- প্রচ্ছদ
- Topic
তারেক রহমান
দেশের বাইরে থেকে অর্থ সরবরাহ করে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশবাসীকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা এ খবর প্রকাশ করেছে। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক স্বৈরাচারী শক্তি দেশের বাইরে থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের ভেতরে আরেকটি পক্ষ সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে—এমন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে এই অর্থায়নকারীদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিচ্ছে, আরেকটি পক্ষ দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ ধরনের তৎপরতা সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে অর্থ সরবরাহের অভিযোগে কারা জড়িত, কত অর্থ দেওয়া হয়েছে কিংবা কোন কোন কারখানায় কীভাবে এই অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে—সে বিষয়ে জনসভায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও এসব প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত না করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, দেশে যেন নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে বেকারত্ব কমানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান জানান, গত সাত মাসে রাজশাহী জেলায় ছয়টি বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা হয়েছে। আগামী ১২ মাসে সারা দেশে আরও প্রায় ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় কৃষকদের সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কৃষকদের মোবাইল হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হয় এবং কয়েকজন কৃষকের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে শ্রমিক অসন্তোষ, অর্থায়ন এবং অস্থিতিশীলতার অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে এসব অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করতে নির্দিষ্ট তথ্য, তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রকৌশলী ও ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। ৩৪তম বিসিএসেও উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে সেই চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের পড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নায়লা শারাফ। সাত বছর ধরে নেত্রকোনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করছেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নায়লার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরে বুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। এরপর জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার পদেও কাজ করেন। বিভিন্ন পেশায় কাজের অভিজ্ঞতার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। নায়লার কাছে এই সিদ্ধান্তের প্রধান বিবেচনা ছিল নিজের পছন্দ ও মানসিক তৃপ্তি। জাগো নিউজকে তিনি জানিয়েছেন, অর্থ বা খ্যাতির প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ নেই। সাধারণ জীবন এবং দিন শেষে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগকেই বেশি গুরুত্ব দেন। শিশুদের শেখানোর কাজটি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি নায়লা। পাঠ সহজ ও আনন্দময় করতে ছবি আঁকেন, শিক্ষা উপকরণ বানান এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন। বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরেও এসব প্রস্তুতির জন্য কাজ করেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সত্যবাদী ও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। শৈশবে তিনি যে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন, প্রান্তিক পরিবারের শিশুরাও যেন তেমন সুযোগ পায়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। বুধবার, ১৪ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের পেশা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নায়লা। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন এবং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ অংশ নেওয়ার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ৩ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করেন তিনি। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজের। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর রাতে ম্যানহাটনের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে নৈশভোজটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনেও ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে তাঁর অংশ নেওয়ার কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছিল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে চলছে, তবে সফরের দিনক্ষণ ঠিক করতে তাড়াহুড়োর কিছু নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সরকারপ্রধানের সুবিধাজনক সময়ে সফরটি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ত্রিবেদী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তারেক রহমানকে ভারত সফরের যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা এখনো বহাল রয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সফর নিয়ে দুই দেশই ইতিবাচক। তবে নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী ভারতে যেতে পারেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পক্ষে তিনি কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি। এখন পর্যন্ত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ বা আনুষ্ঠানিক সূচিও ঘোষণা করা হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকারও জানিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি মাসের ৭ সেপ্টেম্বরও তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আশাবাদ জানিয়েছিলেন ত্রিবেদী। মঙ্গলবারের বক্তব্যেও সেই অবস্থান বজায় রেখেছেন তিনি; সফরের নতুন কোনো দিনক্ষণ জানাননি।
