জানাজা

ছবি: সংগৃহীত
তেহরানে লারিজানি ও বাসিজ প্রধানের জানাজা সম্পন্ন: শোকে মুহ্যমান ইরান

ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি এবং আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানির জানাজা আজ বুধবার রাজধানী তেহরানে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন হামলায় নিহত নৌ-সেনাদের প্রতিও শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, আজকের জানাজা অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পুরো তেহরান জুড়ে আজ শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলী লারিজানি ও তার পুত্র নিহত হন। একই দিনে পৃথক এক হামলায় প্রাণ হারান বাসিজ প্রধান জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানি। গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েল এই হামলার দাবি করার পর ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর আগে গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন টর্পেডো হামলায় ইরানের রণতরী 'দেনা' ধ্বংস হলে ৮৪ জন নৌ-সেনা নিহত হয়েছিলেন, যাদের আজ শেষ বিদায় জানানো হলো। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এক বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দা বিষয়কমন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হয়েছেন। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। কাৎজ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সামরিক বাহিনীকে যেকোনো শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার পূর্ণ অনুমতি দিয়ে রেখেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হওয়ার পর থেকেই পারস্য উপসাগরীয় এই অঞ্চলে চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
সাবেক র‍্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ।
ব্যালট বক্সে 'জেন-জি' বিপ্লব, র‍্যাপার থেকে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ

নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা প্রবীণ নেতাদের আধিপত্য এক লহমায় ধূলিসাৎ হয়ে গেল। হিমালয় কন্যা নেপালে বইছে পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া। প্রথাগত রাজনীতির ‘হেভিওয়েট’দের ধরাশায়ী করে দেশটিতে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সাবেক র‍্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহের (বালেন) দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (RSP)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে দেখছেন নেপালের তরুণ প্রজন্মের বা ‘জেন-জি’ (Gen Z) ভোটারদের এক নীরব বিপ্লব হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতি মূলত নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন-ইউএমএল-এর মতো পুরোনো দলগুলোর হাতে বন্দি ছিল। দুর্নীতির অভিযোগ, বেকারত্ব এবং স্থবির অর্থনীতির বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বর মাসে নেপালের রাস্তায় নেমেছিল তরুণ প্রজন্ম। সেই আন্দোলনের রেশ ধরেই এবারের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে জেন-জি ভোটাররা। ফলাফল অনুযায়ী, বালেন্দ্র শাহ নিজে ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এবারের নির্বাচনে মূল চালিকাশক্তি ছিল তরুণরা। নেপালের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যাদের বয়স ২৪-এর নিচে, তারা প্রথাগত নেতাদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ঝুঁকছেন বালেন্দ্রর দিকে। বালেন্দ্র শাহর প্রচারণার মূল ভিত্তি ছিল দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন। গত বছর নেপাল সরকারের সামাজিক মাধ্যম বা 'টিকটক' নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তরুণদের যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, বালেন শাহ সেই ক্ষোভকে সফলভাবে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পেরেছেন। নেপালের রাজনীতিতে ‘আউটসাইডার’ হিসেবে পরিচিত ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ পেশায় একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং জনপ্রিয় র‍্যাপার। কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীন তার কাজের ধরণ তাকে সাধারণ মানুষের অত্যন্ত কাছের মানুষে পরিণত করে। এবারের নির্বাচনে তার দল আরএসপি (RSP) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যা তাকে নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। তবে এই ভূমিধস জয়ের পরেও বালেনের সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। নেপালের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা তার জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে। বিশেষ করে তার অতীত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি কীভাবে নিজেকে তুলে ধরেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক মহল। নেপালের এই নির্বাচন প্রমাণ করল যে, দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু জনমোহিনী বক্তৃতা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আর ভুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের দাবিতে নেপালের এই ‘জেন-জি বিপ্লব’ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রাজনীতির জন্যও এক বড় বার্তা হয়ে রইল।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মায়ের জানাজায় এসে ক্ষমা চাইলেন রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা

মায়ের জানাজায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সাভারে এসে উপস্থিত হয়ে ভুলের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সোহেল রানা, যিনি ধসে পড়া রানা প্লাজা ভবন–এর মালিক হিসেবে পরিচিত।   শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার সাভার পৌর মাদরাসা মসজিদ–এ তার মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। এ সময় সাভার মডেল থানা পুলিশ উপস্থিত ছিল।   রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন এবং আমার ভুলের জন্য আমাকে মাফ করবেন।   রানার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম জানান, রানার মা মজিনা বেগম দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।   পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে রানাকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাভারে আনা হয়। জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাকে পুনরায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার–এ ফিরিয়ে নেওয়া হয়।   সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক মোত্তাছিম বিল্লাহ জানান, পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।   ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। পরে ২৮ এপ্রিল সীমান্ত এলাকা থেকে সোহেল রানাকে আটক করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

১৭ কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা, মিশিগানে বাঙালি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১১, ২০২৬ 0