- প্রচ্ছদ
- Topic
উচ্চশিক্ষা
ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেড়ে ওঠা দুই ভাই হাসান সাদ ইফতি ও হাসান সামি আদনান উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় পাড়ি দিয়েছেন ভিন্ন দুটি পথে। ইফতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাইপারসনিকস বিষয়ে ডক্টরেট শেষ করে এখন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। অন্যদিকে, আদনান অক্সফোর্ডে স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। একজনের কাজের ক্ষেত্র অতি উচ্চগতির উড্ডয়ন প্রযুক্তি, অন্যজনের স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির প্রয়োগ। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি অনুযায়ী, হাসান সাদ ইফতি প্রতিষ্ঠানটির অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি ২০২২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্সে ডিফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর বিশেষায়িত বিষয় ছিল হাইপারসনিকস। এর আগে জার্মানির স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের ফল সেমিস্টারে টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন ইফতি। তাঁর গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে হাইপারসনিকস, বিশেষ ধরনের শীতলীকরণ প্রযুক্তি, ছিদ্রযুক্ত পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবাহ এবং উচ্চগতির বায়ুপ্রবাহের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে হাইপারসনিক যানের সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা একটি গবেষণাগারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকও তিনি। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রকাশিত তাঁর পরিচিতিতে ময়মনসিংহকে তাঁর নিজ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসান সামি আদনানের গবেষণার ক্ষেত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি। অক্সফোর্ডের নাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব প্রাইমারি কেয়ার হেলথ সায়েন্সেসের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে তাঁকে ডিফিল গবেষক ও ডিজিটাল হেলথ ডিজাইনার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি একাধিক রোগে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। রোগী ও চিকিৎসকের প্রয়োজনকে সামনে রেখে এসব প্রযুক্তি কীভাবে তৈরি ও মূল্যায়ন করা যায়, সেটিও তাঁর কাজের অংশ। নিজের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদনান ২০২১ সালের অক্টোবরে অক্সফোর্ডে প্রাইমারি হেলথ কেয়ারে ডিফিল গবেষণা শুরু করেন। তাঁর আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপান্তর, রোগীর তথ্যের গোপনীয়তা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার। অক্সফোর্ডের বিভাগীয় পরিচিতিতে তাঁর গবেষণাপত্রের তালিকাও রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে আইসায়েন্স সাময়িকীতে স্বাস্থ্যসেবায় বৃহৎ পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের কাঠামো নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণা অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করছেন বাংলাদেশের নাজিফা বিনতে হারুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টে তিনি ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে এমফিল করছেন। অক্সফোর্ডের সেন্ট অ্যান্টনিস কলেজের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটেও তাঁকে ওডিআইডি ডিএসি স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে নিজের শিক্ষাজীবনে বৃত্তিটির প্রভাব এবং ভবিষ্যতে সমাজে অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন তিনি। নাজিফার অর্জিত বৃত্তিটি অক্সফোর্ডের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ ও সেন্ট অ্যান্টনিস কলেজের যৌথ উদ্যোগের অংশ। কলেজের তথ্য অনুযায়ী, ওডিআইডি ডিএসি বৃত্তির জন্য ওইসিডির উন্নয়ন সহায়তাপ্রাপ্ত দেশের শিক্ষার্থীদের বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারীর নিজ দেশে স্নাতক সম্পন্ন করার শর্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের একটি কমিটি শিক্ষাগত মেধার ভিত্তিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নির্বাচন করে। কলেজের ডিএসি বৃত্তি কর্মসূচিতে পড়াশোনার ফি, জীবনযাপন ও আবাসনের ব্যয় বহনের ব্যবস্থা রয়েছে। অক্সফোর্ডে যাওয়ার আগে নাজিফা চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে পলিটিক্স, ফিলোসফি অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনের একটি পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞানে পড়লেও পরে সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। স্নাতক চলাকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ অর্থায়িত ইরাসমাস প্লাস আইসিএম বৃত্তিতে ইতালির ট্রেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সচেঞ্জ সেমিস্টার সম্পন্ন করেন। স্নাতকের পর ব্র্যাক এবং পরে মাই সোলি ফাউন্ডেশনে উন্নয়নসংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর প্রস্তুতিতে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্ব, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং কাজের অভিজ্ঞতাও জায়গা পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দুটি ক্লাবের নেতৃত্বে ছিলেন নাজিফা। সহপাঠীদের পড়াশোনায় সহায়তার জন্য পিয়ার টিউটর হিসেবেও কাজ করেছেন। উন্নয়ন খাতে কাজ ও চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা তাঁর আবেদনে যুক্ত হয়। নিজের জীবনবৃত্তান্তে কাঙ্ক্ষিত কোর্সের সঙ্গে সম্পর্কিত আগের পড়াশোনার বিষয়গুলোও আলাদাভাবে তুলে ধরেছিলেন তিনি। অক্সফোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের এমফিল কোর্সটির মেয়াদ ২১ মাস। উন্নয়নকে বিভিন্ন বিষয়ের আলোকে বোঝার সুযোগ রয়েছে এই পাঠ্যক্রমে। নাজিফার ক্ষেত্রে বৃত্তিটি সেই উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনের সুযোগ তৈরি করেছে। সেন্ট অ্যান্টনিস কলেজে প্রকাশিত তাঁর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে, অক্সফোর্ডে পড়াশোনা নিজের কমিউনিটির জন্য কাজ করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেও নতুনভাবে গড়ে দিচ্ছে।
সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ও মাসিক জীবনযাত্রার ভাতাসহ মাস্টার্স করার সুযোগ পাবেন আবেদনকারীরা। সুইডিশ ইনস্টিটিউটের এসআই স্কলারশিপ ফর গ্লোবাল প্রফেশনালসের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে এই বৃত্তি দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে ১৬ অক্টোবর। বৃত্তির জন্য আলাদা আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। সুইডিশ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিতদের মাস্টার্স প্রোগ্রামের সম্পূর্ণ টিউশন ফি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি পড়াশোনার সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে প্রতি মাসে দেওয়া হবে ১২ হাজার সুইডিশ ক্রোনা। বাংলাদেশি বৃত্তিপ্রাপ্তদের জন্য এককালীন ভ্রমণ অনুদান থাকবে ১৫ হাজার ক্রোনা। তবে আগে থেকেই সুইডেনে বসবাসকারীরা এই ভ্রমণ অনুদান পাবেন না। বৃত্তিটি নির্ধারিত পূর্ণকালীন এক বা দুই বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য প্রযোজ্য। এর আওতায় স্বাস্থ্যবিমা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি কিংবা সঙ্গে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের বাড়তি খরচ বহন করা হয় না। ফলে টিউশন ফি ও মাসিক ভাতা পাওয়া গেলেও কিছু ব্যয় আবেদনকারীকে নিজস্বভাবে বহন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যও দেখে নিতে হবে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো কাজের অভিজ্ঞতা। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির আগে অন্তত তিন হাজার ঘণ্টার কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সর্বোচ্চ তিনজন নিয়োগকর্তার অধীনে অর্জিত অভিজ্ঞতা মিলিয়ে এই শর্ত পূরণ করা যাবে। পাশাপাশি বর্তমান বা আগের কর্মক্ষেত্র, নিজস্ব উদ্যোগ কিংবা সামাজিক সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার প্রমাণ প্রয়োজন হবে। আবেদনকারীকে নির্বাচিত মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষাগত ও ভাষাগত যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। শুধু বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া কিংবা কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই বৃত্তি নিশ্চিত হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা এবং এসআইয়ের বৃত্তির যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। বৃত্তির চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত প্রোগ্রামে ভর্তি অথবা শর্তসাপেক্ষ ভর্তির অনুমোদন প্রয়োজন। এই বৃত্তি সুইডেনের সব মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য উন্মুক্ত নয়। সুশাসন, জনস্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ইংরেজি মাধ্যমের প্রোগ্রাম এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ২০২৭ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের যোগ্য প্রোগ্রামের তালিকা এবং বৃত্তির আবেদনের প্রয়োজনীয় নথি আগামী ১৩ নভেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে। প্রোগ্রাম বাছাইয়ের সময় সেই তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। আবেদনের প্রথম ধাপে ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশনসের মাধ্যমে মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে হবে। এই ধাপের শেষ সময় ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি। প্রয়োজনীয় সহায়ক কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং প্রযোজ্য আবেদন ফি পরিশোধের শেষ সময় ১ ফেব্রুয়ারি। মাস্টার্সে ভর্তির ফল প্রকাশ হবে ১ এপ্রিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলেই এসআই বৃত্তির আবেদন সম্পন্ন হবে না। দ্বিতীয় ধাপে এসআইয়ের নির্ধারিত পোর্টালে বৃত্তির আবেদন জমা দিতে হবে ৮ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। শেষ দিন মধ্য ইউরোপীয় সময় দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে পোর্টাল বন্ধ হবে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, বৃত্তির ফল প্রকাশ হবে ২২ এপ্রিল। আবেদনকারীদের সিভি, রেফারেন্স, কাজ ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি এসআইয়ের হালনাগাদ নির্দেশনা ও নির্ধারিত ফরম অনুসারে প্রস্তুত করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডির জন্য সম্ভাব্য সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগের সময় শুধু নিজের ফলাফল ও অর্জনের তালিকা তুলে ধরলেই যথেষ্ট নয়। প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাজের মিল কোথায় এবং আবেদনকারী কী অবদান রাখতে পারবেন, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা এএনইউর নির্দেশনায় সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের পাশাপাশি গবেষণার প্রশ্ন, পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারের দক্ষতার সঙ্গে সংযোগ তুলে ধরতে বলা হয়েছে। এই যোগাযোগের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিংকডইনে লিখেছেন ‘দ্য পিএইচডি অ্যাব্রড কোচ’ পরিচয়ে পরামর্শ দেওয়া প্রেথা। তাঁর দাবি, অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য পিএইচডি সুপারভাইজারদের কাছে ৪৭টি ইমেইল পাঠিয়ে মাত্র তিনটির উত্তর পেয়েছিলেন। পরে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পান, যার মোট মূল্য তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী এক লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি। তবে পোস্টে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছেন, অর্থায়নের বিস্তারিত হিসাব কিংবা ডলারের মুদ্রা কোনটি, তা উল্লেখ করা হয়নি। