- প্রচ্ছদ
- Topic
ক্ষেপণাস্ত্র মজুত
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সংঘাতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়ায় সেগুলো পুনরায় পূরণ করতেও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ব্যবহৃত মজুত পুনর্গঠনে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে, উৎপাদন বাড়ানো হলেও। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবের মধ্যে যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিস্থাপন, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সরঞ্জাম, সামরিক উড্ডয়ন, জ্বালানি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সিবিও বলছে, সংঘাতের তীব্রতা যদি মে ও জুনের মতো তুলনামূলক কম থাকে, তাহলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। আর জুলাইয়ের মতো সংঘাতের মাত্রা বেড়ে গেলে মাসিক ব্যয় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এই ব্যয়ের বড় অংশই গেছে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুনরায় সংগ্রহে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সিবিওর হিসাব উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহৃত গোলাবারুদ প্রতিস্থাপনে প্রায় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী গোলাবারুদের অংশ প্রায় ১৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং স্থলভিত্তিক হামলায় ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্তরের অংশ প্রায় ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সামরিক মজুত নিয়ে প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী গোলাবারুদের ঘাটতি। সিবিওর হিসাবে, ২০২৫ সালের জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট, থাড, এসএম-৩ ও এসএম-৬সহ নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ব্যবহার করে থাকতে পারে। এসব অস্ত্রের প্রকৃত মজুতের সংখ্যা প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রকাশ না করায় সিবিও সরকারি তথ্য ও প্রকাশ্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই হিসাব করেছে। সিবিও বলছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। উৎপাদনের গতি বাড়ানো হলেও এই সময় কমানো কঠিন হতে পারে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগের তুলনায় কমসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র মজুত থাকবে। বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত থাকা কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে নতুন সংঘাত তৈরি হলে এই ঘাটতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সিবিওর হিসাবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পেট্রল, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে পড়ছে। জ্বালানি পরিবহন ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় এর মূল্যবৃদ্ধি অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও পরোক্ষ চাপ তৈরি করছে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ের মূল্যসূচক বা পিসিইভিত্তিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে করা পূর্বাভাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে মূল মূল্যস্ফীতিও একই সময় পূর্বাভাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। মূল্যস্ফীতির এই চাপ সুদের হারেও প্রভাব ফেলতে পারে। সিবিওর হিসাবে, মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালে তিন মাস মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বিলের সুদের হার ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে এই ব্যবধান শূন্য দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্টের নিচে নেমে আসতে পারে। তবে সিবিও সতর্ক করেছে যে তাদের হিসাবের মধ্যে যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের সম্ভাব্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয় এই হিসাবের বাইরে রয়েছে। কূটনৈতিক কার্যক্রম ও বিদেশি সহায়তার অতিরিক্ত ব্যয়েরও নির্দিষ্ট হিসাব দিতে পারেনি সংস্থাটি। প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে আরেকটি সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে সিবিও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের তথ্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। ফলে সিবিওকে সরকারি বিভিন্ন তথ্যভান্ডার ও প্রকাশ্য প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এ কারণে সামরিক ব্যয়ের হিসাবের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। সিবিওর এই প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের একটি পৃথক প্রতিবেদনে যুদ্ধের ব্যয় ও সামরিক মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে ২৯ জুন পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বিভাগ ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যয় প্রায় ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুতে কৌশলগত ঘাটতির কথাও বলা হয়। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ যুদ্ধের কারণে দেশটির সামরিক সক্ষমতা গুরুতরভাবে কমে গেছে এমন দাবির সঙ্গে একমত নয়। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সময় ও স্থানে হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ব্যয় নিয়ে কংগ্রেসে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। জুলাইয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। নতুন সিবিওর হিসাব সেই সংখ্যার কাছাকাছি। সিবিওর প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানির দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত অব্যাহত থাকলে সামরিক ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনও দীর্ঘমেয়াদি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে। সূত্র: কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (CBO), রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।