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গান চেজের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্তা সহজ: বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের অংশ হিসেবে ওই বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণে আস্থা ও নীতির পূর্বানুমেয়তা প্রয়োজন। তাঁর সরকার বাংলাদেশে সেই পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে। বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার ও ভৌগোলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাতের বাইরেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। জ্বালানি, অবকাঠামো, পণ্য পরিবহন, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবার আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বিষয়গুলোও বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, নিয়মকানুন কতটা স্থিতিশীল থাকবে, বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে কি না এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়া যাবে কি না, এসব প্রশ্নের জবাব নীতি ও তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগের বাধা দূর করতে এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন খাতের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ডে’ সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা একটি কার্ডের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছাতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব কার্ড সমন্বয় করেই ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ভাষণে তিনি জানান, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সরকার এটিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর ভাবনা নতুন নয়। এর আগে জাতীয় সংসদেও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার কার্ড পর্যায়ক্রমে একীভূত করার কথা বলেছিলেন। তবে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে কার্ডটি কবে চালু হবে, কারা পাবেন বা আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। একই ভাষণে উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ সবার নাগালে আনার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালারও আহ্বান জানান তিনি। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তারা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের মধ্যে এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক।” বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। তার ভাষায়, এখন শুধু সহমর্মিতা প্রকাশের সময় নয়; সংকটের মূল কারণ খুঁজে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে যেতে হবে। প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা এবং প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে তাদের প্রভাব কাজে লাগানোর কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার আস্থা তৈরি হবে না। তৃতীয় প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য সেই আবেদন কমে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তার মতে, এই অর্থ মূলত ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজন মেটাতেই সীমিত। চতুর্থ প্রস্তাবে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পঞ্চম প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে বাড়তে থাকা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের কথা বলেন তিনি। এর মধ্যে মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিষয় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে এবং দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী, বক্তব্যের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ ঘরে ফিরে যেতে দেখতে চায় এবং প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের মতো করে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। Source: জাতিসংঘের অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট
বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ০.৫ শতাংশেরও কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি এরই মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান হয়েছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নেও বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস আগে ঘোষিত বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশের নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য তাপমাত্রা কমানো। তিনি অন্তত এক ডিগ্রি তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে দুই ডিগ্রি লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বন্যা ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়াতে পদ্মা ও তিস্তা নদীকে ঘিরে ব্যারাজ বা জল নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান। পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো উদ্যোগের পাশাপাশি জাতীয় কার্বন মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি। তবে এসব উদ্যোগ একা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ‘কমন বাট ডিফারেনশিয়েটেড রেসপনসিবিলিটিজ’ এবং নিজ নিজ সক্ষমতার ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনে সব দেশের দায় ও সক্ষমতা এক নয়—এই নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। বক্তব্যে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সীমা ধরে রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার কথা বলেন। তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে বেশি সুযোগ দিয়ে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু রূপান্তর নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থত, সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেন। পঞ্চমত, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং নিয়মিতভাবে তাতে অর্থ পুনর্ভরণের আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এমন অংশীদারত্ব প্রয়োজন, যা দেশকে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, তার পিএইচডি গবেষণার বিষয় ঠিক করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ঢাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ‘এমজিআই-এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নিজের উচ্চশিক্ষার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মিলন বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকাকালে তিনি গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা হলে নিজের হায়ার স্টাডিজের গবেষণার বিষয়টি তাকে দেখান। শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তারেক রহমান বিষয়টি দেখে সেটিতে পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। মিলন বলেন, তার গবেষণার প্রাথমিক বিষয়টি ছিল উচ্চশিক্ষাকেন্দ্রিক। কিন্তু তারেক রহমান বিষয়টি দেখে ‘হায়ার’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেইনিং’, সংক্ষেপে টিভিইটি, যুক্ত করে দেন। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এটিকে তারেক রহমানের চিন্তাভাবনা ও দূরদর্শিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তিনি তখন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন এবং গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় গবেষণার বিষয় নিয়ে তাদের আলোচনা হয়। এরপর বিষয়টি পরিবর্তনের পর তিনি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে গবেষণাকে যুক্ত করেন বলে জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে শিক্ষার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যের এই অংশে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্বের কথা উঠে আসে। মিলন আরও বলেন, বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে যে ধরনের সংযোগ প্রয়োজন, তা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তার মতে, চীনসহ উন্নত দেশগুলোতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতেই চাকরির সুযোগ তৈরি হয়। দেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা নিয়েও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা বিশ্বের অন্য দেশের মানুষের তুলনায় কম নয়। শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া লিংকেজ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। নিজের শিক্ষাজীবনের প্রসঙ্গ তুলে মিলন বলেন, তিনি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরে বিদেশে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং বিষয়ে এমবিএ করেন। সময় ও চাহিদার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্যই তিনি বিষয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। পরবর্তীতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে এমজিআই-এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬ প্রদান করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের প্রস্তুতির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বর্তমানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। চলতি বছর তিনি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং শিক্ষা সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়েছেন।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান করা হোটেলের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত কালো স্যুটকেস ঘিরে মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, নিরাপত্তা তৎপরতা চালায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বা এনওয়াইপিডি। পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে স্যুটকেসটি পাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, বস্তুটি আর সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার কিছু আগে স্যুটকেসটি পাওয়া যায়। এনওয়াইপিডির একটি প্রশিক্ষিত কুকুর স্যুটকেসটির ভেতরে কিছু শনাক্ত করার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। এরপর পুলিশের ইমার্জেন্সি সার্ভিস ইউনিট এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পূর্ব ৪২তম থেকে ৪৪তম স্ট্রিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অ্যাভিনিউ থেকে লেক্সিংটন অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ করে দেয়। ঘটনাস্থলটি ক্রাইসলার ভবনের কাছাকাছি এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে কয়েকটি অ্যাভিনিউ দূরে। নিরাপত্তা তৎপরতার সময় কাছের একটি ভবন থেকেও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলায় ওই এলাকায় তখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তবে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরে সেটিকে হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্যুটকেসের ভেতরে বোমা বা কোনো বিস্ফোরক পাওয়া গেছে এমন তথ্য নেই। একইভাবে এটি তারেক রহমান, তার সফরসঙ্গী বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিনিধি দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অংশ ছিল, এমন কোনো তথ্যও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। তারেক রহমান ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে থাকছেন। একই দিন তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত নাশতায় অংশ নেন এবং সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেন। সন্দেহজনক স্যুটকেসটি যে এলাকায় পাওয়া যায়, সেটি তার হোটেলের কাছাকাছি হলেও ঘটনাস্থলটি হোটেল ভবনের ভেতরে বা প্রবেশপথে ছিল না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হোটেলটি পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে, আর স্যুটকেসটি পাওয়া যায় পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হোটেলে হামলার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির সময় নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছিলেন। এ কারণে ম্যানহাটনের ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় বিভিন্ন সড়কে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তারেক রহমানও এ সফরে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তার প্রথম বক্তব্য হবে বলে বাংলাদেশি সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবারের স্যুটকেস ঘিরে নিরাপত্তা তৎপরতায় কোনো বিস্ফোরণ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশি পরীক্ষা শেষে বস্তুটি হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি একটি সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে, বোমা হামলা হিসেবে নয়।
