- প্রচ্ছদ
- Topic
হত্যাকাণ্ড
আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের পারগামিনো শহরে ২০১২ সালে এক কিশোরকে সপ্তম তলা থেকে নিচে ফেলে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় আদালতের রায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম এবং আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি সকালে ১৬ বছর বয়সী ইভান হোর্তিগেরা তার ১৪ বছর বয়সী বান্ধবী তামারার বাসায় রাত কাটানোর পর ঘুমিয়ে ছিলেন। সকাল প্রায় ৯টার দিকে তামারার বাবা নরবের্তো নুনিয়েজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে তাদের একসঙ্গে দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তিনি ইভানকে মারধর শুরু করেন। তদন্তে জানা যায়, মারধরের একপর্যায়ে কিশোরটির চোয়াল ও নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, পাশের একটি ভবনের এক বাসিন্দা জানালা দিয়ে ঘটনাটির কিছু অংশ প্রত্যক্ষ করেন। তিনি আদালতে জানান, বাসা থেকে কাঁচ ভাঙার শব্দ শোনার পর তিনি দেখতে পান অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরকে হুমকি দিচ্ছেন। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই কিশোরটি ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়ে যায়। ফরেনসিক তদন্তে দেখা যায়, ইভানের হাতে আত্মরক্ষার কোনো চিহ্ন ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি নিচে পড়ে যাওয়ার আগেই অচেতন ছিলেন। এই তথ্য প্রসিকিউশনের অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করে। অভিযুক্ত নরবের্তো নুনিয়েজ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, ইভান নিজেই ভবন থেকে লাফ দিয়েছিলেন। তবে তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং ঘটনার আগে দেওয়া হুমকির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই দাবি গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে এটি স্পষ্ট যে ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। ইভানের বোন লুসিয়া হোর্তিগেরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত এখনও তার মনে স্পষ্ট। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য এই ক্ষতি কখনও পূরণ হওয়ার নয়। ঘটনাটি আর্জেন্টিনায় সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক বিরোধ বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ কখনও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দেয় না। এমন ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন শহরে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার বাবা-মাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ভয়াবহ এই ঘটনা ঘটে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, যখন সহিংসতার একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাবা-মা তার জন্য ১০ হাজার ডলারের বেইল পরিশোধ করে তাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনেন। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, শুক্রবার নিজ বাড়িতে বাবা-মাকে গুলি করেন জাস্টিন সিসলো। পরে তিনি নিজেকেও গুলি করেন। নিহত বাবা-মা হলেন ৭৬ বছর বয়সী স্টিভ সিসলো এবং ৭২ বছর বয়সী ডোনা ওয়াকার-সিসলো। পুলিশ জানায়, বাড়ির জানালা দিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখতে পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাড়ির ভেতর থেকে প্রোপেন বা গ্যাসোলিনের গন্ধও পেয়েছিলেন পুলিশ অফিসাররা। ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগেই সিসলোকে একটি সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, তার ৫৬ বছর বয়সী বান্ধবীকে আক্রমণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি শ্বাসরোধের একাধিক অভিযোগ এবং আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওই মামলায় জেল থেকে বের হতে তার বাবা-মা ১০ হাজার ডলারের বেইল পরিশোধ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ওপরও তার আইনি নিষেধাজ্ঞা ছিল। এরপরও তার বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, সিসলোর পরবর্তী কোর্ট হিয়ারিং ২১ আগস্ট নির্ধারিত ছিল। তবে তার আগেই ঘটে গেল ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাবার সঙ্গে সিসলোর সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। ২০২৪ সালে বাবা-ছেলের মধ্যে আরেকটি পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি। ঘটনাটিকে পুলিশ হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে ঠিক কী কারণে সিসলো তার বাবা-মাকে হত্যা করলেন এবং ঘটনার আগে বাড়িতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
