- প্রচ্ছদ
- Topic
শিশু
শিশুর গুরুতর আঘাত এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজারের বেশি বেবি জাম্পার ও সুইং রিকল করা হয়েছে। ফেডারেল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের এসব পণ্য অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন বা সিপিএসসি জানিয়েছে, রিকলের আওতায় রয়েছে ট্যালেকো গিয়ারের প্রায় ৪১ হাজার ১০০টি বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান বেবি জাম্পার ও সুইং। সিপিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারের সময় এসব পণ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে যেতে পারে। এতে শিশুর পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ঝুলন্ত রেস্ট্রেইন্ট স্ট্র্যাপ এবং সিটের খোলা অংশ শিশুর গলায় আটকে শ্বাসরোধের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ইতোমধ্যে এসব পণ্য নিয়ে ৫২টি ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩২টি ঘটনায় শিশু আহত হয়েছে। আঘাতের মধ্যে মাথায় আঘাত এবং নাক দিয়ে রক্তপাতের ঘটনাও রয়েছে। রিকলের আওতায় থাকা পণ্যগুলো জি ট্যালেকো গিয়ার ব্র্যান্ডের। এর মধ্যে বেবি জাম্পার, বেবি সুইং এবং টু-ইন-ওয়ান জাম্পার ও সুইংয়ের একাধিক মডেল রয়েছে। পণ্যগুলো কালো, সাদা, ধূসর, গোলাপি, নীল ও সবুজ রঙে বিক্রি হয়েছে। রিকল হওয়া মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে Jumper-01 মডেলের বেবি জাম্পার, Swing-1 মডেলের বেবি সুইং এবং Jumper-01 মডেল নম্বরযুক্ত দুই ধরনের টু-ইন-ওয়ান জাম্পার ও সুইং। ফলে বাসায় এ ধরনের পণ্য থাকলে অভিভাবকদের মডেল নম্বর মিলিয়ে দেখা জরুরি। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট এবং ট্যালেকো গিয়ারের নিজস্ব অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে পণ্যগুলো বিক্রি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় দেশজুড়ে বহু পরিবারের কাছে এসব পণ্য থাকতে পারে। ট্যালেকো গিয়ার গ্রাহকদের রিকল হওয়া পণ্য অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করতে বলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা ফুল রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে রিফান্ড পেতে পণ্যটি নষ্ট করে তার ছবি কোম্পানির কাছে জমা দিতে হবে। বিশেষ করে যেসব পরিবার কয়েক বছর আগে বেবি জাম্পার বা সুইং কিনে এখন ছোট সন্তান, আত্মীয়ের শিশু কিংবা অন্য কারও জন্য সেটি ব্যবহার করছেন, তাদেরও মডেল নম্বর পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ রিকলের আওতায় থাকা পণ্যগুলোর বিক্রি শুরু হয়েছিল পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে। রিকল মানেই প্রতিটি পণ্যে দুর্ঘটনা ঘটেছে এমন নয়। তবে নির্দিষ্ট মডেলে এমন নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, যা ব্যবহারের সময় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই রিকলের আওতায় থাকা পণ্য ব্যবহার চালিয়ে না গিয়ে সিপিএসসির নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এক শিশুকে ঘিরে সারোগেট মা ও বায়োলজিক্যাল বাবা-মায়ের বিরোধ এখন জটিল আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। গর্ভাবস্থায় শিশুটির গুরুতর হৃদরোগ ধরা পড়ার পর বায়োলজিক্যাল বাবা-মা গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিলেও সারোগেট ম্যাককেনা ওয়েস্ট তাতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত টেক্সাসে শিশুটির জন্ম হয়েছে এবং বর্তমানে বায়োলজিক্যাল বাবা-মা নওশিন গিলকার ও ওমর আহমেদের শারীরিক হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে নবজাতক। আলাস্কার নার্স ম্যাককেনা ওয়েস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি নওশিন গিলকার ও ওমর আহমেদের জন্য সারোগেট হিসেবে শিশুটিকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। ২০২৫ সালের আগস্টে তাদের মধ্যে সারোগেসি চুক্তি হয় এবং পরে আইভিএফের মাধ্যমে ওয়েস্ট গর্ভবতী হন। গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, শিশুটি হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম বা এইচএলএইচএস নিয়ে বেড়ে উঠছে। এটি জন্মগত একটি গুরুতর হৃদরোগ, যেখানে হৃদযন্ত্রের বাম পাশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না। আক্রান্ত শিশুর জীবন রক্ষায় জন্মের পর একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। আদালতের নথির বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, শিশুটির সম্ভাব্য কষ্ট ও ভবিষ্যৎ জীবনমান নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শের পর গিলকার ও আহমেদ গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের দাবি, সারোগেসি চুক্তিতে ভ্রূণের গুরুতর অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে গর্ভপাতের অনুরোধ করার বিধান ছিল। ওয়েস্ট অবশ্য শেষ পর্যন্ত গর্ভপাত করতে অস্বীকৃতি জানান। তার বক্তব্য, তিনি শিশুটির জীবন শেষ করতে চাননি। এরপর দুই পক্ষের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হতে থাকে এবং বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ওয়েস্ট টেক্সাসে চলে যান। টেক্সাসে প্রায় সব পরিস্থিতিতেই গর্ভপাত নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত আগেই গিলকার ও আহমেদকে শিশুটির আইনি বাবা-মা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আলাস্কার একটি আদালত ওয়েস্টকে জোর করে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাঠানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও মামলার মূল বিচারিক এখতিয়ার ক্যালিফোর্নিয়ার রয়েছে বলে জানায়। এর মধ্যেই বিষয়টি টেক্সাসের আদালত ও রাজ্য সরকারের নজরে আসে। শিশুটির জন্মের ঠিক আগে মামলায় হস্তক্ষেপ করেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন। তার দপ্তরের আবেদনের পর আদালত নির্দেশ দেয়, জন্মের পর শিশুটিকে প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ও স্থিতিশীল রাখার চিকিৎসা দিতে হবে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেই চিকিৎসায় কেউ বাধা দিতে পারবে না। ১২ আগস্ট নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে টেক্সাসে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই এইচএলএইচএসের চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বায়োলজিক্যাল বাবা-মায়ের আইনজীবী লি বাডনার নিশ্চিত করেছেন, শিশুটি বর্তমানে গিলকার ও আহমেদের শারীরিক হেফাজতে রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আদালতের নথিতে শিশুটিকে ‘রুমি’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট এবং তার সমর্থকেরা তাকে ‘গ্যাব্রিয়েল’ নামে ডাকছেন। তবে শিশুর জন্মের মধ্য দিয়ে আইনি বিরোধের অবসান হয়নি। আদালতের বর্তমান আদেশ অনুযায়ী, ওয়েস্ট নিজেকে শিশুটির বাবা-মা বা অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন না, শিশুটির চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না এবং তাকে হাসপাতাল থেকে সরিয়েও নিতে পারবেন না। ওয়েস্টের আইনজীবীর দাবি, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তাকে শিশুটিকে দেখা বা কোলে নেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। ওয়েস্ট এখনো শিশুটির কাস্টডি চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার আইনজীবীরা ক্যালিফোর্নিয়ায় দেওয়া প্যারেন্টেজ আদেশকেও চ্যালেঞ্জ করতে