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বাগত ফেস্টুন ছেঁড়া নিয়ে অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর আগে জ্যাকসন হাইটসের একটি সড়কের পাশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো একটি ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ফেস্টুনটি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ব্যানার বা ফেস্টুন না ছিঁড়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান। এর কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পৃথক অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিভিন্ন স্লোগানের মধ্যে ‘ডিসেম্বরে আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান শোনা যায়। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে দুই দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানসহ বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও শোনা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারেক রহমান সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাগত কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল। অন্যদিকে তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনও পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে তাঁর আগমনকে ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাজনৈতিক তৎপরতা কয়েক দিন ধরেই বাড়ছিল। জাতিসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে সামগ্রিকভাবেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কর্মসূচি ঘিরে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হতাহত বা গুরুতর সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর আগমন ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ডাইভারসিটি প্লাজায় ব্যানার-পোস্টার ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে এসব ব্যানার-পোস্টার লাগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি এবং দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ও ব্যানার দিয়েছেন। জ্যাকসন হাইটসের পাশাপাশি নিউইয়র্কের অন্যান্য বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাতেও তাঁর সফর ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর জন এফ কেনেডি বা জেএফকে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমন উপলক্ষে দলীয় প্রস্তুতি সভাও চলছে। ১৫ সেপ্টেম্বর জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির দক্ষিণ শাখার একটি কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এটি সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে তাঁর প্রথম বক্তব্য হবে। সফরটি সংক্ষিপ্ত করে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির পাশাপাশি ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোরও কর্মসূচির প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে জেএফকে বিমানবন্দর, জ্যাকসন হাইটস ও জাতিসংঘ সদর দপ্তর ঘিরে আগামী কয়েকদিন রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে। তবে নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে ঘিরে সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রস্তুতির চিত্র এখন জ্যাকসন হাইটসেই—বাংলাদেশি অধ্যুষিত এই এলাকায় তাঁর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে সামনে রেখে তাঁকে স্বাগত জানাতে ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ডের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ‘চল চল, নিউইয়র্ক চলো’ কর্মসূচির আওতায় গ্রেটার ওয়াশিংটন বিএনপির নেতা এজেএম হোসেনের নেতৃত্বে এসব প্রস্তুতি চলছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময়, গণসংযোগ ও প্রস্তুতি সভা করা হচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার স্প্রিংফিল্ডের কমফোর্ট ইন-এ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের গণসংবর্ধনা ও নিউইয়র্ক যাত্রার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া ও ম্যারিল্যান্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ডেরা রেস্টুরেন্টে আরেকটি আলোচনা ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮ সেপ্টেম্বর কাবাব কিং রেস্টুরেন্টে নেতাকর্মীদের নিয়ে আরও একটি মিলন ও গণসংযোগ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে উপস্থিত থাকার জন্যও নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর সফরে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং বাংলাদেশ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এজেএম হোসেন বলেন, ওয়াশিংটন বিএনপি অতীতের মতো বর্তমানেও দলীয় কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফর ঘিরে নিউইয়র্কে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি চললেও নাগরিক সংবর্ধনা নিয়ে গত কয়েক দিনে সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের খবর এসেছে। সরকারি অর্থে বড় পরিসরের সংবর্ধনা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানিয়েছেন। তবে প্রবাসী বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিজস্ব অর্থায়নে সীমিত পরিসরে আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সানফ্রান্সিসকো সফরও আপাতত বাতিল করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, সফরের বিস্তারিত সূচি এবং সফরসঙ্গীদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সানফ্রান্সিসকো সফর বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সংবর্ধনা নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রশ্নে। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে সরকারি অর্থে বড় পরিসরে নাগরিক সংবর্ধনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা নিজেদের অর্থায়নে সৌজন্য সাক্ষাৎ বা সংবর্ধনার আয়োজন করলে প্রধানমন্ত্রী তাতে অংশ নিতে পারেন, তবে আয়োজনটি সীমিত ও অনাড়ম্বর রাখার কথা রয়েছে। এর ফলে আগে নির্ধারিত ২৫ সেপ্টেম্বরের সংবর্ধনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে ওই দিন নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতির খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ৯ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনুষ্ঠানটির জন্য প্রস্তুতি, স্থান পরিদর্শন এবং অতিথি আমন্ত্রণের কথাও উঠে আসে। তবে ১৬ সেপ্টেম্বরের কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থে প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। আবার একই দিনে অন্য একটি প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের বরাতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের পরিবর্তে নিজেদের অর্থায়নে ২৫ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠান করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যায়, সরকারি অর্থে বড় পরিসরের সংবর্ধনা বাতিল বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত এসেছে; প্রবাসীদের নিজস্ব অর্থায়নে বিকল্প আয়োজন হবে কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। সংবর্ধনা বাতিলের কারণ নিয়ে স্থানীয় প্রবাসী সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে অর্থ সংগ্রহ, আয়োজনের নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নিয়ে অভিযোগের কথা এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য যাচাই পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যেও বিষয়টি একরকম নয়। তাই অর্থের বিনিময়ে প্রভাব বিস্তার বা কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে নেই। অন্যদিকে নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি অবশ্য অব্যাহত রয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রস্তুতি সভায় ২১ সেপ্টেম্বর জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলীয় প্রধানকে অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে স্বাগত সমাবেশ আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে। নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন ধরনের কর্মসূচির প্রস্তুতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে বিমানবন্দর এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এসব কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; এগুলোর বাস্তব অংশগ্রহণ বা পরবর্তী পরিস্থিতি এখনো যাচাইযোগ্য নয়। এদিকে সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিলের বিষয়টি এখন বেশ কয়েকটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রাথমিক সফর পরিকল্পনায় নিউইয়র্কের পর ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে অনুষ্ঠান এবং প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও তাঁর প্রেস সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, সময় ও রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির পক্ষ থেকেও সফর বাতিলের বিষয়টি স্বীকার করে বলা হয়েছে, তারা সানফ্রান্সিসকো সফরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে সফরসূচি পরিবর্তনের পর তারা নিউইয়র্কে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আগের কয়েক দিনের আলোচনায় থাকা ‘নিউইয়র্কের সংবর্ধনা বাতিল করে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিকল্প আয়োজন’ বিষয়টি এখন আর সেভাবে বলা যাচ্ছে না। বরং সর্বশেষ তথ্য হলো, সানফ্রান্সিসকো সফরই আপাতত বাতিল হয়েছে এবং নিউইয়র্কে সরকারি অর্থে বড় সংবর্ধনার পরিবর্তে প্রবাসীদের নিজস্ব অর্থায়নে সীমিত কোনো আয়োজন করা যায় কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। তারেক রহমানের এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ২ জুন ২০২৬ তাঁকে এ পদে নির্বাচিত করা হয়। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান যখন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন, তখন অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এতে অংশ নিয়ে নিজ নিজ দেশের অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক ইস্যু তুলে ধরবেন। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে এখন তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। প্রথমত, ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। দ্বিতীয়ত, সরকারি অর্থে নাগরিক সংবর্ধনা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর প্রবাসীদের নিজস্ব অর্থায়নে সীমিত আয়োজন হবে কি না। তৃতীয়ত, সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল হওয়ায় সফরের বাকি কর্মসূচি কীভাবে সাজানো হচ্ছে। নিউইয়র্কে দলীয় অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে নানা দাবি ও পাল্টা দাবির খবর প্রকাশিত হলেও সেগুলোর সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই নিশ্চিত তথ্যের সঙ্গে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বক্তব্য ও অভিযোগ আলাদা করে দেখাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে তথ্যনির্ভর পদ্ধতি। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সফরসূচি এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য প্রবাসী আয়োজন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন। ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশটির জনগণের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন তিনি। চিঠিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তিনি আশ্বস্ত করেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। এ বিষয়ে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত মনোযোগের কথাও তিনি মনে রাখবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আগের বোয়িং অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে নতুন করে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে বা চুক্তিটির মোট মূল্য কত, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। এর আগে এপ্রিল মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নের জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশ। ওই চুক্তির তালিকায় ছিল আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। চুক্তিটির তালিকামূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ চিঠি এবং বোয়িং কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের অর্থনৈতিক যোগাযোগও নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের সরাসরি সাক্ষাতের নির্দিষ্ট তারিখ বা স্থান এখনো জানানো হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘কালিমা তাইয়্যেবা’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা স্থাপন করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে সংসদ ভবনের দৃশ্যমান অবয়বে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে এমন একটি সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সংসদ ভবন স্থাপত্যগত ও ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা। এ কারণে কে এই স্থাপনার অনুমোদন দিয়েছেন, কোথায় কালিমা তাইয়্যেবা স্থাপন করা হচ্ছে, এটি স্থায়ী নাকি সাময়িক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন। কালিমা তাইয়্যেবা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ঘোষণা। এর অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে কালিমা তাইয়্যেবা স্থাপনের বিষয়টি এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একসঙ্গে আলোচনায় বসলে দুই দেশের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। রোববার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য একটি খেলার জায়গা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবান্ধব ব্যক্তি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জনবান্ধব। দুই দেশের দুই নেতা একসঙ্গে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব ব্যক্তি। দুই দেশের প্রধান একসঙ্গে হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার পুরো আত্মবিশ্বাস আছে।’ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, মানুষে মানুষে সম্পর্ক ভালো থাকলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথও তৈরি হয়। তিনি বলেন, ‘মানুষ এক আছে, সমাধান হবেই। কোনো নেতিবাচক বিষয় নেই, সব ইতিবাচক আছে।’ বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এই সম্পর্ক শুধু জনগণের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারি পর্যায়েও বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মানুষের এই সম্পর্ক সরকারি পর্যায়েও বজায় রাখতে হবে।’ বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার ব্যাপক চাহিদার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশে ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। একই সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের খরচ কমানো এবং ভিসা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আচরণ খুবই ভালো এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কও ভালো। এই ইতিবাচক সম্পর্ক ভবিষ্যতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়েও আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং জনগণের সম্পর্ককে সরকারি পর্যায়ের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়ক মতিউর রহমান লিটু, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তিনি দলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন নেতার সহযোগিতার স্মৃতিচারণ এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছেন। খোলা চিঠিতে মতিউর রহমান লিটু জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখার পর তারেক রহমানের নির্দেশে দলের কয়েকজন নেতা তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি আশিক ইসলাম, শামসুল আলম, মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, শিমুল বিশ্বাস সহ বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতার সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। চিঠিতে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতি তার ভালোবাসা শৈশব থেকেই। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দলটির সঙ্গে তার আবেগ ও আদর্শিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে কয়েকটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোটের রায়’ গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে। চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপিকে জুলাই আন্দোলনের বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তেরও আহ্বান জানান তিনি। চিঠির শেষাংশে মতিউর রহমান লিটু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত। এ বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিচে Motiur Rahman Litu 'র লিখা #চিঠি দেয়া হলোঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি খোলা চিঠি, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও একটি অনুরোধ; -মতিউর রহমান লিটু সালাম নিবেন, আশাকরি আপনি ভালো আছেন। আজ কয়েকটি কথা বলার জন্য একটি খোলা চিঠি লিখছি। শহীদ জিয়াকে নিয়ে ১৭বছর আগে আনাড়ি হাতে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলাম, ইউটিউবে সেটা দেখে আপনি আপনার তৎকালীন মুখপাত্র আশিক ইসলামকে বলেছিলেন আমাকে সহযোগিতা করার জন্য। হ্যা, তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, ম্যাডামের সাবেক এপিএস শামসুল আলম ভাই নিজের মতো করেই আমাকে গড়ে তুলেছেন। রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী আপন ভাইয়ের মতো করেই বিএনপিতে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এরপরে শতাধিক সিনিয়র নেতারা আমাকে সর্বদিক দিয়ে, সব সময় সহযোগিতা করেছেন। ম্যাডামের “Mother of democracy" উপাদি প্রাপ্তির পরে গুলশান অফিসে শিমুল বিশ্বাস ভাইয়ের দেয়া বৈঠকে সাবেক উপ রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহম্মেদ সাহেব বুকে জড়িয়ে অলমোস্ট কেঁদে দিয়েছিলেন। গুলশান অফিসের দ্বিতীয় তলায় শিমুল ভাইয়ের সেই বৈঠকে প্রায় ৩০জনের মতো সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আমি একজন সাধারণ বাবার সন্তান হয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু কোনোদিন আশাকরিনি। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর দিন আমার বাবার চিৎকার দিয়ে কান্নার স্মৃতি থেকে বিএনপির প্রতি আমার মায়া, ভালোবাসা জন্ম হয়েছে। সেই থেকেই বিএনপি করি। বেড়ে ওঠার সাথে সাথে রক্ত মাংস মজ্জায় একটি মাত্র দল মিশে আছে সেটি হলো বিএনপি আর দেশনেত্রী বেগম জিয়ার স্মৃতি। তাই মৃত্যুর আগে পর্যন্ত হয়তো ভুলতে পারবোনা এই দলের ভালোবাসা। যদিও পরিবারের প্রায় সকল সদস্য বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপির জন্য অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেসব কথা আজ বলতে চাইনা। আজ জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলতে চাই- আপনি শহীদ জিয়ার সন্তান, আপনার জন্য জীবন দিতেও কুন্ঠাবোধ করবোনা। সব সময় আপনার ভালো চাই এবং চাইবো। হাসিনাকে হটানোর জন্য আমরা ১৬বছর আন্দোলন করেছি কিন্তু শেষের একমাসে নিষ্পাপ তরুণ ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসায় হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। যেই আন্দোলনটাকে আমরা জুলাই আন্দোলন হিসাবে চিনি, যেই আন্দোলনের জন্য দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জাতি মুক্তির স্বাধ গ্রহণ করেছে। দেশের মানুষ আপনাকে ভালোবাসে- সেই ভালোবাসাটুকু যেন সারাজীবন টিকে থাকে, বিএনপি যেন দীর্ঘদিন বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সেজন্য আপনাকে একটা বিশেষ অনুরোধ করতে চাই- কে কি পরামর্শ দিলো সেদিকে না তাকিয়ে এক বাক্যে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মেনে নেয়ার ঘোষণা দিন। এরপরে বিরোধীদলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বসুন, সংসদে যেহেতু দুই তৃতীয়াংশ আছে, দেশ চালানোর মতো করে সংবিধানকে সাজিয়ে নিন। দেখবেন বর্তমান বিরোধীদল আপনাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছে। কারণ, সবার কিন্তু একটাই লক্ষ্য হাসিনার মতো একটা খুনি যেন কোনোদিন ফিরতে না পারে! আর কিছুনা। বিরোধীদলের জীবনে যে সাফল্য এখন আছে সেটা তাদের জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য, তারাও সেটা হারাতে চাইবেননা। জুলাই বিষয়ে দূরত্বটা মীমাংসিত হলে বাংলাদেশটা হতে পারে সৌহার্দপূর্ণ একটি দেশ। যেখানে আমরা সুখে শান্তিতে সবাই বসবাস করতে পারবো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনাকে যারা জুলাই এর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে তারা কোনোভাবেই বিএনপির ভালো চাইতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করিনা। আমার সন্দেহ তাঁরা হয়তো ভারতের উদ্দেশ্য কার্যকর করতে এমন খেলা খেলছে। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সেটাই এখন খুঁজে বের করা দরকার! আমার চিঠিটি আপনার দৃষ্টিগোচর হবে বলে আমি আশাকরি। ভুল বোঝেন, রাগ করেন আর অভিমান করেন যেভাবেই গ্রহণ করেন- “জুলাই সনদ ও গণভোট” নিয়ে অন্তত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটাকে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। এছাড়া জুলাই বিষয়ে একটা সমাধান হলে- তরুণ একটা প্রজন্ম তৈরী হয়েছে যারা আপনার দূরদর্শিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে আরো বেশী সচল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। (উল্লেখ্যঃ আমার লেখা এই খোলা চিঠিতে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতা কিংবা অন্যকোন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ইনফ্লুয়েন্স নেই! সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিমত! তাই এই চিঠির জন্য আমার কোন শুভাকাংখীর ব্যাপারে ভুল ধারণা পোষণ করবেননা, অনুরোধ রইলো)
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। সফরকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে দুই দিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর সেখান থেকেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে। পুরো সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হতে পারে বলে জানা গেছে। এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এতে প্রায় চার দশক পর একই সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের একজন সরকারপ্রধান এবং একজন বাংলাদেশি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরসূচি, সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে প্রস্তুতি চলছে। তবে সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নিউইয়র্কে বড় পরিসরে একটি নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দলটির নেতারা ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল প্রস্তুতি সভা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর নিউইয়র্কে সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন তারেক রহমান। ওই সফরে বাণিজ্য, জনশক্তি, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগে আপাতত অন্য কোনো বিদেশ সফরের পরিকল্পনা নেই প্রধানমন্ত্রীর।
আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে এবং তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত এই জোট বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোটটির সদস্যসংখ্যা সম্প্রসারিত হয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এর গুরুত্ব বেড়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য নয়। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও উন্নয়ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণকে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে ভারতে চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং দেশটিতে থাকা বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় দেখতে চায়। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আশা করে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত তার জনগণের অবস্থান বিবেচনা করবে এবং চলমান সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।