সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আমেরিকায় ৫০০ ডলারে একর জমি! কিনতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১:২৭
আমেরিকায় ৫০০ ডলারে একর জমি! কিনতে পারবেন বাংলাদেশিরাও
আমেরিকায় ৫০০ ডলারে একর জমি! কিনতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৫০০ ডলারে এক একর জমি কেনা যায় এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই যেকোনো রাজ্যে সহজে জমির মালিক হওয়া সম্ভব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবির পুরোটা সঠিক নয়। কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলারে ছোট কিংবা অনুন্নত জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জমির সাধারণ বাজারদর হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। বিদেশিদের জমি কেনার নিয়মও রাজ্য এবং জমির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট স্থাপনাসহ সম্পত্তির গড় মূল্য ছিল একরপ্রতি ৪ হাজার ৩৫০ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই মূল্য ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই হিসাবের সঙ্গে আবাসিক জমি কিংবা প্রত্যন্ত মরুভূমির অনুন্নত জমির দাম সরাসরি তুলনা করা যায় না।

 

রাজ্যভেদে জমির দামে বড় পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোতে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য ছিল একরপ্রতি মাত্র ৭২৫ ডলার। নেভাদায় প্রায় ১ হাজার ডলার এবং অ্যারিজোনায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। ফলে এসব রাজ্যের কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় তুলনামূলক কম দামে জমি পাওয়া সম্ভব।

 

তবে মিসিসিপি, আরকানসাস কিংবা টেক্সাসে সাধারণভাবেই ৫০০ থেকে ২ হাজার ডলারে এক একর জমি পাওয়া যায়, এমন দাবি সরকারি গড় মূল্যের সঙ্গে মেলে না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাবে এসব রাজ্যে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য একরপ্রতি কয়েক হাজার ডলার। শহর, পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি কিংবা উন্নত এলাকার কাছাকাছি হলে দাম আরও বেশি হতে পারে।

 

সস্তা জমির বিজ্ঞাপন দেখার সময় এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। অনলাইনে ৫০০, ১ হাজার কিংবা ২ হাজার ডলারে যেসব জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়, সেগুলোর অনেকটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকায় হতে পারে। সেখানে পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নাও থাকতে পারে। এমনকি জমিটি কিনলেও সেখানে বাড়ি নির্মাণের অনুমতি নাও পাওয়া যেতে পারে।

 

বিশেষ করে অ্যারিজোনায় সস্তায় জমি কিনলেই নিজের ইচ্ছামতো ছোট বাড়ি নির্মাণ করা যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বাড়ির আকার, স্থায়ী কিংবা স্থানান্তরযোগ্য কাঠামো, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমি ব্যবহার এবং ভবন নির্মাণের নিয়ম মানতে হতে পারে।

 

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব কিংবা গ্রিন কার্ড ছাড়া জমি কেনা যায় কি না। সাধারণভাবে বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সব বিদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কেনার ওপর সার্বিক কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

 

তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের জমি বাধাহীনভাবে কেনা যাবে। বিশেষ করে কৃষিজমির বিদেশি মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা বিধিনিষেধ এবং তথ্য জানানোর নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিদেশিদের কৃষিজমির মালিকানা নিয়ে দেশটির সব রাজ্যে একই নিয়ম নেই। বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা কার্যকর রয়েছে।

 

বিদেশি কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজমিতে নির্দিষ্ট ধরনের মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ অর্জন করলে কেন্দ্রীয় আইনের অধীনে কৃষি বিভাগকে সেই তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতাও তৈরি হতে পারে। তাই কৃষিজমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বর্তমান আইন যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

আরেকটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে জমি কিংবা বাড়ি কিনলে গ্রিন কার্ড, ভিসা অথবা দেশটিতে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায় না। সম্পত্তির মালিকানা এবং অভিবাসন মর্যাদা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একজন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করেও সেখানে বৈধভাবে সম্পত্তির মালিক হতে পারেন। কিন্তু সেই সম্পত্তির মালিকানা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় না।

 

সরকারি নিলামেও যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রি করা হয়। দেশটির সাধারণ সেবা প্রশাসন উদ্বৃত্ত কেন্দ্রীয় জমি ও ভবন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে। তবে সরকারি নিলামে বাজারদরের তুলনায় নিশ্চিতভাবে ৫০ শতাংশ কমে জমি পাওয়া যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। দরদাতাদের প্রতিযোগিতা, জমির অবস্থান এবং সম্পত্তির শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হয়।

 

