বিলিয়নিয়ার

আমি গরিব হয়েই মরতে চাই
'আমি গরিব হয়েই মরতে চাই’ বলে, ৪ বিলিয়ন ডলার দান করে মারা গেলেন বিলিয়নিয়ার

নিজের জীবদ্দশাতেই প্রায় পুরো সম্পদ দান করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছিলেন মার্কিন ধনকুবের ও দানবীর টি. ডেনি স্যানফোর্ড। “আমি নিঃস্ব অবস্থায় মরতে চাই”—বহু বছর আগে দেওয়া সেই ঘোষণাই তাকে আলোচনায় এনে দিয়েছিল। অবশেষে ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন এই বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী, যিনি জীবদ্দশায় বিভিন্ন খাতে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ দান করেছিলেন।    পরিবার ও স্যানফোর্ড হেলথ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই সাউথ ডাকোটায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৯০ বছর। ফোর্বসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।    টি. ডেনি স্যানফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতে নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন। ১৯৮৬ সালে তিনি একটি ছোট ব্যাংক কিনে সেটিকে ফার্স্ট প্রিমিয়ার ব্যাংকে রূপ দেন। পরে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের জন্য ক্রেডিট কার্ড সেবা চালু করে বিপুল সম্পদের মালিক হন।    ব্যবসায় সফল হওয়ার পর তিনি দাতব্য কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেন। জীবদ্দশায় শুধু স্যানফোর্ড হেলথকেই প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার দান করেন। ২০০৭ সালে তৎকালীন সিউক্স ভ্যালি হেলথ সিস্টেমকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘স্যানফোর্ড হেলথ’ রাখা হয়। সে সময় এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বাস্থ্যসেবাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া সবচেয়ে বড় অনুদানগুলোর একটি ছিল।    স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বৃত্তি কর্মসূচি এবং শিশু কল্যাণে তিনি শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন। তার অনুদানে সাউথ ডাকোটায় বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার সুফল পেয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী ও রোগী।    সাউথ ডাকোটার গভর্নর ল্যারি রোডেন তাকে রাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দানবীর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।    তবে তার জীবন পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত ছিল না। ২০২০ সালে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অবৈধ ছবি রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। পরে ২০২২ সালে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিচারযোগ্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং কোনো ফৌজদারি অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। স্যানফোর্ডের আইনজীবীরা বরাবরই দাবি করে আসেন, তার ইমেইল ও ডিভাইসে অন্যদের প্রবেশাধিকার ছিল এবং হ্যাকিংয়েরও প্রমাণ মিলেছিল।    জীবনের শেষ পর্যন্ত নিজের সম্পদ সমাজের কল্যাণে ব্যয় করার দর্শনেই অটল ছিলেন টি. ডেনি স্যানফোর্ড। যদিও তিনি ‘নিঃস্ব’ হয়ে মারা যেতে পারেননি, তবু ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ব্যক্তিগত দানশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে মেগাসিটি প্রকল্প, টেক্সাসে গেল ১০ হাজার চাকরির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে সিলিকন ভ্যালির বিলিয়নিয়ারদের অর্থায়নে শুরু হওয়া মেগা-প্রজেক্ট 'ক্যালিফোর্নিয়া ফরেভার' বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। সোলানো কাউন্টির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একটি নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ার যে উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন তারা দেখেছিল, রাজ্যের কুখ্যাত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা এখন তীব্র সমালোচনার মুখে।   সম্প্রতি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারোনিক টেকনোলজিস তাদের ৩.২ বিলিয়ন ডলারের 'পোর্ট আলফা' স্বয়ংক্রিয় শিপইয়ার্ড ক্যালিফোর্নিয়ার বদলে টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে নির্মাণের ঘোষণা দিলে এই মেগাসিটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়। এই একটি সিদ্ধান্তের ফলেই ক্যালিফোর্নিয়া প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ হারালো।   ক্যালিফোর্নিয়ার সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংকট দূর করা এবং উন্নত উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা খাতে চাকরির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সোলানো কাউন্টির ৫০ হাজার একরেরও বেশি জমি নিয়ে এই মেগা-প্রজেক্টের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। লরেন পাওয়েল জবস, রিড হফম্যান, মার্ক অ্যান্ড্রেসেনের মতো প্রখ্যাত বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারীদের অর্থায়নে ফ্ল্যানারি অ্যাসোসিয়েটস এই বিশাল প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়া ফরেভারের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জ্যান স্রামেক এটিকে একুশ শতকের উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে জমি কেনা হলেও, আমলাতন্ত্র, ধীরগতির আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয়দের বিরোধিতার মতো পুরনো সমস্যাগুলোর কারণে প্রকল্পের কাজ এখনো মাঠ পর্যায়ে শুরু করা যায়নি।   