সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

জাপান

পুলিশ সেজে ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সেই রহস্যময় ঘটনার প্রতীকী দৃশ্য
পুলিশ সেজে গু লি না চালিয়েই ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও, রহস্য আজও অমীমাংসিত

১৯৬৮ সালের ১০ ডিসেম্বর। জাপানের টোকিওতে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি চার ব্যাংককর্মীকে থামিয়ে এমন এক নাটক সাজিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে প্রায় ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও হয়ে যান তিনি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও সেই অর্থ উদ্ধার হয়নি, ধরা পড়েনি ঘটনার মূল হোতাও।   সেদিন চার ব্যাংককর্মী একটি গাড়িতে করে টশিবার ফুচু কারখানার কর্মীদের বোনাসের টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে ছিল ২৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ ইয়েন। ১৯৬৮ সালের বিনিময় হারে যার মূল্য ছিল প্রায় ৮ লাখ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার।   গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশের মোটরসাইকেল নিয়ে এক ব্যক্তি তাদের গাড়ি থামান। পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকের বাড়িতে বি স্ফো রণ ঘটেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, তাদের গাড়িতেও বো ম থাকতে পারে।   ভয় পেয়ে চার ব্যাংককর্মী গাড়ি থেকে নেমে আসেন। এরপর ওই ব্যক্তি গাড়ির নিচে ঢুকে পরীক্ষা করার ভান করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি চিৎকার করে জানান, গাড়ির নিচে ডা য় না মাই ট পাওয়া গেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে গাড়িটি বি স্ফো রিত হতে পারে।   পরিস্থিতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে গাড়ির নিচে ধোঁয়া ও আগুনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরে জানা যায়, ওই ধোঁয়া ও আগুন আসলে একটি ফ্লেয়ার থেকে তৈরি করা হয়েছিল। আতঙ্কিত ব্যাংককর্মীরা গাড়ি থেকে দূরে সরে গেলে ভুয়া পুলিশ সদস্যটি গাড়িতে উঠে সেটি চালিয়ে পালিয়ে যান।   ঘটনাটি জাপানে ‘৩০ কোটি ইয়েন ডাকাতি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য তদন্তে যুক্ত হন এবং অসংখ্য সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের তথ্য যাচাই করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২০টি আলামতও উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, এর কিছু ছিল তদন্তকে বিভ্রান্ত করার জন্য সাজানো।   তদন্তে একজন সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের নাম সামনে এসেছিল। তবে তাকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।   চুরি যাওয়া অর্থও আর কখনো উদ্ধার হয়নি। দীর্ঘ তদন্তের পরও প্রকৃত অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   ১৯৬৮ সালের সেই ঘটনার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু জাপানের আলোচিত এই ডাকাতির রহস্য এখনো অমীমাংসিত। পুলিশের পোশাক, সাজানো বি স্ফো রণের ভয় এবং কয়েক মিনিটের অভিনয় ব্যবহার করে বিপুল অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আজও জাপানের অন্যতম আলোচিত অমীমাংসিত অপরাধ হিসেবে পরিচিত।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
পরিত্যক্ত স্যুটকেসে সবজি ও ভেষজ চাষ করছে টোকিওর হোটেল নিওয়া। ছবি: সংগৃহীত
অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেসে সবজি চাষ, টোকিওর হোটেলের ছাদে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেস এবার আর আবর্জনা হিসেবে ফেলে দিচ্ছে না টোকিওর একটি হোটেল। সেগুলোকে রূপান্তর করা হচ্ছে সবজি ও ভেষজ চাষের পাত্রে। টোকিওর চিয়োদা ওয়ার্ডে অবস্থিত হোটেল নিওয়া টোকিওর ছাদে এভাবেই গড়ে উঠেছে একটি ব্যতিক্রমী বাগান, যেখানে উৎপাদিত কিছু সবজি ও ভেষজ আবার হোটেলের রেস্তোরাঁয় অতিথিদের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।   হোটেলটি ২০২২ সালে ‘ইকো-নিওয়া’ নামে পরিবেশবান্ধব একটি উদ্যোগ শুরু করে। এর লক্ষ্য ছিল হোটেলের বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা এবং ছাদে বাগান গড়ে তোলা। শুরুতে কফি বিন বহনে ব্যবহৃত শণজাতীয় বস্তা গাছ লাগানোর পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এসব বস্তা যথেষ্ট টেকসই না হওয়ায় মাটি বেরিয়ে যেত এবং পানি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছিল। পরে অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেস ব্যবহার করার ধারণা আসে।   হোটেলের মহাব্যবস্থাপক কাজুয়া ওকাওয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ১০টি স্যুটকেস অতিথিরা হোটেলে রেখে যান। হোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ অতিথিই বিদেশি। করোনাভাইরাস মহামারির পর জাপানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করলে ফেলে যাওয়া স্যুটকেসের সংখ্যাও বেড়েছে। মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসব স্যুটকেস সংরক্ষণ করা হয়। সেই সময়ের মধ্যে কেউ নিতে না এলে উপযোগী স্যুটকেসগুলোর কিছু বাগানের কাজে ব্যবহার করা হয়।   ছাদবাগান প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ইয়োকো তাকাতা জানান, বিশেষ করে প্লাস্টিকের তৈরি এমন স্যুটকেস, যেগুলোর চাকা অক্ষত রয়েছে, গাছ লাগানোর জন্য বেশ কার্যকর। স্যুটকেসের কাঠামো মাটি ও পানি ধরে রাখতে পারে। পাশাপাশি চাকা ও হাতল থাকায় প্রয়োজন হলে সেগুলো সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো যায়। ফলে সাধারণ আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়ার বদলে পুরোনো স্যুটকেসগুলোকে ব্যবহার করে শহরের মধ্যেই নতুন করে সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   বর্তমানে হোটেলটির ছাদবাগানে প্রায় ৪০ ধরনের সবজি ও ভেষজ উৎপাদন করা হচ্ছে। হোটেলের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, অতিথিদের ফেলে যাওয়া স্যুটকেসসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত উপকরণ ব্যবহার করে এসব ফসল চাষ করা হয়। বাগান থেকে পাওয়া কিছু সবজি ও ভেষজ হোটেলের দুটি রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয়। তবে ফসলের মৌসুমের ওপর নির্ভর করে রেস্তোরাঁয় ছাদবাগানের উৎপাদিত খাবারের প্রাপ্যতা পরিবর্তিত হতে পারে।   ছাদবাগানের উৎপাদিত খাবার অতিথিদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করছে। তাকাতা বলেন, অতিথিরা যখন জানতে পারেন যে তাদের খাবারে ব্যবহৃত উপকরণ কিছুক্ষণ আগেই হোটেলের ছাদ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তখন তারা আনন্দিত হন। আবার অনেক অতিথি প্রথমবার হোটেলে এসে জানতে পারেন যে ভবনের ছাদেই একটি সবজির বাগান রয়েছে। শহরের ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যে এমন একটি উদ্যোগ হোটেলের অতিথিদের জন্যও আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।   হোটেলের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম অবশ্য শুধু স্যুটকেস পুনর্ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হোটেলের চারটি বাগান থেকে সংগ্রহ করা শুকনো পাতা প্রক্রিয়াজাত করে মাটির উর্বরতা বাড়ানোর উপাদান তৈরি করা হয়। রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য ও খাবারের ডিমের খোসাও বাগানের কাজে ব্যবহার করা হয়। ২০২৪ সাল থেকে হোটেলের ছাদে মৌমাছি পালনের উদ্যোগও রয়েছে এবং সেখান থেকে উৎপাদিত মধু হোটেলের খাবার ও পানীয়তে ব্যবহার করা হয়।   পরিত্যক্ত স্যুটকেসকে গাছ লাগানোর পাত্র হিসেবে ব্যবহারের ধারণাটি এর আগে থেকেই হোটেলটির পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ ছিল। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, হোটেলের ছাদে স্যুটকেস ব্যবহার করে বেগুন, টমেটো, মরিচ, তরমুজ, শিসো ও তুলসিসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হচ্ছিল। তখন ছাদবাগানে প্রায় ২০ ধরনের ফসল চাষের কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হয়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ ধরনের সবজি ও ভেষজ উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে।   এখন হোটেল কর্তৃপক্ষ এই ধারণাকে স্থানীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কাছাকাছি স্কুলগুলোতে কর্মশালার আয়োজন করে পুরোনো স্যুটকেস কীভাবে গাছ লাগানোর পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তা শেখানোর কথা ভাবছে তারা। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ইয়োকো তাকাতা জানিয়েছেন, অতিথিদের সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাও তাদের লক্ষ্য।   হোটেল নিওয়া টোকিওর ‘ইকো-নিওয়া’ প্রকল্পটি মূলত একটি সাধারণ বর্জ্যকে নতুন কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ। পরিত্যক্ত স্যুটকেসের মতো সহজে ফেলে দেওয়া একটি উপকরণকে ব্যবহার করে শহরের ছাদে খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সচেতনতা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করছে হোটেলটি। জাপানের হোটেলটির নিজস্ব তথ্যেও স্যুটকেস পুনর্ব্যবহার করে সবজি ও ভেষজ চাষ এবং সেগুলো রেস্তোরাঁয় ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   সূত্র: দ্য জাপান টাইমস, হোটেল নিওয়া টোকিও