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রেথা জানিয়েছেন, প্রথম দিকে তিনি সাধারণভাবে গবেষণায় আগ্রহ প্রকাশ করে একই ধরনের ইমেইল পাঠাতেন। পরে সম্ভাব্য সুপারভাইজারের নির্দিষ্ট গবেষণাপত্র পড়ে নিজের কাজের সঙ্গে সংযোগ খুঁজতে শুরু করেন। তাঁর পরামর্শ হলো, শুধু কোনো শিক্ষকের গবেষণা ভালো লেগেছে বলার পরিবর্তে কোন গবেষণাপত্রের কোন প্রশ্ন বা ফলাফল নিজের আগ্রহের সঙ্গে মেলে, সেটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা। প্রেথার বর্ণিত তিন ধাপের যোগাযোগপদ্ধতির প্রথম অংশ গবেষণার সংযোগ তুলে ধরা। দ্বিতীয় অংশে সম্ভাব্য গবেষণা অবদান এবং তা বাস্তবায়নে নিজের প্রাসঙ্গিক দক্ষতা ব্যাখ্যা করার কথা বলেছেন তিনি। তৃতীয় অংশে উত্তর না পেলে প্রায় দুই সপ্তাহ পর নতুন কোনো প্রাসঙ্গিক গবেষণা বা তথ্য যুক্ত করে ফলোআপের পরামর্শ দিয়েছেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত কৌশল, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আবেদনপদ্ধতি নয়। সম্ভাব্য সুপারভাইজারকে যোগাযোগের আগে তাঁর প্রোফাইল ও গবেষণার ক্ষেত্র যাচাই করার বিষয়ে এএনইউর নির্দেশনাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি বলছে, গবেষণার বিষয় ও শিক্ষকের দক্ষতার মধ্যে যথাযথ মিল থাকলে সংক্ষিপ্ত ইমেইলে নিজের পরিচয় ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা জানাতে হবে। এরপর গবেষণার সুস্পষ্ট প্রশ্ন, সম্ভাব্য পদ্ধতি ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তত্ত্বাবধানের বিষয়ে আলোচনার জন্য সাক্ষাতের অনুরোধ করা যেতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ প্রোগ্রামে আবেদনের সময় উপযুক্ত সুপারভাইজারের সমর্থনের প্রমাণ প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে গবেষণা প্রস্তাবও জমা দিতে হয়। সেখানে গবেষণার সমস্যা, উদ্দেশ্য, গুরুত্ব ও পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় নথির নির্দেশনাও পূরণ করতে হবে। সুপারভাইজারের ইতিবাচক উত্তর পাওয়া আবেদনপ্রক্রিয়ায় সহায়ক হলেও সেটি ভর্তি বা স্কলারশিপ নিশ্চিত করে না। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় ভর্তির যোগ্যতা পূরণ এবং স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হওয়ার বিষয়গুলো পৃথকভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার প্রস্তুতি, সুপারভাইজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং অর্থায়নের শর্ত, সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই আবেদন প্রস্তুত করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল ফেলোস প্রোগ্রামের ২০২৭ সালের ব্যাচে আবেদন গ্রহণ চলছে। দুই বছরের এই গবেষণা ফেলোশিপে নির্বাচিতরা বছরে ৯২ হাজার ডলার বেতন পাবেন। বাংলাদেশিসহ যোগ্য আন্তর্জাতিক গবেষকেরা আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১ ডিসেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন সময় বিকেল পাঁচটা। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর দ্য এনভায়রনমেন্টের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ব্যাচে প্রায় পাঁচজনকে নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচিতরা হার্ভার্ডের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে পরিবেশের জটিল সমস্যা নিয়ে গবেষণা করবেন। প্রচারিত ছবিতে কর্মসূচিটিকে ২০২৬ সালের বলা হলেও বর্তমানে আবেদন নেওয়া হচ্ছে ২০২৭ সালের ব্যাচের জন্য। বার্ষিক বেতনের পাশাপাশি ফেলোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা পাবেন। স্থানান্তরের খরচ বাবদ সর্বোচ্চ আড়াই হাজার ডলার ফেরত দেওয়া হবে। ভ্রমণ ও অন্যান্য পেশাগত খরচের জন্য বছরে আরও আড়াই হাজার ডলার বরাদ্দ থাকবে। সহকর্মী গবেষক ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। আবেদনকারীদের পিএইচডি বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের সমমানের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সময়সীমা হতে হবে ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে। যেসব বিষয়ে পিএইচডি প্রচলিত সর্বোচ্চ ডিগ্রি নয়, সেসব ক্ষেত্রের সমমানের ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারবেন। গবেষণার অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে এবং ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব শুরুর আগে প্রয়োজনীয় ডিগ্রির শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু একাধিক মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলেই এই পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের যোগ্য হওয়া যাবে না। আবেদনের আগে হার্ভার্ডের উপযুক্ত একজন বা একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে গবেষণার তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় অফিস বা ল্যাবের জায়গা দেওয়ার সম্মতি নিতে হবে। শিক্ষককে আবেদনকারীর গবেষণায় সহায়তার প্রতিশ্রুতিসহ সমর্থনপত্র দিতে হবে। এই সমর্থনপত্র ছাড়া আবেদন পর্যালোচনা করা হবে না বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে। প্রস্তাবিত গবেষণাও আবেদনকারীর পিএইচডির কাজের বাইরে স্বতন্ত্র অনুসন্ধানের বিষয় হতে হবে। হার্ভার্ডের অনলাইন আবেদনব্যবস্থায় প্রকাশনার তালিকাসহ সিভি, সর্বোচ্চ পাঁচ পৃষ্ঠার গবেষণা প্রস্তাব এবং সর্বোচ্চ তিনটি প্রকাশনা বা লেখার নমুনা জমা দিতে হবে। গবেষণা প্রস্তাবের তথ্যসূত্র পাঁচ পৃষ্ঠার সীমার বাইরে রাখা যাবে। পাশাপাশি তিনটি সুপারিশপত্র প্রয়োজন, যার একটি হতে হবে আবেদনকারীর গবেষণা অভিসন্দর্ভের উপদেষ্টার কাছ থেকে। সুপারিশপত্র ও হার্ভার্ডের তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকের সমর্থনপত্র জমার শেষ সময় ১১ ডিসেম্বর, ইস্টার্ন সময় বিকেল পাঁচটা। নির্বাচিত গবেষকদের দুই বছর ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজ এলাকায় থেকে কাজ করার প্রস্তুতি থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে নির্বাচনের ফল জানানোর পরিকল্পনা করেছে। বিদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদনে সহায়তার জন্য হার্ভার্ডের ইন্টারন্যাশনাল অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও কর্মসূচির নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি, নক্সভিলে ‘ফ্যাকাল্টি ডিরেক্টর ফর একাডেমিক মোমেন্টাম’ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আহমেদুল্লাহ আজিজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিশন অব স্টুডেন্ট সাকসেসের অধীনে এই দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আজিজ শিক্ষকতার পাশাপাশি নতুন দায়িত্বও সামলাবেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে নিয়োগের খবর জানিয়েছেন তিনি। আহমেদুল্লাহ আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিন এইচ কাও ডিপার্টমেন্ট অব ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষক। তাঁর প্রকাশিত পেশাগত পরিচিতি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ আগস্ট সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এবার বিভাগে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থী সাফল্য বিভাগের সঙ্গে কাজ করার দায়িত্ব যুক্ত হলো তাঁর কর্মপরিসরে। ২০১৯ সালের আগস্টে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন আজিজ। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি ওই পদে কর্মরত ছিলেন। প্রায় সাত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষকতার পর সহযোগী অধ্যাপক হন তিনি। নতুন নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে সামনে এই দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আগ্রহ ও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন আজিজ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী আহমেদুল্লাহ আজিজ। তাঁর শিক্ষাগত পরিচিতিতে বুয়েটে ২০১৩, পেন স্টেটে ২০১৬ এবং পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯ সালে পড়াশোনা সম্পন্ন করার তথ্য রয়েছে। এর আগে তিনি রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করেছেন।
স্নাতকে সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে চার পয়েন্টের স্কেলে ২ দশমিক ৫০ বা ২ দশমিক ৭৫ জিপিএ নিয়েও স্নাতকোত্তরে আবেদন বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ যোগ্যতা ও নির্দিষ্ট বিভাগের শর্ত আলাদা হতে পারে। ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করলেই ভর্তি নিশ্চিত হয় না। কম সিজিপিএধারীদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির জন্য আবদুল হাকিম তিস্তির নামে দেওয়া একটি লেখায় যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকাটি বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে একই ফলাফল নিয়ে আবেদন করা যাবে কিংবা পূর্ণ অর্থায়ন পাওয়া যাবে, এমন সিদ্ধান্ত এই তালিকা থেকে নেওয়া যায় না। উদাহরণ হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীদের সাধারণ শর্তে স্নাতকে যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের ন্যূনতম ২ দশমিক ৫০ জিপিএর কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিস্তারিত নীতিতে স্নাতকের শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটের ফল বিবেচনার সুযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্বাচিত প্রোগ্রামের অতিরিক্ত শর্ত যাচাই করতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তি শর্তেও সর্বশেষ সম্পন্ন ডিগ্রি অথবা শেষ ৬০ সেমিস্টার ইউনিটে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে সামগ্রিক ফল এবং মূল বিষয়ে ন্যূনতম ৩ দশমিক ০০ জিপিএর শর্ত রয়েছে। অর্থাৎ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ন্যূনতম ফল সব বিভাগের জন্য প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তি মানদণ্ডে স্নাতকে ন্যূনতম ২ দশমিক ৭৫ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে তা ৩ দশমিক ০০। নির্দিষ্ট শর্তে আগের প্রাসঙ্গিক গ্র্যাজুয়েট কোর্সের ফল বিবেচনার ব্যবস্থাও আছে। বিভাগগুলো নিজস্ব অতিরিক্ত যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে। ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনায় সামগ্রিকভাবে অথবা স্নাতকের শেষ ৬০ ক্রেডিটে ন্যূনতম ২ দশমিক ৫০ জিপিএ চাওয়া হয়েছে। স্নাতকের ফল এর নিচে হলেও আগে সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিতে অন্তত ৩ দশমিক ০০ জিপিএ থাকলে তা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সংস্থার মাধ্যমে কোর্সভিত্তিক মূল্যায়নের শর্তও দেওয়া আছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্তসাপেক্ষে ভর্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটনের নীতিতে বলা হয়েছে, নিঃশর্ত ভর্তির সব যোগ্যতা পূরণ না করলেও উচ্চশিক্ষায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ ও অনুমোদনে পরীক্ষামূলক শর্তে ভর্তি দেওয়া যেতে পারে। এটি সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় সুযোগ নয়। প্রদত্ত তালিকার ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের অঙ্গরাজ্য হলো: ১. ইউনিভার্সিটি অব ডেনভার, কলোরাডো। ২. ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোস, ক্যালিফোর্নিয়া। ৩. আলাবামা এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আলাবামা। ৪. আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, আরকানসাস। ৫. ফোর্ট ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া। ৬. ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন আইওয়া, আইওয়া। ৭. ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানা অ্যাট মনরো, লুইজিয়ানা। ৮. ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস অ্যাট লিটল রক, আরকানসাস। ৯. ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ক্যানসাস। ১০. ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ, ম্যাসাচুসেটস। ১১. ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেসক আইল, মেইন। ১২. লিবার্টি ইউনিভার্সিটি, ভার্জিনিয়া। ১৩. ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, কলোরাডো। ১৪. ইউনিভার্সিটি অব আইডাহো, আইডাহো। ১৫. ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, টেক্সাস। ১৬. ওয়েস্ট টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, টেক্সাস। ১৭. ট্রয় ইউনিভার্সিটি, আলাবামা। ১৮. টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, টেক্সাস। ১৯. ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরি, মিজৌরি। ২০. মিজৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিজৌরি। ২১. ইস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি, মিশিগান। ২২. ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি, মিশিগান। ২৩. সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, মিশিগান। ২৪. ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকি, উইসকনসিন। ২৫. ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস, টেক্সাস। ২৬. টেক্সাস উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, টেক্সাস। ২৭. ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্স, লুইজিয়ানা। ২৮. জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিসিসিপি। ২৯. সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড এ অ্যান্ড এম কলেজ, লুইজিয়ানা। ৩০. প্রেইরি ভিউ এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, টেক্সাস। ৩১. কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি, ওহাইও। ৩২. ক্লিভল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি, ওহাইও। ৩৩. ইউনিভার্সিটি অব টলিডো, ওহাইও। ৩৪. উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ক্যানসাস। ৩৫. ইস্টার্ন কেন্টাকি ইউনিভার্সিটি, কেন্টাকি। ৩৬. মারে স্টেট ইউনিভার্সিটি, কেন্টাকি। ৩৭. টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি, টেনেসি। ৩৮. ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট আলাবামা, আলাবামা। ৩৯. লামার ইউনিভার্সিটি, টেক্সাস। ৪০. ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন, টেক্সাস। ভর্তির যোগ্যতার পাশাপাশি অর্থায়নের শর্ত আলাদাভাবে দেখতে হবে। ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের গ্র্যাজুয়েট সহায়তা নির্দেশনায় টিচিং, রিসার্চ ও সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিভাগে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞানবিষয়ক গ্র্যাজুয়েট আবেদন নির্দেশনায় টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ফলাফল, সুপারিশপত্র ও গবেষণার আগ্রহের সামঞ্জস্যসহ পুরো আবেদন মূল্যায়নের কথা রয়েছে। তাই আবেদন ফি দেওয়ার আগে পছন্দের বিভাগে নিজের ফলাফল গ্রহণযোগ্য কি না, আন্তর্জাতিক ডিগ্রির মূল্যায়ন কীভাবে হবে এবং প্রোগ্রামটি কী কী নথি চায়, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। স্কলারশিপ বা অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের প্রস্তাব পেলে টিউশন, জীবনযাপনের ভাতা ও অন্যান্য ব্যয়ের কতটুকু অন্তর্ভুক্ত আছে, সেটিও লিখিত শর্ত থেকে বুঝে নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকার চেয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের মিলই আবেদন প্রস্তুতির মূল ভিত্তি।
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য দুই মাসের অনলাইন বেসিক আইইএলটিএস ও ‘রোড টু হায়ার স্টাডি কোর্স ২০২৬’ আয়োজন করছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, কোর্সের নিবন্ধন ফি দেড় হাজার টাকা। নিবন্ধন শেষ হবে ২৭ অক্টোবর, ক্লাস শুরু হবে ২৮ অক্টোবর। সপ্তাহে তিন দিন শনিবার, সোমবার ও বুধবার রাত ৯টায় জুমে সরাসরি ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। দুই মাসে মোট ২৪টি ক্লাস রাখা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস চলবে এক ঘণ্টা। আইইএলটিএস প্রস্তুতির পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে চারটি বিশেষ সেশন থাকবে। প্রতিটি সেশনের মেয়াদ দুই ঘণ্টা। অংশগ্রহণকারীদের এসব সেশনের ভিডিও রেকর্ডিংও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন ইঞ্জিনিয়ার নাঈম হোসেন। আয়োজকদের পরিচিতিতে তাঁকে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাবেক প্রশিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর আইইএলটিএস ব্যান্ড স্কোর ৮ দশমিক ৫ বলে জানানো হয়েছে। সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা ছাত্রশিবিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত কোর্সের ঘোষণায় দেওয়া অনলাইন আবেদন ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। ২০ অক্টোবর ওই পেজ ও সংগঠনের মাসিক প্রকাশনা ছাত্র সংবাদে কোর্সের তথ্য প্রকাশ করা হয়। পাঠ্যক্রম জানতে আয়োজকদের দেওয়া সিলেবাসও দেখা যাবে। সূত্র: দি ডেইলি ক্যাম্পাস
ইতালির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আঞ্চলিক শিক্ষা সহায়তা সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কলারশিপের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিতে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। যোগ্যতা অনুযায়ী এসব সহায়তায় টিউশন ফি ছাড়, জীবনযাপনের অনুদান, আবাসন ও খাবারের সুবিধা পাওয়া যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, স্কলারশিপ এবং স্টুডেন্ট ভিসা পৃথক প্রক্রিয়া। একটিতে অনুমোদন পেলেই অন্যটি নিশ্চিত হয় না। দেশটিতে উচ্চশিক্ষার অর্থায়নের প্রধান পথগুলোর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক স্কলারশিপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাভিত্তিক বৃত্তি, ইতালি সরকারের এমএইসিআই স্কলারশিপ এবং ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্স। প্রতিটির যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি ও সময়সীমা আলাদা। ফলে শিক্ষার্থীকে নিজের শিক্ষাগত পটভূমির সঙ্গে মিলিয়ে প্রোগ্রাম এবং অর্থায়নের সুযোগ বেছে নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রোমের সাপিয়েনৎসা বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিকো দি মিলানো, পাদোভা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের সুযোগ দেখা যেতে পারে। বোলোনিয়ায় ইআরজিও এবং সাপিয়েনৎসায় লাৎসিও অঞ্চলের ডিস্কো সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। পলিটেকনিকো দি মিলানো ও পাদোভায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাভিত্তিক স্কলারশিপও রয়েছে। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রোগ্রামে একই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। আঞ্চলিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। ইআরজিওর নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারের আয় ও সম্পদ বিদেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের দেওয়া নথির ভিত্তিতে তা মূল্যায়ন করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুবাদ ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে সত্যায়ন করে সময়সীমার মধ্যে জমা দিতে হয়। শুধু কম আয় দেখালেই সহায়তা নিশ্চিত হয় না, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হয়। এসব সহায়তার আওতায় নগদ বৃত্তি, আবাসন, খাবারের সুবিধা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি ছাড়ের জন্য আবেদন করা যায়। তবে সুবিধার ধরন ও প্রাপ্যতা সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার আগে কোন সুবিধার জন্য আলাদা আবেদন প্রয়োজন এবং কী কী নথি লাগবে, তা বুঝে নেওয়া জরুরি। মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফল ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন গুরুত্ব পায়। পাদোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক এক্সেলেন্স স্কলারশিপে ইংরেজি মাধ্যমে ব্যাচেলর ও মাস্টার্সে পড়তে আগ্রহী মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফি মওকুফের পাশাপাশি বার্ষিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, এই নির্বাচনে প্রতিযোগিতা বেশি। ইতালি সরকারের এমএইসিআই স্কলারশিপের আওতায় মাস্টার্স, পিএইচডি, তত্ত্বাবধানে গবেষণা এবং শিল্পকলা, সংগীত ও নৃত্যের নির্দিষ্ট উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হয়। ঢাকায় ইতালির দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের আবেদন শেষ হয়েছে ২৬ মার্চ ২০২৬। ফলে ওই শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তিকে এখন নতুন আবেদন গ্রহণের ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এমএইসিআইয়ের ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত নয় মাসের স্কলারশিপে মোট ১০ হাজার ৮০০ ইউরো তিন কিস্তিতে দেওয়ার বিধান রয়েছে। অর্থ ছাড়ের সঙ্গে ইতালিতে উপস্থিতি, ভর্তি সম্পন্ন করা এবং শিক্ষাগত অগ্রগতির শর্ত যুক্ত আছে। স্কলারশিপ পেলেই সব ধরনের ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ হয় না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ছাড় প্রযোজ্য হয় এবং কিছু বাধ্যতামূলক খরচ শিক্ষার্থীকেই বহন করতে হয়। অন্যদিকে ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্সে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন। একাধিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এসব প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। কোনো প্রোগ্রামে ইতালির বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদার থাকলে সেখানে পড়াশোনার সুযোগও পাওয়া যেতে পারে। এটি শুধু ইতালিতে পড়ার স্কলারশিপ নয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা মাসে ১ হাজার ৪০০ ইউরো, সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। ইরাসমাস মুন্ডুসের অনেক প্রোগ্রামে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের আবেদন সাধারণত অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে গ্রহণ করা হয়। আবেদন করতে হয় নির্বাচিত প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে। তবে প্রতিটি প্রোগ্রামের সময়সীমা ও শর্ত আলাদা হওয়ায় সাধারণ সময়সূচির বদলে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ভর্তির প্রস্তুতিতে শিক্ষাগত সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং প্রোগ্রাম অনুযায়ী ভাষাগত যোগ্যতার প্রমাণ প্রয়োজন হয়। কোথাও জীবনবৃত্তান্ত, আগ্রহের বিবৃতি বা সুপারিশপত্রও চাওয়া হতে পারে। সব প্রোগ্রামে একই আইইএলটিএস স্কোর প্রয়োজন কিংবা ভাষাগত প্রমাণ ছাড়াই ভর্তি হওয়া যায়, এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। এমএইসিআইয়ের আবেদনেও নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের জন্য ভাষাগত যোগ্যতার নথির বিধান রয়েছে। ভিসার বিষয়টিও শুরু থেকেই পরিকল্পনায় রাখতে হবে। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে বসবাসকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের যেসব শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসা প্রয়োজন, তাঁদের ইউনিভার্সইতালি প্ল্যাটফর্মে প্রাক্নিবন্ধন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ভিসা পাওয়ার অধিকার তৈরি করে না। ভিসার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটের এখতিয়ার। পড়াশোনা শেষে চাকরির ক্ষেত্রেও আলাদা প্রস্তুতি প্রয়োজন। ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসন তথ্য অনুযায়ী, ইতালিতে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স শেষ করার পর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পড়াশোনার রেসিডেন্স পারমিট চাকরি খোঁজার জন্য এক বছরের পারমিটে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এটি চাকরির নিশ্চয়তা নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও স্কলারশিপের পাশাপাশি নিজের দক্ষতা, ভাষার প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ কাজের পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়েই উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) স্নাতকোত্তর পর্যায়ে স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার দারুণ সুযোগ রয়েছে। মেধাভিত্তিক বৃত্তি, বিভাগীয় অনুদান এবং বিশেষ ফেলোশিপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে সম্পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ না থাকায় আবেদনের আগে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পছন্দের প্রোগ্রামের শর্তাবলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব প্রফেশনাল স্টাডিজের (এনওয়াইইউ এসপিএস) ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ‘ডিস্টিংগুইশড স্কলারস অ্যাওয়ার্ড’-এর আওতায় মেধাভিত্তিক বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দুই বছরে ৭ হাজার থেকে ১১ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাবেন। ভর্তির আবেদনের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে, ফলে এর জন্য আলাদা কোনো আবেদনের প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিশ স্কুল অব দ্য আর্টসের নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামে ‘করিগান ফেলোশিপ’-এর মতো সুবিধাও রয়েছে। এই ফেলোশিপের আওতায় সম্পূর্ণ টিউশন ফি, স্বাস্থ্যবিমা, ৯ মাসের জীবনযাত্রার উপবৃত্তি, অতিরিক্ত ১ হাজার ডলারের অনুদান এবং ২ হাজার ডলারের আবাসন সহায়তাসহ ব্যাপক আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্কুল ও প্রোগ্রামভেদে আবেদনের সময়সীমায় ভিন্নতা রয়েছে। এনওয়াইইউ এসপিএসের বসন্তকালীন ২০২৭ সেমিস্টারের চূড়ান্ত আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৬। গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টারের নিয়মিত আবেদন ১৫ জানুয়ারি এবং চূড়ান্ত আবেদন ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত করা যাবে। এছাড়া, শরৎকালীন ভর্তির প্রথম অগ্রাধিকার সময়সীমা ১ নভেম্বর ২০২৬ এবং নিয়মিত আবেদনের শেষ তারিখ ১ মে ২০২৭। ভর্তিচ্ছু বাংলাদেশি আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণপত্র, পার্সোনাল স্টেটমেন্ট, সুপারিশপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা এড়াতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মাস্টার্স না করেও স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। পারডু ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইন এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগে এই পথ খোলা আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহায়তার মাধ্যমে ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। সরাসরি পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ এবং ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। কোনো বিভাগ স্নাতক ডিগ্রিধারীদের আবেদন গ্রহণ করলেও ভর্তি নির্ভর করে আবেদনকারীর যোগ্যতা ও বিভাগের নির্বাচনের ওপর। আবার ফান্ডিংয়ের ধরন, মেয়াদ এবং কোন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম ও লিখিত অফারের শর্ত অনুযায়ী। পারডু ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ভর্তি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হবে। পিএইচডি আবেদনকারীদের স্বাধীন গবেষণার সম্ভাবনাও দেখাতে হবে। বিভাগটি জানিয়েছে, পিএইচডিতে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। এই বিবেচনা প্রত্যেকের ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়ার সমার্থক নয়। জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা জর্জিয়া টেক নামে পরিচিত। এর গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর ব্যাচেলর ডিগ্রি, সমমানের ডিগ্রি অথবা উচ্চতর ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের অতিরিক্ত শর্তও প্রযোজ্য। কম্পিউটার সায়েন্সের পিএইচডি নির্দেশনায় চূড়ান্ত লক্ষ্য পিএইচডি হলে সরাসরি ডক্টরাল প্রোগ্রামে আবেদন করতে বলা হয়েছে। জর্জিয়া টেকের স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স জানিয়েছে, গবেষণা অনুদানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন ও স্টাইপেন্ড পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ফান্ডিং নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ সাধারণত প্রাথমিক ভর্তি অফারে উল্লেখ থাকে। অফারে ফান্ডিংয়ের তথ্য না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের কাছে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটেশনাল ম্যাথমেটিকস, সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডিতে মাস্টার্স বাধ্যতামূলক নয়। বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রয়োজন। আবেদনকারীদের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও ফেলোশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সাধারণত নির্ধারিত ক্রেডিট পর্যন্ত টিউশন মওকুফ, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও গ্রীষ্মকালীন সহায়তা পান। এই তথ্য ওই বিভাগের জন্য প্রযোজ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য নয়। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইনের কম্পিউটার সায়েন্স পিএইচডির ভর্তি শর্তেও সমমানের ব্যাচেলর ডিগ্রির কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রেইঞ্জার কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রথম পাঁচ বছরের ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে ফান্ডিংয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এতে পূর্ণ টিউশন মওকুফ, আংশিক ফি মওকুফ ও স্টাইপেন্ড অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে এই সুবিধাকে সব ফি এবং বছরের প্রতিটি সময়ের খরচ বহনের নিশ্চয়তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডিতে সরাসরি ভর্তির পথ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগে মাস্টার্স না করেই পিএইচডি করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ডিরেক্ট পিএইচডি ট্র্যাকে আবেদন করতে পারেন। ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোসিয়েটশিপ গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, কোনো প্রোগ্রাম অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অর্থায়ন করলেও অন্য কোনো প্রোগ্রাম অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীকে অথবা আংশিক সহায়তা দিতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই প্রথম কাজ হলো নিজের বিষয় ও গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে মানানসই প্রোগ্রাম নির্বাচন করা। ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চলতি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, ডিগ্রির সমমান, ইংরেজি দক্ষতার শর্ত এবং আবেদনের শেষ সময় দেখতে হবে। ফান্ডিংয়ের অফার পেলে টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, গ্রীষ্মকালীন সহায়তা ও নবায়নের শর্ত মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকা দিয়ে ভর্তি বা পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা সামনে এসেছে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে স্কলারশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং ফেলোশিপের মাধ্যমে পড়াশোনার খরচ কমানোর সুযোগও রয়েছে। তবে তালিকার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু নেই এবং সব শিক্ষার্থী ফান্ডিং পাবেন, এমন নিশ্চয়তাও নেই। তালিকায় রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, মিসৌরি সেন্ট লুইস বিশ্ববিদ্যালয়, উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ডাকোটা, ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই অ্যাট মানোয়া, ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া তালিকায় ওয়েস্ট টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিসৌরি, ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটি অব লিঞ্চবার্গ, ফুল সেইল ইউনিভার্সিটি, জ্যাকসনভিল স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেইন এবং ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা ডুলুথের নাম রয়েছে। তালিকার বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন নিউ হ্যাম্পশায়ার ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট শার্লট, ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, অবার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যাট মন্টগোমারি, ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা। তবে এই ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একসঙ্গে প্রচার করা হলেও সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের উচ্চশিক্ষা ও ফান্ডিং সুবিধা প্রদানকারী হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অফিসিয়াল একাডেমিক তথ্য অনুযায়ী, ফুল সেইল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স, গেম ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ডিগ্রি তালিকায় পিএইচডি প্রোগ্রামের উল্লেখ নেই। একইভাবে আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের গ্র্যাজুয়েট ক্যাটালগে মাস্টার্স, এডুকেশন স্পেশালিস্ট এবং গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের তথ্য রয়েছে। সেখানে পিএইচডি ডিগ্রি তালিকাভুক্ত নেই। ফলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দের বিষয়ে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ফান্ডিং সাধারণত কয়েকটি উপায়ে পাওয়া যায়। এর মধ্যে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোনো অধ্যাপকের গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের সহায়তা কিংবা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের মতো দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। এসব অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের স্টাইপেন্ড এবং টিউশন মওকুফের সুবিধা থাকতে পারে। তবে সুবিধার পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, কাজের ধরন ও নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে ফেলোশিপের মাধ্যমে গবেষণা বা একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কোনো কোনো ফেলোশিপে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, ফেলোশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দুটি আলাদা ধরনের আর্থিক সহায়তা। ফেলোশিপ সাধারণত গবেষণা বা পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়, আর অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হয়। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক থ্রিএম গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য পিএইচডি শিক্ষার্থীরা প্রথম বছরে ২৫ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড, নির্ধারিত টিউশন সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতে পারেন। পরবর্তী বছরগুলোতে নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এই ফেলোশিপ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বিভাগের মনোনয়ন প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ ফান্ডিং প্যাকেজ দেওয়া হয়। কিন্তু মাস্টার্স পর্যায়ে বিশেষ করে কোর্সভিত্তিক ও পেশাগত প্রোগ্রামে একই ধরনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। ফান্ডিং পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে মিল এবং বিভাগে অর্থের প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, স্নাতক ডিগ্রির সনদ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ জমা দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম অনুযায়ী আইইএলটিএস, টোয়েফল বা অন্য স্বীকৃত পরীক্ষার স্কোর গ্রহণ করা হতে পারে। কিছু প্রোগ্রামে জিআরই স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগ নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে জিআরই বাধ্যতামূলক রাখে না। এ কারণে আবেদনকারীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিভাগের বর্তমান অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট দেখতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি করতে চান, তাঁদের জন্য সম্ভাব্য সুপারভাইজারের গবেষণার বিষয় সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি প্রোফাইল এবং সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র দেখে নিজের আগ্রহের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন অধ্যাপকদের চিহ্নিত করা যেতে পারে। তবে কোনো অধ্যাপকের কাছে ইমেইল পাঠানো কিংবা তাঁর কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তর পাওয়ার অর্থ ভর্তি বা ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের আনুষ্ঠানিক অ্যাডমিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফান্ডিংয়ের বিষয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া সব সময় একই সিদ্ধান্তের অংশ নয়। অনেক ক্ষেত্রে ভর্তির অফার পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ফান্ডিংয়ের জন্য আবেদন করতে হয়। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়েও নিশ্চিত হতে হবে যে ফান্ডিংয়ের অফারে পুরো টিউশন মওকুফ করা হচ্ছে, নাকি আংশিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ফি, আবাসন এবং ব্যক্তিগত খরচ বহন করতে হবে কি না, সেটিও জানা জরুরি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফান্ডিংয়ের পরিমাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানভেদে জীবনযাপনের ব্যয়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে আবেদন নেওয়া হয় না। ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারের অ্যাডমিশন ডেডলাইন আলাদা হতে পারে। অনেক বিভাগের ফান্ডিং বিবেচনার সময়সীমাও সাধারণ অ্যাডমিশন ডেডলাইনের আগে শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রোগ্রামের ধরন, আবেদনযোগ্যতা, ডেডলাইন এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত যাচাই করা উচিত। এই ৩০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার কাজে সহায়ক হতে পারে। তবে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ভর্তি এবং নিশ্চিত ফান্ডিং চালু রয়েছে, এমন কোনো সম্মিলিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। সুতরাং মাস্টার্স বা পিএইচডিতে আবেদন করার আগে নিজের একাডেমিক প্রোফাইল, গবেষণার আগ্রহ এবং আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের মিল যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চশিক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'এইচইএ গ্রুপ'-এর (HEA Group) সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লাভজনক স্নাতক ডিগ্রির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ)-এর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের বার্ষিক মধ্যম বা মিডিয়ান আয় ২ লাখ ২৮ হাজার ৭০৫ ডলার। আয়ের দিক থেকে এটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ-সর্বোচ্চ লাভজনক ডিগ্রি। ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, যাতায়াত, খাবার ও বইপত্রসহ বছরে খরচ হয় প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ ডলার এবং বহিরাগতদের জন্য খরচ প্রায় ৮৭ হাজার ৭৭০ ডলার। সেই খরচের তুলনায় আয়ের এই পরিসংখ্যান শিক্ষার্থীদের জন্য একটি চমৎকার বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়া স্নাতকদের বেতনের ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণটি করেছে। তবে আয়ের দিক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার কেবল ইউসিএলএ শীর্ষ তালিকায় নেই; স্নাতক পাসের মাত্র চার বছরের মধ্যেই বছরে ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করা আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই দৌড়ে রয়েছে। ক্ল্যারমন্টের অপেক্ষাকৃত ছোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পোমোনা কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের স্নাতকরা বছরে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫১ ডলার আয় করে এক অনন্য সুবিধা ভোগ করছেন। যদিও মাত্র ৭ শতাংশ গ্রহণযোগ্যতার হার (অ্যাকসেপ্টেন্স রেট) থাকা এই কলেজে পড়াশোনা করতে বছরে প্রায় ৯০ হাজার ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ গুনতে হয়। আয়ের এই তালিকার একেবারে শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন নর্থ ক্যারোলিনার ডারহামে অবস্থিত ডিউক ইউনিভার্সিটির গণিতের স্নাতকরা। তাদের বার্ষিক মধ্যম আয় ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৯ ডলার। বে এরিয়ার স্কুলগুলো শীর্ষ দশের তালিকায় জায়গা না পেলেও তারা খুব একটা পিছিয়ে নেই। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকদের মধ্যম আয় ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ ডলার এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-এর একই ডিগ্রির স্নাতকরা আয় করছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৩৭৯ ডলার। প্রযুক্তির বাইরে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি (ইস্ট বে), সান ফ্রান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং স্যামুয়েল মেরিট ইউনিভার্সিটির মতো ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকটি নার্সিং প্রোগ্রাম থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও বছরে প্রায় দেড় লাখ ডলার আয় করছেন। এইচইএ গ্রুপের বিশ্লেষণ করা প্রায় ২৫ হাজার ব্যাচেলর প্রোগ্রামের মধ্যে এগুলো শীর্ষ ১০০-তে জায়গা করে নিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচ ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই এখন কলেজ শিক্ষাকে আর অর্থবহ মনে হচ্ছে না। ২০২৪ সালের এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ মনে করেন যে কলেজের শিক্ষা খরচের সমতুল্য মূল্যায়ন দেয়, অন্যদিকে ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তাসনিম ঐশির মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটিতে (ইসিইউ) পড়াশোনা করছিলেন। মাত্র তিন মাস আগে দেশ ছেড়ে যাওয়া এই তরুণীর আকস্মিক মৃ ত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও সাবেক সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তাসনিম ঐশি। সেখানে নতুন পরিবেশে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন থেমে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। তবে পার্থের ঠিক কোন এলাকায় এবং কবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সময় তাসনিম পথচারী ছিলেন, নাকি কোনো যানবাহনে অবস্থান করছিলেন, তাও জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ আ হ ত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাসনিম ঐশির মৃ ত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিচিতজন ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর শোকের কথা জানা গেছে। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে এমন মৃ ত্যুর খবর তাঁদের জন্য বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাঁর মৃ ত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে তাসনিমের ম র দে হ দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, অথবা অস্ট্রেলিয়াতেই তাঁর শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হবে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া তাসনিম ঐশির আকস্মিক মৃ ত্যুর খবর আবারও প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, ভালো চাকরি এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০২২ সালে ভারত থেকে শিকাগোতে এসেছিলেন অনন্যা জোশি। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে বায়োটেকনোলজিতে মাস্টার্স শেষ করে কাল্টিভেটেড মিট নিয়ে কাজ করা একটি স্টার্টআপে বিজ্ঞানী হিসেবেও চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু এইচ-১বি স্পনসরশিপের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং তার অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি শেষ হয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয় তাকে। এখন জার্মানিতে নতুন করে ক্যারিয়ার ও জীবন গড়ছেন ২৬ বছর বয়সী এই ভারতীয় বিজ্ঞানী। বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোশি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবন একদিনে ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তার কাছে অনেকটা খারাপ স্বপ্ন থেকে হঠাৎ জেগে ওঠার মতো ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করতে পারেননি। নিউ দিল্লিতে বেড়ে ওঠা জোশির যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসার স্বপ্নের সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাও জড়িয়ে ছিল। তার বাবা নিজে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আর্থিক কারণে সেই সুযোগ পাননি। পরে মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াতে বছরের পর বছর অর্থ সঞ্চয় করেন তিনি। ভারতে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করার পর ২০২২ সালে ইলিনয়ে আসেন জোশি। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে বায়োটেকনোলজিতে মাস্টার্স করেন এবং ২০২৪ সালে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার সময়ই তিনি ল্যাবে তৈরি মাংস বা কাল্টিভেটেড মিট নিয়ে কাজ করা একটি স্টার্টআপে ছয় মাসের গবেষণা প্রোগ্রামে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে সেই সুযোগ ফুল টাইম চাকরিতে পরিণত হয়। সেখানে বায়োপ্রসেস বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি কাল্টিভেটেড মিটের উৎপাদন বড় পরিসরে নেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতেন। বিজনেস ইনসাইডারের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়, তার বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৭৫ হাজার ডলার। ইভানস্টনে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। চাকরি, বন্ধুদের সঙ্গে রোড ট্রিপ এবং শিকাগো এলাকার জীবন মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনাই করেছিলেন জোশি। কিন্তু তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছিল এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসার সঙ্গে যুক্ত ওপিটি ওয়ার্ক অথরাইজেশনের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য ওপিটি ব্যবহার করতে পারেন। নির্দিষ্ট স্টেম ডিগ্রিধারীরা শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য স্টেম ওপিটি এক্সটেনশনের সুযোগ পান। জোশির ক্ষেত্রে সমস্যাটি তৈরি হয় তার নিয়োগকর্তাকে ঘিরে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে এইচ-১বি স্পনসর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে কোম্পানি জানায়, প্রয়োজনীয় ই-ভেরিফাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারায় তার ওপিটি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না এবং শেষ পর্যন্ত এইচ-১বি স্পনসরশিপ থেকেও প্রতিষ্ঠানটি সরে আসে। তার ওপিটি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় জোশি মে মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে জানান, নতুন চাকরি খোঁজার জন্য সময় প্রয়োজন এবং তিনি চাকরি ছাড়তে অথবা পার্ট টাইম কাজ করতে চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিনই তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার এবং কাজ করার সুযোগ ধরে রাখতে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে শুরু করেন তিনি। একই সময়ে জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছিলেন। চাকরি হারানোর দিনই সেই সুযোগের বিষয়ে জানতে পারেন এবং জুলাইয়ে তার ওপিটি শেষ হওয়ার সময় জার্মানি থেকে চাকরির অফার পান। শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্পনসর খোঁজার ঝুঁকিপূর্ণ পথের বদলে জার্মানির চাকরিটি গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি জার্মানির রস্টকে চলে যান। সেখানেও একই ধরনের কাল্টিভেটেড মিট শিল্পে কাজ করছেন তিনি। জোশির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তার একটি ব্যক্তিগত উদাহরণ হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়গত পার্থক্য রয়েছে। তার ওপিটি শেষ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন এইচ-১বি নীতির ১ লাখ ডলারের পেমেন্ট ব্যবস্থা আসে এর প্রায় দুই মাস পরে। ফলে ওই ফি সরাসরি জোশির চাকরি হারানো বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কারণ ছিল না। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রোক্লেমেশন সই করেন, যার অধীনে নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি পিটিশনের সঙ্গে ১ লাখ ডলার পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যবস্থা কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে। এটি আগে ইস্যু হওয়া এইচ-১বি ভিসা বা সাধারণ রিনিউয়ালের ওপর একইভাবে প্রযোজ্য নয় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ওই ১ লাখ ডলারের ব্যবস্থা আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখে। একই সঙ্গে এইচ-১বি আবেদন যাচাই, নিয়োগকর্তার সাম্প্রতিক ছাঁটাই এবং উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো বিষয়েও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে ছোট স্টার্টআপ এবং সীমিত বাজেটের প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি স্পনসর করার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত এক বছরে একাধিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার চালিয়ে যাবেন নাকি অন্য দেশে সুযোগ খুঁজবেন, সেই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিবেচনা করছেন। জোশিও এখন সেই দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছেন। জার্মানিতে স্থিতিশীল চাকরি পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে ফেলে আসতে হয়েছে তার বন্ধু, সম্পর্ক এবং কয়েক বছরে গড়ে তোলা জীবন। তার প্রেমিক এখনো যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেননি জোশি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভারতে নিজের ব্যবসা শুরু করার কথাও ভাবছেন। তবে তার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ডিগ্রি এবং ভালো চাকরি পাওয়াই যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ার গড়তে হলে নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ এবং ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে প্রকৌশল শিক্ষার যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এবার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে (এডব্লিউএস) প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছেন আকিব জাবেদ। রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬ ব্যাচের এই অ্যালামনাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকায় পিএইচডি করছেন। একই সঙ্গে এডব্লিউএসে এনডিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে শুরু করেছেন পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায়। রুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান আকিব। সেখানে দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। দেশে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ এগিয়ে যায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে। মাস্টার্সে পড়াশোনার সময় একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও অবদানের জন্যও স্বীকৃতি পান আকিব। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ‘দ্য এডওয়ার্ড এল. জুনিয়র অ্যান্ড রুথ এস. হেনেসি ডিস্টিংগুইশড স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘দ্য ভাইস অ্যাডমিরাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার যাত্রায় এই দুটি অর্জন তাঁর একাডেমিক ও নেতৃত্বের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। মাস্টার্স শেষ করেই উচ্চশিক্ষার পথ থামাননি আকিব। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন তিনি। উচ্চতর গবেষণার এই পর্যায়ে থাকার মধ্যেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে পেশাগত ক্যারিয়ারও শুরু করেছেন রুয়েটের সাবেক এই শিক্ষার্থী। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে এনডিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন আকিব জাবেদ। এর মধ্য দিয়ে একদিকে পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে পেশাগত অভিজ্ঞতা, দুই ক্ষেত্রেই একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে শুরু হওয়া আকিবের পথচলায় রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। দেশে প্রকৌশল শিক্ষার ভিত্তি তৈরি, এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স, একাডেমিক ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি, পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা এবং সবশেষে এডব্লিউএসের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ক্যারিয়ার। এই ধারাবাহিকতা তাঁর শিক্ষা ও কর্মজীবনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন অ্যালামনাই হিসেবে এডব্লিউএসে আকিবের যোগদান বিভাগের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। দেশের প্রকৌশল শিক্ষা থেকে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে পৌঁছানোর তাঁর এই পথচলা বর্তমান শিক্ষার্থীদের সামনেও নতুন সম্ভাবনার উদাহরণ তুলে ধরছে। আকিব জাবেদের বর্তমান যাত্রায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত সাফল্য একই জায়গায় এসে মিলেছে। রুয়েটের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া সেই পথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের পেশাগত অঙ্গনে পৌঁছেছে। তাঁর এই পথচলা শুধু একজন প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার অগ্রগতির গল্প নয়। রুয়েটসহ বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সম্ভাবনার একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
সিজিপিএ ৩.৫-এর নিচে হলে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া কঠিন, এমন ধারণা অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই রয়েছে। সেই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের গবেষণা ও একাডেমিক কাজ দিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে নিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম রিপন। স্নাতকের তৃতীয় বর্ষ শেষে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৪৬। সেই ফলাফল নিয়েই তিনি হার্ভার্ডে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ পান। ২০২৩ সালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রিপনের এই পথচলার বিস্তারিত উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকের তৃতীয় বর্ষ শেষ করার সময় তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৪৬। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের আগে তিনি কোনো ভাষা দক্ষতা পরীক্ষাতেও অংশ নেননি। তারপরও গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশিত কাজ তাঁর উচ্চশিক্ষার প্রোফাইলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের সুযোগ পান। রিপনের গল্প অবশ্য শুধু ৩.৪৬ সিজিপিএ নিয়ে হার্ভার্ডে পৌঁছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি গবেষণায় সক্রিয় হন। জনস্বাস্থ্য, রোগের বৈশ্বিক বোঝা, সামাজিক ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় তাঁর সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফেসবুক আসক্তি নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায়ও তিনি গবেষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সেখানে তাঁর পরিচয় ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের গবেষক হিসেবে। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটেও প্রকাশিত গবেষণায় তাঁর নাম রয়েছে। ২০২১ সালে গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ স্টাডির অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রকোপ এবং এর কারণে মানুষ কত বছর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে, তা নিয়ে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি বড় আন্তর্জাতিক গবেষণায় রেজাউল করিম রিপন অবদান রাখেন। গবেষণাটিতে বিশ্বের বহু দেশের বিপুলসংখ্যক গবেষক অংশ নিয়েছিলেন। হার্ভার্ডে যাওয়ার পরও তাঁর গবেষণার কাজ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ের নাম যুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের হৃদরোগ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ে করা সেই গবেষণায় তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণাপত্র তৈরিসহ একাধিক ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেন। পরবর্তী বছরগুলোতেও তাঁর গবেষণা কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জ্যামা নেটওয়ার্ক ওপেনে নারীদের শরীরে পিএফএএস নামের রাসায়নিকের সংস্পর্শ ও হরমোনজনিত পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণার প্রথম লেখক ছিলেন রিপন। সেখানে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজির গবেষক হিসেবে। গবেষণাটিতে তথ্যের যথার্থতা ও বিশ্লেষণের দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল। ২০২৬ সালেও তাঁর গবেষণার ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। ঢাকার কিশোরীদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার, এইচপিভি এবং এইচপিভি ভ্যাকসিন সম্পর্কে জ্ঞান ও টিকা নেওয়ার আগ্রহ নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তিনি প্রথম লেখক। ওই গবেষণাতেও তাঁর প্রতিষ্ঠান হিসেবে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই বছর পরিবেশে থাকা পিএফএএস রাসায়নিক এবং হৃদরোগের সম্পর্ক নিয়ে আরেকটি আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও তিনি কাজ করেছেন। রিপনের পথচলা উচ্চশিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আনে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত কেবল একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সিজিপিএ গুরুত্বপূর্ণ হলেও গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, নিজের আগ্রহের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক কাজ এবং একটি শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইলও আবেদনকে আলাদা করে তুলতে পারে। তবে তাঁর সাফল্যকে কম সিজিপিএ থাকলেই হার্ভার্ড বা অন্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা হিসেবেও দেখা ঠিক হবে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের ভর্তি প্রক্রিয়া আলাদা এবং আবেদনকারীর সামগ্রিক যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়। রিপনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, তা হলো স্নাতক পর্যায় থেকেই গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে হার্ভার্ডের জনস্বাস্থ্য গবেষণায় পৌঁছানো রেজাউল করিম রিপনের পথচলা তাই শুধু ৩.