সারোনিক টেকনোলজিসের ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে রাজ্যের ব্যবসায়ী মহলের জন্য একটি বিশাল ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক ও রাজনীতিকরা। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী স্টিভ হিলটন রাজ্যের ব্যবসাবিমুখ মনোভাব এবং অতিরিক্ত নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করে অবিলম্বে এসব বাধা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।   তবে প্রকল্পের পক্ষের আইনপ্রণেতারা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করতে নতুন বিল পাসের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সাবেক ডেমোক্র্যাটিক স্টেট সিনেটর ড্যারেল স্টেইনবার্গ এবং রবার্ট হার্টজবার্গ আশাবাদী যে, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে পারলে ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় শিপবিল্ডার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই স্বপ্নের শহরে বিনিয়োগ করতে ছুটে আসবে। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এখানে ৪ লাখ মানুষের বাসস্থান ও বিশাল বাণিজ্যিক অঞ্চল গড়ে তোলার যে প্রাথমিক রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে এখন রাজ্যের নীতিগত সহায়তাই প্রধান ভরসা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: গেটি ইমেজেস
ক্যালিফোর্নিয়ায় ধনীদের ওপর বাড়তি কর বসানোর প্রস্তাব নিয়ে ভোট নভেম্বরে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের শতকোটিপতি বা ধনকুবেরদের ওপর সাময়িকভাবে অতিরিক্ত কর আরোপের একটি বিতর্কিত প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে। এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকা শ্রমিক ইউনিয়ন সমালোচকদের তীব্র চাপ উপেক্ষা করে চূড়ান্ত লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। 'বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স' বা ধনকুবের কর নামে পরিচিত এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় অঙ্কের তহবিল নিশ্চিত করা।   প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছে সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ওয়েস্ট নামক একটি প্রভাবশালী সংগঠন। এই নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী যেসব ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের বেশি, তাদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা মূলত কেন্দ্রীয় অনুদান হ্রাসের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিকেড স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যয় করা হবে।   ইউনিয়নের এই প্রস্তাবের পক্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন থাকলেও খোদ ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং ইউনিয়নের অনেক পুরনো মিত্র এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের যুক্তি, এটি একটি স্থায়ী সমস্যার সাময়িক সমাধান মাত্র। এর ফলে অতি-ধনী ব্যক্তিরা ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারেন, যার ফলে রাজ্য সরকার নিয়মিত আয়কর বাবদ কোটি কোটি ডলারের স্থায়ী রাজস্ব হারাবে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদের দুই সম্ভাব্য পদপ্রার্থীও এই করের বিরোধিতা করেছেন।   ইতিমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসা, শিক্ষা এবং আবাসন খাতের বিভিন্ন সংগঠন একত্রিত হয়ে এই করের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেছে। তাদের মতে, এই বিপজ্জনক কর ব্যবস্থা রাজ্যের রাজস্ব পরিস্থিতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলবে। এতে স্কুল, ক্লিনিক, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। অদলীয় আইনসভা বিশ্লেষক অফিসও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে প্রথম কয়েক বছর ভালো রাজস্ব এলেও পরবর্তী সময়ে বার্ষিক আয়কর কমতে শুরু করবে।   অন্যদিকে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ধনীরা এই বিলিয়নিয়ার কর ঠেকাতে ইতিমধ্যেই কোটি কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছেন। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রচারণার জন্য একাই ৮২ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া মূলত তার শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর আয়করের ওপর প্রায় অর্ধেক নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটারদের একটি অংশ এই করের পক্ষে থাকলেও নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে এবং আইনি জটিলতা তৈরি হবে, এর সমর্থন তত কমে যেতে পারে।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন, হিল্লোলের পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা

কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন, হিল্লোলের পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০