- প্রচ্ছদ
- Topic
টেসলা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ মোডে চলা একটি টেসলা গাড়ির ধাক্কায় ৭১ বছর বয়সী এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভালেহো এলাকায় ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়কের একটি ইন্টারচেঞ্জের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল (সিএইচপি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় সান ফ্রান্সিসকোর ২৬ বছর বয়সী এক চালক গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এবং এর গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১১২ কিলোমিটার (৭০ মাইল)। মহাসড়কের ডান পাশ থেকে সেন্ট্রাল ডিভাইডারের দিকে হাঁটার সময় ওই বৃদ্ধ হঠাৎ গাড়ির সামনে চলে আসেন। সিএইচপি-র ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা যায়, পথচারীকে বাঁচাতে টেসলা গাড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাম দিকে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করে এবং ব্রেক কষে, তবুও গাড়ির সামনের ডান দিকের অংশ ওই বৃদ্ধকে জোরালো আঘাত করে। রাস্তায় পড়ে থাকা ওই বৃদ্ধকে পরবর্তীতে আরেকটি গাড়িও চাপা দিয়ে চলে যায় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তবে সেই দ্বিতীয় গাড়ির চালক ঘটনাস্থলে থেমেছিলেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং-সহায়ক ব্যবস্থার কারণে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত জুন মাসে টেক্সাসের কেটি এলাকায় মাইকেল বাটলারের চালানো একটি টেসলা মডেল ৩ গাড়ি ৭৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা মার্থা আভিলার বাড়ির দেয়াল ভেঙে সজোরে ভেতরে ঢুকে পড়ে। ওই মর্মান্তিক ঘটনায় মার্থা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে মারা যান। তদন্তকারী কর্মকর্তারা চালক বাটলারের মদ্যপান বা নেশাগ্রস্ত থাকার কোনো প্রমাণ পাননি। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং ব্যবস্থা চালু থাকলেও নিরাপদে তা পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়ভার চালকের ওপরই বর্তায়। টেসলা কর্তৃপক্ষও তাদের নির্দেশনায় চালকদের স্টিয়ারিং হুইলে হাত রাখার এবং যেকোনো জরুরি মুহূর্তে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়ে রেখেছে। তা সত্ত্বেও এসব অটোপাইলট ও সেলফ-ড্রাইভিং ফিচারের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার জনমনে প্রশ্ন উঠছে।
টেসলার গাড়ির নিচের কাঠামো বা আন্ডারবডির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব মূল্যায়নে কাজ করেছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী তারেক সরোয়ার। নিজের কাজের বিবরণে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে ইন্টার্নশিপের সময় প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই কাঠামোর কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই মূল্যায়নের ফল পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশের চূড়ান্ত নকশা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়ির বাইরের নকশার আড়ালে থাকা এই কাঠামো নিয়েই ছিল তাঁর গবেষণা। তারেকের বর্ণনা অনুযায়ী, তীব্র গরম, প্রচণ্ড ঠান্ডা, বৃষ্টি ও লবণাক্ত পরিবেশে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর আন্ডারবডি কেমন অবস্থায় থাকবে, তা মূল্যায়ন করা ছিল তাঁর দায়িত্ব। কোনো যন্ত্রাংশ তৈরি করা সম্ভব হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেটির স্থায়িত্ব যাচাই করাও এই কাজের অংশ ছিল। তারেক তাঁর কাজকে টেসলার নতুন রোডস্টারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে রোডস্টারের নির্দিষ্ট কোন অংশে তাঁর গবেষণার ফল প্রয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে টেসলার প্রকাশ্য নথিতে স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে পুরো আন্ডারবডি এক খণ্ডে তৈরি এবং প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে এমন একটি অংশ উৎপাদনের দাবির পক্ষেও রোডস্টারসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব উৎপাদনসংক্রান্ত দাবিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। তবে টেসলায় তাঁর ইন্টার্নশিপের বিষয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনায় তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির ইইই বিভাগের স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুকে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৫ মে টেসলায় চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে একটি ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন তারেক সরোয়ার। সেখানে তাঁকে ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ার ইন্টার্ন হিসেবে পরিচয় করানো হয়। ওয়েবিনারে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, চাকরির আবেদন ও ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। তারেকের গবেষণার সঙ্গে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির সংযোগও প্রকাশিত গবেষণাপত্রে পাওয়া যায়। ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে ‘এমডি সরোয়ার তারেক’ নামের লেখকের প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির যন্ত্রকৌশল বিভাগের নাম রয়েছে। গবেষণাটি ছিল করোনাভাইরাস মহামারির সময় থ্রিডি প্রিন্টিংসহ অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে। এটি তাঁর গবেষণার পটভূমির তথ্য দেয়, তবে রোডস্টারের নকশায় অবদান রাখার দাবির স্বতন্ত্র প্রমাণ নয়। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
মানুষের মতো দেখতে ও চলাফেরা করতে সক্ষম হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপটিমাস’-এর প্রাথমিক বাণিজ্যিক মানের উৎপাদন শুরু করেছে মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রিমন্ট কারখানায় এসব রোবট তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, এটিই টেসলার প্রথম উৎপাদনমানের অপটিমাস রোবট তৈরির উদ্যোগ। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে বাইরের গ্রাহকদের কাছে রোবট সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে বর্তমানে উৎপাদন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং রোবটগুলোর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইলন মাস্ক অপটিমাসের উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। মাস্ক বলেন, ফ্রিমন্ট কারখানায় বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য তৈরি লাইনে প্রাথমিকভাবে রোবট বানানো শুরু হয়েছে। উৎপাদিত রোবটগুলোকে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সেগুলো এখনই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। টেসলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্রিমন্ট কারখানার একটি অংশকে রোবট উৎপাদনের জন্য পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। আগে সেখানে মডেল এস ও মডেল এক্স বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির কার্যক্রম চলত। এখন সেই জায়গায় অপটিমাসের উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উৎপাদনব্যবস্থার বড় অংশ স্থাপন করা হলেও এখনো বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, রোবটের নকশা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। ফলে শুরুতে উৎপাদনের গতি ধীর থাকবে। ইলন মাস্কের লক্ষ্য আগামী এক বছর বা তার কিছু বেশি সময়ের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ হাজার অপটিমাস রোবট তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ১০ লাখ রোবট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে ফ্রিমন্ট কারখানায়। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা, বর্তমানে উৎপাদিত রোবটের সংখ্যা নয়। টেসলা এখন পর্যন্ত মোট কতটি উৎপাদনমানের অপটিমাস তৈরি করেছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করেনি। মাস্ক নিজেও স্বীকার করেছেন, এত জটিল প্রযুক্তির রোবট ব্যাপক হারে তৈরি করতে সময় লাগবে। অপটিমাস মূলত দুই পায়ে হাঁটতে সক্ষম একটি মানুষের আকৃতির রোবট। টেসলার লক্ষ্য এমন রোবট তৈরি করা, যা মানুষের জন্য পুনরাবৃত্তিমূলক, শারীরিকভাবে কঠিন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে পারবে। ভবিষ্যতে কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ঘরোয়া কাজেও ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তবে বর্তমানে অপটিমাস কত ধরনের কাজ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে করতে পারে, তার বিস্তারিত স্বাধীন পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি। উৎপাদন শুরু হলেও অপটিমাসের সামনে কয়েকটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে মানুষের হাতের মতো সূক্ষ্মভাবে কোনো বস্তু ধরা, স্থানান্তর করা এবং বিভিন্ন ধরনের কাজে হাত ব্যবহার করার সক্ষমতা উন্নত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করার কাজ চলছে। মাস্ক জানিয়েছেন, একটি রোবট কয়েক সপ্তাহ বা এক মাস ব্যবহারের পর অচল হয়ে গেলে তা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হবে না। