- প্রচ্ছদ
- Topic
সামরিক প্রযুক্তি
চীনের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাজে ব্যবহৃত সংবেদনশীল প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ পাঠানোর ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী এক ইরানি নাগরিককে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। রেজা দিনদার, যিনি রেন্দা দিনদার নামেও পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর এই সাজা পেয়েছেন। ওয়াশিংটনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার ফেডারেল আদালতে ২৫ সেপ্টেম্বর বিচারক রিকার্ডো এস. মার্টিনেজ এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের নথি ও মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দিনদারকে ১০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর আরও তিন বছর তাকে আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। তিনি একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশে পণ্য রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পাচারের দুটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এক দশকেরও বেশি আগে, তবে অভিযুক্তকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের সামনে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। মামলার সূত্রপাত ২০১১ ও ২০১২ সালের একটি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে। মার্কিন বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় দিনদার ও তার সহযোগীরা ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনটি সামরিক সোনার ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেন। তারা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছিলেন, এসব সরঞ্জাম চীনের একটি কোম্পানি ব্যবহার করবে। কিন্তু প্রকৃত পরিকল্পনা ছিল চীনের মাধ্যমে যন্ত্রাংশগুলো ইরানে পাঠানো। দিনদার ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চীনের শিয়ান শহরে নিউ পোর্ট সোর্সিং সলিউশন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই কোম্পানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য সংগ্রহের প্রকৃত গন্তব্য গোপন করা হয়েছিল। মার্কিন সরবরাহকারীকে চীনকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে জানানো হলেও পণ্যগুলো শেষ পর্যন্ত ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটররা জানান। মার্কিন আইন অনুযায়ী, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানে পণ্য, প্রযুক্তি বা সেবা রপ্তানি কিংবা পুনরায় রপ্তানি করা নিষিদ্ধ। এমনকি তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানে বা জানার যথেষ্ট কারণ থাকে যে পণ্যটি শেষ পর্যন্ত ইরানে যাবে। এই মামলায় চীনকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। মামলায় দিনদারের বিরুদ্ধে প্রথমবার অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১৪ সালের আগস্টে। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতের বাইরে ছিলেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে পানামা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর প্রায় ছয় সপ্তাহ পর তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন। সাজার শুনানিতে বিচারক মার্টিনেজ উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট অপরাধের ঘটনা এক দশকেরও বেশি আগে ঘটেছিল এবং দিনদার পানামার কারাগারে উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছেন। এই বিষয়টিও সাজা নির্ধারণের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি কৌঁসুলিরা ১৮ মাসের কারাদণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ধরনের লঙ্ঘন ঠেকাতে শাস্তির মাধ্যমে কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করা প্রয়োজন। মামলাটি তদন্ত করেছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগকারী দপ্তর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। দিনদারকে গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ায় মার্কিন বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর পানামা সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগও এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মামলাটি দেখিয়েছে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠালেও যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হতে পারে, যদি পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশ হয়। বিশেষ করে সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য সংবেদনশীল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এসব নিয়ন্ত্রণকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। দিনদারের সাজা সেই দীর্ঘদিনের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এসেছে। সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ (U.S. Department of Justice), ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটন
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করা মার্কিন চালকবিহীন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ড্রোনটির প্রযুক্তি ও কাঠামো পরীক্ষা করে এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে। মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলা করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির কিছু অংশ এখন ইরানের হাতে এসেছে। মোহেবি বিশেষভাবে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমানে উন্নত ধাতব কাঠামো, রাডারে শনাক্ত হওয়া কঠিন করার প্রযুক্তি, উচ্চ উচ্চতায় উড্ডয়ন এবং অস্ত্র বহনের সক্ষমতার মতো প্রযুক্তি রয়েছে। আইআরজিসির এ কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫কে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে। ডুবো ড্রোনটি নিয়ে ইরানের বক্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আইআরজিসি জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভ-এলডি মডেলের ডুবো যান হিসেবে শনাক্ত করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান। এটি সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রম, পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শন এবং সমুদ্রপথে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যানটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তৈরি। তবে ড্রোনটি আটকের গুরুত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ইরানের দাবির চেয়ে ভিন্ন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনটি আটকের আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এটি পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না। এ কারণে ড্রোনটি ইরানের হাতে যাওয়ার পর দেশটি এর মাধ্যমে কতটা সামরিক সুবিধা নিতে পারবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক বলেছেন, ইরানি প্রকৌশলীরা ড্রোনটির যান্ত্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হতে পারেন। তবে এর সফটওয়্যার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা একইভাবে অনুকরণ করা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। তবে ইরানের জন্য এমন প্রযুক্তি বিশ্লেষণের ঘটনা নতুন নয়। ২০১১ সালে দেশটি মার্কিন আরকিউ-১৭০ সেনটিনেল চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান আটক করার পর সেটির নকশা বিশ্লেষণ করে নিজস্ব সংস্করণ তৈরির দাবি করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকে আটক করা মার্কিন প্রযুক্তি ইরানের নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে আসছে। এবারের ডুবো ড্রোন আটকের ঘটনাটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ফলে একটি উন্নত চালকবিহীন ডুবো যান ইরানের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক ও পরিবহন বিমান, নজরদারি উড়োজাহাজ, ডুবো যান এবং চালকবিহীন যান রয়েছে। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোনটির যান্ত্রিক প্রযুক্তি ইরান কিছুটা কাজে লাগাতে পারলেও এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার বড় কোনো অংশ হুবহু অনুকরণ করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত চালকবিহীন সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রচারিত সক্ষমতার ভাবমূর্তির ওপর প্রতীকী প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, প্রেস টিভি, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
চীন এমন একটি বিশাল জাহাজ নির্মাণ করছে, যা বিশ্বের প্রথম বিশেষায়িত চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন নৌ ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সাংহাইয়ের হুডং-ঝোংহুয়া জাহাজ নির্মাণ কারখানায় নির্মাণাধীন জাহাজটির ছবি স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটির নকশা বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযান বহন, সমুদ্রে নামানো এবং পুনরায় জাহাজে তোলার উপযোগী। নৌবিষয়ক বিশ্লেষক এইচ আই সাটনের নেতৃত্বে একাধিক স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে ধারণা করা হয়েছে, জাহাজটির সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যবহার বড় চালকবিহীন ডুবোযানের জন্য একটি বিশেষ মাদারশিপ হিসেবে কাজ করা। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ থেকে ২০৫ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬৫০ থেকে ৬৭০ ফুটের কাছাকাছি বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। জাহাজটির পেছনের অংশে এমন একটি ব্যবস্থা দেখা গেছে, যা পানির নিচে থাকা যান নামানো ও তুলে আনার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সঙ্গে একটি বড় অভ্যন্তরীণ হ্যাঙ্গারও রয়েছে বলে স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে। নকশার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, জাহাজটি একই সঙ্গে কয়েকটি বড় চালকবিহীন ডুবোযান বহন করতে পারবে। চীনের তৈরি বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযানগুলোকে ‘এক্সএক্সএলইউইউভি’ বা অতিবৃহৎ চালকবিহীন ডুবোযান বলা হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর অন্তত দুটি নকশা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ও ৪৫ মিটার। অর্থাৎ এগুলো সাধারণ ছোট আকারের পানির নিচের ড্রোনের তুলনায় অনেক বড়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বোয়িং অরকার মতো চালকবিহীন ডুবোযানের তুলনায়ও এগুলোর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন জাহাজটির ভেতরের হ্যাঙ্গারে চারটি পর্যন্ত বড় ডুবোযান রাখা সম্ভব হতে পারে। প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক ছোট আকারের চালকবিহীন ডুবোযানও বহন করা যেতে পারে। জাহাজটির পেছনের অংশে থাকা বিশেষ কাঠামো ব্যবহার করে এগুলো পানিতে নামানো ও আবার জাহাজে তোলা সম্ভব হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন জাহাজ নির্মাণ করা হলে চীনের চালকবিহীন ডুবোযানগুলোকে উপকূলীয় ঘাঁটি বা স্থির ভাসমান প্ল্যাটফর্মের ওপর কম নির্ভরশীল করে তুলতে পারে। মাদারশিপ সমুদ্রে ডুবোযানগুলো নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় নামাতে এবং প্রয়োজনে পরে তুলে আনতে পারবে। একই সঙ্গে জাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। চালকবিহীন ডুবোযানের অন্যতম সুবিধা হলো, এতে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেই দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের কাজ করা সম্ভব। এগুলো অগভীর পানিতে প্রবেশ, অন্য জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দ বা শব্দগত বৈশিষ্ট্য সংগ্রহ এবং সমুদ্রের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মতো কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ভারতের তাকশশিলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক আদিত্য রামানাথনের মতে, এ ধরনের ডুবোযান অন্য জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দের তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের জন্য বড় তথ্যভান্ডার তৈরি করতে পারে। এতে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ শনাক্ত হলে সেটি কোন ধরনের জাহাজ বা ডুবোযানের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা দ্রুত বোঝা সহজ হতে পারে। তবে সামরিক ব্যবহারও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। রামানাথনের মতে, চালকবিহীন ডুবোযান তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের সক্ষমতাও রাখতে পারে। তবে বর্তমানে চীনের নির্মাণাধীন জাহাজ বা সংশ্লিষ্ট ডুবোযানগুলো ঠিক কী ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বহন করবে, তা নিশ্চিত নয়। চীনের সামরিক বাহিনী এখনো নির্মাণাধীন জাহাজটির অস্তিত্ব বা উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কিংবা অস্বীকার করেনি। ফলে স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে করা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নকে সম্ভাব্য বিশ্লেষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত সরকারি তথ্য হিসেবে নয়। এই উন্নয়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দক্ষিণ চীন সাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর চীনের দাবির সঙ্গে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই ও তাইওয়ানের দাবির বিরোধ রয়েছে। ২০১৬ সালে হেগের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল চীনের বিস্তৃত সমুদ্রসীমার দাবির আইনগত ভিত্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। বেইজিং ওই রায় মেনে নেয়নি। এদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নৌ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতাও চলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধে চালকবিহীন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পানির নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে সক্ষম বড় ডুবোযান সেই সক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, নতুন জাহাজটি যদি সত্যিই বড় চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হয়, তাহলে এটি চীনের এসব ডুবোযানের কার্যক্রমের পরিসর বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে বড় মাদারশিপটি নিজে তুলনামূলকভাবে সহজে শনাক্তযোগ্য হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি থাকবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাহাজটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সমুদ্র পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এরপরই এর প্রকৃত সক্ষমতা ও ব্যবহার সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, নেভাল নিউজ, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন ধরনের বিশাল উড়োজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার গোপন পরীক্ষাকেন্দ্র ‘এরিয়া ৫১’-এর সঙ্গে তুলনা করা মালান বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া এই উড়োজাহাজটি চীনের পরবর্তী প্রজন্মের নজরদারি ও গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করছেন সামরিক ও বিমান বিশেষজ্ঞরা। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে অবস্থিত মালান বিমানঘাঁটিতে সম্প্রতি রহস্যময় নতুন একটি উড়োজাহাজের ছবি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে বাণিজ্যিক উপগ্রহচিত্রেও একই ধরনের একটি বিশাল উড়োজাহাজকে ঘাঁটিটির কাছে দেখা গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সেটিকে আকাশে উড়তে দেখা গেছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান জেনস উড়োজাহাজটির সম্ভাব্য নাম ডব্লিউজেড-এক্স বলে উল্লেখ করেছে। ছবিতে দেখা উড়োজাহাজটির নকশা অনেকটা লেজবিহীন উড়ন্ত ডানার মতো। জেনসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর ডানার বিস্তার প্রায় ৫২ থেকে ৫৩ মিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ মিটার। আকার ও নকশা বিবেচনায় এটি দীর্ঘ সময় ও অনেক উচ্চতায় উড়তে সক্ষম গোয়েন্দা, নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহকারী ড্রোন হিসেবে তৈরি করা হতে পারে। তবে এটি আক্রমণাত্মক কাজে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বিমান বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস রুপপ্রেখটের বরাতে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মালান ঘাঁটি চীনের বিভিন্ন ধরনের ড্রোন পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণকারী বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ নতুন উড়োজাহাজটিকে ডব্লিউজেড-এক্স হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে এর প্রকৃত সক্ষমতা, ব্যবহার এবং চীনের সামরিক বাহিনীতে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এখনো প্রকাশ্য তথ্য সীমিত। মালান বিমানঘাঁটির গুরুত্ব অবশ্য নতুন নয়। শিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটি ঐতিহাসিকভাবে চীনের সামরিক ও পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল। কাছাকাছি লপ নুর এলাকায় ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত চীন প্রায় ৪৫টি পরমাণু পরীক্ষা চালায়। পরবর্তী