৪৬ সিজিপিএর গল্প নয়। এটি একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণা, দক্ষতা ও ধারাবাহিক কাজ কীভাবে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথকে শক্তিশালী করতে পারে, তার একটি বাস্তব উদাহরণ। সূত্র: দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারের জন্য পিএইচডি পর্যায়ে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিভাগে এই গবেষণা সহকারী পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থী টেকসই ও অর্গানিক কৃষি ব্যবস্থার ওপর গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গবেষণার মূল বিষয় হবে অর্গানিক তরমুজ উৎপাদন ব্যবস্থায় অ্যানেরোবিক সয়েল ডিসইনফেস্টেশন বা অক্সিজেন সীমিত করে মাটিতে রোগজীবাণু ও আগাছা নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি। একই সঙ্গে বায়োডিগ্রেডেবল মালচ ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা, পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা, পুষ্টিচক্র, মাটির জৈবিক কার্যক্রম, আগাছার উদ্ভব ও দমন, মাটির স্বাস্থ্য এবং ফসলের উৎপাদনশীলতায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই গবেষণায় মাঠপর্যায়ের কাজের পাশাপাশি ল্যাবরেটরিভিত্তিক গবেষণাও থাকবে। ফলে আগাছাবিজ্ঞান, মাটির উর্বরতা, মাটির জীববিজ্ঞান, টেকসই কৃষি এবং অর্গানিক ফসল উৎপাদনের একাধিক ক্ষেত্র নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের মাঠপর্যায়ের গবেষণা, মাটি ও উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ, ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণ এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবেদনকারীদের এগ্রোনমি, উইড সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স, হর্টিকালচার, ক্রপ সায়েন্স অথবা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। পদটি টেক্সাসের লাবক শহরে অবস্থিত টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিভাগে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর গবেষণা কার্যক্রম ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারে শুরু হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রামের ২০২৭ স্প্রিং সেমিস্টারের আবেদন সময়সীমা ১৫ অক্টোবর ২০২৬। প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্সে পিএইচডি প্রোগ্রামে মোট ৭২ ক্রেডিট আওয়ার সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রির পর ৬০ ক্রেডিট আওয়ার গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্ক এবং ১২ ক্রেডিট আওয়ার গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভের জন্য নির্ধারিত। শিক্ষার্থীরা ক্রপ প্রোটেকশন, ক্রপ সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স এবং ফাইবারস অ্যান্ড বায়োপলিমারসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়নের সুযোগ পান। গবেষণা সহকারী পদের জন্য আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত, অনানুষ্ঠানিক একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, গবেষণার আগ্রহ ও পূর্ব অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং তিনজন রেফারির যোগাযোগের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনপত্র সরাসরি সংশ্লিষ্ট গবেষকের কাছে ইমেইলে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পদটিকে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট মাসিক স্টাইপেন্ড, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে অর্থায়নের পূর্ণ শর্ত, সহকারী পদের মেয়াদ এবং টিউশন সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট গবেষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ থেকে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের গবেষণা সহকারী পদ যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে। তবে শুধু গবেষণা সহকারী পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামের একাডেমিক ভর্তি শর্তও পূরণ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে যারা এগ্রোনমি, সয়েল সায়েন্স, ক্রপ সায়েন্স, হর্টিকালচার বা আগাছাবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন এবং টেকসই কৃষি, অর্গানিক উৎপাদন ব্যবস্থা বা মাটির স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী, তাদের জন্য এই সুযোগটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত ও গবেষণার আগ্রহের বিবরণ প্রস্তুতের সময় পূর্বের গবেষণার অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ, ল্যাবরেটরি দক্ষতা এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া স্টাইপেন্ড দিয়ে কি থাকা, খাওয়া ও দৈনন্দিন খরচ চালানো সম্ভব? এর একক উত্তর নেই। অনেক ক্ষেত্রে স্টাইপেন্ড দিয়ে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচ সামলানো সম্ভব হলেও সেটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ও শহর, ফান্ডিং প্যাকেজ, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত খরচের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনইউএসএ বলছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় শুধু টিউশন নয়, ফি ও জীবনযাত্রার খরচও একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক শহর থেকে অন্য শহরে থাকার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকায় সাধারণত জীবনযাত্রার খরচ বড় শহরের তুলনায় কম হতে পারে। ধরা যাক, কোনো শিক্ষার্থী মাসে ২ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড পাচ্ছেন। শুধু এই অঙ্ক দেখে ফান্ডিং ভালো না খারাপ, তা নির্ধারণ করা কঠিন। প্রথমে দেখতে হবে টিউশন পুরোপুরি মওকুফ হচ্ছে কি না, বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ বহন করছে কি না, শিক্ষার্থীকে আলাদা কোনো ফি দিতে হবে কি না এবং স্টাইপেন্ড থেকে প্রযোজ্য ট্যাক্স কাটার পর হাতে কত থাকবে। এরপর সেই অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহরের রেন্ট, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ তুলনা করতে হবে। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের সময় টিউশন, ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মিলিয়ে সম্পূর্ণ বাজেট তৈরির পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে গ্র্যাজুয়েট টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার এবং স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ খুঁজতে বলা হয়েছে। এ ধরনের সুযোগ বিশেষ করে পিএইচডি পর্যায়ে খুবই প্রচলিত। শিক্ষার্থীর মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ সাধারণত হাউজিংয়ে চলে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকলে খরচ বেশি হতে পারে। রুমমেটের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ার করলে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। আবার ক্যাম্পাস থেকে দূরে কম রেন্টের বাসা পাওয়া গেলেও যাতায়াতের জন্য বাড়তি অর্থ খরচ হতে পারে। তাই শুধু রেন্ট নয়, রেন্ট ও ট্রান্সপোর্টেশন মিলিয়ে প্রকৃত খরচ হিসাব করা জরুরি। খাবারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। নিয়মিত বাইরে খাওয়া এবং বাসায় রান্না করার মাসিক খরচে বড় পার্থক্য হতে পারে। গ্রোসারি কিনে রান্না করা, আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম দামের দোকান বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ট্রান্সপোর্টেশনের খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। নিউইয়র্ক, বোস্টন বা শিকাগোর মতো গণপরিবহননির্ভর এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী গাড়ি ছাড়াই চলতে পারেন। অন্যদিকে ছোট শহর বা সাবার্বে গণপরিবহন সীমিত হলে গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু গাড়ি কেনার দাম নয়, কার ইন্স্যুরেন্স, গ্যাস, মেইনটেন্যান্স ও রেজিস্ট্রেশনের খরচও মাসিক বাজেটে যোগ হয়। এ কারণেই একই অঙ্কের স্টাইপেন্ড দুই শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের শহরে মাসে ২ হাজার ডলার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু ব্যয়বহুল শহরে একই অর্থের বড় অংশ শুধু রেন্টেই চলে যেতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং বা স্টাইপেন্ডের অঙ্কের পাশাপাশি স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মাস্টার্স ও পিএইচডির ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। এডুকেশনইউএসএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার অথবা স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা পিএইচডি পর্যায়ে বিশেষভাবে প্রচলিত। মাস্টার্সেও ফান্ডিং পাওয়া যায়, তবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডিতে ভর্তি হলেই স্টাইপেন্ড পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনো অফার গ্রহণের আগে শিক্ষার্থীকে অ্যাডমিশন লেটার ও ফান্ডিং অফারের শর্ত ভালোভাবে পড়তে হবে। স্টাইপেন্ড কত, কত মাস দেওয়া হবে, সামার ফান্ডিং আছে কি না, টিউশন কতটা ওয়েভ করা হচ্ছে, বাধ্যতামূলক ফি কত এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কতটা বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে, এসব তথ্য পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্টাইপেন্ডের টাকায় একজন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর থাকা সম্ভব কি না, তার উত্তর শুধু স্টাইপেন্ডের অঙ্কে পাওয়া যাবে না। আসল হিসাব হলো সব কাটাকাটির পর হাতে কত টাকা থাকবে এবং সেই শহরে বাস্তবে প্রতি মাসে কত খরচ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম বাছাইয়ের আগে এই দুই অঙ্ক পাশাপাশি রেখে হিসাব করলে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন ও নির্ধারিত ফি বহনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্টাইপেন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের মতো সব মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য একই ধরনের কেন্দ্রীয় ‘ফুলি ফান্ডেড গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপ’ নেই। অর্থায়ন, যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি স্কুল ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার স্টুডেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রাম ফুলি ফান্ডেড। সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছরের নির্ধারিত অর্থায়ন মেয়াদে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীর টিউশন ও নির্ধারিত ফি বহন করে। অনেক প্রোগ্রামে এর সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়। তবে কোন প্রোগ্রামে কত বছর এবং