তবে পরিকল্পিত এই সময়সূচি ও সক্ষমতা এখনো বাস্তবে নিশ্চিত হয়নি। টেসলা আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে অপটিমাসের আরও উন্নত কাজের একটি প্রদর্শনী প্রকাশের কথাও জানিয়েছে।   এদিকে অপটিমাসের বাজারজাতকরণের সময়সূচি নিয়েও নতুন তথ্য দিয়েছেন মাস্ক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ টেসলার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে রোবট সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য গ্রাহক হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য রোবটটি কবে বাজারে আসবে, কত দাম হবে কিংবা কোন দেশে প্রথম বিক্রি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ২০২৭ সালের সময়সূচিকে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিক্রি শুরুর নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।   বিশ্বজুড়ে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। টেসলার পাশাপাশি বোস্টন ডায়নামিকস, ফিগার এআই এবং অ্যাজিলিটি রোবোটিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও মানুষের কাজের উপযোগী রোবট তৈরিতে বিনিয়োগ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বিশেষ করে শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থায় রোবটের ব্যবহার বাড়ানো। তবে বাস্তব কর্মপরিবেশে দীর্ঘ সময় নিরাপদে ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করার সক্ষমতা এখনো এই খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে উৎপাদন শুরুর ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাজারে সফলতা অর্জনের জন্য আরও পরীক্ষা ও উন্নয়ন প্রয়োজন।   অপটিমাসের মতো রোবট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে মানুষের পাশাপাশি রোবট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি কত কর্মসংস্থান তৈরি করবে অথবা কত কাজের ধরন পরিবর্তন করবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। উৎপাদন খরচ, নিরাপত্তা, দক্ষতা ও বাস্তব ব্যবহারের ফলাফলের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে।   টেসলার অপটিমাস উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাইরেও রোবটিকস প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিস্তারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি প্রাথমিক উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী এক বছরে উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারা হবে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইলন মাস্কের ঘোষণা অনুযায়ী, এসব কাজ সফল হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে বাইরের গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে পারে অপটিমাস।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
‘সনাতন ভারতের বিরোধী রাবণ’ নামের পোস্টার ঘিরে বিতর্ক
রাবণের দশ মাথায় ড. ইউনূস ও ইলন মাস্কের ছবি, লক্ষ্ণৌতে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌতে দশেরা উৎসবের আগে রাবণের একটি পোস্টার ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পোস্টারটিতে রাবণের দশটি মাথায় বসানো হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কসহ বিভিন্ন দেশের পরিচিত রাজনীতিক ও ব্যক্তিত্বের ছবি। ‘সনাতন ভারতের বিরোধী রাবণ’ নামের এই পোস্টারটি প্রচার করেছে সনাতন রক্ষা সংগঠন।   পোস্টারটিতে প্রতীকীভাবে এমন ব্যক্তিদের মুখচ্ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যাঁদের সংগঠনটি সনাতন ভারতের বিরোধী হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। এতে ভারতের রাজনীতিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির ছবিও স্থান পেয়েছে। পোস্টারে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের সাবেক বিধায়ক আতিক আহমেদ ও মুক্তার আনসারি, রাজনীতিক আজম খান, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এ ছাড়া রয়েছে ইলন মাস্ক, বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ভারতীয় আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, জর্জ সরোস ও ইলহান ওমরের ছবি। দশেরা বা ‘রাবণ দহন’ উৎসবকে কেন্দ্র করেই পোস্টারটি প্রচার করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, এ উৎসবে রাবণের প্রতিকৃতি পোড়ানোর মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়কে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। তবে এবার রাবণের দশ মাথায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক পরিচিত মুখের ছবি ব্যবহার করায় উৎসবটি ঘিরে রাজনৈতিক মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। ভারতের একটি গণমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে লক্ষ্ণৌয়ের একটি স্থান থেকে সমাজবাদী পার্টির কর্মীদের এ ধরনের একটি পোস্টার সরিয়ে নিতে দেখা যায়। পোস্টারটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে এতে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নজর কেড়েছে। এ প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির এক সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে অখিলেশ যাদবের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে বিজেপি উদ্বিগ্ন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই পোস্টারে অখিলেশের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি দেখা উচিত। তবে পোস্টারটিতে থাকা সব ব্যক্তির ছবি ব্যবহারের পেছনে সংগঠনটির নির্দিষ্ট যুক্তি কী, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে, পোস্টারটি ঘিরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। দশেরা উৎসবের মতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি যুক্ত হওয়ায় লক্ষ্ণৌয়ের এই পোস্টার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ইলন মাস্কের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের ছবি একই পোস্টারে থাকায় বিষয়টি ভারতের বাইরেও আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইলন মাস্কের পরিকল্পনায় আমেরিকার প্রতিটি শিশুর জন্য স্পেসএক্সের শেয়ার
আগামী বছর আমেরিকার সব শিশুর হাতে স্পেসএক্সের শেয়ার তুলে দেওয়ার ঘোষণা ইলন মাস্কের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে মহাকাশ গবেষণা ও রকেট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। আগামী বছর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক এ ঘোষণা দেন। তবে কীভাবে শেয়ার বিতরণ করা হবে, কোন বয়সের শিশুরা এই সুবিধা পাবে কিংবা উদ্যোগটি বাস্তবায়নে কী ধরনের শর্ত থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।   মাস্ক তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “এটি হবে এমন অনেক উদ্যোগের প্রথমটি।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরবর্তী পরিকল্পনাগুলো কী হতে পারে, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ার বিতরণের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এর আর্থিক পরিসর হতে পারে বিশাল। দেশটিতে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ শিশু রয়েছে বলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যেককে একটি করে শেয়ার দেওয়া হলে মোট শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখে। বর্তমান শেয়ারের মূল্য ধরে এই উদ্যোগের সম্ভাব্য আর্থিক মূল্য প্রায় ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক লাখ কোটি টাকার সমান, যদিও বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। তবে এই অর্থকে নিশ্চিত ব্যয় বা চূড়ান্ত অনুদানের মূল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, শেয়ার বিতরণের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং কোন সময়ের বাজারদর ধরে হিসাব করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শেয়ারের মূল্য পরিবর্তিত হলে পুরো উদ্যোগের আর্থিক মূল্যও কমবেশি হতে পারে। মাস্কের এই ঘোষণার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে স্পেসএক্সের ব্যবসায়িক অবস্থান এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার কারণে। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স রকেট উৎক্ষেপণ, মহাকাশ পরিবহন এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার জন্য পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মালিকানা পাওয়ার অর্থ হলো কোম্পানিটির মালিকানায় একটি অংশীদারত্ব অর্জন করা। তবে একটি শেয়ারের মালিক হওয়া মানেই কোনো শিশুর হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে যাওয়া নয়। শেয়ারটির আর্থিক মূল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ে কোম্পানির বাজারমূল্য ও শেয়ারের দামের ওপর। এর আগে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা গুইন শটওয়েল এবং তাঁর স্বামীও যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের জন্য কোম্পানিটির শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁদের পরিকল্পনায় ২০ লাখের বেশি শিশুর জন্য শেয়ার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ওই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল শিশুদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য তৈরি ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস কর্মসূচি। শটওয়েলের উদ্যোগটি ছিল নির্দিষ্টসংখ্যক শিশুকে লক্ষ্য করে নেওয়া একটি পরিকল্পনা। অন্যদিকে, মাস্কের নতুন ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। মাস্কের ঘোষণাটি তাই আগের উদ্যোগের তুলনায় অনেক বড় পরিসরের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে দুই পরিকল্পনা একই কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত হবে, নাকি আলাদাভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মাস্ক তাঁর পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি কর্মসূচির নাম উল্লেখ করেননি। ফলে শেয়ারগুলো শিশুদের বিদ্যমান বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে জমা হবে, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে, সে প্রশ্নের উত্তরও আপাতত অজানা। এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নয় এমন শিশুরা এই সুবিধা পাবে কি না, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, কিংবা শেয়ারের মালিকানা শিশুদের নামে সরাসরি নিবন্ধিত হবে কি না। এসব বিষয়ে মাস্ক এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি। শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, অভিভাবকের ভূমিকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিনিয়োগ পরিচালনার নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি বিষয় অবশ্য স্পষ্ট—এটি এখন পর্যন্ত ঘোষিত একটি পরিকল্পনা। শেয়ার বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত এবং বাস্তবায়নপদ্ধতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি শিশু নিশ্চিতভাবে একটি করে শেয়ার পাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। একইভাবে, প্রতিটি শিশুর হাতে কত ডলারের সম্পদ পৌঁছাবে, সেটিও এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মাস্কের ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে অংশগ্রহণের একটি বড় সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ নিলে তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত শর্ত, শেয়ার হস্তান্তরের পদ্ধতি এবং স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ বাজারমূল্যের ওপর।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
স্পেসএক্সের থ্রাস্টারসহ নতুন টেসলা রোডস্টার
আকাশে উড়বে, মাঝপথে ডিগবাজিও খাবে টেসলার নতুন গাড়ি, থাকছে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার ‘রোডস্টার’ সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। গাড়িটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো, এতে যুক্ত করা হয়েছে স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি রকেটের মতো থ্রাস্টার। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটিকে বাতাসে উঠতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে নামতে দেখা গেছে। এমনকি বিশেষ সাকশন ব্যবস্থার সাহায্যে উল্টো করে তৈরি একটি র‍্যাম্পের নিচের অংশে গাড়ি চালানোর প্রদর্শনীও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করা হয়। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের উপস্থিতিতে গাড়িটির বিভিন্ন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীতে গাড়িটি বাতাসে ঘুরে যাওয়ার পাশাপাশি পার্ক করে রাখা কয়েকটি গাড়ির ওপর দিয়েও উড়ে যায়। প্রায় নয় বছর আগে প্রথমবার নতুন প্রজন্মের রোডস্টারের ধারণা সামনে এনেছিল টেসলা। এবার এর নকশা ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখানো হলো। টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টার ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ মাইল বা প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নিতে পারে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি, যা প্রায় ৩৭০ কিলোমিটারের সমান। তবে মাস্কের মতে, স্পেসএক্সের প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার পর গাড়িটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক শুধু দ্রুতগতিতে চলার ক্ষমতা নয়; বরং বাতাসে বিভিন্ন কৌশল দেখানোর সক্ষমতা। গাড়িটিতে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার। টেসলার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক অ্যাকচুয়েটরের মাধ্যমে এসব থ্রাস্টার খুব দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ধাক্কা বা থ্রাস্ট তৈরি করতে পারে। এর ফলে বাতাসে থাকা অবস্থায় গাড়ির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সমন্বয় করা সম্ভব হয়। গাড়িটি মাঝআকাশে ঘুরে যাওয়া কিংবা নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণের মতো কৌশল দেখাতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো গাড়ির নিচে থাকা ফ্যানভিত্তিক সাকশন ব্যবস্থা। টেসলার প্রদর্শনীতে এই ব্যবস্থার সাহায্যে গাড়িটিকে উল্টোভাবে তৈরি র‍্যাম্পে আটকে থাকতে দেখা যায়। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি সর্বোচ্চ দুই জি পর্যন্ত বল তৈরি করতে পারে। এর উদ্দেশ্য শুধু ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী নয়, বরং গাড়ির নিচের দিকে চাপ বাড়িয়ে বাঁক নেওয়ার সময় সড়কের সঙ্গে সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ উন্নত করা। মাস্ক বলেন, গাড়ির নিচের দিকে বেশি চাপ তৈরি হলে এটি ট্র্যাকে দ্রুত বাঁক নিতে পারবে। তাঁর দাবি, এই প্রযুক্তির কারণে রোডস্টার প্রচলিত স্পোর্টস কারের তুলনায় অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারে এবং বিভিন্ন ট্র্যাকের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দাবি এবং বাস্তব ব্যবহারে গাড়িটির পারফরম্যান্সের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। স্বাধীনভাবে সব প্রযুক্তিগত দাবি যাচাইয়ের সুযোগ এখনো সীমিত। গাড়িটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাস্ক নিজেই স্বীকার করেছেন, এটি সব দিক থেকে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি গাড়ি নয়। তিনি অবশ্য এটিকে চালানোর অভিজ্ঞতার দিক থেকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর বলে তুলে ধরেছেন। সাধারণ সড়কে গাড়িটির বাতাসে ওড়ার মতো কৌশলগুলো আইনগতভাবে অনুমোদিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে প্রদর্শনীতে দেখানো প্রযুক্তি বাস্তবে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নতুন রোডস্টারের দামও এখনো পুরোপুরি ঘোষণা করেনি টেসলা। তবে গাড়িটির তিনটি সংস্করণের জন্য বুকিং বা রিজার্ভেশন চালুর তথ্য পাওয়া গেছে। ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার জমা দিতে হবে। ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণে দ্রুতগতির জন্য অতিরিক্ত থ্রাস্টার রয়েছে এবং এর জন্য জমার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ‘রকেট’ সংস্করণটি কেবল আমন্ত্রণের ভিত্তিতে পাওয়া যাবে; এর নির্দিষ্ট মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। এই সংস্করণে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট ব্যবস্থা থাকার কথা জানানো হয়েছে। নতুন রোডস্টার তৈরির পরিকল্পনা প্রথম সামনে আসে ২০১৭ সালে। তখন গাড়িটির প্রাথমিক মূল্য ২ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ২০২০ সাল থেকে সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু হয়নি। এবার টেসলা জানিয়েছে, গাড়িটির উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের হাতে গাড়িটি পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে। টেসলার জন্য রোডস্টার শুধু একটি দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়; এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরারও একটি প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটি স্বচালিত গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবট প্রযুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রোডস্টার প্রতিষ্ঠানটির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি তৈরির পরিচয়কে আবার সামনে আনতে পারে। তবে প্রদর্শনীতে দেখানো সব কৌশল সাধারণ সড়কে ব্যবহার করা যাবে কি না, গাড়িটির চূড়ান্ত মূল্য কত হবে এবং উৎপাদনের সময়সীমা এবার বজায় রাখা সম্ভব হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত রকেট থ্রাস্টার, বাতাসে ঘোরার সক্ষমতা এবং অস্বাভাবিক দ্রুতগতির দাবিই টেসলার নতুন রোডস্টারকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ভারতে স্টারলিংক চালু নিয়ে ইলন মাস্কের অভিযোগ
স্টারলিংক চালুতে ভারতে বাধা, ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে দায়ী করলেন ইলন মাস্ক

ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। দেশটির কিছু ‘ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠী’ নিজেদের একচেটিয়া প্রভাব ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি মাস্ক।   বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার স্বার্থে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী স্টারলিংককে আটকে দিচ্ছে। তিনি লেখেন, কারা এর সঙ্গে জড়িত তা সহজেই অনুমান করা যায়। একই পোস্টে তিনি এই বাধাকে ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে ‘অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেন।   মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পেলেও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দসহ পরবর্তী ধাপের অনুমোদন শেষ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে স্টারলিংকের ভারতীয় কার্যক্রম।   ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে বর্তমানে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের মতো বড় কোম্পানির শক্ত অবস্থান রয়েছে। মাস্কের বক্তব্যে কারও নাম না থাকলেও তাঁর মন্তব্যকে দেশটির বড় টেলিযোগাযোগ ব্যবসায়ীদের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো মাস্কের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   মাস্কের অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার ভারতের সরকার এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামো সবার জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যহীন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য লাইসেন্স পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানকেই একই ধরনের নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।   সরকার জানিয়েছে, ভারতে বর্তমানে তিনটি বৈশ্বিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। তিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে এবং তারা বর্তমানে মোটামুটি একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।   ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে। তাই নিয়ন্ত্রক কাঠামো কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে লক্ষ্য করে তৈরি বা প্রয়োগ করা হচ্ছে—এমন দাবি ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।   অন্যদিকে, স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার সম্প্রতি জানান, ভারতীয় বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কোম্পানিটি বিনিয়োগ করেছে এবং সরকারি অনুমোদন পেলেই সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।   ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে নিরাপত্তা, স্পেকট্রাম এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্ক কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলবে, তা নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   ভারতের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টারলিংকও দাবি করে আসছে, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার অবকাঠামো পৌঁছানো কঠিন এমন এলাকাগুলোতে তাদের সেবা ইন্টারনেট সংযোগ বাড়াতে পারে।   তবে ভারতের বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাও জড়িত। রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল ইতোমধ্যে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। একই সময়ে তারাও স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ফলে ইলন মাস্কের অভিযোগ এবং ভারতের সরকারের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে দেশটির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে মাস্ক দ্রুত স্টারলিংক চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে ভারত সরকার বলছে, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করেই সব প্রতিষ্ঠানকে সেবা চালুর সুযোগ দেওয়া হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
২৫ বছর বয়সী আমান সাঙ্গারের এআই প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করেছে স্পেসএক্স
২৫ বছরেই বিলিয়নিয়ার ভারতীয় তরুণ! তার ৬ হাজার কোটি ডলারের এআই প্রতিষ্ঠান কিনল স্পেসএক্স

মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিশ্বের প্রযুক্তি খাতে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা আমান সাঙ্গার। তাঁর সহপ্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোডিং প্ল্যাটফর্ম কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ার ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের চুক্তিতে অধিগ্রহণ করেছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। গত ১৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পেসএক্স।   মাত্র চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়াশোনার সময় তিন বন্ধুকে নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেছিলেন আমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাইকেল ট্রুয়েল, সুয়ালেহ আসিফ ও আরভিড লুনেমার্ক। ২০২২ সালে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত অ্যানিস্ফিয়ার পরবর্তী সময়ে কারসর নামের এআই কোডিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। অল্প সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে প্রযুক্তিটি।   কারসর মূলত এমন একটি সফটওয়্যার, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রোগ্রামিং কোড লেখা, সংশোধন, ব্যাখ্যা করা এবং ভুল শনাক্ত করা যায়। একজন ডেভেলপার সাধারণ ভাষায় নির্দেশনা দিলেই সফটওয়্যারটি সেই অনুযায়ী কোড তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত কোড এডিটরের সঙ্গে এআই প্রযুক্তিকে সরাসরি যুক্ত করার কারণেই কারসর দ্রুত প্রযুক্তি খাতে পরিচিতি পায়।   আমান সাঙ্গারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কে। তাঁর পরিবার ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বাবা অরবিন্দ সাঙ্গার ভারতের আইআইটি বোম্বের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিনিয়োগ খাতের একজন পেশাজীবী। মা শিল্পা সাঙ্গার একজন অর্থোডন্টিস্ট ও উদ্যোক্তা। মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আমানের। পরে তিনি এমআইটিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেন আমান। এর আগে গুগল ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। নিজস্ব এআইভিত্তিক উদ্যোগ নিয়েও পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সহপাঠীর সঙ্গে মিলে অ্যানিস্ফিয়ার প্রতিষ্ঠা করেন।   প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির শুরুটা অবশ্য বর্তমান কারসরের মতো ছিল না। প্রতিষ্ঠাতারা প্রথম দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরির সম্ভাবনা পরীক্ষা করছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের পুরো প্রক্রিয়াতেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই ধারণা থেকেই কারসরের উন্নয়ন শুরু হয়।   কারসর জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ এর ব্যবহারপদ্ধতি। সাধারণ কোডিং সফটওয়্যারে ডেভেলপারকে বিভিন্ন কাজ নিজে করতে হয়। কিন্তু কারসরে এআইকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে একাধিক ফাইলের কোড পরিবর্তন, নতুন ফিচার তৈরি কিংবা বিদ্যমান কোডের সমস্যা সমাধানে সহায়তা নেওয়া যায়। ফলে সফটওয়্যার তৈরির সময় ও শ্রম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।   প্রযুক্তিটি দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যানিস্ফিয়ারের ব্যবসায়িক মূল্যও বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালের জুনে বিনিয়োগ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৯৯০ কোটি ডলার। পরবর্তী সময়ে এআই কোডিং প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিটির মূল্যায়ন আরও বৃদ্ধি পায়।   