সময়ে মালান ঘাঁটি পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ ও ড্রোন উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘাঁটিটিতে উন্নত সামরিক উড়োজাহাজ পরীক্ষার কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মালানে জে-১১সহ বিভিন্ন ধরনের চীনা গোপনীয় ড্রোনের উপস্থিতি উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ে। বড় আকারের লেজবিহীন উড়ন্ত ডানার নকশার একাধিক ড্রোনও সেখানে দেখা গেছে। চীনের আরেকটি গোপন পরীক্ষাকেন্দ্র লপ নুর বিমানঘাঁটিতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত স্যাটেলাইটচিত্র বিশ্লেষণে সেখানে নতুন হ্যাঙ্গার, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। দ্য ওয়ার জোনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘাঁটিটি এখন উন্নত সামরিক উড়োজাহাজের পরীক্ষার জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে। লপ নুর ঘাঁটিতে এর আগে চীনের নতুন প্রজন্মের জে-৩৬ ও জে-এক্সডিএস যুদ্ধবিমানের উপস্থিতিও উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ে। এসব উড়োজাহাজকে সাধারণত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ কারণেই চীনের প্রত্যন্ত সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সামরিক বিশ্লেষকদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসা আশঙ্কাগুলোকে সরাসরি নিশ্চিত সামরিক সক্ষমতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন উড়োজাহাজটির উদ্দেশ্য, পাল্লা, অস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে চীনা কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রকাশ্যে আসা ছবি ও উপগ্রহচিত্রের ভিত্তিতেই এসব বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মালান বিমানঘাঁটির নতুন উড়োজাহাজের উপস্থিতি তাই চীনের উন্নত ড্রোন ও গোপনীয় বিমান প্রযুক্তি কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় উচ্চ আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম বড় আকারের গোয়েন্দা ড্রোন তৈরি হলে তা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে চীনের সক্ষমতা বাড়াতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে প্রকল্পটির প্রকৃত সামরিক প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে। সূত্র: ডেইলি মেইল, জেনস, দ্য ওয়ার জোন
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি, বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে ইরানের মেধাবী জনশক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি। বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।” ইরানের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে বিনিয়োগ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তারই ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরির দাবি করে আসছে তেহরান। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররা ইরানের ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বিবেচনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ লাখ সদস্যকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহারের মতো সহজেই ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন। আজ শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় ড্রোন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ড্রোন ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাঁর মতে, স্বল্প ব্যয়ে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের ফলে যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী ড্রোন ‘কে-লুকাস’-এর উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানো হবে। এ ড্রোনের ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস ড্রোন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোন আবার ইরানের শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোনের নকশা অনুসরণে তৈরি। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ব্যাপকভাবে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে। ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও উদ্যোগ নিয়েছে সিউল। এ লক্ষ্যে লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক অস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার এ ঘোষণা এসেছে। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওপরের সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। ওই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করে এবং প্রায় ১০০টি গুলি ছোড়ে। তবে কোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত কৌশল থেকে পিয়ংইয়ং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে হাজার হাজার সেনা ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য পাঠিয়েছে। এর ফলে দেশটির সেনারা বৃহৎ পরিসরের ড্রোন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এদিকে একই দিনে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং-উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম তদারক করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে প্রযুক্তির এক অভাবনীয় লড়াই শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান কীভাবে ধ্বংস করা সম্ভব, তার একটি বিস্তারিত কারিগরি কৌশল বা ‘গাইডলাইন’ অনলাইনে ফাঁস করেছেন চীনা প্রকৌশলীরা। গত ১৪ মার্চ চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "লাওহু টকস ওয়ার্ল্ড" নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে ফার্সী সাবটাইটেল যুক্ত ছিল, যাতে ইরানি বাহিনী সহজেই এই বিশেষ যুদ্ধকৌশলটি রপ্ত করতে পারে। মূলত কম খরচের দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে কোটি ডলারের মার্কিন স্টেলথ বিমানকে লক্ষ্যবস্তু বানানো যায়, তা-ই ছিল এই ভিডিওর মূল বিষয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই ভিডিওটি কয়েক কোটি বার দেখার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ১৯ মার্চ ইরান দাবি করে যে তারা একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। পরবর্তীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও (CENTCOM) স্বীকার করে যে, তাদের একটি এফ-৩৫ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে চীনা নাগরিকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও কারিগরি সহায়তা তেহরানের সামরিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। চীনের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল (STEM) পটভূমির দক্ষ ব্যক্তিরা এখন কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত তথ্য শেয়ার করছেন। রাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও সাধারণ নাগরিকদের এই ‘অনলাইন পরামর্শ’ বর্তমান বৈশ্বিক সামরিক লড়াইয়ে এক নতুন এবং শক্তিশালী মাত্রা যোগ করেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ড্রোন যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ করছে ইরান—এমনটাই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ফাইবার অপটিক তার দিয়ে নিয়ন্ত্রিত এফপিভি (FPV) ড্রোনের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্যামিং-প্রতিরোধী ড্রোন বাগদাদে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এসব হামলায় একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও একটি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফাইবার অপটিক নিয়ন্ত্রিত এসব ড্রোন ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে থামানো যায় না, যা প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনেকাংশে অকার্যকর করে দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছেন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে স্থল ও নৌ অভিযান চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাহিনীকে এমন এক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হতে পারে, যেখানে ড্রোনই প্রধান হুমকি—যা ইরাক বা আফগানিস্তানের পূর্ববর্তী যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন। ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কফম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো এফপিভি ড্রোন প্রযুক্তি ও এর সামরিক প্রভাব পুরোপুরি অনুধাবনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনীর সাবেক এয়ার মার্শাল মার্টিন স্যাম্পসনের মতে, পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এ ধরনের ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোন প্রযুক্তি উন্নত করতে মস্কো যেমন কাজ করছে, তেমনি সেই অভিজ্ঞতা তেহরানও গ্রহণ করছে। ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রি জাগোরোদনিয়ুক বলেন, দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, যুদ্ধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠেছে এফপিভি ড্রোন। অনেক ক্ষেত্রে ২০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ড্রোন নিয়ন্ত্রিত ‘কিল জোন’ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে। তবে পেন্টাগন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো এই নতুন ধরনের যুদ্ধ বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও ব্যয়বহুল স্টিলথ যুদ্ধবিমান মার্কিন এফ-৩৫ লাইটনিং-২ সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ছোঁড়া ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্কিন সামরিক আধুনিক ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তি ও স্টিলথ সক্ষমতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সেন্টকমের নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ওপর একটি কমব্যাট মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ বিমান আঞ্চলিক বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। বিভিন্ন ওপেন সোর্স ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ কোটি ডলার মূল্যের এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি মাত্র ৩ হাজার ডলার ব্যয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ ইরানি প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর বিমানের পেছনে আগুনের শিখা দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন অনেক বিশ্লেষক। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার প্রভাব কেবল একটি বিমান হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই সফল অভিযানের মাধ্যমে ইরান এফ-৩৫ বিমানের ‘ইনফ্রারেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বা হিট সিগনেচার ডাটা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, যা মস্কো ও বেইজিংয়ের মতো প্রতিপক্ষের জন্য অমূল্য তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর ফলে মার্কিন আকাশসীমার শ্রেষ্ঠত্ব বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং এফ-৩৫ পাইলটরা এখন থেকে আর নিজেদের ‘অদৃশ্য’ মনে করতে পারবেন না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক বিমান হারানো গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল এবং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাঙ্কারের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল সরঞ্জাম। এই ঘটনাটি মার্কিন সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: প্রেস টিভি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।