চার দশক আগে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের এক মোটরসাইকেল পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় পুনর্বিচারে দোষী সাব্যস্ত আসামির বিরুদ্ধে আদালতের রায় বহাল রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে। মামলাটি ১৯৮৩ সালের। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলএপিডি কর্মকর্তা পল ভার্না লেক ভিউ টেরেস এলাকায় একটি চুরি করা গাড়ি থামালে গাড়িতে থাকা দুই সশস্ত্র ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনায় কেনেথ গে এবং রেনার্ড কামিংস অভিযুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে প্রথম বিচারে কেনেথ গে দোষী সাব্যস্ত হলেও পরে তার আইনজীবীর অদক্ষতার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর পুনর্বিচারে জুরি আবারও তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে নিহত কর্মকর্তা পল ভার্নার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তার স্বজনরা জানান, দীর্ঘ কয়েক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। প্রসিকিউশন জানায়, অভিযুক্তরা সে সময় একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিল এবং চুরি করা গাড়িতে অস্ত্রসহ চলাচল করছিল। পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়পত্র চাইলে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ পরিস্থিতিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত আইনের আওতায় কেনেথ গের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর থাকবে। অপর আসামি রেনার্ড কামিংসও পৃথক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে আলোচিত মিচেল পরিবার হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। নিহত রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা থাই মিচেলের পরিবারের করা এক দেওয়ানি মামলায় দাবি করা হয়েছে, ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে বাড়ির রিং ক্যামেরায় স্বামী ম্যাথিউ মিচেলের অস্বাভাবিক আচরণ ও “সবাইকে মেরে ফেলতে হবে” ধরনের মন্তব্য রেকর্ড হয়েছিল। আদালতে দাখিল করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ মে হিউস্টনের রিভার ওকস এলাকার নিজ বাড়িতে থাই মিচেল, দম্পতির দুই শিশু সন্তান এবং ম্যাথিউ মিচেলকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হ্যারিস কাউন্টি ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্সেস জানায়, থাই মিচেল ও দুই শিশুর মৃত্যু ছিল হত্যাকাণ্ড, আর ম্যাথিউ মিচেলের মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মামলায় থাই মিচেলের বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়িক ঋণ, আর্থিক সংকট এবং প্রতারণার অভিযোগে চাপে পড়ে ম্যাথিউ মিচেল পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করেন। তাদের দাবি, ঘটনার আগে তিনি বাড়ির ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে পায়চারি করতেন এবং রিং ক্যামেরায় “সবাইকে মেরে ফেলতে হবে” বলে বিড়বিড় করতে শোনা যায়। একই মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ম্যাথিউ মিচেলের মা বেটি মিচেল ও বোন মেরেডিথ মিচেল প্রায় ১৪ লাখ ডলারের সম্পদ ঋণদাতাদের কাছ থেকে আড়াল করতে সহায়তা করেছিলেন। বাদীপক্ষ আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং ম্যাথিউ মিচেলের সম্পদের ওপর আদালত-নিয়ন্ত্রিত ট্রাস্ট গঠনের আবেদন জানিয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। ম্যাথিউ ও থাই মিচেল হিউস্টনের পরিচিত দুটি রেস্তোরাঁ, ট্রাভেলার্স টেবিল এবং ট্রাভেলার্স কার্ট এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পারিবারিক এই ট্র্যাজেডির পরও কিছুদিন দুটি রেস্তোরাঁ চালু ছিল। তবে সম্প্রতি ট্রাভেলার্স কার্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ট্রাভেলার্স টেবিল আগের মতোই চালু থাকবে। ঘটনাটি হিউস্টনের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে মামলার নতুন তথ্য প্রকাশের পর পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আর্থিক সংকটের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার শুনানি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
কানাডার এডমন্টনে নিজ বাড়িতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণী। নিহত ওই তরুণীর নাম দমনপ্রীত কৌর, যিনি ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লুধিয়ানা জেলার সামরালা এলাকার বাসিন্দা। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত তরুণীর ২২ বছর বয়সী প্রেমিক রিতিশ কুমারকে ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার’-এর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে কানাডার পুলিশ। এডমন্টন পুলিশ সার্ভিসের (ইপিএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই (২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে সিলভারবেরি এলাকার একটি বাড়ি থেকে সন্দেহজনকভাবে আহত ও অচেতন অবস্থায় দমনপ্রীতকে উদ্ধার করা হয়। এরপর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জুলাই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হেফাজতে নেয়। গত ১৪ জুলাই এডমন্টন মেডিকেল এক্সামিনার অফিসের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এই মৃত্যুকে সুস্পষ্ট ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রথমে গোপন রাখা হলেও, গত ২৩ জুলাই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে, শ্বাসরোধ করার কারণেই দমনপ্রীতের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি ‘ইন্টিমেট পার্টনার হোমিসাইড’ বা সঙ্গীর দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং তারা আপাতত এই ঘটনায় অন্য কোনো সন্দেহভাজনকে খুঁজছে না। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গত ২২ জুলাই প্রেমিক রিতিশ কুমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদিকে, নিহত তরুণীর মরদেহ নিজ দেশ ভারতে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নিতে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আন্তর্জাতিক পরিবহন, আইনি নথিপত্র এবং শেষকৃত্যের বিপুল খরচ মেটাতে সাধারণ মানুষের কাছে অনুদানের আবেদন জানানো হয়েছে সেখানে। ইতোমধ্যে ২০ হাজার ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৯ হাজার ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা চলতি বছর এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ক্রিমিনাল জাস্টিস (সিসিজে)-এর নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথমার্ধে দেশটির ৩০টি বড় শহরে হত্যাকাণ্ড গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমেছে। এই ধারা বছরের বাকি সময়ও অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক হত্যাকাণ্ডের হার শতাধিক বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছাতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর প্রায় ২১৫টি কম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, মোট ১৩ ধরনের অপরাধের মধ্যে ৯টির হার কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুতর হামলা, গাড়ি ছিনতাই এবং আবাসিক এলাকায় চুরির মতো অপরাধ। তবে দোকান থেকে পণ্য চুরি, গার্হস্থ্য সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সিসিজের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডাম গেল্ব বলেন, এই ইতিবাচক পরিবর্তন শুধু কোনো একটি শহর বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের ফল নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পরিচালিত, ভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার শহরেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে এর পেছনে জাতীয় পর্যায়ের বিস্তৃত কিছু কারণ কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সহিংস অপরাধের প্রাণঘাতী হওয়ার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গুরুতর সহিংস ঘটনার মধ্যে মৃত্যুর হার ২৩ শতাংশ কমেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সহিংসতা ঘটলেও আগের তুলনায় প্রাণহানি কম হচ্ছে। একই সঙ্গে আবাসিক চুরির ঘটনা বছরে ১৩ শতাংশ এবং ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। তবে এই ইতিবাচক চিত্র সব শহরে এক রকম নয়। ৩০টি শহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। ভার্জিনিয়ার নরফোকে হত্যাকাণ্ড ৬৪ শতাংশ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ডালাসসহ কয়েকটি শহরেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। মাদকের ব্যবহার কমে আসা, মহামারির পর স্থানীয় সরকারগুলোতে অতিরিক্ত ফেডারেল অর্থায়ন, তরুণদের জন্য সামাজিক কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং সহিংসতা প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের মতো একাধিক বিষয় একসঙ্গে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতের জননিরাপত্তা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩৪ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে। আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তির সহায়তায় ১৯৯২ সালের ‘কোল্ড কেস’-এর সঙ্গে ৬৫ বছর বয়সী রিকি ডসনকে যুক্ত করার পর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা, ধর্ষণ ও সংশ্লিষ্ট গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, নিহত নারী ন্যান্সি হার্নান্দেজ (৪৫) ১৯৯২ সালের ২ মে শহরের চায়নাটাউনের হ্যাং আহ অ্যালির একটি ইউটিলিটি করিডোরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। তিনি গৃহহীন ছিলেন এবং ওই এলাকাতেই আশ্রয় নিয়ে বসবাস করতেন। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, তাকে নির্মমভাবে মারধর, যৌন নির্যাতন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় মামলাটি অমীমাংসিত থাকলেও ২০২৩ সালে সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগের কোল্ড কেস ইউনিট পুনরায় তদন্ত শুরু করে। পরে সংরক্ষিত আলামত থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনা জাতীয় ডিএনএ ডাটাবেস (CODIS)-এর সঙ্গে মিলিয়ে রিকি ডসনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ডসন ইতোমধ্যে কলোরাডোতে ১৯৯৬ সালের এক নারীকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এছাড়া ফ্লোরিডা ও ওয়াশিংটনের আরও কয়েকটি নারী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তার ডিএনএ মিলেছে। তবে সব ঘটনায় এখনো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। গত ২০ জুলাই সান ফ্রান্সিসকো আদালতে হাজির হয়ে রিকি ডসন নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো পুলিশের প্রধান বিল স্কট বলেন, “কোনো মামলা যত পুরোনোই হোক, আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত থামব না।” তিনি জানান, তদন্ত এখনও চলমান এবং এ ঘটনায় কারও কাছে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পল শহরের ফ্রগটাউন এলাকায় শনিবার ভোরে বন্দুকধারীর গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে সেন্ট পল পুলিশ। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার কিছু আগে এডমন্ড অ্যাভিনিউ ওয়েস্ট এবং নর্থ কেন্ট স্ট্রিট এলাকার কাছে গুলি ও হামলার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে বড় ধরনের জনসমাগমের মধ্যে রাস্তায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা নিলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল তল্লাশির সময় পুলিশ ৫০০ ব্লকের নর্থ কেন্ট স্ট্রিটে একটি বাড়িতে গুলির চিহ্ন দেখতে পায়। একই সময়ে জানা যায়, আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে রিজিয়ন্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন। আহতদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয়। সেন্ট পল পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে এ গুলির ঘটনা ঘটেছে এবং কারা জড়িত, তা জানতে হত্যাকাণ্ড তদন্ত ইউনিট কাজ করছে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় র্যামসি কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালে সেন্ট পল শহরে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে আটে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় প্রত্যক্ষদর্শী বা তথ্য জানা ব্যক্তিদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি ১৯৮৭ সালের একটি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর নিজেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রায় চার দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা ওই হত্যাকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জ্যাকসনভিল শহরের পুলিশ জানিয়েছে, ৭০ বছর বয়সী গ্যারি এডওয়ার্ড গ্লোয়াচ বুধবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১৯৮৭ সালে নিহত ২০ বছর বয়সী মেলিসা এলিসনের মৃত্যু সম্পর্কে তথ্য দিতে চান বলে জানান। পুলিশের তদন্তকারীরা তার সঙ্গে কথা বলার পর একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংগ্রহ করেন। পরে তাকে আটক করে ডুভাল কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং হামলার মাধ্যমে বাড়িতে প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৮৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভোরে ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের কোলিজিন রোডের একটি বাড়ি থেকে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা সেখানে যায়। পরে ওই বাড়ির একটি কক্ষে মেলিসা এলিসনের মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার সঙ্গে থাকা শিশুর কান্নার শব্দ শুনে বাড়ির অন্যরা তাকে দেখতে গিয়ে ঘটনাটি জানতে পারেন। প্রায় ৩৯ বছর পর মামলাটির নতুন অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জ্যাকসনভিলের পুলিশ প্রধান টি. কে. ওয়াটার্স। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অনেকের ধারণা, কোনো হত্যাকাণ্ড প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে সমাধান না হলে আর সমাধান হয় না—এই ধারণা ভুল। দীর্ঘ সময় পরও তদন্তের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসতে পারে। পুলিশ প্রধান বলেন, অভিযুক্তের গ্রেপ্তার নিহত মেলিসা এলিসনের পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্ট পুরোপুরি দূর করতে পারবে না, তবে এটি তাদের জন্য ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই মামলার তদন্তে সহায়তা করেছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ও অপরাধ তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান। পুলিশ জানিয়েছে, পুরোনো এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলমান।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, তার এক বন্ধু এবং একটি পোষা কুকুরের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তকারীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম WBRC জানিয়েছে, গত ৬ জুলাই ব্রুকউড শহরের একটি বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়ার (ওয়েলফেয়ার চেক) জন্য পুলিশকে ডাকা হয়। বাড়ির মালিক সে সময় শহরের বাইরে ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে ৩১ বছর বয়সী হোসে ফেলিক্স আলভারেজ-দুয়েনাস বাড়িটি দেখাশোনা করছিলেন এবং একই সঙ্গে মালিকের পোষা কুকুরের দেখভালের দায়িত্বেও ছিলেন। পুলিশ জানায়, দীর্ঘ সময় আলভারেজ-দুয়েনাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বাড়ির মালিক নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও পরীক্ষা করেন। সেখানে ৬ জুলাই ভোরে বাড়ির পেছনের বারান্দায় এক ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাফেরা দেখতে পান তিনি। এরপর বাড়ির মালিক তার বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বাড়িওয়ালা পুলিশকে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানান। পুলিশ বাড়ির প্রধান দরজা খুলেই আলভারেজ-দুয়েনাসের মরদেহ দেখতে পায়। পরে একটি শোবার ঘরের আলমারির ভেতর থেকে ২২ বছর বয়সী জ্যাজমিন অ্যালেক্সিস বেটসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তদন্তে জানা যায়, দুজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির পোষা কুকুরটিকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিও এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে ২৪ বছর বয়সী ডি'কেনড্রিক ক্রফোর্ডকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে তদন্তকারীরা। এরপর তার বিরুদ্ধে মূলধনী হত্যা (ক্যাপিটাল মার্ডার) মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যেই এক আত্মীয়ের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ক্রফোর্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তিনি