- প্রচ্ছদ
- Topic
পাসপোর্ট
নিউ জার্সির প্যাটারসনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ কনস্যুলেট সেবা আয়োজন করতে যাচ্ছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার নিউ জার্সির প্যাটারসনে এ সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত প্রচারপত্র অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (এনআইডি) বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি পাসপোর্ট পুনঃইস্যু, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ এবং জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ৩১ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জন এফ কেনেডি হাইস্কুলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানস্থলের ঠিকানা ৬১–১২৭ প্রিকনেস অ্যাভিনিউ, প্যাটারসন, নিউ জার্সি ০৭৫০২। প্রচারপত্রে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা গ্রহণের সুযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা পেতে যেভাবে নিবন্ধন করবেন প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা নিতে আগ্রহীদের প্রথমে বাসায় বসে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধন শেষ হলে নিবন্ধন নম্বরের স্ক্রিনশট হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এ জন্য যোগাযোগের নম্বর হিসেবে দেওয়া হয়েছে +১ (৯১৭) ৩৬২-২৪৪২। প্রচারপত্রে নিবন্ধনের নম্বর পাঠানোর শেষ সময় হিসেবে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত কোনো নথি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন নম্বর না পাঠালে ওই ক্যাম্পে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে প্রচারপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাই আগ্রহীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার ফি ও সময়সীমা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার প্রকাশিত প্রচারপত্রে বিভিন্ন সেবার জন্য যে ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো। ১. ভিসা ছাড়া প্রবেশের সনদ (এনভিআর): ফি ৮৮ ডলার। প্রচারপত্রে একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২. যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট পুনঃইস্যু—সাধারণ: ফি ১১০ ডলার। প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক ৩৫ কর্মদিবস লাগতে পারে। ৩. যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট পুনঃইস্যু—জরুরি: ফি ২২০ ডলার। প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক ২০ কর্মদিবসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৪. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন—সাধারণ: ফি ৪৪ ডলার। প্রচারপত্রে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকরণের কথা বলা হয়েছে; নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। ৫. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন—জরুরি: ফি ৮২ ডলার ৫০ সেন্ট। একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৬. দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ (ডিএনসি): ফি ৭৭ ডলার। প্রচারপত্রে প্রক্রিয়াকরণের সময় উল্লেখ করা হয়নি। ৭. জন্মনিবন্ধন: ফি ২ ডলার। একই দিনে সেবা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখিত ফি ও সময়সীমা আয়োজকদের প্রচারপত্রে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ফি বা নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত সময়সীমা কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা প্রচারপত্রে আরও জানানো হয়েছে, সেবা গ্রহণকারীদের জন্য ফটোকপি, মানি অর্ডার এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে। তবে কোন সেবার জন্য কোন ধরনের অর্থ পরিশোধ গ্রহণ করা হবে, তা আয়োজকদের কাছ থেকে আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। আয়োজক ও যোগাযোগ এই বিশেষ কনস্যুলেট সেবা কার্যক্রমের আয়োজক হিসেবে রয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক। প্রচারপত্রে সার্বিক সহযোগিতায় নিউ জার্সির প্যাটারসনের দ্বিতীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেবা ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রচারপত্রে যোগাযোগের নম্বর হিসেবে (৯১৭) ৩৬২-২৪৪২ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনের সভাপতি বদরুল খান-এর নম্বর (৬৪৬) ৮২৪-৮৮১৪ উল্লেখ রয়েছে। প্রবাসে বসবাস করেও বাংলাদেশের পরিচয় ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তাই নির্ধারিত তারিখে সেবা নিতে আগ্রহীদের আগাম নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও পাসপোর্ট, কাজের অনুমতিপত্র, পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শ্রেণিগত মামলা করেছেন সাতজন। তাঁদের অভিযোগ, আটকাবস্থা শেষ হওয়ার পরও সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন নথি ও ব্যক্তিগত সম্পদ নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছে। এর ফলে অনেকে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন, গাড়ি চালাতে পারছেন না এবং পরিবারের খরচ মেটাতেও সমস্যায় পড়ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র না থাকায় বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদীরা অভিযোগ করেছেন, আইস এমন একটি কার্যত দেশব্যাপী নীতি অনুসরণ করছে, যার আওতায় সম্পদ আটকে রাখার বৈধ কারণ না থাকলেও মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জিনিসপত্র ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা আদালতের কাছে দেশব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শ্রেণি গঠনের স্বীকৃতি, আটকে রাখা সম্পদ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এবং আটক ব্যক্তিদের জিনিসপত্র সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ফেডারেল প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আইসের নিজস্ব নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। মামলার নথি অনুযায়ী, সাত বাদীর প্রত্যেকেই মুক্তির সময় তাঁদের কিছু না কিছু সম্পদ ফেরত পাননি। আটকে রাখা জিনিসের মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মুঠোফোন, গাড়ির চাবি, নগদ অর্থ, পোশাক এবং একজনের ক্ষেত্রে বিয়ের আংটি। অভিযোগ দায়েরের সময় প্রত্যেক বাদী অন্তত পাঁচ মাস ধরে আইসের হেফাজতের বাইরে থাকলেও তাঁদের কিছু সম্পদ ফেরত পাননি। বাদীদের দাবি, নথি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আটকে রাখার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান ও অভিবাসনবিরোধী কার্যক্রমের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আটক কার্যক্রমের পরিসরও বেড়েছে। মার্শাল প্রজেক্টের প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আগস্ট পর্যন্ত আইস ছয় লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল। বহিষ্কারসংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের ওপর ভিত্তি করে করা ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তির পর নথি ও ব্যক্তিগত সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও আটক ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। মামলার অন্যতম বাদী ভ্লাদিমির ইজমাইলভ ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া রুশ নাগরিক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁকে আইস আটক করে এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে মুক্তি দেয়। তবে তাঁর মুঠোফোন ফেরত দেওয়া হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, মানিব্যাগ, বেল্ট ও বিয়ের আংটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইজমাইলভ তাঁর জিনিসপত্র ফেরত চেয়ে যোগাযোগ করলে প্রথমে তাঁকে জানানো হয়েছিল, নথিগুলো আইসের এক কর্মকর্তার কাছে ডাকযোগে পাঠানো হবে। পরে তাঁর নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাজিরা কর্মসূচির কর্মকর্তা জানান, আইসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিনিসপত্রগুলো সম্ভবত ধ্বংস করা হয়েছে। নিউজউইককে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইজমাইলভ বলেন, তাঁর জিনিসপত্র ফেরত না পাওয়ায় আটক থাকার অভিজ্ঞতা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আটক অবস্থায় কয়েক মাস তাঁকে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা ছাড়াই থাকতে হয়েছিল। মুক্তির পরও কাজের অনুমতিপত্র না থাকায় পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাড়া পরিশোধের জন্য অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করতে হচ্ছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ফেরত না পাওয়ায় তিনি গাড়ি চালাতে পারছেন না এবং কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন লাইসেন্স পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তাঁর দাবি। আরেক বাদী এনিস সুলেইমা লুনা আরদিলা কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত অভিবাসন-সংক্রান্ত সাক্ষাতে উপস্থিত হওয়ার পর আইস তাঁকে আটক করে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি দেয়। তবে তাঁর অঙ্গরাজ্য-প্রদত্ত পরিচয়পত্র, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, কলম্বিয়ার পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং পারমিট ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নথি না থাকায় তিনি প্রায় পাঁচটি চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেননি। এর মধ্যে এমন একটি চাকরিও ছিল, যেখানে তাঁর বর্তমান মজুরির দ্বিগুণ বেতন এবং আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, তাঁর কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র বা ইএডি (এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট) ইস্যু করে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা। যোগ্য অভিবাসীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইনগতভাবে কাজ করার অনুমতি দেয় এই কার্ড। ফলে এ ধরনের নথি হারানো বা ফেরত না পাওয়া অনেকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মামলার বাদীদের বক্তব্য, বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নথি হাতে না থাকায় তাঁরা চাকরি গ্রহণ, পরিচয় যাচাই এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যার মুখে পড়ছেন। মামলার আরেক বাদী রোলান্ডো রামিরেজ ফুয়েন্তেস শৈশবে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তাঁর বয়স এখন ৪৬ বছর বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত এপ্রিলে আইসের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁর সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও ফ্লোরিডার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফেরত দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় কাজ খুঁজতে অসুবিধা হয়েছে এবং আয় করতে না পারায় হৃদ্রোগের চিকিৎসা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, বাসস্থানের খরচ বহন করতে না পেরে তিনি এখন গৃহহীন। ডোমিঙ্গো তত কুইপ নামের গুয়াতেমালার আরেক নাগরিক পোর্টল্যান্ড, মেইনে বাসন ধোয়ার কাজ করতেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইস তাঁকে আটক করে এবং অপসারণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ফেডারেল আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও গুয়াতেমালায় পাঠিয়ে দেয়। পরে আগস্টে তাঁকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর কাছে থাকা নগদ অর্থের বড় একটি অংশ, ব্যাকপ্যাক, ফোনের চার্জার, হেডফোন ও পোশাকের অনেক কিছু এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বাদীদের আইনজীবীরা বলেছেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত সম্পদ অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার আইসের নেই। ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাইকেল পারলফ বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যাতে যথেচ্ছভাবে মানুষের সম্পদ নিয়ে রাখতে না পারেন, সে জন্যই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্ল্যাটকিন এলএলপির অংশীদার ম্যাট প্ল্যাটকিনও বলেন, কাউকে আটক থেকে মুক্তি দেওয়ার পর তাঁর স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নথি আটকে রাখা উচিত নয়। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, অভিবাসন আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে কিছু সম্পদ সাময়িকভাবে আটকে রাখার যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু সেই প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে এবং নতুন কোনো বৈধ কারণ তৈরি না হলে সম্পদ ফেরত দেওয়া সংবিধানসম্মত বাধ্যবাধকতা। আইসের নিজস্ব নির্দেশনায়ও কোনো নথি আটকে রাখার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক প্রয়োজন দেখানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে যাঁদের নথি জব্দ করা হয়, তাঁদের প্রত্যয়িত অনুলিপি দেওয়ার বিধান রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাত বাদীর কেউই এমন অনুলিপি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বাদীরা ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে আটক হওয়া এমন ব্যক্তিদের নিয়ে দেশব্যাপী একটি শ্রেণি গঠনের আবেদন করেছেন, যাঁদের মুক্তির পরও বৈধ কারণ ছাড়াই আইস তাঁদের সম্পদ ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁরা দুটি পৃথক উপশ্রেণি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন। একটি সরকারি পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি ফেরত না পাওয়াদের জন্য, অন্যটি ব্যক্তিগত সম্পদ আটকে রাখার শিকার ব্যক্তিদের জন্য। আদালতের কাছে তাঁরা কথিত নীতিকে বেআইনি ঘোষণা, বৈধ ভিত্তি ছাড়া আটকে রাখা জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এবং সম্পদ সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর আবেদন জানিয়েছেন। আইস ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে নিউজউইকের প্রশ্নের জবাব দেয়নি বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সূত্র: নিউজউইক, ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (মামলার নথি)
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করার সুযোগ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২০২৭ সালে এই সেবা শুরু এবং বছরের শেষ নাগাদ অধিকাংশ মার্কিন নাগরিককে অনলাইনে পাসপোর্ট ও পাসপোর্ট কার্ডের আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের জন্য নতুন নকশার পাসপোর্টও দেখিয়েছেন তিনি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগসংক্রান্ত অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ঘরে বসেই আবেদন, ছবি আপলোড ও ফি পরিশোধ করা যাবে। বর্তমানে প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্কদের মার্কিন পাসপোর্টের আবেদন করতে অনুমোদিত আবেদন গ্রহণকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে হয়। আবেদনপত্র পূরণ করে প্রিন্ট করা, নাগরিকত্বের প্রমাণ ও পরিচয়পত্র জমা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সামনে আবেদনপত্রে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া রয়েছে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নিয়মই কার্যকর থাকছে। রুবিওর দেখানো অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়ায় সরকারি অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর আবেদনকারীর আগে থেকে সংরক্ষিত কিছু তথ্য ব্যবহার করা যাবে। ফোনে ছবি তুলে কিংবা ডিভাইস থেকে ছবি আপলোড করে অনলাইনে ফি পরিশোধের ব্যবস্থাও থাকবে। আবেদনের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য ডেলিভারির সময় দেখানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। পাসপোর্টের নতুন নকশায় প্রচ্ছদের ঈগল ও জাতীয় প্রতীক আরও বড় এবং স্পষ্টভাবে রাখা হচ্ছে। ভেতরের পাতায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ন্যাশনাল ডিজাইন স্টুডিও যৌথভাবে এই নকশা তৈরি করেছে বলে জানান রুবিও। এদিকে যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের সুবিধা ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স অন্তত ২৫ বছর হতে হবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার সময় তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য বা ভূখণ্ডে অবস্থান করতে হবে। নবায়নের জন্য আগের পাসপোর্টটি ১০ বছর মেয়াদি হতে হবে। সেটির মেয়াদ শেষ হতে এক বছর বা কম বাকি থাকতে হবে, অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাঁচ বছরের কম সময় পার হতে হবে। নামসহ ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন করতে চাইলে কিংবা পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই অনলাইন সুবিধা ব্যবহার করা যায় না। অনলাইন নবায়নে দ্রুত সেবা নেওয়ার সুযোগ নেই। আবেদন জমা দেওয়ার পর অন্তত ছয় সপ্তাহ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিকল্পনা না থাকার শর্তও রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নবায়নের আবেদন জমা হলে আগের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়, ফলে সেটি দিয়ে আর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করা যায় না।