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
বিনা পয়সায় সাইকেল মেরামত, কৃতজ্ঞতায় দোকানির জন্য খাবার নিয়ে ফিরলেন সোনম।
হারানো ব্যাগ অক্ষত ফেরত, এবার বিনা পয়সায় সাইকেল মেরামত - জাপানিদের মানবিকতায় মুগ্ধ ভারতীয় নারী

জাপানে বৃষ্টির মধ্যে কাজে যাওয়ার পথে সাইকেল থেকে পড়ে আহত হয়েছিলেন ভারতীয় নারী সোনম মিধা। কাঁধে আঘাতের পাশাপাশি বেঁকে যায় সাইকেলের হ্যান্ডেল, ভেঙে যায় আইফোনের স্ক্রিনও। কিন্তু সেই দুর্ঘটনার পর এক অপরিচিত জাপানি দোকানির কাছ থেকে পাওয়া মানবিক আচরণই শেষ পর্যন্ত তার কাছে দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে ওঠে।   সোনম জানান, বৃষ্টির মধ্যে সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাওয়ার সময় সেটি পিছলে যায়। পড়ে গিয়ে কাঁধে আঘাত পান তিনি। কোনোভাবে অফিসে পৌঁছানোর পর সহকর্মী তাকে প্রাথমিক চিকিৎসায় সহায়তা করেন।   দুপুরের বিরতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাইকেলটি নিয়ে কাছের একটি মেরামতের দোকানে যান সোনম। তার ধারণা ছিল, সাইকেল ঠিক করতে ভালো অঙ্কের অর্থ খরচ হবে। কারণ এর আগে শুধু সাইকেলের সিটের অবস্থান ঠিক করতেই তাকে ৫০০ ইয়েন দিতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।   কিন্তু দোকানে পৌঁছানোর পর ঘটে অন্য ঘটনা।সাইকেল দেখার আগে দোকানি সোনমের আঘাতের দিকে নজর দেন। প্রথমেই জানতে চান, তিনি ঠিক আছেন কি না। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত হ্যান্ডেল ঠিক করে দেন।   কাজ শেষে সোনম জাপানি ভাষায় জানতে চান, ‘ইকুরা দেশু কা?’ অর্থাৎ কত টাকা দিতে হবে?   দোকানির উত্তর ছিল মাত্র দুটি শব্দ - ‘নো প্রাইস।’   অর্থাৎ কোনো টাকা লাগবে না। বিনা পয়সাতেই সাইকেলটি ঠিক করে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে আরও নিরাপদে সাইকেল চালাতে হবে, সে বিষয়েও সোনমকে পরামর্শ দেন ওই দোকানি।   অপরিচিত একজন মানুষের এমন আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সোনম। তবে শুধু ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যেতে চাননি তিনি।   কাছের একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁয় গিয়ে দোকানির জন্য খাবার প্যাকেট করেন। এরপর আবার বৃষ্টির মধ্যেই সাইকেল চালিয়ে ফিরে যান সেই দোকানে।   সোনমকে আবার দোকানে ঢুকতে দেখে প্রথমে চিন্তিত হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। সোনমের ধারণা, দোকানি হয়তো ভেবেছিলেন তিনি আবার পড়ে গেছেন কিংবা সাইকেলে নতুন কোনো সমস্যা হয়েছে।   কিন্তু সোনম যখন জানান, তার জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন, তখন দোকানির প্রতিক্রিয়াও বদলে যায়। সোনমের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার পেয়ে আবেগাপ্লুত ও দৃশ্যত আনন্দিত হয়ে ওঠেন তিনি।   ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দুই অপরিচিত মানুষের পারস্পরিক এই আচরণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। একজন বিনা পয়সায় সাইকেল ঠিক করে দিয়েছিলেন, অন্যজন সেই আন্তরিকতার জবাব দিয়েছেন নিজের দেশের খাবার দিয়ে।   সোনম জানিয়েছেন, দিনটি তার মনে থাকবে সাইকেল দুর্ঘটনা, আহত কাঁধ কিংবা ভাঙা ফোনের জন্য নয় - বরং অপরিচিত একজন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া মানবিকতার জন্য।   মজার বিষয় হলো, জাপানে সোনমের এমন অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়। গত আগস্টে তিনি একটি ব্যাগ হারিয়েছিলেন, যেখানে নগদ অর্থ, বাড়ির চাবি ও দামি মাইক্রোফোনসহ প্রায় এক লাখ রুপির জিনিস ছিল। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারেন, অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ব্যাগটি খুঁজে পেয়ে সবকিছু অক্ষত অবস্থায় পুলিশের কাছে জমা দিয়ে গেছেন।   সূত্র: সোনম মিধার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি তারেক রহমানের, তালিকায় নেই ভারত
তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি তারেক রহমানের, তালিকায় নেই ভারত

আগামী দুই মাসে তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি চলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। অক্টোবর ও নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা। তবে এখন পর্যন্ত এই তিন দেশ সফরের সম্ভাব্য সূচিতে প্রতিবেশী ভারতের নাম নেই।   কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রথমে জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সম্ভাব্য এই দ্বিপক্ষীয় সফর তিন থেকে চার দিনের হতে পারে। সফরটি সামনে রেখে ঢাকা ও টোকিওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে।   জাপান সফরে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, জনশক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। জাপানও বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে।   এরপর নভেম্বরে তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দেশটির আনতালিয়ায় আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন - কপ৩১। প্রধানমন্ত্রীকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও এর আগে তারেক রহমানের কপ৩১-এ অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।   তুরস্কের পর নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে সম্ভাব্য এই দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজন নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।   সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জ্বালানি, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাংলাদেশি জনশক্তির সুযোগ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ ও পূর্ণ কর্মসূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।   এদিকে সম্ভাব্য এই তিন দেশ সফরের তালিকায় ভারত না থাকলেও দিল্লি সফরের আলোচনা শেষ হয়ে যায়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও তাকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যদিও তিনি সেখানে যাননি।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ সেপ্টেম্বর জানায়, দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছ থেকে কোনো চূড়ান্ত জবাব তারা পায়নি। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২১ সেপ্টেম্বর কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দুই পক্ষ নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সম্ভাব্য ভারত সফরের তারিখ নিয়েও আলোচনা করছে। ফলে বর্তমানে ভারত সফর বাতিল হয়েছে বা হচ্ছে না - এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগও নেই।   নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী কূটনৈতিক সফরের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে এখন সামনে রয়েছে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। তিন সফরের প্রস্তুতি এগোলেও তারিখগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জাপানের ধনী পরিবারগুলো দত্তক নিচ্ছে ঘরজামাই, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও
জাপানের ধনী পরিবারগুলো দত্তক নিচ্ছে ঘরজামাই, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

জাপানের সমাজে বিয়ের পর সাধারণত নারীরা স্বামীর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হলেও দেশটিতে এর সম্পূর্ণ বিপরীত এক অদ্ভুত পারিবারিক ব্যবস্থাও বেশ প্রচলিত। ঐতিহ্যবাহী এই প্রথায় বিয়ের পর মেয়ের স্বামীকেই দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও উত্তরাধিকারী বানানো হয়।   ‘মুকোয়োশি’ বা ‘দত্তক ঘরজামাই’ নামের দীর্ঘদিনের এই সামাজিক ও আইনি রীতির মাধ্যমে জামাইরা শুধু পরিবারের সদস্যই হন না, বরং শ্বশুরবাড়ির পদবি, ব্যবসা, সম্পদ এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা উত্তরাধিকারেরও মূল কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে শিশুদের দত্তক নেওয়ার ধারণা প্রচলিত থাকলেও জাপানের মোট দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশিই হলো ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। মূলত পারিবারিক আবেগ এবং ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   জাপানে বহু পুরোনো ব্যবসা আজও পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। কোনো পরিবারে পুত্রসন্তান না থাকলে কিংবা নিজের ছেলেকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে তারা একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিতে পারে। সেই ব্যক্তি যদি নিজের মেয়ের স্বামী হন, তাহলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়।   দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ওই ব্যক্তি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হন এবং জন্মসন্তানের মতোই পরিবারের বয়স্কদের দেখাশোনাসহ সব দায়িত্ব ও অধিকার লাভ করেন। ‘মুকোয়োশি’ প্রথার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পদবি হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং শত বছরের পুরোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পরিবারের ভেতরেই রাখা।   জাপানে এ নিয়ে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে, পুত্রসন্তান বেছে নেওয়া যায় না, কিন্তু জামাই বেছে নেওয়া যায়। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য সেখানে বিশেষ ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে।   জাপানের বিশ্বখ্যাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিহাসেও ‘মুকোয়োশি’ প্রথার গভীর প্রভাব রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকি নিজেও ছিলেন এই প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই। এছাড়া নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো জাপানি প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের দত্তকের সম্পর্ক দেখা গেছে।   তবে আধুনিক জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ায় প্রথাটি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই ব্যবস্থায় বিদেশিদেরও সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন।   অর্থাৎ, শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তিও চাইলে জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে দত্তক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া যায় না, এর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সব মিলিয়ে জাপানের এই ‘মুকোয়োশি’ প্রথা নিছক কোনো দত্তক নেওয়ার গল্প নয়, বরং এটি বদলে যাওয়া সমাজের সঙ্গে ব্যবসা ও উত্তরাধিকার টিকিয়ে রাখার এক বিস্ময়কর কৌশল।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জাপানে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত
অক্টোবর থেকে জাপানে স্থায়ী বসবাসের নতুন আইন কার্যকর, বিপাকে বাংলাদেশিসহ লাখো বিদেশি কর্মী

জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা স্থায়ী আবাসিক মর্যাদা পাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের গৃহস্থালি আয়, ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধা ও জাপানি ভাষাজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বিদেশিদের একটি অংশ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় আট বছর আগে কাজের জন্য জাপানে যাওয়া আবদুল নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকও তাদের মধ্যে রয়েছেন। উত্তর টোকিওতে বাংলাদেশি স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করা এই প্রযুক্তি প্রকৌশলী স্থায়ী বসবাসের পাশাপাশি জাপানের নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে নতুন নিয়মের কারণে দুই আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হলে জাপান ছাড়ার বিকল্পও তাকে ভাবতে হচ্ছে।   নিজের প্রকৃত নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবদুল আল জাজিরাকে বলেন, ভবিষ্যতে জাপান সরকার নিয়ম আরও কঠোর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। দুই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কী করবেন, সে প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে তাকে। এরই মধ্যে তিনি জাপানের বাইরে কাজের সুযোগ খুঁজতে শুরু করেছেন। নতুন ব্যবস্থার আওতায় স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের বার্ষিক গৃহস্থালি আয় জাপানি পরিবারের গড় আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। এ শর্তটি এপ্রিল থেকে জমা দেওয়া কিছু আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীর জাপানি ভাষায় দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।   পেনশনের ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ডে আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধা এমন পর্যায়ে থাকতে হবে, যা নির্দিষ্ট আয়স্তরে কর্মচারীদের পেনশন ব্যবস্থায় ৩০ বছর অবদান রাখলে পাওয়া যেতে পারে। তবে আগের খসড়া নির্দেশনায় পেনশন সুবিধা নির্ধারিত মানের নিচে থাকলে সঞ্চয় বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছিল।   জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নতুন নীতির মূল যুক্তি হলো, স্থায়ী বাসিন্দাদের নিজেদের জীবনযাপন স্বাধীনভাবে পরিচালনা করার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং তারা যেন ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ান। জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক নথিতে বিদেশিদের বসবাস ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোরতা আনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।   নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্নদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ বছর ধরে জাপানে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক সারাহ নেলকিনও। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জাপানে আসা নেলকিন দেশটির বিনোদন শিল্পে কাজ করছেন। নতুন নিয়ম ঘোষণার কিছু আগে তিনি স্থায়ী বসবাসের আবেদন করেছিলেন। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে জাপানের নাগরিকত্ব নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। তবে জাপান সাধারণভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি না দেওয়ায় সে ক্ষেত্রে তাকে মার্কিন নাগরিকত্ব ছাড়তে হতে পারে।   নেলকিনের ভাষ্য, প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরো সময়টাই তিনি জাপানে কাটিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পরিবারের কাছে যাতায়াতসহ বিভিন্ন কারণে মার্কিন নাগরিকত্ব ধরে রাখতে চান তিনি। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি তাকে বিবেচনা করতে হচ্ছে। জাপানের মেইকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রিসা হাগিওয়ারা মনে করেন, নতুন পরিবর্তনগুলো দেশটির অভিবাসন নীতিকে আরও বাছাইভিত্তিক ও শর্তনির্ভর করে তুলছে। তার মতে, জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং শ্রমিক সংকটের কারণে জাপানের বিদেশি কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে বসবাসের সুযোগ কঠিন হয়ে গেলে বিদেশি কর্মীদের কাছে জাপান কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।   জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৫ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি এবং প্রথমবারের মতো ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, জাপানের নিজস্ব জনসংখ্যা কমছে। দেশটির দীর্ঘদিনের কম জন্মহারের মধ্যে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে বিদেশিদের নিয়ে নীতিতে একদিকে শ্রমবাজারের প্রয়োজন, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও সামাজিক সংহতি নিয়ে উদ্বেগ, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খোঁজার চাপ তৈরি হয়েছে।   বিদেশিদের নিয়ে জাপানি সমাজের মনোভাবেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের একটি প্যানেল জরিপে ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা জাপানে আরও বিদেশি বাসিন্দা গ্রহণের বিরোধী। ২০২৪ সালের একই জরিপে এই হার ছিল ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মানুষের উত্তর নিয়ে পরিচালিত ওই গবেষণায় তরুণদের মধ্যে বিরোধিতার বৃদ্ধিও তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।   এ পরিবর্তন জাপানের রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটে রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নিম্নকক্ষ নির্বাচনে এলডিপি ৩১৫টি আসন এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি ৩৬টি আসন পায়। একই নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত সানসেইতো দল ১৫টি আসন পেয়ে নিম্নকক্ষে তাদের উপস্থিতি বাড়ায়।   তবে জাপানের অর্থনীতির জন্য বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট। জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও শ্রমিক সংকটের মধ্যে দেশটি বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশিদের শুধু কতজন প্রয়োজন তা নয়, তারা দীর্ঘমেয়াদে জাপানে বসবাস করলে কেমন সমাজ তৈরি হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্ন হয়ে উঠছে।   নতুন নিয়মের প্রভাব তাই শুধু স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাপানে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা বিদেশিদের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক যারা দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাস করছেন, তাদের জন্যও নতুন শর্তগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।   সূত্র: আল জাজিরা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জাপানে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে পরিবারের উত্তরাধিকারী করার ঐতিহ্য ‘মুকোয়োশি’
ঘরজামাই দত্তক নিচ্ছে জাপানের ধনী পরিবার, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও!

