মুসলিম পরিচয় ঘিরে আক্রমণের মাঝেও মিশিগান থেকে সিনেটের পথে এগিয়ে আবদুল এল-সাইদ
মিশিগানের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে ঘিরে মুসলিম পরিচয় ও তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আক্রমণ তীব্র হলেও সাম্প্রতিক জরিপে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এল-সাইদ জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়বেন।
৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সাইদ কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। প্রাইমারিতে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া স্টিভেনসকে অল্প ব্যবধানে হারান। তার এই জয় জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ নির্বাচনের আগে এল-সাইদের প্রচারণার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের বাইরের অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল।
প্রাইমারি জয়ের পর এল-সাইদকে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণের বড় একটি অংশ তার মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে চলে আসে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে প্রচারে গিয়ে এল-সাইদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাকে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এল-সাইদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সন্ত্রাসবাদ ও ৯/১১ হামলার নিন্দা করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার সমর্থক হিসেবে উপস্থাপনের দাবিও রয়েছে। এসব দাবির কিছু ইতোমধ্যে ফ্যাক্টচেকের মুখে পড়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে এল-সাইদের অবস্থানও রিপাবলিকান ও প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর সমালোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
এল-সাইদ ইসরায়েলের গাজা নীতির কঠোর সমালোচক। তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অবকাঠামোয় অর্থ ব্যয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার এই অবস্থানের কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রো-ইসরায়েল গোষ্ঠীগুলোর বিরোধিতারও মুখে পড়েছেন তিনি।
তবে এসব আক্রমণের মধ্যেও সাধারণ নির্বাচনের লড়াইয়ে এল-সাইদের অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। একই জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এল-সাইদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশে ছিলেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন জরিপে ব্যবধান এক নয়। ফক্স নিউজের আগস্টের জরিপে রজার্স ৫১ শতাংশ এবং এল-সাইদ ৪৭ শতাংশে ছিলেন। পরে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এল-সাইদ আবার এগিয়ে যান। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্সের সাম্প্রতিক গড় হিসাবে এল-সাইদ ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থনে রয়েছেন। ফলে মিশিগানের এই লড়াই এখনো টস-আপ বা অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এল-সাইদের প্রচারণায় মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয় তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি দীর্ঘদিন মিশিগানে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন।
অন্যদিকে, সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। রিপাবলিকান প্রচারণায় এল-সাইদের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান, স্বাস্থ্যনীতি, করনীতি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী অংশের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।
মিশিগানের এই নির্বাচন শুধু একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়। ২০২৬ সালের মিডটার্মে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চারটি আসন নিজেদের দখলে নিতে চাইছে। ফলে এল-সাইদ ও রজার্সের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এল-সাইদ জয়ী হলে শুধু মিশিগান থেকেই একজন নতুন সিনেটর নির্বাচিত হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে। তবে নির্বাচনের এখনও প্রায় দুই মাস বাকি এবং জরিপে ব্যবধান খুব বেশি নয়। মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের মনোভাব শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মাইকেল সুইনি নামের ১৪ বছর বয়সী এক জিনিয়াস কিশোরের আগাম হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশনের আবেদন বাতিল করেছে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ফুল-টাইম কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও কেবল বয়সের বাধায় স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে বসেছে এই কিশোর। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন থাকলেও, বেথলেহেম সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তার সিনিয়র ইয়ারে (দ্বাদশ শ্রেণি) পদার্পণের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের বাধ্যতামূলক শিক্ষা আইন অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের পূর্ণকালীন নির্দেশনার অধীনে থাকতে হয়, যার ফলে মাইকেলকে গ্র্যাজুয়েশনের জন্য ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মাইকেলের মা নিকোল সুইনি জানান, তার ছেলে ইতোমধ্যে হাইস্কুলের সব ধাপ নিজ যোগ্যতায় পার করে গেছে। গত দুই বছর ধরে সে স্থানীয় কলেজে ক্যালকুলাস থ্রি এবং ফিজিক্স টু-এর মতো অ্যাডভান্সড কোর্স করছে। হোমস্কুল শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাচিভমেন্ট টেস্টে (CAT) মাইকেল ১৩.৫ স্কোর করেছে, যা একজন কলেজ সোফোমোরের (দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী) সমতুল্য। