- প্রচ্ছদ
- Topic
ড্রাইভিং লাইসেন্স
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত এইচ-১বি ভিসাধারী বিদেশি কর্মীরা ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে এক অপ্রত্যাশিত ও চরম হয়রানিমূলক জটিলতার মুখে পড়ছেন। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান এবং কাজ করার আইনি অধিকার বহাল থাকলেও, পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগ (ডিপিএস)-এর অনেক কার্যালয় কর্মীদের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। মূলত একটি সাধারণ 'ভিসার সিল' এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তির বৈধ 'অভিবাসন মর্যাদা'র মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে না পারার কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, পাসপোর্টের ভিসার সিল হলো মূলত একটি ভ্রমণ নথি, যা কেবল দেশে প্রবেশের সময় ব্যবহৃত হয়। দেশে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তির বৈধ অবস্থান নির্ধারিত হয় ‘আই-৯৪’ ফর্ম এবং ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামূকন সেথুরজোথি ও এমিলি নিউম্যান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৈধ ‘আই-৭৯৭’ অনুমোদনপত্র এবং মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া ‘আই-৯৪’ ফর্ম থাকলে একজন ব্যক্তি আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পূর্ণ যোগ্য। এমনকি টেক্সাসের নিজস্ব নিয়মেও মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসার সিলসহ বৈধ আই-৯৪ গ্রহণ করার কথা বলা রয়েছে। তা সত্ত্বেও, মাঠপর্যায়ের ডিপিএস কর্মীদের অভিবাসন আইন সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেকেই এমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই সমস্যা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এইচ-১বি ভিসার ওপর নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট আগামী ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত সরকারি সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয়ভাবেও ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং লটারি ব্যবস্থার বদলে উচ্চ বেতনের ভিত্তিতে কর্মী নির্বাচনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলস্বরূপ, কঠোর নিয়ম ও ব্যয়ের কারণে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ কমে গেছে। লাইসেন্স নবায়নে এই বিলম্ব বা আবেদন বাতিলের কারণে গাড়ি-নির্ভর টেক্সাসের বিদেশি কর্মীরা চরম বিপাকে পড়ছেন। বৈধ কাগজপত্র ও কর্মানুমতি থাকার পরও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তারা দৈনন্দিন কাজ ও কর্মস্থলে যাতায়াতে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। ডিপিএস কর্মকর্তারা সাধারণত কেন্দ্রীয় 'সেইভ' (SAVE) সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদনকারীদের অভিবাসন মর্যাদা যাচাই করে থাকেন। কিন্তু সিস্টেমে তথ্য আপডেট হতে দেরি হলে লাইসেন্স নবায়নেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। অভিবাসন আইনজীবীরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের মতো জটিল বিষয় সাধারণ ফ্রন্টলাইন কর্মীদের মাধ্যমে ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়ার ফলেই এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসছে, যা প্রবাসী কর্মীদের কাছে নিজেদের অবাঞ্ছিত মনে হওয়ার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও স্টেট আইডি কার্ড পাওয়ার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কর্মরত অনেক অস্থায়ী ভিসাধারীর জন্য টেক্সাসে প্রথমবার ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্টেট আইডি সংগ্রহ করা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। প্রস্তাবটি দিয়েছে টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি (DPS)। সংস্থাটি রিয়েল আইডি (REAL ID)-সংক্রান্ত নিয়ম সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে পরিচয় প্রমাণের জন্য বিদেশি পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মেয়াদোত্তীর্ণ বা কার্যকর—যেকোনো ভিসা গ্রহণ করা হয়, যদি আবেদনকারীর কাছে বৈধ ফর্ম আই-৯৪ (Form I-94) থাকে। এই নথির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার অনুমতির তথ্য যাচাই করা হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নিয়ম থেকে "মেয়াদোত্তীর্ণ" শব্দটি বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে পরিচয়পত্র হিসেবে বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হলে তাতে কার্যকর (Valid) মার্কিন ভিসা থাকতে হবে। টেক্সাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো অঙ্গরাজ্যের নিয়মকে ফেডারেল রিয়েল আইডি বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। এ বিষয়ে জনমত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আগামী ২৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ মতামত দিতে পারবেন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউস্টনভিত্তিক অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড্ডি নিউম্যান ব্রাউন পিসি (Reddy Neumann Brown PC)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অনেক বৈধ অভিবাসী অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখে পড়বেন। আইনজীবীরা বলছেন, ভিসা এবং বৈধ অভিবাসন মর্যাদা এক বিষয় নয়। পাসপোর্টে থাকা ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু দেশে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তি কতদিন বৈধভাবে থাকতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে ফর্ম আই-৯৪ অথবা পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (USCIS)-এর অনুমোদন। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, একজন এইচ-১বি (H-1B) কর্মীর পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ইউএসসিআইএসের অনুমোদনের কারণে তিনি আরও কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার রাখতে পারেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এমন একজন ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাসহ বৈধ আই-৯৪ দেখিয়ে টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুযোগ আর থাকবে না। রেড্ডি নিউম্যান ব্রাউন পিসি এক বিশ্লেষণে বলেছে, এই পরিবর্তনের ফলে অনেক বৈধ অভিবাসী পরিচয় প্রমাণে সমস্যায় পড়তে পারেন, যদিও ফেডারেল সরকারের সেভ (SAVE) তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও অভিবাসন মর্যাদা সহজেই যাচাই করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এই সংশোধনী কার্যকর হলে বৈধভাবে অস্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা ধরে রাখা অনেক মানুষের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে, শুধুমাত্র তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়ম সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে টেক্সাসে নতুন আসা এবং প্রথমবার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীদের ওপর। তবে যাদের ইতোমধ্যে টেক্সাসের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে এবং সময়মতো সেটি নবায়ন করবেন, তারা সাধারণত আগের লাইসেন্স ব্যবহার করেই পরিচয় প্রমাণ করতে পারবেন। এদিকে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছে, সম্ভব হলে পাসপোর্টে থাকা মার্কিন ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে। বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তন বা মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন, তারা কিছু ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএসের অনুমোদনপত্র ব্যবহার করতে পারবেন বলে ডিপিএস থেকে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। রেড্ডি নিউম্যান ব্রাউন পিসি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন বাসিন্দাদের আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তাবিত নিয়মের ওপর মতামত জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, একটি বৈধ পাসপোর্ট এবং বর্তমান ফেডারেল অভিবাসন নথি, যেমন কার্যকর ফর্ম আই-৯৪, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণে যথেষ্ট হওয়া উচিত, পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।