জাপানে কোনো পরিবারে উপযুক্ত পুরুষ উত্তরাধিকারী না থাকলে মেয়ের স্বামীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দত্তক নিয়ে পরিবারের পদবি ও ব্যবসার দায়িত্ব দেওয়ার দীর্ঘদিনের একটি রীতি রয়েছে। ‘মুকোয়োশি’ নামে পরিচিত এই প্রথায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বিয়ের পর শুধু জামাই হিসেবে নয়, আইনগতভাবে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্য ও উত্তরাধিকারী হিসেবেও যুক্ত হতে পারেন। বিশেষ করে পারিবারিক ব্যবসা ও পরিবারের নাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখাই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।   জাপানি সমাজে এই প্রথার শিকড় বহু পুরোনো। ঐতিহাসিকভাবে পরিবারের নেতৃত্ব ও সম্পদের উত্তরাধিকার অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ উত্তরসূরির মাধ্যমে চলত। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে, কিংবা থাকা ছেলে পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য উপযুক্ত না হলে, মেয়ের স্বামীকে দত্তক নেওয়া একটি কার্যকর উত্তরাধিকার ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। দত্তক নেওয়ার পর ওই ব্যক্তি পরিবারের পদবি গ্রহণ করেন এবং পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   তবে মুকোয়োশি শুধু মেয়ের স্বামীকে দত্তক নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোনো পারিবারিক ব্যবসার জন্য উপযুক্ত উত্তরসূরি না থাকলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের দক্ষ কর্মীকেও দত্তক নিয়ে পরিবারের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। অর্থাৎ রক্তের সম্পর্কের চেয়ে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতাকেও উত্তরসূরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে এই প্রথা।   জাপানের পরিচিত কয়েকটি ব্যবসায়িক পরিবারের ইতিহাসেও দত্তক উত্তরসূরির নজির পাওয়া যায়। সুজুকির সাবেক চেয়ারম্যান ও দীর্ঘদিনের শীর্ষ নির্বাহী ওসামু সুজুকি জন্মসূত্রে সুজুকি পরিবারের সদস্য ছিলেন না; তিনি বিয়ের মাধ্যমে পরিবারে যুক্ত হয়ে দত্তক নেওয়া হয় এবং পরে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। কিক্কোমানের দীর্ঘ ব্যবসায়িক ইতিহাসেও উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় পরিবার ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষার বিভিন্ন কৌশলের নজির রয়েছে।   সময়ের সঙ্গে এই প্রথাকে ঘিরে ম্যাচমেকিং বা মধ্যস্থতাকারী সেবারও বিকাশ ঘটেছে। ব্যবসার উত্তরসূরি প্রয়োজন এমন পরিবার এবং মুকোয়োশি হতে আগ্রহী পুরুষদের মধ্যে বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্ক তৈরিতে কিছু বিশেষায়িত সেবা কাজ করেছে। তবে এটি কোনো সাধারণ ‘ঘরজামাই আবেদন’ ব্যবস্থা নয়। পরিবার, বিয়ে, দত্তক এবং ব্যবসার উত্তরাধিকার সবকিছুই আলাদা সামাজিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।   জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক আইনগতভাবেও স্বীকৃত একটি ব্যবস্থা। দত্তক সম্পন্ন হলে ব্যক্তি দত্তক পরিবারের সঙ্গে আইনগত পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন এবং পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন। মুকোয়োশির ক্ষেত্রে মেয়ের স্বামীকে তার বাবা-মা দত্তক নিলে তিনি পরিবারের আইনগত ছেলে হিসেবে যুক্ত হন। ফলে পারিবারিক সম্পদ ও ব্যবসার উত্তরাধিকার পরিকল্পনায় তার ভূমিকা তৈরি হতে পারে।   তবে মুকোয়োশি হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানি নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়া নয়। বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে দত্তক, বিয়ে, বসবাসের স্ট্যাটাস ও নাগরিকত্ব আলাদা আইন ও প্রক্রিয়ার বিষয়। তাই জাপানি পরিবারে দত্তক নেওয়া এবং জাপানে বৈধভাবে বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়াকে একই বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   কম জন্মহার ও পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার সংকটের মতো পরিবর্তনগুলো জাপানে এই ঐতিহ্যের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। রক্তের সম্পর্কের পরিবর্তে যোগ্য উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকায় মুকোয়োশি ব্যবস্থা শুধু একটি পারিবারিক রীতিই নয়, বহু ব্যবসায়িক পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি বিশেষ মডেল হিসেবেও আলোচিত হয়ে আসছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
এশিয়ান গেমসের আবাসনকেন্দ্রে অপেক্ষায় অ্যাথলিটরা। ছবি: সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসের আবাসনকেন্দ্রে অপেক্ষায় অ্যাথলিটরা। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দেশের অ্যাথলিট ও কর্মকর্তারা। ভারতীয় দলের কয়েকজন অ্যাথলিটও নাগোয়ায় পৌঁছে নির্ধারিত কক্ষ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোয়িং ও শুটিং দলের সদস্যদের কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর গেমস সেন্টারের লবি ও অন্যান্য অস্থায়ী জায়গায় সময় কাটিয়েছেন।   এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। তবে ফুটবল, বাস্কেটবলসহ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের প্রতিযোগিতা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এবারের আসরে প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলিট ও কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। আগের পরিকল্পনার তুলনায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আবাসন ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   আয়োজকরা এবার আলাদা করে কোনো বড় অ্যাথলিট ভিলেজ তৈরি করেনি। খরচ কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অ্যাথলিট ও কর্মকর্তাদের জন্য হোটেল, অস্থায়ী কক্ষ এবং নাগোয়া বন্দরে নোঙর করা ইতালীয় ক্রুজ জাহাজ ‘কোস্টা সেরেনা’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্রুজ জাহাজটিতে প্রায় ৪ হাজার মানুষ থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া বন্দরের এলাকায় তৈরি করা অস্থায়ী কনটেইনার ধরনের কক্ষেও প্রায় ২ হাজার অ্যাথলিট ও কর্মকর্তাকে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে সমস্যা বেশি দেখা দেয় নাগোয়ায় পৌঁছানোর পর কক্ষ বরাদ্দের সময়। নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভারত থেকে যাত্রা করা দলের একটি অংশ বুধবার সকালে নাগোয়ায় পৌঁছায়। দীর্ঘ যাত্রার পর তারা ক্রুজ জাহাজে পৌঁছালেও নির্ধারিত আবাসন পেতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়। রোয়িং দলের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তারা আবাসনকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্ষ বরাদ্দ হয়নি।   ভারতের রোয়িং দল এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগা দলগুলোর একটি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কয়েকজন অ্যাথলিটকে কক্ষ বরাদ্দের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে কক্ষ পাওয়া গেলেও একাধিক ব্যক্তিকে একই কক্ষে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শুটিং দলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিলম্বের খবর এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার নাগোয়ায় পৌঁছানো শুটারদের একটি অংশ নির্ধারিত কক্ষ না পেয়ে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যে কয়েকজনকে গেমস সেন্টারের লবিতে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। পরে ভোরের দিকে তাদের কক্ষ বরাদ্দ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   একজন ভারতীয় কোচের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা এক দিন আগে নাগোয়ায় পৌঁছেছিলেন, তাঁদের ভোগান্তি তুলনামূলক বেশি ছিল। পরদিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তাঁর দলের সদস্যদেরও কয়েক ঘণ্টা কক্ষের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। কোচ জানান, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে তাঁরা পৌঁছালেও রাত প্রায় ১০টার দিকে কক্ষ পান। পরে গেমস সেন্টার থেকে বাসে করে তাদের হোটেলে যেতে হয়।   আবাসন নিয়ে শুধু ভারতীয় দলই সমস্যায় পড়েনি। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও অস্থায়ী কক্ষের মান নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। কোরিয়ার বাস্কেটবল কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কনটেইনার ধরনের কক্ষের কিছু বিছানা দুই মিটারের বেশি উচ্চতার খেলোয়াড়দের জন্য যথেষ্ট বড় নয়। ফিলিপাইনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তাদের কিছু কোচ ও কর্মকর্তাকে বিভিন্ন হোটেল ও ভাড়া করা বাসস্থানে রাখা হয়েছে।   আয়োজকরা অবশ্য জানিয়েছে, আবাসন নিয়ে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো সমাধানে কাজ চলছে। আয়োজক কমিটি ও অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে নিবন্ধন বন্ধ হওয়ার সময় তালিকাভুক্ত ১৭ হাজারের বেশি অ্যাথলিট ও কর্মকর্তার জন্য গেমস উপযোগী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   আয়োজকদের মতে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের অনুমানের চেয়ে বেড়ে যাওয়াই আবাসন ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। এবারের এশিয়ান গেমসে নতুন কয়েকটি ডিসিপ্লিন যুক্ত হওয়ায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে জাপান অতিরিক্ত হোটেল কক্ষও প্রস্তুত রেখেছে বলে জানিয়েছে।   অন্যদিকে, আবাসন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যাতায়াত ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। ক্রুজ জাহাজে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সক্রিয়করণে বিলম্ব হওয়ায় অনেক অ্যাথলিটকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। জাপানের দলসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের ক্ষেত্রেও কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে সমন্বয় করতে হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।   সব মিলিয়ে উদ্বোধনের আগেই আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে আয়োজকরা বলছে, সব নিবন্ধিত অ্যাথলিট ও কর্মকর্তার থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং যেসব বাস্তব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে।   সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স, অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ঘুমের গভীরতা ও মান যাচাই করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে জাপানের এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতায়। ছবি: সংগৃহীত
জাপানে ঘুমের প্রতিযোগিতা, ৯০ মিনিট ঘুমিয়ে জেতা যাবে প্রায় ১৬ লাখ টাকা

ঘুমিয়ে সময় কাটানো নয়, এবার ভালো ঘুমই হতে পারে পুরস্কার জেতার উপায়। জাপানের টোকিওতে এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে কোরালা জেপি। ‘ম্যাটরেস বাই কোরালা’ নামের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ৯০ মিনিট ঘুমের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। সবচেয়ে ভালো ঘুমের জন্য বিজয়ী পাবেন ২২২ লাখ ইয়েনের পুরস্কার।   প্রতিযোগিতাটি আগামী ৫ অক্টোবর টোকিওর মিনামি আওয়ামার শেয়ার গ্রিন মিনামি আওয়ামা এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগীদের কোরালা ম্যাট্রেসে শুয়ে ঘুমাতে হবে এবং বিশেষ ঘুম পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের ঘুমের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।   শুধু কতক্ষণ ঘুমানো হলো, সেটিই এখানে মূল বিষয় নয়। ঘুম কতটা গভীর ও মানসম্মত ছিল, কত দ্রুত ঘুম এসেছে এবং ঘুম কতটা স্থিতিশীল ছিল, এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রতিযোগীদের জন্য একটি বিশেষ ‘স্লিপ স্কোর’ তৈরি করা হবে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এই স্কোর নির্ধারণ করা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছে। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া প্রতিযোগী হবেন বিজয়ী।   তবে প্রতিযোগিতায় জিততে হলে আগে থেকেই সারারাত জেগে থাকা বা অতিরিক্ত ঘুমের ঘাটতি তৈরি করে আসার সুযোগ নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুম বঞ্চিত থাকা, ঘুমের ওষুধ বা ঘুম আনতে সহায়তা করে এমন ওষুধ ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। অর্থাৎ প্রতিযোগিতায় দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার সুবিধা নিতে কেউ আগের রাতের ঘুম নষ্ট করতে পারবেন না।   প্রতিযোগিতা শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে বিশেষ ধরনের ‘ঘুমের ব্যায়াম’। এরপর প্রত্যেককে এলোমেলোভাবে একটি করে ঘুম-সংক্রান্ত সামগ্রী দেওয়া হবে। এসব সামগ্রী ঘুমের পরিবেশে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং প্রতিযোগিতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।   এরপর শুরু হবে মূল ৯০ মিনিটের ঘুমের পর্ব। প্রতিযোগীরা যখন ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন আয়োজকেরা পরিকল্পিতভাবে কিছু বিঘ্ন ঘটাবেন। এর মাধ্যমে হঠাৎ কোনো বাধা তৈরি হলেও কে কতটা স্থিরভাবে ঘুমিয়ে থাকতে পারেন, সেটিও যাচাই করা হবে। ফলে শুধু দ্রুত ঘুমিয়ে পড়াই নয়, পুরো সময়জুড়ে ঘুমের মান ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   মূল পুরস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকছে। সবচেয়ে গভীর ঘুমের জন্য ‘ডিপ স্লিপ ডাইভ অ্যাওয়ার্ড’ এবং অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী ভঙ্গিতে ঘুমানোর জন্য ‘স্লিপ-টার্নিং অ্যাক্রোব্যাট অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   পুরো প্রতিযোগিতায় তিনটি পর্ব থাকবে। প্রতিটি পর্বে প্রায় ২০ জন করে অংশ নেবেন এবং প্রতিটি ঘুমের পর্বের সময় ৯০ মিনিট। পুরো আয়োজনটি দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি নেই। আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি হলে লটারির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হবে।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর এবং ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।   জাপানে ঘুমের ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের গুরুত্ব তুলে ধরাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ঘুমকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে এমন একটি আয়োজন, যেখানে শারীরিক শক্তি বা দ্রুততার বদলে প্রতিযোগিতার মূল মাপকাঠি হবে বিশ্রামের মান।   কোরালা জেপি জানিয়েছে, ‘ম্যাটরেস বাই কোরালা’ তাদের কোরালা ম্যাট্রেসকে ঘিরে আয়োজিত একটি নতুন ধরনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক অনুষ্ঠান। আয়োজনটির পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ইভেন্ট নির্মাতা আফ্রোম্যান্স।   সূত্র: কোরালা জেপি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
দীর্ঘায়ুর রেকর্ড জাপানে, শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা পেরোল ১ লাখ
দীর্ঘায়ুর রেকর্ড জাপানে, শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা পেরোল ১ লাখ - ৮৮ শতাংশই নারী

