- প্রচ্ছদ
- Topic
কেপ ভার্দে
কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু করা স্পেনই শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসল। বিশ্বকাপের হট ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল লা রোজারা। ফাইনালে ১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল ইউরোপের পরাশক্তিরা। শুরুর হতাশা কাটিয়ে একের পর এক জয় আর গোলপোস্ট অক্ষত রেখে স্পেনের এই শিরোপা জয় যেন এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প। দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা এদিন সমর্থকদের পুরোপুরি হতাশ করেছে। পুরো ১২০ মিনিটের খেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। আর্জেন্টিনা মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রাখতে সক্ষম হয় এবং পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয় না পাওয়াটা ছিল স্রেফ দুর্ভাগ্য। তবে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল অবদান ছিল আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের, যিনি ১০টি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের গোল আর ঠেকাতে পারেননি তিনি। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লামিন ইয়ামাল দলকে প্রায় এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমার্ধের ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছিল, যেখানে মেসি, গঞ্জালেজ ও আলভারেজরা ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠ জুড়ে দারুণ খেলেছেন, এমনকি ডিফেন্সেও রেখেছেন বড় অবদান। অন্যদিকে ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, যিনি পরবর্তীতে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল স্কালোনি দলে পরিবর্তন আনলেও আর্জেন্টিনার খেলায় খুব একটা ধার ফেরেনি। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির দারুণ ট্যাকল এবং গোলরক্ষক মার্টিনেজের বীরত্বে আর্জেন্টিনা বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল হজম থেকে বেঁচে যায়। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে ব্যর্থ হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ে স্কালোনির শিষ্যরা। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআর-এর সাহায্যে বাতিল হয়ে যায় ফাউলের কারণে। তবে স্পেন তাদের আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২৭ সেকেন্ডের মাথায় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উইলিয়ামসের সহায়তায় দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালে মারিও গোৎসের পর আবারও ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হৃদয় ভাঙে আর্জেন্টিনার, আর স্পেন মেতে ওঠে বিশ্বজয়ের বুনো উল্লাসে।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে জয়ের জন্য লড়তে হয়েছে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল। আগামী পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিসর, যারা অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেয়েছে। ম্যাচের ফলাফল আর্জেন্টিনার পক্ষে গেলেও ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া দলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে আত্মসমর্পণ করেনি। বরং সংগঠিত ফুটবল, আত্মবিশ্বাসী আক্রমণ এবং অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তায় একাধিকবার আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলে দেয় তারা। ম্যাচে প্রথমে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু কেপ ভার্দে দ্রুত সমতা ফেরায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে দিলেও লোপেস কাবরালের দারুণ গোলে দ্বিতীয়বার সমতা আনে কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বল হেডে জালে জড়িয়ে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন মেসি। এই ম্যাচে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি মেসিসহ আর্জেন্টিনার একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন। তার অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণেই ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ায়। বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের যাত্রা শেষ হলেও তাদের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে ফুটবল বিশ্বের। গ্রুপ পর্বে তারা স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে সমতা আনে। পরে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনাকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করতে বাধ্য করে তারা। অভিষেক বিশ্বকাপেই এমন পারফরম্যান্স কেপ ভার্দেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে, এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ ষোলোয় তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। মোহাম্মদ সালাহর মিসর ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে। ফলে শেষ ষোলোর লড়াইও হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ।
আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত এই দেশটি মূলত পর্যটন, সমুদ্রবন্দর ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য পরিচিত। তবে এর আড়ালে রয়েছে আরেকটি কম আলোচিত ইতিহাস। সেটি হলো, শত শত বছরের দাসবাণিজ্য ও ঔপনিবেশিক শাসনের বাধা অতিক্রম করে কেপ ভার্দেতে ইসলামের ধীর কিন্তু ধারাবাহিক বিকাশ। কেপ ভার্দের ২০২১ সালের জাতীয় আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে মুসলিমের সংখ্যা আনুমানিক পাঁচ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। সংখ্যায় তারা ছোট একটি সম্প্রদায় হলেও ব্যবসা-বাণিজ্য, সমাজসেবা, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার মাধ্যমে দেশটির বহুসাংস্কৃতিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। দেশটির মুসলিমদের অধিকাংশই পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল, গিনি-বিসাউ ও মালি থেকে আসা অভিবাসী। রাজধানী প্রাইয়া, বন্দরনগরী মিনদেলো এবং পর্যটননির্ভর সাল ও বোয়া ভিস্তা দ্বীপে তাদের বসবাস বেশি। তারা মূলত খুচরা ব্যবসা, নির্মাণশিল্প, পরিবহন, হোটেল ও পর্যটনসেবা এবং হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। ধর্মীয়ভাবে অধিকাংশই সুন্নি মুসলিম এবং পশ্চিম আফ্রিকার তিজানিয়া ও মুরিদ সুফি ধারার সাংস্কৃতিক প্রভাব তাদের জীবনাচরণে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, কেপ ভার্দেতে ইসলামের ইতিহাস প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দী পুরোনো। ১৪৬২ সালে পর্তুগিজরা দ্বীপপুঞ্জে উপনিবেশ স্থাপন করার পর কেপ ভার্দে দ্রুত আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। সে সময় সেনেগাম্বিয়া ও আপার গিনি অঞ্চল থেকে আগত মুসলিম ব্যবসায়ী ও দাসদের মাধ্যমে দ্বীপটিতে ইসলামের প্রথম পরিচয় ঘটে। ওলোফ, মান্দিঙ্কা ও ফুলানি জনগোষ্ঠীর বহু মুসলিম কৃষিকাজ ও গৃহস্থালি শ্রমে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের অনেকেরই ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় জ্ঞান ছিল সমৃদ্ধ। কিন্তু পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ক্যাথলিক ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে মুসলিমদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। অনেক মুসলিমকে জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং কোরআন তেলাওয়াত কিংবা প্রকাশ্যে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে দেশটিতে কোনো স্থায়ী ইসলামি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তবে ইসলামের প্রভাব পুরোপুরি বিলীন হয়নি। স্থানীয় ক্রেওল ভাষা ও সংস্কৃতিতে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম ঐতিহ্যের নানা উপাদান আজও টিকে রয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসী মুসলিমদের মধ্যে ফরাসি ও ওলোফ ভাষার ব্যবহার দেশটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর কেপ ভার্দের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে মুসলিমরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান। পরবর্তী সময়ে পর্যটনশিল্পের বিকাশ, বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ার ফলে মুসলিম অভিবাসীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। ১৯৯০ সালে রাজধানী প্রাইয়ায় দেশের প্রথম সরকারি স্বীকৃত মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বর্তমানে মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরে ২০১৪ সালে অন্তত ৫০০ সদস্যবিশিষ্ট ধর্মীয় সংগঠনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার আইন কার্যকর হলে মুসলিম সংগঠনগুলোও সরকারি স্বীকৃতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা পেতে শুরু করে। বর্তমানে রাজধানী প্রাইয়া, মিনদেলো এবং সাল দ্বীপে কয়েকটি ছোট মসজিদ ও ইবাদতের স্থান রয়েছে। সেখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, রমজানের তারাবি এবং ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। যদিও দেশটিতে বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মাদরাসা নেই, তবুও মসজিদকেন্দ্রিক ছোট ছোট মক্তবে শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষা ও ইসলামের মৌলিক বিষয় শেখানো হয়। রাজধানীতে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভূমি বরাদ্দসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। কেপ ভার্দের মুসলিমদের প্রধান সংগঠন কম্যুনিদাদে ইসলামিকা দে কাবো ভের্দে। এ ছাড়া ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশন ইসলামিকা দে দাওয়াহ দে কাবো ভের্দে নতুন মুসলিমদের সহায়তা, ইসলাম প্রচার, জাকাত বিতরণ এবং অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয়ভাবে ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিমদের প্রতিষ্ঠিত আল ওয়াসিলাহ ফাউন্ডেশনও সমাজসেবা ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আফ্রিকার অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত কেপ ভার্দেতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। ২০২২ সালে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে ইকোওয়াসের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনও দেশটির আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। ঈদুল আজহায় অনেক মুসলিম পরিবার কোরবানির মাংস খ্রিস্টান প্রতিবেশীদের মধ্যেও বিতরণ করেন, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী হওয়ায় বৈধ আবাসিক কাগজপত্র ও বসবাসের অনুমতি অনেকের জন্য একটি বড় সমস্যা। পাশাপাশি ছোট মুসলিম জনগোষ্ঠীর কারণে অনেক এলাকায় হালাল খাদ্যের সহজ প্রাপ্যতা নেই। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, কেপ ভার্দেতে ধর্মীয় উগ্রবাদের উল্লেখযোগ্য কোনো নজির পাওয়া যায়নি। মুসলিমরা বরাবরই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যায় ছোট হলেও কেপ ভার্দের মুসলিম সম্প্রদায় দেশটির বহুসাংস্কৃতিক সমাজে একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দাসবাণিজ্যের অন্ধকার ইতিহাস এবং ঔপনিবেশিক দমন-পীড়নের দীর্ঘ অধ্যায় অতিক্রম করে ইসলাম আজ কেপ ভার্দের স্বীকৃত ধর্মীয় পরিচয়ের একটি অংশে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে আফ্রিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই সম্প্রদায়ের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষের পাশাপাশি মায়ামির তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াও দলটির জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচের সময়সূচি ও আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচে তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বছরের এ সময়ে মায়ামির গরম ও উচ্চ আর্দ্রতা খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি শারীরিক চাপ তৈরি করে। গ্রুপ পর্বে এই ভেন্যুতে খেলা দলগুলোর কাছেও আবহাওয়াই ছিল অন্যতম আলোচনার বিষয়। এবার সেই একই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দেকে। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা খুব গরম আবহাওয়ায় খেলব, এমন সময়ে যা বোঝানো কঠিন। তবে সবাই একই পরিস্থিতিতে খেলেছে, তাই অভিযোগ করার কিছু নেই।’ সমুদ্র উপকূলবর্তী শহর হওয়ায় এ সময় মায়ামিতে গরম ও আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে প্রতিপক্ষের চাপের পাশাপাশি কঠিন আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়াই করতে হবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ নেই। তাই শেষ ৩২-এর এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক পরীক্ষা।
বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে কেপ ভার্দেকে ঐতিহাসিক ড্র এনে দেওয়া গোলরক্ষক ভোজিনহার আবেগঘন এক আক্ষেপের অবসান হতে যাচ্ছে। ছেলের বিশ্বকাপের খেলা সরাসরি মাঠে বসে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন তার মা আনা কান্দিদা এভোরা। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আলোচনায় আসেন ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সে সময় তিনি জানান, অর্থসংকট ও ভিসা জটিলতার কারণে তার মা গ্যালারিতে বসে ছেলের বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণের মুহূর্তটি দেখতে পারেননি। ভোজিনহার সেই অশ্রুসিক্ত বক্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার মায়ের অনুপস্থিতির গল্প ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় স্পর্শ করে এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে দ্বীপের সেসারিয়া এভোরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন আনা কান্দিদা এভোরা। যাত্রার আগে নাতি মারভিন জুনিয়র ও নাতনি লাইস সোফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরে তোলা তার কয়েকটি আবেগঘন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ছবিগুলোতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আনন্দঘন মুহূর্ত ফুটে উঠেছে। এর আগে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভোজিনহা বলেছিলেন, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হলেও মায়ের অনুপস্থিতি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তটি তিনি মায়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান এই গোলরক্ষক। এবার সেই আক্ষেপ দূর হতে যাচ্ছে। গ্যালারিতে বসে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন আনা কান্দিদা এভোরা, যা ভোজিনহা ও তার পরিবারের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার (Vozinha) মা শেষ পর্যন্ত তার ছেলের বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আগেই তার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে জেফ্রিস জানান, ভোজিনিয়ার মায়ের ভিসা দ্রুত ইস্যু করা হবে এবং সব ধরনের ফি মওকুফ করা হয়েছে। ফলে তিনি আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, “সব ফি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মওকুফ করা হয়েছে। এখন মা ও ছেলের পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেয়া শহরের ভিসা টিম ভোজিনিয়ার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। এর আগে ভোজিনিয়া জানান, তার মা ভিসা সংক্রান্ত খরচ ও বন্ডের কারণে আগের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের মধ্যে একটি, যাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ভিসা বন্ড হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থান না ছাড়ার উচ্চ ঝুঁকির কারণে এই নিয়ম চালু রয়েছে। তবে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসা বন্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এর আওতায় খেলোয়াড়, কোচ এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভোজিনিয়ার মায়ের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন বা সক্রিয় প্রক্রিয়ার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনো পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। ভোজিনিয়া সম্প্রতি বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাতটি সেভ করেন এবং দলের ঐতিহাসিক ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের খেলোয়াড়ি জীবন মূলত পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ঘিরে। ম্যাচ শেষে তার পারফরম্যান্স এবং দলের সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে কেপ ভার্দে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নাগরিক এবং ভিসার সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম ক্রীড়াবিদ ও দলের সদস্যদের জন্য বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে কেপ ভার্দের জাতীয় দলের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার বিষয়ে সহায়তা করছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকে তার ছেলের বিশ্বকাপ খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য সহায়তার চেষ্টা চলছে। সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ের পর ভোজিনহা বলেন, তার মা ম্যাচটি দেখতে আসতে পারেননি, কারণ তিনি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভিসার কারণে তিনি এখানে আসতে পারেননি... ভিসার জন্য যে অর্থ আমাদের দিতে হয়, সেটির কারণেই। আমরা সময়মতো সেটি করতে পারিনি এবং আমি চাই তিনি এখানে থাকুন।” কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের একটি, যেসব দেশের নাগরিকদের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হয়। এই নীতির কারণ হিসেবে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করার উচ্চ হারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ভোজিনহার মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, খেলোয়াড়টির মায়ের কোনো ভিসা আবেদনের নথি তাদের কাছে নেই। তিনি আরও জানান, “সব খেলোয়াড়ের স্বজনদের জন্য এই বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হয়।” তিনি বলেন, “মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে এই ব্যক্তির ভিসা আবেদনের কোনো রেকর্ড নেই। খেলোয়াড়দের সব স্বজন ভিসা বন্ড মওকুফের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং ভিসাসংক্রান্ত সহায়তা দিতে দপ্তরটি সক্রিয়ভাবে এই খেলোয়াড়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।” ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্লাবে খেলেন। স্পেনের বিপক্ষে তিনি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাতটি গোল রক্ষা করেন এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলকে গোলশূন্য ড্র এনে দেন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দে বড় ব্যবধানে পরাজিত হবে। তবে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ভোজিনহা ও তার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা স্পেনের আক্রমণ প্রতিহত করেন এবং কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেন। প্রায় পাঁচ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটির এই সাফল্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এই পারফরম্যান্সের পর ভোজিনহার জনপ্রিয়তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যেখানে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ৯৭ লাখে পৌঁছে যায়। কেপ ভার্দে তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে আগামী রোববার সন্ধ্যা ৬টায়, যেখানে তারা মিয়ামিতে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।
কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে দিনটি হয়তো বহু বছর ধরে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী ও শিরোপাপ্রত্যাশী দল স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি। তবে ম্যাচ শেষে যখন সতীর্থ, সমর্থক এবং পুরো দেশ ঐতিহাসিক সাফল্যের আনন্দে ভাসছিল, তখন মাঠের এক কোণে অশ্রুসিক্ত হয়ে বসে ছিলেন দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। কিছুক্ষণ পর দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন, সান্ত্বনা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সেই আবেগঘন দৃশ্য। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, এটি ছিল আনন্দের কান্না। কিন্তু ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ভোজিনিয়া জানান, তার চোখের জলের পেছনে ছিল আরও গভীর এক গল্প। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তে পাশে পাননি তার সবচেয়ে কাছের মানুষদের। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছেন। জীবনের কঠিন সময়ে তারাই ছিলেন সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের সময় বারবার তাদের কথা মনে পড়ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে মায়ের অনুপস্থিতি। ভোজিনিয়া চেয়েছিলেন, গ্যালারিতে বসে মা ছেলের জীবনের অন্যতম বড় মুহূর্তটি দেখুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। ভোজিনিয়া বলেন, “আমি চেয়েছিলাম মা এখানে থাকুন। কিন্তু ভিসা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় খরচ সময়মতো জোগাড় করতে পারিনি। তাই তিনি আসতে পারেননি।” এই স্বীকারোক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসার বার্তা জানাতে শুরু করেন ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকেই মনে করেন, তার গল্প বিশ্বকাপের সবচেয়ে মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনাগুলোর একটি। কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক ফলের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ভোজিনিয়ার। পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের তারকাবহুল আক্রমণভাগকে প্রায় একাই আটকে দেন তিনি। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। পেদ্রি, রদ্রি এবং আয়মেরিক লাপোর্তেদের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের আক্রমণ সামলে ম্যাচজুড়ে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। স্পেনের অন্তত কয়েকটি স্পষ্ট গোলের সুযোগ তিনি রুখে দেন অসাধারণ দক্ষতায়। তার এই নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই। মজার বিষয় হলো, ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচিত গোলরক্ষকদের মতো বড় ক্লাবে খেলেন না ভোজিনিয়া। বর্তমানে তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলেন। সীমিত আলোচনার মধ্যে থাকা এই গোলরক্ষক বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি তার জন্য আরেকটি কারণে বিশেষ হয়ে থাকবে। ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি কেপ ভার্দের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক বিশ্বকাপ ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। আর সেই অভিষেক ম্যাচেই হয়েছেন ম্যাচসেরা। তবে ভোজিনিয়ার সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। কেপ ভার্দের মিন্দেলো দ্বীপে বেড়ে ওঠার সময় শারীরিক গড়ন নিয়ে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। উচ্চতা তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক দলই তাকে গুরুত্ব দিতে চাইত না। ভালো খেললেও সুযোগ পেতে সংগ্রাম করতে হয়েছে দীর্ঘদিন। পেশাদার ফুটবলে তার যাত্রা শুরু হয় ২৫ বছর বয়সে, যা একজন ফুটবলারের জন্য বেশ দেরিতেই বলা যায়। এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তাকে বারবার মাঠে ফিরিয়ে এনেছে। সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নায়ক হওয়ার সুযোগ। বিশ্বকাপে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে যেমন নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে, তেমনি ভোজিনিয়ার ব্যক্তিগত গল্পও ছুঁয়ে গেছে লাখো মানুষের হৃদয়। তার চোখের জল মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবল শুধু গোল, পরিসংখ্যান কিংবা ট্রফির গল্প নয়। এটি সংগ্রাম, পরিবার, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বপ্ন পূরণের গল্পও। কেপ ভার্দের জন্য এই এক পয়েন্ট হয়তো ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। আর সেই ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগময় মুখগুলোর একটি হয়ে থাকবেন ভোজিনিয়া, যার সাফল্যের মুহূর্তেও মনে পড়েছে মায়ের কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।