চাইছেন। অন্যদিকে গিলকার ও আহমেদের পক্ষ বলছে, তারা এখন সন্তানের চিকিৎসাতেই মনোযোগ দিতে চান। শিশুটিকে চিকিৎসা না দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না বলেও তারা দাবি করেছেন। মামলাটি সারোগেসি চুক্তি, গর্ভবতী নারীর নিজের শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং জন্মের পর শিশুর আইনি অভিভাবকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সারোগেসি ও প্যারেন্টেজ আইন একরকম না হওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়া, আলাস্কা ও টেক্সাসের আইন এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ২৫ আগস্ট। ওই দিন ডালাস কাউন্টির আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শিশুটির কাস্টডি এবং চলমান বিরোধের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নিয়ে আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া থেকে টরন্টোগামী পোর্টার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ছোট এক শিশু সিটে বসে সিটবেল্ট বাঁধতে না পারায় শেষ পর্যন্ত পুরো ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ৬ আগস্টের এ ঘটনায় শিশুটিকে নিরাপদে সিটবেল্ট পরাতে তার অভিভাবক ও কেবিন ক্রুরা একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল হননি। ফলে উড়োজাহাজটি টার্মিনালে ফিরে যায় এবং পরদিন পর্যন্ত যাত্রীদের ভিক্টোরিয়াতেই থাকতে হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, উড্ডয়নের আগে শিশুটি বারবার নিজের সিটে দাঁড়িয়ে পড়ছিল এবং সিটবেল্ট দিয়ে তাকে নিরাপদে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। যেহেতু একজন যাত্রীকে নিরাপদভাবে সিটে সুরক্ষিত না করে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করা সম্ভব নয়, তাই ক্রুরা বিমানটি আবার টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর শিশুটি, তার অভিভাবক এবং তাদের লাগেজ বিমান থেকে নামানো হয়। একই সঙ্গে নতুন করে ফ্লাইট পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ করতে সময় লাগে। সব মিলিয়ে এত দেরি হয়ে যায় যে ভিক্টোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের রাত ১২টা ৩০ মিনিটের রানওয়ে বন্ধ হওয়ার সময় পেরিয়ে যায়। ফলে সেদিন আর টরন্টোর উদ্দেশে ফ্লাইটটি ছাড়তে পারেনি। ফ্লাইটের অন্য যাত্রীদেরও বিমান থেকে নেমে রাতটি ভিক্টোরিয়ায় কাটাতে হয়। পরে তাদের পরদিনের ফ্লাইটে পুনরায় বুকিং দেওয়া হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই বিমান ভ্রমণের সময় ছোট শিশুদের নিরাপদে সিটে রাখার দায়িত্ব এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে শিশুটির পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পোর্টার এয়ারলাইন্সের নীতিমালা অনুযায়ী, ফ্লাইট বাতিল বা বড় ধরনের বিলম্ব হলে যাত্রীদের পরবর্তী উপলভ্য ফ্লাইটে বিনা খরচে পুনরায় বুকিং দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
শনিবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ম্যাকহেনরি শহরে ২২ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে নিয়ে স্বাভাবিক হাঁটার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁরা আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই এই বাবা ও ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ এই দুজনকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিশাল তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগ এবং পিপল ম্যাগাজিনের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিখোঁজ ওই বাবার নাম টড সাবাতিনি (৩৬) এবং তাঁর ছেলের নাম থিও। গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি ইলিনয়ের ম্যাকহেনরির নিজ বাড়ি থেকে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হন। পরিবার জানিয়েছে, বাবা ও ছেলের এভাবে হাঁটতে বের হওয়াটা ছিল নিত্যদিনের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ পিপল ম্যাগাজিনকে জানায়, টডের এমন আচরণ একেবারেই অস্বাভাবিক। তাছাড়া থিওকে নিয়ে লম্বা সময় বাইরে থাকার মতো কোনো প্রস্তুতি বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও টডের সঙ্গে ছিল না, যা পরিবার ও পুলিশকে আরও বেশি ভাবিয়ে তুলেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। একটি স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পেছনে থিওর স্ট্রলারটি (শিশুদের গাড়ি) পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সুপারমার্কেটের কাছে জিওন লুথেরান চার্চের ভেতর কারও সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন সাবাতিনি। এছাড়া স্থানীয় একটি টাকো বেল রেস্তোরাঁতেও তিনি একজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এরপরের ঘটনাটি আরও রহস্যজনক। পুলিশ জানায়, বাবা ও ছেলে একটি রাইডশেয়ারিং গাড়ি ভাড়া করে প্রায় এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের গ্রিনফিল্ড পুলিশ বিভাগে পৌঁছান। সেখানে সাবাতিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু শনিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি থিওকে নিয়ে পায়ে হেঁটেই ওই থানা থেকে বেরিয়ে যান। ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ। শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক আপডেটে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যে টড ও থিও বর্তমানে উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে অবস্থান করছেন। তাঁদের সন্ধানে ইলিনয় ও উইসকনসিনের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার সময় শিশু থিওর পরনে ছিল নীল শার্ট ও গাঢ় রঙের শর্টস। অন্যদিকে টড সাবাতিনির পরনে ছিল নীল-কালো রঙের ফ্লানেল শার্ট, ধূসর ট্যাংক টপ, জিন্স এবং কনভার্স জুতো। আগের ছবিগুলোতে তাঁর মুখে ঘন দাড়ি দেখা গেলেও, পুলিশ জানিয়েছে বর্তমানে তিনি ক্লিন-শেভড। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউইয়র্ক পোস্টের পক্ষ থেকে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে টড এবং থিওর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগের নির্দিষ্ট নম্বরে (৮১৫-৩৬৩-২১৩০) যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির মারফ্রিসবোরোতে প্রায় দুই বছরের এক শিশুকে রাস্তায় একা ঘুরতে দেখে উদ্ধার করেছেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—ICE-এর কর্মকর্তারা। শিশুটির পরনে ছিল শুধু একটি ময়লা ডায়াপার। ১৩ জুলাই নিয়মিত কার্যক্রমের সময় শিশুটিকে রাস্তায় দেখতে পান ICE-এর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, শিশুটি কয়েক ঘণ্টা ধরে কোনো প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান ছাড়াই ছিল। একপর্যায়ে শিশুটি সড়কে চলে গেলে একটি গাড়ির ধাক্কা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত শিশুটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেন কর্মকর্তারা এবং সহায়তার জন্য মারফ্রিসবোরো পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ আসার অপেক্ষায় আশপাশে খোঁজ করতে গিয়ে কর্মকর্তারা কাছের একটি অ্যাপার্টমেন্টে শিশুটির মাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান। অ্যাপার্টমেন্টের দরজাও খোলা ছিল এবং ছেলে যে বাইরে চলে গেছে, সে বিষয়ে মা অবগত ছিলেন না। পরে মারফ্রিসবোরো পুলিশ শিশুটির দায়িত্ব নেয়। পুলিশ জানায়, মা বলেছেন—এটাই প্রথমবার তার সন্তান