বিশ্ববিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস আমেরিকার ২৫০ জন সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকের একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত এই তালিকায় বর্তমান সময়ের প্রভাবশালী সব উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞানীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।
তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন টেক বিলিওনিয়ার ইলন মাস্ক যাকে টেসলা, স্পেসএক্স এবং নিউরালিংকের মতো বৈপ্লবিক সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এই অনন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষ দশে ইলন মাস্কের পাশাপাশি রয়েছেন জেফ বেজোস, বিল গেটস এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। ওপেনএআই এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও এই তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।
ফোর্বস জানিয়েছে যে এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা, বাণিজ্যিক প্রভাব এবং শিল্পক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো এই তালিকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্থান দখল করেছেন নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্ভাবকরা যা আমেরিকার বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবনী শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
ফোর্বসের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে দেশটির প্রযুক্তিগত আধিপত্যের পেছনে এই উদ্ভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। আধুনিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বায়োটেকনোলজির মতো খাতে যারা পৃথিবীকে নতুন দিশা দেখিয়েছেন তারাই এই তালিকায় অগ্রাধিকার পেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই তালিকাটি আগামীর তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে আমেরিকার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। রিপাবলিকান দলের এই আইনপ্রণেতা দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দিক থেকে ক্ষতির মুখে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাসি লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা কমেছে, জ্বালানি মজুত হ্রাস পেয়েছে, সামরিক সদস্যদের প্রাণহানি ঘটেছে, ভোক্তা পণ্যের দাম বেড়েছে এবং দেশের জাতীয় ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ম্যাসি তার পোস্টে আরও বলেন, প্রশাসনের নীতির কারণে “ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ হয়েছে, তেলের মজুত কমেছে, সেনাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, ভোক্তা পণ্যের দাম বেড়েছে এবং দেশের ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে”—যা তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন উপেক্ষা করার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন। থমাস ম্যাসি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশে সামরিক অভিযান ও অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সমালোচনা করে আসছেন। ইরান ইস্যুতেও তার অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিপাবলিকান দলের এই আইনপ্রণেতা এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার সর্বশেষ মন্তব্যকে ইরান সংঘাত নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরের মতপার্থক্যের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে ম্যাসির এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা নিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরেও মতবিরোধ রয়েছে। একদিকে কিছু আইনপ্রণেতা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিচ্ছেন, অন্যদিকে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তির মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস উইথ মারিয়া বার্তিরোমো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, তিনি জাতিসংঘের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে অবস্থানের কারণে মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থি বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে পরে মামদানি স্পষ্ট করেন, তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী মনে করলেও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনগত ক্ষমতা তার নেই। ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মামদানি বিভাজনের রাজনীতি করছেন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় মামদানি ও তার পরিবার সেটি উদযাপন করেছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও মামদানিকে ঘিরে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসির যৌথ জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি নাগরিকদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ মামদানিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা। একই জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ ইহুদি নাগরিক নেতানিয়াহুর প্রতি নেতিবাচক মতামত জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত। এ মতের সঙ্গে একমত নন ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা। গাজা যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আইসিসির এই সিদ্ধান্তের পর আদালতের সদস্য দেশগুলোতে নেতানিয়াহুর ভ্রমণ নিয়েও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও ইসরায়েল আইসিসির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং আদালতের এখতিয়ার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। জাতিসংঘের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য উপস্থিতি তাই কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ইসরায়েল তার অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে গাজা যুদ্ধ ও আইসিসির পরোয়ানা ঘিরে তাকে ঘিরে রয়েছে ব্যাপক আন্তর্জাতিক বিতর্ক।
হংকংয়ে এক নারী ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করার দায়ে কারাদণ্ড পেয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ওই নারী পরিকল্পিতভাবে অভিযোগটি তৈরি করেছিলেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ করেছিলেন। ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইসাবেল রোজ নামের ওই নারী হংকং পুলিশের কাছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তবে ঘটনার দুই দিন পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। রোজকেই গ্রেপ্তার করা হয় ওই ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে। তদন্তে উঠে আসে, তিনি যাকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন, সেই একই ব্যক্তির কাছ থেকেই ১ লাখ ৩৩ হাজার ডলার দাবি করেছিলেন। মামলাটি আদালতে গেলে হংকংয়ের জেলা আদালতের বিচারক অ্যাড্রিয়ানা সে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। বিচারক বলেন, অভিযোগটি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছিল এবং তা “স্পষ্টভাবে মিথ্যা” বলে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত অভিযুক্ত পুরুষকে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ ঘোষণা করে। বিচারক তাকে সৎ, বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে রোজকে ব্ল্যাকমেইল এবং বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। রোজের আইনজীবীরা আদালতের কাছে সাজা কমানোর আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। আদালত তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার কারাগারে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে রোজ হংকংয়ের তাই লাম সংশোধনাগারে সাজা ভোগ করছেন। আদালতের রায়ের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। কারণ মিথ্যা অভিযোগ শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনি অবস্থানই নয়, তার ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক সম্মান এবং মানসিক অবস্থার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিচার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যৌন অপরাধের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হওয়ায় প্রতিটি অভিযোগ যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অভিযোগের গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।