যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর, নিজেদের রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ধনী এই উপসাগরীয় দেশটি। সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখার শর্তে ইরানের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান বৃহত্তর দরকষাকষির চূড়ান্ত পর্বে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই আমিরাতের পক্ষ থেকে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে এল। আঞ্চলিক সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের জন্য মোট ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন (১ হাজার থেকে ২ হাজার কোটি) ডলার ছাড় করতে রাজি হয়েছে আবুধাবি। এরই মধ্যে প্রথম কিস্তির ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থের সুনির্দিষ্ট উৎস কী—তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে, নাকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতি ব্যাংকিং সিস্টেমে আটকে থাকা ইরানেরই কোনো বৈধ অ্যাকাউন্ট থেকে অবমুক্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এদিকে খবরটি জানাজানি হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পুরো তথ্যটিকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন ও বানোয়াট' বলে দাবি করেছে। তবে এর আগে দেশটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছিলেন, তারা যেকোনো মূল্যে অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈরিতা ও প্রকাশ্য শত্রুতার পর দুই দেশের এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে দুবাইয়ের পর্যটন খাত এবং নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আমিরাতের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সুনাম চরমভাবে ধাক্কা খেয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই সমঝোতা মার্কিন-ইরান সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে এমন এক অভিনব উপায় তৈরি করেছে, যেখানে কোনো পক্ষকেই নিজেদের রেডলাইন পার হতে হচ্ছে না। এর মাধ্যমে ইরান যেমন যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি করতে পারবে, তেমনি ওয়াশিংটনও দায় এড়াতে পারবে। অন্যদিকে আবুধাবি নিজেদের নিরাপত্তা ও দুবাইয়ের বাণিজ্যিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। এই চুক্তির আওতায় কেবল হামলা বন্ধই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করা হবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ইরান একই ধরনের সমঝোতার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও অন্তত দুটি আরব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমঝোতার পেছনে দুবাইয়ের আর্থিক ব্যবস্থার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে ইরান-সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ আমানত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকলেও, পর্দার আড়ালের এই আলোচনা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। কদিন আগেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আবুধাবিতে এসে আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করার পরই এই আলোচনার গতি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তেহরান তাদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পালন করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো পাবে। ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরে ইরানের সর্বশেষ সরাসরি হামলার পর গত এক মাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকা মূলত এই সুদূরপ্রসারী গোপন সমঝোতারই ফল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্মসংস্থান অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার চালু করেছে। দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায়, কোনো সহায়ক নথিপত্র জমা না দিয়েই শতভাগ কাগজবিহীন পদ্ধতিতে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট পারমিটের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে, ফলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে। সরকারি কার্যক্রমে জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে পরিচালিত ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি প্রোগ্রাম’-এর অংশ হিসেবে এই সংস্কার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন পদ্ধতি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেবা গ্রহণকে আরও কার্যকর করবে এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করবে। ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আবেদনকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে সক্ষম হবেন। সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় বর্তমানে প্রচলিত ওয়ার্ক পারমিট সেবাগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি ইলেকট্রনিক গণপরামর্শ কার্যক্রম চালু করেছে। এই অনলাইন পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক, সেবাগ্রহীতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মতামত ও পরামর্শ জমা দিতে পারবেন। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে সেবাগুলোকে আরও উন্নত ও ব্যবহারবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি বাড়াতে মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োগকর্তা এবং কর্মীরা ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় বলছে, এই উদ্যোগ একদিকে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়নকে সহায়তা করবে, অন্যদিকে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে শ্রমবাজারে দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সেবার গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই বছর মেয়াদি বাহিরাগত কর্মী নিয়োগ পারমিট, যার মাধ্যমে বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া যাবে। একইভাবে দেশটির অভ্যন্তরে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি পরিবর্তনের জন্য দুই বছর মেয়াদি ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। পারিবারিক স্পনসরের অধীনে থাকা অভিবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে ফ্যামিলি স্পনসরড পারমিট রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জরুরি কাজের জন্য মিশন ওয়ার্ক পারমিট এবং স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রয়েছে। আধুনিক কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্রিল্যান্সার এবং খণ্ডকালীন কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকেও স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের দক্ষ কর্মীরা মূল নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে। এছাড়া শিক্ষকতা খাতে প্রাইভেট টিউটরিং পারমিট এবং গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ কয়েকটি পারমিট চালু করেছে মন্ত্রণালয়। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে স্টুডেন্ট ট্রেইনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট চালু রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জিসিসিভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ কর্মসংস্থান পারমিটের পাশাপাশি স্থানীয় আমিরাতি স্নাতকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বিশেষ ট্রেইনি ওয়ার্ক পারমিটও চালু করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারকে আরও আধুনিক, নমনীয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট ডলার সংকট মোকাবিলায় এবার চীনা মুদ্রায় তেল বিক্রির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই পদক্ষেপটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন যে এশীয় ও উপসাগরীয় মিত্ররা জরুরি ভিত্তিতে 'কারেন্সি সোয়াপ লাইন' বা দ্রুত ডলার বিনিময়ের সুযোগ চেয়েছে। ইরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে এই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং ডলারের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমিরাতের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি ডলারের সরবরাহ পুনরুদ্ধার না করা হয়, তবে তেল লেনদেনের জন্য তারা ইউয়ানসহ অন্যান্য বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাত এখনই ডলার ত্যাগ না করলেও এই হুঁশিয়ারিটি মূলত বর্তমান সংকটকালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার একটি চাপ সৃষ্টি করার কৌশল। চীন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে ইউয়ানের প্রভাব বাড়াতে চেষ্টা করছে, তাই আমিরাতের এমন অবস্থান বেইজিংয়ের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদি আংশিকভাবেও ইউয়ানে তেল বিক্রি শুরু হয়, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলারের আধিপত্য কমানোর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ১৯৯০-এর দশকের পর উপসাগরীয় দেশগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় মুদ্রা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ইসরায়েল নয়, বরং ইরানই ‘প্রধান শত্রু’। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) দুবাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। গারগাশ বলেন, আরব বিশ্বের অনেক দেশ ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু মনে করলেও, হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হওয়া উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এখন বদলে গেছে। ড. গারগাশ উল্লেখ করেন, জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশগুলোর ওপর ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের কারণে তেহরানের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে আমিরাতের গভীর ও যৌক্তিক উদ্বেগ রয়েছে। তার মতে, ইরান যদি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করে, তবে আমিরাতেরও অধিকার রয়েছে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার গ্যারান্টি এবং ক্ষতিপূরণ চাওয়ার। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই আমিরাত এখন ইরানকে তাদের প্রধান হুমকি হিসেবে গণ্য করছে বলে তিনি জানান। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান মেরুকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুলি করে নামানো একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে একজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মানববিহীন উড়োজাহন (ড্রোন) সনাক্ত করে তা ভূপাতিত করেছে। তবে ধ্বংসাবশেষ এল-রিফা’আ এলাকার একটি খামারে পড়ে ঘটনাস্থলে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জরুরি সেবা দল ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে একটি শিল্পাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। খবর এএফপি থেকে পাওয়া গেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত করতে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরান হামলা জোরদার করছে। আবুধাবি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর জানায়, খলিফা ইকোনমিক জোনস এলাকায় দুটি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। এছাড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তার ধ্বংসাবশেষ ভূপাতিত হয়ে আগুনের সূত্রপাত করেছে।
ইরান থেকে ইসরায়েল-এর দিকে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা এই হুমকি প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে। এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রবিবার ইরান থেকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। সামাজিক মাধ্যমে তারা আরও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৩৪৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৭৭৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক তেলবাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।