জাপানে প্রথমবারের মতো ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে এমন মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন।    গত বছরের তুলনায় শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৯১৪ জন। এ নিয়ে টানা ৫৬ বছর জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়ল। ১৯৬৩ সালে এই বয়সী মানুষের সরকারি হিসাব রাখা শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম সংখ্যা ১ লাখের সীমা অতিক্রম করল।    এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—৯৪ হাজার ২৯৮ জন, যা মোট শতবর্ষীর প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯ জন।    জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০১২ সালে প্রথম ৫০ হাজার ছাড়িয়েছিল। মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দেশটির সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি বর্তমানে কিয়োটোতে বসবাসকারী ১১৪ বছর বয়সী ফুয়ো কিশিমোতো। সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কুমামোতোতে বসবাসকারী ১১২ বছর বয়সী হিকারু কাতো।    তবে দীর্ঘায়ুর এই রেকর্ডের পাশাপাশি জাপানকে বড় ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশটির মধ্যম বয়স প্রায় ৪৯ দশমিক ৯ বছর এবং মোনাকোর পর জাপানের জনসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম বয়স্ক। একই সময়ে দেশটিতে জন্মহারও ঐতিহাসিকভাবে নিচের দিকে নেমেছে।    ফলে একদিকে মানুষের দীর্ঘ জীবনযাপন জাপানের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরছে, অন্যদিকে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কম জন্মহারের কারণে দেশটিতে শ্রমশক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে।    সূত্র: জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এএফপি

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ৫০ ফুট সোভিয়েত যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে জাপানের ক্ষোভ

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে নির্মিত একটি ৫০ ফুট উচ্চতার স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গ্রানাইটের তৈরি ওই স্মৃতিস্তম্ভে দেখা যায়, এক সোভিয়েত সেনা তার রাইফেলের বাট দিয়ে একটি সীমান্তচিহ্ন ভেঙে ফেলছেন। ওই সীমান্তচিহ্নে জাপানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ক্রিস্যান্থেমাম বা সম্রাটের প্রতীক খোদাই করা রয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খাবারভস্কে স্মৃতিস্তম্ভটি উন্মোচন করা হয়। এতে যে সীমান্তচিহ্ন দেখানো হয়েছে, সেটি প্রশান্ত মহাসাগরের সাখালিন দ্বীপে একসময় ব্যবহৃত সীমান্তচিহ্নের আদলে তৈরি। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপটির দক্ষিণ অংশ দখল করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে পুরো সাখালিন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। রাশিয়া স্মৃতিস্তম্ভটিকে ১৯৪৫ সালে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে দেখছে। তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্মৃতিস্তম্ভটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জাপানের ক্রিস্যান্থেমাম প্রতীক ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে এমন কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, টোকিও কূটনৈতিক চ্যানেলে রাশিয়ার কাছে স্মৃতিস্তম্ভটি সরানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা চাপ অব্যাহত রাখবে। রাশিয়া অবশ্য জাপানের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সামরিকবাদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের বিষয়টি মস্কো ভুলে যায়নি। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও জাপানকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাপানের উচিত এ নিয়ে ‘চিরকাল অনুতপ্ত থাকা’। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন স্মৃতিস্তম্ভটি রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির আরেকটি প্রতীক। ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের অধ্যাপক পল রিচার্ডসন বলেন, স্মৃতিস্তম্ভটির নকশায় ‘আক্রমণাত্মক ও বিজয়োল্লাসের’ আবহ রয়েছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি জাপানের অধ্যাপক জেমস ব্রাউন মনে করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়কে গুরুত্ব দিয়ে স্মরণ করার ক্ষেত্রে মস্কোর সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সঙ্গে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে রাশিয়া-জাপান সম্পর্কে ইউক্রেন যুদ্ধও বড় প্রভাব ফেলেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর টোকিও মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। গত আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। জাপান এসব দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং পুতিনের সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাবে জাপান ইউক্রেনকে আরও জোরালো সমর্থন দিতে পারে। দেশটির কিছু রক্ষণশীল মহল ইতোমধ্যে কিয়েভকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের বিষয়টিও জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে জাপানের আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৯ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে। ফলে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হলেও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।  

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে জাপান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের আলুর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে জাপান, শঙ্কায় স্থানীয় কৃষকরা

জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তবে আলুর সঙ্গে দেশে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা এবং এতে জাপানের স্থানীয় আলুচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।   জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু সাধারণ বাজারে আমদানির অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়নের দ্বিতীয় ধাপে ২১ ধরনের রোগ ও পোকামাকড় চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো জাপানের কৃষিতে সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করতে পারে কি না এবং কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর অনলাইন ব্যাখ্যা সভা অনুষ্ঠিত হবে।   এরপর প্রতিটি রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি বিবেচনা করে আমদানির ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্ভিদ-স্বাস্থ্যবিধি বা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে কীটনাশক দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ, আলু পরীক্ষা এবং আমদানির আগে ও পরে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিদর্শনের মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে।   তবে নিষেধাজ্ঞা উঠলেই যে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানের বাজারে ঢুকতে শুরু করবে, তা নয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জাপানের কৃষিমন্ত্রী নোরিকাজু সুজুকি বলেছেন, রোগ ও পোকামাকড়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আলোচনা করবে।   জাপানে উদ্ভিদে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকাতে সাধারণভাবে বিদেশ থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলু আমদানির ক্ষেত্রে সীমিত একটি ছাড় দেওয়া হয়। সেই ছাড়ের আওতায় শুধু আলুর চিপস তৈরির জন্য ব্যবহৃত আলু আমদানি করা যায়। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য তাজা আলু আমদানির অনুমতি এখনো নেই।   এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পর। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানে প্রবেশের অনুমতি দিতে ওয়াশিংটন অনুরোধ জানালে জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি বা এসপিএস চুক্তির কাঠামোর আওতায় বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করে।   আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি মোট তিনটি ধাপে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর আমদানি নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে এমন রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করা হচ্ছে, যেগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এই ধাপেই ২১ ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের ব্যাখ্যা সভার পর প্রক্রিয়াটি তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার কথা রয়েছে।   চিহ্নিত রোগ ও পোকামাকড়ের মধ্যে জাপানের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকায় আলুর সাদা সিস্ট কৃমি বা ‘পটেটো হোয়াইট সিস্ট নিমাটোড’ও রয়েছে। ২০১৫ সালে হোক্কাইডোর আবাশিরি এলাকায় প্রথমবার এটি শনাক্ত হয়েছিল এবং এরপর থেকে স্থানীয় আলু উৎপাদনে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।   জাপানের আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে হোক্কাইডো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট আলু উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই এই অঞ্চল থেকে আসে। ফলে বিদেশি আলু আমদানি বাড়লে শুধু রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি নয়, স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   হোক্কাইডোর গভর্নর নাওমিচি সুজুকি গত ২১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকানো এবং স্থানীয় উৎপাদন সুরক্ষার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত প্রদেশটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া মেনে নিতে পারবে না।   দেশটির কৃষি সমবায়গুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন জাপান অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভসের কেন্দ্রীয় ইউনিয়নও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় আলু উৎপাদক দেশ। দেশটির উৎপাদকরা দীর্ঘদিন ধরে জাপানের বড় ও লাভজনক তাজা আলুর বাজারে প্রবেশের সুযোগ চেয়ে আসছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগটি শুধু কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয় নয়, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত।   তবে বর্তমান প্রক্রিয়াকে এখনই আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না জাপান। ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে দেশটি।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর জন্য জাপানের বাজার পুরোপুরি খুলবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।   সংবাদসূত্র: দ্য জাপান টাইমস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ফ্রিডম এজ নামের এই বহুমাত্রিক মহড়ায় নৌ, বিমান ও সাইবার অভিযানের ওপর জোর দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত
জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু ৭ সেপ্টেম্বর, ক্ষুব্ধ হতে পারে উত্তর কোরিয়া

জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ‘ফ্রিডম এজ ২৬’ নামের এই মহড়া ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে।   তিন দেশের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়ায় সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রসহ একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, বিমান প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সমুদ্রপথে বাধাদানের মতো সামরিক কার্যক্রমও মহড়ার অংশ হবে। ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া প্রথম শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৪ সালের জুন ও নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এর আয়োজন করা হয়। এবার চতুর্থ দফায় তিন দেশ একসঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, মহড়াটি নিয়মিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে মহড়াটির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ আগস্ট শুরু হওয়া ওই মহড়া ১১ দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনেই শেষ করা হয়। ট্রাম্পের নির্দেশেই এর সময় কমানো হয়েছিল বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে বড় আকারের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যেই জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে মহড়াটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হলে পিয়ংইয়ং এটিকে সামরিক চাপ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টার গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   তবে তিন দেশের যৌথ মহড়াকে শুধু উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় মহড়াগুলো মূলত উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর জোর দিলেও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় মহড়ার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। এটি পূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক প্রভাব মোকাবিলায়ও একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা দিতে পারে। এবারের ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়ায় তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় এবং তিন দেশের বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক ও বিমান সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহার, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা পরিস্থিতির অনুশীলন এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণও থাকবে।   মহড়ার নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম, জাহাজ বা বিমানসংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের আয়োজনগুলোর মতো এবারও এর সময়কাল প্রায় পাঁচ দিন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চলতি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া চলাকালে পিয়ংইয়ং প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রিপক্ষীয় মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। একদিকে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রাখছে। এই দুই ধারার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সরকারি বাসভবনে তেলাপোকার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
বাসভবন থেকে তেলাপোকা তাড়ানোর পর ‘মন খারাপ ও একাকী’ বোধ করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

নিজের বাসভবনে তেলাপোকা দেখে প্রথমে চমকে উঠেছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তবে পরে তার কর্মীরা সেটি সরিয়ে দেওয়ার পর উল্টো কিছুটা ‘একাকী’ ও ‘মন খারাপ’ লাগার কথা জানিয়েছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই শেয়ার করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।   ২২ আগস্ট এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাকাইচি তার সরকারি বাসভবনে তেলাপোকা দেখার ঘটনা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি নিয়মিত যে ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হন, সেগুলোর কয়েকটির উত্তর দিচ্ছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল, টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে প্রচলিত ভূতের গল্প সত্যি কি না এবং তিনি সেখানে কোনো ভূত দেখেছেন কি না।   তাকাইচি জানান, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো ভূত দেখেননি। তবে একটি তেলাপোকার দেখা পেয়েছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনটি দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ১৯৩০-এর দশকে জাপানে সংঘটিত দুটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে ভবনটির ইতিহাসের যোগসূত্র রয়েছে। ওই সময় নিহত ব্যক্তিদের আত্মা সেখানে ঘোরাফেরা করে বলে দীর্ঘদিন ধরে নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভূত দেখার প্রশ্নটি করা হয়েছিল বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে ভূতের বদলে তাকাইচির সামনে হাজির হয়েছিল বাস্তবের একটি তেলাপোকা। এক্সে তাকাইচি লেখেন, এর আগে সদস্যদের আবাসিক ভবনে থাকার সময় তিনি কখনো তেলাপোকার মুখোমুখি হননি। সরকারি বাসভবনে ওঠার পরও তিনি পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বেশ সতর্ক ছিলেন। খাবারের উচ্ছিষ্ট ঢাকনাযুক্ত শক্ত ময়লার পাত্রে রাখতেন, প্লাস্টিকের পাত্র ধুয়ে পরিষ্কার করতেন এবং খাবার টেবিলের নিচের মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার করতেন।   তারপরও একদিন হঠাৎ খাবার টেবিলের পাশ দিয়ে একটি তেলাপোকা দৌড়ে যেতে দেখে তিনি বেশ অবাক হন। তাকাইচি জানান, ছোটবেলায় ওসামু তেজুকার ‘ফিনিক্স’ মাঙ্গা তার খুব প্রিয় ছিল। পুনর্জন্ম ও জীবনের চক্রের মতো বিষয় নিয়ে তৈরি সেই গল্পের প্রভাব তার মধ্যে এতটাই গভীর যে বড় হওয়ার পরও কোনো পোকামাকড়, এমনকি তেলাপোকাকেও হত্যা করতে তার মন সায় দেয় না। তাই তেলাপোকাটিকে মেরে ফেলার বদলে তিনি সেটিকে কিছু সময়ের জন্য বাড়ির ভেতরেই ঘুরে বেড়াতে দেন। নিজের ভাবনার কথা বলতে গিয়ে তাকাইচি জানান, তার মনে হয়েছিল, হয়তো এই জীবনও পুনর্জন্মের দীর্ঘ চক্রেরই একটি অংশ।   তবে তেলাপোকাটিকে বেশিদিন স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মীরা বিষয়টি জানতে পারেন। তাকাইচির ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি শুনে তার এক কর্মী বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে বলেন, এটি অস্বাস্থ্যকর এবং তিনি নিজেই ব্যবস্থা নেবেন। এরপর কর্মীদের উদ্যোগে তেলাপোকা ধরার জন্য একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তাকাইচি সেটিকে মজার ছলে ‘অপারেশন কমব্যাট’ বলে উল্লেখ করেছেন।   কর্মীদের সেই অভিযানের পর সরকারি বাসভবনে আর কোনো তেলাপোকা দেখেননি তাকাইচি। কিন্তু ঘটনাটির শেষটা তার নিজের কাছেই কিছুটা অপ্রত্যাশিত। তেলাপোকাটি চলে যাওয়ায় স্বস্তি পেলেও একই সঙ্গে তার কিছুটা একাকী বা বিষণ্ন লাগছিল বলে জানান তিনি। এক্স পোস্টে তাকাইচি লিখেছেন, তেলাপোকাটি চলে যাওয়ার পর তিনি স্বস্তি পেয়েছিলেন, তবে একই সঙ্গে কিছুটা একাকী বা মন খারাপও লাগছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এমন ব্যক্তিগত ও হালকা মেজাজের গল্প প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাকাইচি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কাজের পাশাপাশি নিজের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করছেন।   তবে তেলাপোকার গল্পটি প্রকাশের আগে আরেকটি পোস্টে তাকাইচি জানিয়েছিলেন, তিনি তার দপ্তরের পরিবর্তে সরকারি বাসভবন থেকেই বেশি কাজ করছেন। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তিনি সরকারি বাসভবনে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় কাটাচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনা হচ্ছিল।   তাকাইচির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাসভবন থেকে কাজ করলে একই সময়ে প্রয়োজনীয় কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। বিশেষ পুলিশ বা নিরাপত্তা সদস্যদেরও কম সময়ের জন্য যুক্ত করতে হয়। এতে কর্মীদের ওপর কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় বলে তিনি জানান।   তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন শুধু থাকার জায়গা নয়। এটি বৈঠক এবং বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্যও ব্যবহৃত হয়। সব মিলিয়ে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর তেলাপোকা নিয়ে এই গল্পটি দেশটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বাসভবনকে ঘিরে প্রচলিত ভূতের গল্পের আলোচনায়ও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভূত না দেখলেও তেলাপোকার সঙ্গে তার এই অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ এবং সেটি চলে যাওয়ার পর তার ‘একাকী’ অনুভূতির কথা এখন মানুষের কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক্স পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জাপানে মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার পথে বাবা, পরে উদ্ধার করল পুলিশ I ছবিঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
জাপানে মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার পথে বাবা, পরে উদ্ধার করল পুলিশ

জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজিতে ক্লান্ত সাত বছর বয়সী ছেলেকে একা ফেলে বড় ছেলেকে নিয়ে পর্বতারোহণ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক বাবাকে কঠোর তিরস্কার করেছে স্থানীয় পুলিশ। কুয়াশাচ্ছন্ন ও বৃষ্টিভেজা বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার (সাড়ে ছয় হাজার ফুট) উঁচুতে অবস্থিত একটি বেঞ্চে শিশুটিকে একা বসে থাকতে দেখা যায়। খাবার হিসেবে শিশুটির কাছে ছিল মাত্র একটি কোমল পানীয় ও হালকা কিছু স্ন্যাকস।   জানা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তার দুই ছেলেকে নিয়ে মাউন্ট ফুজির ফুজিনোমিয়া রুট দিয়ে চূড়ায় ওঠার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পথিমধ্যে ছোট ছেলে ক্লান্ত হয়ে পড়ার কথা জানালে বাবা তাকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলে বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পর্বতারোহণ অব্যাহত রাখেন।   পরবর্তীতে সামিটের দিকে যাওয়ার পথে ষষ্ঠ স্টেশনের কাছে অবস্থিত একটি মাউন্টেন হাটের কর্মীরা শিশুটিকে একা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন। প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা দূরত্বে সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকা থেকে পুলিশ ওই বাবাকে খুঁজে বের করে।   টানা প্রায় আট ঘণ্টা একা অপেক্ষা করার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারের পর যখন তার বাবা ফিরে আসেন, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।   এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনে পর্বতারোহণ বাতিল করা উচিত ছিল, কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই এমন প্রতিকূল পরিবেশে একটি শিশুকে একা ফেলে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার পর ওই বাবা নিজের অবিবেচক সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।   উল্লেখ্য, ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার উঁচু মাউন্ট ফুজি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এবং প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ পর্যটক এখানে আরোহণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনভিজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারণে পর্বতটিতে দুর্ঘটনা ও উদ্ধার তৎপরতার সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
জাপানে একই পরিবারের চারজনকে হ ত্যা, অসংখ্য আলামত থাকলেও ২৫ বছরেও অধরা খু নি
জাপানে একই পরিবারের চারজনকে হ ত্যা, অসংখ্য আলামত থাকলেও ২৫ বছরেও অধরা খু নি