একইভাবে মাত্র ৫০ ডলার অগ্রিম দিয়ে এবং মাসে ১০০ ডলার কিস্তিতে জমি কেনার সুযোগ কোনো সরকারি সুবিধা নয়। কোনো বেসরকারি জমির মালিক নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে এমন প্রস্তাব দিতে পারেন। কিন্তু চুক্তির শর্ত, সুদের হার, অতিরিক্ত খরচ, কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে কী হবে এবং জমির মালিকানা বৈধ ও পরিষ্কার কি না, এসব যাচাই না করে এমন চুক্তিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

 

সস্তা জমি কেনার আগে জমির মালিকানা যাচাই করাও জরুরি। জমির ওপর পুরোনো ঋণ কিংবা অন্য কারও আর্থিক দাবি রয়েছে কি না, সম্পত্তি কর বকেয়া আছে কি না, সেখানে যাওয়ার বৈধ রাস্তা রয়েছে কি না, জমিটি বন্যা কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কি না এবং সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে কি না, এসব বিষয় আগেই যাচাই করা প্রয়োজন।

 

বিদেশি মালিকদের করের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি মালিক সম্পত্তি বিক্রি করলে বিদেশিদের স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কর আইনের অধীনে বিশেষভাবে অর্থ আটকে রেখে কর পরিশোধের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

 

তাই আমেরিকায় কয়েকশ ডলারে জমি কেনার বিজ্ঞাপন বাস্তবে পাওয়া গেলেও শুধু কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। জমিটি কোথায়, কী কাজে ব্যবহার করা যাবে, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা আছে কি না, বছরে কত সম্পত্তি কর দিতে হবে, মালিকানা পরিষ্কার কি না এবং বিদেশি নাগরিক হিসেবে সেই জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো রাজ্যভিত্তিক বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে জমি কিংবা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন। তবে জমির মালিক হওয়া মানেই আমেরিকায় বসবাসের অনুমতি, ভিসা কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ নয়। সম্পত্তি কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অধিকার দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিজের ব্যক্তিগত বিদেশ সফরের জন্য অনুদান চেয়ে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা স্টেফানি মুলালি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বাড়তি নম্বরের অভিযোগ, এ যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের ব্যক্তিগত বিদেশ সফরের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুদান চাওয়ার অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্টেফানি মুলালি নামের ওই বদলি শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার তহবিলে টাকা দিলে বিনিময়ে পরীক্ষায় তাদের অতিরিক্ত নম্বর (এক্সট্রা ক্রেডিট) দেওয়া হবে। স্কুলের নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে গত ২৯ মে ক্লিনটন কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে।   প্রশাসনিক আইন বিচারক ডুয়েন গোল্ডেনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হাইস্কুলের ওই শিক্ষিকা ক্লাসের শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তারা তার ব্যক্তিগত 'গোফান্ডমি' অ্যাকাউন্টে অনুদান দিলে তাদের গ্রেডের সঙ্গে বাড়তি নম্বর যোগ করা হবে। শিক্ষিকার এমন প্রস্তাবে শিক্ষার্থীরা তার তহবিলে টাকা দিতে একপ্রকার মানসিক চাপের মুখে পড়েছিল। জানা যায়, জুলাই মাসে স্বামী নিককে নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে একটি 'মেডিকেল মিশন' বা চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে যাওয়ার জন্য ওই তহবিল খুলেছিলেন তিনি। সফরের খরচ মেটাতে ১ হাজার ৮০০ ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন মুলালি। তবে শেষ পর্যন্ত পাঁচ থেকে পঞ্চাশ ডলারের মধ্যে মাত্র ছয়টি অনুদান থেকে তিনি ১৪০ ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।   বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষিকা তার মুছে ফেলা তহবিল সংগ্রহের পেজে দাবি করেছিলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে ইকুয়েডর সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন, তবে এর জন্য বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। ফেসবুকেও তিনি লিখেছিলেন, চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত একটি সম্প্রদায়কে সাহায্য করার এই সুযোগটি ঈশ্বরের আশীর্বাদ। এই সফরে তিনি মূলত ভাষাগত বাধা দূর করতে দোভাষী হিসেবে কাজ করবেন এবং তার স্বামী আনুষঙ্গিক কাজে সহায়তা করবেন। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি এটিকে নিজের শিক্ষার খরচ মেটানোর একটি অনন্য সুযোগ হিসেবেও তুলে ধরেছিলেন। তবে মহৎ উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও, শিক্ষিকাসুলভ পেশাদারি আচরণ লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের অনুদান দিতে প্ররোচিত করায় শেষ পর্যন্ত তাকে লজ্জাজনকভাবে চাকরি হারাতে হলো।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১০:৪৯
অনলাইন দুনিয়ায় দক্ষিণ এশীয় নাগরিকদের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী আচরণ ও বিদ্বেষ ক্রমেই বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাজিট’-এর পর ভারতীয় নারীদের নিশানা করে নতুন বর্ণবাদী গালি ‘ল্যাট্রিনাস’

টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা গেইল পাইক। ছবি: সংগৃহীত

টেনেসিতে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু না হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত

লস অ্যাঞ্জেলেসের বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন হাইস্কুলে চারতলা ভবন থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের চারতলা থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোর নিট সম্পদের পরিমাণ শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ পরিবারের হাতে বিশ্বের পরিচিত সব ব্র্যান্ড, সম্পদের পরিমাণ শুনলে অবাক হবেন

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোর নিট সম্পদের পরিমাণ শত শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলেও অনেকের কাছেই তাদের নামগুলো বেশ অজানা। দশকের পর দশক ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমে তারা এই বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। বছরে শত বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় করা এই পরিবারগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতেই গভীর প্রভাব রাখছে। ওয়ালমার্টের মতো রিটেইল জায়ান্ট থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সব ক্যান্ডি উৎপাদনকারী মার্স পরিবারের মতো রাজবংশগুলো তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপুল ধনসম্পদ রেখে যাচ্ছে। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় সক্রিয় থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক কাঠামোকেই বদলে দিয়েছে।   ৫২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী পরিবারের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ওয়ালটন পরিবার। তারা বিশ্বের বৃহত্তম রিটেইল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৬২ সালে স্যাম ওয়ালটনের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা ওয়ালমার্টের বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪ হাজার ৬০০টির বেশি শাখা রয়েছে। একইসঙ্গে তারা স্যামস ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে, যার শাখা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। পরিবারের সদস্যরা এখনও ওয়ালমার্টের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত আছেন এবং ২০২২ সালে তারা ৪.৬৫ বিলিয়ন ডলারে এনএফএলের ডেনভার ব্রঙ্কস নামে একটি স্পোর্টস টিম কিনেছেন।   ১৫৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কোচ পরিবার। ১৯৪০ সালে রাসায়নিক প্রকৌশলী ফ্রেড সি কোচ একটি তেল শোধনাগার কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সাম্রাজ্যের ভিত্তি গড়েন, যা পরবর্তীতে কোচ ইন্ডাস্ট্রিজ (বর্তমানে শুধু কোচ) নামে পরিচিতি পায়। তাঁর ছেলে চার্লস কোচ বর্তমানে এর কো-সিইও এবং চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটি তেল, গ্যাস, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারিত করেছে এবং বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এর কার্যক্রম চলমান।   ১২৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের অধিকারী মার্স পরিবার মূলত ক্যান্ডি ও পোষা প্রাণীর খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মার্স ইনকর্পোরেটেডের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯১১ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন ক্ল্যারেন্স মার্সের হাত ধরে ওয়াশিংটনে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে থ্রি মাস্কেটিয়ার্স, স্নিকার্স, এমঅ্যান্ডএমস ও স্কিটলস-এর মতো বিশ্বখ্যাত সব ক্যান্ডি ব্র্যান্ড তৈরি করেছে। সম্প্রতি তারা পোষা প্রাণীর যত্নের ক্ষেত্রেও বড়সড় বিনিয়োগ করেছে।   ৬৯.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে জনসন পরিবার। ১৯৪৬ সালে এডওয়ার্ড সি জনসন দ্বিতীয়-এর প্রতিষ্ঠিত ফিডেলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ কোম্পানিটি আর্থিক পরিষেবা, মিউচুয়াল ফান্ড এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বিশাল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মিউচুয়াল ফান্ড প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত, যারা ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করছে এবং ৪ কোটিরও বেশি মানুষকে আর্থিক সেবা দিচ্ছে।   ৬৭.৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক কারগিল-ম্যাকমিলান পরিবারের ব্যবসার শুরুটা হয়েছিল ১৮৬৫ সালে ছোট একটি শস্য মজুদের কোম্পানি হিসেবে। পরবর্তীতে উইলিয়াম ওয়ালেস কারগিল এবং তাঁর জামাতা জন এইচ ম্যাকমিলান সিনিয়রের হাত ধরে এটি বিশ্বজুড়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিতরণের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান কারগিল ইনকর্পোরেটেডে পরিণত হয়। ম্যাকডোনাল্ডসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে তারা কাজ করছে। বর্তমানে ৭০টি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৯:৫৮
ছুটিতে এসে ভালো লাগায় ফ্রান্সের প্যারিস ছেড়ে ফ্লোরিডায় বসবাস শুরু করেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স থেকে ফ্লোরিডায় এসে ১০ বছরেও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না নারী