বাইরে আসতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভবনে প্রবেশ করে চিলেকোঠায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করে। তদন্তকারীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কোনো স্পষ্ট উদ্দেশ্য বা কারণ জানা যায়নি। টাসকালুসা ভায়োলেন্ট ক্রাইমস ইউনিটের ক্যাপ্টেন জ্যাক কেনেডি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিহত দুজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে বোঝা যায় কেন তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তার ভাষায়, 'তারা কোনো ভুল করেননি। সন্দেহভাজনের পরিচিতদের কাছ থেকেও এমন কোনো তথ্য মেলেনি, যা এই হামলার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে।' তিনি আরও জানান, তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্রফোর্ডের বিরুদ্ধে আগেই একটি গুরুতর অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি চুক্তিভিত্তিক চাকরি হারানোর পর তিনি সেখান থেকে গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়ার সময় একটি ব্যবহৃত ভবনের দিকে একাধিকবার গুলি ছোড়েন। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং এরপর থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। জ্যাজমিন বেটসের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের জন্য কাউন্সেলিং এবং মানসিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশি এক ব্যক্তিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে দেশটির পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার করা দুটি পোস্টও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, পোস্টগুলোর বিষয়বস্তু এবং হত্যাকাণ্ডের সময়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ইতালীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও জেলার কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্টিলিওর একটি ফ্ল্যাট থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ৩৯ বছর বয়সী কামাল উদ্দিন, তার ৩৮ বছর বয়সী স্ত্রী আরজু এবং তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে আলিসিয়া। হামলায় গুরুতর আহত হন দম্পতির ১৮ বছর বয়সী ছেলে ওনিয়ন। তাকে দ্রুত রোমের পলিক্লিনিকো জেমেলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকলেও বর্তমানে তার জীবন আশঙ্কামুক্ত। ইতালীয় পুলিশ এ ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি ১৯৮৩ সালের ১০ মে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার একদিন আগে, ২৫ জুন রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে সন্দেহভাজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি বার্তা পোস্ট করেন। একটি পোস্টে লেখা ছিল, "একজন মানুষ একা মারা যায় না।" অন্যটিতে লেখা ছিল, "মৃত্যুর সময় প্রিয়জনদের সঙ্গেই মারা যাওয়া উচিত, যাতে কাউকে আর কারও জন্য কষ্ট পেতে না হয়।" হত্যাকাণ্ডের পর ওই পোস্টের নিচে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, "তুমি একজন খারাপ মানুষ। তুমি ফেরাউন।" তদন্তকারীরা পোস্টগুলোকে মামলার আলামত হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। তবে এগুলো হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সন্দেহভাজনকে ধরতে রোমজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ইতালির পুলিশ ও কারাবিনিয়েরি বাহিনী। তার ছবি প্রকাশ করে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৪০টির বেশি তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। রোমের বিভিন্ন সড়ক, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং বিমানবন্দরে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি শহরের উপকণ্ঠের পরিত্যক্ত ভবন ও গ্রামীণ এলাকায়ও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনের সাম্প্রতিক গতিবিধি, পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মোবাইল ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের রাতে তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান কাসালোত্তি এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো কুড়ালসদৃশ অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলায় সেটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। অস্ত্রটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতালীয় পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তথ্য রয়েছে এমন ব্যক্তিদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর ধারাবাহিকতায় হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় এক তরুণীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী ও স্বামীর প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর দুজনই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পরে ভারতে ফিরে আসার পর তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ মে মানেসর থানায় নিহত তরুণীর মা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার ২২ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে ২৫ বছর বয়সী অঙ্কিত নামে এক যুবকের বিয়ে হয়। কিন্তু ২১ মে থেকে মেয়েটি নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকেও সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তারা