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, মাইকেলের হোমস্কুল পরিকল্পনাটি প্রয়োজনীয় ক্রেডিটের শর্ত পূরণ করেনি, কারণ সে হাইস্কুলের বদলে কেবল কলেজের কোর্সগুলোই করছিল। অথচ অষ্টম গ্রেডে থাকার সময়েই মাইকেল ২৬টি কলেজ ক্রেডিট অর্জনের পাশাপাশি নবম থেকে একাদশ গ্রেডের প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করেছিল। বর্তমানে মাইকেল এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তার ৩০০-লেভেলের কোর্স করা প্রয়োজন, আর তা চালিয়ে যেতে তাকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতেই হবে। এই জটিলতা নিরসনে স্কুল বোর্ড এবং আইনজীবীদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এদিকে, একই রাজ্যে লং আইল্যান্ডের ১৩ বছর বয়সী আরেক বিস্ময়-বালক জো পেত্রারো-হিপোলাইট সম্প্রতি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আইনস্টাইনের সমকক্ষ ১৬৮ আইকিউ সম্পন্ন এই কিশোর ক্যানসার ও টুরেট সিনড্রোম জয় করে আগামী বছর থেকে স্পোর্টস মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করবে।
ভারতের আম্বানির তেল শোধনাগারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে জোড়া খুনের দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্তে সহায়তা করল রোবট কুকুর
বাফেলোর বাংলাদেশি সাহী চৌধুরীর জনসেবার অবদান কংগ্রেশনাল রেকর্ডে তুলে ধরলেন কেনেডি
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডু বাজারে আসার পরপরই এর পর্দায় ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। প্রায় ২ হাজার ডলার দামের এই ফোনের নকশা, মসৃণ ভাঁজ করার ব্যবস্থা এবং পর্দার ভাঁজের দাগ কম দৃশ্যমান হওয়ায় প্রযুক্তি পর্যালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। তবে বিক্রির প্রথম দিনেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এতে ফোনটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এখন পর্যন্ত এসব বিচ্ছিন্ন অভিযোগ থেকে সব ফোনে একই ধরনের সমস্যা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর থেকে আইফোন ডু বিক্রি শুরু হয়েছে। এর আগে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট ফোনটিকে ১০-এর মধ্যে ৮ দশমিক ৮ নম্বর দেয়। দ্য ভার্জ ও ওয়্যার্ড দেয় ৭ নম্বর করে। পর্যালোচকেরা ফোনটির টাইটানিয়াম কাঠামো, মসৃণ হিঞ্জ বা ভাঁজ করার সংযোগব্যবস্থা এবং ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ভেতরের পর্দার প্রশংসা করেছেন। তবে এর ওজন, ক্যামেরার সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন অ্যাপের অসমর্থিত বিন্যাস নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেডিটে এক ব্যবহারকারী ফোনটি হাতে পাওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে পর্দা ফেটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। বন্ধুকে ফোনটি দেখানোর সময় ভেতরের হিঞ্জের কাছে পর্দার নিচে কিছু একটা অনুভব করেন তিনি। এরপর ফোনটি আরও খুলতে গেলে ফাটার শব্দ শোনেন এবং পর্দায় হিঞ্জ বরাবর ফাটল দেখতে পান বলে জানান। তাঁর দাবি, পর্দার ওপরিভাগে বা বাইরের হিঞ্জে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পরে অ্যাপল স্টোরে গেলে তাঁকে নতুন একটি ফোন দেওয়া হয়। আরেক ব্যবহারকারীও ফাটা পর্দার ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছেন, কয়েকটি ফোনে একই জায়গায় ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। অন্য একটি পোস্টে একই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত ফোনের ছবি দিয়ে বলা হয়েছে, একাধিক আইফোন ডুতে নির্দিষ্ট স্থানে ফাটল দেখা গেছে। তবে এসব ছবি ও ব্যবহারকারীর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অ্যাপল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সমস্যাটির কারণ, ব্যাপ্তি এবং এটি উৎপাদনগত ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ভাঁজ খুললে পাওয়া বড় পর্দা। এতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ম্যাট বা আলো প্রতিফলন কমানো পর্দা, আর ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের পর্দার মাপ ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের দাবি, বিশেষ ন্যানোটেক্সচার প্রযুক্তির কারণে আলো প্রতিফলন কমে এবং পর্দার মাঝের ভাঁজের দাগ তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। তবে পর্যালোচকেরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোণ থেকে তাকালে দাগটি এখনো দেখা যায় এবং আঙুল বুলিয়েও অনুভব করা যায়। ফোনটির ওজন ২৫৪ গ্রাম এবং ভাঁজ করা অবস্থায় পুরুত্ব ১১ দশমিক ৩ মিলিমিটার, যা অনেকের কাছে ভারী ও মোটা মনে হয়েছে। সফটওয়্যার ও ক্যামেরা নিয়েও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপগুলো দুই পর্দার সঙ্গে তুলনামূলক ভালোভাবে মানিয়ে নিলেও অনেক তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ এখনো বড় পর্দার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। ফলে কিছু অ্যাপে দুই পাশে কালো অংশ দেখা যায় এবং বড় পর্দার পুরো সুবিধা পাওয়া যায় না। একসঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানো গেলেও পর্দাকে নিজের মতো করে ভাগ করা বা তৃতীয় একটি ভাসমান অ্যাপ খোলার সুযোগ সীমিত। ক্যামেরার ক্ষেত্রেও ফোনটির মূল ও আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা প্রশংসা পেলেও আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কথা বলেছেন পর্যালোচকেরা। ব্যাটারির কর্মক্ষমতা নিয়ে অবশ্য তুলনামূলক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। টমস গাইডের পরীক্ষায় বড় পর্দা ব্যবহার