দীর্ঘ ১৪ বছর কোমায় থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া টেক্সাসের বাসিন্দা হিদার ব্রাউন ও তাঁর স্বামী শন ব্রাউন। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে কোমায় থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম, ১৪ বছরের লড়াই শেষে মায়ের মৃত্যু

সান ফ্রান্সিসকোর চায়নাটাউনে মাত্র ৯ দশমিক ২১ ডলারে সুস্বাদু খাবার বিক্রি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে রাইস রোল এক্সপ্রেস। ছবি: সংগৃহীত

১০ ডলারের কমে দুপুরের খাবার, সান ফ্রান্সিসকোতে ভোজনরসিকদের দীর্ঘ লাইন

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনকার্ড পেতে ভুয়া ডাকাতির নাটক, ভারতীয় কর্মী ফেরত, জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় দোকানমালিক
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনকার্ড পেতে ভুয়া ডাকাতির নাটক, ভারতীয় কর্মী ফেরত, জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় দোকানমালিক

সাউথ ক্যারোলাইনায় দোকানকর্মীকে ইউ ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজানোর অভিযোগে দোকানমালিক বীরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল দোষ স্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী প্যাটেল ও তার দোকানের ভারতীয় কর্মী ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে ডাকাতির নাটক সাজান। পরে তদন্তে ঘটনাটি ভুয়া প্রমাণিত হলে ওই কর্মীকে ভারতে ডিপোর্ট করা হয়। প্যাটেল এখন ফেডারেল সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।   ইউ ভিসা নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস। যোগ্যতা পূরণ করে ইউ ভিসা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্তে অন্তত তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে একজন আবেদনকারী গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি করতেই দোকানকর্মীকে অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।   ২০২৫ সালের ৯ মার্চ দোকানে ডাকাতির খবর জানিয়ে ৯১১ নম্বরে কল করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কর্মী ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্যাটেলও ঘটনাস্থলে এসে ডাকাতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর তদন্তকারীরা দেখতে পান, ঘটনাটি আসলে সাজানো ছিল।   তদন্তে জানা যায়, প্যাটেল নিজেই ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। পরিচয় গোপন করতে তিনি মুখ ঢেকেছিলেন এবং লম্বা হাতার জ্যাকেট পরেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দোকানকর্মীকে সত্যিকারের অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানো যায় এবং তার ইউ ভিসার আবেদনকে সমর্থন করার মতো নথি তৈরি করা সম্ভব হয়।   ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ২৫ মার্চ ২০২৫, প্যাটেল ও কর্মী ওই ডাকাতির ঘটনার পুলিশ রিপোর্টের কপি চান। এরপর ৩ এপ্রিল এমন একটি ফেডারেল সার্টিফিকেশন ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তরে পাঠানো হয়, যাতে দোকানকর্মীকে ‘ফেলোনিয়াস অ্যাসল্ট’-এর শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর চাওয়া হয়। তদন্তকারীরা পরে নিশ্চিত হন, কর্মী ভারতের নাগরিক এবং ইউ ভিসা পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারতেন।   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্যাটেল ইউ ভিসা অবৈধভাবে পাওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আদালত এখনো তার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, ক্ষতিপূরণ এবং কারাদণ্ড শেষে সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে থাকার শাস্তিও হতে পারে।   মামলাটি তদন্ত করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস ও ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। প্যাটেলের দোষ স্বীকারের পর এখন আদালতের সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়াই পরবর্তী ধাপ। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ইউএস প্রোবেশন অফিসের প্রস্তুত করা সাজা সংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনার পর বিচারক তার চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৯:৮
মানিব্যাগে ৩০০ ডলার পেয়েও ফেরত দিল কিশোর, উপহার পেল স্বপ্নের সাইকেল

মানিব্যাগে ৩০০ ডলার পেয়েও ফেরত দিল কিশোর, উপহার পেল স্বপ্নের সাইকেল

ট্রাম্পের ভিসা বাতিল

ট্রাম্পের কড়াকড়িতে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল, বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা যাচাই

বাবার কাস্টডি জেতার কয়েক ঘন্টা পরই চার বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা করলেন মা

বাবার কাস্টডি জেতার কয়েক ঘন্টা পরই চার বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা করলেন মা

0 Comments