কানাডায় পাসপোর্ট ও নির্দিষ্ট সরকারি পরিচয়পত্রের ছবিতে ধর্মীয় কারণে হিজাব বা হেডস্কার্ফ পরে ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। দেশটির সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখেন এমন ব্যক্তিদের পাসপোর্টের ছবির জন্য হিজাব খুলতে হয় না। তবে ছবিতে পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যেতে হবে এবং পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকা চলবে না। কানাডা সরকারের প্রকাশিত পাসপোর্ট ছবির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা চিকিৎসাগত কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখার পোশাক পরা গ্রহণযোগ্য। তবে মাথার পোশাক যেন মুখের ওপর কোনো ছায়া তৈরি না করে এবং ব্যক্তির মুখের স্বাভাবিক গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, হিজাব পরা অবস্থায় ছবি তোলার সময় চোখ, নাক, মুখ, চিবুক এবং মুখের দুই পাশ পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে। হিজাব বা স্কার্ফ এমনভাবে পরতে হবে, যাতে মুখের কোনো অংশ আড়াল না হয়। বিশেষ করে চোখ খোলা রাখা, সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকানো এবং স্বাভাবিক মুখভঙ্গি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কানাডার পাসপোর্ট ছবির ক্ষেত্রে আরও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ছবির মাপ হতে হবে ৫০ মিলিমিটার চওড়া এবং ৭০ মিলিমিটার লম্বা। চিবুক থেকে মাথার স্বাভাবিক ওপরের অংশ পর্যন্ত উচ্চতা থাকতে হবে ৩১ থেকে ৩৬ মিলিমিটারের মধ্যে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা অথবা হালকা রঙের হতে হবে। পাশাপাশি মুখে বা ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত আলো, ছায়া কিংবা আলোর প্রতিফলন থাকা যাবে না। ছবিতে আবেদনকারীর মুখ ও কাঁধ ক্যামেরার দিকে সোজা রাখতে হবে। হাসি বা ভ্রু কুঁচকানো ছাড়া স্বাভাবিক মুখভঙ্গিতে ছবি তুলতে হবে। চোখ খোলা এবং মুখ বন্ধ রাখতে হবে। কানাডার পাসপোর্টের জন্য জমা দেওয়া ছবি আবেদন করার আগের ছয় মাসের মধ্যে তোলা হতে হবে, যাতে আবেদনকারীর বর্তমান চেহারার সঙ্গে ছবির মিল থাকে। সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ টুপি কিংবা মাথা ঢাকার অন্যান্য পোশাক পাসপোর্টের ছবিতে গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ ধর্মীয় কারণে হিজাব পরার সুযোগ থাকলেও শুধু ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরার ক্ষেত্রে একই ছাড় প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া কানাডার পাসপোর্ট আবেদনে জমা দেওয়া ছবি অবশ্যই আসল ও অপরিবর্তিত হতে হবে। ছবি তোলার পর ফিল্টার ব্যবহার, মুখের গঠন পরিবর্তন কিংবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি সংশোধন করা যাবে না। এমনকি ছবি আরও সুন্দর করার জন্য ডিজিটাল এডিট করলেও তা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে পেশাদার ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে ছবি তোলার নির্দেশনা রয়েছে। শুধু পাসপোর্ট নয়, কানাডার পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা পিআর কার্ডের ছবির ক্ষেত্রেও ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার অনুমতি রয়েছে। তবে সেখানেও মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট থাকতে হবে। বিশেষ করে সাদা রঙের হিজাব বা হেডস্কার্ফ সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে মিশে গেলে ছবি গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। তাই পোশাক ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে পর্যাপ্ত পার্থক্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কানাডায় ইমিগ্রেশন আবেদনের জন্য বায়োমেট্রিক ছবি তোলার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার তথ্য অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক ছবি তোলার সময় পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে। ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে মুখ ঢেকে রাখেন এমন আবেদনকারীরা প্রয়োজনে একই লিঙ্গের কর্মীর মাধ্যমে ছবি তোলার অনুরোধ করতে পারেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য পর্দার ব্যবস্থাও চাইতে পারেন। তবে কানাডার সব ধরনের সরকারি পরিচয়পত্রের জন্য একটিমাত্র নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ড্রাইভার লাইসেন্স এবং প্রদেশভিত্তিক অন্যান্য আইডি কার্ডের ছবির শর্ত সংশ্লিষ্ট প্রদেশ বা কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই কোনো পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলার আগে সেই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। কানাডা সরকারের এসব নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা। ফলে হিজাব পরা কোনো নারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে হিজাব না খুলেই কানাডিয়ান পাসপোর্টের জন্য ছবি জমা দিতে পারবেন। উল্লেখ্য, এটি কানাডায় নতুন করে ঘোষণা করা কোনো সুবিধা নয়। ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরে পাসপোর্টের ছবি তোলার সুযোগ দেশটির বিদ্যমান সরকারি নিয়মেরই অংশ।
বহু প্রতীক্ষিত বিদেশ ভ্রমণের আগে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও কেবল পাসপোর্টের একটি ছোট ভুলের কারণে ভেস্তে যেতে পারে আপনার পুরো পরিকল্পনা। অনেকেই মনে করেন, মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট পুরোপুরি বৈধ। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কখনো পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করেন এবং পরবর্তীতে সেটি খুঁজেও পান, তবুও সেই পাসপোর্ট দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। আইভিসা-এর কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স ডিরেক্টর ভিক্টর জিমেনেজ জানান, একবার সিস্টেমে হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করা হলে পাসপোর্টটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যায়। তাই আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বৈধ মনে হওয়া পাসপোর্টও বিমানবন্দরে বা ইমিগ্রেশনে বড় ধরনের বিপত্তির কারণ হতে পারে। পাসপোর্টের মেয়াদের ক্ষেত্রে একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ ফেরার সম্ভাব্য তারিখের পর অন্তত তিন মাস থাকতে হয় এবং পাসপোর্টটি অবশ্যই গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যুকৃত হতে হয়। আবার অনেক দেশ পৌঁছানোর পর থেকে পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ দাবি করে। শুধু মেয়াদই নয়, পাসপোর্টের ফাঁকা পাতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন বা ভারতের মতো দেশগুলো ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পের জন্য অন্তত দুটি ফাঁকা পাতা দাবি করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে আবার নিয়ম আরেকটু কড়া; সেখানে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে পরপর দুটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পাতা থাকা বাধ্যতামূলক। তাই ভ্রমণের আগে গন্তব্য দেশের এই ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও অনেক সময় অভিভাবকরা ভুল করে থাকেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশেই শিশুদের পাসপোর্টের মেয়াদ প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ১০ বছর হয় না, বরং তা ৫ বছর হয়ে থাকে। তাই শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের আগে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করার পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন বা আইনি সম্পর্কের প্রমাণপত্র সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, এমনকি পদবি এক হলেও। অন্যদিকে, নববিবাহিতদের ক্ষেত্রে প্রায়ই নাম বিভ্রাটের সমস্যা দেখা যায়। অনেকেই বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করলেও পাসপোর্টে তা আপডেট করতে ভুলে যান এবং নতুন নামে ফ্লাইটের টিকিট বুক করেন। পাসপোর্ট ও টিকিটের নামের এই অমিলের কারণে বিমানবন্দরে বোর্ডিং থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। পাসপোর্টের বাহ্যিক অবস্থাও আপনার ভ্রমণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পানি লেগে নষ্ট হওয়া, ল্যামিনেশন উঠে যাওয়া, পাতা আটকে থাকা বা ছিঁড়ে যাওয়াকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। পাসপোর্টের বায়োগ্রাফিক্যাল পাতায় (যেখানে ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য থাকে) কোনো ধরনের অননুমোদিত দাগ, স্টিকার বা শিশুদের আঁকিবুঁকি থাকলে সেটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। তবে স্বাভাবিক ব্যবহারের কারণে মলাটে সামান্য দাগ পড়লে বা পাতা কিছুটা বাঁকা হলে সাধারণত সমস্যা হয় না। মূল বিষয় হলো, পাসপোর্টের তথ্যগুলো যাতে মেশিন রিডেবল বা স্ক্যান করার মতো অবস্থায় থাকে। অনেক গন্তব্যস্থল ‘ভিসা-মুক্ত’ হলেও এর অর্থ এই নয় যে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে যাওয়া যাবে। যুক্তরাজ্য বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে ভিসা না লাগলেও যাত্রার আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, আপনি যদি নতুন পাসপোর্ট তৈরি করেন, তবে পুরোনো পাসপোর্টের ইটিএ বা কিছু ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুনটিতে স্থানান্তরিত হয় না। কারণ, নতুন পাসপোর্টের নম্বর ভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে অনেক দেশ পুরোনো ও নতুন দুটি পাসপোর্টই সাথে রাখার পরামর্শ দেয়, আবার কিছু দেশ নতুন করে ইটিএ বা ভিসার আবেদন করতে বলে। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের নিয়মকানুন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ফ্লাইট বুকিংয়ের আগে এবং ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে গন্তব্য দেশের সরকারি ওয়েবসাইট ও এয়ারলাইন্সের নিয়মাবলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকলেও কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয় না। তুর্কমেনিস্তানের এক নারীকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় করা আবেদন খারিজ করে ৩০ সেপ্টেম্বর এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি অমিত মহাজন। আদালত বলেছেন, ভিসা দেওয়া এবং সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া পৃথক সিদ্ধান্ত। মামলার নথি অনুযায়ী, ওই নারী গত ২৫ মার্চ স্বামীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দুজনেরই একই ধরনের ব্যবসায়িক ভিসা ছিল। অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁর স্বামীকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাঁকে দেননি। সেদিনই তাঁকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর ওই নারী আদালতে আবেদন করে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো এবং তাঁর ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে ভারতে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ চান। তাঁর যুক্তি ছিল, বৈধ ভ্রমণ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়েছে; অথচ একই ফ্লাইটে আসা তাঁর স্বামী প্রবেশ করতে পেরেছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আদালতে জানায়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়ার পর অভিবাসন বিভাগ তাঁকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই নারী ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন। বেশির ভাগ সফরের মেয়াদ ছিল এক থেকে তিন দিন; তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা ভিসা ব্যবহার করেছিলেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, উপস্থাপিত নথিতে ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসংগতি ছিল। ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসার কথা বললেও তিনি ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা আমন্ত্রণপত্র দেখাতে পারেননি এবং নিজ দেশে তাঁর ব্যবসা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি। ব্যবসায়িক ভিসা নেওয়ার পরও একটি নথিতে নিজেকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এসব বিষয় আদালত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সময় বিবেচনা করেছে। বিচারপতি মহাজন বলেছেন, ভারতের অভিবাসন আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকের জন্য বৈধ ভ্রমণ নথি ও ভিসা প্রয়োজন। কিন্তু সেগুলো থাকলেই প্রবেশের নিঃশর্ত অধিকার তৈরি হয় না। জাতীয় নিরাপত্তা, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জনস্বাস্থ্যের মতো নির্দিষ্ট বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ প্রবেশে বাধা দিতে পারে। বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারাও ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারেন। স্বামীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হলেও স্ত্রীকে ফেরানোর সিদ্ধান্তকে বৈষম্য হিসেবে মানেননি আদালত। আদেশে বলা হয়, দুজন একই ফ্লাইটে এসেছেন বলেই তাঁদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একই তথ্য বা উদ্বেগ ছিল, এমন ধরে নেওয়া যায় না। আদালত গোপনীয়ভাবে জমা দেওয়া নথিও পর্যালোচনা করেছে এবং সিদ্ধান্তটি তথ্য ছাড়া নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেনি। ফলে আবেদনটি খারিজ করা হয়। সূত্র: দিল্লি হাইকোর্টের ৩০ সেপ্টেম্বরের আদেশ ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসছে। ২০২৭ সাল থেকে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ঘরে বসেই প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এ জন্য অনলাইনভিত্তিক নতুন একটি এআই সেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন সরকারি ওয়েবসাইট America.gov উদ্বোধনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাসপোর্ট সেবাকে আরও সহজ ও আধুনিক করার এই পরিকল্পনার কথা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের বর্তমান আবেদন প্রক্রিয়ার তুলনায় আরও সুবিধাজনকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নতুন ব্যবস্থাটির একটি প্রদর্শনীও দেখানো হয়। সেখানে একজন ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটের সার্চ বক্সে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম জানতে চাইলে প্ল্যাটফর্মটি প্রয়োজনীয় ধাপ, কী কী নথি লাগবে এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়। পরিকল্পিত পাসপোর্ট সেবায় আবেদনকারীদের জন্য আরও কিছু ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে নিজের ছবি তোলার প্রক্রিয়া এবং পাসপোর্টে ছবিটি কেমন দেখাবে, তার নমুনা দেখার সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি অনলাইনে পাসপোর্টের ফি পরিশোধের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে America.gov উদ্বোধন করেন। সরকারি এই প্ল্যাটফর্মটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি তথ্য ও সেবা সম্পর্কে সাধারণ ভাষায় প্রশ্নের উত্তর এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটিতে সরকারি ফরম পূরণ, বিভিন্ন সেবার জন্য আবেদন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণের মতো সুবিধাও যুক্ত করা হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্ক পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অনুমোদিত পাসপোর্ট গ্রহণকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে হয়। সেখানে নাগরিকত্বের প্রমাণ, পরিচয়পত্র, ছবি এবং নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী নাগরিকদের জন্য অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের সুবিধা ইতোমধ্যেই রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার বিশেষত্ব হলো, প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদনকারীদেরও অনলাইন প্রক্রিয়ার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনকারীদের বর্তমান সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে আসতে পারে। তবে পুরো সেবাটি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং কারা এর আওতায় থাকবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত চূড়ান্ত নির্দেশনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পাসপোর্ট হারানো, চুরি হওয়া কিংবা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় পুনঃইস্যুর নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো জরিমানা দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা গত ২১ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশনা জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও ‘হারানো/চুরি/বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত’ নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে শুধু জরিমানাই নয়, হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য জানানোর প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার পর দ্রুত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হবে। জিডি করার পর সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এর সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। তবে ওই সময়ের মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন না পৌঁছালে আবেদনকারী জিডির কপি সংযুক্ত করেই পুনঃইস্যুর আবেদন করতে পারবেন। এরপর পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। সরকার বলছে, পাসপোর্ট অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ দলিল। হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করার পর সেটি বাতিল বা ‘রিভোক’ করা হলে পরে খুঁজে পাওয়া গেলেও সেটি আর সক্রিয় করা যাবে না। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণও করা যাবে না। পরে পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে থানার পাশাপাশি নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে। হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে এর ডেটা পেজে আগের পাসপোর্ট হারানোর তথ্য উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডেটাবেজে পুরোনো পাসপোর্টের অবস্থা ‘হারানো’ বা ‘বাতিল’ হিসেবে হালনাগাদ করা হবে। পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ এবং বাবা-মায়ের নামের মতো মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করা যাবে না। তবে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী বৈধ সংশোধনের সুযোগ আলাদাভাবে বিবেচিত হবে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও নিয়ম প্রযোজ্য। বিদেশে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন প্রয়োজনীয় ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ থাকলে সেটি জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে এবং শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করতে হবে। ফলে নতুন নিয়মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হচ্ছে—প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা নেই; দ্বিতীয়বার এবং এরপর প্রতিবার ঘটলে নির্ধারিত পুনঃইস্যু ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দিতে হবে।