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোও জরুরি। এসব সমস্যা সমাধানে টেসলা ‘অপটিমাস একাডেমি’ নামে একটি প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলছে। সেখানে রোবটগুলোকে বিভিন্ন বাস্তব কাজ অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাস্ক জানিয়েছেন, গাড়ির স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তির তুলনায় হিউম্যানয়েড রোবট প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত বাস্তব কাজের তথ্য সংগ্রহ করা। ফলে বিপুলসংখ্যক রোবট তৈরি করার পাশাপাশি সেগুলোকে দক্ষ করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে অপটিমাসে টেসলার পরবর্তী প্রজন্মের এআই৫ চিপ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইলন মাস্কের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের এপ্রিলের দিকে এই চিপ রোবটে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তাঁর দাবি, নতুন চিপ রোবটের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। তবে পরিকল্পিত এই সময়সূচি ও সক্ষমতা এখনো বাস্তবে নিশ্চিত হয়নি। টেসলা আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে অপটিমাসের আরও উন্নত কাজের একটি প্রদর্শনী প্রকাশের কথাও জানিয়েছে। এদিকে অপটিমাসের বাজারজাতকরণের সময়সূচি নিয়েও নতুন তথ্য দিয়েছেন মাস্ক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ টেসলার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে রোবট সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য গ্রাহক হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য রোবটটি কবে বাজারে আসবে, কত দাম হবে কিংবা কোন দেশে প্রথম বিক্রি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ২০২৭ সালের সময়সূচিকে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিক্রি শুরুর নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না। বিশ্বজুড়ে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। টেসলার পাশাপাশি বোস্টন ডায়নামিকস, ফিগার এআই এবং অ্যাজিলিটি রোবোটিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও মানুষের কাজের উপযোগী রোবট তৈরিতে বিনিয়োগ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বিশেষ করে শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থায় রোবটের ব্যবহার বাড়ানো। তবে বাস্তব কর্মপরিবেশে দীর্ঘ সময় নিরাপদে ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করার সক্ষমতা এখনো এই খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে উৎপাদন শুরুর ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাজারে সফলতা অর্জনের জন্য আরও পরীক্ষা ও উন্নয়ন প্রয়োজন। অপটিমাসের মতো রোবট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে মানুষের পাশাপাশি রোবট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি কত কর্মসংস্থান তৈরি করবে অথবা কত কাজের ধরন পরিবর্তন করবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। উৎপাদন খরচ, নিরাপত্তা, দক্ষতা ও বাস্তব ব্যবহারের ফলাফলের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে। টেসলার অপটিমাস উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাইরেও রোবটিকস প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিস্তারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি প্রাথমিক উৎপাদন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী এক বছরে উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারা হবে প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইলন মাস্কের ঘোষণা অনুযায়ী, এসব কাজ সফল হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে বাইরের গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে পারে অপটিমাস।
ভারতের তামিলনাড়ুতে প্রকৌশল পড়াশোনা করা অশোক এলুসওয়ামি এখন টেসলার এআই সফটওয়্যারের ভাইস প্রেসিডেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির অটোপাইলট দলের প্রথম প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি ধাপে ধাপে সফটওয়্যার নেতৃত্বের দায়িত্বে উঠে এসেছেন। টেসলার ২০২৬ সালের সিভিপিআর সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আয়োজনের বিবরণেও তাঁকে এআই সফটওয়্যারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে। অশোক চেন্নাইয়ের কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, গিন্ডি থেকে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করেন। কলেজটি আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ। পরে যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিক সিস্টেমস ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির রোবোটিকস ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের তালিকা অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তাঁর ওই প্রোগ্রাম সম্পন্ন হয়। টেসলায় তাঁর যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে। অর্থাৎ অটোপাইলটের প্রথম সংস্করণ চালুর আগেই তিনি প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার দলে যুক্ত হন। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক বক্তব্যে ইলন মাস্কও তাঁকে টেসলার এআই ও অটোপাইলট দলের প্রথম সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন। টেসলার বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকাশিত নথিতে সংরক্ষিত ওই বক্তব্যে মাস্ক জানান, পরে অশোক পুরো এআই ও অটোপাইলট সফটওয়্যারের নেতৃত্বে উঠে আসেন। কর্মজীবনের শুরুতে অটোপাইলটের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পর তিনি সিনিয়র এবং সিনিয়র স্টাফ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হন। ২০১৯ সালে পান অটোপাইলট সফটওয়্যারের পরিচালক পদ। তাঁর পেশাগত প্রোফাইলের তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এআই সফটওয়্যারের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে পদোন্নতির খবর জানানো হয়। তাঁর নেতৃত্বের ক্ষেত্র বোঝার জন্য টেসলার প্রযুক্তির কাজও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক বিবরণ অনুযায়ী, তাদের এআই উন্নয়নে ক্যামেরার দৃশ্য থেকে বাস্তব পরিবেশ বুঝে যানবাহন ও রোবটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের মডেল তৈরি করা হয়। এতে শুধু মডেল প্রশিক্ষণ নয়, বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা মূল্যায়ন, নিরাপত্তা বিবেচনা এবং নির্ভরযোগ্যভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ও রয়েছে। ২০২৬ সালের সিভিপিআর আয়োজনে অশোকের বক্তব্যের বিষয় ছিল টেসলায় রোবোটিকসের জন্য ভিত্তিমূলক মডেল নির্মাণ। তবে টেসলার ‘ফুল সেলফ ড্রাইভিং’ নামটির সঙ্গে প্রযুক্তিটির ব্যবহারের শর্ত আলাদা করে বোঝা প্রয়োজন। টেসলা নিজেই জানিয়েছে, গ্রাহকদের জন্য থাকা ‘ফুল সেলফ ড্রাইভিং সুপারভাইজড’ ব্যবহারে চালকের সক্রিয় নজরদারি আবশ্যক। এই ব্যবস্থা গাড়িকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করে না। ফলে অশোকের কাজের ক্ষেত্রকে চালকের সহায়তাকারী প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার উন্নয়ন হিসেবে দেখা যথাযথ। টেসলায় যোগ দেওয়ার আগে অশোক ওয়াবকো ভেহিকল কন্ট্রোল সিস্টেমসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ফোক্সওয়াগেনের ইলেকট্রনিক রিসার্চ ল্যাবেও গবেষণা ইন্টার্ন ছিলেন। ভারতে প্রকৌশলের প্রাথমিক শিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে রোবোটিকসের উচ্চশিক্ষা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে তাঁর কর্মজীবন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার ‘রোডস্টার’ সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। গাড়িটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো, এতে যুক্ত করা হয়েছে স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি রকেটের মতো থ্রাস্টার। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটিকে বাতাসে উঠতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে নামতে দেখা গেছে। এমনকি বিশেষ সাকশন ব্যবস্থার সাহায্যে উল্টো করে তৈরি একটি র্যাম্পের নিচের অংশে গাড়ি চালানোর প্রদর্শনীও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করা হয়। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের উপস্থিতিতে গাড়িটির বিভিন্ন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীতে গাড়িটি বাতাসে ঘুরে যাওয়ার পাশাপাশি পার্ক করে রাখা কয়েকটি গাড়ির ওপর দিয়েও উড়ে যায়। প্রায় নয় বছর আগে প্রথমবার নতুন প্রজন্মের রোডস্টারের ধারণা সামনে এনেছিল টেসলা। এবার এর নকশা ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখানো হলো। টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টার ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ মাইল বা প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নিতে পারে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি, যা প্রায় ৩৭০ কিলোমিটারের সমান। তবে মাস্কের মতে, স্পেসএক্সের প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার পর গাড়িটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক শুধু দ্রুতগতিতে চলার ক্ষমতা নয়; বরং বাতাসে বিভিন্ন কৌশল দেখানোর সক্ষমতা। গাড়িটিতে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার। টেসলার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক অ্যাকচুয়েটরের মাধ্যমে এসব থ্রাস্টার খুব দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ধাক্কা বা থ্রাস্ট তৈরি করতে পারে। এর ফলে বাতাসে থাকা অবস্থায় গাড়ির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় ছোটখাটো সমন্বয় করা সম্ভব হয়। গাড়িটি মাঝআকাশে ঘুরে যাওয়া কিংবা নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণের মতো কৌশল দেখাতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো গাড়ির নিচে থাকা ফ্যানভিত্তিক সাকশন ব্যবস্থা। টেসলার প্রদর্শনীতে এই ব্যবস্থার সাহায্যে গাড়িটিকে উল্টোভাবে তৈরি র্যাম্পে আটকে থাকতে দেখা যায়। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি সর্বোচ্চ দুই জি পর্যন্ত বল তৈরি করতে পারে। এর উদ্দেশ্য শুধু ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী নয়, বরং গাড়ির নিচের দিকে চাপ বাড়িয়ে বাঁক নেওয়ার সময় সড়কের সঙ্গে সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ উন্নত করা। মাস্ক বলেন, গাড়ির নিচের দিকে বেশি চাপ তৈরি হলে এটি ট্র্যাকে দ্রুত বাঁক নিতে পারবে। তাঁর দাবি, এই প্রযুক্তির কারণে রোডস্টার প্রচলিত স্পোর্টস কারের তুলনায় অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারে এবং বিভিন্ন ট্র্যাকের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দাবি এবং বাস্তব ব্যবহারে গাড়িটির পারফরম্যান্সের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। স্বাধীনভাবে সব প্রযুক্তিগত দাবি যাচাইয়ের সুযোগ এখনো সীমিত। গাড়িটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাস্ক নিজেই স্বীকার করেছেন, এটি সব দিক থেকে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি গাড়ি নয়। তিনি অবশ্য এটিকে চালানোর অভিজ্ঞতার দিক থেকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর বলে তুলে ধরেছেন। সাধারণ সড়কে গাড়িটির বাতাসে ওড়ার মতো কৌশলগুলো আইনগতভাবে অনুমোদিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে প্রদর্শনীতে দেখানো প্রযুক্তি বাস্তবে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নতুন রোডস্টারের দামও এখনো পুরোপুরি ঘোষণা করেনি টেসলা। তবে গাড়িটির তিনটি সংস্করণের জন্য বুকিং বা রিজার্ভেশন চালুর তথ্য পাওয়া গেছে। ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার জমা দিতে হবে। ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণে দ্রুতগতির জন্য অতিরিক্ত থ্রাস্টার রয়েছে এবং এর জন্য জমার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ‘রকেট’ সংস্করণটি কেবল আমন্ত্রণের ভিত্তিতে পাওয়া যাবে; এর নির্দিষ্ট মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। এই সংস্করণে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট ব্যবস্থা থাকার কথা জানানো হয়েছে। নতুন রোডস্টার তৈরির পরিকল্পনা প্রথম সামনে আসে ২০১৭ সালে। তখন গাড়িটির প্রাথমিক মূল্য ২ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ২০২০ সাল থেকে সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু হয়নি। এবার টেসলা জানিয়েছে, গাড়িটির উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের হাতে গাড়িটি পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে। টেসলার জন্য রোডস্টার শুধু একটি দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়; এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরারও একটি প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটি স্বচালিত গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবট প্রযুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রোডস্টার প্রতিষ্ঠানটির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি তৈরির পরিচয়কে আবার সামনে আনতে পারে। তবে প্রদর্শনীতে দেখানো সব কৌশল সাধারণ সড়কে ব্যবহার করা যাবে কি না, গাড়িটির চূড়ান্ত মূল্য কত হবে এবং উৎপাদনের সময়সীমা এবার বজায় রাখা সম্ভব হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত রকেট থ্রাস্টার, বাতাসে ঘোরার সক্ষমতা এবং অস্বাভাবিক দ্রুতগতির দাবিই টেসলার নতুন রোডস্টারকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রে আকাশে লাফ দেওয়ার বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন রোডস্টার গাড়ি উন্মোচন করেছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি স্থাপনায় গাড়িটি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে পাশাপাশি রাখা পাঁচটি গাড়ির ওপর দিয়ে লাফ দেওয়া, উল্টো অবস্থায় চলা এবং আকাশে ঘূর্ণির মতো বিশেষ কৌশল দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক গাড়িটি ২০২৮ সালে বাজারে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে সাধারণ সড়কে এটি চালানোর আইনি অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে অবস্থিত স্পেসএক্সের স্থাপনায় নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করা হয়। স্থানটি হিউস্টন থেকে প্রায় ৩৫৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। অনুষ্ঠানে টেসলার গাড়িপ্রেমী ও সম্ভাব্য ক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যাঁরা প্রায় নয় বছর আগে গাড়িটি পাওয়ার আশায় আড়াই লাখ ডলার অগ্রিম জমা দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের বরাতে বলা হয়েছে, নতুন রোডস্টার প্রদর্শনীর সময় বেশ কয়েকটি অস্বাভাবিক কৌশল দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উল্টো অবস্থায় গাড়ি চালানো, পাশাপাশি রাখা পাঁচটি টেসলা গাড়ির ওপর দিয়ে লাফ দেওয়া এবং আকাশে থাকা অবস্থায় নিজের অক্ষ বরাবর সম্পূর্ণ ঘুরে যাওয়া। এসব কৌশল দেখাতে স্পেসএক্সের তৈরি থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। টেসলার দাবি, বিশেষ থ্রাস্টার চালু থাকলে নতুন রোডস্টার স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে মাত্র এক সেকেন্ড সময় নেবে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। তবে এগুলো প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত সক্ষমতা। সাধারণ সড়কে বাস্তব ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নতুন রোডস্টারের অন্যতম আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো এর থ্রাস্টার প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটি প্রচলিত বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় ভিন্ন ধরনের কৌশল দেখাতে সক্ষম বলে দাবি করেছে টেসলা। তবে প্রদর্শনীতে আকাশে ওঠা বা বিশেষ কৌশল দেখানোর অর্থ এই নয় যে, গাড়িটি প্রচলিত উড়োজাহাজের মতো নিয়মিত আকাশপথে চলাচলের অনুমোদন পেয়েছে। অনুষ্ঠানে ইলন মাস্ক জানান, নতুন রোডস্টার এমন একটি গাড়ি হবে, যা সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে কিনতে পারবেন। সাধারণ সড়কে চলাচলের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে একই সঙ্গে স্বীকার করেন, সব এলাকায় গাড়িটি চালানোর আইনি অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, কোন সড়ক বা এলাকায় গাড়িটি চালানো যাবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। গাড়িশিল্পের বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন গাড়ি চালানো এবং সাধারণ সড়কে ব্যবহারের আইনি অনুমোদন পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। টেসলার নতুন রোডস্টার প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বের মুখে রয়েছে। প্রায় নয় বছর আগে কিছু ক্রেতা গাড়িটি পাওয়ার জন্য আড়াই লাখ ডলার করে অগ্রিম অর্থ জমা দিয়েছিলেন। তবে এতদিনেও গাড়িটির বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হয়নি। নতুন ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালকে সম্ভাব্য বাজারে আনার সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছে। অবশ্য ২০২৮ সালে বাজারে আনার পরিকল্পনা জানানো হলেও নতুন রোডস্টারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করেনি টেসলা। গাড়িটির ব্যাটারির ধারণক্ষমতা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে রোডস্টারের পূর্বঘোষিত একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৯৯৮ কিলোমিটার চলার সক্ষমতার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে নতুন থ্রাস্টারযুক্ত সংস্করণটির একবার চার্জে চলার দূরত্ব সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর নতুন রোডস্টারের প্রদর্শনী এবং ২০২৮ সালে বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে টেসলা। তবে গাড়িটির বাণিজ্যিক উৎপাদন, চূড়ান্ত মূল্য, সরবরাহের সময় এবং সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের মরুভূমিতে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়েছে। স্টার্লিং নামের এই প্রকল্প থেকে বছরে ১ দশমিক ১ টেরাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৯০ শতাংশ কেনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে টেসলা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালে চালু হওয়ার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ৬ অক্টোবর প্রকল্পটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে কনটুরগ্লোবাল। যুক্তরাষ্ট্রের মোহাভি কাউন্টিতে লেক হাভাসু সিটির প্রায় ২০ মাইল উত্তরে অবস্থিত এই প্রকল্পের আওতায় মরুভূমির দুই হাজার একরেরও বেশি জমি ব্যবহৃত হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এখানে বড় আকারের ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পে সাত লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। প্যানেলগুলোর সম্মিলিত ক্ষমতা ৫০৯ মেগাওয়াট হলেও বিদ্যুৎ রূপান্তরের পর গ্রিডে সরবরাহযোগ্য ক্ষমতা হবে ৪৫০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে তিন শতাধিক ব্যাটারি সংরক্ষণ কনটেইনার। ব্যাটারি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষমতা হবে ৩৬০ মেগাওয়াট। এতে প্রায় ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা যাবে, যা পূর্ণ ক্ষমতায় প্রায় চার ঘণ্টা সরবরাহ করা সম্ভব। কনটুরগ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি একসঙ্গে ব্যবহারের মাধ্যমে দিনে সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। ব্যাটারিতে ব্যবহার করা হবে লিথিয়াম আয়রন ফসফেট প্রযুক্তি, তরল শীতলীকরণ এবং সমন্বিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। টেসলার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ কিনবে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নবায়নযোগ্য জ্বালানির সনদও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রকল্পটির প্রত্যাশিত বার্ষিক উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ। চালু হলে স্টার্লিং হবে কনটুরগ্লোবালের বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প। প্রকল্পটি ওয়েস্টার্ন এরিয়া পাওয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হবে। পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার বিদ্যুৎ বাজারে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য সঞ্চালন অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্মাণকাজে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কর্মীর কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা রয়েছে। স্থানীয় কর্মীরা ভূমি উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ ও প্রকল্প এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার কাজ করবেন। ঐতিহাসিক রুট ৬৬-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে ৫ দশমিক ২ মাইল বা প্রায় ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন প্রবেশসড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বেসরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্মাণকালে বিনিয়োগের অর্থায়নে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে ঋণও নিশ্চিত করেছে কনটুরগ্লোবাল। সূত্র: ইলেকট্রেক
