- প্রচ্ছদ
- Topic
হুতি
সৌদি আরবে বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার মধ্যে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার, ২১ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্ত জানায়। ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলা বাড়তে থাকায় কর্মীদের নিরাপত্তায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট স্পষ্ট করেছেন, নির্দেশটি শুধু সৌদি আরবে থাকা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী ও পরিবার সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে খবর প্রকাশের পর তিনি এ ব্যাখ্যা দেন। ফলে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের সব কর্মীকে চলে যেতে বলা হয়েছে, এমন তথ্য সঠিক নয়। পিগটের বক্তব্য অনুযায়ী, হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসও বুধবার সম্ভাব্য আরও হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এদিকে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন বাসিন্দা নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। হামলায় স্থাপনার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমান্তের কাছে শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্যে আসা ড্রোন প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত ও আরও দুজন আহত হন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। ওই ড্রোন কারা পাঠিয়েছিল, মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তা উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশেও বুধবার কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। সংস্থাটির প্রতিবেদনে সিরিকের কারপান এলাকার কথা বলা হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের ধরন বা কারণ স্থানীয় সূত্রগুলো তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি। সৌদি আরব নিয়ে ১২ অক্টোবর জারি করা মার্কিন ভ্রমণ সতর্কতায় দেশটিতে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি প্রতিহত করা অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকেও ঝুঁকির কথা উল্লেখ রয়েছে। সৌদি আরবে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মীদের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য বিশেষ অনুমতি নেওয়ার বিধানও রয়েছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হুতিদের হামলায় অন্তত পাঁচজন নি হ ত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হামলার সময় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। হুতিদের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সৌদি আরবের সামরিক অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি বেড়েছে। জোটের দাবি, চলতি মাসে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে প্রায় ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭ জন নি হ ত এবং ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জোটের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন। সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনজন নি হ ত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জোট। তবে এসব হামলার প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আরও দাবি করেছে, সামরিক অভিযানে হুতিদের ১২৭টি অস্ত্রের গুদাম ও হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। অন্যদিকে, হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত শহরের কাছে ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি নাজরান ও জিজান এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব এলাকা ইয়েমেনের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়লে এর প্রভাব শুধু দেশটির নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য হামলার হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সৌদি আরব ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, ইরান হুতিদের সামরিক সহায়তা দেয়। তবে তেহরান হুতিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে। পরের বছর, ২০১৫ সালে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো মানুষ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত কিছুটা কমলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আবারও লড়াই ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থানও এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশটির কাছেই বাব আল-মান্দেব প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার অভিযোগ—দুটি ঘটনাই আঞ্চলিক উত্তেজনার বিস্তারের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ঠেকাতে এবং হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে চারটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ বোঝাই করে এই অস্ত্রের চালান পাঠায় ইসলামাবাদ। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ইয়েমেনের চলমান বহুজাতিক সংঘাতে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই চালানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করে সরকারি সেনাদের সহায়তা করছেন। হুতিদের লাগাতার হামলা মোকাবিলা এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতে সৌদি আরব বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন কয়েকজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে তীব্র লড়াই চলছে। বৃহস্পতিবার হুতিরা তাইজ থেকে এডেনগামী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে। তাইজ শহরটি পুরোপুরি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে এডেন উত্তরের সরকারি এলাকাগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা সরকারের রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। এর জবাবে সৌদি আরব হুতিদের ওপর বিমান হামলা জোরদার করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী সানা, সাদা শহর এবং তাইজে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। অন্যদিকে হুতিরাও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। পবিত্র মদিনা নগরীর মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইবাহ কেন্দ্রে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি জোট, যদিও হুতিরা তা অস্বীকার করেছে। এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে গত আগস্টে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে ইয়েমেন যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদের পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের এই অবস্থান হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের মরিয়া হয়ে মিত্র খোঁজারই অংশ। এমনকি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেও সম্প্রতি আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
ইরান-সমর্থিত হুতিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির সঙ্গে ফোনে কথা বললেও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের পাশে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তবে ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস ও ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে ফোনালাপ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এরই মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালি ঘিরে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের কয়েকটি কৌশলগত এলাকায় অগ্রসর হয়েছে এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী কিছু এলাকা থেকে পিছিয়ে গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা এখন তাইজ ও লাহিজ প্রদেশের কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা লোহিত সাগরের উপকূলকে দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ তৈরি করতে চাইছে। সংঘাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অনেকটা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণে সৌদি আরবও সামরিক চাপ বাড়িয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে সৌদি নেতৃত্ব থেকেও ওয়াশিংটনের কাছে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার অনুরোধ করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বাব আল-মানদাব প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জলপথটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতিও খারাপ হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে নতুন সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামোর ক্ষতি ও যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকেও কঠিন করে তুলছে। এখন পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে হুতিদের পরবর্তী সামরিক অগ্রগতি, সৌদি আরবের পাল্টা অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সহায়তায় যাবে কি না—এসব বিষয়ের ওপর। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের ফোনালাপে ইয়েমেনকে সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে। সোর্স: রয়টার্স; ইন্ডিয়া টুডে
ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, মারিব প্রদেশের আকাশে সামরিক অভিযান চালানোর সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনো যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। হুতিদের প্রকাশ করা ভিডিওতে আকাশে আলো ও মাটিতে জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের একটি অংশে সৌদি পতাকার চিহ্ন রয়েছে বলে রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ব্যাপক ক্ষতির কারণে ধ্বংসাবশেষ দেখে বিমানটির মডেলও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, বিমানটি মারিবে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করছিল। গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে কয়েকশ বিমান হামলা চালিয়েছে। এই সংখ্যাটি হুতিদের দাবি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এর মধ্যেই সৌদি আরব জানিয়েছে, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বলেন, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিই তাদের হামলার লক্ষ্য, পবিত্র স্থান নয়। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ার মধ্যে ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। দেশটি এ বিষয়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সহায়তা চেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি সত্য হলে তা সংঘাতের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে এ মুহূর্তে ঘটনাটি হুতিদের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এবং সৌদি পক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তারা চায় না, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালাক। ট্রাম্প বলেন, “হুতিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।” তিনি আরও বলেন, হুতিরা চায় না যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালাক। একই সঙ্গে অঞ্চলটির পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্প এ সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও কথা বলার কথা জানান। তিনি সৌদি যুবরাজকে নিজের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সৌদি যুবরাজ দুবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, এই সপ্তাহেই হুতিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসন বন্ধ না হলে সরাসরি যুদ্ধে নামার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বিশেষ বিবৃতিতে ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "আমাদের হাত এখন ট্রিগারেই রয়েছে।" গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলার এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে এই কড়া বার্তা দিলো সানা। ইয়েমেনের দাবি, লোহিত সাগর ব্যবহার করে কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা আগ্রাসন চালানো হলে তারা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। জেনারেল সারি আরও উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধ মূলত 'বৃহত্তর ইসরাইল' প্রতিষ্ঠার একটি নীল নকশা। এর প্রতিরোধ করাকে ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করে ইয়েমেন। এরই মধ্যে শনিবার সকালে দক্ষিণ ইসরাইল লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতিরা। যদিও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে এই হামলার জেরে বিয়ারশেবাসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।