বিমান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের হুমকিতে গোপনে বিমান বদলের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কারণে তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তাকে বিমান পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী।    ঘটনাটি নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যায়, তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠানো হলেও সেটি ছিল মূলত বিভ্রান্তিমূলক ব্যবস্থা। ট্রাম্পকে পরে গোপনে বিমানবন্দরের একটি যানবাহনের মাধ্যমে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সম্ভাব্য হুমকির কারণে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।    ট্রাম্প নিজেও পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। তবে হুমকির সুনির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেননি বলে জানান।    এর আগে ট্রাম্প তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্য যাওয়ার সময় পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। পরে গোপন নিরাপত্তা অভিযানের তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।    হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি   এদিকে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান আর মধ্যপ্রাচ্যের ‘বুলি’ হিসেবে আগের অবস্থানে নেই।    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এই জলপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও পণ্যের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   তবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এটি ট্রাম্পের বক্তব্য। এই দাবির সমর্থনে স্বাধীন কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক মূল্যায়ন এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। তাই প্রতিবেদনে এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।   কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ?   একদিকে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের ঘটনা ইরান-সংক্রান্ত সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা তুলে ধরছে।   বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের অবস্থান গোপন রাখতে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে বিভ্রান্তিমূলকভাবে ব্যবহার এবং ট্রাম্পকে আলাদা সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা শুরু হয়েছে।    সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান—দুটিই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক বিমান বাহিনী সচিব ফ্র্যাঙ্ক কেন্ডাল
গোপন সামরিক তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

সাবেক বিমান বাহিনী সচিব ফ্র্যাঙ্ক কেন্ডালের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ। তাৎক্ষণিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের প্রবেশাধিকার বাতিল, সংবেদনশীল পদেও অযোগ্য ঘোষণা।   গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার নিরাপত্তা অনুমতি বাতিল   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, সাবেক বিমান বাহিনী সচিব ফ্র্যাঙ্ক কেন্ডালের শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ব্যবহারের যোগ্যতা এবং সংবেদনশীল কোনো পদে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। বিভাগটির প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।    বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ফ্র্যাঙ্ক কেন্ডাল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের সক্ষমতা সম্পর্কে একটি গণমাধ্যমকে অনুমতি ছাড়া শ্রেণিবদ্ধ তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কোন গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিরক্ষা বিভাগ বিস্তারিত জানায়নি।    শন পারনেল বলেন, “শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো আপসের বিষয় নয়। যারা সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করেন, তারা এ ধরনের তথ্য ব্যবহারের অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা হারান।”    তবে প্রতিরক্ষা বিভাগ এখন পর্যন্ত জানায়নি, কেন্ডালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত বা বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে কি না। সাধারণত এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে বিষয়টি পাঠানো হয়, কিন্তু এ ঘটনায় সে ধরনের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।    ফ্র্যাঙ্ক কেন্ডাল তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানাননি। এছাড়া অভিযোগের পক্ষে প্রতিরক্ষা বিভাগও এখন পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত প্রমাণ প্রকাশ করেনি।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
বিমানে ঘুমন্ত থাই নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, অভিযুক্ত পাকিস্তানি যাত্রী
বিমানে ঘুমন্ত থাই নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, অভিযুক্ত পাকিস্তানি যাত্রী