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে টেসলা গাড়িতে আগুন ও বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা সামনে আসায় বর্তমান মালিকদের নিরাপত্তা এবং নতুন করে টেসলা কেনার কথা ভাবছেন এমন ক্রেতাদের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব ঘটনার সবগুলোর কারণ এক নয়, আর কোনো ঘটনাকেই এখন পর্যন্ত সরাসরি টেসলার ব্যাটারির ত্রুটি হিসেবে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা হয়নি। গত আগস্টে ওয়াশিংটনের অবার্নে একটি বাড়ির গ্যারেজে থাকা টেসলায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই অগ্নিনির্বাপক আহত হয়ে হাসপাতালে যান। স্থানীয় শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, গাড়িটি কেন বিস্ফোরিত হয়েছিল তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে জর্জিয়ার আটলান্টার নর্থওয়েস্ট এলাকায় একটি টেসলা গাড়িতে আগুন ধরে সেটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। অগ্নিনির্বাপকরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও গাড়িটিতে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গাড়িটি কোনো দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ার কর্টে মাদেরায় একটি টেসলা বিক্রয়কেন্দ্রের পার্কিং এলাকায় আগুনে চারটি টেসলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি গাড়িতে আগুন শুরু হয়ে পাশের তিনটি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিনির্বাপকরা আগুন মূল ব্যাটারি পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে আনেন। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলেছেন এবং এটি দুর্ঘটনাজনিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফ্লোরিডায় আরও গুরুতর একটি ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হারিকেন হেলেনের সময় লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে আসার পর একটি ২০২১ সালের টেসলা গাড়িতে আগুন ও বিস্ফোরণ ঘটে। আগুনে একটি পরিবারের প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গফুটের বাড়ি ধ্বংস হয় এবং তাদের পোষা কুকুর মারা যায়। তবে এগুলো আদালতে করা অভিযোগ; ঘটনার কারণ বা টেসলার দায় এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো টেসলা মালিকদের জন্য সতর্কতার বিষয়টি সামনে এনেছে। দুর্ঘটনা বা পানিতে ডুবে যাওয়ার পর গাড়ি পরীক্ষা না করে চালানো বা চার্জ না দেওয়া এবং ধোঁয়া, অস্বাভাবিক শব্দ কিংবা অতিরিক্ত তাপ দেখা দিলে গাড়ি থেকে দূরে সরে জরুরি সেবায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব ঘটনাকে একই কারণে ঘটেছে বলে ধরে না নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হারিকেন হেলেনের তাণ্ডবের সময় গ্যারেজে থাকা বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার ব্যাটারি সিস্টেম লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে এসে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ট্যাম্পার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এক মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুনে মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ট্যাম্পা বে এলাকার অটো ডিলার মাইকেল মারফির গ্যারেজে রাখা ২০২১ মডেলের একটি 'টেসলা মডেল এস প্লেইড' গাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার সময় মাইকেল শহরের বাইরে থাকলেও তার স্ত্রী সিলভানা, দুই শিশুকন্যা এবং শ্বশুর-শাশুড়ি বাড়ির ভেতরেই আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের নিরাপদে বের করে আনতে পারলেও, চোখের সামনেই তাদের ৫ হাজার ৪০০ বর্গফুটের বিশাল বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে উদ্ধারকারীরা পরিবারের প্রিয় কুকুরটিকে বাঁচাতে পারেননি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা এই অভিযোগে মারফি পরিবার দাবি করেছে, পানিতে ভিজলে টেসলার ব্যাটারি থেকে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। হারিকেন হেলেনের প্রভাবে ট্যাম্পা বে এলাকায় গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে মারফি পরিবারের গ্যারেজে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে। পানি গাড়ির নিচের অংশে পৌঁছাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বন্যার পানি এবং আগুনের কারণে জরুরি সেবাকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে মাইকেল মারফির অনুরোধে 'গ্রে বুল রেসকিউ' নামের একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দলের সাহসিকতায় নৌকার সাহায্যে পরিবারের সদস্যদের ওই জ্বলন্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। মারফি পরিবারের দাবি, এই বিস্ফোরণের মূল কারণ টেসলার ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারি প্যাক এবং এর ডিজাইন। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেসলা ২০১০ সাল থেকেই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির এই 'থার্মাল রানঅ্যাওয়ে' বা অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার সমস্যার কথা জানত। এমনকি তারা আগুন প্রতিরোধক উপাদানের পেটেন্টও করেছিল, কিন্তু নিজেদের গাড়িতে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করেনি। উল্টো তারা গ্রাহকদের কাছে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিরাপত্তার বিষয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এসেছে। ফ্লোরিডায় এর আগেও হারিকেন হেলেনের সময় পানিতে ডুবে একাধিক টেসলা গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল, যা নেভাতে দমকলকর্মীদের চরম বেগ পেতে হয়। সব জেনেও দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ত্রুটি সংশোধনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে মারফি পরিবার এখন টেসলার কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির সামনে নিজের টেসলা সাইবারট্রাক ব্যাক করার সময় দুর্ঘটনাবশত ৬ বছর বয়সী শিশুপুত্রকে চাপা দিয়েছেন মিস্টার অলিম্পিয়া বিচারক টেরেক এল গিন্ডি (৪৮)। গত শনিবার রাত ৯টার কিছু আগে ক্যালিফোর্নিয়ার টেমিকুলায় তাদের বাসভবনের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু প্রেস্টনকে দ্রুত ইনল্যান্ড ভ্যালি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সেদিন রাতেই হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিজ হাতে সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি হৃদয়বিদারক স্টোরি শেয়ার করেছেন শোকস্তব্ধ পিতা টেরেক। ছেলে প্রেস্টনকে জড়িয়ে ধরে থাকা একটি ছবির ওপর তিনি লিখেছেন, “আমরা এক। আমরা চিরকাল একই থাকব। আমরা অনন্তকাল একসাথে থাকব। প্রেস্টন এবং টেরেক।” ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) দুর্ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে টেরেক এল গিন্ডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় তার টেসলা সাইবারট্রাকটি অটোপাইলট মোডে ছিল না বলেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল গতিতে চলন্ত টেসলা গাড়িতে চালকের আসনে ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে পুলিশ। গাড়িটিতে টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ ব্যবস্থা চালু ছিল বলে জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল বা সিএইচপি। সোলানো কাউন্টির ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়কে ঘটনাটি ঘটে। সিএইচপির এক মোটরসাইকেল কর্মকর্তা দেখতে পান, টেসলাটি ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল গতিতে চললেও চালক আসনে থাকা ব্যক্তি আসনে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছে। তাঁর চোখে ছিল কালো চশমা। পরে কর্মকর্তা গাড়িটিকে থামান। সিএইচপির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২ সেপ্টেম্বর ঘটে। গাড়ি থামানোর পর চালককে অনিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য টিকিট দেওয়া হয়। পাশাপাশি চালককে বোঝানো হয় যে টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ ব্যবস্থা চালু থাকলেও গাড়ির নিয়ন্ত্রণ থেকে চালক নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নিতে পারেন না। সিএইচপি জানিয়েছে, বর্তমানে চালকের ঘুমিয়ে থাকার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালানোর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান নেই। তবে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে। সিএইচপি কর্মকর্তা স্কট হেইটম্যান বলেন, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য নিরাপদ গতি হলো ঘণ্টায় শূন্য মাইল। টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামটি শুনে এটি পুরোপুরি চালকবিহীন ব্যবস্থা বলে মনে হলেও বাস্তবে এটি চালকের সহায়তাকারী প্রযুক্তি। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের নথিতেও চালক সহায়তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ও সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব চালকের ওপর থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সিএইচপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি তুলে ধরে চালকদের সতর্ক করেছে। সংস্থাটি বলেছে, গাড়িতে উন্নত চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও চালককে সজাগ থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সোলানো কাউন্টির ঘটনাটি অবশ্য এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টিতে একটি টেসলা সাইবারট্রাকের চালককে হাইওয়ে ১০১-এ গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার মতো অবস্থায় দেখা যায়। সেই ঘটনার পরও সিএইচপি জানিয়েছিল, গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় বা চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও গাড়ির দায়িত্ব চালকেরই। এর আগে মার্চ মাসে ভ্যাকাভিল শহরেও টেসলাকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক সহায়তা ব্যবস্থা চালু থাকা অবস্থায় একটি টেসলা চলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে কর্মকর্তারা গাড়ির সামনের আসনে চালককে ঘুমন্ত অবস্থায় পান। গাড়িতে পিৎজার বাক্স ও ছোট আকারের কয়েকটি মদের বোতলও ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। ওই ব্যক্তিকে মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। সিএইচপি বলছে, আধুনিক চালক সহায়তা প্রযুক্তি গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এগুলো চালকের দায়িত্ব পুরোপুরি সরিয়ে দেয় না। চলন্ত গাড়িতে চালকের মনোযোগ ধরে রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি। সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল, SFGATE
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা গাড়ি চালিয়ে কাঠামোর সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু এলিস সুয়োমি নিহত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, গাড়ি চালানোর সময় ওই নারীর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল আইনগত সীমার প্রায় তিন গুণ। অভিযুক্ত আলেহান্দ্রা পাহারসিংহের বিরুদ্ধে যানবাহনজনিত অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ত্যাগের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় ২০২৪ সালের একটি টেসলা চালানোর সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান বলে অভিযোগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ ও পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে গাড়িটি ফুটপাতে উঠে একটি ডাকবাক্সে আঘাত করে। এরপর সেটি রাস্তার পাশে নির্মাণকাজের জন্য স্থাপন করা কাঠামোতে ধাক্কা দেয়। গাড়িতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন ২৭ বছর বয়সী এলিস সুয়োমি। দুর্ঘটনার পরও পাহারসিংহ গাড়ি চালিয়ে কয়েক ব্লক এগিয়ে যান। পরে পূর্ব ৪২তম স্ট্রিট ও সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে গাড়ি থামলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত সুয়োমিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ৩টার কিছু পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পাহারসিংহও দুর্ঘটনায় সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসা নেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। ম্যানহাটন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, পাহারসিংহের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল দশমিক ২২৯। নিউইয়র্কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আইনগত সীমা দশমিক শূন্য আট। অর্থাৎ তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ধারিত সীমার প্রায় তিন গুণ ছিল। মামলার নথিতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা থমাস ডিলনের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাহারসিংহ ওই রাতে একাধিকবার মদ্যপানের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশকে জানান, ৪২তম স্ট্রিটে গাড়ি চালানোর ঘটনা তাঁর মনে নেই। পাহারসিংহ কানেকটিকাটের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে তাঁর আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। বুধবার রাতে ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় তাঁকে হেফাজতে রাখার জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নগদ জামিন অথবা ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ড চেয়েছিল। তবে বিচারক জেফরি গেরশুনি জামিনের পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাহারসিংহ রাইকার্স আইল্যান্ডে হেফাজতে ছিলেন। আগামী সোমবার তাঁকে আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। নিহত এলিস সুয়োমি হারলেমে থাকতেন এবং তাঁর তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তাঁর বাসার বাইরে স্বজন ও বন্ধুরা স্মরণসভা করেন। সেখানে নীল ও সাদা মোমবাতি, তাঁর ছবি এবং ছোট মেয়ের সঙ্গে তাঁর একটি ছবিও রাখা হয়। সুয়োমির প্রতিবেশী জর্জ কার্টাগেমা নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, তিনি সুয়োমিকে ভালো মানুষ হিসেবে চিনতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সুয়োমি অন্যদের সাহায্য করতেন এবং কারও খাবার বা পোশাকের প্রয়োজন হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতেন। পাহারসিংহ ও সুয়োমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট থেকেও ধারণা পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার আগে তাঁদের একসঙ্গে থাকার ছবি ও বন্ধুত্বের নানা স্মৃতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিল। তবে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনাটির পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে। আইনগতভাবে পাহারসিংহের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। উৎস: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে একটি টেসলা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ভারা (স্ক্যাফোল্ডিং) ও বাস স্টপেজে আছড়ে পড়ে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। গত বুধবার ভোরে ইস্ট ৪২ নম্বর স্ট্রিটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হত্যার অভিযোগে গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বুধবার রাত ২টা ৪৩ মিনিটের দিকে ২৭ বছর বয়সী আলেহান্দ্রা পাহারসিং একটি ২০২৪ মডেলের ধূসর রঙের টেসলা মডেল ওয়াই (Model Y) এসইউভি চালাচ্ছিলেন। পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের স্ক্যাফোল্ডিং, একটি বাস স্টপ ও মেইলবক্সে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় গাড়িতে থাকা চালকের বান্ধবী ও ২৭ বছর বয়সী যাত্রী এলিস সুওমি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। চালক পাহারসিংও এই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, চালক পাহারসিংয়ের বাড়ি কানেকটিকাটে এবং নিহত এলিস সুওমি হারলেমের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমবার ধাক্কা খাওয়ার পরও চালক গাড়ি থামাননি, বরং কয়েক ব্লক দূরে যাওয়ার পর একটি ট্র্যাফিক ক্যামেরার আওতায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত গাড়িটি থেমে যায়। বর্তমানে এনওয়াইপিডি-র হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্ট কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ব্যস্ত সুপারমার্কেটের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারানো টেসলা গাড়ির ধাক্কায় একজন নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২১ মিনিটে দ্য গ্রোভের বিপরীতে থার্ড স্ট্রিটের ৭৯০০ ব্লকে অবস্থিত ট্রেডার জো’স স্টোরের পার্কিং লটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার সাদা রঙের টেসলা গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি পার্ক করা গাড়ি ও কয়েকজন পথচারীকে ধাক্কা দেন এবং পরে পার্কিং লটের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আছড়ে পড়েন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা নিহতের মরদেহ একটি সাদা শামিয়ানার নিচে ঢেকে রেখেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ৩০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ৩০ ও ৫৭ বছর বয়সী আরও দুই নারী সামান্য আঘাত পেয়েছেন। গাড়িচালক ওই বৃদ্ধাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ড্রেক পিসিওন জানান, গাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই বৃদ্ধা চালক রীতিমতো হতবাক ছিলেন এবং তিনি বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কী ঘটেছে। চালক দাবি করেন, তিনি গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করছিলেন এবং তার পা ব্রেকের ওপরই ছিল, কিন্তু গাড়িটি নিজে থেকেই গতি বাড়িয়ে ছুটতে থাকে। তিনি যে একজনকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছেন, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে সীমিত পরিসরে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ রাইড চালু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা। স্টিয়ারিং হুইল ও প্যাডেলবিহীন দুই আসনের এই গাড়ির মাধ্যমে রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় ওয়েমোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামার পথে আরও এক ধাপ এগোল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সাইবারক্যাব চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সোনালি রঙের সাইবারক্যাব প্রথমবার প্রদর্শন করা হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে। গাড়িটিতে প্রচলিত স্টিয়ারিং হুইল বা ব্রেক ও অ্যাক্সিলারেটর প্যাডেল নেই। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার জন্য গাড়িটি ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সরনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে। প্রথম ধাপে অস্টিনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাইবারক্যাব রাইড দেওয়া হচ্ছে। এর আগে টেসলা অস্টিনসহ কয়েকটি শহরে মডেল ওয়াই গাড়ি ব্যবহার করে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছিল। টেসলার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ টেক্সাসের কয়েকটি শহর এবং ফ্লোরিডার মিয়ামি, অরল্যান্ডো ও টাম্পায় তাদের রোবোট্যাক্সি সেবা চলছে। সাইবারক্যাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে টেসলার স্বয়ংক্রিয় পরিবহন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এই বিশেষভাবে তৈরি গাড়িকে তাদের রোবোট্যাক্সি বহরের মূল যান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। জুলাইয়ে টেসলা জানিয়েছিল, সাইবারক্যাবের উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং পাবলিক রোডে এর ইঞ্জিনিয়ারিং টেস্ট ড্রাইভও শুরু করা হয়েছিল। অন্যদিকে, চালকবিহীন রাইড-হেইলিং বাজারে ওয়েমো ইতিমধ্যেই বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ১ সেপ্টেম্বর ডেনভার, সান ডিয়েগো ও টাম্পায় পাবলিক রাইড চালু করে জানায়, এর মাধ্যমে ১৪টি শহরে তাদের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রাইড সেবা পৌঁছেছে। তবে টেসলার নতুন সেবার বিস্তার নিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএ জানিয়েছে, অস্টিনে সাইবারক্যাব চালুর বিষয়টি তারা মূল্যায়ন করছে। সাইবারক্যাবের যাত্রা শুরু হলেও টেসলা কত দ্রুত এই সেবা বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারবে এবং এটি কতটা লাভজনক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের আস্থাই রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় টেসলার ভবিষ্যৎ সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায় একটি টেসলা গাড়ি। এরপর পেছন থেকে আসা একটি বিশাল আকৃতির ফোর্ড এফ ৩৫০ পিকআপ ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান টেসলার চালক। সম্প্রতি মার্কিন ট্রাফিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নতুন নথিপত্র থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মেসা শহরের ইস্টবাউন্ড লুপ ২০২ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িটি ছিল ২০২০ সালের মডেল ৩ টেসলা। গাড়িটি যখন মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে পুরোপুরি থেমে যায়। সে সময় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি এবং টুয়েলভ নিউজ দুর্ঘটনার খবর প্রচার করলেও, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বা এনএইচটিএসএ কাছে টেসলার জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে চালকের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইলেকট্রিক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মারাত্মক ওই সংঘর্ষের সময় টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেম চালু ছিল। এটি টেসলার সাধারণ অটোপাইলট কিংবা ব্যয়বহুল ফুল সেলফ ড্রাইভিং বা এফএসডি সফটওয়্যার হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় শূন্য মাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লোরিডার একটি মহাসড়কে প্রায় একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও টেসলার ড্রাইভার অ্যাসিস্ট সফটওয়্যারে চলা একটি মডেল ৩ গাড়ি মহাসড়কের মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায় এবং পেছন থেকে অন্য একটি যানের ধাক্কায় টেসলার চালক নিহত হন। টেসলার গাড়িগুলোতে দীর্ঘকাল ধরেই ফ্যান্টম ব্রেকিং নামের এক অদ্ভুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। এই ত্রুটির ফলে সামনে কোনো বাধা ছাড়াই গাড়িগুলো হঠাৎ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। একটি গাড়ির ভিডিও, টেলিমেটিক্স এবং ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডারসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য টেসলার কাছে সংরক্ষিত থাকে। ফলে গাড়িটি কেন হঠাৎ থেমে গিয়েছিল, তা কোম্পানিটির কাছে খুবই স্পষ্ট। তবে ইলেকট্রিক জানিয়েছে, টেসলা এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তথ্য গোপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ এবং গাড়িটি অনুমোদিত এলাকায় চলছিল কি না সেই তথ্য। এই তথ্যগুলোকে গোপন ব্যবসায়িক তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টেসলা। জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রতিবেদনেই এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে। ফ্যান্টম ব্রেকিং ত্রুটি নিয়ে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছিল ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অটোপাইলট বা অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহারের সময় মহাসড়কের দ্রুতগতিতে গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছর ধরে চলা সেই তদন্তটি চলতি বছরের গত জুলাই মাসে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং তারা যান্ত্রিক ব্রেকের কোনো ত্রুটি বা অযৌক্তিক সংঘর্ষের ঝুঁকি খুঁজে পায়নি।
আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বে অন্তত ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবট তৈরি হবে। আর এই রোবটগুলো পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতার চেয়েও বেশি উৎপাদনশীল হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জি-২০ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী এই মন্তব্য করেন। তিনি ধারণা করছেন, একটি হিউম্যানয়েড রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণ একজন মানুষের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি হবে। এরপর রোবটরাই অন্যান্য রোবট তৈরি করা শুরু করবে, যা একটি রিকার্সিভ বা চক্রাকার প্রভাব তৈরি করবে। ইলন মাস্ক বলেন, শুরুতে এটি খুব ধীরগতিতে এগোলেও পরে তা বিস্ফোরক গতিতে বাড়বে। আজ থেকে ১০ বছর পর আমি বলতে পারি যে, পৃথিবীতে ১০০ কোটিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট থাকবে। প্রতিটি রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সম্ভবত একজন মানুষের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি হবে। এর মানে হলো, এই ১০০ কোটি রোবট পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত ক্ষমতার চেয়েও বেশি কাজ করতে পারবে। তিনি এটিকে একটি রক্ষণশীল হিসাব বলে উল্লেখ করে জানান, তিনি এই বিষয়ে বাজি ধরতেও প্রস্তুত। মাস্কের মতে, একটি রোবটের কার্যকারিতা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। সেগুলো হলো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার কতটা উন্নত, রোবটের ভেতরের এআই চিপ কতটা শক্তিশালী এবং রোবটের ইলেকট্রোমেকানিকাল দক্ষতা বা হাত দিয়ে সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা কতটা নিখুঁত। এই তিনটি বিষয়ই দ্রুতগতিতে উন্নত হচ্ছে বলে তিনি জানান। এদিকে স্মার্ট অ্যানালিটিকস গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার ১০০টি হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, চলতি বছর শেষে এই সংখ্যা ৬০ হাজারে পৌঁছাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে চীন। বৈশ্বিক সরবরাহের ৯৭ শতাংশেরও বেশি আসছে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে। এর মধ্যে সাংহাই ভিত্তিক অ্যাজিবট ৮ হাজার ৪০০টি রোবট সরবরাহ করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে হাংঝু ভিত্তিক ইউনিটি রোবোটিক্স। অন্যদিকে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলাও তাদের নিজস্ব হিউম্যানয়েড রোবট অপটিমাস বাজারে আনছে। এটি মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। টেসলার লক্ষ্য বছরে ১০ লাখ এমন রোবট উৎপাদন করা। মাস্ক আগেই জানিয়েছিলেন, এই অপটিমাস রোবট ভবিষ্যতে টেসলার মোট মূল্যের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা দখল করে নিতে পারে। সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে চীনা রোবটগুলো মানুষের গড়া রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটি রোবট কিংবদন্তি অ্যাথলেট উসাইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেয়। বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি তিয়ানগং আল্ট্রা ৯.৩৯ সেকেন্ডে এবং অনারস লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। গত বছর তিয়ানগং আল্ট্রা এই দৌড় শেষ করতে ২১.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, যা প্রমাণ করে মাত্র এক বছরে প্রযুক্তির কতটা বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে। জি-২০ সম্মেলনে মাস্ক আরও বলেন, হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স অবিশ্বাস্য পরিবর্তন আনবে। তার ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবে, যার পরিমাণ বছরে ২০ থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী বছরের শেষের দিকে এআই এমন যেকোনো ডিজিটাল কাজ করতে পারবে, যার জন্য মানুষের হাতের দরকার নেই। এটি দাবার জনপ্রিয় প্রোগ্রাম স্টকফিশ এর মতো শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা বিশ্বের সেরা দাবাড়ুদের অনায়াসে হারাতে পারে।