কোনো প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান ছাড়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সৌভাগ্যক্রমে শিশুটি কোনো আঘাত ছাড়াই নিরাপদে ছিল এবং পরে তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি মামলা করা হয়নি। তবে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কল্যাণ নিশ্চিত করতে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেনস সার্ভিসেসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ICE-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্বের অংশ। তবে ঘটনাটি ICE-এর নিয়মিত অভিবাসন কার্যক্রমের বাইরে একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘটনায় পরিণত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে ৬ বছর বয়সী শিশু লোগান টিপটন হত্যাকাণ্ডে জড়িত রোনাল্ড এক্সান্টাস কারামুক্ত হওয়ায় নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিশুটির পরিবার বলছে, বিচারব্যবস্থা তাদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। অন্যদিকে কেন্টাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালত নির্ধারিত সাজা সম্পূর্ণ হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর কেন্টাকির ভার্সেইলস শহরের একটি বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ৬ বছর বয়সী লোগান টিপটনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন রোনাল্ড এক্সান্টাস। হামলায় শিশুটির বাবা এবং দুই বোনও গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আদালতে হত্যার অভিযোগে তাকে 'মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে দায়মুক্ত' ঘোষণা করা হয়। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাভোগের সময় আইন অনুযায়ী বিভিন্ন সাজা-ছাড়ের সুবিধা পাওয়ায় তার মুক্তির সময় এগিয়ে আসে। এটি এক্সান্টাসের প্রথম মুক্তি নয়। ২০২৫ সালে তিনি বাধ্যতামূলক তত্ত্বাবধান কর্মসূচির আওতায় মুক্তি পেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ফ্লোরিডায় গিয়ে নিবন্ধন-সংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করায় তাকে আবার গ্রেপ্তার করে কেন্টাকিতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে বাকি সাজা শেষ করে এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান। লোগানের বাবা ডিন টিপটন ছেলের হত্যাকারীর মুক্তিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের পরিবার আজীবনের শাস্তি ভোগ করছে, অথচ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি মুক্ত জীবন ফিরে পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কেন্টাকিতে 'লোগানস ল' নামে একটি আইন পাস হয়েছে। নতুন আইনে সহিংস অপরাধীদের সাজা, প্যারোল এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। তবে আইনটি পূর্ববর্তী মামলায় প্রযোজ্য না হওয়ায় এক্সান্টাস এর আওতায় পড়েননি। কেন্টাকি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস জানিয়েছে, এক্সান্টাসকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়নি এবং প্যারোল বোর্ডও তাকে মুক্ত করেনি। আদালতের দেওয়া সাজা পূর্ণ হওয়ার পর বিদ্যমান আইন অনুসারেই তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে অন্তত একজন অভিভাবক হারানো ১০০ শিশু দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আয়োজিত ৫০০ মিটারের একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। যুদ্ধে অনাথ হয়ে পড়া শিশুদের মানসিকভাবে সাহস জোগানো এবং সমাজের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতাটি শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; বরং যুদ্ধের মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে শিশুদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরির একটি প্রচেষ্টা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও সামাজিক কার্যক্রমও রাখা হয়। অংশগ্রহণকারী শিশুদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, যুদ্ধ তাদের জীবন আমূল বদলে দিয়েছে। অনেক শিশু বাবা, মা অথবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে। তবুও দৌড়ে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে যায়নি। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বহুবার সতর্ক করেছে, গাজায় যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার শিশু এতিম হয়েছে বা পরিবারের প্রধান অভিভাবককে হারিয়েছে। এসব শিশুর জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবারও জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাতে খান ইউনিসসহ গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং শিশুদের বড় একটি অংশ শিক্ষা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই বাস্তবতায় আয়োজকেরা বলছেন, এমন সামাজিক উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মেকানিকভিলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হওয়া চার শিশুসহ মা ও নানির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সে সময় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছিল পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ওই চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছিল এবং ৪৪ বছর বয়সি মা সারাহ মায়ার্স ও ৬৪ বছর বয়সি নানি অ্যামি স্টেডম্যান নিজেরা আত্মহত্যা করেছিলেন। ২৩ জুন ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। নিহত চার শিশু ছিল—১৩ বছর বয়সি হার্পার, ১১ বছরের হাডসন এবং ১০ বছর বয়সি যমজ ভাই-বোন গ্যাভিন ও গ্রেসলিন হারমন। পুলিশ শিশুদের এই মৃত্যুকে সে সময় আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেছিল। মেকানিকভিলের পুলিশ প্রধান উইলিয়াম র্যাবিট জানিয়েছিলেন, নিহত শিশুদের মধ্যে একজনকে মারাত্মক ছুরিকাঘাতে এবং বাকি তিনজনকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের প্যাকেটের সূত্র ধরে একে 'ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগ' বলে উল্লেখ করেছিল পুলিশ। এছাড়া ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি হাতে লেখা চিরকুটের ভিত্তিতে প্রথমে এই হত্যাকাণ্ডে শুধু নানি অ্যামি স্টেডম্যানের জড়িত থাকার কথা ভাবা হলেও, পরে মা সারাহ মায়ার্সেরও সম্পৃক্ততা থাকার সন্দেহ করা হয়েছিল। পুলিশ তখন টক্সিকোলজি (বিষবিদ্যা) পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিল। প্রতিবেশীদের অনুরোধে পুলিশ ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে পচে যাওয়া মরদেহগুলো উদ্ধার করেছিল। জানা গিয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে ওই শিশুদের বাবা ব্র্যাডি হারমনের সাথে তাদের মা সারাহর অভিভাবকত্ব নিয়ে তিক্ত আইনি লড়াই চলছিল। উটাহ অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ব্র্যাডি ২০১৯ সালের পর থেকে সন্তানদের সরাসরি দেখেননি, তবে সেবার গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের উটাহতে যাওয়ার কথা ছিল। মৃত্যুর আগে ৭ জুন সর্বশেষ তিনি তার সন্তানদের সাথে কথা বলেছিলেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর নিহত চার শিশুর দেহাবশেষ উটাহতে নিয়ে গিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় তাদের দাদার সমাধির পাশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে সুইমিং পুলে ডুবে যাওয়ার পর ভুলবশত মৃত ঘোষণা করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পরে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রসিকিউটররা। শুরুতে পুলিশের সুপারিশে অবহেলার অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৮ ফেব্রুয়ারি অ্যারিজোনার গিলবার্ট শহরে। পরিবারের বাড়ির সুইমিং পুলে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে জরুরি সেবাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালের মর্গে কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কর্মীরা শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস লক্ষ্য করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসায় সে বেঁচে যায়। ঘটনার পর গিলবার্ট পুলিশ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আনার সুপারিশ করেছিল। তবে ম্যারিকোপা কাউন্টির অ্যাটর্নি র্যাচেল মিচেল জানান, তদন্তে দেখা গেছে বাড়িতে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য একাধিক সুরক্ষাব্যবস্থা ছিল, ঘটনার সময় কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক উপস্থিত ছিলেন এবং বাবা-মা মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এসব কারণ বিবেচনায় অভিযোগ দায়ের না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের নথিতে আরও উঠে এসেছে, হাসপাতালে শিশুটিকে মৃত ঘোষণার আগে ও পরে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং চিকিৎসাকর্মী তার মধ্যে জীবনের লক্ষণ দেখতে পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল জানিয়েছে, পুরো ঘটনার অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিশুটি বর্তমানে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং রোগীকে মৃত ঘোষণার চিকিৎসা-প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্কটল্যান্ডের একটি মসজিদে শিশু স্কাউটদের শিক্ষামূলক সফরের বাস্তব ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তিকর দাবি। কোথাও ঘটনাটিকে স্কুলের ফিল্ড ট্রিপ, কোথাও শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানো এবং একটি শিশুর সেই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ছড়ানো হয়েছে সম্পাদিত ছবি এবং পরে একই ঘটনার নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি সম্পূর্ণ ভুয়া ছবিও। ব্রিটিশ ফ্যাক্টচেক সংস্থা ফুল ফ্যাক্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূল ভিডিওটি বাস্তব। এটি স্কটল্যান্ডের একটি বিভার স্কাউট দলের মসজিদ পরিদর্শনের সময় ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওতে কয়েকজন শিশুকে মুসলিমদের নামাজের বিভিন্ন শারীরিক ভঙ্গি অনুসরণ করতে এবং একটি শিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বেশ কিছু পোস্টে ঘটনাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তার সঙ্গে যাচাই করা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোর একটিতে দাবি করা হয়, একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের স্কুলের ফিল্ড ট্রিপে মসজিদে নিয়ে যান। সেখানে একজন ইমাম শিশুদের ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেন, মেয়েদের বোরকা পরার পদ্ধতি দেখান এবং সবাইকে নামাজের জন্য নত হতে বলেন। পোস্টটিতে আরও দাবি করা হয়, শুধু একটি ছেলে নত হতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফিল্ড ট্রিপ ছিল না। শিশুরা যুক্তরাজ্যের স্কাউট আন্দোলনের বিভার স্কাউট দলের সদস্য হিসেবে মসজিদটি পরিদর্শন করেছিল। শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানোর দাবিও অস্বীকার করেছে স্কাউট কর্তৃপক্ষ। ফুল ফ্যাক্টকে স্কাউটসের একজন মুখপাত্র জানান, শিশুরা প্রকৃত নামাজে অংশ নিচ্ছিল না। ইমাম মুসলমানরা নামাজের সময় যেসব শারীরিক ভঙ্গি করেন, সেগুলো দেখাচ্ছিলেন। শিশুদের ইচ্ছা হলে সেই ভঙ্গি অনুসরণ করার সুযোগ ছিল। এতে অংশ নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। ভিডিওতে একটি শিশুকে অন্যদের মতো নত না হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ইসলামি প্রার্থনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো শিশু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে শিশুটি কেন দাঁড়িয়ে ছিল কিংবা সে প্রতিবাদ হিসেবে নামাজের ভঙ্গি অনুসরণ করেনি কি না, তা নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধু ভিডিওর দৃশ্য দেখে শিশুটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর। ছবিটিতে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির পাশে সাদা পোশাক ও টুপি পরা লম্বা দাড়িওয়ালা একজন ব্যক্তিকে দেখা যায়। ছবিটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন ওই ব্যক্তিই শিশুদের সামনে দাঁড়িয়ে নামাজের নির্দেশনা দিচ্ছেন। কিন্তু স্কাউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি মূল ভিডিওতে ছিলেনই না। ফুল ফ্যাক্ট মূল ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ছবিটি তুলনা করে আরও কিছু অসঙ্গতি শনাক্ত করে। স্কাউটসের মুখপাত্রও নিশ্চিত করেন, সাদা পোশাকের দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে পরবর্তীতে ছবিতে যোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাস্তব ভিডিও থেকে নেওয়া একটি দৃশ্য ডিজিটালি পরিবর্তন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই একই মসজিদ সফরের ঘটনা দাবি করে নতুন কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। এবার ছবিগুলো শুধু সম্পাদিত নয়, পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি। ১০ জুন প্রকাশিত আরেকটি যাচাই প্রতিবেদনে ফুল ফ্যাক্ট জানায়, এসব ছবির শিশু, পোশাক ও কক্ষের সঙ্গে প্রকৃত ভিডিওর দৃশ্যের মিল নেই। ছবিগুলোতে এমন ডিজিটাল চিহ্নও পাওয়া গেছে যা সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে। ফলে পুরো ঘটনাটিতে বাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আলাদা করা গুরুত্বপূর্ণ। স্কটল্যান্ডে বিভার স্কাউটদের একটি দলের মসজিদ পরিদর্শন বাস্তব। সেখানে মুসলমানদের নামাজের ভঙ্গি শিশুদের দেখানো হয়েছিল এবং কয়েকজন শিশু তা অনুসরণ করেছিল। একটি শিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে। কিন্তু শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানোর দাবি যাচাই করা যায়নি। বরং স্কাউট কর্তৃপক্ষ বলেছে, অংশগ্রহণ ছিল ঐচ্ছিক। একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটি ধর্মীয় কারণে প্রতিবাদ করেছিল, এমন দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফিল্ড ট্রিপ হিসেবে উপস্থাপন করাও সঠিক নয়। আর ভাইরাল হওয়া দাড়িওয়ালা ব্যক্তিসহ ছবিটি সম্পাদিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনে ইসলাম ও মুসলিমদের ঘিরে আরও বেশ কয়েকটি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও দাবি শনাক্ত করেছে ফুল ফ্যাক্ট। এর মধ্যে ব্রিটেনে শরিয়াহ আইন চালুর দাবি, হালাল নীতির কারণে যুক্তরাজ্যের স্টারবাকসে কুকুর নিষিদ্ধ করার দাবি এবং লন্ডনে হালাল খাদ্যের দাবিতে মুসলিমদের বিশাল মিছিলের নামে ছড়ানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও রয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে কোনো সংগঠিত যোগসূত্র রয়েছে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো পক্ষ সমন্বিতভাবে ইসলামবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইসলাম ও মুসলিমদের ঘিরে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা, সম্পাদিত ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি কনটেন্ট যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার একাধিক ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নথিবদ্ধ হয়েছে। স্কটল্যান্ডের শিশু স্কাউটদের মসজিদ সফরের ঘটনাটি দেখায়, একটি বাস্তব ভিডিওর সঙ্গে অযাচাইকৃত ব্যাখ্যা এবং পরিবর্তিত বা কৃত্রিম ছবি যুক্ত হলে মূল ঘটনা কত দ্রুত ভিন্ন বর্ণনায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ধর্মের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তাই ভাইরাল ছবি বা ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে মূল ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওয়ার্থে দাঁতের একটি নিয়মিত চিকিৎসা চলাকালে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এক দন্তচিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, চিকিৎসার আগে শিশুটিকে একাধিক সেডেটিভ ওষুধ দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর মাত্রা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ ঘটনায় দন্তচিকিৎসক ডা. ক্রিশেল হেমফিলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ টেক্সাস জানিয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী ডা. ক্রিশেল হেমফিলকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রেপ্তারি নথিতে বলা হয়েছে, তিনি চার বছর বয়সী আইথানা আরিয়াগাকে মুখে খাওয়ানোর জন্য মেপেরিডিন (ডেমেরল) নামের একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধের তরল দ্রবণ দেন। এর পাশাপাশি আরও দুটি সেডেটিভ এবং নাইট্রাস অক্সাইডও প্রয়োগ করা হয়েছিল। তদন্তে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল ফোর্ট ওয়ার্থের সাইকামোর স্কুল রোডে অবস্থিত কাডল কিডস ডেন্টাল কেয়ার ক্লিনিকে শিশুটির জিহ্বার নিচের টিস্যু সংশোধনের একটি নিয়মিত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। ক্লিনিকটির মালিক ডা. হেমফিল নিজেই ওই চিকিৎসা পরিচালনা করছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, চিকিৎসা শুরুর আগে শিশুটিকে একাধিক সেডেটিভ দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ওষুধগুলো ডা. হেমফিল নিজেই প্রয়োগ করেছিলেন। শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে ডা. হেমফিল তাকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দিয়ে হৃদ্যন্ত্র সচল রাখার চেষ্টা (সিপিআর) শুরু করেন। পরে মধ্যাহ্ন বিরতিতে থাকা আরেকজন দন্তচিকিৎসক এসে সিপিআর চালিয়ে যান। এরপর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তদন্তে যুক্ত ট্যারান্ট কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে যে পরিমাণ মেপেরিডিন পাওয়া গেছে, তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্যও অনেক বেশি বলে বিবেচিত হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শিশুটিকে ওষুধটি দুই দফায় দেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আইথানা আরিয়াগার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মেপেরিডিন বিষক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ডা. হেমফিলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং মামলার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি টেক্সাসে শিশুদের দন্তচিকিৎসায় সেডেটিভ ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে সেডেটিভ ওষুধ ব্যবহারের সময় ওষুধের ধরন, মাত্রা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি। সূত্র: সিবিএস নিউজ টেক্সাস, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ট্যারান্ট কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে নদীতীরবর্তী একটি পার্কে বেড়াতে এসে দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হলো একটি পর্যটক পরিবার। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নগ্ন অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তি সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে এক নগ্ন ব্যক্তি দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং পথচারীদের হয়রানি করছেন—এমন একাধিক অভিযোগ আসে। একজন কলকারী জানান, ওই ব্যক্তি তাকে মাথায় ঘুষি মারারও চেষ্টা করেন। তবে সে সময় অন্য জরুরি ঘটনায় ব্যস্ত থাকায় পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। প্রায় ১২ মিনিট পর আরেকটি জরুরি ফোনে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি সাত বছরের শিশুকন্যার হাত ধরে তাকে তার মায়ের কাছ থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাছের উইলামেট নদীতে সাঁতার কাটতে থাকা সন্দেহভাজনকে আটক করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ৩১ বছর বয়সী ড্যানিয়েল ভেসি। তার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের চেষ্টা, প্রথম ডিগ্রির কাস্টডিয়াল ইন্টারফিয়ারেন্স, তৃতীয় ডিগ্রির হামলা এবং হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মাল্টনোমা কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ভেসি শিশুটির একটি হাত ধরে টানতে শুরু করলে তার মা অন্য হাত ধরে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। টানাহেঁচড়া এতটাই তীব্র ছিল যে একপর্যায়ে শিশুটি মাটি থেকে ওপরে উঠে যায়। এ সময় শিশুটির বাবা এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারী দ্রুত এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে ঘুষি, থাপ্পড় ও ধাক্কা দিয়ে শিশুটিকে তার কবল থেকে মুক্ত করেন। একজন পথচারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেপার স্প্রেও ব্যবহার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি গুরুতর আহত হয়নি। ঘটনাস্থলে চিকিৎসাকর্মীরা তাকে পরীক্ষা করে শরীরে থাকা সামান্য আঁচড়ের চিকিৎসা দেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়েনি। শিশুটির পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, তারা অন্য একটি অঙ্গরাজ্য থেকে পোর্টল্যান্ডে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের মতে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ভিনটন কাউন্টিতে একটি মলমূত্রপূর্ণ বাড়ি থেকে অত্যন্ত শোচনীয় ও 'প্রায় বন্য' অবস্থায় ১৬ জন ভাইবোনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশুদের সাহায্যার্থে ১ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ওহাইও রাজ্য সরকার। সোমবার ওহাইওর শিশু ও যুব বিষয়ক দপ্তরের এই আর্থিক সহায়তার অনুরোধ একটি রাজ্য আইনসভা প্যানেল অনুমোদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, এই ভয়াবহ ঘটনায় শিশুদের বাবা-মা এবং দাদা-দাদিকে স্থায়ীভাবে কারাগারে পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন প্রসিকিউটররা। উদ্ধার হওয়া সাইডার্স পরিবারের এই ১৬ ভাইবোনের বয়স ১৮ মাস থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে অনেকেই ঠিকমতো কথা বলতে পারে না, আর কয়েকজনকে তো 'প্রায় বন্য' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো শিশুকে সাময়িক হেফাজতে নেওয়ার পর ভিনটন কাউন্টির মতো ছোট এলাকার শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হয়। মাত্র ১২ হাজার ৬০০ জন বাসিন্দার এই কাউন্টির বাজেট ওহাইওর ৮৮টি কাউন্টির মধ্যে সবচেয়ে কম। এতগুলো শিশুর একসঙ্গে থাকা-খাওয়ার বিপুল খরচের ধাক্কা সামলাতেই