দুবাই থেকে ব্যাংককগামী ফ্লাইটে চার বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে ভ্রমণকালে এক থাই নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিউট পিম্পাপর্ন (৩৩) নামের ওই নারী ইতালির মিলান থেকে দুবাই হয়ে থাইল্যান্ডে ফিরছিলেন। মাঝ আকাশে মা ও মেয়ে যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই ফ্লাইদুবাই (flydubai) এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইটে এক পাকিস্তানি সহযাত্রী তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে।   ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত পাকিস্তানি ব্যক্তি তাঁকে শ্লীলতাহানির পর দ্রুত হাত সরিয়ে নিয়ে জ্যাকেট দিয়ে ঢেকে ফেলে। এরপর সামনের এন্টারটেইনমেন্ট স্ক্রিন ঠিক করার ভান করতে থাকে এবং বারবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল। ফ্লাইটের ভেতর আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা না ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পিম্পাপর্ন বিমানটি ব্যাংককে অবতরণ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ফ্লাইটটি অবতরণের পরপরই তিনি কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।   পিম্পাপর্ন জানান, বিমানবালা যখন আরবি ভাষায় ওই ব্যক্তির কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান, তখন প্রথমে সে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। কিন্তু একপর্যায়ে জেরার মুখে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেয়। অপরাধ স্বীকার করার পর ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীর কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসে কান্নাকাটি করতে থাকে এবং বারবার ক্ষমা চায়। তবে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট তার এই আচরণ গ্রহণ করেননি এবং ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে পুলিশ ডাকতে বাধ্য হন।   জানা গেছে, অভিযুক্ত পাকিস্তানি ব্যক্তি কোনো পরিবারের সাথে নয়, বরং একটি ট্যুর গ্রুপের সাথে ভ্রমণ করছিল। ওই দলের চার-পাঁচজন সদস্য এসে ভুক্তভোগীর কাছে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করে। তবে বিমানবালা ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন সবাইকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যাপ্টেনের সহায়তায় পিম্পাপর্নের শিশুটিকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে সে এই অপ্রীতিকর দৃশ্য না দেখে। পরবর্তীতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে থানায় নিয়ে যায়।   ডন মুয়াং থানার পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল চামনানিউত কনকং জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থাইল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ আপাতত দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে, যা তাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের হয়নি।   এদিকে, একা ভ্রমণকারী নারীদের ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই পিম্পাপর্ন এই ঘটনা জনসমক্ষে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ফ্লাইটে যাত্রীরা প্রায়ই ঘুমিয়ে থাকেন এবং একা ভ্রমণকারী নারীরা এমন পরিস্থিতিতে অরক্ষিত হয়ে পড়েন।   নারীদের লজ্জিত না হয়ে এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে প্রতিবাদ করা উচিত এবং সাহায্য চাওয়া উচিত।" অন্যদিকে, ফ্লাইদুবাইয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তারা যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প
৪০ বছর পর লেবাননে সরাসরি ফ্লাইট চালুর নির্দেশ ট্রাম্পের

প্রায় ৪০ বছর পর লেবাননের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন–এর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন দেশের সব দেশীয় এয়ারলাইনকে লেবাননে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়।   এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ১৯৮৫ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি লেবাননে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু হবে।   যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৫ সালে লেবাননের উদ্দেশে সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত করেছিল। ওই বছর গ্রিসের এথেন্স থেকে ইতালির রোমগামী টিডব্লিউএ ফ্লাইট ৮৪৭ ছিনতাই করে বৈরুতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৭ দিন ধরে চলা সেই জিম্মি সংকটে একজন মার্কিন নৌবাহিনীর ডুবুরি নিহত হন। এরপর থেকেই লেবাননে সরাসরি মার্কিন ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়।   তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও তাৎক্ষণিকভাবে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) জানিয়েছে, বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরই কোনো মার্কিন এয়ারলাইন এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।   এফএএ আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিমান পরিবহন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করবে, যাতে নিরাপদভাবে লেবাননে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা যায়।   তবে বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো লেবাননের জন্য ‘ডু নট ট্রাভেল’ বা ভ্রমণ না করার সতর্কতা বহাল রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরও নিরাপত্তাজনিত কারণে অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের লেবানন ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।   অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই মার্কিন তিনটি বড় এয়ারলাইন—আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং ডেল্টা এয়ার লাইন্স—এখনো ইসরায়েলের তেলআবিবে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে।   এর আগে চলতি বছরই ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। প্রায় সাত বছর পর মায়ামি থেকে কারাকাসে আবারও মার্কিন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়। লেবাননের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যদিও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে সরাসরি ফ্লাইট কবে থেকে শুরু হবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
বেইজিংয়ের বহুতল ভবনে বিমান বিধ্বস্তের এক সপ্তাহ পরও ধোঁয়াশা কাটেনি
বেইজিংয়ের বহুতল ভবনে বিমান বিধ্বস্তের এক সপ্তাহ পরও ধোঁয়াশা কাটেনি