স্পেসএক্সের সঙ্গে কারসরের সম্পর্ক শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। সে সময় দুই প্রতিষ্ঠান এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতার ঘোষণা দেয়। চুক্তিতে নির্দিষ্ট শর্তে অ্যানিস্ফিয়ার অধিগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছিল। পরে ১৬ জুন আনুষ্ঠানিক অধিগ্রহণ চুক্তি হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নথি অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট অধিগ্রহণ কার্যকর হওয়ার পর অ্যানিস্ফিয়ার স্পেসএক্সের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চুক্তির আওতায় অ্যানিস্ফিয়ারের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য স্পেসএক্সের প্রায় ৩৮ কোটি ৯৩ লাখ সাধারণ শেয়ার বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়। লেনদেনে অ্যানিস্ফিয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ হাজার কোটি ডলার।   অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর কারসরের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, স্পেসএক্সের বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় আরও উন্নত এআই মডেল তৈরি এবং গ্রাহকদের তুলনামূলক কম খরচে সেবা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মূলত মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কম্পিউটিং অবকাঠামোতেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। কারসর অধিগ্রহণ সেই সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   অ্যানিস্ফিয়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমান বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পণ্যের প্রসার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে ৬ হাজার কোটি ডলারের অধিগ্রহণমূল্যকে আমানের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এটি পুরো প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন। প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত সম্পদ নির্ভর করে তাঁদের মালিকানাধীন শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থার ওপর।   আমানের এই উদ্যোক্তা যাত্রা প্রযুক্তি খাতে তরুণ প্রতিষ্ঠাতাদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় চার বন্ধুর উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এআই সফটওয়্যার কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।   স্পেসএক্সের অধীনে যাওয়ার পর কারসর কত দ্রুত নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবে এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের বাজারে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এর মধ্যেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৫ বছর বয়সী আমান সাঙ্গার আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আলোচনায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ইলন মাস্কের প্রযুক্তিকে ব্যঙ্গ করে ভিভিয়ান উইলসনের এআইবিরোধী বার্তা
বিশ্ব জয় করলেও ঘর সামলাতে পারছেন না ইলন মাস্ক? মেয়ে ও স্ত্রীর কাছে নাস্তানাবুদ

ইলন মাস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে তার ২২ বছর বয়সী মেয়ে ভিভিয়ান জেনা উইলসআউনের এআইবিরোধী নতুন ফ্যাশন ক্যাম্পেইনে। স্প্যানিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড Desigual-এর ‘Born to Disobey’ ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে মাস্কের তৈরি প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা একটি হিউম্যানয়েড রোবটকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। একই সময়ে মাস্ককে নিয়ে তার সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।  Desigual-এর প্রচারণায় উইলসনকে একটি হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়। রোবটটিকে গলফের টি হিসেবে ব্যবহার করা, ঘাস কাটানো, পোষা প্রাণীর মতো বেঁধে রাখা এবং বিছানায় নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত মেঝেতে ছুড়ে ফেলেন তিনি। প্রচারণার বার্তা হিসেবে তিনি বলেন, কিছু জিনিস ঠিক করার জন্য তৈরি নয়।  মাস্কের সঙ্গে উইলসনের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় ২০২০ সালে। তখন ১৬ বছর বয়সে তিনি জেন্ডার ট্রানজিশন শুরু করেন। দুই বছর পর নিজের আইনি নাম পরিবর্তন করে তিনি জানান, কোনোভাবেই আর মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে চান না।  এদিকে মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের সম্পর্কও উঠে এসেছে পরিচালক অ্যালেক্স গিবনির নতুন প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘Musk’-এ। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রিমিয়ার হয় ৮ সেপ্টেম্বর। এতে মাস্কের সাবেক স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারসহ তার জীবন ও ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার রয়েছে।  সেন্ট ক্লেয়ার, যিনি মাস্কের এক সন্তানের মা এবং বর্তমানে সন্তানের কাস্টডি নিয়ে তার সঙ্গে আইনি বিরোধে রয়েছেন, দাবি করেছেন মাস্কের টিম তাকে তথ্যচিত্রে অংশ না নেওয়ার বিনিময়ে ৪ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানান।  সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি, মাস্ক একবার তাকে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আগে তার ‘সন্তানদের একটি বিশাল বাহিনী’ প্রয়োজন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাস্ক তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মাধ্যমে সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছেন। এসব বক্তব্য অবশ্য সেন্ট ক্লেয়ারের অভিযোগ ও মতামত হিসেবে এসেছে।  অন্যদিকে তথ্যচিত্রে অংশ নিতে মাস্ক নিজে রাজি হননি। তিনি পরিচালক গিবনির কাজকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচনা করেছেন। গিবনি জানিয়েছেন, প্রকল্পের শুরুতে তিনি মাস্কের প্রতি এক ধরনের প্রশংসাবোধ থেকেই কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরে তথ্য অনুসরণ করতে গিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।  উইলসনও এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, সবকিছুর জন্য এআই ব্যবহার করলে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও স্বাতন্ত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার নতুন ফ্যাশন ক্যাম্পেইনেও মূলত প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিরুদ্ধে এমনই একটি বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।  গিবনির ‘Musk’ তথ্যচিত্রে মাস্কের ব্যবসায়িক উত্থান, রাজনৈতিক প্রভাব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে। ছবিটি অক্টোবর ২০২৬-এ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যবিত্তের নাগালে টেসলা: আসছে ছোট ও সাশ্রয়ী নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি

ইলেকট্রিক গাড়ির জগতে বিপ্লব ঘটানো ইলন মাস্কের কোম্পানি টেসলা এবার সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন একটি প্রজেক্টে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই নতুন মডেলটি হবে একটি কমপ্যাক্ট এসইউভি (SUV), যা বর্তমানে বাজারে থাকা টেসলার জনপ্রিয় মডেল ‘মডেল ওয়াই’ (Model Y) এর চেয়ে আকারে ছোট হবে।  ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪.২৮ মিটার। দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ির জন্য টেসলা ভক্তরা অপেক্ষায় থাকলেও মাঝে রোবোট্যাক্সি এবং হিউম্যানয়েড রোবট প্রজেক্টের দিকে বেশি নজর দিয়েছিল কোম্পানিটি। তবে সম্প্রতি আবারও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গাড়ি আনার পরিকল্পনা শুরু করেছে তারা।  এই নতুন মডেলটির উৎপাদন মূলত চীনে শুরু হবে, তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কারখানাতেও এটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কম্পোনেন্ট এবং যন্ত্রাংশ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরবরাহকারীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে টেসলা কর্তৃপক্ষ।  যদিও এর আগে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি সাশ্রয়ী মডেলের প্রজেক্ট স্থগিত করা হয়েছিল, তবে বর্তমান বাজারের প্রতিযোগিতা এবং ইলেকট্রিক গাড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে টেসলা এই নতুন পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার ২৫০ সেরা উদ্ভাবকের শীর্ষে ইলন মাস্ক: ফোর্বস

বিশ্ববিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস আমেরিকার ২৫০ জন সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকের একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত এই তালিকায় বর্তমান সময়ের প্রভাবশালী সব উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞানীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।   তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন টেক বিলিওনিয়ার ইলন মাস্ক যাকে টেসলা, স্পেসএক্স এবং নিউরালিংকের মতো বৈপ্লবিক সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এই অনন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষ দশে ইলন মাস্কের পাশাপাশি রয়েছেন জেফ বেজোস, বিল গেটস এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। ওপেনএআই এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও এই তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।   ফোর্বস জানিয়েছে যে এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা, বাণিজ্যিক প্রভাব এবং শিল্পক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো এই তালিকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্থান দখল করেছেন নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্ভাবকরা যা আমেরিকার বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবনী শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ফোর্বসের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে দেশটির প্রযুক্তিগত আধিপত্যের পেছনে এই উদ্ভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। আধুনিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বায়োটেকনোলজির মতো খাতে যারা পৃথিবীকে নতুন দিশা দেখিয়েছেন তারাই এই তালিকায় অগ্রাধিকার পেয়েছেন।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই তালিকাটি আগামীর তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে আমেরিকার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।

Unknown মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০