মূলত রাজ্য সরকার ১ মিলিয়ন ডলার নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ভিনটন কাউন্টির প্রসিকিউটর উইলিয়াম আর্চার জুনিয়র জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে শিশুদের দাদা গ্যারি সাইডার্স সিনিয়রের চিকিৎসা ব্যয় পুরো কাউন্টিকে দেউলিয়া করে দিতে পারে। কারাগারে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হওয়ায় তার বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। করদাতাদের ওপর এই বিপুল খরচের বোঝা না চাপিয়ে আদালত তার জামিনের শর্ত পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত জিম্মায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এর আগে গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র, তার স্ত্রী ক্রিস্টিনা স্যান্ডার্স (৬৭), ছেলে গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র (৩৬) এবং পুত্রবধূ এলিজাবেথ সাইডার্সকে (৩৩) ৩ লাখ ডলারের ক্যাশ বন্ডে কাউন্টি জেলে আটকে রাখা হয়েছিল। গত ৩০ জুন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মামলার ওয়ারেন্ট তামিল করতে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ হ্যামডেনের ওই বাড়িতে যায়। সেখানে তল্লাশি চালাতে গিয়েই তারা মলমূত্র ও আবর্জনায় ভরা মাত্র ১২ বাই ১২ ফুটের একটি ছোট বদ্ধ ঘরে ১৬ জন শিশুকে অমানবিক অবস্থায় আবিষ্কার করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই শিশুরা গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র এবং এলিজাবেথ সাইডার্সের সন্তান। তাদের কখনোই স্কুলে ভর্তি করা হয়নি এবং অনেকেই একেবারেই কথা বলতে পারে না। উদ্ধারের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কয়েকজনকে ওহাইওর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু ও যুব দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এই শিশুদের পুনর্বাসনে প্রতিদিন মাথাপিছু ১৫০ থেকে ২৫০ ডলার খরচ হবে, যা বছরে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ডলারে দাঁড়াবে। এমন অমানবিক পরিস্থিতির জন্য ওই চার অভিভাবকের বিরুদ্ধে ৬৮টি শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিশুর সঙ্গে ধর্ষণ ও যৌন অসদাচরণের অভিযোগে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে ও জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি শিশুর সঙ্গে ধর্ষণ এবং যৌন অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর পরিচয় ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে নিজের ১৫ মাস বয়সী শিশুকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ির ভেতর রেখে কাজে যাওয়ার দায়ে এক মাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই মা খাবার কেনার জন্য ম্যাকডোনাল্ডসেও থেমেছিলেন বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। ভেনেসা এসকুইভেল নামের ২৮ বছর বয়সী ওই নারীকে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। গত বছরের ১৬ আগস্ট ডালাস থেকে প্রায় ২৫ মাইল উত্তরে অবস্থিত ফ্রিসকো শহরে এই ঘটনা ঘটে। ফ্রিসকো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেসা জানতেন যে তার গাড়ির এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) নষ্ট এবং সে সময় বাইরের তাপমাত্রা ছিল অন্তত ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তা সত্ত্বেও তিনি শিশুটিকে গাড়িতে আটকে রেখে ‘হ্যান্ড অ্যান্ড স্টোন ম্যাসাজ অ্যান্ড ফেসিয়াল স্পা’-তে নিজের শিফটে কাজ করতে যান। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ওই দিন দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি সেখানে কাজ করেছিলেন। কাজ শেষে গরমে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটিকে নিয়ে তিনি মেডিকেল সিটি প্ল্যানো হাসপাতালে যান। তবে একটি তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে পিপল ম্যাগাজিন জানিয়েছে, হাসপাতালে যাওয়ার পথেই তিনি ম্যাকডোনাল্ডসে যাত্রাবিরতি নিয়েছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ভেনেসা পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, তিনি সেদিন কাজে যাননি বরং এসি নষ্ট থাকায় শিশুটিকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ঘুরছিলেন। তবে তদন্তে তার এই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ঘটনার পরের দিন এক সহকর্মীর সাথে ফোনে কথা বলার সময় ভেনেসা নিজের দোষ স্বীকার করেন। রেকর্ড করা ওই ফোনালাপে তিনি জানান, সন্তানকে দেখাশোনার জন্য কাউকে না পেয়ে তিনি চরম বিপাকে পড়েছিলেন এবং বাধ্য হয়েই শিশুটিকে গাড়িতে রেখে যান। ফক্স ফোর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেসা ফোনালাপে স্বীকার করেছিলেন যে এই ঘটনা সম্পূর্ণ তার নিজের দোষ এবং তিনি বুঝতে পারছিলেন সন্তানের মৃত্যুর দায়ে তাকে গ্রেপ্তার হতে হবে। এই মামলার প্রধান প্রসিকিউটর অ্যাশলে উডল রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, এত ছোট শিশুদের কখনোই গাড়িতে একা ফেলে রাখা উচিত নয়, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এবং টেক্সাসের মতো জায়গায় তো নয়ই। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে জুরি বোর্ডের এই রায় সমাজের এমন দায়িত্বহীন অভিভাবকদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লেক ইরিতে নৌভ্রমণে গিয়ে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক প্রতিবেশী নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই নৌকায় থাকা আরেক ব্যক্তির মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছে শিশুটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম People, New York Post এবং ১৩ Action News–এর খবরে বলা হয়, গত ১ জুলাই ওহাইওর জেরুজালেম টাউনশিপের মেইঙ্কে মেরিনা থেকে ছোট একটি মোটরচালিত নৌকায় বেড়াতে বের হয় ১১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিক কানিংহাম। তার সঙ্গে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী প্রতিবেশী ক্রিস্টেন গেরি এবং ৩৮ বছর বয়সী জনাথন সিহা। কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌযাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড, লুকাস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর, ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এরপরের দিন লেক ইরির পানিতে জনাথন সিহার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, ক্রিস্টেন গেরি সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে (Child Endangerment) গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে, কয়েক দিনের টানা অনুসন্ধানের পর লেক ইরির তীরবর্তী এলাকায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেটি নিখোঁজ অ্যাঞ্জেলিক কানিংহামের কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। লুকাস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, নৌকায় ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং এতে কারও অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া এবং একই নৌযাত্রায় একজনের মৃত্যু—দুই ঘটনাই তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১৮ মাস বয়সী এক শিশুকে সুইমিং পুলে ডুবে যাওয়ার পর হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হলেও, পরে মর্গে নেওয়ার সময় তার শরীরে ক্ষীণ হৃদস্পন্দন শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালের চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং শিশুটির পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্তও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গিলবার্ট শহরে। সম্প্রতি প্রকাশিত ৯১১ নম্বরে করা জরুরি ফোনকলের অডিও, পুলিশ নথি এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে ঘটনার বিস্তারিত সামনে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ মাস বয়সী ভিনসেন্ট লরেঞ্জো ফিওরডিলিনোকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পেছনের সুইমিং পুলে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে একই ঠিকানা থেকে জরুরি সেবা নম্বরে দুটি ফোন করা হয়। প্রথম ফোনে এক স্বজন আতঙ্কিত কণ্ঠে জানান, তিনি তার ভাগ্নেকে পুলে পড়ে থাকতে দেখেছেন। অপারেটর জানতে চান শিশুটি শ্বাস নিচ্ছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, তারা নিশ্চিত নন। অন্য একটি ফোনকলে পরিবারের এক নারী সদস্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা তার বুকে চাপ দিয়ে পুনরুজ্জীবনের (সিপিআর) চেষ্টা করছেন। তবে শিশুটি কতক্ষণ পানির নিচে ছিল, তা তারা জানতেন না। জরুরি সেবা কেন্দ্রের অপারেটর শিশুটির ওজন, ঠিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সিপিআর চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিতে থাকেন। ফোনালাপের একপর্যায়ে পরিবারের সদস্য জানান, শিশুটি সামান্য সাড়া দিতে শুরু করেছে বলেও মনে হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর শিশুটিকে দ্রুত মার্সি গিলবার্ট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পুলিশি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য শিশুটির শরীরে জীবনের কিছু লক্ষণ লক্ষ্য করেছিলেন। এমনকি একজন নার্সও শিশুটির হৃদস্পন্দন অনুভব করার কথা বলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি নিজের চিকিৎসাগত সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখার কথা বলেন এবং দায়িত্ব পালনে বাধা না দিতে অনুরোধ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর মর্গ থেকে মরদেহ গ্রহণ করতে আসা এক মেডিকেল পরীক্ষক শিশুটির শরীরে ক্ষীণ হৃদস্পন্দন টের পান। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে তাকে ফিনিক্স চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শিশুটির পরিবারের খোলা তহবিল সংগ্রহের (গোফান্ডমি) পৃষ্ঠায় জানানো হয়, প্রথমদিকে চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন যে শিশুটির একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাচ্ছে এবং তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। তবে কয়েক দিন পর করা এমআরআই পরীক্ষায় দেখা যায়, তার মস্তিষ্কে স্থায়ী কোনো ক্ষতি হয়নি। কেবল সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা শিশুটির বেড়ে ওঠার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য, শিশুটি এখনো দীর্ঘ চিকিৎসা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন ধরনের পুনর্বাসন থেরাপির প্রয়োজন হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ স্বাস্থ্য হালনাগাদে জানানো হয়, সে ভেন্টিলেটরের সহায়তায় শ্বাস নিচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা ধীরে ধীরে তার চিকিৎসা এগিয়ে নিচ্ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীদের কেউ কেউ তাকে "অলৌকিক শিশু" বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, নিবিড় পরিচর্যা, বিমানযোগে স্থানান্তর, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পুনর্বাসনের ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা অনলাইনে অনুদান সংগ্রহ শুরু করেন। এদিকে ঘটনাটি ঘিরে শিশুটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর করা বিষবিদ্যা পরীক্ষায় শিশুটির বাবা-মায়ের শরীরে টিএইচসি (গাঁজার সক্রিয় উপাদান) শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা বাড়ির গ্যারেজে গাঁজার তীব্র গন্ধও পেয়েছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, মাদক সেবনের কারণে শিশুর নিরাপত্তায় অবহেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে গিলবার্ট পুলিশ বিভাগ শিশুটির বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত একটি গুরুতর অভিযোগ আনার সুপারিশ করেছে। পুলিশ বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে দুজনের বিরুদ্ধেই শিশু নির্যাতনের একটি ফৌজদারি অভিযোগ আনার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ম্যারিকোপা কাউন্টি অ্যাটর্নি'স অফিস জানিয়েছে, তারা পুলিশের সুপারিশ পেয়েছে এবং বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সঞ্চয় গড়ে তুলতে চালু হচ্ছে নতুন সরকারি বিনিয়োগভিত্তিক কর্মসূচি ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’। আগামী ৪ জুলাই থেকে এসব অ্যাকাউন্টে প্রথমবারের মতো অর্থ জমা দেওয়া শুরু হবে। যেসব অভিভাবক এখনো তাদের সন্তানকে নিবন্ধন করেননি, তারাও নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন করার সুযোগ পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৬০ লাখের বেশি শিশুর জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৪ জুলাই কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে এবং সেদিন থেকেই অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়া যাবে। ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগভিত্তিক একটি সঞ্চয় কর্মসূচি। এটি অবসরের জন্য ব্যবহৃত ব্যক্তিগত বিনিয়োগ হিসাবের (আইআরএ) মতো পরিচালিত হবে। শিশু ১৮ বছর পূর্ণ করার আগ পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধি পাবে। পরে উচ্চশিক্ষা, বাড়ি কেনা, ব্যবসা শুরু করা বা আইনে নির্ধারিত অন্যান্য অনুমোদিত কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। যেসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা যোগ্য বাসিন্দা, বয়স ১৮ বছরের কম এবং বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর (সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর) রয়েছে, তারা এই কর্মসূচির আওতায় অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পাবে। কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় অনেক অভিভাবক ফর্ম ৪৫৪৭ পূরণ করে সন্তানের জন্য এই অ্যাকাউন্টের আবেদন করেছিলেন। তবে যারা তখন আবেদন করতে পারেননি, কিংবা কর রিটার্ন জমার সময়সীমার পরে যাদের সন্তানের জন্ম হয়েছে, তাদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। অনলাইনে ফর্ম ৪৫৪৭ পূরণ করে আবেদন করা যাবে, এমনকি ৪ জুলাইয়ের পরও নিবন্ধন করা সম্ভব। আবেদন করতে অভিভাবক ও সন্তানের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হবে, যোগ্য হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এককালীন ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে চান কি না। এই সরকারি অনুদান শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের জন্য প্রযোজ্য। এছাড়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাইকেল ও সুসান ডেলের দাতব্য উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ বছরের কম বয়সী, কিন্তু সরকারি ১ হাজার ডলারের অনুদানের জন্য অযোগ্য কিছু শিশু এককালীন ২৫০ ডলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগও পেতে পারে। অ্যাকাউন্টে শুধু অভিভাবকই নয়, পরিবারের সদস্য, বন্ধু, নিয়োগকর্তা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ জমা দিতে পারবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বার্ষিক জমার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ ব্যক্তিগত অবদানের বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার ডলার। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস) জানিয়েছে, শিশুর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টের বিনিয়োগ বৃদ্ধির সময়কাল হিসেবে গণ্য হবে। এরপর আইনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী অর্থ ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। কর্মসূচি চালুর আগে প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত সরকারি ই-মেইল কেবল no-reply@TrumpAccounts.Treasury.gov ঠিকানা থেকে পাঠানো হবে। ফোন কল বা খুদে বার্তার মাধ্যমে কোনো তথ্য চাওয়া হবে না। সন্দেহজনক যোগাযোগ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট TrumpAccounts.gov অথবা সরকারি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা। তবে কর্মসূচিটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি তুলনামূলকভাবে সচ্ছল পরিবারের জন্য বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৪ জুলাই ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামে নতুন একটি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কর্মসূচির আওতায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের নামে সরকার এককালীন এক হাজার ডলার জমা দেবে, যা ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করা হবে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী শিশুদের জন্য বাবা-মা বা বৈধ অভিভাবক বিনিয়োগ হিসাব খুলতে পারবেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ওই হিসাবে এক হাজার ডলার জমা দেবে। ১৮ বছরের কম বয়সী অন্য শিশুদের জন্যও হিসাব খোলা যাবে, তবে তারা সরকারি এই এককালীন অর্থ পাবেন না। সরকারের দেওয়া অর্থ বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারভিত্তিক স্বল্প ব্যয়ের সূচক তহবিলে বিনিয়োগ করা হবে। হিসাবধারী শিশু ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না। এরপর উচ্চশিক্ষার ব্যয়, প্রথম বাড়ি কেনা, ব্যবসা শুরু করা কিংবা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত অন্যান্য খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এই হিসাবে শুধু সরকারের অনুদানই নয়, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, নিয়োগকর্তা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকারও অর্থ জমা রাখতে পারবে। পরিবার বছরে নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে, আর দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার অতিরিক্ত অনুদান নির্দিষ্ট শর্তে গ্রহণ করা হবে। কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগেই এতে বড় অঙ্কের সহায়তার ঘোষণা এসেছে। ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল ও তাঁর স্ত্রী সুসান ডেল এমন শিশুদের জন্য ৬২৫ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যারা সরকারি এক হাজার ডলারের সুবিধা পাবে না। এছাড়া মাইক্রন টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় মেহরোত্রা ২৫ কোটি ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সহায়তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের লাখো শিশুর জন্য শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। তবে কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তার মতো কিছু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগের বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলেও তা নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সক্ষম হবে না। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। আগামী ৪ জুলাই কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো নিবন্ধন করে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ভিনটন কাউন্টির একটি বাড়ি থেকে চরম অমানবিক ও নোংরা পরিবেশে বসবাসরত ১৬ জন শিশুকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ওই পরিবারের চারজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার হ্যামডেন এলাকার ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুদের উদ্ধার করা হয়। ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন জানিয়েছেন, শিশুদের অবস্থা এতটা শোচনীয় ছিল যে, উদ্ধার অভিযানে আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা দেরি হলে হয়তো একাধিক শিশুর মৃত্যু হতে পারত। পুরো পরিস্থিতিকে ‘কল্পনার বাইরে’ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, উদ্ধারকৃতদের বয়স দেড় থেকে ১৮ বছরের মধ্যে এবং চার বছর ধরে সমাজবিচ্ছিন্ন থাকায় এদের অনেকেই কথা পর্যন্ত বলতে পারে না। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে সাতজনকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে এয়ারলিফট করে এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেওয়া হয়। ভিনটন কাউন্টির প্রসিকিউটর উইলিয়াম আর্চার নিশ্চিত করেছেন যে এটি কোনো মানব পাচারের ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পারিবারিক ঘটনা। গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন—গ্যারি সাইডারস সিনিয়র (৭৩), ক্রিস্টিনা সাইডারস (৬৭), গ্যারি সাইডারস দ্বিতীয় (৩৬) এবং এলিজাবেথ সাইডারস (৩৩), যারা সম্পর্কে শিশুদের দাদা, দাদি, বাবা ও মা। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের ১৬টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে শেরিফ রায়ান কেইন বাড়িটির পরিবেশকে চরম ‘ঘৃণ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সেখানে মানুষের মলমূত্র ছড়িয়ে ছিল এবং শিশুদের একটি ছোট জায়গায় আটকে রাখা হতো। এমনকি সাধারণ গৃহপালিত পশুদেরও এর চেয়ে ভালো পরিবেশে রাখা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানের লাহোরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৪ জন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার শহরের কাহনা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন শিশু, যাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খাজা ইমরান নাজির দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ছাদ ধসের পরপরই ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জন শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত কাহনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের মধ্যে ১৪ জন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এবং বাকি পাঁচজন বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধসের সময় ওই কোচিং সেন্টারের ভেতরে ৩০ জনেরও বেশি শিশু উপস্থিত ছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ভবনটির ওপরের তলায় নির্মাণকাজ চলছিল এবং ঠিক সেই সময়েই নিচতলায় শিশুদের ক্লাস চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণকাজের ত্রুটি বা অতিরিক্ত চাপের কারণেই এই ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ ইতোমধ্যেই এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ভবনের মালিকসহ দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।