করে একটানা ফাইভ-জি ইন্টারনেট চালানোর সময় ফোনটি ১৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট চলেছে। পরীক্ষায় স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর চেয়ে বেশি সময় টিকলেও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। ফলে ফোনটির নকশা ও বড় পর্দা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হলেও প্রায় ২ হাজার ডলার খরচ করার আগে স্থায়িত্ব, ক্যামেরা ও অ্যাপের সামঞ্জস্য বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। আপাতত কয়েকটি ফোনে ফাটলের অভিযোগ পাওয়া গেলেও আইফোন ডুর সামগ্রিক স্থায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও তথ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সূত্র: দ্য ভার্জ, ওয়্যার্ড ও অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড হেলথ ও হিউমানার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা বন্ধ, প্রভাব পড়বে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের ওপর
নিউ ইয়র্কে ম্যানহোল দিয়ে নর্দমায় নেমে গয়না খুঁজছিলেন তাঁরা, গ্রেপ্তার ৫
ফ্লোরিডায় বাবার বন্দুকের গুলিতে প্রাণ গেল ৩ বছরের শিশুর, জন্মদিনের চার দিন আগে মৃত্যু
অন্য এক মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়া এবং নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ভিভিয়ান চিকি ওবিচেরে। গত ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। ২০১৩ সালের জুনে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ওবিচেরের ক্ষেত্রে এই আদেশ কার্যকর ধরা হয়েছে নাগরিকত্ব পাওয়ার দিন থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে অন্য এক মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়ার মধ্য দিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওবিচেরে ১৯৯২ সালে ‘সি.সি.ও.’ নামে চিহ্নিত এক মার্কিন নাগরিকের নাম, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, জন্মস্থান ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। ২০০২ সালে তিনি ওই পাসপোর্ট নবায়নও করেন। পরে ২০০৩ সালে নিজের প্রকৃত পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান। তবে ২০১২ সালে তিনি আবারও অন্যের পরিচয়ে নেওয়া পাসপোর্ট নবায়নের চেষ্টা করেন। একই সময়ে নিজের আসল নাম ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনও করেন। বিচার বিভাগের বিবরণ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের জন্য সাক্ষাৎকারের সময় শপথ নিয়ে ওবিচেরে দাবি করেছিলেন, তিনি কখনো ‘সি.সি.ও.’ নামটি ব্যবহার করেননি। অথচ ওই বক্তব্য মিথ্যা ছিল বলে জানায় বিভাগটি। ২০১৫ সালে পাসপোর্টের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও পাসপোর্ট ব্যবহারের ঘটনায় ফেডারেল আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে মামলা করে বিচার বিভাগ। মামলার চারটি অভিযোগের মধ্যে একটির ভিত্তিতে আদালতের সম্মতিমূলক রায় মেনে নেন ওবিচেরে। দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে গত ১৩ অক্টোবর আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। বাকি তিনটি অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়েই সেগুলো খারিজ করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, তাঁকে নাগরিকত্বের সনদ এবং তাঁর কাছে থাকা মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট সরকারি নথি, যেমন মার্কিন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট কার্ড, জমা দিতে হবে। তবে আদালতের এই আদেশে ওবিচেরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকতে পারবেন কি না, তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে কি না কিংবা আটক করা যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। অভিবাসন আইনের আওতায় অন্য কোনো সুবিধা বা সু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ জোরদার করার মধ্যে এ ঘটনাটি সামনে এল। নিউজউইকের প্রতিবেদনে ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাকসেস ক্লিয়ারিংহাউসের (ট্র্যাক) তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৮৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫০টি মামলা দায়ের হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পুরো দেশে দায়ের হওয়া প্রায় ১২৫টি মামলার তুলনায় চলতি বছরের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বেশি। ওবিচেরের মামলার পাশাপাশি কিউবায় জন্ম নেওয়া মিলাগ্রোস মারিলেইসিস আকোস্তা তোরেসের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের কথাও জানিয়েছে বিচার বিভাগ। ২০১৫ সালে নাগরিকত্ব পাওয়া আকোস্তা তোরেসের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচালিত ক্যাসিনো থেকে জাল ঋণপত্রের মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার আত্মসাতের অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। ২০২০ সালে এ ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রায় দেড় লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৪ অক্টোবর আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বেসামরিক বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ শুমেট বলেন, অপরাধ গোপন করে বা মার্কিন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে নাগরিকত্ব অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও নিউজউইক।
নিউ ইয়র্কে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় ইট খসে পড়ে ৬ বছরের শিশুর পা ভাঙল
প্রতিদিন অন্ধ হরিণকে খাবার খুঁজতে সাহায্য করত ১০ বছরের শিশু, পাশে দাঁড়ালেন প্রতিবেশীরা