দুর্ঘটনার পর জরুরি মুহূর্তে গাড়ির দরজা খুলতে সমস্যা হতে পারে এমন আশঙ্কায় চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ঘোষিত এই পদক্ষেপটি চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রত্যাহারের অংশ। টেসলার পাশাপাশি আরও আটটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ৪৩ লাখ গাড়ি এই প্রত্যাহারের আওতায় এসেছে। চীনের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর মার্কেট রেগুলেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টেসলার প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার গাড়ি। এর মধ্যে চীনে তৈরি এবং আমদানি করা মডেল থ্রি, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স রয়েছে। এই প্রত্যাহার ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। সমস্যাটি মূলত গাড়ির বৈদ্যুতিকভাবে পরিচালিত ও ভাঁজ হয়ে থাকা দরজার হাতল নিয়ে। কোনো গাড়ি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর যদি এর নিম্ন-ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়, তখন জরুরি অবস্থায় দরজা খোলার ব্যবস্থা সহজে খুঁজে পাওয়া বা ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা দ্রুত বের হতে না পারার পাশাপাশি বাইরে থাকা উদ্ধারকারীদেরও ভেতরে পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে। সমস্যা সমাধানে টেসলা ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোতে সতর্কতামূলক লেবেল লাগাবে। পাশাপাশি দূরবর্তী সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পর গাড়ির জানালা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছুটা নিচে নামার ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে দরজা খোলার প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। টেসলা আলাদাভাবে চালকের মনোযোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়েও আরেকটি প্রত্যাহার ঘোষণা করেছে। চীনে তৈরি প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার মডেল থ্রি ও মডেল ওয়াই গাড়িতে সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে চালক গাড়ি চালানোর সময় পর্যাপ্ত মনোযোগ দিচ্ছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। সহায়ক স্টিয়ারিং ও অন্যান্য চালক সহায়তা ব্যবস্থা ব্যবহারের সময় চালক প্রয়োজনমতো নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোই এর উদ্দেশ্য। যেসব গাড়িতে দূরবর্তীভাবে সফটওয়্যার হালনাগাদ করা সম্ভব হবে না, সেসব গাড়ির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত সেবা কেন্দ্রে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে টেসলা জানিয়েছে। এই বড় প্রত্যাহার শুধু টেসলাকে ঘিরে নয়। চীনের আরও কয়েকটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গাড়ি প্রত্যাহার করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শাওমি, লিপমোটর, এক্সপেং ও গিলি হোল্ডিং রয়েছে। সব মিলিয়ে চীনে প্রায় ৪৩ লাখ গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির দরজার নকশা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি বেড়েছে। বিশেষ করে বাইরে থেকে প্রায় সমতল বা ভাঁজ হয়ে থাকা দরজার হাতল নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে এ ধরনের দরজা কীভাবে দ্রুত খোলা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে নতুন গাড়িতে পুরোপুরি লুকানো বা প্রত্যাহারযোগ্য দরজার হাতল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। সাম্প্রতিক বড় পরিসরের গাড়ি প্রত্যাহারকে সেই কঠোর নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বড় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার চীনে নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এই কঠোর অবস্থান গাড়ি নির্মাতাদের নকশা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর দরজার মতো সুবিধাগুলো দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়টিই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে মে মাসেও টেসলা একাধিক গাড়ি প্রত্যাহার করেছিল। তখন প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার সাইবারট্রাকের চাকার স্টাড আলাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে পেছনের ক্যামেরার ছবি প্রদর্শনে বিলম্বের কারণে মডেল থ্রি, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স মিলিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি গাড়িও প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে এবারের প্রত্যাহারের পরিসর অনেক বড়। চীনের বাজারে টেসলার প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার গাড়ি এর আওতায় আসায় এটি দেশটিতে কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রত্যাহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের প্রত্যাহার এখনো ঘোষণা করা হয়নি। দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ ধরনের একই প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
ইউরোপের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পশ্চিম ইউরোপের বাজারে চীনা ব্র্যান্ডের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ বেড়ে ১৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ওই সময়ে বিক্রি হওয়া প্রতি সাতটি ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির একটি ছিল চীনা ব্র্যান্ডের। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান শ্মিট অটোমোটিভ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে চীনা ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০টি, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বাজার অংশে প্রায় পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি। চীনের বিওয়াইডি, চেরি, এসএআইসি ও এক্সপেংয়ের মতো গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে চীনা শিল্পের সম্প্রসারণের মধ্যেই ইউরোপে এসব গাড়ির বিক্রি বাড়ছে। একই সময়ে কঠোর নির্গমন নীতির কারণে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদেরও ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়াতে হচ্ছে। ফলে চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ইউরোপের প্রচলিত গাড়ি নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়ছে। চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়ার বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে এসব গাড়ির ওপর শুল্ক এবং বাজার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করছে। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি পাওয়া চীনা গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাজারে তুলনামূলক কম দামে গাড়ি বিক্রি করে বাজার দখলের চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় নির্মাতাদের সুরক্ষায় কোটার ব্যবস্থা ও আরও বেশি শুল্ক আরোপের দাবিও জোরালো হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে কিছু চীনা নির্মাতার তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর সঙ্গে নিয়মিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কও রয়েছে। ইউরোপে চীনা গাড়ির সবচেয়ে বড় বাজার এখন যুক্তরাজ্য। দেশটির সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ না করায় যুক্তরাজ্যে চীনা গাড়ির বিক্রি বেশি হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপের ১৮টি বড় বাজারে চীনা ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির মোট বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশই যুক্তরাজ্যে হয়েছে। অন্যদিকে মোট বিক্রির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে ইতালি থেকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য ইতালির এই উচ্চ বিক্রয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেছে। দেশটিতে লিপমোটর বিপুলসংখ্যক কম দামের টি০৩ বৈদ্যুতিক গাড়ি পাঠিয়েছে। সরকারি ক্রয় ভর্তুকির সুবিধায় একপর্যায়ে এসব গাড়ির দাম ৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত নেমে এসেছিল, যা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর কম দামের মডেলের তুলনায়ও অনেক কম। চীনা নির্মাতারা চলতি বছর ইউরোপের বাজারে ১২০টিরও বেশি ভিন্ন মডেলের গাড়ি বিক্রি করেছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর মডেলের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০টি। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিয়াস শ্মিট মনে করছেন, ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের অংশ হয়তো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর একটি কারণ হিসেবে তিনি চীনা নির্মাতাদের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির দিকে কিছুটা বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এসব গাড়িতে পেট্রোলচালিত ইঞ্জিনের সঙ্গে তুলনামূলক ছোট ব্যাটারি থাকে এবং বর্তমানে শুধু ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর যে অতিরিক্ত শুল্ক রয়েছে, তা এসব গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শ্মিটের মতে, চীনা নির্মাতারা আগামী ১২ মাসে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে, কারণ এসব গাড়ি বর্তমানে অতিরিক্ত শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে। তবে আগামী ১২ মাসে এই সুবিধা বন্ধ হওয়ার কথা থাকায় চীনা নির্মাতারা ওই সময়ের মধ্যে সুযোগটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। এদিকে জার্মান গাড়ি নির্মাতা ভক্সওয়াগেনের প্রধান নির্বাহী অলিভার ব্লুম ইউরোপের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও শুল্ক ব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও শুল্ক বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এদিকে ইউরোপের গাড়ির বাজারে টেসলার বিক্রিতেও ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই গাড়ি নির্মাতার বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম দামের মডেল থ্রি ও মডেল ওয়াইয়ের চাহিদা বাড়ায় এই বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া একক গাড়ির মডেল ছিল মডেল ওয়াই। গত বছর টেসলার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে চলতি বছর ইউরোপের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রিতে আবারও বৃদ্ধি দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে টেসলা ও স্পেসএক্স। 