- প্রচ্ছদ
- Topic
স্টারলিংক
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর অনুমোদন নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী শিল্পপতি আম্বানি পরিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রকৃত ক্ষমতা আম্বানির হাতে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ভারত সরকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে স্টারলিংক চালুর চেষ্টা করছে মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চূড়ান্ত ছাড়পত্র ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েকজন ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় স্টারলিংকের কার্যক্রম আটকে দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরদিন আরেকটি পোস্টে সরাসরি আম্বানি পরিবারের প্রসঙ্গ তোলেন মাস্ক। তিনি জানান, স্টারলিংক বিশ্বের ১৬৫টির বেশি দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের সব আইন ও শর্ত পূরণের চেষ্টা করছে। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে? অন্য এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে এই মন্তব্য করেন মাস্ক। তবে আম্বানি পরিবারের কোন সদস্যকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। ভারতের টেলিকম খাতে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেলের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারেও প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবসায়িক আগ্রহ রয়েছে। রিলায়েন্সের জিও স্পেস টেকনোলজি স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে সুনীল মিত্তালের ভারতী এয়ারটেল গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবে। ফলে স্টারলিংক ভারতে কার্যক্রম শুরু করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি অনুমোদন আটকে দিয়েছে, এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেননি মাস্ক। মাস্কের মন্তব্যের পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদনের জন্য অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরুর আগে সবাইকে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হবে। বিতর্কে যুক্ত হন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও। মাস্কের পোস্টের জবাবে তাঁকে ভারতে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেন, আরেকজনের কথা জানতে পারলে তিনি আরও অবাক হবেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি রাহুল। জবাবে মাস্ক তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। এদিকে স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীর তথ্য, যোগাযোগব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন যন্ত্রপাতি ব্যবহার ঠেকানোর বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে চায়। বিদেশ থেকে কেনা স্টারলিংক যন্ত্র ভারতে ব্যবহার এবং ভারত থেকে বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের শর্ত রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে স্টারলিংকের নামসংবলিত একটি যন্ত্র উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। তবে মাস্ক দাবি করেন, ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট সংকেত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির সেবা ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তাঁর বক্তব্য। স্পেসএক্সের নির্বাহী কর্মকর্তা লরেন ড্রেয়ার জানিয়েছেন, ভারতে ইতোমধ্যে ২০টি গেটওয়ে স্টেশন স্থাপন করেছে স্টারলিংক। এসব স্থাপনার সঙ্গে শত শত অ্যান্টেনা যুক্ত রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে প্রতিষ্ঠানটি সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত। তাঁর প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে ভারতী এয়ারটেলের প্রতিষ্ঠাতা সুনীল মিত্তালও জানিয়েছেন, ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবের কার্যক্রম শুরুর জন্য অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। ফলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া শুধু স্টারলিংকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। স্টারলিংক পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সরবরাহ করে। ভারতের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে। ডেলয়েটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বাজারের মূল্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের দাবি, সব প্রতিষ্ঠানকে একই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে মাস্কের অভিযোগ, ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে স্টারলিংকের অনুমোদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। সূত্র: রয়টার্স
ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। দেশটির কিছু ‘ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠী’ নিজেদের একচেটিয়া প্রভাব ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি মাস্ক। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার স্বার্থে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী স্টারলিংককে আটকে দিচ্ছে। তিনি লেখেন, কারা এর সঙ্গে জড়িত তা সহজেই অনুমান করা যায়। একই পোস্টে তিনি এই বাধাকে ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে ‘অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেন। মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পেলেও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দসহ পরবর্তী ধাপের অনুমোদন শেষ হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে স্টারলিংকের ভারতীয় কার্যক্রম। ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে বর্তমানে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের মতো বড় কোম্পানির শক্ত অবস্থান রয়েছে। মাস্কের বক্তব্যে কারও নাম না থাকলেও তাঁর মন্তব্যকে দেশটির বড় টেলিযোগাযোগ ব্যবসায়ীদের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো মাস্কের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। মাস্কের অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার ভারতের সরকার এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামো সবার জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যহীন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য লাইসেন্স পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানকেই একই ধরনের নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, ভারতে বর্তমানে তিনটি বৈশ্বিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। তিন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে এবং তারা বর্তমানে মোটামুটি একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে। তাই নিয়ন্ত্রক কাঠামো কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে লক্ষ্য করে তৈরি বা প্রয়োগ করা হচ্ছে—এমন দাবি ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। অন্যদিকে, স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার সম্প্রতি জানান, ভারতীয় বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কোম্পানিটি বিনিয়োগ করেছে এবং সরকারি অনুমোদন পেলেই সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে নিরাপত্তা, স্পেকট্রাম এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্ক কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলবে, তা নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভারতের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টারলিংকও দাবি করে আসছে, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার অবকাঠামো পৌঁছানো কঠিন এমন এলাকাগুলোতে তাদের সেবা ইন্টারনেট সংযোগ বাড়াতে পারে। তবে ভারতের বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাও জড়িত। রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল ইতোমধ্যে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। একই সময়ে তারাও স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারে নিজেদের কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ইলন মাস্কের অভিযোগ এবং ভারতের সরকারের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে দেশটির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে মাস্ক দ্রুত স্টারলিংক চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে ভারত সরকার বলছে, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করেই সব প্রতিষ্ঠানকে সেবা চালুর সুযোগ দেওয়া হবে।
চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা স্টারলিংকভিত্তিক ওয়াই-ফাই সেবা বড় ধরনের চুরির ঘটনায় সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের চারটি আন্তনগর ট্রেনে স্থাপন করা প্রায় ৬০টি রাউটারের মধ্যে ৪৫টিই কয়েক মাসের ব্যবধানে চুরি হয়ে গেছে। বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ১৫টি রাউটার। প্রাথমিকভাবে চারটি আন্তনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা চালু করা হয়েছিল। ট্রেনগুলো হলো পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস। যাত্রীদের বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ যাত্রায় স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা কতটা কার্যকর ও টেকসই, তা যাচাই করাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত রোজার ঈদের পর থেকেই ট্রেনগুলোতে একের পর এক রাউটার চুরি হতে শুরু করে। শুরুতে প্রতিটি বগিতে দুটি করে রাউটার স্থাপন করা হয়েছিল। চুরি বাড়তে থাকায় কোনো কোনো বগিতে একটি রাউটার দিয়েই সেবা চালানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। চুরি যাওয়া রাউটার প্রতিস্থাপন করা হলেও নতুন করে বসানো যন্ত্রও নিরাপদ থাকেনি। কোথাও কোথাও রাউটারের পাশাপাশি সংযুক্ত তার ও কেবল চ্যানেলিংও খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলক সেবার অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট রুটের উপবন এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে একটি স্টারলিংক অ্যানটেনাও খুলে নেওয়া হয়েছে। অ্যানটেনা থেকে অকার্যকর সিগন্যাল পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সেটি না থাকার বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি রাউটারের দাম প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। চুরি বন্ধ না হওয়ায় ভবিষ্যতে রাউটার ও অ্যানটেনা স্থাপনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বগিতে রাউটারগুলো বগির মূল অবকাঠামোর ভেতরে স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে সহজে সেগুলো খুলে নেওয়া না যায়। রেলপথে আধুনিক যাত্রীসেবা বাড়াতে নেওয়া এই উদ্যোগের সরঞ্জাম বারবার চুরি হওয়ায় একদিকে যেমন সেবাটি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে স্থাপিত অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়েই অধিকাংশ রাউটার চুরি হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: প্রথম আলো
নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাসিন্দাদের জন্য মঙ্গলবার ভোরে আকাশে দেখা যেতে পারে বিরল ও দৃষ্টিনন্দন এক মহাজাগতিক দৃশ্য। আকাশ পরিষ্কার থাকলে স্পেসএক্সের একটি রকেট উৎক্ষেপণের পাশাপাশি এর পেছনে তৈরি হওয়া উজ্জ্বল ‘জেলিফিশ মেঘ’ বা জেলিফিশের মতো দেখতে আলোকিত ধোঁয়ার বিস্তারও দেখা যেতে পারে। মঙ্গলবার ভোরে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশনের স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্স-৪০ থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এই মিশনের নাম ‘স্টারলিংক গ্রুপ ১০-৪৯’। এতে ২৯টি স্টারলিংক উপগ্রহ নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হবে। উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ভোর ৫টা ৩৩ মিনিট পূর্বাঞ্চলীয় সময়। উৎক্ষেপণের পর রকেটটি উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যাবে, মোটামুটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের সমান্তরাল পথে। ফলে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও আশপাশের ত্রিরাজ্য এলাকায় থাকা মানুষজন আকাশে রকেটটির গতিপথ দেখতে পারেন। তবে এই দৃশ্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হতে পারে রকেটের পেছনে তৈরি হওয়া ‘জেলিফিশ’ আকৃতির আলোকিত মেঘ। এটি আসলে কোনো মেঘ নয়। রকেটের ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া গ্যাস ও ধোঁয়ার বিস্তৃত নির্গমন বা নিষ্কাশন ধারা উচ্চ বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের সময় মাটিতে তখনও অন্ধকার থাকলেও রকেট ও এর ধোঁয়ার অংশটি যখন অনেক ওপরে উঠে যায়, তখন তা সূর্যের সরাসরি আলো পেতে পারে। ফলে অন্ধকার আকাশের পটভূমিতে ধোঁয়ার বিস্তার উজ্জ্বল হয়ে জেলিফিশের মতো আকৃতি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘জেলিফিশ ইফেক্ট’ বলা হয়। ভোর বা সন্ধ্যার কাছাকাছি সময়ে রকেট উৎক্ষেপণ হলে এ ধরনের আলোকিত নিষ্কাশন ধারা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। জুলাইতেও ফ্লোরিডায় একটি স্পেসএক্স উৎক্ষেপণের সময় একই ধরনের জেলিফিশ আকৃতির উজ্জ্বল দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। মঙ্গলবারের উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়াও মোটামুটি অনুকূল থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে আকাশে মেঘের উপস্থিতি দৃশ্যটি কতটা পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে, সেটিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই মিশনে ব্যবহৃত ফ্যালকন-৯ রকেটের প্রথম ধাপের বুস্টারটির নাম বি১০৬৭। এটি রকেটটির ৩৭তম মিশন হতে যাচ্ছে, যা ফ্যালকন-৯-এর পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উৎক্ষেপণের পর প্রথম ধাপটি আটলান্টিক মহাসাগরে থাকা ‘এ শর্টফল অব গ্র্যাভিটাস’ নামের ড্রোন জাহাজে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৯টি স্টারলিংক উপগ্রহ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। এসব উপগ্রহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিতে ব্যবহৃত হয়। তবে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাসিন্দাদের জন্য এই উৎক্ষেপণের আকর্ষণ শুধু মহাকাশযাত্রা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে ভোরের অন্ধকার আকাশে রকেটের উজ্জ্বল গতিপথ এবং তার পেছনে সূর্যের আলোয় আলোকিত বিশাল ধোঁয়ার বিস্তার একসঙ্গে দেখা যেতে পারে, যা অনেকটা আকাশে ভাসমান জেলিফিশের মতো দেখাবে। উৎক্ষেপণের সময় বা দৃশ্যমানতা আবহাওয়া ও রকেটের প্রকৃত গতিপথের ওপর নির্ভর করবে। তাই আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সব স্থান থেকে একই মাত্রায় দৃশ্যটি দেখা যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। সূত্র: পিক্স১১
মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার বাজারে এক বিশাল ধামাকা নিয়ে এলো ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন 'স্টারলিংক'-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে ১১.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) বিনিময়ে কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'গ্লোবালস্টার' (Globalstar) অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে আমাজন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে আমাজনের উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট 'কুইপার' (বর্তমানে যা 'Amazon Leo' নামে পরিচিত) এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবালস্টারের শেয়ারহোল্ডাররা তাদের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৯০ ডলার নগদ অর্থ অথবা আমাজনের ০.৩২১০টি সাধারণ শেয়ার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এই চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই গ্লোবালস্টারের শেয়ারের দাম প্রাক-বাজার লেনদেনে ৯ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাপলের সাথে সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: গ্লোবালস্টার মূলত আইফোনের ‘ইমার্জেন্সি এসওএস’ ফিচারের কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। আমাজন জানিয়েছে, অধিগ্রহণের পরেও তারা অ্যাপলের সাথে বিদ্যমান চুক্তি বজায় রাখবে এবং আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীদের জন্য স্যাটেলাইট সেবা আরও উন্নত করতে কাজ করবে। বর্তমানে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট বাজারে ইলন মাস্কের স্টারলিংক একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। ১০ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে ৯ কোটিরও বেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। অন্যদিকে, আমাজন ২০২৯ সালের মধ্যে ৩,২০০টি স্যাটেলাইট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার অর্ধেক ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যেই কক্ষপথে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্লোবালস্টারের দুই ডজন সক্রিয় স্যাটেলাইট এবং তাদের অভিজ্ঞ দক্ষ জনবল আমাজনকে দ্রুত এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে দুর্গম এলাকাগুলোতে সরাসরি স্মার্টফোনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা 'ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস' (D2D) সেবা আরও সহজলভ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।