সন্দেহের বশে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরদিন মানেসরের একটি কক্ষ থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত অঙ্কিত ও তার ৩৮ বছর বয়সী প্রেমিকা রজনী দেবীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। রজনী হরিয়ানার ঝাঝ্জর জেলার বাসিন্দা এবং মানেসরের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। অন্যদিকে অঙ্কিত স্থানীয়ভাবে একটি তামাকের দোকান পরিচালনা করতেন। তদন্তকারীদের দাবি, রজনীর ভাড়া করা একটি কক্ষেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যান এবং দুজনে মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে উত্তর প্রদেশ থেকে কেনা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবেই এই অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। ঘটনার পর অঙ্কিত ও রজনী প্রথমে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে যান। পরে সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে পালিয়ে যান বলে জানায় পুলিশ। তবে গত ৩০ জুন ভারতে ফিরে আসার পর মানেসরের অপরাধ দমন শাখা তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত দুজনকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে পাঁচ সন্তানের জননী ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা হত্যাকাণ্ডে ১৯ বছর বয়সী আমায়া "কুকি" ডিয়াজই ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩২ বছর বয়সী পেনার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে কুকি ডিয়াজ তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় কুকির পাশাপাশি তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু ২১ বছর বয়সী কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার টেক্সাসের একটি আদালত তিন আসামির প্রত্যেকের জামিন পাঁচ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিয়ান্দ্রা ফাজ পুলিশকে জানান, পেনা তার বাড়িতে গিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তকারীরা পরে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে এসে থামে। কিছুক্ষণ পর একটি কালো ক্রাইসলার ৩০০ গাড়িতে করে কুকি ও কিটি সেখানে পৌঁছান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডিয়াজ পেনার দিকে এগিয়ে যান। তার ডান হাতে ছুরির মতো একটি ধারালো বস্তু ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ভিডিওতে দেখা যায়, কুকি পেনার পিঠে আঘাত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার জামা রক্তে ভিজে যায়। এরপর কিটি ডিয়াজ ও কিয়ান্দ্রা ফাজও হামলায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পেনাকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আহত পেনাকে তার ভাতিজা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে হামলার প্রায় সাত ঘণ্টা পর, রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তিন অভিযুক্তই নিজেদের পক্ষে আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)–এর হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মারা যাওয়া ৩১ বছর বয়সী ড্যাফি মিশেলের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অ্যালেগেনি কাউন্টির মেডিকেল পরীক্ষক তার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাইপোথার্মিয়া বা অতিরিক্ত ঠান্ডাজনিত শারীরিক বিপর্যয়কে চিহ্নিত করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিএই এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত নথি অনুযায়ী, গত ২ মার্চ পিটসবার্গের স্মিথফিল্ড স্ট্রিট ব্রিজের কাছে একটি বাসস্টপে ড্যাফি মিশেলকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ঠান্ডার মধ্যে থাকার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হোমিসাইড’ বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকলাপ কিংবা অবহেলা মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। ড্যাফি মিশেলের পরিবারের আইনজীবী জোসেফ মারফি বলেন, “তিনি ছিলেন ৩১ বছর বয়সী একজন সুস্থ নারী। যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা আর তার জীবন ফিরিয়ে আনতে পারব না।” তদন্তে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে ছয় মাস ধরে তিনি ওয়াশিংটন কাউন্টি কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা লঘু অপরাধের অভিযোগ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালত খারিজ করে দেয়। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, মুক্তি পাওয়ার পর তারা তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন। তবে পরিবারের অজান্তেই তার বিরুদ্ধে একটি অভিবাসন সংক্রান্ত ‘আইসিই ডিটেইনার’ জারি ছিল। ফলে কারাগার থেকে মুক্তির পর তাকে সরাসরি আইসিইর কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইসিই জানিয়েছিল, ড্যাফি মিশেলকে ‘অল্টারনেটিভস টু ডিটেনশন’ কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয় এবং একই দিন তার পায়ে ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বা অ্যাঙ্কল মনিটর পরিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তির পর তিনি নিজের পরিচিত পরিবেশ থেকে অনেক দূরে একা পড়ে যান। পরে তাকে পিটসবার্গের একটি বাসস্টপে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, মৃত্যুর আগে তিনি ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিলেন। ড্যাফি মিশেলের চাচাতো বোন লিন্ডা মিশেল বলেন, “আমি শুধু কল্পনা করতে পারি, তিনি কতটা ঠান্ডায় কষ্ট পেয়েছিলেন। এমন একটি দেশে কাউকে এভাবে কষ্ট পেতে হবে, এটা মেনে নেওয়া কঠিন।” পরিবারের আইনজীবী মারফির ভাষ্য, ড্যাফির ভাই তাকে নিতে প্রস্তুত ছিলেন। মাত্র ৪০ মিনিটের পথ পাড়ি দিলেই তিনি পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারতেন। কিন্তু তার পরিবর্তে তাকে এমন একটি জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে তিনি কাউকে চিনতেন না এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অবস্থায়ও ছিলেন না। তিনি বলেন, “তাকে যদি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো তিনি আজ বেঁচে থাকতেন।” এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অ্যালেগেনি কাউন্টির নির্বাহী কর্মকর্তা সারা ইনামোরাতোও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ড্যাফি মিশেলের মৃত্যু একটি মর্মান্তিক ঘটনা এবং সামান্য মানবিকতা দেখানো হলে এটি এড়ানো সম্ভব ছিল। তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন কাউন্টি কারাগার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করে আইসিইকে খবর দেয় এবং পরে আইসিই তাকে নিজ বাড়ির পরিবর্তে অপরিচিত একটি এলাকায় ছেড়ে দেয়। এসব সিদ্ধান্ত একজন সহায়তাপ্রয়োজন ব্যক্তির প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয় বহন করে। সারা ইনামোরাতো আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে অভিবাসীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে অতীতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও জবাবদিহি, তদারকি এবং নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। ড্যাফি মিশেলের মৃত্যুর পর মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়া একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব কতটুকু এবং সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না। এদিকে মেডিকেল পরীক্ষকের ‘হত্যাকাণ্ড’ রায়ের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ড্যাফি মিশেলের পরিবারও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে। ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় মানবিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চলমান বিতর্ককেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নিহত ব্যক্তিকে হত্যার আগে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলমান ভয় ও বিদ্বেষের পরিবেশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো ভূমিকা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ জুন ৪৭ বছর বয়সী আকবর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। নিহতের ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার মণ্ডল জানান, তার বাবা বন্দওয়ান অঞ্চলে ফেরিওয়ালা হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি ঠেলাগাড়িতে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করতে বের হন। জুলফিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপুরদিহি গ্রামের একটি বাড়িতে আকবরকে হঠাৎ করে টেনে নেওয়া হয় এবং সেখানে এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়, পরে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি আরও জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ঘটনাও ঘটে। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে বান্দওয়ান থানার একজন কর্মকর্তা ফোনে আকবরের মৃত্যুর খবর দেন এবং হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে তারা তার মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান। নিহতের ছেলে জুলফিকার অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং কিছু লোক তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হয়রানি করত। তিনি বলেন, দাড়ি থাকার কারণে তাদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হতো এবং ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতে বাধা দেওয়ার কথাও বলা হতো। তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ বেড়েছে এবং তার পরিবারসহ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। অন্যদিকে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে।
Cox's Bazar শহরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সমুদ্র সৈকতের কবিতাচত্বর পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ আলম শহরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারিন নামের এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মো. মোয়াজ্জেম মোল্লা ওরফে আকাশ (২৯) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দীঘিরপাড় ইউনিয়নের দরজার পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোয়াজ্জেম মোল্লা সদর উপজেলার আকাল মেঘ গ্রামের আলাল মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে একদল দুষ্কৃতকারী মোয়াজ্জেমের ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, নিহত ও হামলাকারীরা উভয়েই সদর উপজেলার বাসিন্দা। তবে তারা টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দরজার পাড় এলাকায় এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।