কী ধরনের অর্থায়ন থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অর্থায়নের ধরনও আলাদা। উদাহরণ হিসেবে পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের বায়োমেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজে ভর্তি হওয়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন, ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং স্টাইপেন্ডসহ পূর্ণ অর্থায়ন পেয়ে থাকেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এই প্রোগ্রামে বার্ষিক স্টাইপেন্ড ৪৯ হাজার ডলার নির্ধারিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এই অর্থায়নের আওতায় আসতে পারেন। তবে আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে। অ্যানেনবার্গ স্কুল ফর কমিউনিকেশনের পিএইচডি প্রোগ্রামেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড, পূর্ণ টিউশন, ব্যক্তিগত হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং গবেষণা ও ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়। প্রথম কয়েক বছরে শিক্ষার্থীরা রিসার্চ বা টিচিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এসব দায়িত্ব সাধারণত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার সব মাস্টার্স প্রোগ্রামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ অর্থায়ন বা টিউশন মওকুফ পাওয়া যায় না। কিছু স্কুল ও বিভাগে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের বিভিন্ন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপের সুযোগ প্রকাশ করা হয়। এসব পদে সাধারণত সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বেতন, কাজের ধরন ও মেয়াদ পদভেদে পরিবর্তিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব অ্যাসিস্ট্যানশিপ নিশ্চিত নয়। এ কারণে ‘পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডিতে সবার জন্য ফুলি ফান্ডেড অ্যাসিস্ট্যানশিপ’—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলেও মাস্টার্স পর্যায়ে সুযোগ অনেক বেশি প্রোগ্রাম ও পদের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে সব অ্যাসিস্ট্যানশিপের সঙ্গে টিউশন সম্পূর্ণ মওকুফ বা হেলথ ইন্স্যুরেন্স যুক্ত থাকে না। কোনো কোনো গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সরাসরি ঘণ্টাভিত্তিক বেতন দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালে প্রকাশিত পেনের একটি গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পজিশনে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের জন্য ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতন উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের সুবিধা ছিল না। আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই প্রথমে নিজের পছন্দের ডিগ্রি প্রোগ্রাম নির্বাচন করে সেই প্রোগ্রামের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন ও ফান্ডিং তথ্য দেখা জরুরি। পিএইচডির ক্ষেত্রে আবেদন করার সময়ই সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়নের কাঠামো জানানো থাকে। কোথাও ফেলোশিপ, কোথাও টিচিং বা রিসার্চের দায়িত্ব, আবার কোথাও একাধিক উৎস মিলিয়ে শিক্ষার্থীর ফান্ডিং প্যাকেজ তৈরি করা হয়। মাস্টার্সে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আরও সতর্কভাবে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। অ্যাডমিশন পাওয়া মানেই অ্যাসিস্ট্যানশিপ পাওয়া নয়। কোনো কোনো গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পর আলাদাভাবে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য আবেদন করতে হয়। পেন গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনও জানিয়েছে, তাদের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপগুলো ফান্ডেড পার্টটাইম সুযোগ হলেও এগুলো বাধ্যতামূলক বা নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্ধারিত অ্যাডমিশন শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে জিআরই, টোফেল বা আইইএলটিএসের নিয়ম সব প্রোগ্রামে এক নয়। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, আবেদন কখন শুরু হবে, ফান্ডিং কত বছরের এবং আলাদা অ্যাসিস্ট্যানশিপের জন্য আবেদন করতে হবে কি না—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট স্কুল বা বিভাগের বর্তমান নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সব মিলিয়ে, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণীকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রোগ্রামের অফিসিয়াল ফান্ডিং ও অ্যাডমিশন শর্ত যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু সিজিপিএ তুলনামূলক কম? সিজিপিএ কম হলেও দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম থাকলেই ভর্তি বা সম্পূর্ণ স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমন ধারণা ঠিক নয়। আবেদনকারীর পছন্দের বিভাগ, ডিগ্রির ধরন এবং অর্থায়নের শর্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়া আবদুল হাকিম তিস্তির নামে সরবরাহ করা ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য ন্যূনতম জিপিএ ২ দশমিক ৫০। আবার একই তালিকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ০০ প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্নাতক ডিগ্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুযায়ী ন্যূনতম ২ দশমিক ৫০ জিপিএ অথবা সম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্কে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম আলাদা শর্ত দিলে সেটিই প্রযোজ্য হবে। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তি শর্তেও সর্বশেষ সম্পন্ন ডিগ্রি অথবা শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে কোনো বিভাগ অতিরিক্ত যোগ্যতা নির্ধারণ করলে আবেদনকারীকে তা পূরণ করতে হবে। ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তির জন্য স্নাতক পর্যায়ে ন্যূনতম ২ দশমিক ৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৩ দশমিক ০০। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএধারী আবেদনকারীর আবেদনও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটিতে সাধারণভাবে স্নাতকের শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ চাইলে ওই অংশে অন্তত ২ দশমিক ৫০ জিপিএ থাকা আবেদনকারীকে সাময়িক ভর্তির জন্য বিবেচনা করতে পারে। অর্থাৎ শুধু মোট সিজিপিএ নয়, শেষ কয়েক বছরের একাডেমিক ফলও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তালিকায় থাকা ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইলের ক্ষেত্রেও প্রোগ্রামভেদে পার্থক্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাস্টার অব আর্টস ইন অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপ এবং মাস্টার অব সায়েন্স ইন বিজনেস প্রোগ্রামে ন্যূনতম ৩ দশমিক ০০ জিপিএ প্রয়োজন। তাই পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে এক কথায় ‘কম সিজিপিএতে ভর্তির বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা ঠিক হবে না। সরবরাহ করা তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব ডেনভার, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোস, আলাবামার আলাবামা এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আরকানসাসের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়ার ফোর্ট ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আইওয়ার ইউনিভার্সিটি অব নর্দার্ন আইওয়া, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানা অ্যাট মনরো, আরকানসাসের ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস অ্যাট লিটল রক, ক্যানসাসের ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটসের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস ডার্টমাউথ। পরের ১০টি হলো—মেইনের ইউনিভার্সিটি অব মেইন অ্যাট প্রেস্ক আইল, ভার্জিনিয়ার লিবার্টি ইউনিভার্সিটি, কলোরাডোর ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, আইডাহোর ইউনিভার্সিটি অব আইডাহো, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক, ওয়েস্ট টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ট্রয় ইউনিভার্সিটি, টেক্সাসের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মিজৌরির ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরি এবং মিজৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটি। ২১ থেকে ৩০ নম্বরে রয়েছে—মিশিগানের ইস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, উইসকনসিনের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকি, টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস ও টেক্সাস উইমেনস ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্স, মিসিসিপির জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি, লুইজিয়ানার সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড এ অ্যান্ড এম কলেজ এবং টেক্সাসের প্রেইরি ভিউ এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি। তালিকার শেষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—ওহাইওর কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি, ক্লিভল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টলিডো, ক্যানসাসের উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, কেনটাকির ইস্টার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটি ও মারে স্টেট ইউনিভার্সিটি, টেনেসির টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট আলাবামা এবং টেক্সাসের লামার ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আরলিংটন। তবে এই ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রোগ্রামে কম সিজিপিএ গ্রহণ করা হবে বা সব আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ অর্থায়ন দেওয়া হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কোনো একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামের যোগ্যতা দেখে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রাম বা অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। ভর্তি যোগ্যতার পাশাপাশি অর্থায়নের বিষয়টিও আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। বিভাগভেদে টিচিং, রিসার্চ ও সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগও থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপকে প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাই ন্যূনতম ভর্তি যোগ্যতা পূরণ করলেই স্কলারশিপ নিশ্চিত—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি শর্তের পাশাপাশি পছন্দের বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনাও ভালোভাবে পড়তে হবে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল মিজৌরির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে জিআরই বা জিম্যাট, নির্দিষ্ট ন্যূনতম জিপিএ, সুপারিশপত্র এবং স্টেটমেন্ট অব পারপাসের মতো অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিপিএর সমমান নির্ধারণ। ডেনভারের আন্তর্জাতিক ভর্তি নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের জিপিএর কথা বলা হয়েছে। তাই বাংলাদেশের ট্রান্সক্রিপ্টে থাকা সিজিপিএ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট জিপিএর সঙ্গে মিলিয়ে আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত করা উচিত নয়। যে প্রোগ্রামে আবেদন করতে চান, সেই বিভাগের ভর্তি দপ্তরের কাছ থেকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং অর্থায়নের শর্ত নিশ্চিত করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।