জাপানের অপরাধ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি টোকিওর সেতাগায়া পরিবার হত্যা। ঘটনাস্থলে খুনি নিজের রক্ত থেকে শুরু করে পোশাক, ব্যাগ, রুমাল এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি পর্যন্ত ফেলে গিয়েছিল। এত বিপুল আলামত হাতে থাকার পরও ২৫ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, এখনো শনাক্ত হয়নি খুনি। ২০২৬ সালেও মামলাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ।   ঘটনাটি ঘটে ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাত থেকে ৩১ ডিসেম্বর ভোরের মধ্যে। টোকিওর সেতাগায়া এলাকার কামি সোশিগায়ায় নিজেদের বাড়িতে খুন হন ৪৪ বছর বয়সী মিকিও মিয়াজাওয়া, তার স্ত্রী ইয়াসুকো এবং তাদের দুই সন্তান নিনা ও রেই।   নতুন বছর শুরুর ঠিক আগে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি তখন পুরো জাপানকে নাড়িয়ে দেয়। শুরুতে পুলিশের ধারণা ছিল, ঘটনাস্থলে এত আলামত পাওয়া যাওয়ায় অপরাধীকে শনাক্ত করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।   তদন্তকারীদের সবচেয়ে অবাক করেছিল খুনির রেখে যাওয়া বিপুল ব্যক্তিগত সামগ্রী। টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে একটি সোয়েটশার্ট, টুপি, হিপ ব্যাগ, স্কার্ফ, গ্লাভসসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। খুনির ব্যবহৃত জুতার ছাপও পাওয়া যায়।   পুলিশ দুটি কালো রুমালও উদ্ধার করে। তদন্তে জানা যায়, রুমাল ও ব্যাগে ফরাসি ব্র্যান্ড গি লারোশের ‘ড্রাকার নোয়ার’ পারফিউমের উপাদান ছিল। এই পারফিউম জাপানে আশির দশক থেকেই বিক্রি হচ্ছিল।   ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ছুরিটিও শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এটি ছিল ‘সেকি মাগোরোকু গিনজু’ নামে বিক্রি হওয়া একটি সাশিমি ছুরি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের জুনে একই ধরনের মোট ১ হাজার ৫০০টি ছুরি তৈরি হয়েছিল এবং কানতো অঞ্চলের ৪৬টি দোকানে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছিল।   আরও গুরুত্বপূর্ণ আলামত আসে খুনির শরীর থেকেই। হামলার সময় তার হাত আহত হয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে তার রক্ত থেকে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সেই রক্তের গ্রুপ ‘এ’। আঙুলের ছাপসহ আরও ফরেনসিক আলামতও তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে।   খুনির পরনে থাকা সোয়েটশার্টের উৎস খুঁজতে গিয়ে তদন্ত আরও সংকীর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের আগে পুরো জাপানে একই ধরনের মাত্র ১৩০টি সোয়েটশার্ট বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে টোকিওতে বিক্রি হয়েছিল মাত্র ১০টি। এত নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েও শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরে খুনির পরিচয় বের করা সম্ভব হয়নি।   জুতার সূত্রটিও ছিল রহস্যজনক। পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হয়, খুনির জুতাটি দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি স্ল্যাজেঞ্জার ব্র্যান্ডের ২৭ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার মাপের। একই মাপের জুতা জাপানের বাজারে বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।   দুই দশকের বেশি সময় ধরে এসব পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রীর ছবি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়ে আসছে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ। সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে পোশাক বা অন্যান্য আলামত চিনতে পারেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।   ২৫ বছর পরও মামলাটি বন্ধ হয়নি। বরং ২০২৬ সালেও এটি টোকিও পুলিশের সক্রিয় তদন্তাধীন মামলার তালিকায় রয়েছে। খুনিকে গ্রেফতার বা মামলার সমাধানে কার্যকর তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ইয়েন পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   একটি পরিবারের চার সদস্যকে কারা এবং কেন হত্যা করেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, নিজের এত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, রক্ত ও ফরেনসিক আলামত ফেলে যাওয়ার পরও কীভাবে একজন খুনি এক চতুর্থাংশ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে শনাক্ত না হয়ে রয়ে গেল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি
তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা, চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি

জাপানের প্রাণবন্ত প্রাণকেন্দ্র টোকিওর পথঘাট, ঐতিহাসিক মন্দির থেকে শুরু করে ফুকুওকার লালচে দার্জিলিং-এর মতো সুপ্রসিদ্ধ দাজাইফু টেনমাঙ্গু মন্দির—সব জায়গায় এই গ্রীষ্মে পর্যটকদের পদচারণা যেমন আগের মতোই চোখে পড়ার মতো, তেমনি বদলে গেছে তাদের জাতিগত পরিচয়।   চীন-জাপান সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের জের ধরে চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫৬.৪ শতাংশ। কিন্তু সেই শূন্যস্থান কি পূরণ হচ্ছে? জাপানের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, হ্যাঁ—যদিও পথটা সহজ ছিল না।   গত বছর সংসদে তাইওয়ান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী সানে তাইচির বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই চীনা পর্যটকদের আগমন থমকে যায়। পিকিং-এর তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং নিজেদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ বাস্তবে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু জাপানের পর্যটন খাত যেন হার মানেনি। বরং, দুর্বল ইয়েনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আসা পর্যটকেরা চীনের ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছেন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট বিদেশি পর্যটক এসেছেন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার, যা গত বছরের রেকর্ড-সংলগ্ন সময়ের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ কম।   আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, পর্যটকের সংখ্যা কমলেও তাদের খরচের পরিমাণ বেড়েছে। আবাসন ও কেনাকাটায় মোট খরচ হয়েছে ৪.৮৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন ডলার), যা প্রথমার্ধের হিসেবে নতুন রেকর্ড। অর্থাৎ, কম পর্যটক এসেছেন, কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের গড় খরচ বেড়েছে—এ যেন খাদ্যতালিকায় কম কিন্তু মানসম্পন্ন আহারের দর্শন।   রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন নীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিও নিশিকাওয়া মনে করছেন, এটি 'পর্যটকের বৈচিত্র্যায়ন'-এর স্পষ্ট প্রমাণ। তাঁর কথায়, "আমরা এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে চীন ছাড়াই পর্যটন তার গতি ধরে রাখতে পারছে।" এমনকি মধ্য প্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে ইউরোপীয় পর্যটকদের কাছ থেকে কিছু বাতিল আসলেও তা সামগ্রিক সংখ্যার তুলনায় নগণ্য।   ফুকুওকার দাজাইফু মন্দিরের পুরোহিত কেইয়া ইয়ামাগুচি জানালেন, এখানে আসা বিদেশি পর্যটকের প্রায় ৯০ শতাংশই দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে। "আমরা কোনো পরিবর্তন অনুভব করছি না," তাঁর গলায় আত্মবিশ্বাস।   তবে এই উজ্জ্বল চিত্রের উল্টোপিঠে আছে জাপানি নিজেদের বিদেশ ভ্রমণের চিত্র। মহামারীর আগে ২০১৯ সালে যেখানে বছরে ২ কোটি জাপানি বিদেশ গিয়েছিলেন, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজারে। চলতি বছর প্রথমার্ধে মাত্র ৬৯ লাখ ৪০ হাজার জাপানি বিদেশ সফর করেছেন। মূল কারণ—মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ইয়েন ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি। ভ্রমণ সংস্থা জেটিবি-র সমীক্ষা বলছে, এই গ্রীষ্মের ছুটিতে জাপানি পর্যটক বিদেশগামীর সংখ্যা ৮.৮ শতাংশ কমতে পারে—যা ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবার।   জাপান সরকার অবশ্য পাসপোর্ট ফি কমানোর মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণে উৎসাহ দিতে চাইছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ নিশিকাওয়া সতর্ক করে বলেছেন, দেশীয় পর্যটকদের কমে যাওয়া আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর জন্য হতে পারে মারাত্মক হুমকি। তাঁর মতে, স্থানীয় প্রশাসনগুলোকেই এখন নিজেদের মানুষের ভ্রমণ আগ্রহ বাড়ানোর কৌশল তৈরি করতে হবে।   সব মিলিয়ে, জাপানের পর্যটন শিল্প এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। চীন-নির্ভরতার পুরোনো দিন শেষ, নতুন বাজার ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। গ্রীষ্মের এই রোদে দাঁড়িয়ে টোকিওর কোনো ক্যাফেতে যদি বসেন, দেখবেন ইংরেজি, কোরিয়ান, থাই, ফরাসি আর স্প্যানিশ ভাষার মিশ্রণ—যেন এক বিশ্বমেলার আয়োজন। আর এই বৈচিত্র্যই এখন জাপানের পর্যটনের নতুন প্রাণশক্তি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জাপানের চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া রাস্তা ও প্লাবিত গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
নজিরবিহীন বৃষ্টিতে জাপানে ৪ জনের মৃত্যু, বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী

জাপানের পূর্বাঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চিবা প্রিফেকচারে ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পর বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতিতে চার লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার রাতে টোকিওর পূর্বে চিবা এলাকায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪৫ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা প্রথমবারের মতো চিবা প্রিফেকচারের জন্য ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা জারি করে।   বন্যার পানিতে গাড়িতে আটকা পড়ে সাকুরা শহরে ৬৬ বছর বয়সী এক নারী মারা যান। ইচিকাওয়া শহরে প্লাবিত সড়ক থেকে ৬০ বা ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও দুজন গাড়ি থেকে বের হতে না পেরে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।   পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী রাত কাটান। চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয় নেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাসদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।   শুক্রবার বৃষ্টি কমে এলেও চিবা এলাকায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ এলাকার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা মেনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   চিবা গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন। জাপানের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি
সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, সেই বেজি নিধনেই লেগেছে ৪৫ বছর