'টেরাফ্যাব' নামে এই বিশাল সেমিকন্ডাক্টর কারখানার আয়তন হবে ১০ কোটি বর্গফুটেরও বেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের বর্তমান বৃহত্তম ভবনগুলোকেও আকারে অনেক পেছনে ফেলে দেবে। টেসলা ও স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হিউস্টনের কাছে গ্রাইমস কাউন্টিতে যৌথভাবে নির্মিতব্য এই মেগা কারখানার প্রথম ধাপে বিনিয়োগ করা হবে ১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হলে মোট বিনিয়োগ ১১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দাবি করেছেন, এটি হবে "পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মূল্যবান ভবন।" প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে অবস্থিত নিউ সেঞ্চুরি গ্লোবাল সেন্টারের রেকর্ড ভেঙে দেবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনটিই বিশ্বের বৃহত্তম ভবন হিসেবে পরিচিত। এর ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্রসৈকত, স্কি ঢালসহ নানা সুবিধা। প্রস্তাবিত টেরাফ্যাবের আয়তন হবে এর পাঁচ গুণেরও বেশি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন, অ্যাপল পার্ক এবং মল অব আমেরিকার সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও অনেক বড় হবে। টেসলা ও স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, একই ছাদের নিচে এখানে সেমিকন্ডাক্টর চিপের নকশা, উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরীক্ষার কাজ হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংচালিত যান, রোবট এবং মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য বর্তমান বৈশ্বিক চিপ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। সেই ঘাটতি পূরণেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, টেরাফ্যাবে তৈরি হওয়া চিপ টেসলার অপটিমাস মানবাকৃতি রোবট, স্বয়ংচালিত সাইবারক্যাব এবং স্পেসএক্সের পরিকল্পিত মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারে ব্যবহার করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বছরে ১ টেরাওয়াটের বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ উৎপাদন। প্রকাশিত নকশায় দেখা গেছে, ভবনটির নকশা হবে ডানার মতো বিস্তৃত এবং ছাদ হবে স্বচ্ছ। ইলন মাস্কের ভাষায়, এটি হবে "বিজ্ঞান কল্পকাহিনির শহরের" মতো দেখতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্স। নতুন কর্মীদের বড় অংশ গ্রাইমস কাউন্টি ও পাশের ব্রাজোস কাউন্টি থেকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলও এই প্রকল্পে অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারখানাটি নির্মিত হবে গিবন্স ক্রিক রিজার্ভয়ার এলাকায়, যেখানে আগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার নিয়ে টেক্সাসে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ওই জলাধারের পানি ব্যবহার করবে। এছাড়া প্রকল্পের জন্য দেওয়া কর-সুবিধা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে শত শত বাসিন্দা সম্প্রতি এক কাউন্টি সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় এই প্রকল্পের জন্য টেক্সাস এন্টারপ্রাইজ ফান্ড থেকে ৩ কোটি ডলারের অনুদান অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি রাজ্যের কর্মসংস্থান, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সুবিধাও পাবে। প্রকল্পটি ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে এটি শুধু আয়তনের দিক থেকেই নয়, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের দুই প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও ট্রাভিস কালানিকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন প্রযুক্তি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী আদি প্রসাদ। টেসলায় উৎপাদন প্রকৌশলী হিসেবে কাজ থেকে শুরু করে ক্লাউডকিচেনসে দ্রুত বর্ধনশীল একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এই দুই পর্যায়ের শিক্ষা আজ তার নতুন স্টার্টআপ ‘ম্যাটার’ এর ভিত্তি। বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে ৩৫ বছর বয়সী আদি প্রসাদ জানান, তিনি শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলেন। তবে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ার আগে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি নেতাদের কাছ থেকে শেখাকে তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন। সেই লক্ষ্যেই ২০১৫ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে যোগ দেন টেসলায়। সেই সময় টেসলা বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছিল। আদি প্রসাদকে কাজ করতে হয় মডেল এক্স গাড়ির জটিল ‘ফ্যালকন উইং’ দরজার উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্পে, যা তখন কোম্পানির অন্যতম কঠিন প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে তিনি কাছ থেকে ইলন মাস্কের নেতৃত্বের ধরন, সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সংস্কৃতি দেখার সুযোগ পান। তার ভাষায়, ইলন মাস্কের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা। কোনো কিছু দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে করা হচ্ছে, শুধু সেই কারণেই সেটি ঠিক এমন ধারণায় তিনি বিশ্বাস করতেন না। বরং প্রথম নীতি বা ‘ফার্স্ট প্রিন্সিপলস’ থেকে চিন্তা করে নতুন সমাধান বের করার ওপর জোর দিতেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তীতে আদি প্রসাদের উদ্যোক্তা জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। টেসলার পর তিনি অ্যাপলে প্রোডাক্ট কোয়ালিটি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। এরপর যোগ দেন উবারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী ট্রাভিস কালানিকের নতুন প্রতিষ্ঠান ক্লাউডকিচেনসে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিকের কর্মীদের একজন হিসেবে খুব কাছ থেকে একটি দ্রুত সম্প্রসারণশীল প্রযুক্তি কোম্পানির ভেতরের কার্যক্রম দেখার সুযোগ পান। আদি প্রসাদের মতে, ট্রাভিস কালানিকের কাছ থেকে তিনি শিখেছেন সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে কীভাবে বড় পরিসরে ব্যবসা গড়ে তুলতে হয়। প্রতিটি সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব, ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের সংস্কৃতি তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে আরও বাস্তববাদী হতে সাহায্য করেছে। তিনি মনে করেন, একটি সফল প্রযুক্তি কোম্পানি শুধু ভালো ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; দক্ষ বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতার পর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন আদি প্রসাদ। এরপর ২০২৫ সালে তিনি সহ-প্রতিষ্ঠা করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাটার’। চাকরির নিরাপদ জীবন ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। ম্যাটার মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে আরও দক্ষ, দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয় করার প্রযুক্তি তৈরি করছে। কোম্পানিটির লক্ষ্য এমন একটি ‘স্মার্ট ফ্যাক্টরি’ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যেখানে সফটওয়্যার, রোবট এবং এআই একসঙ্গে কাজ করে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ পরিচালনা করবে। বিশেষ করে ড্রোন, রোবোটিকস, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, শিল্পযন্ত্র এবং জটিল ইলেকট্রোমেকানিক্যাল পণ্য উৎপাদনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু সফটওয়্যার তৈরি করেই থেমে নেই প্রতিষ্ঠানটি। ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভ্যালে তারা নিজস্ব একটি আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রও পরিচালনা করছে। বাস্তব কারখানায় উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে তাদের এআই প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করে তোলা হচ্ছে। কোম্পানিটির লক্ষ্য ভবিষ্যতে এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান সহজেই ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন শিল্পেও বড় পরিবর্তন আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করতে দেশীয় কারখানায় নতুন বিনিয়োগ করছে। এই পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগাতেই ম্যাটারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআইনির্ভর উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। আদি প্রসাদের বিশ্বাস, উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কখনোই শতভাগ প্রস্তুত হওয়া সম্ভব নয়। তবে বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠানে বাস্তব সমস্যার সমাধান করার অভিজ্ঞতা একজন উদ্যোক্তাকে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস দেয়। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, বাস্তব শিল্পের অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।