ভ্রমণের আগমুহূর্তে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানতে পারলে যে কারও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার কথা। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক নাগরিকের ক্ষেত্রে ঘটল সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে মাত্র আট মিনিটে নিজের পাসপোর্ট নবায়ন করে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন তিনি। আমিরাতি কর্তৃপক্ষের এমন অভাবনীয় ও দ্রুতগতির সেবার একটি ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে ওই ব্যক্তি জানান, পরিকল্পিত ভ্রমণের মাত্র এক দিন আগে তিনি খেয়াল করেন তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক মাস বাকি। অথচ তার গন্তব্যের নিয়মানুযায়ী, ভ্রমণের তারিখের পর অন্তত ছয় মাস পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। এই অবস্থায় দ্রুততম সমাধানের খোঁজে তাকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাসপোর্ট নবায়ন সেবা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি ভেবেছিলেন এতে অন্তত ১০ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র আট মিনিটেই সম্পন্ন হয়ে যায়! ভিডিওতে তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, "আমাকে বলা হয়েছিল দুবাই বিমানবন্দরের চেয়ে দ্রুত আর কিছু নেই এবং এতে ১০ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু আমি অবাক হয়ে দেখলাম, ১০ মিনিটও নয়, বরং আট মিনিটেই কাজ শেষ।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট সেবার সাথে এর তুলনা করে নানা মন্তব্য করছেন। একজন নাইজেরিয়ান ব্যবহারকারী আক্ষেপ করে লেখেন, তাদের দেশের কাস্টমসে ১০০ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়াতে হয় এবং চরম ভোগান্তির পর কর্মকর্তাদের বকশিশও দিতে হয়। আরেকজন মার্কিন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ডাকঘরের মাধ্যমে আবেদন ও ছবি জমা দিয়ে দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট পেতেও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগে। অন্যদিকে, আরেক ব্যবহারকারীর মতে, যেহেতু সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী, তাই তাদের নাগরিকদের জন্য এমন বিশ্বমানের সেবা থাকাটাই স্বাভাবিক।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের স্টার্লিং হাইটস সিটি হলে আগামী ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ছয় দিনব্যাপী পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীরা কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সরাসরি সিটি হলে গিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন। স্টার্লিং হাইটস সিটির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধা শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি অন্য এলাকার বাসিন্দারাও নিতে পারবেন। পাসপোর্ট আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রসেসিং ফি পরিশোধের জন্য দুটি পৃথক চেক অথবা মানি অর্ডার সঙ্গে আনতে হবে। একটি পেমেন্ট দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নামে এবং অন্যটি স্টার্লিং হাইটস সিটির নামে। নগদ টাকা গ্রহণ করা হবে না। ওয়াক-ইন সেবার সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেবা দেওয়া হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে। আবেদনকারীদের পূরণ করা পাসপোর্ট অ্যাপ্লিকেশন সঙ্গে আনতে হবে, তবে আবেদনপত্রে আগে থেকে স্বাক্ষর করা যাবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং বর্তমান ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নথির তালিকা স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। স্টার্লিং হাইটস সিটির পাসপোর্ট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট বুকের জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফি ১৩০ ডলার। এর সঙ্গে সিটি কর্তৃপক্ষের পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফ্যাসিলিটি ফি ৩৫ ডলার এবং পাসপোর্ট ছবির জন্য ২০ ডলার দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপেডাইটেড সার্ভিস ও দ্রুত ডেলিভারির জন্য অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে। পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক অনুষ্ঠিত হবে স্টার্লিং হাইটস সিটি হলে, ৪০৫৫৫ ইউটিকা রোড, স্টার্লিং হাইটস, মিশিগান। বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা স্টার্লিং হাইটস সিটির পাসপোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে আবেদনকারীদের প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদের পরিবারের। নিজের পাসপোর্ট করাতেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। এসব ঘটনার ক্ষোভ থেকেই ঘুষের অভিযোগ জানানোর জন্য তৈরি করেছেন ‘ঘুষ ডট সাইট’। ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন শাহেদের মা আমিনা খাতুন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর অসুস্থতায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর পর পরিবারের পাওনা ছিল প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড। শাহেদের পরিবারের অভিযোগ, ওই টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। পরিবারটির দাবি, এখনো কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব অর্থের ফাইল এগিয়ে নিতে আরও ১ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি। এই অভিজ্ঞতা থেকেই ঘুষের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শাহেদ। বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছেন তিনি। পাশাপাশি ওয়েবসাইট তৈরি ও কোডিংয়ে আগ্রহ রয়েছে তার। দুই ঘণ্টায় তৈরি ‘ঘুষ ডট সাইট’ একটি ভারতীয় ওয়েবসাইট থেকে ধারণা নিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার কোডিংয়ে সাইটটির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করেন শাহেদ। পরে বন্ধু ও সহপ্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরের সহযোগিতায় সাইটটি চালু করা হয়। গত ২১ আগস্ট চালুর পর অল্প সময়েই এটি আলোচনায় আসে। উদ্যোক্তাদের দাবি, মাত্র ৯ দিনের মধ্যে সাইটটিতে ৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকার মধ্যে বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই করতে বর্তমানে চার সদস্যের একটি পর্যালোচনা দল কাজ করছে। যাচাইয়ের পর অভিযোগগুলো ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে প্রকাশ করা হচ্ছে। পরিচয় গোপন রাখার উদ্যোগ অভিযোগকারীরা যাতে নতুন করে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য তাদের পরিচয় গোপন রাখছে ‘ঘুষ ডট সাইট’। আইনি ঝুঁকি বিবেচনায় ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম শামীমও ছেলের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তার দাবি, স্ত্রীর মৃত্যুর পর পরিবারের প্রাপ্য অর্থ তুলতে গিয়ে তাকেও ঘুষ দিতে হয়েছে এবং এখনো প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব অর্থ পেতেও ঘুষ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। তবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মো. মজিবুর রহমান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীনও বলেন, ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে তাকে কেউ অভিযোগ করেননি। এমন ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তরুণদের এই উদ্যোগ পুলিশের নজরে এসেছে। ঘুষ বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা থেকে ঘুষের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করেছেন শাহেদ। তার লক্ষ্য—সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যেন কাউকে ঘুষ দিতে না হয় এবং অনিয়মের তথ্য মানুষের সামনে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৫০০ ডলারে এক একর জমি কেনা যায় এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই যেকোনো রাজ্যে সহজে জমির মালিক হওয়া সম্ভব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবির পুরোটা সঠিক নয়। কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলারে ছোট কিংবা অনুন্নত জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জমির সাধারণ বাজারদর হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। বিদেশিদের জমি কেনার নিয়মও রাজ্য এবং জমির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট স্থাপনাসহ সম্পত্তির গড় মূল্য ছিল একরপ্রতি ৪ হাজার ৩৫০ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই মূল্য ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই হিসাবের সঙ্গে আবাসিক জমি কিংবা প্রত্যন্ত মরুভূমির অনুন্নত জমির দাম সরাসরি তুলনা করা যায় না। রাজ্যভেদে জমির দামে বড় পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোতে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য ছিল একরপ্রতি মাত্র ৭২৫ ডলার। নেভাদায় প্রায় ১ হাজার ডলার এবং অ্যারিজোনায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। ফলে এসব রাজ্যের কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় তুলনামূলক কম দামে জমি পাওয়া সম্ভব। তবে মিসিসিপি, আরকানসাস কিংবা টেক্সাসে সাধারণভাবেই ৫০০ থেকে ২ হাজার ডলারে এক একর জমি পাওয়া যায়, এমন দাবি সরকারি গড় মূল্যের সঙ্গে মেলে না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাবে এসব রাজ্যে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য একরপ্রতি কয়েক হাজার ডলার। শহর, পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি কিংবা উন্নত এলাকার কাছাকাছি হলে দাম আরও বেশি হতে পারে। সস্তা জমির বিজ্ঞাপন দেখার সময় এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। অনলাইনে ৫০০, ১ হাজার কিংবা ২ হাজার ডলারে যেসব জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়, সেগুলোর অনেকটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকায় হতে পারে। সেখানে পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নাও থাকতে পারে। এমনকি জমিটি কিনলেও সেখানে বাড়ি নির্মাণের অনুমতি নাও পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে অ্যারিজোনায় সস্তায় জমি কিনলেই নিজের ইচ্ছামতো ছোট বাড়ি নির্মাণ করা যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বাড়ির আকার, স্থায়ী কিংবা স্থানান্তরযোগ্য কাঠামো, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমি ব্যবহার এবং ভবন নির্মাণের নিয়ম মানতে হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব কিংবা গ্রিন কার্ড ছাড়া জমি কেনা যায় কি না। সাধারণভাবে বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সব বিদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কেনার ওপর সার্বিক কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের জমি বাধাহীনভাবে কেনা যাবে। বিশেষ করে কৃষিজমির বিদেশি মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা বিধিনিষেধ এবং তথ্য জানানোর নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিদেশিদের কৃষিজমির মালিকানা নিয়ে দেশটির সব রাজ্যে একই নিয়ম নেই। বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা কার্যকর রয়েছে। বিদেশি কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজমিতে নির্দিষ্ট ধরনের মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ অর্জন করলে কেন্দ্রীয় আইনের অধীনে কৃষি বিভাগকে সেই তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতাও তৈরি হতে পারে। তাই কৃষিজমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বর্তমান আইন যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে জমি কিংবা বাড়ি কিনলে গ্রিন কার্ড, ভিসা অথবা দেশটিতে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায় না। সম্পত্তির মালিকানা এবং অভিবাসন মর্যাদা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একজন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করেও সেখানে বৈধভাবে সম্পত্তির মালিক হতে পারেন। কিন্তু সেই সম্পত্তির মালিকানা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় না। সরকারি নিলামেও যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রি করা হয়। দেশটির সাধারণ সেবা প্রশাসন উদ্বৃত্ত কেন্দ্রীয় জমি ও ভবন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে। তবে সরকারি নিলামে বাজারদরের তুলনায় নিশ্চিতভাবে ৫০ শতাংশ কমে জমি পাওয়া যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। দরদাতাদের প্রতিযোগিতা, জমির অবস্থান এবং সম্পত্তির শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হয়। একইভাবে মাত্র ৫০ ডলার অগ্রিম দিয়ে এবং মাসে ১০০ ডলার কিস্তিতে জমি কেনার সুযোগ কোনো সরকারি সুবিধা নয়। কোনো বেসরকারি জমির মালিক নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে এমন প্রস্তাব দিতে পারেন। কিন্তু চুক্তির শর্ত, সুদের হার, অতিরিক্ত খরচ, কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে কী হবে এবং জমির মালিকানা বৈধ ও পরিষ্কার কি না, এসব যাচাই না করে এমন চুক্তিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। সস্তা জমি কেনার আগে জমির মালিকানা যাচাই করাও জরুরি। জমির ওপর পুরোনো ঋণ কিংবা অন্য কারও আর্থিক দাবি রয়েছে কি না, সম্পত্তি কর বকেয়া আছে কি না, সেখানে যাওয়ার বৈধ রাস্তা রয়েছে কি না, জমিটি বন্যা কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কি না এবং সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে কি না, এসব বিষয় আগেই যাচাই করা প্রয়োজন। বিদেশি মালিকদের করের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি মালিক সম্পত্তি বিক্রি করলে বিদেশিদের স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কর আইনের অধীনে বিশেষভাবে অর্থ আটকে রেখে কর পরিশোধের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আমেরিকায় কয়েকশ ডলারে জমি কেনার বিজ্ঞাপন বাস্তবে পাওয়া গেলেও শুধু কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। জমিটি কোথায়, কী কাজে ব্যবহার করা যাবে, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা আছে কি না, বছরে কত সম্পত্তি কর দিতে হবে, মালিকানা পরিষ্কার কি না এবং বিদেশি নাগরিক হিসেবে সেই জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো রাজ্যভিত্তিক বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে জমি কিংবা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন। তবে জমির মালিক হওয়া মানেই আমেরিকায় বসবাসের অনুমতি, ভিসা কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ নয়। সম্পত্তি কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অধিকার দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের স্মারক পাসপোর্ট চালু করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই পাসপোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, তার স্বর্ণালি স্বাক্ষর এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের নকশা যুক্ত করা হয়েছে। এটি সাধারণ পাসপোর্টের মতোই বৈধ হলেও বিশেষ স্মারক সংস্করণ হিসেবে সীমিত সংখ্যায় ইস্যু করা হচ্ছে। 'আমেরিকা ২৫০' উদযাপনের অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই স্মারক পাসপোর্টে বাইরে থেকে প্রচলিত মার্কিন পাসপোর্টের নকশা বজায় রাখা হলেও ভেতরের পাতায় যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ শিল্পকর্ম। প্রথম ভেতরের পাতায় রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অংশ এবং তার স্বর্ণালি স্বাক্ষর। অন্য একটি পাতায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক চিত্র। পেছনের কভারে রয়েছে 'Freedom 250' লোগো। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই স্মারক পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারযোগ্যতা ও মেয়াদ সাধারণ পাসপোর্টের মতোই। তবে এটি অনলাইনে, ডাকযোগে, সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণকেন্দ্রে কিংবা বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন করলে পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত বিশেষ কর্মসূচি অথবা ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতে সরাসরি আবেদনকারীরাই এটি সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। প্রথম দিকে সীমিত সংখ্যক পাসপোর্ট ইস্যুর পরিকল্পনা থাকলেও ব্যাপক আগ্রহের কারণে পররাষ্ট্র দপ্তর পরে জানায়, দেশজুড়ে বিশেষ আবেদন কর্মসূচির মাধ্যমে অতিরিক্ত আড়াই লাখ 'প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট' ইস্যু করা হবে। আগস্ট থেকে বিভিন্ন শহরে নির্ধারিত তারিখে বিশেষ আবেদন কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে। এই স্মারক পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি পাসপোর্টের নকশায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি দেশের ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপনের একটি স্মারক উদ্যোগ। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারি নথিতে একজন বর্তমান প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ব্যবহার নজিরবিহীন এবং এটি অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
নতুন মার্কিন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করতে ভুলবেন না। দীর্ঘদিনের এই নিয়মটি আবারও নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেটিতে সঠিকভাবে স্বাক্ষর করা প্রত্যেক পাসপোর্টধারীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের নতুন পাসপোর্টের নির্ধারিত “Signature of Bearer” অংশে নীল বা কালো কালি দিয়ে নিজের স্বাক্ষর করতে হবে। অন্যদিকে, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টে শিশুর পরিবর্তে বাবা, মা অথবা আইনগত অভিভাবক স্বাক্ষর করবেন। এ সময় প্রথমে স্বাক্ষরের লাইনে শিশুর নাম লিখতে হবে। এরপর অভিভাবক নিজের স্বাক্ষর করবেন এবং শিশুর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক, যেমন বাবা, মা অথবা গার্ডিয়ান উল্লেখ করবেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব এই কাজটি সম্পন্ন করা উচিত। নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর না থাকলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে পাসপোর্টে স্বাক্ষর করা হয়েছে কি না, তা একবার যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া পাসপোর্টে শুধুমাত্র নির্ধারিত স্বাক্ষরের স্থানেই সই করতে বলা হয়েছে। অন্য কোনো পৃষ্ঠায় অপ্রয়োজনীয় লেখা, স্বাক্ষর বা চিহ্ন না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের পাসপোর্ট সাধারণত ১০ বছরের জন্য এবং ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের পাসপোর্ট ৫ বছরের জন্য ইস্যু করা হয়। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে পাসপোর্টের মেয়াদ ও স্বাক্ষর—দুই বিষয়ই নিশ্চিত করে নেওয়া হলে ভ্রমণের সময় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের অনেকের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ একটি নিয়মিত ঘটনা। তবে একটি বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা কিংবা ইএসটিএ (ESTA) থাকলেই যে দেশটিতে প্রবেশের শতভাগ নিশ্চয়তা মিলবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা বন্দর বা বিমানবন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। অনেক সময় গুরুতর কোনো অপরাধ বা ইমিগ্রেশন আইনের বড় কোনো লঙ্ঘন না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ কিছু ভুলের কারণে যাত্রীদের অপ্রত্যাশিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়। এর মধ্যে এমন কিছু কাজ রয়েছে, যেগুলোকে ভ্রমণকারীরা সম্পূর্ণ নির্দোষ মনে করলেও মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনে তা বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো 'হোমস্টে' বা বিনামূল্যে থাকার বিনিময়ে গৃহস্থালির কাজে সহায়তা করা। ভ্রমণ খরচ কমাতে অনেকেই স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে থাকেন এবং বিনিময়ে তাদের রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা পোষা প্রাণী দেখভালের মতো কাজ করে দেন। নগদ অর্থ লেনদেন না হলেও মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা একে ক্ষতিপূরণ বা 'অননুমোদিত কাজ' হিসেবে বিবেচনা করেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে ব্রিটিশ গ্রাফিক আর্টিস্ট রেবেকা বার্ক 'ওয়ার্কঅ্যাওয়ে' নামের একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এমন একটি সাংস্কৃতিক বিনিময়ে অংশ নিয়ে বিপাকে পড়েন। তাকে কাজের ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে হাতকড়া পরিয়ে ১৯ দিন ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখার পর যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়। অতীতের গাঁজা বা মারিজুয়ানা সেবনের কথা স্বীকার করাও ভ্রমণকারীদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি অঙ্গরাজ্যে বিনোদনের উদ্দেশ্যে গাঁজা সেবন বৈধ হলেও, মার্কিন ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। ভ্রমণকালীন সময়ে গাঁজা বহন না করলেও, অতীতে তা সেবনের কথা স্বীকার করলে 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট'-এর ২১২ ধারার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। ২০২৪ সালে এক কানাডীয় পর্যটককে ২০১০ সালের একটি জিজ্ঞাসাবাদে গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করার জেরে সম্প্রতি সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো হয় এবং তার 'নেক্সাস' কার্ডটি বাতিল করে দেওয়া হয়। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে আইনি কোনো সমস্যা না হওয়ার কথা থাকলেও, ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় দেশটিতে অবস্থান করা সিবিপি কর্মকর্তাদের সন্দেহের কারণ হতে পারে। এক কানাডীয় নারী কয়েক মাসের ব্যবধানে বারবার দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তাকে পুনরায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মূলত, পর্যটকদের নিজেদের দেশে শক্তিশালী শিকড় বা 'স্ট্রং টাইজ' প্রমাণ করতে হয়; অন্যথায় কর্মকর্তারা ধারণা করতে পারেন যে পর্যটক ভিসার আড়ালে ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করছেন। এছাড়া পূর্বের কোনো ভিসার আবেদন অমীমাংসিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকলে সিবিপি কর্মকর্তারা পর্যটক ভিসায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি চালিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় সন্দেহ হলে কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীর মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করার আইনি ক্ষমতা রাখেন। ডিজিটাল মাধ্যমে যদি এমন কোনো চ্যাট, ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পাওয়া যায় যা দিয়ে চাকরি খোঁজা, দীর্ঘমেয়াদী বাড়িভাড়া, রিমোট জব করা বা স্থায়ী হওয়ার কোনো ইঙ্গিত মেলে, তবে পর্যটককে সাথে সাথেই ফেরত পাঠানো হবে। পর্যটক ভিসায় গিয়ে স্থায়ী হওয়ার এই 'ইমিগ্রেন্ট ইনটেন্ট' বা অভিবাসন অভিপ্রায় ডিজিটাল প্রমাণের মাধ্যমে ধরা পড়লে ভবিষ্যতে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে।
বিমানবন্দরে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ভাইরাল হয়েছে একটি পুরোনো ‘প্রাইভেসি হ্যাক’। অনেকেই দাবি করছেন, পাসপোর্ট অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে রাখলে এর ভেতরের ইলেকট্রনিক চিপ থেকে তথ্য চুরি বা অননুমোদিতভাবে স্ক্যান করা যায় না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রাভেল এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি) কাছে জানতে চাইলে সংস্থাটি জানায়, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো পাসপোর্টের কোনো বিশেষ নিরাপত্তাগত সুবিধা সম্পর্কে তারা কোনো সুপারিশ বা নির্দেশনা দেয় না। বরং ভ্রমণকারীদের প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করে পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে অধিকাংশ দেশের ই-পাসপোর্টে একটি আরএফআইডি (RFID) চিপ থাকে। এতে পাসপোর্টধারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও ডিজিটাল ছবি সংরক্ষিত থাকে। তবে এসব তথ্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এনক্রিপ্টেড থাকে এবং অননুমোদিতভাবে পড়ে নেওয়া ঠেকাতে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, আধুনিক ই-পাসপোর্টে একটি বিশেষ ধাতব সুরক্ষা স্তর সংযুক্ত থাকে, যা পাসপোর্ট বন্ধ অবস্থায় আরএফআইডি চিপে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চিপে থাকা তথ্য পড়তে হলে সাধারণত পাসপোর্টটি খুলতে হয়। ফলে শুধু অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে পাসপোর্ট মুড়ে রাখলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক ও লেখক ব্রায়ান ক্রেবসও আরএফআইডি নিরাপত্তা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, পরিচয় চুরির অধিকাংশ ঘটনা অন্য উপায়ে ঘটে; শুধুমাত্র পাসপোর্টের আরএফআইডি চিপ স্ক্যান করে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি বাস্তবে খুবই সীমিত। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্তে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ তল্লাশি নিয়ে অনেক ভ্রমণকারীর উদ্বেগ থাকলেও সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের খুবই অল্প একটি অংশের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিরাপত্তাজনিত কারণে তল্লাশি করা হয়। সব মিলিয়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ‘প্রাইভেসি হ্যাক’ সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। সরকারি সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, পাসপোর্ট নিরাপদে সংরক্ষণ, শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করাই ভ্রমণের সময় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সংস্করণের হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৭তম। তবে র্যাংকিংয়ে উন্নতি হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় মাত্র ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন, যা বৈশ্বিক মানদণ্ডে এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স মঙ্গলবার সর্বশেষ এই সূচক প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) টিম্যাটিক ডেটাবেসের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৯৯টি পাসপোর্ট এবং ২২৭টি গন্তব্য বিশ্লেষণ করে এ র্যাংকিং তৈরি করে। সর্বশেষ সূচকে বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগোলেও ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধার গন্তব্য কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৭। র্যাংকিংয়ের পরিবর্তন মূলত অন্যান্য দেশের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণেও হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপের পাসপোর্ট সবচেয়ে শক্তিশালী। দেশটির অবস্থান ৫২তম এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পান। ভারতের অবস্থান ৮১তম, শ্রীলঙ্কা ৯৪তম, বাংলাদেশের পরেই রয়েছে নেপাল। পাকিস্তানের অবস্থান ১০১তম, আর তালিকার সর্বশেষে রয়েছে আফগানিস্তান। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা ১৯২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স বিশ্বজুড়ে একটি স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে আগাম ভিসা ছাড়াই কতটি দেশে প্রবেশ করা যায়, তার ভিত্তিতেই এই র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের লেখা ও নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। নতুন সংস্করণে আবারও যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ। একই সঙ্গে পাসপোর্টের জলছাপে স্থান পাচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের প্রতীকী ছবি। এ বিষয়ে রোববার সরকারি আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ব্যতীত।’ ই-পাসপোর্ট চালুর পর ২০২১ সালে নতুন পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ অংশটি বাদ দেওয়া হয়। তখন সরকার জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই ভাষাগত পরিবর্তনটি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল ভ্রমণের ওপর বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহাল করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং দেশটির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের প্রতি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন জানিয়ে আসছে। পাসপোর্টের জলছাপেও বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদ, উত্তরার আজমপুরে পানি হাতে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং জাতীয় পতাকার নকশার পোশাক পরা ওয়াসিম আকরামের ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আবু সাঈদ ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। আন্দোলনের মধ্যে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার তাঁর ছবি দেশজুড়ে প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। মুগ্ধ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণ করার সময় ঢাকার উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আর চট্টগ্রামে আন্দোলনের সময় নিহত হন শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম। নতুন জলছাপে তাঁদের তিনজনের প্রতীকী চিত্র একসঙ্গে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ নামে স্থান পাবে। পরিবর্তিত নকশায় জাতীয় ফুল শাপলা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, দোয়েল, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর, ইলিশ, পাট ও চা-বাগানের মতো জাতীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শনও রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া কান্তজিউ মন্দির, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং হলি রোজারি চার্চসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার ছবি থাকবে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্মও নতুন জলছাপের নকশায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানে যাঁদের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাঁদের এখনই পাসপোর্ট পরিবর্তন করতে হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। মেয়াদ শেষে নবায়ন কিংবা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করলে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত নকশার ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নকশার একটি স্মারক মার্কিন পাসপোর্ট উন্মোচন করেছেন। সীমিত সংস্করণের এই পাসপোর্টে ট্রাম্পের একটি গম্ভীর মুখাবয়বের ছবি সংযোজন করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পাসপোর্টটির নমুনা ছবি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট।’ প্রকাশিত নকশায় আরও লেখা রয়েছে, ‘স্বাগত, তবে ভদ্রভাবে থাকুন।’ নতুন পাসপোর্টটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরসংবলিত একটি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে তাকে একটি ডেস্কের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পেছনের নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল পাঠ সংযোজন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছবিটি হোয়াইট হাউসের আলোকচিত্রী ড্যানিয়েল টোরোকের তোলা একটি আলোকচিত্রের ভিত্তিতে তৈরি। পাসপোর্টের আরেকটি পাতায় ১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ২৫০’ লেখা রয়েছে, যা স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীকে নির্দেশ করে। হোয়াইট হাউসও একই নকশার পাসপোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে একে ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ নামে উল্লেখ করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, আগামী ৬ জুলাই থেকে বিশেষ নকশার এই স্মারক পাসপোর্ট সীমিত পরিসরে বিতরণ করা হবে। গত এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প-থিমযুক্ত এসব পাসপোর্ট ওয়াশিংটনে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে এবং মজুত থাকা পর্যন্তই বিতরণ করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম ও প্রতীকী উদ্যোগে নিজের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন এই স্মারক পাসপোর্টও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পাসপোর্টটি নিয়মিত ভ্রমণ নথির বিকল্প নাকি শুধুই স্মারক সংস্করণ সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা পররাষ্ট্র দপ্তর বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
বর্তমান বিশ্বে পাসপোর্টের শক্তিমত্তার বিচারে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো উত্তর আমেরিকা। দীর্ঘ কয়েক দশকের আধিপত্য ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নীল পাসপোর্টকে পেছনে ফেলে দিয়েছে কানাডিয়ান পাসপোর্ট। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’ (Henley Passport Index) অনুযায়ী, বৈশ্বিক ভ্রমণের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে। র্যাঙ্কিংয়ের চিত্র: সর্বশেষ তথ্যমতে, কানাডিয়ান পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বের সপ্তম শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে অবস্থান করছে। এই পাসপোর্টের অধিকারীরা বিশ্বের ১৮২টি গন্তব্যে কোনো পূর্ব ভিসা ছাড়াই (ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা) ভ্রমণ করতে পারছেন। অন্যদিকে, এক সময়ের শীর্ষস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট এখন দশম স্থানে নেমে এসেছে, যার মাধ্যমে ১৭৯টি গন্তব্যে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার মিলছে। কেন এই পরিবর্তন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সফল কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিভিন্ন দেশের সাথে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চীনের পক্ষ থেকে কানাডিয়ানদের জন্য ৩০ দিনের ভিসা-মুক্ত সুবিধা প্রদান কানাডাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে, যা এখনো অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য অধরা। আমেরিকানদের জন্য সুখবর: এই র্যাঙ্কিং পরিবর্তনের পাশাপাশি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বর্তমানে লাখ লাখ আমেরিকান নাগরিক চাইলেই শক্তিশালী কানাডিয়ান পাসপোর্টের মালিক হতে পারেন। কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইন (Bill C-3) অনুযায়ী, বংশসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে পূর্বের ‘প্রথম প্রজন্ম’ বা ফার্স্ট জেনারেশন সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব আমেরিকান নাগরিকের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা পূর্বপুরুষ কানাডিয়ান ছিলেন, তারা খুব সহজেই কানাডার নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো পরীক্ষা বা কানাডায় বসবাসের বাধ্যবাধকতা নেই। শুধুমাত্র বংশগত প্রমাণপত্রের মাধ্যমেই তারা এই শক্তিশালী পাসপোর্টটি পেতে পারেন। অতিরিক্ত সুবিধা: কানাডিয়ান পাসপোর্টধারী হলে কেবল ভ্রমণ সুবিধাই নয়, বরং 'ইন্টারন্যাশনাল এক্সপেরিয়েন্স কানাডা' (IEC) প্রোগ্রামের আওতায় তরুণরা বিশ্বের ৩৬টি দেশে কাজ করার সুযোগ পাবেন। যেখানে মার্কিন পাসপোর্টধারীরা মাত্র ৬টি দেশে এই ধরণের সুবিধা পান।বিশ্বজুড়ে সীমান্ত নীতি যখন কঠোর হচ্ছে, তখন কানাডার এই অগ্রগতি দেশটির বৈশ্বিক মর্যাদা ও এর নাগরিকদের অবাধ চলাচলের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করল।
আজকের দিনে যে জিনিসটি বিদেশ ভ্রমণের জন্য অপরিহার্য, তা হলো পাসপোর্ট। ছোট এক নোটবুকের আকারের এই পরিচয়পত্র নাগরিকত্বের গুরুত্বপূর্ণ সনদ হিসেবে কাজ করে। তবে আধুনিক পাসপোর্টের পেছনে রয়েছে শতাব্দী-দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাস—যেখানে কখনো নিরাপত্তা, কখনো বাণিজ্য, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রয়োজনে এর রূপ বদলেছে। পাসপোর্টের ধারণা প্রাচীন। প্রাচীন চীন ও রোমান সাম্রাজ্যে ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের বিশেষ সনদ দেওয়া হতো। লাতিন শব্দ ‘passer’ (পাস করা) এবং ‘portus’ (বন্দর) থেকে ‘পাসপোর্ট’ শব্দের উৎপত্তি। প্রাচীন চীনে খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৫–২২১ সালে ‘গোওসৌ’ নামে পরিচয়পত্র ব্যবস্থার উদাহরণ পাওয়া যায়। রোমান সাম্রাজ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘ট্র্যাক্টোরিয়াম’ বা সম্রাটের বিশেষ চিঠি প্রদান করা হতো। মধ্যযুগে আধুনিক পাসপোর্টের পূর্বসূরি হিসেবে পরিচিতি পায় ‘সেফ কন্ডাক্ট’ বা বিশেষ সুরক্ষা সনদ। ১৪১৪ সালে ইংল্যান্ডে রাজা পঞ্চম হেনরির আমলে এর উল্লেখ পাওয়া গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পাসপোর্ট প্রদান শুরু হয় ১৫৪০ সালে, রাজা অষ্টম হেনরির শাসনামলে। বর্তমানে টিকে থাকা সবচেয়ে পুরনো পাসপোর্ট নিদর্শনটি ১৬৪১ সালের, যা রাজা চার্লস প্রথমের আমলে ইস্যু করা হয়েছিল। ১৭৯৪ সালে ব্রিটেনে পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষমতা সরাসরি ‘সেক্রেটারি অব স্টেট’-এর অধীনে চলে আসে। আধুনিক পাসপোর্ট ব্যবস্থার সূচনা ঘটে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। ১৯২০ সালে ‘লিগ অব নেশনস’-এর দেশগুলো পাসপোর্টের কাঠামো ও মান নির্ধারণ করে। আশ্চর্য হলেও সত্যি, আধুনিক পাসপোর্ট মূলত মানুষের বিশ্বভ্রমণ সহজ করার জন্য নয়, বরং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও গতিবিধি সীমিত করার জন্য তৈরি হয়েছিল। ১৯৬৩ সালে জাতিসংঘে পাসপোর্ট প্রথা বাতিলের প্রস্তাব তোলা হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিশালী দেশগুলো বিরোধিতা করায় তা সম্ভব হয়নি। তাই আজ পাসপোর্ট সীমান্ত অতিক্রমের অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে থাকলেও, এটি একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমও বটে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।