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে একটি ছোট বিমান বহুতল ভবনে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দুর্ঘটনাটি ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বিশেষ করে বিমানটি কীভাবে দেশের সবচেয়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল আকাশসীমায় প্রবেশ করল, সে বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি চীনা কর্তৃপক্ষ।   গত ২৬ জুন স্থানীয় সময়ে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট নিহত হন। এছাড়া ভবনে থাকা অন্তত ১৩ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শেষ হলেও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাস্থল বেইজিংয়ের এমন একটি এলাকায়, যেখানে চীনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও রাজনৈতিক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। নিরাপত্তার কারণে এ অঞ্চলের আকাশসীমায় বেসামরিক উড়োজাহাজের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ওই এলাকায় একটি ছোট বিমানের উপস্থিতি এবং পরে সেটির দুর্ঘটনায় পড়া নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো জানায়নি, বিমানটি উড্ডয়নের অনুমতি পেয়েছিল কি না, নির্ধারিত রুট অনুসরণ করছিল কি না অথবা আকাশ প্রতিরক্ষা ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কীভাবে এটি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করেছে।   এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চললেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল এবং নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ধ্বংস হওয়া মার্কিন বিমান নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করল ইরান
ধ্বংস হওয়া মার্কিন বিমান নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করল ইরান

ইরানের আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা ‘ফরাজা’ দক্ষিণ ইসফাহান অঞ্চলে একটি বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের দৃশ্যসহ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে ভূপাতিত সি-১৩০ বিমানের ধ্বংসাবশেষের পাশাপাশি পাইলটের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু নথি ও সরঞ্জামও দেখা গেছে।   ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি মার্কিন সহায়ক বিমান ধ্বংস হওয়ার খবর প্রকাশের পর এই ফুটেজ সামনে আনে ইরানি পুলিশ। সংস্থাটি জানায়, গত ৫ এপ্রিল তাদের বিশেষ ইউনিটের অভিযানে গুলিতে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়।   স্থানীয় সূত্রগুলোর বক্তব্যও একই ধরনের—তাদের দাবি, বিমানটি প্রদেশটির দক্ষিণ অংশে গুলি করে নামানো হয়েছে।   প্রকাশিত ভিডিওতে পাইলটের রেখে যাওয়া কিছু নথি ও ব্যবহৃত সামগ্রীর চিত্র রয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই পাইলট একজন নারী ছিলেন।   এই নতুন প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে অভিযানের অতিরিক্ত তথ্য সামনে এসেছে। একইসঙ্গে এটি শত্রু মোকাবিলায় পুলিশের বিশেষ বাহিনীর প্রস্তুতি ও সক্ষমতার দিকটিও তুলে ধরেছে।   সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্রাইমিয়ায় রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ২৯ আরোহীর মৃত্যু

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর একটি পরিবহন বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ক্রাইমিয়ার রাজধানী সিমফেরোপোলের নিকটবর্তী পাহাড়ি বনাঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে এতে থাকা ২৯ জন আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত এএন-২৬ (An-26) মডেলের বিমানটিতে ৬ জন ক্রু এবং ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউকেই জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রের বাখচিসারাই জেলার কুইবিশেভো গ্রামের কাছে বিমানটি উড্ডয়নরত অবস্থায় বিধ্বস্ত হয়।  যদিও তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি ভূপাতিত হলো সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে এবং ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
স্পেনের পর এবার মার্কিন যুদ্ধবিমানের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইতালির

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিলো ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে সিসিলির সিগোনেলা সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করতে সরাসরি বাধা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।  ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যথাযথ পূর্বানুমতি না থাকায় এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'RAI'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিমানটি যখন মাঝ আকাশে ছিল, তখনই অবতরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, কোনো ধরনের আলোচনা বা আগাম বার্তা ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অধিকন্তু, তদন্তে দেখা গেছে এই ফ্লাইটটি সাধারণ লজিস্টিক বা নিয়মিত কোনো কার্যক্রমের অংশ ছিল না, যা বিদ্যমান চুক্তির পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইতালি আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।  এর আগে স্পেনও একইভাবে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি মার্কিন এবং ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ইতালির এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপীয় দেশগুলোর পরিবর্তিত কূটনৈতিক মেরুকরণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০