বিষধর হাবু সাপের উপদ্রব কমাতে ১৯৭৯ সালে জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে ছাড়া হয়েছিল মাত্র ৩০টির মতো বেজি। উদ্দেশ্য ছিল বেজি সাপ ও ইঁদুর শিকার করবে এবং মানুষের জন্য ঝুঁকি কমাবে। কিন্তু পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দেয়। সাপের বদলে দ্বীপের বিরল ও স্থানীয় প্রাণীদের শিকার করতে শুরু করে বেজি। কয়েক দশকের মধ্যে তাদের সংখ্যা বেড়ে আনুমানিক ১০ হাজারে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে ২০২৪ সালে দ্বীপটিকে বেজিমুক্ত ঘোষণা করে জাপান সরকার।   জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আমামি ওশিমায় ছাড়া বেজিগুলো ছিল স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ। দ্বীপটিতে এ প্রাণী আনার পেছনে ছিল বিষধর হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের ভাবনা। তবে হাবু মূলত রাতে সক্রিয়, আর বেজি বেশি সক্রিয় দিনের বেলায়। ফলে যে সাপ দমনের জন্য বেজি আনা হয়েছিল, বাস্তবে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল তুলনামূলক কম।   এর পরিবর্তে বেজির সহজ শিকারে পরিণত হয় আমামি ওশিমার স্থানীয় বন্যপ্রাণী। এর মধ্যে ছিল বিপন্ন আমামি খরগোশ এবং দ্বীপের বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ, ইঁদুর ও অন্যান্য প্রাণী। পর্যাপ্ত খাবার ও অনুকূল পরিবেশ পেয়ে বেজির বিস্তার দ্রুত বাড়তে থাকে। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আমামি ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে দ্বীপটিতে বেজির সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজারে পৌঁছেছিল।   এই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশেরও একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। জাপানের সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯১০ সালে গঙ্গা নদীর মোহনা অঞ্চল, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ, সেখান থেকে বেজি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে। বিশ্ব ঐতিহ্যের মনোনয়নের জন্য জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা নথিতে বলা হয়েছে, সে সময় ১৭টি বেজি ওকিনাওয়ায় ছাড়া হয়েছিল। কয়েক দশক পর ১৯৭৯ সালে ওকিনাওয়া থেকেই প্রায় ৩০টি বেজি নিয়ে আমামি ওশিমায় ছাড়া হয়।   শুরুতে যে সিদ্ধান্তকে হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় মনে করা হয়েছিল, পরে সেটিই স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়। বেজির বিস্তারের সঙ্গে আমামি খরগোশসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রজাতির আবাস ও বিস্তৃতি সংকুচিত হওয়ার সম্পর্কও ধরা পড়ে সরকারি গবেষণায়।   পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৯৯৩ সালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিকর বন্যপ্রাণী হিসেবে বেজি ধরার কাজ শুরু করে। ১৯৯৬ সাল থেকে জাপানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ ও কাগোশিমা প্রিফেকচার আরও বিস্তৃতভাবে বেজির সংখ্যা, বিস্তার এবং ধরার পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করে। ২০০০ সালে শুরু হয় বড় পরিসরের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। পরবর্তী বছরগুলোতে ফাঁদ, ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুরসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।   দীর্ঘ অভিযানের পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আমামি ওশিমায় সর্বশেষ বেজিটি ধরা পড়ে। এরপর কয়েক বছর আর কোনো বেজি পাওয়া যায়নি। কিন্তু শুধু বেজি ধরা না পড়ার ভিত্তিতে নির্মূল ঘোষণা করেনি জাপান। দ্বীপে কোনো প্রজননক্ষম বেজির জনগোষ্ঠী রয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ২০২৩ অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত অনুসন্ধান ও নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়।   দুটি বৈজ্ঞানিক মডেল ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত বেজি নির্মূলের সম্ভাবনা হিসাব করা হয়। একটি মডেলে সফলতার সম্ভাবনা আসে ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যটিতে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মূল্যায়নের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, আমামি ওশিমা থেকে স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ নির্মূল হয়েছে।   জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই সাফল্যকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিশেষ করে এত বড় একটি দ্বীপ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত বেজির প্রজননশীল জনগোষ্ঠী নির্মূলের ঘটনা বিশ্বেও বিরল।   তবে আমামি ওশিমার অভিযান শেষ হলেও ওকিনাওয়ায় বেজির সমস্যা পুরোপুরি শেষ হয়নি। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওকিনাওয়ার উত্তরাঞ্চলে এখনও বেজি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলছে। অর্থাৎ এক শতাব্দীরও বেশি আগে হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আনা প্রাণীটির পরিবেশগত প্রভাব জাপানের অন্য অংশে এখনও সামলাতে হচ্ছে।   আমামি ওশিমার ঘটনাটি এখন বহিরাগত প্রজাতি দিয়ে কোনো স্থানীয় সমস্যার সমাধান করতে গেলে তার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি কত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। যে ৩০টি বেজি সাপের উপদ্রব কমানোর আশায় দ্বীপে ছাড়া হয়েছিল, তাদের সংখ্যা একসময় প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া সেই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করতে জাপানকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সক্ষমতা দেখাল উত্তর কোরিয়া
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সক্ষমতা দেখাল উত্তর কোরিয়া

এটি ১২ আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ ঘটনা। উত্তর কোরিয়া বুধবার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান এলাকা থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পড়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানও এটিকে সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে। জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় এটি পড়েনি বলে জানানো হয়েছে।   এই উৎক্ষেপণের সময়টিই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ১১ দিনের এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে। ফলে বড় ধরনের মহড়ার আগে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।    এটি এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ৬ আগস্টও দেশটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।   দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উৎক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিউল জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক করেছে এবং পিয়ংইয়ংকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক মহড়ার আগে এই ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   ফলে মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
চালের ব্যবহার কমে যাওয়াসহ নানা কারণে জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার কমে ৩৭ শতাংশে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত
২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার নিচে জাপানের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা, হার কমে ৩৭ শতাংশ

জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার কমে ৩৭ শতাংশে নেমেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এই হার ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্চ ৩১ তারিখে শেষ হওয়া অর্থবছরে খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত ৪৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বর্তমান হার বেশ কম। বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশটির ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।   জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ক্যালরি ভিত্তিক খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার বলতে দেশে মানুষ যে পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করে, তার কত অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়, তা বোঝানো হয়। গত অর্থবছরে এই হার কমার পেছনে চালের ব্যবহার কমে যাওয়া এবং বেসরকারি খাতে খাদ্য মজুত বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরেই জাপান খাদ্য উৎপাদনে নানা কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে। আমদানিনির্ভর গম ও সয়াবিনের মতো কৃষিপণ্যের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্বনির্ভরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি।   তবে উৎপাদনমূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করলে জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। গত অর্থবছরে উৎপাদনমূল্যের ভিত্তিতে দেশটির খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। কৃষিপণ্যের মধ্যে চাল ও প্রাণিজ পণ্যের অভ্যন্তরীণ দাম বাড়ায় এই হার বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। অর্থাৎ ক্যালরি ভিত্তিক হিসাব এবং উৎপাদনমূল্যের ভিত্তিতে জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার এক নয়। ক্যালরি ভিত্তিক হিসাবে দেশটির বর্তমান হার ৩৭ শতাংশ হলেও উৎপাদনমূল্যের ভিত্তিতে তা ৬৬ শতাংশ।   জাপানের কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরে শ্রমশক্তির বয়স বাড়া, নতুন প্রজন্মের উত্তরসূরি কমে যাওয়া এবং কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি। এর পাশাপাশি মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। চালের পরিবর্তে মাংস এবং তেল দিয়ে রান্না করা খাবারের দিকে মানুষের ঝোঁক বেড়েছে। এই খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও দেশটির ক্যালরি ভিত্তিক খাদ্যে স্বনির্ভরতার হারে প্রভাব ফেলেছে। ফলে কৃষি খাতের কাঠামোগত সমস্যা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন মিলিয়ে জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার দীর্ঘ সময় ধরে ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে।   সরকার ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ৪৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল গম ও সয়াবিনের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের খাদ্য নিরাপত্তা কার্যালয়ের পরিকল্পনা পরিচালক তোশিয়াকি সাসাকি জানিয়েছেন, এ লক্ষ্য পূরণে গম ও সয়াবিন উৎপাদনের জন্য কৃষিজমির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ এসব পণ্যের ক্ষেত্রে জাপান এখনো আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। মন্ত্রণালয় চলতি মাসের শেষ দিকে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।   জাপানের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার কমে যাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে আমদানিনির্ভর দেশগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ২০২৩ সালে ১০০ শতাংশের বেশি ছিল। একই সময়ে জার্মানির হার ছিল ৮১ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের ৫৬ শতাংশ এবং ইতালির ৫১ শতাংশ। এসব হিসাবের তুলনায় জাপানের ৩৭ শতাংশ ক্যালরি ভিত্তিক স্বনির্ভরতার হার দেশটির খাদ্য সরবরাহের ওপর আমদানিনির্ভরতার চিত্র তুলে ধরে। ২০৩০ সালের ৪৫ শতাংশ লক্ষ্যে পৌঁছাতে জাপানকে তাই দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও অগ্রগতি করতে হবে।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০